নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন নিভৃতচারী, ঘুরে বেড়াই পথে-প্রান্তরে।।

জমীরউদ্দীন মোল্লা

ওরে ও তরুণ ঈশান! বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ! ধ্বংস-নিশান উঠুক প্রাচী-র প্রাচীর ভেদি’॥

জমীরউদ্দীন মোল্লা › বিস্তারিত পোস্টঃ

বুমেরাং।। পর্ব-৪

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৫২


জমীরউদ্দীন বলল,”দুঃখে নারে রমিজ মিয়া। অপমানের বদলা নিতে এই বিপদ নিজের কাধে নিতে পার।“ আচ্ছা যাই হোক খুন তুমি করছো কি কর নাই সেটা দুই একদিনের মধ্যেই বের কইরা ফেলমু। তার আগে তোমার বাড়িটা একটু সার্চ করা লাগবো।“

রমিজ মিয়া কিছু বলার আগেই চারজন কনস্টেবল বাড়ির মাটি খুড়ে শুধু দেখা বাকি রাখলো। শোবার ঘর, রান্না ঘর, গোয়াল কিচ্ছু বাকি রাখে নাই। জমীরউদ্দীন ততখনে, আলনায় রাখা জামা কাপর, বিছনার তোশক, মাটির হাড়ি পাতিল সব কিছু তন্ন তন্ন করে খুজলো। কিন্তু রমিজ মিয়া খুন করছে। সেটা প্রমান করার মত কিছু পাওয়া গেল না। বেশ খাটাখাটনির পরও কিছু না পাওয়ায় যেন জমীরউদ্দিন একটু হতাশই হল। অবশ্য এটা স্বাভাবিক। এরকম একটা রক্তারক্তি কান্ড হওয়ার পর খুনি নিজের কাছে এমন কিছু রাখবে না যেটা দিয়ে তার সাথে খুনের সম্পর্ক খুজে পাওয়া যাবে।

জমীরুদ্দীন, রমিজ মিয়ার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবে এমন সময়, বাড়ির পেছন থেকে একজন কন্সটেবলের ডাকে সবাই বাড়ির পিছনে গেল। কনস্টেবল মুত্র বিসর্জন দিতে বাড়ির পিছনে এসে এই ছোট পুকুরের মত জায়গাটায় রক্ত মাখা জামাটা দেখতে পায়। আসলে ছোট পুকুরও না গর্ত মত একটা জায়গা, তারমধ্যে পানি জমে আছে। আর সেই পানির মধ্যেই একটা জামা পরে আছে। জামাটা পানিতে থাকলেও রক্ত পুরোপুরি ধুয়ে যায় নাই। একজন কনস্টেবল জামটা তুলে আনতে গিয়ে জামার নিচে বটিটা টা আবিষ্কার করে ফেলল। আসলে বটিটা জামা দিয়েই মুড়ানো ছিলো। এসব দেখে রমিজ মিয়ার চোখ যেন অক্ষরিক অর্থেই বিস্ফোরিত হল।

।।দুই।।

বেশ কিছুদিন পর।

সেদিন থানায় বসে এস আই জমীরউদ্দীন মোল্লা পেপার পড়ছিলো। এমন সময় থানার টেলিফোন টা বেজে উঠলো। রিসিভ করতেই, অপর পাশ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের বাজখাই গলা কথা বলে উঠলো। আমার এক লোক একটা মামলা করতে যাইবে। ঠিকঠিক মত মামলাটা লেইখা নিয়েন এস অআই সাহেব।“ আমাদের দেশের মানুষের একটা বদ্ধমূল ধারনা যে, হোমরা চোমরা কাউকে দিয়ে ফোন না দিলে পুলিশ বোধহয় কাজ করবে না। অবশ্য অন্য কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নাই। পুলিশ নিজেই নিজের নামের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। কিছুখন পর বড়ইডাঙ্গা গ্রামের মেম্বারকে দেখে জমীরউদ্দীন চমকে উঠলো। চমকে ওঠারই কথা। বড়ইডাঙ্গার চাঞ্চল্যকর মার্ডার কেসটার সমধান না হওয়ার পর বড়ইডাঙ্গা আর যাওয়া হয় নাই। অনেকদিন পর বড়ইডাঙ্গার মেম্বারকে দেখে সে কথাই মনে পরলো। খুনি যেইই থাকুক সে খুব ভালো ভাবেই তার ট্রেইল মুছে দিয়ে গেসে। জমীরউদ্দীন অবশ্য চেষ্টার ত্রুটি করে নাই কিন্তু সফল হইতে পারে নাই। সফল হবে কিভাবে! খুনি শুধু ট্রেইলই মুছে দেয় নাই, পুলিশকে খুব সুন্দর করে অন্য দিকে ডাইভারট করে দিসে। খুনির দেখানো পথে যেসব এভিডেন্স পাওয়া গেসে, পড়ে দেখা গেলো, তা প্রাইম সাস্পেক্টক রমিজকে ফাসানোর মত যথেষ্ট ছিল না। তাই পরে রমিজ মিয়াকে ও ছেরে দিতে হয়। সেসব অবশ্য মাসখানেক আগের ঘটনা। এরপর কত কিছু ঘটে গেলো। কেউ অবশ্য আর ঐ কেসের কথা মনেও রাখে নাই। প্রতিদিন দেশে কত খুন হয়। কয়টার ই বা সমাধান হয় যে মানুষ মনে রাখবে।

