নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত \'মানুষ\' হওয়ার প্রচেষ্টায় আছি। গল্পের \'বায়স্কোপ\' বইয়ের কারিগর।

কাওসার চৌধুরী

প্রবন্ধ ও ফিচার লেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাশাপাশি গল্প, অনুবাদ, কবিতা ও রম্য লেখি। আমি আশাবাদী মানুষ।

কাওসার চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

তুলসী বনের বাঘ (গল্প)

২৫ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৫:৩৪


১.
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর খাতা খুলে গভীর মনযোগে হিসাব নিয়ে বসেন সিরাজ তরফদার। তিনি বেশ গম্ভীর বদনে চোখে পাওয়ারের ভারী চশমা পরে সারা দিনের লাভ-লোকসানের খতিয়ান-রেওয়ামিলের ছক কষেন চুপিচুপি। বারান্দার এক পাশে ছোট একটি টেবিল, সাথে হাতল ভাঙা একটি চেয়ার; ঠিক সামনে বসার একটি কাঠের বেঞ্চি। লোকজন দেখা করতে আসলে এই বেঞ্চিতে বসে। সিরাজ তরফদার বারান্দার এ অংশটির নাম দিয়েছেন 'অফিস ঘর'। পানের ডিব্বা, পিকদানী আর সিগারেটের প্যাকেট সব সময় সাথে নিয়ে বসেন; গ্রাহক-বাহক আসলে সিগারেট দিয়ে আপ্যায়ন সারেন। একান্ত প্রয়োজন না হলে বউ-বাচ্চা, চাকর-বাকর, শালী-শাশুড়ী কেউ এ দিকটায় আসে না। তবে পোষা কুকুরটি প্রতিদিন তার কাজের সাক্ষী হয়, আলো আঁধারিতে বসে চোখ দু'টি গোল গোল করে মনিবকে সার্বক্ষণিক সময় পাহারা দেয়, মেজাজ-মর্জি বুঝার চেষ্টা করে। মনিবকে সাহস যোগানোর জন্য একটু পরপর ভদ্র ভাবে ডাক-খাক মারে।

সন্ধায় তরফদার সাহেব নিয়ম করে ঘন্টা তিনেক হিসাব মিলিয়ে উঠে পড়লেও আজ দেরি হচ্ছে। উঠার কোন নাম নেই। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গিন্নি সকিনা বেগম ভেতরের ঘর থেকে তাড়া দিলেন, 'মহাজন সাহেবের ব্যস্ততা বেড়ে গেল নাকি? হিসাব মেলাতে কী রাত-ভোর হবে?'

বউয়ের ইঙ্গিতপূর্ণ কথার শানে-নযুল বুঝেও না বুঝার ভান করে বাটা থেকে একখিলি পান মুখে গুজে দিতে দিতে সিরাজ তরফদার স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন, 'আর বলো না গিন্নি, আজকে ব্যবসার হিসাবে কোথায় যেন একটা গোলমাল দেখা দিয়েছে। দুই হাজার পাঁচশত টাকার ক্যাশ গড়মিল, মাথা নষ্টের জোগাড়, কেমনে কি করি?'

-- হক্কল দিন এমন একটা ভাব মারিয়া সাহেবি ভঙ্গিতে খাতা নিয়া বসো; ভাবখানা দেইখা মনে অয় আস্ত একটা ব্যাংক খুইলা বসেছো!
-- দেখো সকিনা বেগম, সঠিক হিসাব নিকাশ হলো ব্যবসার লক্ষী। কারবারে বেহিসাবি হলে ব্যবসা তো লাটে উঠবে, সাথে পরিবারশুদ্ধ সবাইকে না খেয়ে মরতে হবে।
-- কী বললা, ব্যবসা? এইটা তোমার ব্যবসা?
-- হো, ব্যবসা না তো কী? আমি টাকা দিয়ে টাকার কারবার করি; ব্যাংকগুলোও তাই করে।
-- তাইলে ''সিরাজ তরফদার ব্যাংক লিমিটেড'' নাম দিলেই তো পারো।
-- দেবো দেবো, কয়েকটা দিন একটু সবুর করো। ব্যবসাপাতি বড় হলেই একটা ব্যাংক দেব ভাবছি। এই ব্যাংকের ক্যাশিয়ার হিসেবে তোমাকেও একটি চাকরি দেব, কনফার্ম।
-- জীবনে নিশ্চয় বড় কোন পাপ করছিলাম; না হলে তোর মতো সুদখোরের সাথে বিয়া অয়?
রাগে অপমানে গজ গজ করে গলার শ্বাসনালি বেলুনের মতো ফুলিয়ে চেঁচিয়ে উত্তর দিলেন সকিনা বেগম; সাথে যোগ করলেন-
-- তোর জন্য সমাজে মুখ দেখাইতে পারি না। আত্মীয়-স্বজন ছিছি করে, একান্ত টেকায় না পড়লে বাপ-ভাই কেউ এ বাড়ি মুখী হয় না, মোল্লা-মুন্সীরা দাওয়াত-মিলাদে আসে না। বাপের বাড়ি গেলেও শান্তি নাই আমার, আপন-পর সবাই সুযোগ পাইলে কথা শুনায়। বিয়ের সময় তো শুনেছিলাম পাত্র বিরাট বড় আড়তদার। বড় মোকামে বসে কাম করে। আর এখন?
-- এই সংসার কিভাবে চলে খবর রাখো? ভাত-কাপড়, আরাম-আয়েশ সবই এই ব্যবসার ইন্টারেস্ট থেকে হয়।
-- ই-ন্টা-রে-স্ট?
তাচ্ছিল্যের সূরে প্রশ্ন করলেন সকিনা বেগম।
-- ব্যাংক যদি টাকা ধার দিয়ে ইন্টারেস্ট নিতে পারে, তাহলে আমি নিলে দোষটা কোথায়?
-- তোর ইন্টারেস্টের খেতা মারি। সারা জীবন জ্বালিয়ে আমার জীবনটা বিষিয়ে তুলেছিস তুই। এখন মোর মাইয়ার জীবনটাও শেষ করবে। দুই-চাইর বছর বাদে মেয়েকে বিয়া দিতে অইবো। এই সুদখোরের ছেরিকে কে বিয়া করবে শুনি? দুনিয়াতে এতো ব্যবসা থাকতে উনি খুইলা বসেছেন সুদের আড়তদারি! তোর ব্যবসা নিয়ে তুই থাক। এই সংসারে লাথি মারি। থাকবো না এই নরকে আর। কাইল সকালে তোর সংসার ছাইড়া দু-চোখ যেদিকে যায় চইলা যামু কইলাম।

