নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন নিভৃতচারী, ঘুরে বেড়াই পথে-প্রান্তরে।।

জমীরউদ্দীন মোল্লা

ওরে ও তরুণ ঈশান! বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ! ধ্বংস-নিশান উঠুক প্রাচী-র প্রাচীর ভেদি’॥

জমীরউদ্দীন মোল্লা › বিস্তারিত পোস্টঃ

বুমেরাং।। শেষ পর্ব

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৫



সেদিনের মত আজকে ও রমিজ মিয়া কোথাও যেন যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হইছে। পুলিশ দেখে তার মুখে যেন মেঘ নামলো। তারপরও সালাম দিয়ে,”স্যার কেমন আছেন?”
জমীরউদ্দীন হেঁসে উত্তর দেয়,”ভাল। তা এই সকাল সকাল কই যাচ্ছো রমিজ মিয়া?”
সদরে যামু স্যার। গ্রামে চাষবাস কইরা পোষায় না।“
“তা তুমি সদরে গেলে, তোমার বাপরে কে দেখবো?”
স্যার, আপতত কয়দিন আব্বার একটু কষ্ট হইবো।“ সপ্তাহে একদিন কইরা বাড়িতে আমু। কয়দিন পর বিয়া কইরা ফালামু তখন বউ আব্বারে দেখবো।“
জমীরউদ্দীন বলে,”বাহ দারুণ প্ল্যান। চল তাইলে তোমার সাথে বাজারে যাই। যাওয়ার সময় একটু গল্প করা যাইবো।
শুধু রমিজ মিয়া না কনস্টেবল ও যেন জমীরউদ্দীনের আচরনে অবাক হচ্ছে। যাওয়ার পথে জমীরউদ্দীন কনস্টেবল কে আগে যাইতে বলে, রমিজ মিয়াকে সাথে নিয়ে পিছে পিছে আসলো।

এক সপ্তাহ পর।

শুধু বড়ইডাঙ্গা না পুর জেলাতেই এখন টক অফ দা টাউন হচ্ছে, সেই চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেফতার। তার বিরুদ্ধে কঠিন প্রমান আছে। চারদিক থেকে জমীরউদ্দীন অভিনন্দন পাচ্ছে। এবার জমীরউদ্দীনের প্রোমোশন ঠেকায় কে। দারোগা সাহেব এসে, জমীরউদ্দীনের পিঠে বাহাব দেয়। যবর কাম দেখাইছেন মোল্লা সাহেব। জমীরউদ্দীন মুচকি মুচকি হাঁসে। এরকম প্রশংসা পেতে অবশ্য খুব একটা খারাপ লাগে না। তারপরও এই কেসটা সমাধানে ওর যতটা না ক্রেডিট তারচেয়ে ভাগ্যের সহয়তা ছিলো ঢের বেশি।
চার্জশীট রেডি। আসামিকে একটু পর কোর্টে চালান করা হবে। জমীরউদ্দীনই অবশ্য আসামিকে নিয়ে সদর কোর্টে যাবে।

জমীরউদ্দীন কনস্টেবল কে উদ্দেশ্য করে হাক দিয়ে বলে, আসামিকে গাড়িতে তুলতে। মিনিট খানেক পর কনস্টেবল এসে বলে,”স্যার ঐ হালারপুতে আপনের লগে কথা কইতে চায়।“
তিন চারদিনেই আসামির বয়স যেন কয়েকগুন বেড়ে গেসে। চোখের নিচে কালি পরে গেসে। চেহারার সেই উজ্জল ভাবও উধাও। জমীরউদ্দীনকে দেখেই আসামি বলে উঠলো,”স্যার কোর্টে নেয়ার আগে আমার একটা কথা আছিলো।“
“কি কথা তাড়াতাড়ি। দেরি হইয়া যাইতাছে।“
স্যার আমি এমন কোন সুত্র রাখি নাই যেটা দিয়া আপনে আমারে খুইজা পাবেন। কিন্তু দেখা গেলো চোরের দশদিন গেরস্থের একদিন। আপনি ঠিকই ধইরা ফালাইলেন। কেমনে ধরলেন যেঁ আমি ই খুন করছি হাঁসির মায়রে।

