নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত \'মানুষ\' হওয়ার প্রচেষ্টায় আছি। গল্পের \'বায়স্কোপ\' বইয়ের কারিগর।

কাওসার চৌধুরী

প্রবন্ধ ও ফিচার লেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাশাপাশি গল্প, অনুবাদ, কবিতা ও রম্য লেখি। আমি আশাবাদী মানুষ।

কাওসার চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

পারফিউম (গল্প)

২৪ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:০১


১.
কলিংবেল চেঁপে পাক্কা পাঁচ মিনিট অপেক্ষা--
নাহ! কোন সাড়াশব্দ নেই; বাসার নাম্বার ঠিক আছে তো? নিজেই প্রশ্ন করে ইতিবাচক উত্তর খোঁজে মাথা নাড়ালো, জিসান। পুরো নাম 'জিসান আহসান'।
পরপর কলিং বেলে চাপ দেওয়া এক ধরনের অভদ্রতা বিষয়টি জানা; এজন্য ভদ্রলোকের নীতি ফলো করতে গিয়ে জিসানের এ অপেক্ষা। ফলাফল শুন্য হওয়ায় ধৈর্য্যহারা হয়ে আরেকটি চাপ। ত্রিশ সেকেন্ড পার হয়ে গেলেও দরজা খোলার কোন লক্ষণ না পেয়ে এবার বৃদ্ধাঙুলের যাবতীয় শক্তি খরছ করে একসাথে তিনটি চা-আা-প-।
-- এ্যই কেডা রে, এতো জোরে বেল চাঁপে কোন হালায়?
ঘটাস করে নীচতলার বাম পাশের দরজাটা খুলে লুঙ্গির গিট্টু বাঁধতে বাঁধতে জিসানকে উদ্দেশ্য করে এগিয়ে আসলেন পঞ্চাশোর্ধ এক ভদ্রলোক!
-- আঙ্কেল..... ইয়ে মানে...... আমি, ...... আমি...... জিসান।
-- দেইখা তো ভদ্র ঘরের পোলা মনে অয়; তো কারে চাও?
ভদ্রলোকের রুদ্রমূর্তি দেখে আমতা আমতা করে জিসান জবাব দিলো-
-- আমি দ্বিতীয় তলার নিলুফা ম্যাডামের বাসায় যাবো; একটু আগে ফোনে উনার সাথে কথা হয়েছে।
-- ডাইন থেইক্যা দুইয়ে চাপো, যত্তসব...... আ.......।
বলেই এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে খটখট করে দরজাটি আটকিয়ে দিলেন; টং করে সিটকানি আটকানোর শব্দও জিসানের কানে আসলো।

নির্ঘাত ভদ্রলোক মাইন্ড করেছেন। নিজেকে ভৎসনা করলো, জিসান।

মনে পড়লো আপা মোবাইলে বলেছিলেন, 'ভূতের গলিতে ঢুঁকে ছায়ানীড় ৪৩/২, তিনতলা বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকেন তিনি। আরো বলেছিলেন ডান থেকে দুই নাম্বার কলিংবেল চাপলেই হবে। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল কিন্তু জিসান ভুল করে বাম থেকে দুই নাম্বার সুইচে চাপ দেওয়ায় এই বিড়ম্বনা।

-- কেমন আছো, জিসান? প্রায় চার বছর পর তোমাকে দেখলাম।
নীচের কলাপসিবল গেটের তালা খুলতে খুলতে জানতে চাইলেন নিলুফা আপা। এই ফাঁকে জিসানকেও আপাদমস্তক একপলক দেখে নিলেন।
-- ভালো আছি আপা; তো আপনারা সবাই কেমন আছেন?
-- একরকম আছি ভাই; বলতে পারো, ভালই। তুমি তো অনেক হ্যান্ডসাম হয়ে গেছ দেখছি। আগের চেয়ে অনেক স্মার্ট লাগছে তোমায়। বাসা পেতে কোন সমস্যা হয়নি তো?
-- আপা কিযে বলেন? এসব এলাকায় কতো এসেছি, কতো চেনাজানা-বন্ধুবান্ধব!
জিসান কলিংবেলের কেলেঙ্কারির কথা সচেতনভাবে চেপে গেলে। ভদ্রলোকদের এসব বিষয় চেপে যেতে হয়। মোজাইক করা সিঁড়ি বেঁয়ে উপরের ফ্লাটে প্রবেশ করতেই বিশ্রী পঁচা একটা গন্ধ নাকে আসলো জিসানের। কানাডা থেকে দেশে আসার পর থেকেই গন্ধটা তার নিত্যসঙ্গী। রাস্তাঘাট, মার্কেট, অফিস, গাড়ি-রিক্সা সবখানেই একটা বিশ্রী গন্ধ পাচ্ছে। তবে এ গন্ধটা একটু ব্যতিক্রম। কোন ভদ্রলোকের বাসা বাড়িতে এই প্রথম। এমন ঝাঁঝালো গন্ধ এ জীবনে কোনদিন পেয়েছে বলে মনে করতে পারলো না জিসান। দুর্গন্ধময়। পঁচা মুরগীর গন্ধের মতো; পরিত্যক্ত টয়লেটের গন্ধ অনেকটা এরকম।

-- দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসো, জিসান।
-- নিশ্চই।
হাতের মিষ্টি দইয়ের একটি কৌটা, একটা ছানার মিষ্টির কার্টুন আর বাখরখানির প্যাকেট বসার ঘরের টি টেবিলে রাখতে রাখতে ছোট্ট করে উত্তর দিল জিসান।
-- তো, কেমন চলছে তোমার প্রবাস জীবন?
-- চলছে একরকম; ভালোমন্দ মিলিয়ে বলা যায়। শুনলাম আপনি ম্যানেজার হিসেবে প্রমোশন পেয়েছেন; সত্যি নাকি?
-- হ্যা, ঠিকই শুনেছো তুমি। মাস দেড়েক হবে নতুন ব্রাঞ্চে ম্যানেজার হিসাবে পোস্টিং হলো।
-- কনগ্রেচুলেশন।
সাড়ে তিন বছর আগে জিসান কানাডা যাওয়ার আগ পর্যন্ত একটি বেসরকারি ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার ছিল; নিলুফা শারমিন তখন জিসানের সিনিয়র কলিগ।
-- তোমার পিএইচডি কেমন চলছে?
প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে জানতে চাইলেন নিলুফা শারমিন।
-- গত এক বছর হলো রিসার্চ শুরু করেছি মাত্র। আগে ইউনিভার্সিটি থেকে বিষয়টির উপর মাস্টার্স করতে হয়েছে। সরাসরি পিএইচডি করতে পারমিশন দেয়নি আমায়।
-- ভালো। সময় লাগলেও তুমি ঠিকই পারবে; সে ধৈর্যশক্তি আর মেধা তোমার আছে। কানাডিয়ান কোন ম্যাম-ট্যাম কী জুটিয়ে নিয়েছো?
-- না আপা, কিযে বলেন আপনি? এমন কিছু হলে তো আপনাকে দাওয়াত দিতাম।
-- পড়াশুনা করতে গিয়ে কেউ কেউ তো বিদেশি মেম বিয়ে করে সেটেলড্ হয়ে যায়।
-- আমার দ্বারা হবে না আপা। আমি অনেকের মতো স্মার্ট না। বাঙালিয়ানা বাদ দিয়ে পুরোপুরি বিদেশি হতে পারবো না। তবে আমার অনেক বাঙালি বন্ধু বিয়েসাদী করে সেটেলড্। কেউ কেউ তো লিভ টুগেদারও করছে। অনেকে রেগুলার গার্লফ্রেন্ডদের নিয়ে পাবে যায়, ক্লাবে গিয়ে ডলাডলি করে, মদ গিলে। আমি ওসব পারি না। সোজা কথায় এসব আমাকে দিয়ে হবে না।
-- এবার কি........?
-- মাত্র তিন সপ্তাহের ছুটি। এরই মাঝে চারদিন চলে গেছে। দেখা যাক কী হয়। আম্মার ইচ্ছা আছে এজন্য মেয়ে দেখছেন। তবে সময় খুব অল্প, সম্ভাবনা কমই বলা যায়!
-- শুভ কামনা রইলো। তুমি একটু বসো, আমি ভেতর থেকে আসছি।
-- আপা, কিছু খাবো না; সময় কম তাড়াহুড়ো আছে।
জিসানের বারণটি কর্ণপাত করার কোন প্রয়োজন মনে করলেন না নিলুফা শারমিন, রিমোট চেপে টিভিটা অন করে দিয়ে গেলেন যাতে জিসান একাকী বিরক্ত না হয়। টিভিতে একটি স্পোর্টস চ্যানেলে তখন রেসলিং চলছে। একজন নারী রেসলার আরেকজন নারী রেসলারকে সজোরে কিল, ঘুসি, লাথি মেরেই যাচ্ছে; খুব বিরক্ত হয়ে টিভি বন্ধ করে দিলো, জিসান।

'ধ্যাৎ'!

মোটামুটি বুঝার বয়স থেকে রেসলিং বিষয়টি একদম অপছন্দ তার। সভ্য দুনিয়ায় এগুলো স্পোর্টস হয় কেমনে? তাও আবার নারী রেসলিং! কানাডায় রেসলিং খুব জনপ্রিয়। আমেরিকাতেও তাই। শুনেছে ইদানিং রেসলিং জ্বর মহামারী হয়ে বাংলাদেশে আছড়ে পড়েছে। এই রেসলাররা অনেক তরুণ-তরুণীর আইডল এখন! মানুষের রুচিবোধের এই দৈন্যদশা দেখে অবাক হতে হয়। হলিউডের সিনেমায় নায়ক-নায়িকাদের পিস্তল, কালাশনিকোভ, ফাইটার জেট আর মেশিনগান দিয়ে অস্ত্রবাজি-বোমাবাজি আর গুন্ডামী দেখে পছন্দ হয় না বলে কয়েকবছর হলো সিনেমা দেখা বন্ধ করে দিয়েছে, জিসান।

আধুনিকতা আর তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সভ্যতা আর রুচিবোধের তো বিরোধ থাকার কথা নয়। কিন্তু মানুষের ভাবনা আর প্রযুক্তির উৎকর্ষতার মধ্যে পরিবর্তনটা হয় খুব সামান্যই। কৃত্রিম আলোকসজ্জা চাঁদের মায়াবী আলোর চেয়ে অনেক বেশি ঔজ্জ্বল্য ছড়ালেও তার স্থায়িত্ব ক্ষনিকের হয়।

যাইহোক, তীব্র গন্ধটা আবার তীব্র হওয়ায় ভাবনায় ছেদ পড়লো জিসানের। চারিদিকে তাকিয়ে বাসাটি মোটামুটি পরিচ্ছন্ন মনে হলো। টাইলস করা বাসাটি পুরাতন হলেও সিটিংরুমের আসবাবপত্রে আভিজাত্যের ছোঁয়া আছে। জানালগুলোতে ঝকঝকে ভারী পর্দা ঝুলছে। বাম পাশের কর্ণারে একটি বড় এ্যকুরিয়াম। ডান কর্ণারে সনির এলইডি বত্রিশ ইঞ্চি টিভিতে ডিশ বক্স সংযুক্ত। দুই সেট সোফা (একসেট বেতের)। কাঁচে টি-টেবিলের উপর চমৎকার একটি ফোলের তোড়া। নীচে একটি পুরাতন কার্পেট।