বউয়ের মেজাজ বেশী গরম হলে সিরাজ তরফদার কথা না বাড়িয়ে চুপটি মেরে বসে থাকেন। আজও মনে হচ্ছে গিন্নির মাথায় রক্ত উঠেছে, হাই প্রেসারের ট্যাবলেট গিলতে ভুলে গেছে হয়তো! গিন্নির অতিরিক্ত রাগ উঠলে স্বামীর সাথে তুই তুকারী করেন। মাঝে মাঝে হাতও তুলেন সুদখোর হাজবেন্ডের উপর! মনে হয় ঔষধ-পথ্য, তেঁতুল-চালতায় কাজ হচ্ছে না ইদানিং!

'সবকিছুতেই শুধু ভেজাল আর ভেজাল।'

২.
তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় সিরাজ তরফদার। মেঝ ভাই মতিন তরফদার রাজনীতি করেন। দলটির জেলা কমিটির সম্পাদক তিনি। ছোট ভাই রুহুল তরফদার ঢাকায় সরকারি চাকরি করে। বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনে বাড়িতে বেড়াতে আসলে সবাই বড় ভাই সিরাজ তরফদারের ঘরেই উঠেন। বাপ-দাদার সম্পত্তি এখনো ভাগ-ভাটোয়ারা না হওয়ায় সম্পত্তি তিন ভাই সমানভাবে ভাগ করে ভোগ করেন।

মতিন তরফদার জেলা শহরে থাকেন বলে বাড়িতে আসাটা একটু বেশিই হয়। এছাড়া তিনি এলাকার হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। বাড়িতে আসলে নিজের জীপ নিয়ে আসেন, সাথে ড্রাইভার-চাটুকার থাকে। বেশ কয়েক বছর থেকে তিনি শহরে বসবাস করলেও মতির পেশা কী জানা নেই সিরাজ তরফদারের; কিন্তু চাল-চলনের দাপট আর গলার আওয়াজ শুনে মনে হয় টাকা পয়সা তার হাতের ময়লা। অনেক দিন জিজ্ঞেস করতে গিয়েও পারেন নাই, সংকোচে গলায় কথাটি আটকে গেছে সিরাজ তরফদারের। তার ছেলে-মেয়েরা শহরের নামকরা স্কুল-কলেজে পড়াশুনা করে। এলাকায়ও তার বেশ প্রভাব-প্রতিপত্তি। বিচার সালিশ হলে মতিন তরফদার ছাড়া কোন গতি নেই। বাড়িতে আসলে প্রচুর মানুষ দেখা করতে আসে, ভাব জমায়, তদবিরের তাবিজের হিস্যা দেয়! তোয়াজ করে, দাওয়াত খাওয়ায়।

সিরাজ তরফদার বাকি ভাইদের তুলনায় পড়ালেখাটা কম করেছেন। হঠাৎ বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় ছোট দুই ভাইকে মানুষ করার দায়িত্ব বর্তায় তার উপর। কোন মতে ম্যাট্রিক পাশ করে সংসারের হাল ধরেছিলেন বলে পড়ালেখাটা আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি তার।

সবার ছোট রুহুল তরফদারকেও এলাকার মানুষ খুব সম্মান করে। সবাই জানে তিনি ঢাকায় সচিবালয়ে চাকরি করেন, বেশ বড় অফিসার। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরা যেকোন সমস্যায় পড়লে তিনি আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা করেন। এজন্য এলাকার মানুষ তাকে নিয়ে খুব গর্ব করে। তবে সিরাজ তরফদার জানেন ছোট ভাই রুহুল তরফদার সচিবালয়ের একজন কেরানি মাত্র।

একবার ঢাকায় গিয়ে সিরাজ তরফদারের আক্ষেল গুড়ুম হওয়ার অবস্থা হয়েছিল গুলশানে তার বিলাসবহুল নিজস্ব ফ্ল্যাট দেখে। শুনেছেন ঢাকায় আরো তিন-তিনটি ফ্ল্যাট আছে তার! এয়ারপোর্টের সন্নিকটে ত্রিশ কাটা জমিও কিনেছে কিছুদিন আগে। প্রতিবারই ঢাকা থেকে বাড়িতে বিমানে আসা-যাওয়া করে।


