নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

জুল ভার্ন

এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

সোনারগাঁও ইবনে বতুতার মধ্যযুগের বাংলার দলিলঃ

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৪৪

সোনারগাঁও ইবনে বতুতার মধ্যযুগের বাংলার দলিলঃ

কী বিচিত্র সুন্দর প্রাচুর্য ভরা এদেশ। মুঠো মুঠো প্রাচুর্যের ভেতর মোহনীয় রহস্য আর নৈঃস্বর্গীক সৌন্দর্য্য। ইবনে বতুতা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখেন। আশ্চর্য এ দেশ। তার নিজের ভাষায় "নদীর ভাটিপথে আমরা পনের দিন ধরে বিভিন্ন গ্রাম ও ফলমূলের বাগানের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি (সিলেট থেকে সোনারগাঁও) ঠিক যেন কোন বাজারের মধ্য দিয়ে আমাদের অর্ণবপোত এগিয়ে চলেছে, মনে হচ্ছে মিসরের নীল নদের তীরের শস্য সমাহারের মতো এ প্রাচুর্য"। ইবনে বতুতার বড় সাধ সোনারগাঁ দরবার দেখার। দিন-রাত পনেরো দিন চলার পর ইবনে বতুতা এসে পৌঁছলেন প্রাচ্যের রহস্য নগরী সোনারগাঁয়ে। অর্ণবপোত এসে ভিড়ল সোনারগাঁয়ের কূলে। হাজার হাজার তরুণ-তরুণী উষ্ণ সংবর্ধনা জানাল ভিন্দেশী মহান অতিথিকে। ১৩৪৫ খৃষ্টাব্দে ইবনে বতুতা এসে পৌঁছলেন সোনারগাঁয়ে। তখন সোনারগাঁ শাসন করেন স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ। বাহরাম খানের শিলাহদার ফখরুদ্দীন রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে বাহরাম খানকে হত্যা করে সোনারগাঁয়ের একচ্ছত্র অধিপতি হন।

সোনারগাঁয়ের দরবারে সোনার ঘন্টা বাজে ঢং ঢং করে। প্রহরী হাঁকেন "মনসুর উল মুলক ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ আরাহা আয় হুঁশিয়ার-"। স্বনামে তিনি মুদ্রা অঙ্কন করেন। মুদ্রাতে লিখেন "আবুল মুজাহিদ ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ"। কিন্তু রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তখনো শেষ হয়ে যায়নি। লাখনৌতির শাসনকর্তা কদর খান সেনাবাহিনী নিয়ে এগোলেন পূর্ববঙ্গের রাজধানী সোনারগাঁ দখল করার জন্য। মনে বড় আশা তাল তাল সোনার মোহর লাভ করবেন। শুরু হল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দ্রিমদ্রিম শব্দে কেঁপে ওঠে সোনারগাঁও। ফখরুদ্দীন তার বিশাল নৌবহর নিয়ে মেঘনা নদীতে কদর খানকে বাধা দিলেন। কিন্তু বিধিবাম। কদর খানের হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলেন ফখরুদ্দীন। মেঘনার এক দ্বীপে পালিয়ে আত্মরক্ষা করলেন সোনারগাঁয়ের স্বাধীন সুলতান। কদর খানের হাতে সুবর্ণ নগরী আবার লুণ্ঠিত হল।

