নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত \'মানুষ\' হওয়ার প্রচেষ্টায় আছি। গল্পের \'বায়স্কোপ\' বইয়ের কারিগর।

কাওসার চৌধুরী

প্রবন্ধ ও ফিচার লেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাশাপাশি গল্প, অনুবাদ, কবিতা ও রম্য লেখি। আমি আশাবাদী মানুষ।

কাওসার চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুশীল ফরমান আলী (গল্প)

২১ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৩৬


মাইকের আওয়াজ স্পষ্ট না হলেও দূরে কোথাও খেলাধূলার আয়োজন চলছে এটা বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথির লম্বা তালিকা আর আয়োজকদের নাম বলতে বলতে হয়রান ভাষ্যকার। ফরমান আলী বিশেষ অতিথির তালিকায় নিজের নামটিও স্পষ্ট শুনতে পেলেন, তবে সবার শেষে। শেষ আর শুরু নিয়ে তার কোন অভিযোগ নেই, নামটি আছে এতেই খুশি। নির্বাচনী ক্যানভাস, ষাড়ের লড়াই, নেতা-নেত্রীর আগমন উপলক্ষে মিটিং কিংবা ওয়াজ মাহফিলের মাইকিং নিয়ে ফরমান আলীর তেমন মাথা ব্যাথা নেই। সকালে এলাকার কয়েকটি ছেলে তার কাছ থেকে তিন'শো টাকা চাঁদা নিয়েছে একটি অনুষ্ঠানের জন্য। বিকালে বিশেষ অতিথি হিসাবে নাম মাইকে ঘোষণা হবে সে নিশ্চয়তাও দিয়ে গেছে। যদিও মাইকে নাম বলা কিংবা বিশেষ অতিথি হিসাবে নামটি ঘোষণা করতে কোন শর্ত জুড়ে দেননি তিনি, তবুও তাকে মূল্যায়ন করেছে।

ফরমান আলী মানিব্যাগে রাখা সাতটা এক'শো টাকার নোট, দশটা বিশ টাকার নোট এবং চারটা দশ টাকার নোট থেকে একটি কড়কড়ে বিশ টাকার নোট বের করে গম্ভীর ভাব নিয়ে আয়েশী দৃষ্টিতে দোকানের কর্মচারী বাবুলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে কড়া লিকারের চার কাপ চা আনতে পাঠালেন। মফস্বলের হেকমতপুর বাজারে গার্মেন্টসের জুট কাপড়ের দোকান তার। মূলত শীত সিজনের ব্যবসা হলেও সারা বছর কমিবেশি মহাজনি চলে। গত তিন বছর আগেও তার কোন মানিব্যাগ ছিল না। জীবনের আটচল্লিশটা বসন্ত পার হলেও আয়-রোজগারের প্রয়োজনীয়তা কোনদিন অনুভব করেননি। চাহিদা-যোগানের কঠিন সূত্র মাথায় গেঁথে টেনশন বাড়িয়ে অসুখী হওয়ার আয়োজন থেকে তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন সযত্নে।

ফরমান আলী ভাবুক মানুষ। পাড়া-প্রতিবেশি আর পরিচিতজনেরা তাকে আড়ালে 'ফোরম্যান' ডাকলেও তিনি কোন প্রতিক্রিয়া দেখান না। ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীর অধিকাংশ গুণীজনেরা নিজ এলাকায় তেমন একটা সম্মান পাননি; তিনিও এই তালিকায়। এজন্য এটাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। সারাক্ষণ মানুষ নিয়ে, সমাজ নিয়ে, দেশ নিয়ে, মহাবিশ্বের বিশাল সৃষ্টি রহস্য নিয়ে চিন্তা করেন। তিনি নিষ্টার সাথে ধর্ম-কর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। এতে এক ধরণের মানসিক প্রশান্তি আসে। তবে সংসারধর্মে পাশ মার্কটুকু তুলতে না পারলেও জ্ঞান অর্জন তার কাছে সব সময় অগ্রাধিকার পেয়েছে। টাকা-পয়সা, ভোগ-বিলাস, বউ-বাচ্চা এগুলো কখনো তাকে টানেনি। সমাজের উচ্চশিক্ষিত মানুষদের তিনি খুব সমাদর করেন। আজ, তিনজন গুণী মানুষের সাথে আলাপের ফাঁকে কড়া চায়ের এই আয়োজন।

