নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

'যোবায়ের' এর ব্লগে স্বাগতম

অলস ছেলে

যোবায়ের

A lazy man

যোবায়ের › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের স্কুলের প্রয়োজন না কোচিং এর? না সুন্দর একটি শিক্ষা ব্যবস্থার?

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৪১

আমরা সবাই স্কুল কিংবা বিদ্যালয় নামক প্রতিষ্ঠানটির সাথে পরিচিত কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছি এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ কি? "পড়ালেখা করে যে, গাড়ি ঘোড়ায় চরে সে" এখন এটা নিতান্তই প্রবাদ মাত্র। অসংখ্য ছেলে মেয়েরা বহুবছর পড়ালেখা করে হতাণায় হাবুডুবু খাচ্ছে। বেকার সমস্যার সাথে আমরা কেউ নিশ্চয় অপরিচিত নই। আমাদের শিক্ষকমন্ডলীরা অনেক সময় নিজের অজান্তেই বেতের স্বাধীণ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। অতএব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক অনেকটা রাজা ও প্রজার পর্যায় এসে দাঁড়ায়। আবার বলছি না যে এর ব্যতিক্রমটি নেই।রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসি সরকারের মত দার্শনিক শিক্ষক যিনি একাত্তুরে তার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের টানে বিদেশ থেকে চলে এসেছিলেন এবং তার মুখের শেষ বাক্যটি ছিল " তোমরা আমার ছেলেদের গুলি করার আগে আমাকে গুলি কর"।

স্কুল এখন শিক্ষা ব্যবসায় পরিনত হয়েছে যেখানে সর্বোচ্চ মুনাফার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের কে পন্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়। কতজন ছাত্র ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল অথবা জিপিএ ৫ পেল কখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একমাত্র মানদন্ড হতে পারেনা। আর আমার মনে হয় আমাদের সন্তানদের ভাল কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করতে পারলেই সাফল্য সুনিশ্চিত এই দৃষ্টিভঙ্গির দুর্বলতার কারনে বিভিন্ন কোচিং পোস্টারে ফলাও করে প্রচার করেন তাদের ১২ শিক্ষার্থীর ১০ বিভিন্ন সনামধন্য প্রতিষ্ঠানে চান্স পাবার কথা। হিসাবটা এমনই দাড়ায় কারন একই সফল শিক্ষার্থীকে যখন একাধিক কোচিং সেন্টার তাদের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন। ব্যাপারটা আমাদের কাছে ওপেন সিক্রেট কারন তাদের তথ্য যাচাইয়ের কোন সুযোগ নেই। আর সেই সুযোগে কোচিং সেন্টার গুলো এখন সাইনবোর্ড পাল্টিয়ে স্কুলের সাইনবোর্ড লাগিয়েছে।



শিক্ষার সফলতা কোন বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবার মানদন্ডে বিচার করা যায না । একজন শিক্ষার্খীর সার্বিক বিকাশে প্রাইভেট কোচিং যে কত বড় অন্তরায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না । আমাদের সন্তানের পড়াশুনার তিক্ততা কেড়ে নিচ্ছে তার শৈশব ও কৈশরের আনন্দ। আজকাল শিক্ষার্থীদের কোন সময় নেই খেলাধুলার, সামাজিক কাজের কিংবা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কোন কাজের। সকাল থেকে বিকাল স্কুল আর বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত কোচিং, অতএব অন্য কোন কিছু করার সুযোগ কোথায়? কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে কর্মজীবনে আমাদের সন্তানের সফলতার সিংহভাগ নির্ভর করবে তার সামাজিক বিচক্ষনতা, নেতৃত্বের গুনাবলী, ক্রিয়েটিভিটি ও অন্যান্য অপ্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা যার কোনটাই প্রাইভেট কোচিং এ শেখানো হয় না। এই ধরুন, বিতর্ক প্রতিযোগিতার কথা। যদি কোন শিক্ষার্থী হাজার হাজার দর্শকের সামনে টিভিতে ইংরেজীতে বিতর্ক করতে পারে তাহলে কর্মজীবনে তার ঘরকুনো ফার্স্ট বয়ের চাইতে নিঃসন্দেহে বেশি সফল হবে কারণ কর্মজীবনে প্রশ্নের মুখস্ত উত্তর লিখতে হয় না বরং এখানে প্রয়োজন স্মার্টনেস, লিডারশীপ কোয়ালিটির যা আমাদের পাঠ্যক্রমে একেবারেই অনুপস্থিত। কর্মজীবনের কোন আইডিয়া স্যারের নোটে পাওয়া যায় না।........ এটা কি আমাদের কখনো ভাবায় যে, প্রায় ১৬ কোটি বাংলাদেশীর অর্জন মাত্র একটি নোবেল অথচ ২ কোটি ব্রিটিশের অর্জন ২২৬ টি নোবেল ২০১১ সাল পর্যন্ত।

তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজস্মদের জন্য আমাদের কি করণীয় বলে মনে করেন.........................