রাজ দরবারে জ্ঞানী-গুণীদের অনেক উপঢৌকন দেয়া হল। ফখরুদ্দীন তখন রাজ্য জয়ে ব্যাকুল হয়ে উঠেন। তিনি চাটিগাঁও দখল করার চিন্তা করতে থাকেন। প্রাচ্যের বেলাভূমি চাঁটিগাঁও (চট্টগ্রাম) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্দর। এ বন্দর অধিকারে আসলে মোটা শুল্ক আসবে। রাজ ভান্ডারে প্রচুর অর্থ সমাগম হবে। তার বিখ্যাত অনুচর শায়দাকে সোনারগাঁয়ে রেখে চাঁটিগাঁও অভিযানে যাত্রা করলেন। কিন্তু এরই মধ্যে সংবাদ পেলেন যে, তার বিশ্বস্ত অনুচর শায়দা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ফখরুদ্দীনের নৌবাহিনী আবার ছুটল সোনারগাঁ বন্দরের দিকে। শিংঙ্গা ফুঁকে জানিয়ে দেয়া হল শায়দাকে ধরে আনার জন্য। সোনারগাঁয়ের লোকজন শায়দাকে ধরে ফখরুদ্দীনের নিকট আনলেন। বিশ্বাস ঘাতকতার জন্য ফখরুদ্দীন তাকে হত্যা করলেন। বিপ্লবের পর পাল্টা বিপ্লব, রক্তাক্ত অভ্যুত্থান, স্বাধীনচেতা ফখরুদ্দীন দমবার পাত্র নন। এ অবস্থায় তিনি তার সহানুভূতির হাত প্রশস্ত করলেন রাজ্যের জ্ঞানী-গুণীদের প্রতি।

ইবনে বতুতার অর্ণবপোতে তখন কলগুঞ্জন। সুলতানের সাথে কিভাবে দেখা করা যায়। সুলতান যুদ্ধ-বিগ্রহে ব্যস্ত। এ সময়ের সাক্ষাৎকে তিনি কিভাবে গ্রহণ করবেন আল্লাহই জানেন। দরবারে দূত পাঠাবেন কি? হয়ত না যাওয়াই ভাল হবে। সুলতান যদি ভিন্দেশী গুপ্তচর ভাবেন? ইবনে বতুতার মনে চিন্তার কালোমেঘ উথাল-পাতাল করে। অবশেষে সাক্ষাৎ না করার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু ইবনে বতুতা ভুলতে পারলেন না। সোনা-দানায় ভরা এ সুবর্ণ নগরীকে, স্বর্ণগ্রামকে সত্যিই প্রভু যেন নিজ হাতে মুঠো মুঠো ঐশ্বর্য ঢেলে দিয়েছেন এ বাংলায়। ইবনে বতুতার দৃষ্টি তখন জাভার দিকে। সোনারগাঁ বন্দরে জাভার বাণিজ্য জাহাজ ভিড়ে আছে। এ অর্ণবপোতেই যেতে হবে সুমাত্রা। "সুমাত্রা প্রাচ্যের রহস্য নগরী"- তাম্রপাত্রে লিখে রাখল মরক্কোর এক পর্যটক। হয়ত কোনদিন, যখন স্বাধীন বাংলার ইতিহাস লেখা হবে, তখন হয়ত ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের ইতিহাসের সাথে এই পর্যটকের কথাও আলোচিত হবে। সুগন্ধি মশলা, মিহি মসলিন, চাল বোঝাই করে ভিন্ দেশী অর্ণবপোত রওনা হবে সিংহলে, মালায়, সুমাত্রায়। পর্যটকের বড় সাধ জাগে জান্নাতুল বালাদ সোনারগাঁয়ের ঐশ্বর্য দেখার। কিন্তু সোনারগাঁয়ের আকাশে-বাতাসে শুধু বিদ্রোহের ঘনঘটা। দিল্লীর সুলতানের শ্যেণ্ দৃষ্টি সোনারগাঁয়ের প্রতি। তাছাড়া লাখনৌতির শাসকদের দৃষ্টি তো আছেই। তবুও ফখরুদ্দীন কত অমিত ত্যাজে রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লী ও লাখনৌতির তরবারীকে উপেক্ষা করে ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে স্বাধীন রাজ্য গড়ার ইতিহাস সৃষ্টি করলেন।