ছয় ক্লাস পর্যন্ত লেখাপড়ায় হাতেখড়ি ফরমান আলীর। এজন্য ভেতরে ভেতরে খুব আক্ষেপ তার। পত্রিকা পড়ার প্রতি খুব ঝোঁক থাকলেও দোকানদারী করার আগপর্যন্ত পুরাতন খবরের কাগজ খোঁজে পড়তেন, বিভিন্ন ক্লাব আর লাইব্রেরিতে যাতায়াত ছিল নিয়মিত। এখন অবশ্য দোকানে স্থানীয় পত্রিকা রাখেন, তবে গুরুত্বপূর্ণ কোন ইস্যু থাকলে জাতীয় পত্রিকাও রাখা হয়। তিন বছর আগে যখন আয় শুন্যের কোটায় তখন পুরাতন পত্রিকাই ছিল ফরমান আলীর জ্ঞান চর্চার অন্যতম পাঠশালা। পথে-ঘাটে যেখানে পত্রিকার ছেড়া পাতা চোখে পড়ে তা কুড়িয়ে মনযোগ দিয়ে পড়তেন। এখনো বাড়িতে নিয়মিত রেডিওতে খবর শুনেন। সময়-সুযোগে প্রতিবেশীর ঘরে টিভিও দেখেন।

সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও রাজনীতি সচেতন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোর বড় বড় নেতা তার খুব পরিচিত বলে প্রচার করেন, এমনকি কাউকে কাউকে নেতাকে বলে চাকরি দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। এতে অধিকাংশ লোক মুখ চেপে হাসাহাসি করলেও কিছু মানুষ নির্ভরতা খুঁজে, আস্থা রাখে ফরমান আলীর গম্ভীর আর বিশ্বাসে ভরা ভরাট কণ্ঠকে। এলাকায় বড় কোন রাজনৈতিক নেতা আসলে তার বক্তব্য শুনতে যান, নেতা কোন দলের এটা তার কাছে বিবেচ্য নয়। তাদের জ্ঞান গর্ভ বক্তৃতা আর মুখে দেশপ্রেমের খইফুটানি দেখলে আবেগাপ্লুত হন। অগাধ আস্থা এসব নেতাদের প্রতি। তবে টেলিভিশনে বিতর্ক শুনতে ভালো না লাগলেও রাজনৈতিক পঠভূমিতে রচিত সিনেমা তার খুব প্রিয়। নেতাদের মিটিং থেকে ফিরে হুবহু তাদের কথাগুলো উপস্থিত সবাইকে শুনান খুব আগ্রহ ভরে। বাবুল বসের সব কথার মর্ম না বুঝলেও মনযোগী স্রোতা হয়ে কান পেতে শুনে। অন্তত একজন মনোযোগী স্রোতা আছেন ফরমান আলীর এটা সবার জানা।

অল্পশিক্ষিত বলে উচ্চশিক্ষিত মানুষদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অনেক অজানা বিষয় জানতে চান। এতে জ্ঞানের পরিধি বাড়ে, বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা হয়। এসব লোকজন দোকানে আসলে বিশেষ ডিসকাউন্টে কাপড় বিক্রি করেন, খুব সম্মানের সাথে তাদের সমাদর করেন, আবারো আসতে বিনয়ের সাথে আহ্বান জানান। স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রায় সময় তার দোকানে আসেন, চায়ের আসরে ফরমান আলীকে অনেকের কাছে এলাকার গণ্যমাণ্য আর সুশীল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এজন্য এন্তাজ আলী স্যারের প্রতি তার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

গত কয়েক বছর থেকে ফরমান আলী নিয়মিত লেখালেখি করেন। সমাজনীতি, রাজনীতি, ইতিহাস, ধর্ম কিছুই বাদ যায় না তার লিখনীতে। লেখতে ইচ্ছা হলে আগু-পিছু না ভেবে আপন মনে লিখেন। এসব লেখা আলাদা ডায়েরি বা খাতায় লিপিবদ্ধ নয়, বিচ্ছিন্নভাবে খাতার ছেড়া পাতায় লিপিবদ্ধ করে দোকানের ড্রয়ারে সযত্নে রাখা। দোকানে অপরিচিত কেউ আসলে কথার ফাঁকে এগুলো দেখান। কেউ পড়তে আগ্রহী না হলে নিজে পড়ে শুনান। জানতে চান কেমন লিখেছেন? কারো বুঝতে অসুবিধে হলে বুঝিয়ে বলেন। লেখালেখি নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তাদের সাথে শেয়ার করেন। কিভাবে বই প্রকাশ করলে ভালো হবে সে পরামর্শও চান।