জমীরউদ্দীন রহস্যময় হেঁসে,”হাঁসির মায় ই তার খুনিরে ধরার সুত্র দিয়ে গেসে।“ তারপর ও বলি কেমনে তোমার মত ধুরন্দর একজনরে আটক করতে পারলাম।
হাঁসির মায়রে খুন করার কোন মোটিভই যখন পাইলাম না, মনে হচ্ছিল জ্বিন ভুতে খুন কইরা গেসে। প্রথমে আসি যদি এইটা ডাকাতি মামলা হয় তাইলে ঘটনা কি দাড়ায়। হাঁসি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ওদের দরজা লাগিয়ে ঘুমায়। সেদিন ও তাই করছে। তাইলে ডাকাত কিভাবে ঢুকল? আর ডাকাত কখন একলা ডাকাতি করতে যায় না যেঁ সে আগেই ঘরের মধ্যে লুকিয়ে থাকবে।
আচ্ছা ধরলাম রমিজ্জাই খুন টা করতে আগে রুমে লুকিয়ে ছিল কিন্তু পরে সে সুযোগ বুঝে খুন করে বের হয়ে যায়। কিন্তু রমিজ এত বোকা না যেঁ খুন করে, খুনের আলামত তার বাড়ির পিছনে ফেলে রাখবে। তার মানে রমিজ খুন টা করে নাই করেছে এমন একজন যার সাথে রমিজের সম্পর্ক খারাপ। বা এমন ও হইতে পারে খুনি যাওয়ার সময় ওইখানে বটি ফেলে গেসে। কিন্তু সেখানে ও একই প্রশ্ন আসে, রমিজের জামা কি করে অইখানে গেলো? আর রমিজ মিয়া যেঁ খুন টা করে নাই সেটা সেদিন ই বুঝচ্ছি। যেদিন ওর বাড়ি থেকে রক্তাক্ত জামা আর বটি উদ্ধার করলাম সেদিন ই। তারপর ও রমিজ কে গ্রেফতার করি যাতে আসল খুনি নিশ্চিন্ত হতে পারে।
তারপর ও যখন খুনির টিকিটাও পাইলাম না। তখন সন্দেহর তালিকায় একবার হাঁসিকে ও বসাইছি। কিন্তু নিজের মাকে খুন করার পর অত দারুণ ভাবে এক্টিং করা সম্ভব না। আর সুরৎহালের রিপোর্ট তো আছেই। তাই হাঁসি ও বাদ।

তাইলে কি দাড়াইলো? এমন কেউ খুনটা করছে যাকে খুব সম্ভত হাঁসির মায় নিজেই ঘরে ঢুকাইছে। এবং সেই বান্দা কোন কারনে রমিজ কে ও ফাসাইতে চায়। খুব করে গ্রামে খবর নিলাম যেঁ হাঁসির মার কারো সাথে পরকীয়া আছে নাকি। বা রমিজ্জার কোন শত্রু আছে নাকি। কিন্তু এবার ও খুনি পাস করে গেসে। সে তার সব ট্রেইল ই মুছতে সক্ষম।

তারপরও যখন কোন কিছুই মিলাতে পারছিলাম না হাল ছেরে দেই। কিন্তু আল্লাহর কি লীলা খেলা। খুনী কিনা নিজেই এসে ধরা দিলো। মেম্বার তুমি যেদিন মামলা করতে আসছিলা সেদিন ই তোমারে আমি আটক করতে পারতাম। করি নাই কারন, জট গুলা আগে একটু খোলা দরকার।

তাই পরেরদিন বরইডাঙ্গায় যাই রমিজ্জারে জেরা করতে। রমিজ্জা যদি সেদিন ভিডিও টা আরো ভালো করতে পারতো তাইলে তুমি ধুরন্ধর বাবাজী আরো আগেই ধরা পরতা। রমিজের ভিডিও তে হাঁসির মায়ের চেহারা বুঝা যাচ্ছিলো না। যখন দেখলাম রমিজরে তুমি মেম্বার ফাঁসাইতে চাও আর তোমার জামার একদম উপরের বোতাম টা হাঁসির মায় প্রমান স্বরুপ দিয়া গেলো দুইয়ে দুইয়ে চাইর মিলাতে সমস্যা হয় নাই। তা মেম্বার তুমি টাই পরলে ঐ বোতাম টা যেঁ নাই সেইটা খেয়াল করতা।

