| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বেকার মানুষের দিনে ২৪ ঘন্টা পার করা খুবই কষ্টদায়ক এবং বিরক্তিকর । সারাদিন অতি কষ্টে থাকা গেলেও বিকেলটা যায় না । বিকেলবেলা বিকেল খুব করে বাইরে টানে । তাই অন্যান্য দিনের মত আজও কলেজগেট গিয়েছিলাম । আড্ডা দিচ্ছিলাম আমরা চার বন্ধু । সন্ধ্যার পর কেন জানি মামার দোকানে আর ভাল লাগছিল না তাই চলে গেলাম পাশের সফিউদ্দিন কলেজ মাঠে । চার জনের আড্ডাটা ভালই চলছিল। হঠাৎ করে বনমালা রোডের মাথা থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয় । মাঠ থেকে দেখতে পাই সব দোকানের সাটার নামানো হচ্ছে । আর মানুষজন , রিকশা খুব দ্রুত ভেতরে শাখা রাস্তায় ঢুকতে থাকে । আতংক সৃষ্টির জন্যে কয়েকটা ককটেল ফুটানো হয় । কলেজ গেটেই কয়েক গাড়ি পুলিশ টহলরত অবস্থায় ছিল । আতংক সৃষ্টিকারিরা রাস্তায় নেমেই আক্রমন শুরু করে । আমরাও দৌড় দেই ভেতরের দিকে । মেইন রোড ছাপিয়ে আতংক ভেতরেও চলে আসে মূহুর্তের মধ্যে । সবাই দোকানপাট খুব দ্রুত বন্ধ করে চলে যাচ্ছে । হঠাৎ করে আমার এলাকার একজন রিকশায় বাড়ি যাচ্ছেন । আমাকে দেখে বললো –"বাড়ি যাবি, তাড়াতাড়ি রিকশায় উঠ"। আমি রিকশা করে চলে আসি আর বাকি তিন জন এক বন্ধুর বাসায় চলে যায় ।
আসার সময় যতই ভেতরে আসতে থাকি ততই আতংকিত মনে লোকজন কৌতুহলী হয়ে ঘটনা জানতে চাচ্ছে । আমি যার সাথে আসছি সে বিএনপির একজন কর্মী । তার এক্সপ্রেশন আর কথা শুনে মনে হচ্ছে এমন অতর্কিত হামলায় খুবই আনন্দিত । উৎসুক লোকজনকে রিকশা থেকেই বলে যাচ্ছে – রক্তে ভেসে গেছে কলেজগেট , কোপাকুপি হইতেছে । আমাকে বলতেছে শোন ভ্যাইস্তা – আফগানিস্তানে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ১২হাজার সুইসাইড স্কোয়াড এখন বাংলাদেশে আছে । নেতারা বললেই তারা মাঠে নেমে যাবে । কাল সকালের খবরে দেইখো কতজন মারা যায় সারাদেশে ।
এতটা আতংকিত পরিবেশে কখনোই পরি নি । বাড়ি আসার পর খবরে দেখি সারাদেশে প্রকৌশলী সহ ৩০ জন মারা গেছে । তখন মনে হল আমিও তো একজন প্রকৌশলী । বাড়িতে সবকিছু খুলে বলার পর আমার ছোটটা বলতেছে – “বাংলাদেশে এই বছর আবার যুদ্ধ হবে "। সত্যিই যুদ্ধ মনে হয় শুরু হয়ে গেল ।
©somewhere in net ltd.