ইদানিং ফেইসবুকে একটি একাউন্ট খুলেছেন তিনি। তবে এটি তার নিজের ইচ্ছায় নয়। দূরসম্পর্কের এক ভাগ্নার পরামর্শে। আগে ফেইসবুক সম্বন্ধে কোন ধারণাই ছিল না ফরমান আলীর। ভাগ্নার যুক্তি ছিল লেখাগুলো ফেইসবুকে আপলোড করলে হাজার হাজার মানুষ পড়বে, চিনতে পারবে, প্রশংসা করবে এবং কমেন্ট করে উৎসাহ যোগাবে। ভাগ্নার এসব যুক্তি তাকে অনুপ্রানিত করে। তবে ফেইসবুক ব্যবহার উপযোগী মোবাইল না থাকায় ভাগ্না নিজের মোবাইলে মামার জন্য একটি একাউন্ট খোলে দেয়। তবে ইদানিং তিনি একটি স্মার্ট ফোন কিনেছেন। এখন নিজেই লেখাগুলো ফেইসবুকে পোস্ট করতে পারেন।

ইদানিং লেখালেখির জন্য প্রচুর প্রশংসা পাচ্ছেন। কারো সাথে দেখা হলে নিজের ফেইসবুকের সাথে যুক্ত হতে বলেন যাতে নিয়মিত লেখার আপডেট পেতে পারেন। লাইক, কমেন্ট করতেও অনুরোধ করেন। নিজের লেখা নিয়ে তিনি উচ্ছসিত হলেও বাস্তবে প্রায় সব লেখা অগোছালো ও অবিন্যস্ত। এছাড়া থাকে না বাক্য গঠনের নিয়ম-নীতি, থাকে না লেখার ধারাবাহিকতা। এছাড়া বিষয়টি সম্বন্ধে অস্পষ্ট বক্তব্য তো আছেই। অনেক সময় একটি বিষয় নিয়ে লেখাটি শুরু করে শেষ করেছেন অন্য বিষয় নিয়ে। কখনো দেখা যায় লেখার শুরুও নেই শেষও নেই। তারপরও মানুষ লেখালেখির প্রশংসা করে। দেখা হলেই লেখালেখিতে উৎসাহ যোগায়। তবে, লেখালেখি নিয়ে আড়ালে-আবডালে কাউকে কাউকে হাসি-টাট্টা করেতে দেখেছেন তিনি। যারা হাসি-টাট্টা করে তাদেরকে তিনি অপছন্দ করেন। মনে মনে মূর্খ বলে তিরস্কার করেন।

প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়েন তিনি। একটু বেলা হলে গোসল করে ভাত খেয়ে টিফিন ক্যারিয়ারে দুপুরের খাবার নিয়ে দোকানের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন। সাথে সিগারেটে সুখটান। একটি পুরাতন জুতার সাথে কালো প্যান্ট ও সাদা সার্ট। সাদা সার্ট নাকি অন্তরকে পরিষ্কার করে, তবে কালো প্যান্টের পরার বিশেষ কোন কারণ নেই। শীত আসলে একটি কালো কোটের সাথে ভেতরে একটি সবুজ রঙয়ের সুয়েটার পরেন। অতিথি হিসাবে নিমন্ত্রণ পেলে পাঞ্জাবির সাথে পায়জামা, গলায় মাফলার। বয়স পঞ্চাশের আশপাশে ঘুরাঘুরি করলেও নিজেকে তিনি এখনো টগবগে তরুণ ভাবেন। তবে মেদ ভুড়ি না থাকায় দেখতে বয়সটা চল্লিশের কোটায় মনে হয়। যদিও চুলগুলো বেশিরভাগই পাঁকা। মাসে একবার চুলে কলপ দিলেও পাকা চুলকে লুকিয়ে রাখতে তা যথেষ্ট নয়।

