| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জনমনে ধারণা ছিলো, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরপরিস্থিতি বদলাবে। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি। আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর বিএনপির জন্য নতুন সার্কুলার জারি করে বলেছে, ঘটা করে মনোনয়ন সংগ্রহ করা যাবেনা্। এবং এটা বলার একদিন পরই সরকারে আজ্ঞাবহ পুলিশ নয়া পল্টনে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে যে তান্ডব দেখালো সেটাতে আবারো প্রমানিত হলো, সরকার কোনো ভাবেই বিএনপি তথা বিরোধী দলকে নুন্যতম স্পেস দেবে না।
নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারের। সরকার রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। কিন্তু সরকার যে দায়িত্ব আদৌ পালন করতে পারছে না, সেটা এখন নিশ্চিত। বরং এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে সরকার রাষ্ট্রকে ব্যর্থ ও অকার্যকর করে দেয়ার লক্ষ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে ।
মার খেতে খেতে জনগণের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকেছে। সে তাড়া এখন সর্বব্যাপী, সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রের পথ-ঘাট, হাট-বাজার, নগর-বন্দর-গ্রাম এখন হয়ে পড়েছে শ্বাপদসঙ্কুল। রাস্তাঘাটে বিপদ। ঘর থেকে বের হলে বিপদ। এমনকি ঘরের ভেতরেও বিপদ ওঁৎ পেতে থাকছে। নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নেই কোথাও। বিরোধী রাজনীতিকদের দলনে ও সরকারের লোকদের পাহারা দেওয়ার কাজে আইন-শৃক্মখলা বাহিনী দিনরাত ব্যস্ত থাকায় নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা তারা ভাববার অবকাশ পাচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি দিনকে দিন অবনতি হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর নির্লজ্জ দলীয়করণের ফলে তারা শাসক দলের দুষ্কৃতকারীদের সহযোগী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এতে নাগরিক জীবন আরও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। হত্যা, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভর্তিবাণিজ্য ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। সরকারের মন্ত্রীরা বিরোধী দলকে ‘দেখ্ লেয়েঙ্গা' বলে অবিরাম চেঁচাচ্ছেন। বিরোধী দল নিধনের জন্য দেশের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। সেভাবে দেশব্যাপী হাজার হাজার পুলিশকে আকাজে ব্যস্ত রাখা হয়েছে।
ভাবখানা এমন যে, বিরোধী দল যদি কোথাও একদিন একটা জনসভা করে, যদি সরকারের বিরুদ্ধে দু'চার কথা বলে, তাহলে তৎক্ষণাৎ সরকারের পতন ঘটে যাবে। এখন ঘরের ভিতরেও দু'চারজন মিলিত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে গ্রেফতার করে আনছে।ঠুনকো অভিযোগে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে ডেইলি নিউ নেশনের বর্ষীয়ান সম্পাদক ব্যারিষ্টার মঈনুল ইসলামের উপর।মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আদালতে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। এর মাত্র অল্প কিছুদিন আগে কুষ্টিয়ার আদদালতে হামলা চালিয়ে মারাত্নক আহত করা হয় অকুতেভয় সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে। তিনি এখন মালেশিয়ায় চিকিৎসাধীন।
দেশের পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতময় করে তোলা হচ্ছে। মানুষের এখন নাভিশ্বাস অবস্থা। দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। খুন-খারাপি বেড়েছে, যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে, সন্ত্রাস বেড়েছে। শুধু কমেছে মানুষের জীবনের মূল্য।
১৯৭২-'৭৫ সালেও দেশের ভিতরে একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো। আইন-শৃক্মখলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতেও সে সময় শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার বিরোধী দলকে তাড়া করে ফিরছিলেন। আপন দলের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। মানুষের কথা বলার কোনো সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো বাকশাল কাযেম করে। কিন্তু এ পরিস্থিতি তৈরি করে শেখ মুজিবুর রহমান দেশের যেমন কোন কল্যাণ করতে পারেননি, তেমনি তার নিজের জন্য ডেকে এনেছিলেন বেদনাদায়ক পরিণতি। সরকারের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। সরকারকে বলি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বিপদের ওপর বিপদ ডেকে আনে। আর সরকার হারায় জনসম্পৃক্ততা ও জনসমর্থন। সেখানে উট পাখির মতো বালিতে মুখ বুঁজে সমাধান খুঁজলে কোন লাভ হয় না। সুতরাং নিজেদের ও জনগণের কল্যাণের জন্য রাষ্ট্রকে স্বাভাবিক পথে পরিচালিত করেন। সরকারের নির্ভর হতে হয় জনগণের উপর, সন্ত্রাসী মাস্তানের উপর নয়। বর্তমান সরকার যেন এখন সম্পূর্ণরূপে মাস্তাননির্ভর। আর তাই জনগণ থেকে সরে সরে অনেক দূরে। এই দূরত্ব এই সরকারকে কোন অতলে যে নিয়ে যাবে, কে জানে।

২|
১৭ ই নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:৪০
কাজল ভোমরা বলেছেন: বড় ভাই, আপনাকে অনেক ভালোবাসী। আচ্ছা এ দূর্দশা থেকে আমাদের উত্তরণের উপায় কি ?
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:২৯
রাজীব নুর বলেছেন: নির্বাচনের আগে আগে এরকম ঘটবেই।