| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জাতেমাতাল
গত কয়েক দিন ধরে ব্লগে রাজনীতি হিসাবে মাওবাদী তৎপরতা নিয়ে প্রচুর তোলপাড় চলছে। সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত ল্যাম্পপোষ্ট নামক সংগঠনটিকে নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষনের সুত্রেই মাওবাদী পন্থা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে প্রচুর আলোচনাও দেখা যাচ্ছে।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে চীনের সমর্থন ছিল আমাদের বিপক্ষে, পাকিস্থানী জান্তার স্বপক্ষে। এদেশের কম্যুনিষ্ট পার্টির সেই অংশ যারা মাওবাদী (বা চীনপন্থি) নামে পরিচিত ছিল তারা প্রত্যাক্ষ ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে নাই, তাদের বিরুদ্ধে এটা একটা জনপ্রিয় অভিযোগ। যদিও সেই সময় চীনপন্থী (এখানে মাওপন্থী বা মাওবাদী নয়) এদেশীয় কমিউনিস্টরা প্রতক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। কেবল মাত্র হক-তোয়াহা বাদে সকলেই যুগপৎ লড়াই করেছিল। ইপিসিপি(এম এল) এর টিপু বিশ্বাস, ওয়াহিদুর রহমান(পরে আ.লীগ এর নেতা, এম পি) দের আত্রাই যুদ্ধ ইতিহাস খ্যাত। সিরাজ শিকদারের পেয়ারা বাগান অভ্যুত্থান পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত ঘাটি এলাকার লড়াই। দেবেন শিকদার, জীবন মুখার্জী, অমল সেন এরা সকলেই প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। মুলতঃ সেখান থেকেই চীন সম্পর্কে আমাদের নেতিবাচক মনোভাব এর শুরু...
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে চীনের ভূমিকা নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের দিকে পি মুন্সী “রাষ্ট্র ভাবনাঃ একাত্তরে চীন কেন আমাদের সমর্থন করতে পারে নাই” নামে দুই পর্বে সমাপ্ত একটা লেখা লিখেছিলেন। সে লেখার মুল সুর ছিল নির্দিষ্ট একটা সীমানা ঘেরা ভুখন্ড যখন রাষ্ট্র হিসাবে কনষ্টিটিউট অর্থে গঠিত হয়, তখন নিজ সীমানার বাইরে যে কোন রাষ্ট্রকেই সে শক্রু (তার নিজস্ব স্বার্থের বিরোধী এই অর্থে) জ্ঞান করে। পি মুন্সীর ভাষায়ঃ ওমুকে আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র - এটা একটা জেনেশুনে করা বাকচাতুরি। রাষ্ট্রের বাইরে রাষ্ট্রের কোন বন্ধু নাই, হতে পারে না। কম শত্রুতাকে, তাও আবার সাময়িক কোন সময়ের পরিপ্রক্ষিতে দাড়িয়ে, ডিপলোমেটিকভাবে ঘুরিয়ে বলি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র, একটা আপতিকভাব ফুটিয়ে তুলি মাত্র। এতে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও তার শত্রুতার সংজ্ঞায় কোন হেরফের হবে না।
অর্থাৎ একটা রাষ্ট্রের কাছে (তা সে কম্যুনিষ্ট অথবা বহুদলীয় গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীন হোক) সবসময় তার নিজস্ব এজেন্ডা, তার নিজস্ব স্বার্থই প্রধান। সেটাকে অবহেলা করে তার নিজ রাষ্ট্রস্বার্থের বিপরীতে বন্ধু রাষ্ট্রের কোন স্বার্থ থাকতে পারে না।
৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে চীনের অবস্থান বুঝতে এবং তা ব্যাখা করার জন্য উল্লেখিত রাষ্ট্রের এই বৈশিষ্ট্য আমাদের খুব সাহায্য করবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জন্মকাল ১৯৪৪ সালে যে পাঁচজন স্হায়ী সদস্য নিয়ে তা গঠিত হয়েছিল - আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন, বৃটেন ও ফ্রান্সের সাথে পঞ্চম দেশটি ছিল তাইওয়ান, মানে সে আমলের অবিভক্ত চীন।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসাবে তখন ছিল তাইওয়ান, তার নাম মুছে দিয়ে তার স্থলে নিজকে প্রতিস্থাপিত করার দি্কটা রাষ্ট্র হিসাবে চীনের দিক থেকে ছিল গুরুত্ত্বপুর্ণ। আমেরিকার সাথে সে সময় কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকার জন্য এ বিষয়ে দূতিয়ালীর কাজটা করেছিল পাকিস্তান।
এরই ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (General Assembly) মানে, সব সদস্যদেরকে নিয়ে বাৎসরিক সভায়, ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর এক আলবেনীয় প্রস্তাবের উপর গৃহীত ভোট ৭৬ বাই ৩৫ (১৭ জন বিরত ভোটসহ) ফলাফলে জয়লাভ করে; বেইজিং বা নয়াচীন প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ সদস্যপদ পায়, ফলে তাইওয়ানের বদলে নিরাপত্তা পরিষদের স্হায়ী সদস্যপদে অভিষিক্ত হয়। আর তাইওয়ান? তাইওয়ান সেই থেকে জাতিসংঘের সাধারণ সদস্যপদ থেকেই বহিস্কৃত হয়।
এদেশে চীনপন্থী কম্যুনিষ্টদের তৎপরতা বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখা পি মুন্সীর সেই পোষ্টে আছে। প্রাসঙ্গিক হিসাবে যে কেউ তা পড়তে পারেন।
ইতিমধ্যে আমার প্রিয় ব্লগার খারেজি মাওবাদ নিয়ে আর একটি নতুন পোষ্ট দিয়েছে আমার ব্লগে।
ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীগুলোর কাছে ক্রমশঃ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা মতবাদ হিসাবে মাওবাদের ভাল একটা বিশ্লেষন হিসাবে লেখাটি আমার ভাল লেগেছে এবং এটা নিয়ে আরো আলোচনার জন্য পুরো পোষ্টটাই এখানে তুলে দেওয়া হলো।
খারেজির পোষ্ট ঃ চিনপন্থীরা কী চিজ!