প্রতিদিন দোকানে আসা-যাওয়ার পথে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের জ্ঞানের শিক্ষা দেন, বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন, তারা উত্তর দিতে না পারলে নিজে উত্তরটা শিখিয়ে দেন। সক্রেটিস যেমন সবাইকে বলতেন, 'প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নিজেদের মধ্য লুকিয়ে আছে এজন্য নিজেকে প্রশ্ন করলেই উত্তরটি পাওয়া যায়।' যদিও বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসের নাম কোনদিন তিনি শুনেননি। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে তার ডাক পড়ে নিয়মিত। এটিকে তিনি তার প্রতিভার সামাজিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন।


নিজেকে সুশীল ভাবতে খুব ভাল লাগে তার। এলাকার কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেলে মনঃক্ষুন্ন হন, যদিও বিষয়টি কারো সাথে শেয়ার করেন না। কোন অনুষ্ঠানে অতিথি হলে ছবি তোলে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন। প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথির সাথে নিজের অর্জনগুলো শেয়ার করেন, লেখক হিসাবে প্রশংসা খোঁড়ান। এতে তার চিত্ত আন্দোলিত হয়। মনের বাসনায় রঙ লাগে, নতুন উদ্যমে আবার লিখেন।

বয়স বিশের কোটায় থাকার সময় থেকে একটি সুখী পরিবারের স্বপ্ন দেখতেন ফরমান আলী। ইচ্ছে ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে তারপর বিয়ে করবেন। লাল টুকটুকে একটি বউ আসবে, অনেকগুলো বাচ্চাকাচ্চা হবে। বাবা ডাক শুনার খুব আগ্রহ ছিলো। খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন বলে নিজে কোনদিন বাবা ডাকতে পারেননি। কিন্তু বাবা ডাক শুনে সেই অভাব পুষিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর ছিলেন। ভাবনা আর বাস্তবতার মিল এবং জীবনের হিসাবের গড়মিল বড়ই বেরসিক। ভাগ্যের পরিহাসে প্রতিষ্টিত হতে হতে কখন যে বয়সে পাঁক ধরেছে খেয়াল নেই। এতে বিন্দু পরিমাণ আফসুস আছে বলে মনে হয় না। পৃথিবীর কতশত বিখ্যাত মানুষ জ্ঞানচর্চা করতে গিয়ে বিয়ে-সাদী করেননি। নিজেও এসব বিখ্যাত মানুষদের কাতারে শামিল এজন্য মনে মনে গর্ববোধ হয়।

এখন, মাঝেমাঝে ভালবাসার রঙিন স্বপ্ন হৃদয়ে বাসা বাঁধে না তা কিন্তু নয়। এইতো কিছুদিন আগেও দোকানে আসার পথে এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে বেশ ভাল লাগতো। কি নাম তার কিংবা কোথা থেকে আসেন তা জানা না থাকলেও ভালো লাগতো। মাঝে মাঝে নিয়ে উল্টাপাল্টা স্বপ্ন দেখতেন। দু'চারদিন আলাপচারিতাও হয়েছে উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণের সোনালি পাড়ের শাড়ি পরা আর কপালে লাল টিপ দেওয়া সদা হাস্যজ্বল ম্যাডামের সাথে। তবে ম্যাডাম তাকে আঙ্কেল বলে সম্বোধন করায় ভালো লাগার প্রসঙ্গটি আসেনি। এজন্য মন খারাপ হয়েছিল খুব। তবে গত মাসে হঠাৎ করে ম্যাডামের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এখন ইচ্ছা করেই রাস্তা ঘাটে তাকে এড়িয়ে চলেন তিনি।

বিয়ে সাদী করা হয়নি বলে খরছের পাল্লাটা আগের মতোই আছে ফরমান আলীর। প্রতিদিন গোটা দশেক সিগারেট হলেই চলে। দোকানে আসা যাওয়ার পথেও কোন খরছ হয় না। দোকানে দু'হাজার টাকা বিক্রি হলে কমপক্ষে পাঁচশো টাকা মুনাফা থাকে। ব্যাচেলর ফরমান আলীর জন্য তা যথেষ্টই। তবে শীতকালে বিক্রি-বাট্টা অনেক বেশি হয় বলে লাভের অঙ্কটা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ব্যয়ের হিসেবে ফরমান আলীকে বেশ স্বচ্ছল ব্যবসায়ী বলা যায়। হাঁটা চলা এবং কথাবার্তায়ও ইদানিং আভিজাত্যের ছোঁয়া লক্ষনীয়।

