| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে, হাজারো শাহবাগি/হেফাজতি পোস্টের মাঝে আমার এই লেখা হয়ত তাঁর চোখে পরতেও পারে.........
আজ পহেলা বৈশাখ,১৪১৮। রোকেয়া হলের হলের সামনে দাড়িয়ে আছি। অপেক্ষা করছি হয়ত পুমলি আজ বাইরে বের হবে বৈশাখি সাঁজে।
ভাবছি...... পুমলির সাথে মোবাইলে কথা বলছি প্রায় ২ বছর ধরে। আমি পুমলিকে ভালবাসি, ও আমাকে বাসে কিনা জানিনা। কিন্তূ কখন মুখ ফুটে কিছু বলেনি। আর আমিও জানতে চাইনি, যদি না করে দেই, তাই। আমি ছুটিতে এলেই ওর সাথে দেখা করার জো করতাম। যদিও কালেভদ্রে দেখা হতো।
ওর সাথে প্রথম দেখা করার ঘটনাটা খুবই মনে পড়ছে। ছুটিতে ঢাকায় এলাম। ও জানেনা আমি এসেছি। এসেই রওয়ানা হোলাম রোঁকেয়া হলের দিকে। ওকে মোবাইলে বললাম, তোমাকে খূব দেখতে ইচ্ছে করছে। ও বলল, এতো দূর থেকে আমাকে কিভাবে দেখবে?
আমি বললাম, তুমি বললে এখুনি চলে আসব রংপুর থেকে।
ও বলল, তোমরা ছেলেরা ডায়লগ ভালই মারতে পার। পারলে এসে দেখাও।
আমি বললাম, কোথায় তুমি?
“আমি এখন মতিঝিলে, উত্তরা ফাইনান্স ব্যাঙ্কে ইন্টার্নই পেপার জমা দিচ্ছি।"
আমি তখনই চলে এলাম রোকেয়া হলের সামনে থেকে মতিঝিলে। খুজে বের করলাম উত্তরা ব্যাংক। লিফট থেকে বের হতেই অফিসের ভেতর কাঁচের ফাক গলে চোখ পরল পুমলির ওপর। হ্যাঁ, ফেসবুকের ছবির সাথে পুরোপুরি মিলে গেছে।
স্তব্ধ চোখে দেখছি ওঁকে, বুকের ভেতর ছটফট ছটফট করছে। পেছন থেকে লিফটের অন্য এক যাত্রী ধাক্কা দিয়ে বের না হলে হয়ত আজীবন এভাবে দেখতেই থাকতাম।
হঠাৎ করেই দেখি ও বেরিয়ে আসছে। নিচে নেমে একটা রিকশা নিল। আমি রিকশার পেছন পেছন দৌড়াতে থাকলাম। ঠিক তখনই আমি ফোন দিলাম।
“তুমি দেখতে চাও আমি আসব?”
“পারলে আসো।“
“ঠিক আছে, এসেই পরেছি”
পুমলি হেসে বলল, “কোথায় তুমি?”
আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম, “তোমার রিকশার পেছনে । রিকশাওয়ালাকে বল আস্তে চালাতে,আমি দৌড়ে ধরতে পারছি না”
পুমলি রিকশার হুডের পেছন দিয়ে ঘাড় বাকিয়ে দেখে আমি রিকশার পেছনে দৌড়াছছি। ও বিশ্বাসই করতে পারছে না আমি এত বড় সারপ্রাইজ দেব। ও মুখে হাত দিয়ে অবা ক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আর আমি দেখছি ওঁকে।
সেই প্রথম দেখা থেকে আজ পর্যন্ত মাত্র ৪ বার পুমলির সাথে দেখা হয়েছে।দ্বিতীয় বার দেখা করার পরই মোবাইলে বলে ফেলি ভালোলাগার কথা কিন্তু কখনই ও আমাকে কিছু বলেনি।
আজ পহেলা বৈশাখে আমাকে ওর উত্তর জানাবে বলেছিল। তাই সকাল থেকেই বসে আছি হাকিম চত্বরে। গেটে পাশের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছি আর অপলক তাকিয়ে আছি হলের গেটের দিকে, কখন ও বের হয়।
সকাল ১০টা বেজে গেছে। এখনও বের হচ্ছে না। আর সহ্য করতে না পেরে ওঁকে ফোন দিলাম।
“কি ব্যাপার বের হবা না? সবাই কি সুন্দর শাড়ি পড়ে,খোঁপায় ফুল দিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছে। আমি হলের গেটের সামনে দাড়িয়ে আছি। তাড়াতাড়ি বের হও”
পুমলি খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলল “আই এম সরি। আমি তোমাকে ভালবাসতে পারব না। প্লিজ কিছু মনে কর না। আমি আজ বাইরেও বের হব না” এই বলেই লাইনটা কেটে দিল।
আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। সাথে সাথে ফোন দিলাম আবার, কিন্তু মোবাইল বন্ধ।
হঠাৎ করেই মনে হোল আমি কোনও জনসমুদ্রে একা দাড়িয়ে আছি।
মনে হচ্ছে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর হাসছে। নিজেকে খুব অসহায় মোনে হচ্ছে। আমার সামনে দিয়ে শত শত মানুষ নানা রঙের পোষাকে, ঢোল বাজিয়ে উল্লাস করছে। তাদের বৈশাখী উল্লাস আমাকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করছে না।
টানা সন্ধে পর্যন্ত বসে রইলাম হাকিম চত্বরে, অপলক চেয়ে ছিলাম রোকেয়া হলের গেটের দিকে। হয়তো পুমলি বের হবে, ওর সাথে একটু কথা বলব।
ঠিক তখনই ওর ফোন খোলা পেলাম।
“পুমলি, আমি সকাল থেকে তোমার জন্য বসে আছি। একবারের জন্য হলেও বাইরে আসনা?”
“না আমি বের হব না। তোমার সাথে অনেকদিন কথা বলেছি, কিন্তু কখনই মনে হয়নি তুমি স্পেসাল কেউ। তাই আমি সিধদান্ত নিয়েছি তোমার সাথে আর কথা বলব না। আর তুমি যদি সত্যিই আমাকে ভালবেসে থাক, তাহলে আমাকে আর ফোন দিও না। আমার জন্য দোয়া কর । আর প্লিজ সিগারেট খেয়ো না। রাখি”
এই ছিল পুমলির সাথে শেষ কথা।
আজ ২ বছর পর সিগারেট হাতে নিয়ে লিখছি। কেমন আছ তুমি? সর্যি......... আমি সিগারেট ছাড়তে পারিনি, কিন্তু তোমার জন্য এখনও দোয়া করি।
১৪ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:৪৭
জনিশা বলেছেন: যাক না.....
২|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৯:৩১
তুতুষার বলেছেন: সমব্যাথী
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:৪০
মো:ফয়সাল আবেদিন বলেছেন: চলেই গেল তহলে ?