ছোট দুই ভাই সব সময় পীড়াপীড়ি করে সিরাজ তরফদার যাতে সুদের কারবারটি ছেড়ে দেন। সাথে বউ সকিনা বেগমও কলকাঠি নাড়ে, দুই ভাইয়ের বউ-বাচ্চারাও একজোট। নিজের মেয়েটা তো আরেক ধাপ এগিয়ে, ইদানিং মায়ের প্ররোচনায় বাবার ত্রি সীমানায় আসে না। সবার এক কথা, এক দাবী; আর যাই করেন সুদের কারবার ছাড়তে হবে। এতে তাদের মানহানী হচ্ছে, সামাজিক স্ট্যাটাস নষ্ট হচ্ছে, ছেল-মেয়েদের ভবিষ্যৎ গোল্লায় যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

একদিন সন্ধ্যায় পারিবারিক আসরে মেঝ ভাই মতি সিরাজ তরফদারকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "ভাইজান, ছোটবেলা থেকে আপনি কোলে-পীটে করে আমাদের বড় করেছেন; লেখা-পড়া শিখিয়ে মানুষ করেছেন এজন্য আপনার কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। প্লীজ ভাইজান, এই কারবারটি বন্ধ করে দেন। সাথে রুহুল তরফদার যোগ করলেন, অন্য যেকোন ব্যবসা করতে যত টাকা লাগবে আমি দেব, আপনার সুদি ব্যবসার জন্য লোকে আমাদের মন্দ বলে; আড়ালে-আবডালে অনেক কথা শুনায়। এতে আমাদের বদনাম হয়।

সিরাজ তরফদার দু'জনের যুক্তি শুনে শান্ত গলায় উত্তর দিলেন, "দেখো, আমি সারা জীবন এই ব্যবসা করে এসেছি। অন্য কোন ব্যবসা বুঝি না। তাছাড়া আমিতো করো কোন ক্ষতি করছি না। কাউকে আমার কাছ থেকে টাকা নিতে বাধ্য করছি না। তাহলে সমস্যা কোথায়?"

মতিন তরফদার চেঁচিয়ে উঠে বললেন, "সমস্যা কোথায় তা ভালই জানেন আপনি। অত-শত বুঝি না আমরা, আপনি এ কারবার বন্ধ করতে হবে। এটাই শেষ কথা। মানুষ সুদখোরকে খুব ঘৃণা করে। এছাড়া ইসলামের দৃষ্টিতেও সুদ খাওয়া হারাম। আস্তাগফিরুল্লাহ। আপনাকে এক মাসের সময় দিলাম। আশা করি, কঠিন কোন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবেন না।"

কথাগুলো বলে রাগে ফুসফাস মেজাজে, হনহন করে দুই ভাই নিজেদের ঘরের দিকে পা বাড়ালো।

৩.
রাজনীতির পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ বাণিজ্যে মেঝ ভাই মতিন তরফদার বেশ টাকা কামিয়েছেন, শহরের ইয়াবা-ফেন্সিডিলের ভৌতিক কারবার তার ইশারায় চলে, সপ্তাহে দুই-চারটি সোনার চালানও বেনামে বিমানের যাত্রি হয়, দলীয় বিভিন্ন কমিটি-সমিতি বাণিজ্যের সম্মানীও নিয়মিত জোটে। সরকারী খাস জমি দখল এবং টেন্ডারবাজিতেও হাত পাকাচ্ছেন ইদানিং।

সিরাজ তরফদার ভাবেন, এগুলো কী তাহলে সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্ম সমর্থন করে? অনেকে তার এ অপকর্মগুলো দেখেও প্রতিবাদ করে না কেন? একজন মাদক চোরাচালানকারী কিভাবে একটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়? একজন দখলদার কোন নৈতিকতায় বিচার সালিশের মধ্যমনি হয়? সমাজের মানুষ তাকে এত তোয়াজ করে কেন?

সবচেয়ে ছোট ভাই রুহুল তরফদার একজন সামান্য কেরানির চাকরি করে কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হলো? এগুলো কী তার বেতন ভাতা দিয়ে সম্ভব? সিরাজ তরফদার জানেন, "গুলশানের ফ্ল্যাট বাড়িটা সে এক কোটি বাইশ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছে। যে বেতন পায় তা দিয়ে এই ফ্ল্যাটের ভাড়াও তো মেটানো সম্ভব না! এ এক অবিশ্বাস্য যাদুর ব্যবসা তার।

গত কোরবানির ঈদে দুই ভাই মিলে আড়াই লক্ষ টাকা খরছ করে তিনটি গরু কোরবানি দিয়েছে। এলাকায় অনেক সুনাম তাদের। দু'জন মিলে কয়েকশত পীস জাকাতের শাড়িও বন্টন করেছে। তবে সিরাজ তরফদার নিজে কখনো কোরবানি দেন না। তিনি জানেন, নিজের উপার্জনের সুদি টাকায় এই কোরবানি কবুল হবে না। এছাড়া এলাকার মানুষও সুদের ইন্টারেস্টে কেনা গরুর মাংস খাবে না বলেই তার বিশ্বাস।