জীবনে জেলা শহরে দু'চারবার গেলেও রাজধানীতে কখনো যাওয়া হয়নি তার। এজন্য ফরমান আলীর চক্ষু মেলিয়া দেখার ক্ষেত্রটি খুব সীমিত। জীবনের এ সীমাবদ্ধতার জন্য চাওয়া-পাওয়ার ফর্দটি সময়ের চাহিদার তুলনায় খুব ছোট। এজন্য নিজের মধ্যে এক প্রকার সুখ অনুভব করেন তিনি। তৃপ্তি পান।

মমতাজ উদ্দীন আহমদের 'সুখী মানুষ' নাটিকার সুখী মানুষ কাঠুরিয়ার চাল-চুলা, জামা-কাপড়, থালা-বাসন কিছুই না থাকার পরও তিনি সুখী ছিলেন। আবার হুমায়ুন আহমদের 'একজন সুখী মানুষ' গল্পের জাকের সাহেব জীবনে সবকিছু পেয়েছেন বলে সুখী ছিলেন। ফরমান আলী কাঠুরের মতো নিঃস্ব না হলেও সুখী। আবার জাকের সাহেবের মতো সব কিছু না পেয়েও সুখী। এ জীবনে প্রাচুর্যের কোন স্বপ্ন তিনি দেখেন না। নাই কোন উচ্ছাকাঙ্খা। যা আছে তা নিয়েই তিনি সুখী।

ঠিক সময়ে বিয়েসাদী করলে এখন ছেলে-মেয়ে বড় হয়ে যেত। সংসারেও খরছপাতি বাড়তো। সন্তানদের নিয়ে স্বপ্নের পরিধি বাড়তো। টেনশন বাড়তো। দায়িত্ব বাড়তো। সংসার নেই, সন্তান নেই, দায়িত্ব নেই। এটাই হয়তো তার সুখী হওয়ার অন্যতম কারণ। তবুও মাঝে মাঝে অন্তরদ্বন্ধে ভোগেন। জীবনের হিসেব মেলাতে গিয়ে আফসোস হয় কখনো। নিজের কোন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পৃথিবীতে থাকবে না এটা ভাবলে কষ্ট পান তিনি। এজন্য নিজের সীমিত জ্ঞান দিয়ে যা পারেন তা লিখেন। এই লেখনির মাধ্যমে মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকতে চান; মানুষের আলোচনায় থাকতে চান অন্তত একটি প্রজন্ম পর্যন্ত। পাশাপাশি, সভা সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে নিজের উপস্থিতির জানান দিতে চান। মানুষের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চান। অন্য প্রতিষ্ঠিত মানুষদের মতো পরিচিতি পেতে চান। এ চাওয়ার মাঝে নেই কোন অসততা, নেই কোন মিথ্যাচার, নেই কোন টকবাজি।

সামর্থ্য থাকলে ফরমান আলী দেশ ও দশের জন্য ভাল কাজ করেন; না পারলে অনুতপ্ত হন। নিজেদের সীমিত জ্ঞান ও সম্পদ দিয়ে মানুষের উপকার করেন। এরাই সত্যিকারের সুখী মানুষ, সাদা মনের স্বপ্নবাজ শালিক। পৃথিবীতে যেসকল মানুষ কম বুঝে, কম জানে, কম কৌতুহলী হয় সেসব মানুষ বেশি সুখী হয়। এজন্য সুশিক্ষিত, বিবেকবান, সচেতন আর গবেষকরা কখনো সুখী হতে পারে না। ফরমান আলীর মতো মানুষরা অল্পতেই আত্মতৃপ্তিততে ভোগেন। জীবনে কিছুই না পেয়েও সব কিছু পাওয়ার আনন্দ পান। জীবনকে উপভোগ করেন। নিজেকে সফল ভাবেন। এদের দ্বারা সমাজ ও দেশ কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।।



ফটো ক্রেডিট,
গুগল।

চাইলে পড়তে পারেন-
আমার সবচেয়ে পঠিত, লাইক ও কমেন্ট প্রাপ্ত পোস্ট।
সবচেয়ে পঠিত প্রবন্ধ।
সবচেয়ে পঠিত গল্প।
সবচেয়ে লাইকপ্রাপ্ত গল্প।
ছবি ব্লগ (লন্ডনের ডায়েরি-১)।

