নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কলাবাগান১

বিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা দেশপ্রেমের ই অংশ

কলাবাগান১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, এই মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে পর্দার আড়ালে বিশ্ব রাজনীতি এমন এক মোড় নিয়েছিল, যা মানবজাতিকে এক পারমাণবিক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War III) মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিক্সন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি’ থেকে ডিক্লাসিফাইড (উন্মুক্ত) হওয়া গোপন নথিপত্র এবং হোয়াইট হাউসের কথোপকথন থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা ও বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে তৎকালীন দুই পরাশক্তি—আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন এক বিপজ্জনক সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। উন্মুক্ত নথি থেকে কোট করলাম:
December 9, 1971 (Nixon & Kissinger): Kissinger explicitly pushed to use the 7th Fleet to scare India and signal strength to China.
Kissinger: "We can't just do nothing. We have to move the carrier [USS Enterprise] into the Bay of Bengal. It will give the Indians something to think about, and it shows the Chinese we are not total cowards."

১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৬ ডিসেম্বর এই ছয় দিনে বঙ্গোপসাগরে এমন এক নৌ-চাল চলছিল, যা আঞ্চলিক যুদ্ধকে মার্কিন–সোভিয়েত সংঘাতে টেনে নিতে পারত। একটা হটকারী আদেশ যদি আসত, মুখামুখি দুই পরাশক্তি পারমানবিক যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে সর্ব শক্তি নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত এবং এতে অন্য দেশ রাও জড়িয়ে পড়ত। একটা গুলি চললেই সংঘাত আরম্ভ হয়ে যেত কেননা যুদ্ধজাহাজ নিয়ে রাশিয়া-আমেরিকার এমন মুখামুখি আোবস্হান আর কখনও দেখা যায় নাই। কিন্তু সেই সপ্তাহে ওয়াশিংটন, মস্কো আর নয়াদিল্লি সবাই জানত, একটা ভুল সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।
December 12, 1971 (The Soviet Threat): Kissinger grew deeply concerned that the Soviet Union was calling their bluff. He noted to Nixon: Kissinger: "The Soviets are playing a brutal game. They have given India a blank check. If India smashes West Pakistan and the Soviets back them, and we do nothing, our international credibility is finished."

তবে অনেকেই এখন ও মনে করেন যে আমেরিকা ইচ্ছে করেই ধীর গতিতে চট্রগ্রামের দিকে আগাচ্ছিল যাতে রাশিয়ার সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়তে হয়।

পটভূমি ছোট করে

মার্চে অপারেশন সার্চলাইটের পর পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা, ধর্ষণ আর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর ঢাকার মার্কিন কনস্যুলেট থেকেই ওয়াশিংটনে গিয়েছিল। আর্চার ব্লাডের টেলিগ্রামে সেটাকে “নির্বাচিত গণহত্যা” বলা হয়। ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী ঢাকার দিকে এগোচ্ছিল। নিক্সন–কিসিঞ্জার পাকিস্তানকে ছাড়তে চাননি—একদিকে পুরনো মিত্র, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের চ্যানেল। জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সোভিয়েত ভেটোয় আটকে যায় (Britain and France abstained; China voted with the United States)। স্থলবাহিনী ভিয়েতনামে বাঁধা। তাই নৌশক্তি নিয়ে এগোনোর আদেশ দেওয়া হয়।


১০ ডিসেম্বর: আদেশ

১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডে বার্তা যায়। সপ্তম নৌবহর থেকে টাস্ক ফোর্স ৭৪ গড়ে তোলার নির্দেশ। মাথায় পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ। সঙ্গে উভচর আক্রমণজাহাজ ট্রিপোলি—মেরিন আর হেলিকপ্টার নিয়ে—গাইডেড মিসাইল এসকর্ট, ডেস্ট্রয়ার, সাপ্লাই শিপ। প্রকাশ্য কথা ছিল ঢাকায় আটকে পড়া মুষ্টিমেয় মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া। আসল উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে থামানো, পাকিস্তানকে সংকেত দেওয়া, আর চীনকে বোঝানো যে ওয়াশিংটন মিত্র ছাড়ে না।