'গন্ধটা কী কার্পেট থেকে আসছে?' মনে হয় না। কারণ, ধূলোবালির গন্ধটা জিসানের জানা।

আপা ট্রেতে কিছু নাস্তা, একগ্লাস ঠান্ডা পানি আর দুই কাপ চা নিয়ে হাজির। সাথে উনার তিনটি মেয়ে।
-- আঙ্কেলকে সালাম দাও।
-- কেমন আছো টুনি, মিম আর মুনিয়া? বাহ, তোমরা তো অনেক বড় হয়ে গেছো!
-- জি আঙ্কেল, ভালো।
-- তো, মা-মণিদের লেখাপড়া কেমন চলছে?
-- আর বলো না, জিসান। সারাক্ষণ শুধু ফেইসবুক, গুগল আর ইউটিউব। সামনের বছর টুনির এসএসসি এগজাম। অথচ পড়ায় -কো-নো- মনযোগ নেই। তিন-তিনজন টিচার তার জন্য রাখা; স্কুলেও নিয়মিত কোচিং করাচ্ছি; টেস্ট পরীক্ষার পর দু'টি কোচিং সেন্টারে ভর্তি করবো ভাবছি। কিন্তু মেয়ের তো পড়ালেখায় কোন সিরিয়াসনেস দেখছি না। গোল্ডেন এ+ না পেলে আত্মীয়-স্বজনের কাছে মুখ দেখাতে পারবো না। ছোট দুইটা তো বড়টার কার্বন কপি; পারলে এক কদম এগিয়ে থাকে। খুব দুশ্চিন্তায় আছি। ভবিষ্যতে এদের নিয়ে আশার আলো দেখছি না। অন্ধকার।

-- আম্মু-আব্বু সারাক্ষণ শুধু পড়ালেখার জন্য চাপ দেয়। এতো পড়তে ভাল লাগে না। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শুধু পড়ো, পড়ো আর পড়ো।
অভিযোগ খন্ডাতে কথাটি বললো, টুনি।
-- কী করতে মন চায় তোমার?
টুনিকে উদ্দেশ্য করে জানতে চাইলো, জিসান।
মিম আর মুনিয়া মনে হয়ে মায়ের কথায় একটু বেশি লজ্জা পেয়েছে এজন্য নীচের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বসে আছে; জিসান বিষয়টি আঁচ করে ছোট দু'জনকে এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলো না।
টুনি বলতে লাগলো-
-- আমি কম্পিউটারে প্রোগ্রামিং করতে পছন্দ করি। রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতে খুব ভাল লাগে, এজন্য নিয়মিত চর্চাও করি। তাছাড়া ইউটিউবে ভালো ভালো ডকুমেন্টারি দেখি; তবে ফেইসবুকে আমার কোন একাউন্ট নেই।
-- ইন্টারেস্টিং, দারুন তো; চালিয়ে যাও।
-- তুমিও মেয়েদের পক্ষ নিলে?
-- আপা পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে তাদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করা। জানার আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া। শেখার জন্য কৌতুহলী হওয়া। উন্নত দেশগুলোতে এভাবেই ছাত্র ছাত্রীদের মোটিভেট করা হয়। তারা পড়ালেখার জন্য ছাত্রদের উপর কোন চাপ প্রয়োগ করে না। ফলে ছেলেমেয়েরা আনন্দের সাথে শিক্ষা নেয়, জ্ঞান অর্জন করে। সিলেবাসের বাইরে গিয়ে নতুন নতুন জিনিস জানার চেষ্টা করে। তাদের সিলেবাসটাও আমাদের চেয়ে অনেক ছোট। চাপিয়ে দিয়ে জোর করে হয়তো এ+ পাওয়ানো যায়। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে হয় আনন্দের সাথে নিজের ইচ্ছায়। চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা ছেলেমেয়েদের ক্রিয়েটিভ আইডিয়াগুলো নষ্ট করে দেয়। এজন্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি পড়াশুনা করলেও তাদের মতো গবেষক, সাইন্টিস্ট আর দার্শনিক হতে পারেনা। তারা ছাত্রদের রেজাল্ট দেখে না, দেখে ক্রিয়েটিভিটি। আমরা বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভ মাইন্ডকে ধ্বংস করে প্রাধান্য দেই ভাল রেজাল্ট আর ভাল চাকরি পাওয়াকে।


মেয়ে তিনটি খুব অস্বস্তিতে ভূগছে। মনে হচ্ছে বেশ লজ্জিত। মেয়েরা বিদায় নিয়ে চলে যেতেই আপাকে উদ্দেশ্য করে জিসান বললো-
-- প্লীজ, কোন আত্মীয়-স্বজন অথবা পরিচিত-অপরিচিত কারো সামনে বাচ্চাদের সমালোচনা করবেন না, লজ্জা দেবেন না। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হবে। ভাল কাজের উৎসাহ হারাবে। কিছু বলতে হলে নিজেই বুঝিয়ে বলবেন। তাদের কথাগুলো শুনার চেষ্টা করবেন। তাদের ভাল লাগা মন্দ লাগার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবেন। তারা আপনার সন্তান হলেও তাদের আলাদা আলাদা সত্তা আছে। তাদের ভাবনার জায়গাটিও ইউনিক। আপনার চাপিয়ে দেওয়া পছন্দ তাদের মনমতো হওয়ার কথা নয়। আর, এ+ পাওয়া না পাওয়ার সাথে মেধার কোন সম্পর্ক নেই।
-- আচ্ছা, কথা বলার অনেক সময় পাওয়া যাবে, আগে চা নাও।
-- আপা আমার পেটের অবস্থা ভাল না। দেশে আসার পর থেকে পেট বেলুনের মত ফুলে আছে। কিছু খেলেই বমির ভাব করে। যা খাই মনে হয় প্লাস্টিক। সহজে পঁচে না।
-- চারদিকে শুধু ভেজালের ছড়াছড়ি। খাবারে সবচেয়ে বেশি ভেজাল দেয়। দুধেও ভেজাল। এগুলো দেখার কেউ নেই। বিকল্প উপায় না থাকায় এদেশের অসহায় মানুষ এগুলো খাচ্ছে। আমরা বেঁচে আছি এটাই তো বিষ্ময়। তুমি নাস্তাটা নাও। এই সামান্য খাবার খেলে কিচ্ছু হবে না তোমার।
-- প্লীজ, মাইন্ড করবেন না আপা; আমি অতশত ভাবিনি। ঠিক আছে শুধু চা-টা নেব। পেটের অবস্থা একটু ভালো হোক আরেকদিন এসে খেয়ে যাব। দুলাভাইকে দেখছি না যে?
-- নতুন একটা ব্যবসা শুরু করেছে। এজন্য বাসায় আসতে একটু দেরী হয়। দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা কর দেখা হবে। তারপর একসাথে খেয়ে চলে যাবে।
-- আজ না আপা। রাতে আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা করার কথা। যেদিন ভাইয়া বাসায় থাকবে ফোন দিয়ে এসে আলাপ করে যাবো।