ইবনে বতুতার সোনারগাঁ ভ্রমণ মূলত তার বাংলা ভ্রমণের অংশ। তিনি বাংলাদেশের প্রথম যে শহরে প্রবেশ করেন তা ছিল চট্টগ্রাম। এটি সমুদ্রের তীরে অবস্থিত একটি বিরাট শহর। এর দূর কাছেই ছিল গঙ্গানদী যেখানে হিন্দুরা তীর্থ করে। এখানে গঙ্গা ও যমুনা একত্র হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। তিনি গঙ্গা নদীর তীরে অসংখ্য জাহাজ দেখে অভিভূত হন। বাংলার সবকিছুই তাকে বিমুগ্ধ করে, আবার কিছু বিষয়ে তিনি সচকিত হয়ে ওঠেন। তার চোখে বাংলা একটি বিরাট দেশ। এখানে প্রচুর পরিমাণে চাল উৎপন্ন হয়। পর্যটক বাংলার সর্বত্র ধানক্ষেত, কর্মঠ কৃষকের ধান কাটা, মাথায় ধানের বোঝা নিয়ে সারি সারি করে উঠোনে ধানের স্তূপ দেখে বিমোহিত হন। তিনি পৃথিবীর বহু দেশ অঞ্চল ভ্রমণ করেন। কিন্তু সোনার বাংলার ন্যায় এত সস্তা দ্রব্য পৃথিবীর আর কোন দেশে দেখেননি। অধিক বৃষ্টিপাতের দরুন বিদেশীরা খুব একটা উপভোগ করতে পারে না এদেশের সম্পদরাজি। এদেশের আবহাওয়ায় তারা খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না।

তাই তারা এই সোনার বাংলাকে "সম্পদে ভরা নরক" বলে অভিহিত করে। দেশের রাস্তার পাশে বাজার বসে। সে বাজারে চালের পসরা বসে। এক রূপার দিনার, যা ভারতের আট দিরহামের সমান। তার বিনিময়ে দিল্লীর ২৫ বরতল ওজনের চাল বিক্রি হয়। দিল্লীর এক বরতল ১৪ সেরের সমান। বাংলার লোকেরা এই দরকেই চড়া বলে মনে করে। এখানে তিনটি রূপার দিনারে একটি দুগ্ধবতী গাভী বিক্রি হত। বাংলাদেশে গরুর কাজ মহিষ দিয়েও চালানো হয়। এখানে অন্যান্য দ্রব্যের ন্যায় ক্রীতদাস-দাসীর প্রচুর সমারোহ দেখা যায় এবং এক্ষেত্রেও সস্তা রীতি প্রচলিত। একটি সুন্দরী ক্রীতদাসী বালিকা-যে সৌন্দর্য্যে জমিদারের উপ-পত্নী হতে সমর্থ তার দাম মাত্র এক সোনার দিনার। যা মরক্কোর আট সোনার দিনারের সমান।

ইবনে বতুতা তার বিখ্যাত গ্রন্থ "রিহলা"তে এসব ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন। তার মত এমন অনেক পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণ করে তার বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান অতি প্রাচীনকাল থেকে। তন্মধ্যে ফা হিয়েন, ইত্সিন মা হুয়ান, ওয়াং তা ইউয়ান, ফেইশিন, নিকলো কস্তি, ভাস্কো-দা গামা, ভারথেমা, বারবারোসা, ভিনসেন্ট স্মিথ, তোমে পিতস প্রভৃতি পর্যটকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটা উল্লেখ্য যে, এই পর্যটকদের ভ্রমণ বিবরণী পড়ে ইউরোপীয় জাতিগুলো বাংলার সমৃদ্ধির প্রতি ধারণা লাভ করে। তারা বাংলা আবিষ্কারে নেমে পড়ে। এর মাধ্যমে বাংলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রবেশ করে এবং এক পর্যায়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির লোলুপ দৃষ্টি কেড়ে নেয় এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।