১২–১৪ ডিসেম্বর: মালাক্কা, আলোতে

জাহাজগুলো ভিয়েতনামের কাছ থেকে এসে সিঙ্গাপুরের কাছে জড়ো হয়। ১২ ডিসেম্বর মালাক্কা প্রণালি পেরোনোর আদেশ আসে, এক ঘণ্টা পর প্রত্যাহার, তারপর আবার জারি—এবার শর্ত, যতটা সম্ভব দিনের আলোয় পার হতে হবে, যেন সবাই দেখে। অ্যাডমিরাল এলমো জুমওয়াল্ট পরে লিখেছেন, উদ্দেশ্য ছিল চলাচলটা দুনিয়ার চোখে দৃশ্যমান রাখা। ১৩–১৪ ডিসেম্বর তারা প্রণালি পেরোয়। গতি ছিল ধীর, মোটামুটি ১৫–২০ নট; জ্বালানি আর লজিস্টিকসের কথা নথিতে আছে। ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়ার সঙ্গে ধাক্কা এড়াতে থামিয়ে রাখা হয়েছিল—এমন দাবি প্রমাণিত নয়।

১৫ ডিসেম্বর: বঙ্গোপসাগর, কিন্তু দূরে

১৫ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমস লেখে, এন্টারপ্রাইজের নেতৃত্বে বহর উত্তর-পশ্চিমে এগোচ্ছে, অবস্থান পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রায় ১,২০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে। সেই গতিতে ঢাকার কাছে পৌঁছতে অন্তত পরের দিন সকাল লাগত। ভারতের পূর্ব কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যাকব সেদিনই নেভি সহকর্মীকে বলেছিলেন, মালাক্কায় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে এসে স্থলযুদ্ধ বদলানোর সময় তাদের নেই। আত্মসমর্পণের কথা ততক্ষণে চলছে।

সোভিয়েত জবাব

আগস্টের ইন্দো-সোভিয়েত চুক্তির অধীনে মস্কো ভারতের পাশে ছিল। নিরাপত্তা পরিষদে ৪, ৫ ও ১৩ ডিসেম্বর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দেয়। নৌ-দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর থেকে জাহাজ ছাড়ে—মিসাইল ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ার, সাবমেরিন। সমসাময়িক মার্কিন বিশ্লেষণ বলছে, মূল সারফেস গ্রুপ ভারত মহাসাগরে পৌঁছায় ১৮ ডিসেম্বর, আত্মসমর্পণের দুই দিন পর। তারপর তারা শ্রীলঙ্কার কাছে এন্টারপ্রাইজকে অনুসরন করে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত।

After Washington formed Task Force 74, the Soviet Pacific Fleet sent anti-carrier groups from Vladivostok. A Center for Naval Analyses study from 1973 describes a first group—roughly a Kynda-class anti-ship missile cruiser, a missile submarine, a surface-to-air missile destroyer, and an attack submarine already in the ocean—sighted in the Tsushima Strait around 9 December and reaching the Indian Ocean only on 18 December, two days after the Dhaka surrender. A second, similar group followed. Some ships already near the Strait of Malacca were held and reinforced. Soviet units then shadowed Task Force 74 off Sri Lanka until the American group left for the Pacific in early January 1972.

Later Russian accounts, especially interviews with Admiral Vladimir Kruglyakov, claim orders to stop the Americans interfering with Indian operations, submarines surfacing, missile tubes opened, and the US force “encircled” and blocked from Chittagong or Karachi. Contemporary US and analytical accounts describe persistent shadowing and a real risk of escalation, but not a confirmed close-in blockade before the war ended.
১৬ ডিসেম্বর: যুদ্ধ শেষ, সংকেত থেকে যায়

১৬ ডিসেম্বর নিয়াজি আত্মসমর্পণ করেন। এন্টারপ্রাইজ তখনও উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঢুকে স্থলযুদ্ধ বদলাতে পারেনি। বহর এলাকায় থেকে যায় জানুয়ারি পর্যন্ত, তারপর ভিয়েতনামের দিকে ফেরে। পাকিস্তানি সেনা সরায়নি, বোমা ফেলেনি, চীনা সেনাকেও নামতে পারেনি। কিসিঞ্জারের ভাষায় যে “ভয় দেখানো”, সেটা সামরিক বাস্তবতায় পৌঁছায়নি।

তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছায়া কোথায়

ছায়া ছিল সিদ্ধান্তের স্তরে। নিক্সন ভারতকে পশ্চিম পাকিস্তানে ঠেকাতে চেয়েছিলেন, আর বলেছিলেন, ভারত চলতে থাকলে সোভিয়েত–মার্কিন সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। সোভিয়েত নৌ-উপস্থিতি সেই হুমকিকে বিশ্বাসযোগ্য করেছিল: এন্টারপ্রাইজ আক্রমণ করলে জবাব দেওয়ার মঞ্চ তৈরি। চীনকেও ভারতের বিরুদ্ধে নড়তে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল; বেইজিং নড়েনি।

কিন্তু পালানোর গল্পটা কোনো নাটকীয় সাবমেরিন-ভাসানো মুহূর্তে নয়। যুদ্ধ মাঠেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, বহর দূরে ছিল, আর দুই পক্ষই সরাসরি গুলি চালায়নি। জনপ্রিয় বয়ানে সপ্তম নৌবহর ইচ্ছে করে ধীরগতিতে এসেছিল, রাশিয়া পথ আটকে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল—সেটা প্রমাণের চেয়ে বড়। স্বাধীনতা এসেছিল পূর্ব রণাঙ্গনে পাকিস্তানি প্রতিরোধ ভেঙে পড়ায়।

December 16, 1971 (Post-Surrender): Once Pakistan surrendered in Dacca, Nixon and Kissinger claimed a revisionist "victory" in their private talks, believing the presence of the 7th Fleet was the only reason India agreed to a ceasefire on the Western front.

তাই “সঙ্কীর্ণভাবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়ানো” বলতে এখানে কোনো গোলাগুলির রাত বোঝায় না। বোঝায় এক সপ্তাহ, যখন নিক্সন নিজেই বলেছিলেন ভারত পশ্চিমে এগোলে মস্কো–ওয়াশিংটন মুখোমুখি হতে পারে, চীনকে নড়তে বলা হয়েছিল, আর একটা পারমাণবিক বিমানবাহী রণতরী ভারত মহাসাগরের দিকে যাচ্ছিল। কেউ শেষ আদেশ দেয়নি। মাঠের যুদ্ধ তার আগেই শেষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে সেই পরাজয় থেকে, বহরের গতি কমিয়ে দেওয়া থেকে নয় বলে মনে হয়।

তবু ডিসেম্বরের সেই সপ্তাহ স্মরণীয়। একটা আঞ্চলিক যুদ্ধ, একটা বিমানবাহী রণতরী, আর একটা পারমাণবিক শক্তির ছায়া—একসঙ্গে। দুনিয়া তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়ায়, কারণ কেউ শেষ ধাপটা নিতে চায়নি, আর সময়ও ফুরিয়ে গিয়েছিল। বঙ্গোপসাগর সেবার চুপ ছিল। চুপ থাকাটাই খবর।

সেই চুপ থাকাটাই ১৯৭১-এর সবচেয়ে কম বলা অধ্যায়।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:২৪

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:



১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শেষ সপ্তাহকে এতটা বিস্তৃত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। আমরা সাধারণত ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় ও আত্মসমর্পণের কথাই বেশি জানি; কিন্তু বঙ্গোপসাগরে মার্কিন সপ্তম নৌবহরের উপস্থিতি, সোভিয়েত নৌ-তৎপরতা এবং ওয়াশিংটন–মস্কো–নয়াদিল্লির কূটনৈতিক টানাপোড়েন যে পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছিল, সেটি ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক।

তবে পোস্টটির সবচেয়ে ভালো দিক মনে হয়েছে—লেখক জনপ্রিয় কিছু অতিরঞ্জিত বয়ান থেকেও সতর্ক থেকেছেন। বিশেষ করে ‘রাশিয়া এসে সপ্তম নৌবহরকে আটকে দিয়েছিল’ ধরনের দাবিকে সরাসরি প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে না দেখে সমসাময়িক নথি ও পরবর্তী বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করার চেষ্টা করেছেন। ইতিহাসের ক্ষেত্রে এই সতর্কতাই সবচেয়ে জরুরি।