সিরাজ তরফদার মনে মনে ভাবেন, এই সুদের কারবার করে তিনি কত টাকাই বা কামাই করেন? যা আয় হয় তা দিয়ে কোনমতে সংসার চলে। তবে ব্যবসায় একটি নীতিও আছে তার, ঋণের বোঝা নিয়ে কেউ মারা গেলে তা মওকুফ করে দেন। এলাকার গরীব কোন মেয়ের বিয়ে হলে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। স্কুল কলেজ পড়ুয়া গরীব ছেলে-মেয়েদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন।

ব্যাংকগুলো তো মানুষ মারা গেলেও প্রয়োজনে ভিটামাটি বিক্রি করে টাকা উদ্ধার করে। এছাড়া ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে জামানত লাগে। এনজিও গুলোও মানুষকে বিভিন্ন কায়দায় শোষণ করে। কিন্তু তিনি তো ব্যাংক/এনজিওদের চেয়ে অনেক ভাল ব্যাংক চালান।

যে বউ বাচ্চার জন্য এত কিছু করেন তাদের কাছে সিরাজ তরফদার অতি নিম্নশ্রেণীর একজন সুদখোর সমাজ বিরোধী মানব কীট। ছোট দুই ভাই তাদের বউ-বাচ্চার কাছে অতি আপনজন, হীরের টুকরো একখান পতি। আত্মীয়-পরিচিতদের কাছেও তাদের অনেক সম্মান-মর্যাদা।

ঘুষখোর ও মাদক ব্যবসায়ীরা কী সুদের কারবারীদের চেয়ে ভাল কাজ করছেন? সমাজে এর কোন বাজে প্রভাব পড়ছে না? সমাজ ও রাষ্ট্র কী তাহলে মুখোশধারীদের রক্ষাকবচ?

আচ্ছা, যারা ব্যাংকের মালিক হয় তারা এত টাকা কোথায় পায়? তাদের টাকার উৎস কী বৈধ? কোট টাই পরে ব্যাংক খুলে বসলেই সুদের নাম ইন্টারেস্ট হয়ে যায় কেন?

টেনে টুনে মেট্রিক পাশ করা সিরাজ তরফদারের কাছে এগুলো বড়ই কঠিন প্রশ্ন।

যারা প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে তাদেরকে তো সমাজ খারাপ চোখে দেখে না। যারা ব্যাংকের চার-পাঁচ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেও শাস্তির আওতায় আসে না তিনি কী তাদের চেয়েও খারাপ? ভাবতে থাকেন সিরাজ তরফদার। সমাজের উচু তলার মানুষরা যেহেতু আইন বানায়, দেশ চালায়, সমাজপতি হয়; তাহলে তাদের সুবিধা দিতেই কি এই আইন? এরাই ঠিক করে সঠিক আর বেঠিক কাজের সংজ্ঞা?

বারাক ওবামা কোট-টাই পরে তিন লক্ষ সিরিয়ান-ইরাকি মানুষ বোমা মেরে উড়িয়ে দিলে মরে যাওয়া মানুষগুলোর নামের সাথে 'সন্ত্রাসী' ট্যাগ লাগে। কিন্তু ওবামা মানুষগুলোকে খুণ করে সন্ত্রাসী হয় না, হয় বিশ্ব নেতা। জুটে শান্তিতে নোবেল। হয়ে উঠে বিশ্বশান্তির মাই-বাপ!

নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মাদ ইউনুছকে অনেকেই 'সুদখোর' বলতে শুনেছেন তিনি। জগৎ সংসারে একমাত্র পোষা কুকুরটি কোনদিন তাকে অসম্মান করেনি, নিমকহারামি করেনি, সব সময় তার পাশে থেকেছে, পাহারা দিয়েছে। অথচ ভাইয়েরা বাড়িতে আসলে ভুলেও কুকুরটি তাদের সংস্পর্শে যায় না। কুকুরটিকে তাড়িয়ে দেননি বলে পরিবারের ছোট-বড় সবার তিরস্কার জুটে প্রতিনিয়ত।

"কুকুর প্রজাতি হয়তো মানুষের চেয়ে বিচক্ষণ।"



ফটো ক্রেডিট,
গুগল।

চাইলে পড়তে পারেন-
আমার সবচেয়ে পঠিত, লাইক ও কমেন্ট প্রাপ্ত পোস্ট।
সবচেয়ে পঠিত প্রবন্ধ।
আলোচিত ফিচার 'দি লাঞ্চিয়ন'।
ব্রিটেনের প্রবাস জীবন- স্মৃতিকথা।
সবচেয়ে পঠিত গল্প।
সবচেয়ে লাইকপ্রাপ্ত গল্প।
ছবি ব্লগ (লন্ডনের ডায়েরি-১)।

মন্তব্য ৪১ টি রেটিং +১৬/-০

মন্তব্য (৪১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৫:৫১

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তুলসী বনের বাঘ।

২৫ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৬:৩৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: শুভ সকাল, প্রিয় সাজ্জাদ ভাই। আসলে ভন্ডামী আর মুখোশধারীদের আমি তুলসী বনের বাঘের সাথে তুলনা করেছি। কেউ রাজনীতির মুখোশ পরে, কেউ চাকরির মুখোশ পরে টাকার পাহাড় গড়ে, নিজেদের আখের গোছায়। এই টাকায় আবার হজ্ব করে, যাকাত দেয়, দামী গরু কোরবানী করে, দান খয়রাত করে সমাজসেবী হয়।