মেম্বারের সালামে জমীরউদ্দীনের সৎবিত ফিরলো।
মেম্বার মুখে লম্বা হাঁসি ঝুলিয়ে,”স্লামালেকুম স্যার।“
“ওয়ালাইকুম সালাম, তা মেম্বার সাহেব যেঁ। কি মনে করে?”
“চেয়ারম্যান সাহেব ফোন দিসিল নি?”
“মেম্বার সাহেব ই তাহলে চেয়ারম্যানের পেয়ারার বান্দা।“
মেম্বার বেশ লাজুক হেঁসে উত্তর দেয়,”চেয়ারম্যান সাহেব আসলে তারে খুব স্নেহ করে।“
জমীরউদ্দীন শুধায় তা মেম্বার সাহেব কি ব্যাপারে মামলা। বড়ইডাঙ্গায় তো তেমন একটা দাঙ্গা হাঙ্গামার খবর পাওয়া যায় না।“
মেম্বার জবাব দেয়,”আর কইয়েন না স্যার। আমি এই গরিব অধম তার জায়গা জমি মানুষ জোর জবস্তি নিয়া যাইতে চায়। সেই জন্যই মামলা করতে আসা।“
“ও আচ্ছা জমি নিয়ে বিরোধ তাইলে।“
মামলা লেখা শেষ হলে, মেম্বার বলল,”স্যার বড়ইডাঙ্গায় আইসেন। চা খাওয়ার দাওয়াত রইলো।“

মনে হয় মেম্বারের দাওয়াত রাখতেই পরদিন সকালে জমীরউদ্দীন বরইডাঙ্গা গ্রামে হাজির। মেম্বারকে অবশ্য বাজারে পাওয়া যায়নি। কি একটা কাজে নাকি পাশের গ্রামে গেসে। জমীরউদ্দীন হাঁসিদের বাড়িতে গেলো। হাঁসির মা খুন হয়েছে তা মাসের বেশি হইছে। এরমদ্ধে পুলিশ মামলাটার কিছু করতে পারে নাই। এতদিন পর হাঁসি পুলিশ দেখে যারপরনাই অবাক হল। হাঁসিকে দেখে জমীরউদ্দীনই আগে কথা বলে উঠলো,“কেমন আছো হাঁসি?”
হাঁসি একটু তেতো হেঁসে জবাব দেয়,”আছে সে।“ অবশ্য জবাব না দিলেও চলত। হাঁসির হাঁসিতেই জবাব ছিল। হাঁসি বলল,”স্যার ভিতরে আইসা বসেন।“
জমীরউদ্দীন কনস্টেবল কে বাইরে রেখে হাঁসিদের ঘরে গিয়ে দশ মিনিট পর বের হয়ে কনস্টেবলকে উদ্দেশ্য করে হাক দিলো,”চল রমিজ মিয়ার বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।“
সেদিনের মত আজকে ও রমিজ মিয়া কোথাও যেন যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হইছে। পুলিশ দেখে তার মুখে যেন মেঘ নামলো। তারপরও সালাম দিয়ে,”স্যার কেমন আছেন?”
জমীরউদ্দীন হেঁসে উত্তর দেয়,”ভাল। তা এই সকাল সকাল কই যাচ্ছো রমিজ মিয়া?”
সদরে যামু স্যার। গ্রামে চাষবাস কইরা পোষায় না।“
“তা তুমি সদরে গেলে, তোমার বাপরে কে দেখবো?”
স্যার, আপতত কয়দিন আব্বার একটু কষ্ট হইবো।“ সপ্তাহে একদিন কইরা বাড়িতে আমু। কয়দিন পর বিয়া কইরা ফালামু তখন বউ আব্বারে দেখবো।“
জমীরউদ্দীন বলে,”বাহ দারুণ প্ল্যান। চল তাইলে তোমার সাথে বাজারে যাই। যাওয়ার সময় একটু গল্প করা যাইবো।
শুধু রমিজ মিয়া না কনস্টেবল ও যেন জমীরউদ্দীনের আচরনে অবাক হচ্ছে। যাওয়ার পথে জমীরউদ্দীন কনস্টেবল কে আগে যাইতে বলে, রমিজ মিয়াকে সাথে নিয়ে পিছে পিছে আসলো।

চলবে....।।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩২

মা.হাসান বলেছেন: Plus for the post. Loveing the twist. What was the evidence in victim's hand? Sorry for English, in phone now, do not know how to use Bangla from phone.

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৭

জমীরউদ্দীন মোল্লা বলেছেন: ধন্যবাদ।

পরের পর্বে জানতে পাবেন। আপাতত অইটা কোন কাজেই লাগে না।

২| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩২

আরোহী আশা বলেছেন: পড়িনি.......

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৪

জমীরউদ্দীন মোল্লা বলেছেন: পড়বেন। :)

৩| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৮

রাজীব নুর বলেছেন: দাসের আসল চরিত্র বুঝতে চাও?
কয়েক ঘণ্টার জন্য তাকে মনিব বানাও, তার হাতে কয়েকটা দাস-দাসী ছেড়ে দাও!

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:০৬

জমীরউদ্দীন মোল্লা বলেছেন: এটা ইউনিভার্সাল ট্রুথ।

৪| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৪৮

হাবিব স্যার বলেছেন: কেমন আছেন??

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১:০৬

জমীরউদ্দীন মোল্লা বলেছেন: ভাল। আপনি ?

৫| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ২:০৫

বলেছেন: ধন্যবাদ সহ শুভ কামনা রইলো।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৪৩

জমীরউদ্দীন মোল্লা বলেছেন: স্বাগতম। :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.