নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইমান

৫রহেজগার

শিক্ষক।ধর্ম পরাই। অত্যন্ত পরহেজগার এবং ইমানদার।

৫রহেজগার › বিস্তারিত পোস্টঃ

খুবই রসিক জন্তু

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৫:৩২

বিভিন্ন বাংলা পত্রিকায় দেখলাম ভবন ধষে পোশাক কারখানার ২৫০ জনের অধিক শ্রমিককে খুন করা হয়েছে। প্রধান মন্ত্রী সহ সরকারের লোকজন খুনিদের প্রতি নজর না দেওয়ার অনুরোধ সরেছেন। যেহেতু খুনিরা সরকারী দলের সাথে সম্পর্কিত তাদের কোন শাস্তি হওয়ার কোন সম্ভাবনা আপাতত নেই। শত শত গরিব মানুষকে খুন করা হয় কিন্তু সেই সংখাগরিষ্ট গরিব মানুষের করার কিছু নেই। কারণ তাদের এভাবেইতো পৃথিবী ত্যাগ করার নিয়ম। দুই শতাধিক গরিব খুন হওয়াতে খুনিদের রক্ষার সমস্ত কর্মকান্ডের পাশাপাশি জাতি বিন্ম্র লজ্জায় একদিনের জাতিয় শোক পালন করল। বড়লোকের বা যেকোন বড় নেতা নেত্রীর খুনের পরের সময়ের ধরনই আলাদা। নেতা নেত্রী খুন হলে জাতির অপূরনীয় ক্ষতি পোষানোর জন্য জাতিকে সরকার দলিয় নেতা নেত্রির জন্য দশ দিনের শোক আর বিরোধী দলের নেতা নেত্রির জন্য বারদিনের হরতালের ব্যাবস্থা হয়। সরকার দলিয় নেতা নেত্রির খুনীকে এক ঘন্ঠার মধ্যে ধরে পাচ দিনের মধ্যে বিচারের পর ষষ্ট দিনে রায় কার্যকর হয়। আর বিরুধী দলিয় নেতা নেত্রির খুনি জর্জমিইয়াকে সবাই ভুলে যায় নুতন নুতন ঘটনার আড়ালে। এইতো আমাদের প্রবাহিত দিন গুলোর রুপ। প্রতিটি ঘটনার পর নুতন কিছু জাতি শেখে। এবার আমরা দেখলাম দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার মন্ত্রির রসবোধ। এত মানুষ খুনের দায়দায়িত্বের কথা চিন্তা না করে রসিকতায় মেতে উঠলেন। এতগুলো মানুষের খুন হয়ে যাওয়ার দুঃখের চেয়েও হরতাল নিয়ে রসিকতা করার মাঝেই বেশি আনন্দ পেলেন। এদেশে সবই সম্ভব। না হলে এমন এক দায়িত্বশীল পদে বসে এতগুলো মানুষ খুনের পরেও কিভাবে রস করে বলতে পারল হরতালকারীরা পিলারে টান দেওয়ার কারনে ভবন ধষে গেল। শত শত গরীব খুন হলেই হয়ত এভাবে রসিকতা করা যায়। যে লক্ষ লক্ষ পোশাক শ্রমিকের শ্রমের বিনিময়ে দেশের অর্থনিতীর চাকা সামনে এগুনোর গতী পেয়েছে। যাদের শ্রমের ফসল লুট করে কিছু লোক মন্ত্রি আমলা হয়ে বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত হয়েছে। সেই শ্রমিকদের কয়েকশকে খুন করার পর আবার রসিকতা করতেও লজ্জা করেনা। এভাবেই চলতে থাকবে। যতদিন এই লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এক হয়ে রাস্তায় নেমে এই লোভী খুনি এবং তাদের রক্ষক এই রসিকদের রাস্তায় ধরে বিচার করবেনা। শ্রমিকদের এখন বুঝার মময় হয়েছে, এই রাষ্ট্র, এই মালিক খুনিরা এক গোষ্টি। রাষ্ট্র শুধুই শ্রমিকের বিচার আর খুনী লুটেরা মালিকদের রক্ষার জন্যই কাজ করে। আর যারা ইস্‌লামের হেফাজত নিয়ে ব্যস্ত তাদের কাছে শ্রমিকতো শ্রমিকই। আল্লাহ তাদের গরিব বানিয়ে শ্রমিক হওয়ার পথের পথিক বানিয়েছেন। আর ইসলামের দৃষ্টিতে নারী পুণাঙ্গ মানুষ নয় আধা মানুষ, পর্দার বাইরে গিয়ে শ্রমিক হওয়া ধর্মদ্রোহীতার কাছাকাছি। হেফাজতকারীদের মতে আল্লার গজব নেমেছে, এরা নারী শ্রমিক। এত ঘটনা এত মৃত্যুর পরও শ্রমিকরা না বুঝলে এই মৃত্যুর মিছিল শুধু লম্ভা হবে। আর খুনি এবং তাদের রক্ষা কারিরা প্রতিটি ঘটনার পর তামাশা আর রসিকতা করবে। এ শ্রমিকদের বুঝতে হবে এদের একতাবদ্ধ শক্তি ছাড়া, রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সব শক্তিই এদের বিরুদ্ধে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.