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:০০

জুয়েল আহ্‌মেদ বলেছেন: একদম সত্য বলেছেন ভাই, তাছাড়া আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একদম ঠুনকো।
এদেশে একজন উচ্চতর ডিগ্রী নেওয়ার পরও সে বাস্তব জীবনে এসে দেখে এতোদিন যা সে শিখেছে সবই ছিল শুধু মুখস্ত করার জন্য।

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২৭

যোবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ ।


অথচ দেখেন আমরা পড়াশুনার জন্য যত সময় ব্যয় করি, উন্নত দেশগুলোতে তারা স্কুলেই পড়া শেষ করে।

তাহলে সমস্যা কোথায়?

২| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২২

কলম.বিডি বলেছেন: Click This Link

৩| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২৬

এম এস জুলহাস বলেছেন:
ভর্তি পরীক্ষায় -এ চান্স পাইয়ে দে'য়াতে যতটুকু কৃতিত্ত্ব তার সবটুকু না হলেও অধিকাংশই কোচিং সেন্টারগুলোকে দে'য়া যেতে পারে।
কিন্তু জেনে হাসবেন না-কি কাঁদবেন (?) আমি যেখানে আছি সেখানকার ১০০% পাশ কিংবা সব জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সফলতার দাবীদার নাকী একটা কোচিং সেন্টারের ! প্রতিবার এস. এস. সি. , জে. এস. সি.-র রেজাল্টের পরপরই এমনই মাইকিং করতে শুনি ! উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাত্র একজনই নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকে প্রাইভেট পড়ান। যদিও পড়ান তা ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের। তা-ও স্বল্প সংখ্যক এবং পিছিয়ে পড়া নামমাত্র কয়েকজনকে।
অপরদিকে ঐ কোচিং এ যায় আনুমানিক ১০-১৫% শিক্ষার্থী। অথচ উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের কৃতিত্ত্ব ১০০% ভাগ উক্ত কোচিং ব্যবসায়ীর।
শিক্ষার্থীদের কাছে কোচিং ব্যবসায়ী বড় স্যার নামে পরিচিত।


আমি যেখানে আছি সেখানকার প্রতিষ্ঠান প্রধান কয়েক বছর পূর্বে পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে রমজানে কোচিং -এর ব্যবস্থা করল। না টাকার বিনিময়ে না। বিনে পয়সায় একমত বাধ্য করা হলো শিক্ষকদেরকে। এতে ১০০% সফলতা এলো। কিন্তু বাধ সাধলো বিনে পয়সায় বাড়তি পরিশ্রান্ত শিক্ষকগণ, বিশেষ করে যারা আদৌ কোথাও প্রাইভেট পড়ান না।
ভয়ংকর ব্যপার হয়ে দাঁড়ালো স্থানীয় কোচিং সেন্টারগুলোর দাপটে। অবশেষে উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান অপমানের বোঝা মাথায় নিয়ে বদলী হয়ে চলে যেতে বাধ্য হলেন।
এর পরের অবস্থা বর্ণনাতীত। সর্বশেষ গত ২০১১ -এ মোট ক্লাস হয়েছে ১৪৭ দিন তা-ও অধিকাংশ দিন ৪টা করে পিরিয়ড। এর যথেষ্ট কারণ ছিলো। ফলে যা হবার তাই হলো এবার।

একবার জানতে খুব ইচ্ছে করে- এক সাথে যোগদান করা ১১ জনের ৯ জনই বিভিন্ন অংকের টাকার বিনিময়ে চলে গেছে সুবিধাজনক স্থানে।
অথচ ঘুষ খাবোনা-দেবোনা-প্রাইভেট পড়াবোনা-শিক্ষার্থী হয়রানী করাবোনা ইত্যাদি বৃটিশ আমলের শিক্ষকদের নীতিতে অটল থেকে যৌবনের মূল্যবান সময়টা শেষ করে দিলাম ঘর-সংসার, আত্মীয়-পরিজন থেকে অনেক দূরে থেকে। না হলো ঘর, না হলো সংসার। যার জন্য চাকরী-বাকরী তা-ই যদি না থাকে তা হলে কী হবে এই টাকা দিয়ে ? জান না থাকলে ধান দিয়ে কী হবে ?