চীনপন্থী, পিকিংপন্থী (পিকিং-এর নামটা বেইজিং রূপে বহুল প্রচার হবার আগেই এই টার্মটাই অপ্রচার হয়ে যাওয়ায় হয়তোবা পিকিং এর নামেই এই পন্থীরা স্মরিত হন!), মাওবাদী বা মাওপন্থী বলে একদল দুঃখী লোক এই ধরায় বাস করে, অধুনা তাদের সংখ্যা বিলুপ্তির পথে বলে কেউ তাদের দুঃখ বুঝে না। নিজেদের মাথায় ছাতা ধরিবারও তাদের কেহ নাই বলেই হয়তো অন্য প্রজাতির ভাবাদর্শধারীদেরও তাহাদের নামে ট্যাগিং করে মাওবাদী বেচারাদের হেনস্থা করা হয়। অন্য কিছু না, স্রেফ পথচারী হিসেবেই এই গণধোলাই মর্মান্তিক মনে হওয়াতে দু’চার কথা কই।
প্রথমেই বলে নেয়া ভাল যে এই মস্কোপন্থী-পিকিংপন্থী নামের মহা বিতর্ক সম্পর্কে আমি কোন বিশেষজ্ঞ নই, (আমার আগ্রহের জায়গা এটি না একদমই) স্রেফ কৌতুহলবশতঃ কিছু পড়েছিলাম, তাও বহু আগে। ফলে ভুল করার সম্ভাবনা আছে কিছু, তাই একেববারে (কাণ্ডজ্ঞানের বাইরে) সিদ্ধান্তসূচক বক্তব্য সাধারণত পরিহার করাই আমার পক্ষে উত্তম হবে। আর খোদার কিরা, আমি যাদের এ বিষয়ে ভাল জানেন বলে জানি, তারা কেউ এগিয়ে এলে এ গুরুভার কিছতেই নিতাম না, কেননা তারা হেসেখেলে এ কাজটি কর্তে পারতেন।
প্রথমে বলা দর্কার, মস্কো-পিকিং বিতর্কের শুরু ১৯৬০ দশকের একেবারে শুরুতে। স্তালিনের মৃত্যুর পর নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্ষমতায় এসে আন্তর্জাতিকক কম্যুনিস্ট রাজনীতিতে অনেকগূলো বিতর্কের সূচনা করেন। তার একটা বড় প্রসঙ্গ ছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সশস্ত্র বিপ্লব বা বলপ্রয়োগের আর তেমন প্রয়োজন নেই, অধনবাদী সমাজতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ উত্তরণ সম্ভব; এবং তা ঘটবে পুঁজিবাদের তুলনায় সোভিয়েত অর্থনীতির শেষ্ঠত্বের কারণে
মাও সে তুং এর নেতৃত্বে চিন এর প্রতিবাদ করে। চিনা নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, পুঁজিবাদ যতই সংকটের মধ্যে থাকুক না কেন, তাতে তার পতন হবে না,বরং শ্রমিকশ্রেণীর পক্ষ থেকে বলপ্রয়োগ করে তাকে উচ্ছেদ করতে হবে।
যতদূর মনে পড়ে এটাই ছিল এই বিতর্কের প্রধান বিন্দু। মূল বির্তকের আরো অনেক ডালপালা ছিল। চিন অভিযোগ করে যে সোভিয়েত ইউনিয়নে আসলে সামরিক-সিভিল মধ্যবিত্ত তৈরি হয়েছে, সোভিয়েত রাষ্ট্রটি তারই দখলে চলে গিয়েছে। এদের স্বার্থ দেখার জন্যই সোভিয়েতরা বিশ্ববিপ্লবের বদলে শান্তির পথে বিপ্লবের কথা বলছে।
এখন এই বিতর্কের ফলশ্রুতিতে দুনিয়ার বহু দেশে কমুনিস্ট পার্টিতে বিভক্তি দেখা দেয়। সোভিয়েত পার্টি ক্ষমতাবান এবং তার সাথে সম্পর্ক লাভজনক হলেও বহু দেশেই আদর্শিক কারণেই পার্টির উল্লেখযোগ্য অংশ বিরুদ্ধ পক্ষে চলে যান। এই তত্ত্বের আরেকটা উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সোভিয়েত নির্দেশে স্থানীয় জাতিয়তাবাদী দলগুলোতে কর্মীদের ডেপুটেশনে (!) প্রেরণ এবং তাদের গড়ে উঠতে সহায়তা দান, তাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন; আরেকটি ছিল তাদেরকেই প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক মদদ দান। বাংলাদেশে মস্কোপন্থী কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের সূচনা তখন থেকেই, আর সামাদ আজাদ কিংবা আরও অনেক নেতাই আসলে কম্যুনিস্ট পার্টির দায়িত্ব পেয়েই সেখানে অংশ নিয়েছিলেন। সোভিয়েত পার্টির এই নির্দেশমত চলার আরেকটা উদাহরণ হল ইরানের কম্যুনিস্ট পার্টি শাহবিরোধী প্রত্যক্ষ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েও ‘জাতিয়তাবাদী শক্তি’ হিসাবে মোল্লাতন্ত্র এবং তার চূড়ামনি খোমেনিকে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতায় তুলে ধরা (আমি একটা রিপোর্টে দেখেছিলাম, পুরো গণঅভ্যুত্থানে অল্প কয়েকজন ডানপন্থী গ্রেফতার বা হতাহত হয়েছিলেন, তেমন অধিকাংশ ই ছিলেন ছাত্র বা ট্রেড ইউনিয়ন কর্মি, ফেদাইন, যারা প্রায় সকলেই সাধারণ মানুষ বা কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে সম্পর্কিত।) কিন্তু ক্ষমতায় পোক্ত করেই খামেনির প্রথম কাজটি হল কম্যুনিস্টদের শেকড় ধরে উচ্ছেদ। বাংলাদেশ নিয়ে মন্তুব্য আজ এড়িয়ে গেলাম মস্কো-পিকিং বিষয়ক বিতর্কে গূরুত্ব দেয়ার জন্য।
এই বিতর্কের আরেকটা ফলাফল হল টিকে থাকার জন্যই চিনকে দ্রুত শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিনত হওয়ার দর্কার পড়ল। এ নিয়ে শুরু হল আরেকটা নতুন বিতর্ক। পরবর্তীকালে ক্ষমতাসিন দেংশিয়াওপিং একটা তত্ত্ব দিলেন, বেড়াল সাদা না কালো তা দেখার দর্কার নাই, দেখতে হবে বেড়াল ইঁদুর মারে কি না ।(চিনাদের এই এক মজার বিষয়, তারা সব কিছুকে এমন প্রবাদ-প্রবচনের আকারে প্রকাশ কর্তে পারে, চিনা রাজনৈতিক ইতিহাস পড়তে গেলেও তাদের প্রজ্ঞার পরিচয় পাবেন এক একটা গল্পের শিরোনামে, যা থেকে এক একটা পুরো রাজনৈতিক অবস্থান বা দর্শন বা বক্তব্য বা ইতিহাস উঠে আসবে, যেমন বোকা বুড়ো পাহাড় সরালো, ড্রাগনপুজারীর মৃত্যু! )। এখন এই ইদুরের সারমর্ম হল এই যে, দ্রুত ক্ষমতাবান হতে হলে শিল্পায়নের ধরন সমাজতান্ত্রিক না অসমাজতান্ত্রিক না নিয়ে ভাবলে চলবে না, দেখতে হবে উৎপাদন বাড়ে কিনা। বিরোধীরা, খাটি মাওবাদীরা আবার বললেন, না, শিল্পায়নটা এমন ভাবে করতে হবে, যাতে তার গতি একটু ধীর হলেও সেখানে যেন আমলাতান্ত্রিকতা তৈরি না হয়, সেখানে যেন নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণী জন্ম না নেয়। (তাদের প্রজ্ঞাগল্পটা হল এই: সংক্ষিপ্ত পথে দয়িতের কাছে পৌছাতে এত নোংরা রাস্তা বেছে নিলে যে পৌছে গিয়ে দেখলে তোমাকেই আর চেনা যাচ্ছে না।)
এই বিতর্কে জয়ী হলেন দেং। পোস্ট লম্বা হয়ে যাচ্ছে, তাই এবার সংক্ষেপ করি, কেননা আধুনিক মাও বাদীদের নিয়াও দুই চারি কথা বলিতে আকাঙ্খা করি। দু/তিনটে সিদ্ধান্ত টানা যায় এখান থেকে:
