নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সব কিছুর মধ্যেই সুন্দর খুঁজে পেতে চেষ্টা করি............

জুল ভার্ন

সামু, আমার প্রিয় সামু-প্রত্যাশা পুরণে ব্যার্থতার ভারে নূহ্য! বর্তমান সামু কোনো দিন প্রত্যাশিত ছিলনা-তাই আপাতত সামু চর্চা বন্ধ। আপাতত সামু নষ্টদের দখলেই থাকুক। যদি মডারেটর চান-তাহলেই সামু আবার ফিরে আসবে স্বমহিমায়, ফিরে আসবো আমিও অনেকের মতই। ভালো থেকো প্রিয় বন্ধুরা। সকলের জন্য শুভ শুভ কামনা। * প্রানবন্ত কল্পনাশক্তির প্রয়োগে স্বচ্ছ ভাবনা আর বাস্তবতার মিশেলে মানুষ ক্রমশই সংকীর্ণ আর ক্ষুদ্র গন্ডিতে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।সব কিছু ছোট হয়ে যাচ্ছে, ছোট হয়ে যাচ্ছে আমাদের চিন্তা শক্তি-ছোট হয়ে যাচ্ছে আমাদের মন। আসুন পারস্পরিক মূল্যবোধ বিনিময়ে নিজ নিজ ভুল্গুলো শুধরে নিয়ে নিজেকে বিকশিত করি।

জুল ভার্ন › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন দাদাভাই\'এর গল্প........

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ৯:১৭

একজন দাদাভাই'এর গল্প........

রোকনুজ্জামান খান৷ জন্ম ১৯২৫ সালে রাজবাড়ী জেলার পাংশা নারায়ণপুর গ্রামে-নানার বাড়িতে। তাঁর নানা রওশন আলী চৌধুরী ছিলেন ‘কোহিনূর’ পত্রিকার সম্পাদক। বাবা মৌলভী মোখাইরউদ্দীন খান, মায়ের নাম রাহেলা খাতুন।

তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নানাবাড়ি -পাংশায়৷ শৈশবকালেই সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতায় আকৃষ্ট হয়েছিলেন তিনি৷ যৌবনের অনেকটা সময় কোলকাতায় কাটে৷ দেশভাগের পরে তিনি পূর্ব-পাকিস্তান চলে আসেন। শিশুতোষ সাহিত্যকে একক প্রচেষ্টা আর উদ্যমে এগিয়ে নিয়ে যান৷ সাথে ছিলেন বেগম সুফিয়া কামাল, আহসান হাবীব৷

‘সওগাত’ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা "নুরী" ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী৷ নুরী বা নুরজাহান বেগম ছিলেন বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত এবং সাহিত্যিক। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা "বেগম" পত্রিকার সূচনালগ্ন থেকে এটির সম্পাদনার কাজ করেছেন প্রায় আমৃত্যু!

ছোটোবেলার সাহিত্য চর্চার সময়ই রোকোনুজ্জামান "দাদাভাই"ছদ্মনাম নিয়েছিলেন৷ পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামেই শিশুদের পাতা ‘কচি-কাঁচার আসর’ সম্পাদনা শুরু করেন এবং আমৃত্যু এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর এ থেকেই দেশব্যাপী তাঁর পরিচয় হয়ে ওঠে -"দাদাভাই"!

তাঁর প্রকাশিত তিনটি শিশুতোষ গ্রন্থ হাট্টিমাটিম, খোকন খোকন ডাক পাড়ি, আজব হলেও গুজব নয় ...৷ তাঁর সম্পাদিত ঝিকিমিকি শিশু সংকলনে তিনি শিশুদের মনে নীতিজ্ঞান, দেশপ্রেম ও চারিত্রিক গুণাবলি জাগ্রত করার চেষ্টা করেন। কচি ও কাঁচা (১৯৬৫) তাঁর প্রতিষ্ঠিত আর একটি মাসিক পত্রিকা৷

রোকনুজ্জামানের সবচেয়ে বড় অবদান ‘কচি-কাঁচার মেলা’ (১৯৫৬) নামে শিশুসংগঠন প্রতিষ্ঠা। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এর শাখা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় ছিল মূল কেন্দ্র৷ আমি এবং আমাদের বৃহত্তর যৌথ পরিবারের অনেক কাজীন ছিলাম 'কচি-কাঁচার মেলা’র সদস্য। শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য ‘কাকলী পাঠাগার’ স্থাপন করেন আমাদের দাদাভাই।

তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতাঃ

~"গাধার কান"~
একটা দড়ির দুদিক থেকে টানছে দুদল ছেলে
তাই না দেখে বনের বানর লাফায় খেলা ফেলে।
সকল বানর ফন্দি আঁটে জবর মজার খেলা
এমন খেলা খেলেই মোরা কাটিয়ে দেব বেলা।

কিন্তু দড়ি মিলবে কোথায়? ঘাবড়ে গেল মাথা
পালের সেরা বানর বলে মগজ তোদের যা-তা।
নেইকো দড়ি বয়েই গেল ভাবিস মিছে হাবা
লেজে লেজে ধরব টেনে হবে দড়ির বাবা।

যেইনা বলা দু'দল বানর দুদিক থেকে বসে
একের লেজটি ধরল টেনে জোরসে চেপে কষে।
বনের গাধা দাঁড়ায় মাঝে উঁচিয়ে দুটি কান
বলে, আমার দুদিক থেকে কান ধরে দে টান
কান ধরে এই মাথা নিবি আপন দলে টেনে
জিতবি তবে এই খেলাতে, রাখিস সবাই জেনে।

অমনি দুদল হেঁইয়ো টানে, গাধার বিপদ ভারি
কান ছিঁড়ে সব হুমড়ি খেয়ে পড়ল সারি সারি
সাঙ্গ হল দড়ির খেলা বানররা সব হাসে
কান হারিয়ে গাধা শুধুই চোখের জলে ভাসে।"

দাদাভাই'এর নামের শেষে "খান"পদবী ছিল৷
তিনি বাঙালি সংস্কৃতি লালন করতেন অন্তরে এবং কর্মে৷সেই জন্যেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি খানেরা তাঁর কচি-কাঁচার মেলার অফিস ভাংচুর করে এবং বইপত্র পুড়িয়ে দেয়।

১৯৯৯সালের ৩রা ডিসেম্বর দাদাভাই "রোকোনুজ্জামান খান"মারা যান৷
শ্রদ্ধা জানাই এই শিশুমনা মানুষটিকে৷

সূত্রঃ
বাংলা পিডিয়া, উইকিপিডিয়া।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১১:২৫

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: সকলের দাদা ভাই।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৪৯

জুল ভার্ন বলেছেন: অবশ্যই তিনি আমাদের সবার প্রিয় দাদা ভাই।

২| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: রোকনুজ্জামান দাদা ভাই। একজনই ছিলেন। তার মতো আর কেউ হতে পারে নি।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৪৯

জুল ভার্ন বলেছেন: একমত।

৩| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২১ ভোর ৬:১৯

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে দাদাভাইয়ের মতো একজন অসাধারণ ব্যক্তিকে নিয়ে পোস্ট দেয়ার জন্য।

আমার শৈশবে কিছুদিন সিলেটে ছিলাম। এলাকায় সাজসাজ রব পড়ে গেলো দাদাভাই আর কবি সুফিয়া কামাল এসেছেন। আমাদের পাড়ায় এক বাসায় তারা এলেন দুপুরে বিশ্রাম নেয়ার জন্য। দাদাভাইয়ের কক্ষের আশেপাশে উপচে পড়া ভিড়। এর মধ্যে আমি দরজার ওপাশ থেকে উঁকিঝুঁকি মারছি দেখার জন্য, সেলেব্রিটি বলে কথা ! এই ভিড়ের মধ্যে দাদাভাইয়ের চোখ পড়লো খালি পায় হাফপ্যান্ট পরা এই অধমের উপর। কি মনে করে তিনি আমাকে ডেকে তার পাশে বসিয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক গল্প করলেন। তার কথায় ছিল সে এক সম্মোহনী শক্তি - আমি মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনছিলাম। সবাই অবাক হয়ে দেখছিলো পুচকে ছেলেটি কিভাবে দাদাভাইয়ের সাথে আড্ডা মারছে।

বাংলাদেশের তখনকার শিশুকিশোরদের মনমানসিকতার বিকাশে দাদা ভাই ও সুফিয়া কামালের মতো শ্রদ্ধেয়দের অপরিসীম অবদান ছিল।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:৩৩

জুল ভার্ন বলেছেন: দাদাভাই এর সাহচর্য মানেই একরাশ মুগ্ধতা!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.