নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইমান

৫রহেজগার

শিক্ষক।ধর্ম পরাই। অত্যন্ত পরহেজগার এবং ইমানদার।

৫রহেজগার › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঈমানী জোসে প্রাণ বধ

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:১৯

আমার এক বন্ধু খুবই ধার্মিক, মাদ্রাসা থেকে অনেক ডিগ্রী নেওয়া। রাজনিতির প্রতি ভিষন ঝোক। বলার অপেক্ষা রাখেনা কোন রাজনিতির সাথে যুক্ত। প্রায় প্রতিদিন সময় পেলেই আমার কাছে আসত আমাকে বুঝানোর জন্য। অর্থাৎ উনি আমাকে ঐ দলের সমর্থক বানানোর জন্য শিখার ধরেছিলেন। বিভিন্ন জিহাদী বইপত্র দিয়ে যেতেন। ধার্মিক এবং মৌলানা হিসেবে উনার একটা অসাধারন গুন ছিল, আর সেটা হলো ওনার ধারনার উপর ভিত্তি করে মিথ্যা যুক্তি দেওয়া এবং সাথে পবিত্র কোরান থেকে বিভিন্ন বাক্য উনার ধারনার সমর্থনে জুরে দেওয়া। বিভিন্ন সময় ওনার সাথে কিছু সতির্তকেও নিয়ে আসতেন, যাদের বেশিরভাগই ছিল মাদ্রাসা থেকে বিভিন্ন ডিগ্রী নেয়া। আমি কখনও দেখিনি ঐ আলেমদের কিউই আমার বন্ধুটার কোন মিথ্যা শুধরে দিতে বা প্রতিবাদ করতে। একদিন কথা হচ্ছিল বিজ্ঞান নিয়ে, কোরানের আয়াত দিয়ে বুঝালেন, আমরা পৃথিবীর ভিতরে বাস করি। আমরা পৃথিবীর উপরে বাস করি, এটা বলাতে উনি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে আয়া্তের প্রতিটি শব্দ অনুবাদ করে বুঝালেন, আমরা পৃথিবীর ভিতরেই বাস করি। আমি একজন অত্যন্ত ভীতূ প্রকৃতির যুবক ছিলাম। যে যাই বলুক বিনা প্রতিবাদে শুনতাম, এমনকি গালি দিলেও প্রতিবাদ করতাম না। আমার মা প্রায়ই বলতেন, গালি খেলে কিছু হয়না, যে গালি দিচ্ছে এটা তার সমস্যা, প্রতিবাদ করলে বরং সমস্যা বাড়ে, মার খাওয়া থেকে দূরে থাকলে হল।মায়ের এই উপদেশ আমি সবসময় মনে রাখি। যাহোক আমি পৃথিবীর ভেতরে থাকার ব্যপারটা মেনে নিয়েছিলাম, কারন না মানলে, অন্যান্য বন্ধুদের কাছে আমাকে কোরান অবমাননারী হিসেবে চিন্নিত করা হত। আর একবার যদি চিন্নিত হয়ে যাই, তাহলে যে কোন সময় যে কোন ঈমানদার, ঈমানী দায়িত্ব পালন করে দিলে সব শেষ হয়ে গেল। জিবনের একটি সময় ধরে আমিও ঐ দলটির সাথে যুক্ত ছিলাম। আমিও অনেককে বুঝিয়েছি এই দলটির সাথে যুক্ত করানোর জন্য। আমিও অনেক মিথ্যা বলেছি তর্কে জেতার জন্য। হয়ত এটা মানুষের স্বভাব, যেভাবে হোক আমার মতামত বা ধারনাকে জেতাতে হবে, যেভাবে হোক, প্রয়োজনে জগন্য মিথ্যাচার করে হলেও। কোন সত্য বলতে গিয়ে যদি কোন কারনে ধর্মের বিপক্ষে যায়তো হয়ে গেলেন ধর্ম বিদ্ধেষী। আর মিথ্যার মাধ্যমে যদি ধর্মের পক্ষ নেনতো হয়ে গেলেন ভীষণ ধার্মিক। সত্য বল্‌লেন কি মিথ্যাচার করলেন তাতে কিছু যায় আসেনা, ধর্মের প্রলেপ দেয়াই আসল। আমার ঈমান যত শক্তই হোক না কেন একজন মানুষের জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। যে প্রাণ কারো পক্ষে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভভ নয়, নিজের উগ্র চিন্তার উপর ভিত্তি করে আরেকজনের সে প্রাণ সংহার করা বা করার চিন্তা করা কিভাবে ঈমানের অংশ হয় তা গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। আল্লাহ আমাদের চিন্তার শক্তি দান করুক! আমেন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.