২.
বনানীতে পৌছিতে রাত দশটা। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট তার উপর অসহ্য গরম। অপরিকল্পিত উপায়ে গড়ে উঠা ঢাকায় নেই কোন আরামদায়ক পাবলিক সার্ভিস। এছাড়া নগরীর মানুষ আর যানবাহনের অনুপাতে রাস্তাও খুব অল্প। যত্রতত্র পার্কিং, ট্রাফিক আইন অমান্য করা তো আছেই। পর্যাপ্ত পাবলিক সার্ভিস থাকলে প্রাইভেট যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমতো। এতে যানজট কম হতো, যাতায়াতে মানুষের কর্মঘন্টা বাচঁতো। বায়ুদূষণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আসতো।

বনানীর মিলেনিয়াম টাওয়ারের ১২ তলায় পুরো ফ্লোর নিয়ে অফিস; জিসানের ভার্সিটির ঘনিষ্ট বন্ধু আসিফ। বড়লোক বাবার চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় সে। দেড় বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর বিশাল ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট ব্যবসা সে একাই দেখাশুনা করে। বাকি তিন ভাই এখনো পড়াশুনা করছে। অফিসের রিসিপশন পেরিয়ে সোজা এমডি আসিফের রুমে ঢুঁকলো জিসান।
-- আসতে এত্তো দেরী করলি দোস্ত? বিকাল থেকে তোর জন্য অপেক্ষা করছি। ফোনেও পাচ্ছি না। কেমন আছিস? আমার কথা মনে আছে তাহলে?
-- স্যরি দোস্ত; আর বলিস না। ধানমন্ডি থেকে বনানী আসতে পাক্কা দুই ঘন্টা লাগলো। এদিকে ফোনেও চার্জ নেই। তোকে যে আপডেট জানাবো সে সুযোগও ছিলো না।
-- সমস্যা নেই; ঢাকা শহরে আমরা এতে অভ্যস্থ। উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে কোনকোন দিন ছয় থেকে আট ঘন্টা লাগে। পুরো দিনটি মাটি!
-- বাদ দেয় এ প্রসঙ্গ। ঢাকার এই রূপ আমার খুব চেনা। তোর খবর বল?
-- এই তো চলছে কোনমতে। বাবা নেই এজন্য সবকিছু আমাকেই দেখতে হয়।
-- আমাদের বন্ধুদের মধ্যে তুই সবচেয়ে সফল। সবচেয়ে ধনবান। তুই যেমন হ্যান্ডসাম তেমন টাকার কুমির। ঢাকার নতুন কোটিপতি ব্যবসায়ীদের এক্সক্লুসিভ তালিকা করলে তোর নাম উপরের সারিতে থাকবে। আমাদের 'টাইকুন আসিফ'।
-- দোস্ত, কিযে বলিস তুই।
আসিফ টাইয়ের নট ঠিক করতে করতে মুখে খুশি খুশি ভাব নিয়ে উত্তর দিল। বোঝাই যাচ্ছে ভেতরে ভেতরে বেশ পুলক অনুভব করছে। বিশ্ববিদ্যালয় লাইফে বড়লোক বাবার ছেলে, মালদার পোলা ইত্যাদি বললেই আসিফ হাতখুলে খরছ করতো। রেস্টুরেন্টে সব বিল পরিশোধ করতো। আর মেয়েরা সাথে থাকলে তো কথাই নেই। পারলে জোর করে খাওয়াতো। বিষয়টি ভেবে হাঁসি পেল জিসানের।
-- তুই আসবে বলে স্পেশাল কিছু আইটেম এনে রেখেছি। আগে চা-টা খেয়ে নেয়। রাত তিন-চারটা পর্যন্ত পার্টি করে যাবি। আমি তোকে গাড়ি দিয়ে বাসায় নামিয়ে দেব। এগারটার দিকে তুহিন তিন-চারজন পার্টি গার্ল নিয়ে আসবে। একটু আগে ফোন দিয়ে কনফার্ম করেছে। এসব প্রাইভেট পার্টির জন্য অফিসের একটি গোপন কর্ণার আছে। স্টাফদের এই এক্সক্লুসিভ রুমে যাওয়ার কোন পারমিশন নেই। তবে আমার ব্যক্তিগত একান্ত সহকারী মোনালিসার জন্য এ নিয়ম শিথিল।
কথাগুলো বলেই বেল টিপে চায়ের অর্ডার করতে উদ্যোত হলো, আসিফ।
-- এখন না, দোস্ত। এতো রাতে চা-নাস্তা কিছুই খাবো না। আরেকদিন এসে খাওয়া যাবে।
-- আরেকদিন মানে? চল ভেতরের রুমে গিয়ে বসি।
জিসান খেয়াল করলো অফিস রুমের ঠিক পেছনে একটি সুদৃশ্য দরজা। ভেতরে প্রবেশ করেতেই চোখ ছানাবড়া। আছে সাজানো ডাবল একটি খাট, কয়েকটি টুল সদৃশ্য চেয়ার, একটি গ্লাসের টেবিল ও দুইটি সিঙ্গেল সোফা। কোন জানালা নেই। রুমটি খুব সুন্দর করে সাজানো গোছানো। টেবিলের উপর তিনটি বিদেশি মদের বোতল। কয়েকটি বিয়ারের ক্যান (হিন্দিতে নাম লেখা)। টেবিলের একটি কোণে কয়েকটি কনডমের প্যাকেট। ছোট একটি ওয়াশরুমও আছে এটাচড্।

একটি পঁচা দুর্গন্ধ জিসানের নাকে আসলো। গন্ধের ছুটে মনে হচ্ছে নাড়িভুড়ি সব একাকার হয়ে যাবে। তবে গন্ধটা মরা-পঁচা মুরগীর মতো মনে হলো না; মরা মানুষের গন্ধ।
-- এটা আমার প্রাইভেট রুম। মাঝে মাঝে এখানে বিশ্রাম নেই।
-- দেখেই বুঝতে পেরেছি।
-- কাজের ফাঁকে একটু আধাটু ড্রিংকস্ করি। মাঝে মাঝে দুই একজন বন্ধু-বান্ধবীও আসে। সময় কাটাই। বিয়েসাদি করলে ভাবছি এগুলো ছেড়ে দেবো। ব্যাচেলর মানুষ। এতো পরিশ্রম করি একটু মৌজ-মাস্তী না করলে কী চলে?