এরা মাথায় টুপি পরে কিন্তু মদের বোতলে নাক ডুবিয়ে থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তবুও সমাজে এদের অনেক সম্মান, পরিবার ও আত্মীয়দের কাছে তাদের বীরের মর্যদা।

বড় ভাই সুদি ব্যবসা করেন, এটাই সমাজের কাছে, পরিবারের কাছে বিরাট অপরাধ। কিন্তু বাকিরা সাধু!! ফকফকা সাধা চরিত্রের অধিকারী।

২| ২৫ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৬:৪৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: শুভ সকাল প্রিয় কাওসার ভাই। অত্যন্ত গুনি পরিবার তাহলে তরফদার পরিবার। বড় ভায়ের সুদের কারবার, বাকি দুজনের একজনের ইয়াবা ফিন্সিডিলের ব্যবসা, আর অপরজন সামান্য চাকুরে হলেও কোটি কোটি টাকার মালিক। তবে ছোটো দুই ভাই অবশ্য জাকাত ফেতরা সময়মত দেয়। গরিব মিসকিনদের প্রচুর দানকর্ম করে। সমাজে বেশ সুনাম আছে। হা হা হা, আর সুদখোর বড় ভাই,সে যে ওসব কিছু করেনা। সত্যিই তো এমন ভাইকে ব্যবসা না ছাড়াতে পাড়লে, পাড়ার মুরুব্বিদের সামনে যে পরিবারের সম্মান নষ্ট হতে বাধ্য। এখন দেখার বড় ভাই কোন পথে হাটেন। তবে অবোলা জন্তু কখনও বেইমানি করেনা, এটাই সিরাজ সাহেবের সান্ত্বনা ।

অনেক অনেক শুভ কামনা প্রিয় কাওসার ভাইকে।

২৫ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৬:৫৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: বাহ!! আমার সবচেয়ে ভাল লাগে প্রিয় এ বড় ভাইয়ের যতই ব্যস্থতা থাকুক মনযোগ দিয়ে গল্পগুলো পড়েন। এটা আমার জন্য বিশাল এক পাওয়া। এজন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা রইলো। আপনি গল্পটি কতটুকু মনযোগ দিয়ে পড়েছেন তা এই কমেন্ট পড়ে বুঝতে পারি।

আপনার কমেন্ট হলো, আমার গল্পের সার সংক্ষেপ।

"তবে অবোলা জন্তু কখনও বেইমানি করেনা, এটাই সিরাজ সাহেবের সান্ত্বনা।"........ কুকুরটি এ গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। যদিও খুব অল্প কথা বলা হয়েছে কুকুরটিকে নিয়ে। আপনি যথার্থই বলেছেন।

কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা জানা নেই। শুধু বলবো, আপনি এই অধমের হৃদয়ে চিরদিন থাকছেন স্যা।

শুভ সকাল।

৩| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:২২

চাঁদগাজী বলেছেন:


আমাদের দুষ্ট সমাজের খন্ডচিত্র

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:১৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আপনি গল্পটি পড়েছেন জেনে ভাল লাগলো। ঠিকই বলেছেন এটা আমাদের দুষ্টু সমাজের খন্ডচিত্র।

ধন্যবাদ, স্যার।

৪| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:৩২

সিগন্যাস বলেছেন: মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।একটু পরে আসছি দাঁড়ান

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:১৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আমার প্রিয় সিগন্যাল ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো।

৫| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: সিরাজ সাহেবের কুকুর টির নাম কি?
সিরাজ সাহেবের আসল ব্যবসা টা কি? সুদ খায় বুঝতে পেরেছি।
সকিনা তার স্বামীর গায়ে হাত তুলেন??!!!!
আমার শ্বশুড়ও সচিবালয়ে চাকরি করতেন।
আমার মরে সুদ খেলেও সিরাজ সাগেব ভালো লোক। সে মানুষকে নানান সাহায্য সহযোগিতা করে।
আমাদের দেশে দুষ্টলোকের অভাব নেই।

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:১২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: রাজীব ভাই, শুভেচ্ছা নেবেন।
আসলে কুকুরটির কোন নাম দেইনি; গল্পে তার সরব উপস্থিত কম। আর কুকুরটিকে নিয়ে আলাদা করে কোন বিষয় উঠে আসেনি। তবে, গল্পে কুকুরের চরিত্রটি ছোট হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
আসলে সিরাজ সাহেবদের পরিবারটি সুদের কারবারী। উনার বাবাও সুদখোর ছিলেন। বাকি দুই ভাইয়ের লেখাপড়ার খরছ এই সুদের লাভের টাকায় হয়েছে। এরা বড় হয়ে একেকজন শিক্ষিত চোর ও দালাল হয়েছে। এদের টাকার কোন অভাব নেই। এরা বাপ দাদার ঐতিহ্যকে অন্যভাবে টিকিয়ে রেখেছে। সিরাজ তরফদার এলাকার স্বীকৃত সুদখোর হলেও বাকী দুই ভাই বড় মাপের মুখোশধারী ভন্ড সাধু।