মন্তব্য ৪৪ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৪৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৫৬

কাইকর বলেছেন: ভাল লাগলো পড়ে। সুন্দর লিখেছেন

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ।

২| ২১ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০৫

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: বার বার পড়‌তে হ‌বে। রম্য রচনা বার বার পড়‌তে হয়।

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় সাজ্জাদ ভাই। হ্যা, ঠিকই বলেছেন রম্য লেখাগুলো বারবার পড়লে আরো বেশি ভাল লাগে। শুভ কামনা আপনার জন্য।

৩| ২১ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৪৩

লাবণ্য ২ বলেছেন: চমৎকার!

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, আপু।

৪| ২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৭

রাজীব নুর বলেছেন: চমৎকার গল্প।
মুগ্ধ হয়ে পুরো গল্পটা দুই বার পড়লাম।
ফরমান আলীর মতোন চরিত্র কি আমাদের দেশে আছে?

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় রাজীব ভাই। গল্পটি মূলত: আমার এক আত্মীয়ের জীবন অবলম্বনে লেখা। এজন্য এমন চরিত্র সারা দেশে কমিবেশী আছে। এরা সমাজে তেমন গুরুত্ব পায় না বলে এদের জীবন-দর্শন নিয়ে কেউ ভাবে না, মুল্যায়ন করে না।

৫| ২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৪২

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: বেশ লিখেছেন।

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৫০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় কবি।

৬| ২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: কাওসার চৌধুরী ,




একটা প্রশ্ন মনে খচখচ করছে --- এটাকে "রম্য গল্প" ছাপ দিলেন কেন ? কোন অর্থে ?
গল্পটাতো একজন সাদা মনের মানুষের গল্প ।

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনাকে। আপনি ঠিকই বলেছেন। লেখাটি পোস্ট করার সময় আনমনে কাজটি করেছি। এটা রম্যের মত কিন্তু বাস্তব একজন সাদা মনের মানুষের জীবনের চিত্রনাট্য। লেখার সময় এটাই মাথায় ছিল। নামটি এডিট করেছি।

৭| ২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১২

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: ফরমান আলীরা সমাজের আট দশটা মানুষের চরিত্র ধারণ করে বেঁচে থাকে। এরা নির্বিষ প্রাণী।

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, শাহাদাৎ ভাই। যথার্থই বলেছেন, "ফরমান আলীরা সমাজের আট দশটা মানুষের চরিত্র ধারণ করে বেঁচে থাকে। এরা নির্বিষ প্রাণী।"

৮| ২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় রাজীব ভাই। গল্পটি মূলত: আমার এক আত্মীয়ের জীবন অবলম্বনে লেখা। এজন্য এমন চরিত্র সারা দেশে কমিবেশী আছে। এরা সমাজে তেমন গুরুত্ব পায় না বলে এদের জীবন-দর্শন নিয়ে কেউ ভাবে না, মুল্যায়ন করে না।


আমি এওরকম মানুষ পেলে অবশ্যই মূলায়ন করবো।

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: তিনি আমার বাড়ির এক বড় ভাই। সম্পর্কে ফুফুতো ভাই। সত্যি সত্যি খুবই সাদা মনের একজন মানুষ।

৯| ২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:২৪

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: মুগ্ধ হলাম।

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৩২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই। শুভ কামনা রইলো।

১০| ২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৭

সিগন্যাস বলেছেন: বাহ বাহ সুন্দর গল্প।দেশের জনসংখ্যার ১% লোকও যদি ফরমান আলীর মতো হতো তাহলে দেশটাই পালটে যেত।আমি দারুণ গল্প লিখেন।প্লাস নেন

২১ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: "দেশের জনসংখ্যার ১% লোকও যদি ফরমান আলীর মতো হতো তাহলে দেশটাই পালটে যেত।আমি দারুণ গল্প লিখেন।".....

ঠিকই বলেছেন ভাই। এমন মানুষদের বড়ই অভাব এদেশে।

১১| ২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২১

চাঁদগাজী বলেছেন:


২ নং কমেন্টকারী এই পোষ্টকে 'রম্য' বলেছেন, উত্তরে আপনি কনফার্ম করেছেন! এটা কি রম্য?