“তা মেম্বার কি দরকার পরল যে হাঁসির মায়রে খুন করলা?”
মেম্বারের চেহারায় কিংকর্তব্যবিমুর ভাব। মাথা নিচু করে উত্তর দেয়,”স্যার হাঁসির মায়রে যখন হাঁসির বাপ বিয়া কইরা আনে। তখন ই প্রথম দেখাতে প্রেমে পইরা যাই। হাঁসিরে দেখছেন কেমন সুন্দর ওর মায়ও ওর চেয়ে কম সুন্দর আছিলো না। কিন্তু একজনের বিয়া করা বউরে তো আর চাইলেই পাওয়া যাইবো না। আর তখন আমার অবস্থাও ভাল আছিল না। এরপর অনেক বছর কাইটা গেসে। আমি বিয়া করছি আমার পোলা মাইয়া হইছে, আমি মেম্বর হইছি। কিন্তু হাঁসির মায়রে ভুলতে পারি নাই। সুজগে ছিলাম কোনদিন যদি পাই। সেই সুযোগটা পাইসিলাম হাঁসির বাপ বিদেশ যাওয়ায়। হাঁসির বাপ বিদেশ যাওয়ার কয়েক মাস পর দালাদের খপ্পরে পরে। অনেক দিন কোন খোঁজ ই আছিল না হাঁসির বাপের। সেই দালালরা টাকা দাবি করে নইলে তারা হাঁসির বাপরে ছারবো না। তখন উপায়ন্তর না দেইখা হাঁসির মায় আমার কাছে আহে যদি আমি চেয়ারম্যান রে কইয়া কিছু করতে পারি। গ্রামের সবাই জানে চেয়ারম্যানের সাথে আমার দহরম মহরম আছে। আমি তখন হাঁসির মায়রে কইলাম আমি তার জামাইরে উদ্ধার কইরা দিতে পারুম। কিন্তু বিনিময়ে আমার কথা তার শুনতে হইবো। তখন হেই রাজি হয়। হয়ত জামাইর টেনশনে মাথা ঠিক আছিলো না। এরপর হাঁসির বাপ উদ্ধার হইলে আমি হাসিগো বাড়িতে আসা যাওয়া বারাই। এম্নে কইরা হাঁসির মার লগে আমার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। একদিন জেলা সদরে এক আবাসিক হোটেলে নিয়া যাই হাঁসির মায়রে। তখন রমিজ্জা ঐ হোটেলে কাজ করতো আমি জানতাম না। বাইঞ্চোদে জানালার ফাকা দিয়া ভিডিও করে। এরপর ঐ ভিডিও দেখাইয়া আমার থেকে প্রতিমাসে দশ হাজার কইরা টেকা নিত। ওরে কয়েকবার খুন করার ও প্ল্যান করছিলাম কিন্তু কখন সুযোগ পাই নাই।

এরপর হাঁসির মার লগে আমার মেলামেশা ভালই চলতেছিল। কিন্তু এরমদ্ধেই ভেজাল লাগে হাঁসির মায় পোয়াতি হইলে। সেদিন রাতে যাওয়ার পর সে আমারে বিয়া করতে বলে। সামনে চেয়ারম্যান এলেকশন করমু এর মধ্যে এসব খবর গ্রামে রটলে আমার আর চেয়ারম্যান হওয়া লাগবো না। তাই হাঁসির মায়রে কইলাম চল সদরে গিয়া, পেটের অইডা ফালাইয়া দিয়া আহি। কিন্তু রাজি হইল না। কথা কাটাকাটির এক পর্যায় রাগের মাথায় গলা চাইপা ধরি আর তাতেই মাগি মইরা যায়। এখন মইরা গেসে কিছু তো একটা করতে হইবো। তখন ই বুদ্ধি করি খুনের দায় টা কারো উপরে চাপাইয়া দেই আর সেইটা রমিজ্জা হইলেই সবচেয়ে ভাল হয়। ওর ব্লাকমেইল আর সহ্য হইতেছিলো না। তাই ওগো বাড়ির উঠানে শুকাইতে দেওয়া একটা জামা আইনা রক্ত মাখাইয়া। বটি টা আর জামাটা ওগো বাড়ির পিছনে ফালাইয়া দিয়া আসি।

কন্সটেবলের ডাকে জমীরউদ্দীনের গল্পের নেশা ভাঙ্গে। জমীরুদ্দীন শুধায়,”চল মেম্বার এবার যাইতে হবে।“

শেষ।।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১:৪০

মা.হাসান বলেছেন: গল্প অহেতুক টেনে লম্বা করেন নি বলে ধন্যবাদ। ভালো লাগলো। ভুতের ভালগল্প অনেক দিন পড়ি না। ফরমায়েশ থাকলো।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:২৩

জমীরউদ্দীন মোল্লা বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনি চাইলে কিছুদিন আগে লেখা 'বগা লেইকে ভ্যাম্পায়ার' এই ছোট গল্পটা পড়তে পারেন।

প্রথম পর্বঃ Click This Link
দ্বিতীয় পর্বঃ Click This Link
তৃতীয় পর্বঃ Click This Link

২| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: খুব সুন্দর হয়েছে।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:২৪

জমীরউদ্দীন মোল্লা বলেছেন: ধন্যবাদ নুর ভাই :)

৩| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৪৫

মা.হাসান বলেছেন: বগালেকের গল্পটা পড়লাম, শেষ পর্বে মন্তব্য রেখেছি।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:১১

জমীরউদ্দীন মোল্লা বলেছেন: ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.