| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কঠোর প্রাকৃতিক পরিবেশে অসহায় অশিক্ষিত লোকেরা প্রকৃতিকে বিভিন্নভাবে বোঝার চেষ্টা করেছে। খুব কম সংখ্যক মানুষই বেঁচে থাকার সংগ্রামের মাঝে প্রকৃতি সম্পর্কে চিন্তা করেছিল। প্রায় দুই হাজার বছর আগ পর্যন্ত উত্তর মেরুর ধর্ম বিশ্বাসীরা আকাশকে সর্বশক্তিমান ভগবান হিসাবে বিশ্বাস করত। জীবন ধারনে ব্যবহৃত হবেনা জেনেও কোন প্রাণী বধ করা ছিল বড় ধরনের পাপ কাজ। অন্যান্য প্রাণী এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর যেকোন কাজ বড় পাপ হিসেবে গণ্য হত। এত কঠোর প্রাকৃতিক পরিবেশে বাস করলেও মানব প্রকৃতির নীয়মে সবসময় তারা এ জীবন উপভোগ করে এসেছে। মানব জাতির অবিরত বেচে থাকার প্রতি যে সাভাবিক আকর্ষন তার ফলশ্রুতিতে তারাও মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের কল্পনা থেকে মুক্ত ছিলনা। তাদের চিন্তায় নরক এবং স্বর্গ ধারণা জীবনযাত্রার বৈরী পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না। তারা নরককে এক মহা ঠান্ডা স্থান এবং স্বর্গকে এক অপেক্ষাকৃত গরম আরামদায়ক স্থান হিসেবে গন্য করত। মৃত্যূর পর বিচার করে ইশ্বর বিধি প্রতিপালিতদের স্বর্গে এবং অমান্যকারীদের নরকে পাঠিয়ে দেওয়ার ধারনা প্রায় অন্য ধর্মের সাথে মিলে যায়। স্বর্গে সব ভাল উপভোগ করবে উষ্ণতার মধ্যে।
যদি সব ধর্মের উৎপত্তির সমসাময়ীক ইতিহাস এবং অবস্থান পর্যালোচনা করা হয় এবং তার উপাদান বুঝতে চেষ্টা করা হয়, এটি বুঝতে অসুবিধা হয়না, সমসাময়ীক পরিবেশ এবং বাস্তবতার বাইরে কোনকিছুই ধর্মীয় নিয়মকানুন বা অন্য কোন প্রসঙ্গ বর্ননায় স্থান পায় নাই। যেমন বিষুব অঞ্চলে বিকশিত ধর্মসমুহ এবং ধর্মে অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তুসমুহ গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এর বেতিক্রম পাওয়া যাবেনা। যেমন বাইবেলের কোথাও স্ট্রবেরীর কথা খুজে পাওয়া যাবেনা। মেরু অঞ্চলের ধর্মসমুহে কোন আম কাঠালের অস্থিত্ব খুজে পাওয়া যাবেনা। লক্ষ করলে দেখা যাবে বিষুবীয় অঞ্চলে সৃষ্ট প্রায় সব ধর্মেই ধর্মভেদে বিভিন্ন নিয়মে বিভিন্ন দিনে রোঝা রাখার বিধান আছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞলে বৎসরের বিভিন্ন দিবসে উপোশ করে থাকে। খৃষ্টান ধর্মালম্বিরা বিশেষ করে পুরুহীতরা বিভিন্ন দিবসে উপোস করে থাকে। বাইবেলে উল্লেখ আছে বিভিন্ন দিবসে ইসা, মূসা, সম্রাট দাউদ রোঝা রাখতেন। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা এবং নানরা তাদের বিশ্বাসের অংশ হিসাবে বিভিন্ন দিবসে উপোস করে থাকেন। এখানে বিভিন্নভাবে দিনে নাখেয়ে প্রভূর সন্তুষ্টি অর্জনের বিষয়টি ধর্মসমুহে পরিলক্ষিত হয়। বিষুব অঞ্চলে দিবারাত্রির দৈর্ঘ বৎসরব্যপী প্রায় সমান হওয়ায় ভগবানের সন্তুষ্টির এ ধরনটি হয়ত ধর্মে স্থান করে নিয়েছিল। এসব ধর্মীয় উপবাসাধি সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সঙ্গে কোন না কোনভাবে সম্পর্কিত। মেরু অঞ্চলের ধর্মে দৈনিক উপহাসের অস্থিত্ব নাই। এখানে দিবারাত্রির পার্থক্য বৎসরব্যপী এত বেশীযে এখানে এ ধরনের দৈনিক ইপহাসের কষ্ঠ সহ্য করে সৃষ্টিকর্তার আরাধনার নিয়মের স্থান ধর্মে হয় নাই। এখানে গ্রীষ্মকালে কয়েক দিনের জন্য সূর্যালোক থাকে, অন্যদিকে শীতের সময় একটি সারিতে অনেক দিন কোনো সূর্যালোক থাকেনা। ছয় সাতদিন ধরে শুধু অন্ধকার। তাই বিষুবীয় অঞ্চলের ধর্মসমুহের বিভিন্ন আচরানাদি মেরু অঞ্চলের মানুষের পক্ষে মানা সম্ভব হলেও সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপোস করে প্রভূর মনোবাসনা পূর্ণ করা সম্ভব না। ধর্মের উৎপত্তির কালসমূহে ঘড়ির আবিস্কির না হওয়ায়, ঘড়ি ধরে ঘন্ঠা করে রোযা রাখার নিয়ম চালু না থাকাতে সব ধর্ম পৃথিবীর সব অঞ্চলে পালন করা সম্ভব নয়। ধর্মের নিয়মকানুন প্রদানকারি সৃষ্টিকর্তা হয়ত মেরুবাসীদের প্রতি উদাসীন ছিলেন অথবা মেরুর পরিবেশ সৃষ্টির পর এখানকার দিবারাত্রির পার্থক্যের বিষয় ভুলে গিয়েছিলেন।
আমি বাংলা ভাল জানিনা। ভূল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।
©somewhere in net ltd.