২১ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আসলে একজন সাদা মনের মানুষের জীবনের চিত্রনাট্য গল্পটির মূল উপজীব্য। এটি অনেকটা রম্যের মত উপস্থাপন করেছি, তবে তা রম্য নয়। পাঠকরা এটাকে চাইলে রম্য ভাবতে পারেন।

১২| ২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৮

মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেছেন: আচ্ছা লেখক?

গোয়াল ঘরে তালাচাবি দিয়ে শীতলপাটি বুনতে বন্দর বাড়িতে কে গিয়েছে???:P

২১ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: বন্ধু, ঈদের দাওয়াত রইলো।

লাবণ্যময় সত্যের ছায়া একদম খাঁটি দেশপ্রেমিক বাঙালি হয়ে মন্ডল বাড়ির দুষ্টু পোলা চাঁদাগাজী সাহেবের ট্র্যাক্টর চড়ে গেড়াকলে পড়ে বিনা সিগনালে নূরের (আলোর) বেগে বন্দর বাড়ির গোয়াল ঘরটি তালাচাবি দিয়ে খুলে গোবরের উপর শিতলপাটি বিছিয়ে রাত্রি নিশিতে এক ডজন গরুর সাথে শুয়ে পড়লো। B-) ;) :(

১৩| ২১ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৫

রোকনুজ্জামান খান বলেছেন: এক ডজন গরুর সাথে শুয়ে পরলো ???????
তারপর কি হলো?

আমার নতুন পোষ্টে একবার ঘুরে আসার আহ্ববান রইল।
আপনাদের অণুপ্রেরণাই আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে?

২১ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: @মন্ডল ভাই আমার জানেমন দোস্ত!! তাই একটু মজা করলাম। আর আপনার পোস্ট পড়বো অবশ্যই।

১৪| ২১ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:২৭

প্রামানিক বলেছেন: গল্পটা খুব ভালো লাগল। ধন্যবাদ

২১ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:৩৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় প্রামানিক ভাই।

১৫| ২১ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:১১

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আমাদের সমাজের সাদামাটা মানুষ কে তুলে এনেছেন,বেশ লেখা।

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৪৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, আপা। গল্পটি পড়েছেন জেনে ভাল লাগলো। শুভ কামনা আপনার জন্য।

১৬| ২১ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:১৯

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: গল্পের উপাদান কম ছিল। যদিও বর্ণনা সুন্দর...

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৫৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই। গল্পটি একজন ব্যক্তির জীবন ও তার ভাবনার উপর লেখা। এজন্য ব্যক্তি কেন্দ্রিক বিষগুলো গল্পে উঠে এসেছে। এখানে ব্যক্তি ফোকাসটা মুখ্য। গল্পে এর চেয়ে বেশী চরিত্র ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা তুলে ধরার সুযোগ নেই। তবে বড় গল্প হলে ভীন্ন কথা; আর উপন্যাস হলে অনেক পারিপার্শ্বিক চরিত্র আনা সম্ভব। গল্প হচ্ছে একটি বড় কাহিনী/উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত রূপ।

১৭| ২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৩৪

সনেট কবি বলেছেন: ভাল লাগলো

২২ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:২৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় কবি।

১৮| ২২ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:৪৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শুভ সকাল কাওসার ভাই। ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় গতকাল ব্লগে আসার তেমন সময় পায়নি । তবে অনেকের মত আমিও গল্পটাকে রম্য না বলে একটি বাস্তব চরিত্র রুপেই দেখতে চাই। সেদিক থেকে অবশ্য রম্যের রম্য বৈকি। অনেকদিন আগে কৌশিক গাঙ্গুলির নিজ পরিচালনায় ও অভিনয়ে একটি আর্টফিল্ম দেখেছিলাম। আজ গল্পটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার কথা মনে পড়লো । তবে শিরোনামটি ঠিক মনে নেই। তবে দিদিমণির বিয়ে হয়ে যাওয়াটা আমারও খুব বিষন্নতা লাগছে ।

আর আপনার লেখনী ও গল্পকরার কৌশল, আপনি থাকছেন স্যার, আপনি থাকছেন স্যার, আপনি আপনি আপনি থাকছেন স্যা ..... র।

