| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

Samuel Beckett Bridge (স্যমুয়েল ব্যাকেট ব্রিজ)। এই সেতুর ডিজাইনে সরাসরি স্যামুয়েল ব্যাকেটের কোনো সাহিত্যিক নকশা বা দর্শনের প্রভাব ছিল এমন প্রমাণ নেই। ব্রিজটির নাম রাখা হয়েছে মূলত ডাবলিনের এই নোবেলজয়ী লেখককে সম্মান জানাতে। কিন্তু তবু কল্পনা করলে মনে হয়, ব্যাকেটের জগৎ আর এই সেতুর মধ্যে একটা নীরব মিল আছে। ব্যাকেটের নাটকে মানুষ প্রায়ই কোথাও পৌঁছানোর আগেই থেমে থাকে, অপেক্ষা করে, আবার চলতেও থাকে। “I can’t go on. I’ll go on.” সেই অদ্ভুত দ্বিধা ও চলার জেদ যেন এই সেতুর মধ্যেও আছে। নদীর দুই তীরকে যুক্ত করে, আবার নিজেই ঘুরে দাঁড়িয়ে পথ ছাড়ে।
বার্জে করে আসা মূল ইস্পাত কাঠামো, মে ২০০৯
ডাবলিনের River Liffey–এর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা Samuel Beckett Bridge শুধু একটি সেতু না, বরং যেন সাহিত্য আর স্থাপত্যের এক অদ্ভুত সংলাপ। ২০০৯ সালে স্প্যানিশ স্থপতি Santiago Calatrava এটি নকশা করেন। ১২০ মিটার লম্বা এই কেবল-স্টেইড সুইং ব্রিজটি আবার ৯০ ডিগ্রি ঘুরেও যেতে পারে, যেন নদীপথে জাহাজের জন্য দরজা খুলে দেয়। এর বাঁকা স্পার আর কেবলগুলোর আকার অনেকেই বলেন আয়ারল্যান্ডের জাতীয় প্রতীক ‘হার্প’-এর মতো।
আমার তো শুধুমাত্র এটার শুধুমাত্র উইকিপিডিয়ায় ছবি দেখেই কখনো কখনো মনে হয়, এটা কেবল একটি ব্রিজ নয়। এটা যেন অপেক্ষা, পারাপার আর অনিশ্চয়তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক টুকরো Beckettian দৃশ্য।
আমি যদি কখনো এই সেতুতে যেতে পারতাম, হয়তো খুব বেশি কিছু করতাম না। রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। কারও জন্য অপেক্ষা করতাম কি না জানি না। হয়তো কেউ আসত না। তবু অপেক্ষা করাটা খারাপ না।
কখনো পারাপার, কখনো অপেক্ষা। কখনো কষ্ট, কখনো হাস্যকর এক ধরনের আশা।
©somewhere in net ltd.