তথ্য সুত্রঃ ইবনে বতুতার বিখ্যাত ভ্রমন কাহিনী মুলক বই ফার্সী ভাষায় লিখিত "রিহলা"র কে আর সুব্রামনিয়াম কর্তিক ইংরেজী অনুবাদ " ইব-ন বতুতা'স এন্সিয়েন্ট বেংগল হিস্টরী"- থেকে অনুদিত এবং সংকলিত।

মন্তব্য ২৮ টি রেটিং +১৭/-০

মন্তব্য (২৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১০

সুচিন্তিত মতবাদ বলেছেন: লেখাটা প্রথমে বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হলেও ২য় বার পড়ে অনেক তথ্য উপাথ্য জেনে ভালোলেগেছে। "রিহলা"র ইংলিশ ভার্সন আমি পড়েছিলাম-কিন্তু তেমন ভাবে বুঝতে পারছিলামনা। এই বইটার কি বাংলা কোন অনুবাদ কোথাও পাওয়া যাবে?
আমি নিশ্চিত অনেক পরিশ্রম করে এই লেখাটা লিখেছেন।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২৮

জুল ভার্ন বলেছেন: আমি বুঝতে পারছি-লেখাটা ভাষান্তরে কিছু জটিল মনে হচ্ছে। এটা একান্তই আমার অনুবাদ করার অযোগ্যতা। আমি আসলে সঠিক ভাষা/ শব্দ চয়ন করতে পারিনি-যার কারনে লেখাট একটু কঠিন লাগছে।

আমি "রিহলা"র বাংলা অনুবাদ দেশে এবং কোলকাতায় অনেক খুঁজেছি-কিন্তু কোথাও পাইনি। এটার নাকি এখনো বাংলা অনুবাদ বের হয়নি। শুনেছি ডঃ মুনতাসীর মানুন স্যার এই বইয়ের বাংলা করবেন।

২| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৮

সৈয়দ নূর কামাল বলেছেন: আবারো একটি তথ্যসমৃদ্ধ লেখার উপহার।
ইবনে বতুতা'র দেখা সোনা-দানায় ভরা সে দেশটির অবস্থা আজ এখানে। আশ্চর্য্যই লাগে।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২৯

জুল ভার্ন বলেছেন: ধন্যবাদ কামাল ভাই।

৩| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২৭

সত্যাশ্রয়ী বলেছেন: রহস্য পত্রিকায় বেশকিছু আগে এই অনুবাদটা আমি পড়েছিলাম। ইবনে বতুতার ভ্রমন কাহিনী অদ্ভুত এবং অসাধারন।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৪

জুল ভার্ন বলেছেন: বছর খানেক আগে আমি এই লেখাটা আরো বড় আকারে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পাঠিয়েছিলাম এবং ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতায় ছাপা হয়েছিল। কিন্তু কোন রহস্য পত্রিকায় আমি এই লেখা দেইনি।

৪| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪৬

মিথুন-১ বলেছেন: নিঃসন্দেহে একটা পরিশ্রমী লেখা আমাদের উপহার দিয়েছেন। একটা কথা না বললেই নয়-তা হলো-"সেই আমলে একজন সুন্দরী নারী মাত্র একটি সোনার মোহরের বিনিময় পাওয়াযেতো............"- আমাদের দুর্ভাগ্য এই একবিংশ শতাব্দীতেও আমাদের দেশের মেয়েদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। এখন ১০/২০ টাকা দিয়েই একজন ভাষমান পতিতার শরির কেনা যায়! কিম্বা একদল টহল পুলিশ বিনে পয়শায় ঐ মেয়েদের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কিম্বা একটা গাছের আড়ালেই দলবদ্ধ ভাবে ব্যাবহার করতে পারে!