১. পিকিংপন্থী বা মাওবাদীরা তারাই, যারা চূড়ান্ত দ্বন্দ্বের মিমাংসা শান্তুপূর্ণ হবে না, এই মত গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে নানা হঠকারীতায় ডুবলেও তাদেরই তাই দেখা যাবে পাকিস্তান প্রশ্নে চূড়ান্ত অবস্থান সবার আগে নিত।
২.ক্ষমতা প্রশ্নে এই তত্ত্বটি চিনের নিজের কোন উদ্ভাবন নয়, মার্কসবাদীদের নিজেদের মাঝেই এই বিতর্ক ছিল আগেও; আর মার্কসের জন্মের আগেও এই বিতর্ক ছিল। (লেখার পর মনে হল এই প্যারাটা আজকের প্রসঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক)
৩. এখন আর চিন নিজেই পিকিংপন্থী বা মাওবাদী নেই। ফলে আজ চিনের স্বার্থের সাথে জড়িত কাউকে মাওবাদী বা চিনপন্থী বলাটা অর্থহীন। এই পরিভাষাটা একটা ঐতিহাসিক বিতর্কের সাথে যুক্ত হয়ে আছে। আর সেই চিন বহু আগে নিজেই সোভিয়েত ইউনিয়নের লাইন গ্রহণ করেছে।
৪. শেষত: মাওবাদী বা মস্কোপন্থা কোন স্থাননামের সাথে খুব বেশি যুক্ত নয়। (কে জানে, বাক্যটা শুদ্ধ হল তো!) এটা একটা আদর্শিক বিতর্ক, ওই আদর্শে যুক্ত না থাকলে দেশ বা ব্যক্তি কাউকে ওই নামে ডাকা অসঙ্গত।
এবার আসি ভারতসহ নানান স্থানে মাওবাদীদের নিয়ে আলোচনায়। একটা সহজ বিষয় খেয়াল করলে দেখা যাবে, নকশাল বাড়ী পরবর্তী এই প্রায় সবগুলো স্থানের একটা সাধারণ সাদৃশ্য হচ্ছে এগুলো গ্রাম প্রধান বা জঙ্গলাকীণী এলাকা। যাতায়াত দুর্গম। আরেকটা বড় বৈশিষ্ট্য হল এসব স্থানে এমন সব আদিবাসীদের বাস যাদের ভাষা, সংস্কৃতির পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত দেখা যায়, এদের নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতার সুযোগ নিয়ে এদের ওপর বর্বর নিপীড়ন চলে, এদের জন্য মূল জাতির সুশীল অংশের মায়া কান্না থাকে কমকম, আর এসব স্থানের বনজ বা খনিজ সম্পদ এখরনও পুঁজি পুরোপুরু হজম করতে পারে নাই। এছাড়া আছেন জাতীয় বা বহুজাতিক কর্পরেট পুঁজির ধাক্কায় ক্রশশঃ খাঁচাবন্দী হতে থাকা কৃষককূল।
এবার দেখুন, নিজেদের জীবন ও জীবীকা এবং সন্মান ও সংস্কৃতি রক্ষায় লড়াই করে নাই, এমন জাতি মাও আর মার্কসের আগেও ছিল না,পড়েও নাই। বিষয় শুধু এই যে, কালে কালে এই লড়াই নতুন নতুন চেহারায় হয়েছে, মার্কস দেখিয়েছেন উত্তর আফ্রিকায় ফরাসী-বৃটিশদের বিরুদ্ধে নানান ধর্মীয় সংস্কারা আন্দোলনের ছলে উপনিবেশবিরোধী লড়াই-ই চলেছে, এবং তারা নিজেদের অধিকার যতদূর রক্ষা করতে পেরেছে, তা ওই বলপ্রয়োগের হুমকি দেখিয়েই। সিদু-কানহুর বিদ্রোহের চেহারাও একদিকে ধর্মীয় হলেও আদতে তো তা মহাজন আর শোষকদের থেকে নিজেদের জনগোষ্ঠিকে রক্ষারই চেষ্টা!
আজ আর সেই ধর্মীয় সংস্কারের দুনিয়া নাই (খারেজি একা খালি আছে, হা হা হা); আধুনিক স্কুল-কলেজে যাওয়া আদিবাসী সন্তানরা নিজেদের গালে যখনই বৃহৎ রাষ্ট্রের চড়টা আবিষ্কার করেন, বাপকে জীবিকা থেকে উচ্ছেদ হতে দেখেন কিংবা নিজেদের সংস্কৃতিকে হীন বলে শোনেন, তার যে প্রতিক্রিয়া, প্রকাশের ভাষা, তা আজকের জমানায় কমরেড মাওয়ের নামে হয়। মাওয়ের কৃষকবাহিনীর অসম সাহসী বিজয়ের কল্যাণে সারা দুনিয়ার বহু জঙ্গলবাসি, পাহাড়ী আদিবাসী তাদের লড়াইকে মাওয়ের নামে উৎসর্গ করেন এই ভাবে।
কথা সত্য, এই সব লড়াই গুড়িয়ে দেয়া হয়, নারীরা শতে শতে ধর্ষিত হন, সন্মানিত ব্যক্তিদের গাছে ঝুলিয়ে পেটান হয়, শিশুদের বুটে মাড়িয়ে যাওয়া হয় (বিএসএফ কর্তৃক মনিপুরে নারীদের ধর্ষণের প্রতিবাদে একটা সেখানকার নারীদের একটা আত্মঅবমাননা কর প্রতিবাদের পন্থা দেখে তাদের অপমানের তীব্রতাটা বুঝতে পেরেছিলাম।); আর এ কথাও সত্য যে, মাও নিজে হলেও বুঝতেন যে চিনে যে লড়াই মূলজাতিগোষ্ঠী লড়ছে, সেই লড়াই সংখ্যালঘুরা জিততে পারবে না… কিন্তু সেই লড়াইকে শ্রদ্ধা না করে উপায় কি, তাদের স্যালুট না জানিয়ে কি করে পারি! কখনো কখনো আত্মহননই প্রতিবাদের একমাত্র ভাষা হতে পারে, হয়তো লাখে লাখে স্তুপ জমলে সাজোয়া যানের গতি একটু ধীর হয়!
আমি যদি আদিবাসী হতাম, নিশ্চয়ই আমি মাওবাদী হতাম, নিশ্চিত পরাজয় জেনেও তা হতাম। হয়তো কেন, নিশ্চয়ই অহসায় কান্নাকাটির মৃত্যুর চেয়ে হাতে বানানো স্ললমাইন শত্রুর জন্য পুঁতে রাখায় কম অপমান থাকে।
….
সংযোজন:
হুড়মুড় করে লেখা এই নিবন্ধটায় একটা কথা যুক্ত করা যায়, সেটা হল আদিবাসী সংস্কৃতির সাথে সমাজতান্ত্রিক যৌথ-কৃষির সাদৃশ্য সম্ভবত তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণ করে। এছাড়া আছে খনিজ ও বনজ সম্পদ উত্তোলনের নামে তাদের অস্তিত্ব ধ্বংসের রাষ্ট্রীয় ও বহুজাতিক আয়োজন। অন্যদিকে অ-আদিবাসী কৃষক এলাকাতেও জমির মালিকানার একচেটিয়াকরণ ও মূল্য-না-পাওয়া, বহুজাতিকের বিনিয়োগে উচ্ছেদকৃত কিংবা বীজ-সার-কীটনাশক এর ফাদে আটকা পড়া কৃষকরা রাজনৈতিক দাবি হিসেবে ভূমি সংস্কারকে রাজনৈতিক দাবি হিসাবে উত্তাপন করে। আর ভূমির ইস্যুটাকে মস্কোপন্থীদের তুলনায় মাওবাদীরা ঐতিহাসিকভাবেই বেশি সামনে এনেছে, এটা সব মিলে অ-শহর অঞ্চলগুলোতে মাওবাদীদের প্রাধান্যের কারণ হতে পারে। ভারত, ফিলিপাইন, ল্যাতিন আমেরিকান বহু অঞ্চলে মাওবাদীদের বিকাশকে হয়তো এভাবেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
…
সংযোজন দুই:
বাড়িতে ফিরা আরেকটা কথা মনে পড়লো, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চিনের সর্বদা নিজ স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়াটাও তার নিজের মাওবাদী অবস্থান থেকে সরে আসার ফল। ‘৭১ সালে মাও নিজেও বৃদ্ধ হলও জীবিতই ছিলেন। ফলে মাওবাদাকে ব্যক্তির সাথে না মিলিয়ে তত্ত্বের গূরুত্বটাকে দেখতে হবে, যা থেকে হয়তো ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দেশ সরে এসেছে। আর এখন তো চিন আফ্রিকার বহু এলাকায় যা তৎপরতা শুরু করেছে, তাকে আর সব বহুজাতিক কোম্পানির কারবার থেকে কিছুতেই আলাদা করা যাবে না।
খারেজির পোষ্ট সমাপ্ত।
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৩২
জাতেমাতাল বলেছেন: মনজু ভাই, আমার দ্বিতীয় প্যারা নিয়ে আপনার বিভ্রান্তির বিস্তারিত আলোচনা আশা করছি...