এবার সত্যি সত্যি জিসানের বমি আসবে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আসিফ ওয়াশরুমের দরজাটি দেখিয়ে দিল। ওয়াশরুমে ঢুকে বমি করায় পেটটা একটু হালকা লাগছে জিসানের। তবে গন্ধটা আরো তীব্র হয়েছে; অতএব বেশি সময় এখানে বসা যাবে না। মাথায় ঝিমঝিম করছে। চোখে আন্ধার দেখছে।
-- বন্ধু, দেখতেই পাচ্ছিস শরীরটা খারাপ লাগছে। এখনই উঠতে হবে। এছাড়া বাবা-মা খুব টেনশন করবেন। বাসায় বলে এসেছি দশটার মধ্যে ফিরবো; এখন তো এগারোটা বাজতে দশ মিনিট বাকি।
-- আমি তোর জন্য বিদেশি হুইস্কি এনে রেখেছি; আর তুই না গিলেই চলে যাবে? ভেবেছিলাম দুই বন্ধু মিলে রাতটা এনজয় করবো। তাছাড়া 'লাভবার্ড' তো আছেই।
-- তুই তো জানিস আমি এগুলোতে অভ্যস্থ নয়; আমার আনাড়ি লিভার এগুলো সহ্য করতে পারে না।
-- বন্ধু, কানাডাতে গিয়েও নিজেকে বদলাতে পারলি না?
-- বদলাতে চাই না, দোস্ত। আমি যেমন ছিলাম তেমনি আছি, ভবিষ্যতেও এমন থাকতে চাই।
-- তাহলে, ড্রাইভারকে বলি তোকে বাসায় দিয়ে আসবে।
-- না লাগবে না। উবারে আমার একাউন্ট আছে; সহজেই বাসায় যেতে পারবো। মাইন্ড করিস না দোস্ত; আরেকদিন সময় নিয়ে এসে আলাপ করা যাবে।

অফিসের সদর দরজায় আসতেই একটি বছর পঁচিশের যুবকের সাথে দু'জন বিশ-বাইশ বছরের মেয়ে ভেতরে ঢুঁকলো। জিন্সের টাইট প্যান্টের সাথে ঢিলা হাফ হাতা গেঞ্জি। হাতে দামি মোবাইল ফোন। পায়ে হাই হিল জুতা। মুখে কড়া পার্টি মেকাপ। ঠোটে বাহারী লিপিস্টিক। চোখাচোখি হতেই এদের একজনকে খুব পরিচিত মনে হলো জিসানের। ভালো করে চিনতে আবার তাকালো। এরই ফাঁকে আসিফ মেয়েদের সাথে জিসানকে পরিচয় করিয়ে দিল। সময় কম থাকায় জিসান আলাপ সীমিত রেখে দ্রুত বের হয়ে আসলো।

৩.
বাসায় ঢুঁকতেই নাকে হালকা একটা ভ্যাপসা গন্ধ জিসানের নাকের ডগায় আছড়ে পড়লো। তবে ঘ্রাণটি নিলুফা ইয়াসমিনের বাসা আর আসিফের অফিসের মতো এতো তীব্র নয়; কড়া আর হালকার মাঝামাঝি কিছু একটা হবে। আশ্চর্য! গত পাঁচদিন হলো দেশে ফিরেছে কিন্তু নিজের ফ্ল্যাটে কখনো এমন গন্ধ নাকে লাগেনি তার। দ্রুত নিজের জন্য বরাদ্দকৃত কামরায় ঢুঁকে জামা-কাপড় চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় শান্ত হয়ে বসে চতুর্দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে লম্বা লম্বা শ্বাস নিয়েও কোন উৎসের সন্ধান পেলো না। এটাচড্ বাথরুমে উঁকি দিয়ে হারপিক আর শাওয়ার জেলের মিক্সার করা একটা তাজা কড়া গন্ধ পেলো; যা উৎসের সন্ধানে থাকা গন্ধ থেকে ব্যতিক্রম।

'তাহলে নিজের ব্যবহার্য্য ঘর, বাথরুম, সিটিং রুম বলে বাজে গন্ধ নাকে লাগছে না?' উত্তর খুঁজতে নিজেকেই প্রশ্ন করলো, জিসান।

মনে আছে একবার কানাডায় তার স্টুডিও ফ্ল্যাটে কলম্বিয়ান এক বন্ধু এসে নাক সিটকাচ্ছিল। কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে বন্ধুটি তাকে কিছুই বলেনি। বিষয়টি জিসানের চোখ এড়িয়ে যায়নি। বন্ধুর প্রস্তানের পর ঘরটি তন্নতন্ন করে খুঁজতে গিয়ে আলমারির উপরে একটি মরা ঈদুরের দেহাবশেষ খুঁজে পায়। অথচ অনেক দিন আগে ঈদুরটি মরে-পঁচে দুর্গন্ধ ছড়ালেও কিছুই টের পায়নি জিসান।

ক্লান্ত দেহটাকে বিছানায় এলিয়ে দিয়ে হাতের রিমোট দিয়ে টিভিটা অন করতেই চোখে পড়লো একটি রিয়েলিটি শো চলছে। উপস্থাপক দেশের উঠতি একজন নামকরা মডেলের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। মডেল তারকা নিজের ক্যারিয়ার, আদর্শ, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, তরুণ সমাজের সফল হওয়ার কৌশল সব বিষয় নিয়েই ভারী ভারী কথা বলছেন। হঠাৎ মডেল তারকার মুখের দিকে ভালো করে চেয়ে আৎকে উঠলো জিসান।

আরে, এই মেয়ের সাথেই তো একটু আগে আসিফের অফিসে পরিচয় হয়েছিল, 'পার্টি গার্ল'!

উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে মডেল তারকা বলতে শুরু করলেন, 'শ্যুটিং কিংবা রেকর্ডিং না থাকলে ঘড়ি ধরে ঠিক দশটায় শুয়ে পড়ি, ভোর ছয়টায় উঠে হালকা ব্যায়াম করি। ভোরে বাইরে হাঁটতে বের না হলেও ছাদে নিয়মিত হাঁটি। ভোরে নাস্তার পর এককাপ গ্রীণ টি, সাথে অবশ্যই বই থাকে। কোন প্রকার সফট ড্রিংক স্পর্শ করি না। এছাড়া মাদক ও এলকোহল থেকে আমি একশো হাত দূরে থাকি।'

ঘুম পাচ্ছে জিসানের। সারাদিনের দৌড়ঝাঁপে বেশ ক্লান্ত। ঢাকার সারাদিনের ধুলোবালি আর রোদের ঝলকানিতে কাহিল সে। ঘড়িতে রাত একটা বেঁজে তেইশ মিনিট। আসিফের পার্টি এখনো চলছে নিশ্চয়ই।

'কাল বের হবো, সাথে অবশ্যই সানগ্লাস থাকবে'।



ফটো ক্রেডিট,
গুগল।

চাইলে পড়তে পারেন-
আমার সবচেয়ে পঠিত, লাইক ও কমেন্ট প্রাপ্ত পোস্ট।
সবচেয়ে পঠিত প্রবন্ধ।
আলোচিত ফিচার 'দি লাঞ্চিয়ন'।
ব্রিটেনের প্রবাস জীবন- স্মৃতিকথা।
সবচেয়ে পঠিত গল্প।
সবচেয়ে লাইকপ্রাপ্ত গল্প।
ছবি ব্লগ (লন্ডনের ডায়েরি-১)।

মন্তব্য ৩৮ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৩৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:৩৩

রাকু হাসান বলেছেন: আগের গল্প থেকে ভিন্নতা পেলাম ভাইয়া । কৌতূহল শেষে এভাবে শেষ করবেন বুঝতে পারিনি

২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:২৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, রাকু ভাই। আসলে গল্পের শেষ অংশটাই মূল বিষয়টিকে রিপ্রেজেন্ট করেছে। জিসান আত্মউলব্দি করেছে; নিজেকে নিয়ে ভেবেছে। আসলে চলের পথে ঘটে কোন না কোন ঘটনা মানুষকে জীবনমুখী শিক্ষা দেয়, নতুন করে ভাবতে শেখায়। এটাই জীবন; এই জীবন থেকে মানুষ জীবনের সবচেয়ে সঠিক শিক্ষাটি নেয়।

২| ২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৮:৫৭

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সুন্দর পোস্ট। এবার তো কাউকে উৎসর্গ করলেন না। সোহানী আপু, সামু পাগলা আপু, ওমেরা আপু।

২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:৩১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হ্যা, আপনি ঠিকই বলেছেন সাজ্জাদ ভাই। আসলে কানাডায় থাকা কাউকে এ গল্পটি উৎসর্গ করলে ভাল হত। আমাদের অনেক ব্লগারই কানাডা প্রবাসী। তাই কানাডা প্রবাসী সামুর সকল ব্লগারকে গল্পটি উৎসর্গ করলাম।

৩| ২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৮:৫৮

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: অকারণে বার বার বেল চাপা, গাড়িতে অকারণে ( ভুলেও করা উচিত নয়) হর্ণ বাজানো বিরাট অভদ্রতা। আমি কখনো এটা করি না। আমাকে কেউ কেউ বেকুব বলে। আমি চিরকাল বেকুবই থাকতে চাই।

২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: "অকারণে বার বার বেল চাপা, গাড়িতে অকারণে ( ভুলেও করা উচিত নয়) হর্ণ বাজানো বিরাট অভদ্রতা। আমি কখনো এটা করি না। আমাকে কেউ কেউ বেকুব বলে। আমি চিরকাল বেকুবই থাকতে চাই।"...........

চমৎকার একটি বিষয় তুলে এনেছেন প্রিয় সাজ্জাদ ভাই। গল্পের শুরুতে আসা এ বিষয়টি খুব শিক্ষনীয়। তবে, অকারণে গাড়ির হর্ণ বাজোনো চরম অভদ্রতা। বিদেশে এগুলো মানুষ খুব মেনে চলে; তবে আমাদের দেশে যে যত বেশী জোরে প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে হর্ণ বাজাবে সে ততই ক্ষমতাবান।

৪| ২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:৪২

রাজীব নুর বলেছেন: ক্যাসি গেট না। হবে কলাপসিবল ।

২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:১৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব ভাই। আসলে অনেকে সংকেপে কলাপসিবল গেটকে কেসি গেট বলেন তাই এটা লেখেছি। তবে আপনি যেহেতু বলেছেন সেহেতু পুরো নামটাই দেব।

৫| ২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:৩১

জাতির বোঝা বলেছেন: সুন্দর পোস্ট।

২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই।

৬| ২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:৩৯

সিগন্যাস বলেছেন: এতো লম্বা গল্প কেম্নে পড়বো?