আপনার শ্বশুর সচিবালয়ে চাকরি করতেন? বাহ!! তবে আঙ্কেল নিশ্চয় অনেক ভাল মানুষ।

৬| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:৩৮

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: সামাজিক অসংগতির গল্প কথনে ভাললাগা :)

+++

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রিয় বিদ্রোহী ভাই। শুভ কামনা সব সময়।

৭| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:৪৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: হা হা হা। আপনি যে অনেক আগেই পাঠকের সর্বস্ব হরণ করেছেন স্যার। সময় ঠিকই সর্বদা হয়ে ওঠে না, প্রথমদিকে রোল নম্বর করার। তবুও ২৪/২৫ এ কমেন্ট করতে পেরেই খুশি। তবে চেষ্টা করি যাতে প্রথমদিকে কমেন্ট করতে পারি।

আর কৃতজ্ঞতা আমাকে???? না না প্রভু!! বরং আমরা ধন্য এমন একলব্যের ন্যায় গুরুজি পেয়ে। মাপ করবেন প্রভু যদি শিষ্যের উত্তরে সামান্যতম শিষ্টাচারের অভাব থেকে থাকে।

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৫৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আমি মোটে লেখকদের ধারে কাছে যাওয়ার মত যোগ্য নই। আপনি আমাকে ভালবেসে হয়তো উৎসাহ দেন। আমি কমেন্ট দেখে আসলে যতটুকু পারি পাঠকদের ফিডব্যক নেওয়ার চেষ্টা করি। আপনি, ব্লগিংয়ের শুরু থেকে আমার খুবই আপনজন। এত আপন হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে; সেগুলো বলবো না। শুধু এটুকু বলবো আপনার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে।

আপনি আমার গুণীজন, অগ্রজ। মুক্ত মনের একজন শালিক। মানবতাকে সব কিছুর উপরে রেখে জীনব-দর্শনে বিশ্বাস করেন। আপনি মানুষকে মূল্যায়ন করেন মানুষ হিসাবে, অন্য কোন পরিচয়ে নয়। এটাই হোক প্রতিটি মানুষের জীবন-দর্শন।

ভাল থাকবেন, ভাইজান।

৮| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:০৬

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: বাহ ভাইয়া, খুব ই বাস্তব একটি কথা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আমাদের সমাজ ই তো এমন যেখানে বড় বড় রাঘব বোয়াল গা ভাসিয়ে আরাম আর আনন্দে চলে, তাদের কোন দোষ বা বিচার হয়না । দোষ আর বিচার হয় শুধু মাত্র ছোট খাটো সিরাজ তরফদার এর মত মানুষগুলোর।

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৪৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: "আমাদের সমাজ ই তো এমন যেখানে বড় বড় রাঘব বোয়াল গা ভাসিয়ে আরাম আর আনন্দে চলে, তাদের কোন দোষ বা বিচার হয়না । দোষ আর বিচার হয় শুধু মাত্র ছোট খাটো সিরাজ তরফদার এর মত মানুষগুলোর।"......

দারুণ একটি কমেন্ট করেছেন আপু। আমাদের সমাজের মাথায় পঁচন ধরেছে। এজন্য বিবেক আর মনুষত্ব পঁচে গেছে। এদেশে যার যত বড় চেয়ার তার তত বেশি প্রভাব, অর্থবিত্ত। এদের জবাবদিহী করার মত কেউ নেই। এরাই ভন্ড সাধু সেজে কোটি জনতার মাথার উপর বসে হিসি করছে, আর খিল খিল করে হাসছে।

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৪৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: নতুন লেখা কই!! :(

৯| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:৪২

মোঃ খুরশীদ আলম বলেছেন: (১) দুর্নীতির ঐ আখরায় বসে জাহির করে জ্ঞান
আবার, কলম দিয়ে কামায় টাকা, ধরে সাধুর ভান
ওরা শিক্ষিত শয়তান, ওরা শিক্ষিত শয়তান।

ওরা হল দেশের লাগি মহামারির মতোন
ফাইলে কলম চালাইয়া করে ওরা নির্যাতন
ঘুষের টাকায় ওদের ভূড়ি, করেযে টান টান
ওরা শিক্ষিত শয়তান, ওরা শিক্ষিত শয়তান।

(২) যে যায় লংকায় সেই হয় হনুমান
কারে কি যে বলি ভাই, সকলে সমান।

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৪২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, খুরশিদ আলম ভাই।

(১) দুর্নীতির ঐ আখরায় বসে জাহির করে জ্ঞান
আবার, কলম দিয়ে কামায় টাকা, ধরে সাধুর ভান
ওরা শিক্ষিত শয়তান, ওরা শিক্ষিত শয়তান।........ চমৎকার একটি কবিতা। আমার গল্পের বিষয়বস্তুরর সাথে পুরোপুরি মিলে গেছে।

(২) যে যায় লংকায় সেই হয় হনুমান
কারে কি যে বলি ভাই, সকলে সমান।...... একদম ঠিক কথা।

১০| ২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০৭

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: @লেখক বলেছেন: নতুন লেখা কই!! :( ------ হাহাহাহা! =p~ আমার প্রিয় ভাই টার হল কি :(( আমার ব্লগ টা একবার ঘুরে আসার আমন্ত্রণ রইল ভাইয়া :P

২৫ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:১৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: =p~ আমার প্রিয় ভাই টার হল কি :(( আমার ব্লগ টা একবার ঘুরে আসার আমন্ত্রণ রইল ভাইয়া :P

তাহলে, ভুল সময়ে মনে হয় বলেছি :( :(। আগে টাইম লাইনটা চেক করা উচিৎ ছিল!!