২|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:২২
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: +
অনেক কিছু জানলাম ।
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৩৫
জাতেমাতাল বলেছেন: প্লাসের পাওনা খারেজির...
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, শূন্য।
৩|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:২৪
দ্বিতীয়নাম বলেছেন: মোদ্দা কথা হইলো, শত্রুর শত্রু হইলো বন্ধু; ঐ সময় ভারত-রাশিয়া জোটের বিরোধীতা করতে যাইয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে গেছে তারা , এমনকি চুড়ান্ত শত্রু মার্কিনজান্ত্রা নিকসন-কিসিঞ্জারগো সাথে হানিমুনও করছে।
রাজনৈতিক আর বানিজ্যের কুস্বার্থে মতার্দশিক আদর্শ বিসর্জন চীনের পুরানো স্টাইল।
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৩৮
জাতেমাতাল বলেছেন: আপনি যেটা বলছেন, সেটাই ইতিহাসের জনপ্রিয় এবং এযাবৎকালের প্রচলিত ব্যাখা।
৪|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৩০
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: বিশাল পোষ্ট। সময় লাগবে।
সকালের জন্য রেখে দিলাম।
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৩৯
জাতেমাতাল বলেছেন: জ্বি, সময় করে পড়লে খুশি হবো... ধন্যবাদ।
৫|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৩৫
শয়তান বলেছেন: আম্রার গনতন্ত্রই ভালা । কোন পন্থিমন্থি নাই
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৪৫
জাতেমাতাল বলেছেন: কেডা কইছে আম্রার পন্থিমন্থি নাই?
হাসিনা পন্থি গনতন্ত্র, খালেদা পন্থি গনতন্ত্র,এগুলার নাম শুনেন নাই?
আবার জামাতের (অ)সৎ পন্থি গনতন্ত্র , কিছুদিন আছিল এরশাদের নতুন বাংলা পন্থি গনতন্ত্র ...
![]()
৬|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৪২
ধূসর মানচিত্র বলেছেন: মাওবাদি কি??? কোন নীতি?? কার নীতি?? মাওসেতুংয়ের।
চায়নায় তো কম্যুনিস্ট-পুজিবাদ অথবা CPC-KMT
দ্বন্দ শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালের গোড়ার দিকে। তখন মাও ছিল একজন জুনিয়র কমিনিস্ট নেতা। কিছুটা ভাগ্য এবং সাহসিকতা কৃষক সান্নিধ্য তাকে প্রথম সারিতে নিয়ে আছে। এমন কি
চিয়াংকাইশেক যখন কমিউনিস্টদের প্রথম দশ বছর যখন ডিফারেন্ট অ্যাটাকিং দিয়ে ঘিরে ফেলে সেটাও মাওয়ের জন্য শাপে-বর হয়েছিল।
কারন মাওয়ের সাথে CPC তে যার সাথে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা
ছিল সে(Zhang) ধ্বংস হয়ে যায়।Zhang এর পাওয়ার বেশি থাকায় চিয়াংকাইশেক Zhang এর দিকে মনো্যোগ বেশি দেয়।
১৯৪৯ সালে মাও যখন ক্ষমতা নেয় তার আগে স্ট্যালিনকে বলেছিল পা'টির একমাত্র প্রেসিডেন্ট!!!!!!!! কেন- কারন একটাই গৃহযুদ্বে জিততে সোভিয়েতকে দরকার।
পরব'তীতে মাওয়ের গেট লীপ ফরওয়া'ড কিংবা চায়না কালচারাল রেভুল্যশন নামক প্রোগ্রাম দু'ভিক্ষ এবং মৃত্য ডেকে এনেছিল। মাওয়ের পশ্রয়েই তার স্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল "দি ফোর গ্যাং লিডার" তাদের অত্যাচার এতই বেশি ছিল যে, মাওয়ের মৃত্বের পর
ইহাদের বিচার হয়েছিল।
যাইহোক আমার কাছে এইসব রাজনীতিক মতবাদ মনে হয়একধরনের নিজেদের পকেট ভারী করা মতবাদ-তার বাহিরের কিছু না।
যখন বইয়ের পাতায় পড়েছিলাম- চীনাপন্থিরা বাংলাদেশ এবং
পাকদের যুধ্ব তথা আমাদের ফ্রিডম ফাইটকে দুই কুকুরের
লড়াই বলে উল্লেখ করেছিল তখন থেকে এদের নাম শুনলে
আমার গা ঘৃণায় রিরি করে উঠে। নিজের বোন ধ'ষিত হচ্ছে,
নিজের মা কেদে কেদে চোখ অন্ধ করে ফেলছে, বাবার লাশ তা দেখেও
চীনাপ্রীতি। হায়রে বাঙালী।
রাজনীতি-মতবাদের আরেকনাম মনে হয় সুবিধাবাদ-তাই দেখি
সোভিয়েট আমলে বুয়েটে ছাত্রইউনিয়নের দাপট কিংবা রাবি ক্যাম্পাসে
ছাত্রমৈত্রী। সেটা কি আদ'শ, ১০০% না। সেটা হল প্রকৃত সুবিধাবাদ।
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:১২
জাতেমাতাল বলেছেন: মাওয়ের তত্ত্বের পক্ষে ওকালতি করা এই পোষ্টের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নয়। বিশ্বাস করি খারেজিরও তা নয়। ফলে মাও সে তুং এর সমালোচনাও এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।
আমার শুধু কৌতুহল কারা মাওবাদের নামে আন্দোলন গড়ে তোলে, তাদের মাঝে বিশেষ বিশেষ মিল কেন খুঁজে পাওয়া যায়?
সারা বিশ্বে যখন কম্যুনিষ্ট আন্দোলন প্রায় যাদুঘরে ঠাঁই পাওয়ার অবস্থায়, ভারত ও সংলগ্ন কিছু এলাকায় তখন নিস্বঃ কিছু পশ্চাদপদ আদিবাসি মাওয়ের নামে আন্দোলন গড়ে তুলে... যখন খোদ চীনেই মাওবাদ বলে আর কিছু অবশিষ্ট নাই...
এই আন্দোলন মাওএর নামে কেন? এই মাওবাদ মানেই বা কি? আমাদের কৌতুহল এগুলো নিয়েই...
আপনার দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
৭|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৩৪
মনজুরুল হক বলেছেন:
"আমাদের মুক্তিযুদ্ধে চীনের সমর্থন ছিল আমাদের বিপক্ষে, পাকিস্থানী জান্তার স্বপক্ষে। এদেশের কম্যুনিষ্ট পার্টির সেই অংশ যারা মাওবাদী (বা চীনপন্থি) নামে পরিচিত ছিল তারাও প্রত্যাক্ষ ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে নাই। মুলতঃ সেখান থেকেই চীন সম্পর্কে আমাদের নেতিবাচক মনোভাব এর শুরু..."