২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:৪৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: স্যরি, সিগন্যাল ভাই। আমার গল্পগুলো একটু লম্বা হয়। সময় লাগলেও পড়লে মজা পাবেন, ভাল লাগবে। কথায় আছে, কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। শুভ কামনা রইলো প্রিয় ভাইয়ের জন্য।

৭| ২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:৪৭

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: গল্পের ৩ টি অংশই ভালো লাগল। একটা কথা সত্যি ভাইয়া, অনেক বাবা মা আত্মীয় বা অন্যদের সামনে নিজের সন্তানদের সমালোচনা করেন বিষয়টি আসলেই ঠিক না। জিসান কেন সব জায়গায় দুর্গন্ধ পাচ্ছিল বুঝলাম না, তবে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ।

২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:০১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: শুভ সকাল, আপু। আসলে গল্পের তৃতীয় অংশটাই আসল। এখানে জিসানের আত্মউপলব্ধি হয়েছে।

"অনেক বাবা মা আত্মীয় বা অন্যদের সামনে নিজের সন্তানদের সমালোচনা করেন বিষয়টি আসলেই ঠিক না"........ যথার্থই বলেছেন আপনি; এমনটা করা বাবা-মায়ের উচিৎ না।

"জিসান কেন সব জায়গায় দুর্গন্ধ পাচ্ছিল বুঝলাম না, তবে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।"...... বিষয়টি গল্পের শেষ অংশে এসে স্পষ্ট হয়েছে; এজন্য একাধিক কারণ আছে। পাঠকরা গল্পটি নিয়ে গভীরভাবে ভাবলে এগুলো স্পষ্ট হবে। আশা করি, আপনিও বুঝতে পারবেন। এটি পাঠকদের ভাবনার উপর ছেড়ে দিয়েছি।

৮| ২৪ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৪৯

মোঃ খুরশীদ আলম বলেছেন: ঘন ঘন বেল চাপা, একটানা হর্ণ দেয়া কোন মতেই ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে না।
আবার কোথাও কোথাও দেখেছি দীর্ঘক্ষণ কলিং বেল পুশ করার পরেও গৃহস্থ দরজা খুলতে দেরী করে।
মনে হয়, আগন্তুক বিদায় দিতে পারলে বাঁচে।

২৪ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: শুভেচ্ছা নেবেন, খুরশীদ আলম ভাই।

"ঘন ঘন বেল চাপা, একটানা হর্ণ দেয়া কোন মতেই ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে না।
আবার কোথাও কোথাও দেখেছি দীর্ঘক্ষণ কলিং বেল পুশ করার পরেও গৃহস্থ দরজা খুলতে দেরী করে। মনে হয়, আগন্তুক বিদায় দিতে পারলে বাঁচে।".....

আসলে দরজা খুলতে দেরী হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে গাড়ির হর্ণটি অনেক সময় অকারণে বাজানো হয়; যা খুবই বিরক্তিকর। এটা অভদ্রতা। এই হর্ণের শব্দে রাস্তায় ব্যাপক শব্দ দূষণ হয়। আমাদের দেশের বেশিরভাগ গাড়িতে হাইড্রলিক হর্ণ নেই।

৯| ২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৬

অচেনা হৃদি বলেছেন: আহা, জিসান এতো অধৈর্য কেন ? আমি তো জানতাম জিসান নামের ছেলেরা খুব ধৈর্যশীল হয় । ;)

২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হুম, সব জিসান কী সমান!! তবে এ জিসান কিন্তু বেশ ভাল মানুষ; উচ্চশিক্ষিত নিপাট ভদ্রলোক। কানাডায় পিএইচডি করছে।

গল্পের পরের অংশটি এরকম হবে, "জিসান কয়েক বছর পর পিএইচডি করে আমেরিকার লসএঞ্জেলসে থিতু হয়; তবে এটা তার নিজের ইচ্ছায় নয় সুন্দরী বউয়ের একান্ত পছন্দে। বউয়ের আজীবনের স্বপ্ন ছিল লসএঞ্জেলসে বসতি করবে। পাশাপাশি দুই হালি বাচ্চার মা হবে। যাক, এখন জিসান চারটি ফুটফুটে বাচ্চার গর্বিত বাপ।

বউয়ের সাথে পরিচয় ব্লগিংয়ের সূত্র ধরে। প্রথমে হাই হ্যালো........ আলাপ..... ভাললাগা..... তারপর পরিনয়।

১০| ২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৪

অচেনা হৃদি বলেছেন: :) ওয়াও!!! জাস্ট ওয়াও!!!
এই হ্যাপি এন্ডিংটা হয়েই যাক ।
;)

২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:২০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ভাবছি পরের অংশটি নিয়ে আরেকটি গল্প লেখবো!! :( :(। তবে আমার পানি পড়া আর তাবিজে কিন্তু খুব তেজ আছে। যদি কারো গোপন কোন ইচ্ছা থাকে তাহলে নির্দিষ্ট হাদিয়া সহ যোগাযোগ করতে পারেন; সফলতার গ্যারান্টি শতভাগ। B-)

১১| ২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:২৮

অচেনা হৃদি বলেছেন: সময় মত পানি পড়া দিয়েন । ভালো হাদিয়া পাবেন । আপাতত হৃদির গল্প পড়ুন । হৃদি আজ প্রথমবারের মত গল্প পোস্ট করেছে । তার ব্লগে স্বাগতম । 8-|

২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:০৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: অলরেডি, ইয়া বড় একটি সমালোচনা দিয়ে আসলাম। পড়ে নির্ঘাত হার্ট এ্যাটাক হবে। B-)

১২| ২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:১৫

সিগন্যাস বলেছেন: পড়ে ফেললাম কাওসার ভাই।চমৎকার লাগলো।প্লাস তো না পড়েই আগেই দিয়ে গেছি।

২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: কেমন আছেন, ভাইজান? প্রিয় ভাইয়ের উৎসাহ আমাকে অনেক প্রেরণা দেয়। ভাল লেখতে অনুপ্রাণিত হই। ভাল থাকবেন সব সময়।

১৩| ২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৪

অচেনা হৃদি বলেছেন: আমার গল্পে ইয়া বড় সমালোচনা করেছেন তা দেখে প্রতিউত্তর অলরেডি দিয়েছি । সেখানে ছোট্ট একটি অভিযোগও আছে ।
ভাইয়া আপনি আমার লেখাতে ইয়া বড় সমালোচনা করেছেন দেখে তো হার্টফেল করিনি, বরং হার্টে ভালো ফিল করেছি । আপনি মন্তব্যে অল্প কথায় শেষ করে দিলে সেটা মানায় না । আমার মত নতুনরা আপনার কাছে বেশি বেশি আশা করে । ;)

২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: অর্ডার অর্ডার!! সত্যতা না পাওয়ায় দন্ডবিধি ৯৯৯(৭৪) দ্বারা অভিযোগটি খন্ডন করা হলো।