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০০

জুল ভার্ন বলেছেন: লজ্জা জনক হলেও সত্য-যে দেশে একটা বিড়ির জন্য কিম্বা ৫ টাকা রিক্সা ভাড়ার জন্য একজন মানুষকে প্রান দিতে হয়-সেখানে এই মরার দেশে ১০/২০ টাকায় শরির বিক্রি করে এখনো কেউ জীবন ধারন করতে পারে-আমাদের দুর্ভাগা দেশের জন্য সেটাই অনেক বড় কিছু! এ লজ্জা আমাদের জাতিগত লজ্জা।

৫| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৫

সেতূ বলেছেন:
ধন্যবাদ জুল ভার্ন ভাই..তথ্যসমৃদ্ধ ইবনে বতুতা'র দেখা সোনারগাঁওয়ে সোনার বাংলা ...লেখার উপহার দেয়ার জন্য।

ইতিহাস থেকে দেখা যাচ্ছে এই বাংলা সকল শাসকই কম-বেশী ক্ষমতা লোভী ও বেইমান । সব সময় ভয় করত ক্ষমতা হারাবার .....

তাই আজ দেশকে অন্য দেশের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করচ্ছে...
(এই দেশ ভুটান>নেপাল >সিকিম ও হয়ে যেতে পারে)

এখন অপেক্ষার পালা সময় কথা বলবে...

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৯

জুল ভার্ন বলেছেন: প্রিয় সেতু, আমি আপনার মন্তব্যের সাথে সম্পুর্ন একমত এবং শংকিত-আমাদের ভবিষ্যত ভেবে। আমরা একটা কাগুজে পুরস্কারের বিনিময় আমাদের দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে দেশে ফিরে সম্বর্ধনা নেই, আনন্দ মিছিল করি!
এখনো আমাদের দেশে ঘসেটি বেগম, মীর জাফর, জগত শেঠ দের প্রেতাত্মা দেশ শাসনের নাম অপশাসন করছে-এই দুর্ভাগ্য আমাদের সারা জীবন বইতে হবে।

৬| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২০

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: বাংলার স্বর্ণালী ইতিহাস!

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২২

জুল ভার্ন বলেছেন: আমার এই লেখাটা(অনুবাদ) নিয়ে আমি নিজেই সেটিস্ফাইড নই। যোগ্য লোক অনুবাদ করলে লেখাটা আরো অনেক সুন্দর হতে পারতো।

ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

৭| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩৬

শ।মসীর বলেছেন: "সম্পদে ভরা নরক"----এইটা ভাল বলছে খুব !!!!

ছবির লিংকটা দিয়ে দিলাম:

Click This Link

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৫

জুল ভার্ন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শামসীর।

৮| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪২

সত্যাশ্রয়ী বলেছেন: লেখক বলেছেন: বছর খানেক আগে আমি এই লেখাটা আরো বড় আকারে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পাঠিয়েছিলাম এবং ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতায় ছাপা হয়েছিল। কিন্তু কোন রহস্য পত্রিকায় আমি এই লেখা দেইনি।
----------রহস্য পত্রিকা বাংলাদেশে সম্ভবত একটাই ভাইয়া, সেবা'র। ওখানে যে লেখাটা পড়েছিলাম সেটা সম্ভবত ওদের নিজেদের লেখকদেরই অনুবাদ করা এবং সেটা ছিল একাটা অসাধারন ধারাবাহিক পুরো ইবনে বতুতার বইটারই বংগানুবাদ। পরে ওরা এটা বই হিসাবে বের করেছে কিনা খোঁজ নেইনি, তবে এখন মনে হচ্ছে এরকম বইটা অবশ্যই আমার সংগ্রহে থাকা দরকার। দারুন লেগেছিল ইবনে বতুতার বিশ্বভ্রমনের কাহিনী।
আপনার অনুবাদটাও চমৎকার। ধন্যবাদ।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৮

জুল ভার্ন বলেছেন: অনেক ভাল তথ্য দিয়েছো ভাইয়া।

যদিও রহস্য পত্রিকা বহু বছর যাবত পড়া হয়না। তবে আমি চেস্টা করবো ঐ বইটা খুঁজে পেতে। কারন, আমার খুব জানার ইচ্ছা বাংলার প্রাচীণ ইতিহাস সম্পর্কে। যদিও আমার সংগ্রহে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু বাংলার ইতিহাস সমৃদ্ধ বই রয়েছে।

নিরন্তর শুভ কামনা।

৯| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩১

জ্বীন বলেছেন: অনেক বিষয় জানা গেলো ।

দেশের প্রাচীন জনপদ এর অজানা ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ ।



গতকাল প্লাস্টিক ফেয়ারে গিয়েছিলাম ।(আদার ব্যপারি হিসাবে জাহাজের খোজ নেয়ার জন্য আরকি!!)