----------------------------------------------------------------------------
ক্রুশ্চেভ যখন ঘোষণা দিলেন- "স্টেট ফর এভরিবডি" বা সোভিয়েত রাষ্ট্র সকল শ্রেণীর, এবং "শান্তিপূর্ণ উপায়েই সমাজতন্ত্র আসতে পারে"। মাও এর বিরোধীতা করেছিলেন। সেটাকেই বলা হয় "মহাবিতর্ক"। এর পর পরই সোভিয়েতের সাথে চীনের সম্পর্কচ্যুতি ঘটে। মাওয়ের সেই সময়কার আরো একটি উক্তি--"আমেরিকান কুকুরদের তথাকথিত গণতন্ত্র আর ক্রুশ্চেভের "সকল শ্রেণীর রাষ্ট্র" এক। সুতরাং দুই-ই পরিত্যাজ্য। উগ্রবাদী বলে খ্যাত লীন পিয়াও নবম কংগ্রেসে এই প্রস্তাব পাশ করালেন যে "বাংলাদেশের(বা পূর্ব পাকিস্তানের) জাতীয় যুদ্ধ সোভিয়েতের শ্রেণী সমন্বয়ের এসিড টেস্ট। বাংলাদেশ জয়ী হলে ওখানে শ্রমিক শ্রেণীর ক্ষমতা দখলের পরিবর্তে বুর্জোয়া শ্রেণীর চাপিয়ে দেওয়া সমাজতন্ত্র কায়েম হবে, এবং ক্রুশ্চেভের ত্বত্ত্ব অথেন্টিক প্রমান হবে( পরবর্তীতে যা বাস্তবেও হয়েছিল)"। সে সময় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে চীনের বিরোধীতার আরো অনেক কারণের এটিও একটি, বলা যায় অন্যতম। বেসিক্যালী চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ছিল এন্টি আওয়ামী লীগ। কারণ আওয়ামী লীগকে তারা মনে করত "ভারতের ক্রিড়ানক", পক্ষান্তরে সোভিয়েতের "এক্সপেরিমেন্ট টিউব"। সে কারণে দেখা যায় বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরই চীনের সাথে বাংলাদেশের নতুন মিত্রতা গড়ে ওঠে।
সেই সময় চীনপন্থী (এখানে মাওপন্থী বা মাওবাদী নয়) এদেশীয় কমিউনিস্টরা প্রতক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। কেবল মাত্র হক-তোয়াহা বাদে সকলেই যুগপৎ লড়াই করেছিল। ইপিসিপি(এম এল) এর টিপু বিশ্বাস, ওয়াহিদুর রহমান(পরে আ.লীগ এর নেতা, এম পি) দের আত্রাই যুদ্ধ ইতিহাস খ্যাত। সিরাজ শিকদারের পেয়ারা বাগান অভ্যুত্থান পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত ঘাটি এলাকার লড়াই। দেবেন শিকদার, জীবন মুখার্জী, অমল সেন এরা সকলেই প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন।
ভারতের কংগ্রেস সরকার নকশাল বাড়ির "দ্য স্প্রিং থান্ডার" মোকাবেলা করার জন্য সিআরপি কে পাঠায়। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাকাপ দেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী সীমান্তে মোতায়েন হয়। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের যতটা সাপোর্ট দেওয়ার কথা তা না করে পুরো শক্তি ব্যয় করে নকশাল দমনে। সে কারণে সিপিআই(এম এল) আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেনি সে সময়। এই সিপিআই(এম এল) চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মতাদর্শীক। এবার হিসেবটা মেলান, এদেশে যারা ওই মতাদর্শ আপহোল্ড করতো তারা কোন পথ অবলম্বন করতে পারে ?
(খুব সংক্ষিপ্তভাবে এটা ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। )
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪৭
জাতেমাতাল বলেছেন: ......সেই সময় চীনপন্থী (এখানে মাওপন্থী বা মাওবাদী নয়) এদেশীয় কমিউনিস্টরা প্রতক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। কেবল মাত্র হক-তোয়াহা বাদে সকলেই যুগপৎ লড়াই করেছিল। ইপিসিপি(এম এল) এর টিপু বিশ্বাস, ওয়াহিদুর রহমান(পরে আ.লীগ এর নেতা, এম পি) দের আত্রাই যুদ্ধ ইতিহাস খ্যাত। সিরাজ শিকদারের পেয়ারা বাগান অভ্যুত্থান পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত ঘাটি এলাকার লড়াই। দেবেন শিকদার, জীবন মুখার্জী, অমল সেন এরা সকলেই প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন।...
অনেক ধন্যবাদ মনজু ভাই... প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য।
৮|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৪৯
মনজুরুল হক বলেছেন:
খারেজির ১ আর ২ নং এর উত্তরে :
আমেরিকান কমিউনিস্ট পার্টির (মাওবাদী) বব এভাকিন, রেমন্ড লোট্টার থিসিস থেকে "মাওবাদ" এর জন্ম। কোন মতাদর্শকে প্রায়গিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে নতুন একটি দিকনির্দেশনা সৃষ্টি করলে আর একটি "বাদ" এর জন্ম হয়। সোভিয়েত প্রতিষ্ঠা যেমন মাকর্সবাদের সর্বোচ্চ রূপ। আর এটির সফল প্রয়োগই লেনিনবাদের জন্ম দেয়। তেমনি মাকর্সবাদ-লেনিনবাদ এর বিকোশিত রূপ হচ্ছে চীনের "দীর্ঘায়ীত সাংস্কৃতিক বিপ্লব"। "মাকর্সবাদ-লেনিনবাদ কে প্রায়গিক ক্ষেত্রে সফল এবং বিজয়ী রাখতে হলে ধারাবাহিকভাবে সাংস্কৃতিক বিপ্লব চালিয়ে যেতে হবে"। মাওয়ের এই নতুন ত্বত্ত্বকেই "রেভ্যুলেশনারী ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট" মাওবাদ হিসেবে প্রচার করে। যা বর্তমান চীনা কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থন করে না। সুতরাং চীনপন্থী আর মাওপন্থী এক নয়। নেপালের বিপ্লবকে সে কারণেই চীনা পার্টি সমর্থন করেনি।
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৫৫
জাতেমাতাল বলেছেন:
আপনার উপরের মন্তব্যের কিছু অংশ (চীনপন্থি কম্যুনিষ্টদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন প্রসঙ্গে) আমার পোষ্টে এডিট করে দিয়েছি।
তথ্যবহুল মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ, মনজু ভাই।
৯|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৪:৫৯
শয়তান বলেছেন: একটা ব্যাপার বুঝলাম না ।
খারেজি তো সামহ্যয়ারে ব্যান । সো এই পোস্ট এ সে কমেন্টাইবো কেমনে ? অন্যদের যুক্তি খন্ডানোর উপায় কি তার ?
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১৪
জাতেমাতাল বলেছেন: সেটা তো একটা বিরাট সমস্যা... হে মহামান্য।
আপনার অনুগত বান্দা খারেজির পাপ মোচনের ব্যাবস্থা করেন। তারে আনব্যান করার উদ্যোগ নেন...
১০|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:১৪
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: ধন্যবাদ মনজু ভাই। সমস্যাটা হচ্ছে যারা ষাটের দশকের পিকিংপন্থী কমুউনিস্টদের ব্যাকট্রেইল দেখে কম্যুনিজমকে মাওবাদী/মার্কসবাদী/লেনিনবাদীতে বিভক্ত করতে চায়, তারা মোটেই না বুঝে করে না, ঠান্ডা মাথায় জেনেশুনেই প্রপাগান্ডা চালায়। সাধারণ মানুষ যারা এত্ত নানান বাদ বুঝতে চায় না তারা পরে বিপদে। ধুত্তেরি ছাই বলে আবার মাথা গুজে রাখতে চায় চলমান জঙ্গলীপনায়। বব আ্যাভাকিয়ান তার অবযার্ভেশন অন আর্ট এ্যান্ড কালচার, সাইন্স এন্ড ফিলোসফি বইতে ঘুরে ফিরে সমাজ-সভ্যতার সাথে এই জঙ্গলীপনার সংঘর্ষের কথা বলেছেন, বলেছেন উত্তরণের উপায় সম্বন্ধে।
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৩১
জাতেমাতাল বলেছেন: ভালো কথা বলেছেন প্রশ্নোত্তর...