১৪| ২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৬

অর্থনীতিবিদ বলেছেন: জিসানের সময় মতোই আত্ম উপলব্ধি হয়েছে। তবে বিদেশ ফেরত সবাই কেন যেন নিজের দেশে এসে নাকে গন্ধ পায়। রাস্তার নোংরা, ময়লা দেখে শিউরে উঠে। অাসলে উন্নত দেশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মধ্যে থাকার পরে হঠাৎ করে নোংরা, ময়লার মধ্যে আসলে নাকে গন্ধ লাগাটা স্বাভাবিক।

২৪ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই। আসলে আমারা যদি কোন গন্ধে অভ্যস্থ হয়ে পড়ি তাহলে তা অনেক সময় নাকে লাগে না। জিসানের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। একজন ড্রাগ এডিক্ট/ধুমপায়ী নিজের শরীরের গন্ধ না পেলেও তার আশপাশের লোকজন ঠিকই অনুভব করে।

আসলে গল্পটিতপ আমি বলতে চেয়েছি, অন্যর বিষয়টি নিয়ে/সমস্যাটি নিয়ে/খারাপ দিকটি নিয়ে সিরিয়াস না হয়ে নিজেকে নিয়ে ভাবুন, নিজেদের সমস্যাগুলোকে নিয়ে ভাবুন এতে সংশোধন হওয়া যায়। জিসানের সবার শেষ উপলব্ধিটা তাকে ভাবতে বাধ্য করেছে।

আপনি ঠিকই বলেছেন, উন্নত দেশগুলো থেকে দেশে ফিরলে অনেক বাজে গন্ধ নাকে আসে; আর এর কারণগুলো অনুমিতই। অনেক ভাল লাগা ও শুভ কামনা আপনার জন্য।

১৫| ২৪ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:৫৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আজ সকালে ট্রেনে যেতে যেতে কমেন্টটি পোষ্ট করলে, রানিং ট্রেনে চাকাটি ঘুরছে তো ঘুরছে। কিছুপরে দেখলাম আন্তর্জাল পরিসেবাটাই নেই। কাজেই একই কমেন্ট করতে এখন আবার আসা।

প্রথমে নিলুফা আপুর বাসায় কলিংবেল বিভ্রাট, তিনমেয়ের সারাক্ষণ ফেবু,গুগুল, ইউটিউবে সময় কাটানো এবং একটা পচা গন্ধ তাড়া করা।
২ নম্বরেও আবার মতের সংঘাত। কানাডায় থেকেও আধুনিক না হতে পারা, স্বদেশী বন্ধু যেমন সুন্দর আধুনিক হয়েছেন লালজল সেবন করার মাধ্যমে। এখানেও সেই পচা গন্ধ যা একটুও শান্তি দিলোনা।
৩ নম্বরে এবার বাসায় ঢুকতেই আবার সেই কটু গন্ধ!! মনে পড়লো সেবার কানাডায় ঠিক এরকম একবার হয়েছিল। সেবার বন্ধুর প্রস্থানের পর আবিষ্কার করেছিলো আলমারির উপরেই একটি ইদুর মরে পড়ে রয়েছে। আজও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো।

শুভ কামনা প্রিয় কাওসার ভাইকে।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৪৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় পদাতিক চৌধুরী ভাই। এই পঁচা দুর্গন্ধটা আসলে আমাদের পঁচে যাওয়া সমাজ ও মূল্যবোধের বহঃপ্রকাশ। এখানে গল্পের দু'টি ঘটনা জিসানকে নিজেকে নিয়ে ভাবতে শেখায়; নতুন করে জীবনকে মূল্যায়ন করতে শেখায়।

অনেক ভাল লাগা প্রিয় ভাইয়ের জন্য। ট্রেন পরিসেবার বিভ্রাটের জন্য খারাপ লাগছে।

১৬| ২৪ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:০৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: এবারে কিন্তু নীল দর্পণের আদুরীর কথাটি বলতেই হয়, থু থু সাহেবের মুখে পেঁয়াজির গন্ধ !! থু থু।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৪৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হ্যা, ঠিকই বলেছেন ভাই; সাহেবের মুখে পেঁয়াজের গন্ধ।

১৭| ২৪ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:২০

মনিরা সুলতানা বলেছেন: এই ব্যাপার টা আসলেই দৃষ্টি তে লাগে,বাইড়ে র সবার সামনে বাচ্চাদের সমালোচনা অথবা আদিখ্যেতা ।

লেখায় ভালোলাগা।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৪৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় আপাকে গল্পটি পড়ে কমেন্ট করার জন্য। বাইরের কারো কাছে বাচ্চাদের সমালোচনা কিংবা আদিখ্যেতা কোনটিই উচিৎ নয়।

১৮| ২৬ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৫:২৯

সোহানী বলেছেন: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সুন্দর পোস্ট। এবার তো কাউকে উৎসর্গ করলেন না। সোহানী আপু, সামু পাগলা আপু, ওমেরা আপু।................... হাহাহাহাহাহা

কানাডা মানেই সোহানী অথবা সামু পাগলা আপু। আর সুইডেন মানে ওমেরা আপু।

খুব ভালো লাগলো খুব সংক্ষেপে অনেক বিষয় তুলনা করলেন। আসলে দেশে অনেকেরই পশ্চিমা দেশ সম্পর্কে কিছুটা ভুল ধারনা আছে। মুভি দেখে বা কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে যাওয়া আত্বীয় স্বজন দেখে সে ধারনা তৈরী হয়েছে। আমাদের দেশের অনেকই এ ভুল ধারনাকে পুজিঁ করে নিজেরা ভুল পথে পা দেয়। ........ তাই দরকার সঠিক ধারনার।

অনেক ভালো থাকেন।

২৭ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:২৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: স্যরি, আপু আপনার কমেন্টের নটিফিকেশন পাইনি তাই কমেন্টটি চোখে পড়েনি।

১৯| ২৭ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২১

উজ্জয়নী বলেছেন: সামাজিক অবক্ষয়ের পচা গন্ধ নিলুফা ম্যাডামের বাসায় এত তীব্র কেন?
গন্ধের রূপকটি খুব ভালো লাগল।

২৭ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:১৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: বাহ!! চমৎকার বলেছেন দিদি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.