১১| ২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:২৭

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: সুন্দর ।+

২৫ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, স্যার। কৃতজ্ঞতা রইলো।

১২| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৪

আনাতোলিয়া বলেছেন: অন্যের অন্যায় দিয়ে কি নিজের অন্যায় ঢাকা যায় ? সে চেস্টা ও করা উচিত না। অথচ আমরা সব সময় সেটাই করে আসছি।

২৫ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: শুভেচ্ছা নেবেন। ব্লগিংয়ে স্বাগতম। নিয়মিত ব্লগে সময় দেন; এতে পরিচিতি বাড়বে। আর যে লেখাগুলো ভাল লাগবে যেগুলোতে যুক্তিপূর্ণ কমেন্ট করবেন। আপনার লেখার হাত ভাল। আশা করি অল্প দিনে সেফ হবেন।

ব্লগিংয়ের খুঁটিনাটি জানতে এই লেখাটি পড়তে পারেন।

১৩| ২৫ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩১

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আমাদের সমাজের খুব কালো এক অধ্যায় তুলে এনেছেন লেখায়!

২৫ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আপা, শুভেচ্ছা নেবেন। ব্লগের যে কয়জন গুণী লেখকদের লেখা পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি আপনি তাদের মধ্যে অন্যতম। আপনি আমার অগ্রজ, গুণীজন। এজন্য আপনার মানসম্পন্ন লেখাগুলো পড়ে নিজের জানার ও বোঝার পরিধিটা বড় করার চেষ্টা করি।

গল্পটি মনযোগ দিয়ে পড়েছেন এজন্য ধন্যবাদ। আর লাইকের জন্য কৃতজ্ঞতাবোধ। ভাল থাকুন পরিবারের সবাইকে নিয়ে।

১৪| ২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:৪২

রাকু হাসান বলেছেন: উদয়মান শ্রদ্ধেয় লেখক !!
বরাবরের মত আবারও আলোচিত ব্লগে .! স্বাগতম.. গল্প নয় যেন সামাজিক চিত্রকল্প ..

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:১৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় রাকু হাসান ভাই। আপনি আমার লেখাগুলো পছন্দ করেন জেনে খুব ভাল লাগলো। আশীর্বাদ করবেন। অনেক শুভ কামনা প্রিয় ভাইয়ের জন্য।

১৫| ২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:২৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: কাওসার চৌধুরী ,




গল্পের ছলে বাস্তবের স্বরূপটিই তুলে ধরেছেন ।

সহব্লগার চাঁদগাজীর সাথে গলা মিলিয়ে বলতে হয় - আমাদের দুষ্ট সমাজের খন্ডচিত্র ।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:১০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, শ্রদ্ধেয় আহমেদ জী এস।
আপনার যেকোন কমেন্ট আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ভাল লেখতে তাগিদ ফিল করি। শুভ কামনা আপনার জন্য।

১৬| ২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:৩৩

বিষাদ সময় বলেছেন: অসঙ্গত বিষয়ের অসঙ্গতির পিছনের চিত্রটি চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন। ভাল লাগল গল্পটি।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:০৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: প্রিয় বিষাদ সময় ভাই, শুভেচ্ছা নেবেন। গল্পটি পড়ে ভাল লেগেছে জেনে খুব ভাল লাগলো। আমি আপনার লেখাগুলো পড়েছি। বেশ ভাল লেখেন আপনি। অনেক ভাল লাগা আর শুভ কামনা আপনার জন্য।

১৭| ২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি ভালো লিখেন।
এবং মন্তব্যের উত্তরও খুব সুন্দর করে দেন।

আমার শ্বশুড় একজন ১০০% সৎ মানুষ। ভালো মানুষ।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:০১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, রাজীব ভাই। আঙ্কেল ভাল মানুষ ছিলেন বলেই সুরভী ভাবীর মতো ভাল একজন স্ত্রী পেয়েছেন।