১৯৭১ শুধু একটি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয়ের ইতিহাস নয়; এটি ছিল এমন এক সময়, যখন বাংলাদেশের মাটির যুদ্ধের সঙ্গে বিশ্বশক্তির ভূরাজনীতি এক বিন্দুতে এসে মিলেছিল। সেই বিস্মৃত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটটি সামনে আনার জন্য পোস্টটি নিঃসন্দেহে পাঠযোগ্য।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩৭

কলাবাগান১ বলেছেন: ধন্যবাদ এআই দিয়ে লিখিত নির্মোহ কমেন্ট এর জন্য।
রাশিয়ার সাবমেরিন ভেসে উঠেছিল সপ্তম নৌবহর এর কাছাকাছি, তা আমেরিকাকে তার গতিপথকে কিছুটা রাশ টেনে ধরেছিল। যেকারনে ১৫ই ডিসেম্বর যেখানে চট্রগ্রাম থেকে ৮০৪ নটিক্যাল মাইল দুরে ছিল (পয়েন্ট আলফা), কেন ১৬ই ডিসেম্বর ১২৩৭ নটিক্যাল মাইল দুরে অবস্হান করেছিল (পয়েন্ট চার্লি)

আমার আহ্ববান হল যারা জামাতি বয়ানে ১৯৭১ এর ইতিহাস- যেটা মিথ্যার খোলসে জড়িয়ে থাকা বিকৃত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, কে ধারন করেন তারা কস্ট করে এআই কে জিজ্ঞেস করুন ১৯৭১ সনে কি হয়েছিল? পাকিস্হান কি গনহত্যা করেছিল? এআ্ই তো আওয়ামী লীগ, বিনপি, জামাত করে না। সে নির্মোহ ভাবে আপনাকে আসল ইতিহাস জানান দিবে..আর তা জানলে আপনি জীবনেই জামাতি-রাজাকারদের সাপোর্ট করতে পারবেন না জাস্ট গনহত্যার বিবরন পাঠ করেই।

২| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৪৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



১৯৭১এর যুদ্ধে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নিজ দেশের মানুষের জন্য। নিজ দেশের মানুষ তথা রাজাকার গংদের জন্য। নয়তো গ্রামে গ্রামে গিয়ে, নদ নদী খাল বিল ডোবা নালা বিস্তৃত পানির দেশে এতো মানুষ হত্যা করা পাকিস্তানিদের জন্য কঠিন হতো। ১৯৭১ এর যুদ্ধে এতো মানুষ হত্যা করা সম্ভব হয়েছে রাজাকারদের জন্য।

যুদ্ধে আমেরিকা ছিলো পাকিস্তানের পক্ষে। রাশিয়া ভারতের কারণে ছিলো বাংলাদেশের পক্ষে। রুশদের কারণে আমেরিকান অস্ত্র বাংলাদেশে এসে অবতরণ করতে পারেনি। - এটি চিরন্তন সত্য। আমেরিকা যদি এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতো তাহলে সোভিয়েত ইউনিয়নও অংশ নিতো তাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হওয়ারই সবচেয়ে বেশি সম্ভবনা ছিলো।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

কলাবাগান১ বলেছেন: রাজাকারদের নিয়ে আপনার মন্তব্যে ১০০% সহমত।

গরীব বাংলাদেশ হল পরাশক্তির ক্রীড়নক (খেলার পতুল)।

৩| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৫৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



সেই চুপ থাকাটাই ১৯৭১-এর সবচেয়ে কম বলা অধ্যায় - কারণ ১৯৭১ এর পর দেশে অভাব শুরু হয়। এই অভাব প্রকট আকার ধারণ করে ১৯৭৪ এ। যারা যুদ্ধ করেছেন, যারা যুদ্ধ দেখেছেন তারা সকলে অভাবের স্বীকার। অভাবে থেকে গল্প কবিতা ইতিহাস প্রবন্ধ লেখা কারও পক্ষে সম্ভব না। সম্ভব ছিলো না।

আজও আমরা ব্যস্ত আছি কাজের জন্য, ভাতের জন্য। আমাদের কাছে বট বাহিনী নেই যে দিনে রাতে ২৪ ঘন্টা/ ৭ দিন / ৩৬৫ দিন ইন্টারনেটে বাবলিং করবে। সম্ভব না। রাজাকার গং যদি ইন্টারনেটে বাবলিং করে করে দেশ ধ্বংস করে দেয়, দিক।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