২২ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৩৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: "আপনি থাকছেন স্যার"........ মীরাক্কেলের মীরের এ কমেডিগুলো আমারও খুব প্রিয়। এখন গল্পের বিষয়ে আসি, এখানে একজন সাদা মনে মানুষের জীবনকে একটু রম্য আকারে উপস্থাপন করেছি। এজন্য কেউ কেউ গল্পটিকে রম্য হিসাবে দেখছেন। তবে আসলে এটা সমাজের এই চরিত্রের মানুষের বাস্তব জীবনের চিত্রনাট্য।

প্রিয় ভাইয়ের যেকোন কমেন্ট আমার জন্য অনুপ্রেরণা। অনেক ভাল লাগা ও শুভ কামনা প্রিয় ভাইয়ের জন্য।

১৯| ২২ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৪৪

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: একজন সাদাসিধে মানুষের জীবনচিত্র সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ভাল লেগেছে লাইক দিলাম।

২২ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৪৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: গল্পটি পড়ে ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম, প্রিয় তারেক ভাই। আর লাইক দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা। অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য।

২০| ২২ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৭

অচেনা হৃদি বলেছেন: হি হি হি... চমৎকার তো !
তবে আমার মনে হয় 'সুশীল' শব্দটিকে এখন অনেকে ভদ্র ভাষার একটি গালি হিসেবে ব্যবহার করে, যদিও এটা কোন খারাপ শব্দ নয় ! :P

২২ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ওয়েলকাম বেক। হ্যা, কথাটি সত্য। তবে এর জন্য সুশীল নামধারী কিছু মানুষের দায় আছে।

২১| ২৩ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৬

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: জনাব ফরমাল আলী সম্পর্কে জেনে ভালো লাগল। খুব সুন্দর গুছিয়ে একজন মানুষ সম্পর্কে লিখেছেন ভাইয়া।
গল্পের ভালো লাগার অংশ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কে ভালো লাগা। এবং শিক্ষিকার অল্প ছোট বর্ণনা টুকু। আমার মত ফরমাল আলী ভাই এর ও জীবনে তেমন কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই :P

২৩ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:২১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: "গল্পের ভালো লাগার অংশ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কে ভালো লাগা। এবং শিক্ষিকার অল্প ছোট বর্ণনা টুকু। আমার মত ফরমাল আলী ভাই এর ও জীবনে তেমন কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই :P"

....... আসলে প্রেম ভালবাসার আকাঙ্খা প্রতিটি মানুষের মনে আছে। যদিও সময় সুযোগের অভাবে অনেক সময় তার বাস্তবায়ন হয় না; তারপরও জীবন চলে যায় আপন খেয়ালে। ফরমান আলীরাও এভাবে একদিন যুবক থেকে বৃদ্ধ হন; বৃদ্ধ থেকে চিরদিনের জন্য চলে যান।

২২| ২৩ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:০২

সোহানী বলেছেন: মনে হচ্ছে আপনার খুব কাছের কারো গল্প বলছেন।........

অভিনেতা নাট্যকার মমতাজ উদ্দিনের এর কথা মনে করিয়ে দিলেন। অসাধরন অভিনেতা.... আমার বাবা অসম্ভব পছন্দ করতেন। খুব ছোটবলোয় উনার নাটক দেখতাম। এখনো কি অভিনয় করেন?

২৩ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:১৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় আপুকে। গল্পটি মূলত: আমার এক আত্মীয়ের জীবন অবলম্বনে লেখা। এমন চরিত্র সারা দেশে কমিবেশী আছে; এরা সমাজে তেমন গুরুত্ব পায় না বলে এদের জীবন-দর্শন নিয়ে কেউ ভাবে না, মুল্যায়ন করে না। এরা সত্যিকারের সাদা মনের মানুষ।

"অভিনেতা নাট্যকার মমতাজ উদ্দিনের এর কথা মনে করিয়ে দিলেন। অসাধরন অভিনেতা.... আমার বাবা অসম্ভব পছন্দ করতেন। খুব ছোটবলোয় উনার নাটক দেখতাম। এখনো কি অভিনয় করেন?".......
আপু, উনার অভিনয় আমারও ভাল লাগে। তবে গত কয়েক বছর থেকে মিডিয়ায় উনার উপস্থিতি দেখিনি। তিনি বেঁচে আছেন কিনা জানা নেই। বেঁচে থাকলে সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.