আমার ধারনা, লালগড়ের আন্দোলনকারীরাও এত মাওবাদ বুঝে না।
ওরা মাঠে আছে, বাস্তব জীবন ওদের তত্ত্ব শেখায, তাদের প্রয়োজন একটা মতবাদ, যা তাদের একতাবদ্ধ হতে সাহায্য করে।
(এই ধারনা খারেজিরও)
১১|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৪১
অচেনা সৈকত বলেছেন: আপনার লেখায় আত্রাই-এর ওয়াহিদুর রহমানের নাম দেখে কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য দিতে ইচ্ছে করল। ওয়াহিদুর রহমান প্রকৃতপক্ষে নকশালপন্হী। অতীতে কখনই সে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল না। ৭১ এর পরে 'অহিদুর বাহিনী'-র অত্যাচারে আত্রাই-এর ত্রাসের রাজত্বের ভয়াবহ স্মৃতি সেখানকার বয়োবৃদ্ধরা এখনও ভোলে নি। প্রসঙ্গত আমার এক পিতামহকে ওয়াহিদুর রহমান প্রকাশ্য দিবালোকে নিজের হাতে জবাই করে হত্যা করে। এর কোন বিচার হয় নি। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু অহিদুর বাহিনীকে দমন করতে সৈন্য পাঠাতে বাধ্য হন। এর হাতে নিহত আওয়ামী লীগের নেতাদের সংখ্যা কম নয়। পরবর্তীতে ৯৬ এর সংসদ নির্বাচনে ভোল পালটে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি পদে দাঁড়ালেও জনগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করে।
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৩০
জাতেমাতাল বলেছেন: আপনার প্রাসঙ্গিক তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। আওয়ামীলীগের ক্যাডারদের সাথে ৭১ সালে অহিদুর রহমানের বৈরী সম্পর্কের কথা আমরা অনেকেই জানি।
১২|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৪৫
পি মুন্সী বলেছেন: আমি মনজুর সাথে একমত, চীনপন্থিরা "প্রত্যাক্ষ ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে নাই" - এই কথাটা ইতিহাসের তথ্য হিসাবে ভুল। এই মন্তব্যটার মানে হবে আমরা আজকের দিনেও মস্কো-পিকিং ভাগের ভিতরে কোন একটা পক্ষ নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। আজকে এর কোন প্রয়োজন নাই, প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আর এটা ইতিহাস বুঝার পথও নয়। আজকের প্রয়োজনের তাগিদে ইতিহাস বুঝা ও বিশ্লেষণ করতে চাইলে আরও অনেক উর্ধে দাঁড়িয়ে দেখতে শিখতে হবে।
আমার উদ্ধৃত পোষ্টেও এমন ধারণা আমি দেই নাই। একটা উদাহরণ দেই, সে আমল থেকে ঢাকার কাছাকাছি সবচেয়ে বড় শিল্প এলাকা কাঁচপুর থেকে ঘোড়াশাল কালিগঞ্জ। এই এলাকায় ৭১ সালের সশস্ত্র যুদ্ধটা হয়েছিল চীনা কমি্উনিষ্টদের প্রাধান্যে। পরবর্তীকালে এটাই মান্নান ভুইয়ার ক্ষমতা ও সমর্থনের উৎস হয়ে উঠার কারণ। নোয়াখালি শহরে ২৫ মার্চের পরে পরে প্রথম যে গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠে বাঙালি ডিসিকে সাথে নিয়ে, তা ঘটেছিল আওয়ামি লীগের মরহুম আব্দুল মালেক উকিল ও মোহম্মদ তোয়াহার নেতৃত্বে আলাদা আলাদাভাবে তবে একটা মাঠের সমন্বয়ের মাধ্যমে। যদিও পরে এটা আর বিকশিত হয় নাই নানান কারণে।
আসলে গোলটেবিল রাজনৈতিক নিগোশিয়েশন বর্জনের পর থেকেই কমি্উনিষ্ট পার্টির নেতারা আর নিজেদের মধ্য ঐক্য রাখতে পারেন নি। ভূঅঞ্চলের দিক থেকে এর নির্ধারক কারণ ছিল নতুন ধারা হিসাবে কুচবিহারের নকশালবাড়ি আন্দোলনের উত্থানের প্রভাব সব এলোমেলো করে দেয়। কারণ, ৬২ সালে শুরু হওয়া কমিউনিষ্টদের মস্কো-পিকিং ভাগের পর আবার পিকিং ভাগের মধ্যে নতুন ভাগাভাগি ঘটায় ৬৯ সালে নকশালবাড়ি আন্দোলন এক নতুন ধারা। ফলে নতুন করে চিনা পন্থী ধারা আবার ভাগ হয়ে যায়।
বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে, দুটো ঘটনা একসাথে ঘটেছে। আমাবস্যার জোয়ার আর বন্যার পানি একসাথে নেমে আসলে বন্যার্ত মানুষের যে দশা হয় সেরকম। একদিকে চীন নিজ রাষ্ট্রের স্বার্থে জাতিসংঘের সদস্যপদ এতই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে যে চীনাপন্থী পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টিকে নিজের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে, দ্বিধা না করে। সফল ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে প্রভাবশালী সমান অংশদারিত্ব সত্বেও কমিউনিষ্ট পার্টির উপর প্রভাব বিস্তার করে ভাসানীকে গোলটেবিল বর্জন করাতে পেরেছিল। এই সিদ্ধান্ত স্হানীয় নেতা কর্মীরা হতবিহ্বল হয়ে ছিল। এর মাঝে একই সময়ে হাজির হয়েছিল চারু মজুমদারের নকশালবাড়ি আন্দোলনের নতুন চমক, সাফল্যের খবর হিসাবে যাকে দেখা হয়েছিল, যেন নতুন আশার আলো পাওয়া গিয়েছে। নতুন এই ধারায় হতাশা বিহ্বলতা ভেঙে চাঙ্গা হতে যা আশ্রয় হয়ে উঠেছিল সর্বস্বত্যাগী নেতা কর্মীর কাছে। সফল গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর পর সেই মাঠ ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত কেন পার্টি গ্রহণ করল নেতা কর্মীদের কাছে মনের সেই প্রশ্ন প্রশ্ন হিসাবেই নিরুত্তর থেকে যাবার সুযোগও পেয়েছিল।
