নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কলাবাগান১

বিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা দেশপ্রেমের ই অংশ

কলাবাগান১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

অভিনন্দন সাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সে আর সেইম না ..লম্বা সময় ধরে ইয়াং কোষগুলি নানা ধরনের ঝড়/ঝন্জা, পলিউশন, ক্যামিক্যাল এটাক, রোগ, ভাইরাস/ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা আক্রমন এর ফলে তার কোষের ডিএনএ পরিবর্তিত (মিউটেশন) হয়ে নানা রোগ শোকে শরীরকে কাবু করে ফেলে। প্রবলেম টা এত বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মিউটেশন জমা হয়েছে কিন্তু কোন মিউটেশন এর জন্য আপনার ক্যান্সার হচ্ছে ৬০ বছর বয়সে সেটা জানতে হলে আপনাকে আপনার বিশ বছর বয়সের কোষের ডিএনএ (যেখানে সেই মিউটেশন নাই ) তার সাথে ক্যান্সার টিউমার এর ডিএনএ তুলনা করতে হবে। যখন জানতে পারবেন যে কোন মিউটেশন টিউমারে আছে কিন্তু ২০ বছর বয়সে নাই, তখনই সম্ভব হবে এ আই এর দ্বারা পারসোনাল ভ্যাকসিন ডিজাইন / CRISPR based CART দিয়ে সেই মিউটেশন কে আবার ২০ বছর আগের ফর্মে ফিরিয়ে নেওয়া। আর ২০-৩০ বছর পর এআই আরো কি সলিউশন দিতে পারে তা এখনও কল্পনারও বাইরে কিন্তু বাংলাদেশ বংশদ্ভুত ড: সাবিহা সাকলাইন সেটা বুঝতে পেরেই গতকাল নতুন কোম্পানী আরম্ভ করেছে আমেরিকাতে। উনার কোম্পানী শুধু আপনার ইয়াং বয়সের ইমিউন কোষ (টি সেল, এনকে কিলার সেল) কে আপনার নামে সংরক্ষন করবে তা আপনার যদি ২০ বা ৩০ বছর পর ক্যান্সার বা অন্য রোগ হয় (মিউটেশন দ্বারা), তা এআই দিয়ে কিউর করার একটা উপায় হবে। এই সাধারন কনসে্পট টা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে অনলাইনে ..ফোর্বস থেকে আরম্ভ করে NYT সবাই তার খবর ছাপাতে ব্যস্ত। নামী ভেন্চার ক্যাপিটালিস্টরা উনার কোম্পানীতে ইনভেস্ট করার জন্য লাইন দিয়ে বসে আছে। ইতিমধ্যে ১২০ মিলিয়ন ডলার ফান্ড পেয়েছে... তারা এমন ভাবে সংরক্ষন করবে (যাতে অন্যরা কপি করতে না পারে) ভবিষ্যতে দরকার হলে ইয়াং কোষগুলিকে ল্যাবে কৃত্রিমভাবে কয়েক লক্ষগুন বাড়িয়ে, বুড়িয়ে যাওয়া ইমিউন কোষ কে প্রতিস্হাপন ব্যবহার করার ও একটা উপায় থাকবে। ২০-৩০ বছর পরে এআই হয়ত এমন প্রযুক্তি আবিস্কারে সাহায্য করবে এই সংরক্ষিত কোষ গুলি হয়ত আপনার জীয়ন কাঠি হিসাবে কাজে লাগতে পারে।

আপনার থেকে ব্লাড ড্র করে, প্রসেস করতে তারা চার্জ করছে এককালীন $৫,০০০ তারপর প্রতি মাসে $২৭০। তারপর এই ১ দিনেই এমন সাড়া পড়েছে যে, তাদের কাছে কোষ জমা দেওয়ার জন্য এখন বিরাট লম্বা ওয়েট লিস্টে থাকতে হবে। আমি আমার ছেলে-মেয়ে দুজনকেই অতিস্বত্তর তাদের ব্লাড জমা দেওয়ার জন্য বলেছি, তারা বলছে যে ওয়েট লিস্ট!!!!!!

আপনি এআই কে জিজ্ঞেস করতে পারেন কিভাবে নিজে বা আপনার ছোট ছেলে মেয়েদের কোষ কে লম্বা সময় ধরে সংরক্ষন করতে পারেন। আমরা ল্যাবে লিকুইড নাইট্রোজেন এর মাঝে ~মাইনাস ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস দীর্ঘ সময় ধরে কোষ সংরক্ষন করি।

নাবিহা বাংলাদেশি পিতামাতার সন্তান। সৌদি আরবে জন্ম, শৈশবের কিছু সময় বাংলাদেশে, তারপর জার্মানি ও শ্রীলঙ্কায় বেড়ে ওঠা। তার মা ফেরদৌসী বানু একজন শিক্ষক ও বাঙালি সংগীতশিল্পী। নবীহা নিজেও ছোটবেলা থেকে বাঙালি সঙ্গীত, হারমোনিয়াম ও তবলার পরিবেশে বড় হয়েছেন। এই বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশই তাকে “নতুন জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্য” এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের সংযোগস্থলে কাজ করার ক্ষমতা দিয়েছে—যা তিনি নিজেই স্বীকার করেন। অন্তত ধর্মীয় রিজিড পরিবেশ থেকে যেখানে গান-বাজনা কে হারাম বলে অভিহিত করে, সেখানেই তিনি মুক্ত থেকেই তিনি বড় হয়েছেন......

তিনি এমোরি ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক, হার্ভার্ড থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি (HHMI International Fellow)। তার গবেষণা ছিল লেজার ও ন্যানোফোটোনিক্স দিয়ে সেল এডিটিং। ২০১৭ সালে সহপাঠী মারিনা মাদ্রিদের সাথে Cellino গড়েন। ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০, MIT Tech Review-এর ইনোভেটরস আন্ডার ৩৫, টেড স্পিকার—সবই তার নামের সাথে যুক্ত। দাদি ডায়াবেটিসে মারা যাওয়ার ঘটনা তাকে পদার্থবিজ্ঞানকে “দূরের নক্ষত্র” থেকে “মানবদেহ” নিরাময়ের দিকে নিয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কেন সম্ভব হলো, বাংলাদেশে কেন নয়???
এখানেই মূল প্রশ্ন। বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী আছে। অনেকেরই গণিত, পদার্থবিজ্ঞান বা জীববিজ্ঞানে ভালো ফল। কিন্তু এমন একটা আইডিয়া—ইমিউন সেল ব্যাংকিং করে ভবিষ্যতের জন্য অপশন তৈরি করা, সেটাকে ভেঞ্চার ফান্ডেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা, ফোর্বসে কভারেজ পাওয়া—কেউ ভাবতেও পারে না। কেন?

উনার কোম্পানীর ওয়েব সাইটSabiha Saklayen Cellino
লিখা টি মহাজাগতিক চিন্তা সাহেব কে উৎসর্গ (বানান পারি না) করলাম...উনার বুঝা উচিত আসল এআই এর ব্যবহার। উনার কাছে মনে হয় ব্লগে সামান্য কমেন্ট কে এআই দিয়ে লিখানো ই বিরাট প্রযুক্তি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.