সিদ্ধান্ত নিলাম এভাবে পচে মরারচে' নৈতিকতা বিসর্জন দে'য়াই ভালো। ঘুষ দিয়েই বদলী হবো। ও-মা ! তা-ও কি সম্ভব ! চাকরী হতে লাগেনি একটা কানা পয়সা সেখানে বদলী হতে লাগে একলক্ষ কুড়ি হাজার টাকা। তা-ও দিতে হবে সরাসরি বড় কর্তাদেরকে। লাগুক তা-ও বদলী হবো। -এবার বলেনতো বদলীর এই টাকাটা কোথা থেকে আসবে ? আর বদলী হবার পর সেই টাকাটা কীভাবে উঠানো যাবে ?
বদলী নিয়ে এই ব্লগে অন্ততঃ ৬ টি লেখা ছিলো আমার। আর কত নিচে নামবে শিক্ষক নামের অসহায়গুলো ?

যৌবনের প্রায় সবটাই ব্যয় করলাম এই অচ্ছ্যুত পেশাটার পিছনে। না হলো ঘর, না হলো সংসার। এই স্বল্প সময়ে যতটুকু উপলব্ধি আমার তাতে সময়োপযোগী একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি আপনার নজর পড়েছে দেখে আপনাকে অনেক সাধুবাদ জানাচ্ছি।

কিন্তু নিশ্চয়ই আপনার নখ দর্পনে এ-ও থাকার কথা- এই অনিয়মগুলো সাধনের পেছনে রয়েছে আরোও কিছু ভয়াবহ অনিয়ম। যেগুলো ভেঙ্গে বের হওয়া আর সম্ভবপর বলে ভাবতে পারিনা। আর এ জন্য চাই সবার আন্তরিক সদিচ্ছা, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগ। বুঝি, তা হবার নয়।

বেশী কিছু বলতে পারিনা। বলতে গেলে চাকুরীতে পানিশমেন্টের ভয় থেকে যায়। রুটী রুজী চলবেনা যে আর।

"ক্লাসরুমে প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া হলে কোচিংয়ের প্রয়োজন পড়ে না।" কথাটা যেমন পুরোটা ঠিকনা তেমনি পুরোপুরি অবান্তরও না। চোখ দিয়ে সবটাই দেখা যায়, কিন্তু নিজের পিঠটাই দেখা যায়না। আমরা তা দেখতে চাইনা-পাইনা।

দূরের বাদ্য যেমন শুনতে ভালো লাগে, কাঁশবন যেমন দূর থেকে ঘন দেখা যায় তেমনি অসংখ্য ভালোমানের, নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকদের অবর্ণনীয় দুঃখ গাঁথা দূর থেকে দেখে পূলকিত হই।
রঙ্গ মঞ্চের দর্শক হয়ে আমরা যেমন জানিনা- ভুলে থাকি নর্তকীর দুঃখ কষ্টের কথা, জানিনা- সে-ও হয়তো কত দুঃখ কষ্ট ভুলো সাজ ঘরে দুধের সন্তান রেখে নাচতে এসেছে মঞ্চে।

আমরা যেমন আনন্দিত হই কেবলি নর্তকীর হাসি মুখ দেখে, তেমনি ঈর্ষান্বিত হই কতক বাদে অধিকাংশ অসহায় শিক্ষকদের হাসিমুখ দেখে।

বেশী দূরে যেতে চাইনা। ডিসেম্বরে শিক্ষা ভবণের হালহকিকতটা কী, তা কি জানেন ? জেনে থাকলে এর পরও কি ভাবতে পারেন আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হবে ?

অপেক্ষায় আছি। কারণ আরোওতো অনেক কিছু দেখার বাকী আছে !
Click This Link

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৫৯

যোবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।

ভাই আমিও একজন শিক্ষকের ছেলে। আমি কিছুটা জানি শিক্ষকদের কি অবস্থ...

আপনার সাথে একমত।
সমস্যার সমাধান তো করতে হবে.......

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.