কলাবাগান১ বলেছেন: বাশের কেল্লারা হয়ত মিথ্যা বয়ান দিয়ে সাময়িক ভাবে এখন জয়ী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালে করুনা হয়), কিন্তু ইতিহাস বলে যে সত্য সব সময়ই জয়ী হয়

৪| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:১৮

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:


আপনার জবাবের জন্য ধন্যবাদ। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১৯৭১-এর ইতিহাসকে কোনো দলীয় বয়ানের ওপর নির্ভর না করে যতটা সম্ভব দলিল, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও আন্তর্জাতিক গবেষণার আলোকে দেখা।

পাকিস্তানি বাহিনীর ২৫ মার্চের Operation Searchlight এবং পরবর্তী নয় মাসের হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির বিষয়টি যে ইতিহাসের একটি গুরুতর বাস্তবতা, তা শুধু বাংলাদেশের সরকারি বয়ানেই নয়—আন্তর্জাতিক নথি ও গবেষণাতেও প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়েও ১৯৭১-এর ঘটনাকে পরিকল্পিত গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আপনার পোস্টের মূল সামরিক প্রসঙ্গটিও গুরুত্বপূর্ণ। ১৫–১৬ ডিসেম্বরের মার্কিন সপ্তম নৌবহর ও সোভিয়েত নৌ-তৎপরতা নিয়ে অনেক জনপ্রিয় বয়ান প্রচলিত আছে। কিন্তু পোস্টের তথ্যসূত্রেও বলা হয়েছে—সোভিয়েত বাহিনীর সরাসরি কোনো ‘নৌ-অবরোধ’ করে সপ্তম নৌবহরকে থামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত প্রমাণিত নয়; বরং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও পারস্পরিক নজরদারি ছিল।

তাই আমার মনে হয়, AI-কে প্রশ্ন করা ভালো একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে, কিন্তু AI-এর উত্তরকেও চূড়ান্ত ইতিহাস হিসেবে না দেখে মূল দলিলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। ১৯৭১-এর মতো রক্তক্ষয়ী ইতিহাসে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—কোন দল কী বলছে তা নয়, আসলে কী ঘটেছিল তা যতটা সম্ভব নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জানা।

ইতিহাসের সত্য কোনো দলের সম্পত্তি নয়; সত্যকে সত্য বলার সাহসটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

কলাবাগান১ বলেছেন: "ইতিহাসের সত্য কোনো দলের সম্পত্তি নয়; সত্যকে সত্য বলার সাহসটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" বংগবন্ধু ছাড়া যে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না সেটা এখন জামাতি গুরু ফরহাদ মজাহারকেও স্বীকার করতে হচ্ছে (অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিয়ে প্রকাশনালয়ে ভাংচুর নিয়ে অনুস্ঠানে)
"ইতিহাসের সত্য কোনো দলের সম্পত্তি নয়; সত্যকে সত্য বলার সাহসটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।"
এই কথা টাই জামাতি-রাজাকার কুল যতদিন না বুঝবে, সমাজে ততদিন বিভাজন বজায় থাকবে।

৫| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম পড়ে । আশা করি কোনো একদিন সিমলা চুক্তি নিয়ে লিখবেন ।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫২

কলাবাগান১ বলেছেন: সেটা 'জুলাই যোদ্ধা' ভাইরাল সিদ্দিকির মত 'বুদ্ধিজীবি' ই লিখুক

৬| ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আওয়মী লীগের পাশে সব সময় ছিলো রাজাকার গং। আজও ব্লগে যেই ব্যক্তি আওয়ামী নিয়ে সবচেয়ে বেশি লেবু চিপে তিতা করছে! - তার পাশে যে ব্লগিং করছে সে রাজাকারের ওয়েল ট্রেইন্ড বট। ১৯৭১ এতো বড় যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হয়েও দেশ পরাধীন হয়ে রইলো। কারণ, ১৯৭১ থেকেই বট ছিলো আজও বট আছে। বট রক্তচোষার মতো মানুষকে কামড়ে ধরে রক্ত চুষে নিচ্ছে। মানুষ বুঝতেও পারছে না পাশেই রক্তচোষা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.