প্লাস্টিক বেজড মেশিনারীর বিপুল সমাহার দেখলাম । শিল্প উদ্যোগতাদের কাজে লাগবে ।

যার পুজি কম তবে ব্যবসায় নামতে চায় তার জন্য আউটসোর্সিং ভাল ।

মানে যতটা পারা যায় বাহির থেকে করে নেয়া । প্রফিট কম কিন্তু রিস্ক+ ইনভেস্ট কম । দেখি আপনার পরামর্শ অনুযায়ী কিছু করা যায় কিনা !!





২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪২

জুল ভার্ন বলেছেন: তোমাকে "চা" নিয়ে একটি ভালো বিজনেস এডভাইস করতে পারি। আমি নিজে একজন সর্বক্ষন "চা খোর" হিসেবে চা নিয়ে আছে আমার অনেক অনুসন্ধান......... আছে চা নিয়ে অনেক বিজনেস ইনফর্মেশান। কম পুঁজিতে অমন একটা গুড বিজনেস আমার মাথার মধ্যে ঘুরঘুর করছে............

১০| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৫

জ্বীন বলেছেন: শেয়ার করেন !!

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২০

জুল ভার্ন বলেছেন: চা এখন একটি অত্যাবশকীয় কমন পানীয়। জড়িপ করো-তোমার এলাকায় কতগুলো চা'র দোকান আছে, কতগুলো বিভিন্ন প্রকার দোকান আছে-যেখানে চা পাতা বিক্রি হয়। এলাকা ভিত্তিক সেটা হতে পারে মান্থলী পাঁচ টন।
তুমি ওদের কাছে মাত্র দুই টন চা পাইকারী বক্রি করবে-তেমন একটা মার্কেটিং চিন্তা বাস্তবায়ন করতে উঠপরে লেগে যাও।
তোমার কাছ থেকে কেনো ওরা চা কিনবে?
মার্কেটিং'র মুল দর্শন হলো-তোমার সুন্দর এপ্রোচ। সময়মত কাস্টমারের চাহিদানুযায়ী দ্রব্য পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তা, তুলনামুলক কম দামে ভালোগুলগত মানের মাল পাবার গ্যারান্টি-ইত্যাদি

তুমি প্রথমে ২/৩ টন চা সরাসরি সিলেটের চা বাগান থেকে কিম্বা অকশনে চট্টগ্রাম থেকে উন্নত্মানের চা কিনবে। প্রতি টন দাম পড়বে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। বাজারজাত করার পুর্বে তুমি একটা ব্রান্ড নেম দিয়ে(প্রাথমিক ভাবে ব্রান্ড রেজিঃ নাকরলেও চলবে) উন্নতমানের প্যাকিং করবে। এসবকিছু করার জন্য তোমার ১২ক্স১৪ ফিট একটা রুমই যথেষ্ঠ। শ্রমিক একজন। একজন সেলস ম্যান নিবে-কাস্টমারদের কাছে মাল সরবরাহের জন্য। তুমি কম পক্ষে প্রতি কেজি চা ১৩০ টাকা করে বিক্রি করতে পারবে। প্রতি টনে তোমার গ্রস প্রফিট হবে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। নীট প্রফিট অবশ্যই ২৫ হাজার টাকার উর্ধে। এই মুহুর্তে এটা হলো আমার প্রাথমিক হিসাব। প্রয়োজনে আরো বিস্তারিত বলা যাবে।