তবু যতটা সহজে বলছি এতটা সহজে তা ঘটে নাই। বাইরের দিক থেকে সাধারণ মানুষের কাছে পার্টির নতুন তত্ত্ব-সিদ্ধান্তের এই পরিবর্তনের প্রভাব আড়ালে থাকতে পেরেছিল। কারণ দেশের আইনে কমিউনিষ্ট পার্টি করাই নিষিদ্ধ ছিল। প্রকাশ্য বা গণসংগঠন ছিল ভাসানী ন্যাপ। ফলে ভিতরে পার্টি বিভিন্ন ধারায় ভাগ হয়ে গেলেও প্রকাশ্যে সবাই আগেকার মত একই ভাসানী ন্যাপের সদস্য। ফলাফল একটাই এবার বিভিন্ন ধারার গুতাগুতিতে ভাসানী ন্যাপে কোন সিদ্ধান্ত নেবার বেলায় ছিল স্হবিরতা। ভাসানী একাই যা ভাল বুঝেন সেটাই হতো সিদ্ধান্ত। এভাবেই চলেছিল। এদিকে বাস্তব সমস্যা হলো মাঠে যারা কর্মীদের নেতৃত্ব দেন সেই নেতাদের। সবচেয়ে প্রথম যে সমস্যা তা হলো, এতদিন গণআন্দোলন ছিল পার্টির গৃহীত পথ, কাজের ধরণ। এবার সেই কর্মীদেরই কাজের ধরণ বদলে অপ্রকাশ্য, মাস লাইন নয় গোপনে আবার সশস্ত্রতায় কাজে নামতে হয়েছিল। এর একটা ঝাকুনি আছে। আবার দলের সিদ্ধান্ত গণআন্দোলন নয় সশস্ত্রতার পথ কিন্তু বাইরের মাস জনগণ আওয়ামী লীগের সাথে জীবন্ত গণআন্দোলনেই আছে; জনগণ নির্বাচন, মিছিল মিটিং রাজপথে জীবন্ত হয়েই আছে। ফলে এর একটা সংঘাত মাঠের কমিউনিষ্ট কর্মীরা প্রতিনিয়ত উপলব্দি করত। এই উপলব্দির ফলাফল আমরা দেখি দুই রকমের, গ্রাম ও শহরে ধরণের মোকাবিলা। যাদের কাজের ক্ষেত্র গ্রাম তারা পকেট হিসাবে নিজেদের এড়িয়ে রাখতে পারল। কিন্তু যাদের কাজের ক্ষেত্র শহর, বিশেষত শিল্প এলাকা তারা ২৫ মার্চের পরে সশস্ত্রভাবে সরাসরি পাকিস্তানী প্রতিরোধের পথে যাওয়া ছাড়া নিজেকে, কর্মী সমর্থক ও ব্যপক জনগণকে রক্ষার উপায় ছিল না। ফলে তত্ত্বে যাই থাক, গণআন্দোলন না সশস্ত্রতা, বাস্তবে তার নতুন মানে হলো - সশস্ত্র তবে গণপ্রতিরোধ - অর্থাৎ গণআন্দোলন না সশস্ত্রতা এর দুটোই ভেঙ্গেচুড়ে একাকার। তবে যা কিছুই করুক, সব সিদ্ধান্তই হয়েছে স্হানীয়ভাবে, বাস্তব পরিস্হিতি মোকাবিলার প্রয়োজনে। পার্টি হিসাবে সব নেতার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হিসাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের কোন সিদ্ধান্তের অধীনে নয়। এক কথায় বললে কাজটা তারা করেছে অবজেকটিভলি কোন সাবজেক্ট সিদ্ধান্তে নয়। অবশ্য প্রথম অন্তত চার-পাঁচ মাস তাজউদ্দিনের ভারতের সমর্থন পাবার শর্ত ছিল এই কমিউনিষ্টদের সমর্থন, অংশগ্রহণ - কিছুই নেওয়া বা করা যাবে না- এটাও একটা বাস্তবতা ছিল।
তবু আমার এখনও মনে হয়, নকশালবাড়ি আন্দোলনের ধারা যদি একই সময়ে না জাগত, প্রভাব নিয়ে হাজির না হত তবে শুধু চীনা পররাষ্ট্র নীতির চাওয়া বা ইচ্ছায় আমাদের চীনপন্থী কমিউনিষ্ট পার্টির পরিণতি বা ভুমিকা এমন হত না। অন্তত ওর বেশির ভাগ নিবেদিত কর্মীকে আমরা গুরুত্ত্বপূর্ণ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে দেখতাম। ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত।
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৩৬
জাতেমাতাল বলেছেন: অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য সহ বিশাল মন্তব্যের জন্য পি মুন্সীকে ধন্যবাদ
১৩|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৫:৫১
পি মুন্সী বলেছেন: দ্বিতিয়নামের বক্তব্যটা আমার কাছে শুধু "এযাবৎকালের প্রচলিত ব্যাখ্যাই" নয় আরও অনেক কিছু।
এই মন্তব্যটার মানে হবে আমরা আজকের দিনেও মস্কো-পিকিং ভাগের ভিতরে কোন একটা পক্ষ নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। অথচ আজকে এর ভিতরে দাড়ানোর কোন প্রয়োজন নাই, প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমরা নতুন কোথাও আগাতে পারব না এতে। আর এটা ইতিহাস বুঝার পথও নয়। আজকের প্রয়োজনের তাগিদে ইতিহাস বুঝা ও বিশ্লেষণ করতে চাইলে আরও অনেক উর্ধে দাঁড়িয়ে দেখতে শিখতে হবে।
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৩৯
জাতেমাতাল বলেছেন: ...এই মন্তব্যটার মানে হবে আমরা আজকের দিনেও মস্কো-পিকিং ভাগের ভিতরে কোন একটা পক্ষ নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। অথচ আজকে এর ভিতরে দাড়ানোর কোন প্রয়োজন নাই, প্রয়োজন ফুরিয়েছে।......
সহমত।
১৪|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:৩৭
পি মুন্সী বলেছেন: খারেজি@
"স্তালিনের মৃত্যুর পর নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্ষমতায় এসে আন্তর্জাতিক কম্যুনিস্ট রাজনীতিতে অনেকগূলো বিতর্কের সূচনা করেন" এটা যথেষ্ট নয় তবে এটা চীনের ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যা না বলে জাষ্টিফিকেশন বলা ভাল। কিসের জাষ্টিফিকেশন? না কেন চীন কমিউনিষ্ট হওয়া সত্ত্বেই রাশিয়ার বিরোধিতায় নামল তার। এখানে ব্যাখ্যার বক্তব্য সঠিক হলেও এটাই চীনের বিরোধীতার কারণ নয়। এটাই আমার মূলকথা।
মূল কারণ জানতে চাইলে চীনের অভ্যন্তরের বিষয়ের দিকে তাকাতে হবে। সে কথা আগ্রহী পাঠক পেলে বলা যেতে পারে।
তবে কেন একমাত্র এই প্রচলিত ব্যাখ্যাই সর্বত্র পাওয়া যায় তা নিয়ে আমার ব্যাখ্যা বা সমালোচনা হলো, এ'পর্যন্ত দুনিয়ায় রাষ্ট্রতত্ত্ব বা STATE Theory তে যা কিছু ভাবনা বিকশিত হয়েছে তা কমিউনিষ্ট রাষ্ট্রের বেলায় প্রযোজ্য নয়। ওগুলো বুর্জোয়া তত্ত্ব। এমন ধারণার উপরে চীনা বা সোভিয়েত কমিউনিজম দাড়িয়ে ছিল। আবার নিজেদেরকে রাষ্ট্র মানতেও এরা রাজি নয়। কমিউনিষ্ট দেশ বলতে আরাম পায়।
রাষ্ট্র সংক্রান্ত ভাবনার জায়গায় দাড়িয়ে বাস্তব কমিউনিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে দেখা হয় নাই, বিচার করা হয় নাই - তবেই প্রচলিত ব্যাখ্যার বাইরে আমরা বের হতে পারব। এখন কাজে লাগে এমন ভাবনা চিন্তার শুরু হতে পারে তবেই।
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৫০
জাতেমাতাল বলেছেন: রাষ্ট্র সংক্রান্ত ভাবনার জায়গায় দাড়িয়ে আপনার বিস্তারিত মন্তব্য অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ণ...