১১| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০০

জ্বীন বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ ।


পরে ক থা বলব ।


২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৩

জুল ভার্ন বলেছেন: মোস্ট ওয়েলকাম।

১২| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪১

হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন: সোনারগাঁয়ে যেতে ইচ্ছে করে, সিলেটে যেতে ইচ্ছে করে, বাংলাদেশ ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করে। এসব ইচ্ছে হয়ত কোনোদিনই পূরণ হবার নয়! :(

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৮

জুল ভার্ন বলেছেন: কেনো হবেনা ভাইয়া? চেস্টা করো-সময় এবং আর্থীক অবস্থানের চাইতেও ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ঠ।

আমার কিন্তু বাংলাদেশ ভ্রমনের একটা রেকর্ড আছে। ১৯৯২ সনের পুর্বে গঠিত সকল উপজেলা আমি ভ্রমন করেছি।

১৩| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৭

মুখ ও মুখোশ বলেছেন: বাংলার ঐতিহ্যের কথা শুনলে ও পড়লে নিজেকে খুব গর্বিত মনে হয় কিন্তু বর্তমানের বেহাল অবস্হা, অব্যবস্হাপনা, অরাজকতা যখন দেখি তখন আবার মনটা ভীষন খারাপ হয়ে যায়। সত্যিই এখন এদেশ "সম্পদে ভরা নরক"---- ।

আপনার পরিশ্রমী তথ্যবহুল লেখার জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। ভাল থাকবেন।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫০

জুল ভার্ন বলেছেন: তোমার জন্যও অনেক শুভ কামনা।

১৪| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩৮

রাজীব বলেছেন: "আমার কিন্তু বাংলাদেশ ভ্রমনের একটা রেকর্ড আছে। ১৯৯২ সনের পুর্বে গঠিত সকল উপজেলা আমি ভ্রমন করেছি।"
জেনে ভালো লাগলো। আবার যদি এরকম কোন প্রজেক্ট হাতে নেন, জানাবেন, গোল্লায় যাক সব কাজ, ঠিকই নেমে পড়ব দেশ দেখতে। বাংলার রূপ আমার এত ভালো লাগে, মাঝে মাঝে মনে হয় স্বর্গতো এখানেও হতে পারতো, শুধু যদি আমাদের মানুষগুলো একটু ভালো হতো!

স্বপ্নের কথা মনে করিয়ে দিলেন। আমি স্বপ্ন দেখি একদিন আবার আমরা ঐশ্বর্যশালী হবো। তখন হয়ত অশিক্ষিত আরবরা আমাদের দেশে আসবে কাজ করতে। তখন আমরা তাদেরকে মিসকিন বলব না। ভাই মনে করে ভালো ব্যবহার করব।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২৭

জুল ভার্ন বলেছেন: রাজীব, তোমার মন্তব্যটা পড়ে আমার চোখ ভিজে গিয়েছে! আমি আর কোনোদিন আগের মত সুস্থ্য হয়ে ঘুড়ে বেড়াতে পারবো! আল্লাহ কি আমাকে সেই সোউভাগ্য আবার ফিরিয়ে দিবেন!! যদি সুস্থ্য হই-ইনশ আল্লাহ তোমায় সাথে নিয়ে অনেক যায়গায় বেড়াবো।

আল্লাহ যদি বাংলাদেশকে কোনোদিন ধনে-মানে ঐষর্য্যশালী করেন-তাহলে আমরা অন্যাদেশের মানুষের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপুর্ণ ব্যবহার করে ওদেরকে খুশী রাখবো ইনশ আল্লাহ। আমরা কোনোদিন এরাবিয়ানদের মত অসভ্য, অহংকারী হবোনা।

শুভ কামনা।

১৫| ২৪ শে মার্চ, ২০১৪ বিকাল ৪:২৩

পথিক!!!!!!! বলেছেন: অসাধারণ একটি লেখা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.