১৫|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:১৬
অলস ছেলে বলেছেন: পড়লাম। খারেজিকে মিস করি। অলসতা করে আমার ব্লগেও যাওয়া হয়না।
ভালো লেগেছে, জানার চেষ্টা করছি। ধন্যবাদ।
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৫৫
জাতেমাতাল বলেছেন: অলস ছেলেকে মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ,
আমরাও খারেজিকে অনেক মিস করি।
১৬|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৩৫
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: খারেজীকে মিস করি।
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৫৬
জাতেমাতাল বলেছেন: আমরাও খারেজিকে অনেক মিস করি।
১৭|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৫৮
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম।
লালগড়ের মাওবাদীদের লড়াই সম্পর্কে খারেজির মুল্যায়ন সঠিক।
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৫৮
জাতেমাতাল বলেছেন: লালগড়ের মাওবাদীদের লড়াই সম্পর্কে খারেজির মুল্যায়ন সঠিক।
আমি খারেজির সাথে একমত।
১৮|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:০৮
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: মাওবাদ আসলে কোন ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে সেটা জানার কৌতুহল ছিল । পুরোটা পড়ে একটা ধারণা হল , যদিও বুঝতে বেশ কষ্ট হচ্ছে
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ২:০৫
জাতেমাতাল বলেছেন: ......মাওবাদ আসলে কোন ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে সেটা জানার কৌতুহল ছিল ।......
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য পি মুন্সীকে অনুরোধ করতে চাই।
১৯|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৪৬
নুভান বলেছেন: চীনে কেন ব্যফক হারে বিলাই হত্যা করা হইতাছে? কারন তারা মাও বাদ দিয়া ম্যাও ডাকা শুরু করছিল বইল্লা ।। খেক খেক ![]()
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ২:০৭
জাতেমাতাল বলেছেন: হাঃ হাঃ হাঃ দারুন জোকস...
২০|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭
সিদ্ধার্থ আনন্দ বলেছেন:
+++
২১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:১২
জাতেমাতাল বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
২১|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:০৬
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: আপনার পোস্টের জন্য +। আনেক জানা অজানা তথ্য জানতে পেলাম। আনেকদিন পর যেন সেই ছাত্রজীবনে ফিরে গেলাম এই পোস্টএ এসে। মনে হচ্ছে গোলটেবিলে বসে এক এক জনের কথা শুনছি।
সবার সব বক্তব্যকে আমি সম্মান করছি।
অচেনা সৈকত এর বক্তব্য একটি ঘটনা। এই আত্রাই বাহিনী এখনও আছে তারা বিদ্যমান। অহিদুর বাহিনী পক্ষে বিপক্ষে গড়ে উঠেছে আরও কিছু বাহিনী, তাতে সাধারন মানুষের মনে ত্রাস আরও বেড়েছে বই কমেনি। এখনও রাত নয়টার পর কেউ আত্রাইবিলের ঐ রাস্তা দিয়ে যায় না গলা কাটা বাহিনীর ভয়ে। আমি প্রসঙ্গের বাইরে চলে গেছি।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭
জাতেমাতাল বলেছেন: আত্রাইয়ে অহিদুর বাহিনীকে নিয়ে যে সমস্যা, তা আসলে অত্র এলাকায় সন্ত্রাসবাদের সমস্যা...
এ ধরনের সমস্যা অন্যান্য এলাকাতেও দেখা যায়।
২২|
১৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:২৮
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: মন্জু ভাই,পি মুন্সীর মন্তব্য গুরত্বপূর্ণ । প্রিয়তে রাখলাম ।
২৩|
১৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৩০
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: হেই. মতি মিঞা( মতিউর রহমান) এর একটা কিতাব আছে, ''তৃতীয় বিশ্বে চীনের বিশ্বাস ঘাতকতা'' নামে।
ঐখানে তিনি সাকুল্যে মস্কো-বনাম পিকিং বিভাজনের যে পুরানা জিগির এবং বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধ সহ চীনের মায় মাওবাদীদের মহা হারামিপনা দেখানোর জন্য বেশুমার খাটাখাটনি করছেন। তয়, তখন সিপিবির তহশিলদার আছিলেন। কিন্তু সেই খাসিলত যায় নাই। যেই পাইলো ল্যাম্পপোস্ট ওমনিই ছুরি চালানো আরম্ভ করলো পুরানা কায়দায়।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪
জাতেমাতাল বলেছেন: মতি মিঞা( মতিউর রহমান) এখন অনন্ত যুদ্ধের তহশিলদার, কাজেই ল্যাম্পপোস্টে ছুরি চালানো তার কর্তব্য-কর্মের মধ্যেই পড়ে।
২৪|
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৫৪
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: পরে পড়বো। প্রিয়তে।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৮
জাতেমাতাল বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
২৫|
২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ২:১৪
শয়তান বলেছেন:
খারেজি নিজের পাল্লা নিজেই সবসময় কাত করে রাখতে চায় ।
২১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:০৪
জাতেমাতাল বলেছেন: খারেজি হইলো গিয়া বুদ্ধিমান, তাই নিজের পাল্লা নিজেই সবসময় কাত করে রাখতে চায়।
তা ছাড়া বিদ্যাসাগর তো সেই কবেই বলে গেছে-- নিজের ঢাক সর্বদা নিজেই পিটাইবা, অন্যকে দিলে তাহা ফাটাইয়া ফেলিতে পারে।
২৬|
২০ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৫
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: একাত্তরে চীনপন্থী কমিউনিস্টদের থিসিসগুলি ছিল নিম্নরূপঃ
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু ভারতীয় দালাল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই । -সিরাজ শিকাদার , পূ. বা.স.পা
মুক্তিযুদ্ধের নামে পূ্র্ব পাকিস্তানে ভারতীয় আগ্রাসন । অতএব মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই ।-আবদুল হক, পূ. পা.ক.পা (এম এল)
চারু মজুমদারের লাইন সঠিক । সুতরাং বিপ্লবের স্তর হবে জনগণতান্ত্রিক ।
-মতিন- আলাউদ্দিন, পূ. বা.ক.পা (এম এল)
বাংলাদেশের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধ তবে ভারতের সাহায্যে নয় ।
-তোয়াহা, পূ. পা.ক.পা
২১ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮
জাতেমাতাল বলেছেন: সামগ্রিক ভাবে একাত্তরের চীনপন্থী কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের এক ধরনের লাগাতার প্রোপাগান্ডা চালু আছে। এর বিরুদ্ধাচরন করা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:২০
মনজুরুল হক বলেছেন:
পোস্টে প্লাস। কারণ ব্লগে "মাওবাদ" নিয়ে একধরণের "ফ্ল্যাজিল! হ্যান্ডল উইথ কেয়ার" বা শুচীবায়ূগ্রস্থতা দেখা যাচ্ছে। মাওবাদ বিষয়ে এমন ধারণা চাউর করা হচ্ছে যেন এটা বিশ্বের "নবম আশ্চর্য্য"! কল্পনায় এদেরকে "নিশ্চই ভয়ংকর কিছু একটা" ঠাউরে শিউরে ওঠার ভান করা হচ্ছে। সেই বিষয়টাকে খোলসা করার জন্য পোস্টটা ভাল।
# আপনার দ্বিতীয় প্যারা নিয়ে বিভ্রান্তি আছে।
# খারেজির ১ আর ২ ভ্রান্ত। প্রয়োজনে আপত্তির ব্যাখ্যায় যাওয়া যাবে।
# আপনার "বোল্ড" অক্ষরগুলো মজাদার!
# খারেজির আদিবাসী, সংস্কৃতি,জীবীকা, সন্মান অংশটুকু ভাল। হেগেলীয় ত্বত্ত্ব বর্ণনায় সে অনন্য।
সর্বপরি পোস্টের জন্য অভিনন্দন।