১৮| ২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:১৯

চঞ্চল হরিণী বলেছেন: খুব ভালো লাগলো গল্পটি। ভাবার মত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে আছে। সামাজিক অসঙ্গতির সাথে চরিত্রগুলোর টানাপড়েন আছে। দুষ্ট সমাজের খণ্ডচিত্র, সেটা ঠিক আছে কিন্তু টানাপড়েন গুলোর কোন সমাধান কি দেখা যাচ্ছে ? সিরাজ তরফদারের কারবারটা শুধুমাত্র ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ হয়ে ঘৃণিত হয়েছে। অথচ তার নৈতিক বিবেচনায় তিনি কারো ক্ষতি করছেন না এবং ব্যাবসাতেও খুব সৎ ও মানবিক। আমরা পাঠকরাও তার চরিত্র পাঠ বিবেচনায় অন্য কোন অনৈতিকতা দেখতে পাচ্ছিনা। যাকাত দেয়ার সামর্থ্য সবার থাকে না, তাই তিনি দেন না। আর কোরবানি কেন দেন না সেটা তো উল্লেখই করা আছে। অপরদিকে তাঁর দুই ভাই সামাজিকভাবে স্বীকৃত কাজ করছেন, কিন্তু তাদের কাজের সাথে যাপিত জীবনের অসঙ্গতি নিয়ে কোন যৌক্তিক চিন্তা সমাজের নেই, যেটা সমাজের অসঙ্গতি। শুধু সমাজ নয়, অন্দরমহলের নারীদেরও কোন প্রশ্ন নেই। এটা নারী চরিত্রগুলোর নৈতিক অবক্ষয় নয় কিন্তু নৈতিক অসঙ্গতি। বৌদ্ধিক দুর্বলতা । সিরাজ তরফদারের ভাইয়েরা যাকাত ফেতরা দিয়ে যে ধর্মীয় কাজ বা দান খয়রাত করছেন তাকে কি নিষ্কলুষ দান বলা যাবে ? চরিত্র পাঠ বিবেচনায় অতি অবশ্যই নয়। কেউ যদি বলে, দান গ্রহণ হবে কি-না আল্লাহর বিষয়, আপনি তো তাকে পাপ করতে দেখেননি, উত্তর- আমি না দেখলেও আরও অসংখ্য মানুষ নিশ্চয়ই দেখেছে যাদের শোষণ করে এতটা ধনী হওয়া যায়। আর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী না হলে একথা বোঝা মোটেই কষ্ট নয় যে, কোন পেশায় কত আয় হয় আর কত আয় দিয়ে কেমন জীবন যাপন করা যায়। সমাজের এই দুষ্ট চিত্র এবং অসঙ্গতিগুলো কাটানোর জন্য মানুষদের আরও অনেক বেশি যৌক্তিক চিন্তার চর্চা করা প্রয়োজন। ধন্যবাদ।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:৫৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আপা, প্রথমে কৃতজ্ঞতা জানাই এত সহন্দর একটি কমেন্ট করার জন্য।
"ভাবার মত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে আছে। সামাজিক অসঙ্গতির সাথে চরিত্রগুলোর টানাপড়েন আছে। দুষ্ট সমাজের খণ্ডচিত্র, সেটা ঠিক আছে কিন্তু টানাপড়েন গুলোর কোন সমাধান কি দেখা যাচ্ছে?"...........

হ্যা, গল্পটি সমাজের একটি দিককে উপস্থাপন করলেও এখানে সমাজের অনেক অসঙ্গতির চিত্র উঠে এসেছে। তবে এ গল্প ছোটখাটো অনেক বিষয় আছে যেগুলো গল্পের অলঙ্কার হিসাবে বিবেচিত। এসব চরিত্রগুলো ছোট হলে ভাবনার অনেক খোরাক আছে, আত্ম জিজ্ঞাসার অনেক সুযোগ আছে।

"সিরাজ তরফদারের কারবারটা শুধুমাত্র ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ হয়ে ঘৃণিত হয়েছে। অথচ তার নৈতিক বিবেচনায় তিনি কারো ক্ষতি করছেন না এবং ব্যাবসাতেও খুব সৎ ও মানবিক। আমরা পাঠকরাও তার চরিত্র পাঠ বিবেচনায় অন্য কোন অনৈতিকতা দেখতে পাচ্ছিনা। যাকাত দেয়ার সামর্থ্য সবার থাকে না, তাই তিনি দেন না। আর কোরবানি কেন দেন না সেটা তো উল্লেখই করা আছে। অপরদিকে তাঁর দুই ভাই সামাজিকভাবে স্বীকৃত কাজ করছেন, কিন্তু তাদের কাজের সাথে যাপিত জীবনের অসঙ্গতি নিয়ে কোন যৌক্তিক চিন্তা সমাজের নেই, যেটা সমাজের অসঙ্গতি।"...........

এটা গল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। আশা করি পাঠকরা বিষয়গুলো আপন মনে ভেবে উপসংহার পৌছিতে পারবেন। মুখোশের আড়ালের আসল মানুষদের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারবেন।

"শুধু সমাজ নয়, অন্দরমহলের নারীদেরও কোন প্রশ্ন নেই। এটা নারী চরিত্রগুলোর নৈতিক অবক্ষয় নয় কিন্তু নৈতিক অসঙ্গতি। বৌদ্ধিক দুর্বলতা।"..............

আপা এ অংশটি নিঃসন্দেহে গল্পের অন্যতম বিবেচ্য দিক। আমি বিষয়টি তুলে ধরে অন্দরমহলের বিবেকগুলোকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আপনি মনযোগ দিয়ে গল্পটি পড়েছেন বলে এ অংশটি দৃষ্টির আড়াল হয় নাই।

১৯| ২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৪২

উজ্জয়নী বলেছেন: পাকা লেখা, শেষ্টায় এক অসম্পুর্ন ভাব, তবে সেটাও মানিয়েছে, যেটা ভাবালো সেটা কে তুলসী বনের বাঘ? ভাইয়েরা? প্রবাদ হিসেবে ভাবলে সেটাই মনে হয়।

২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: দিদি, শুভেচ্ছা নেবেন। আমি কিন্তু আপনার লেখার নিয়মিত পাঠক।
তুলসী বনের বাঘ? আপনি ঠিকই ধরেছেন!! গুণী লেখকদের বেশী বলতে হয় না। শুভ কামনা দিদি মনির জন্য।

২০| ২৬ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪২

কথাকথিকেথিকথন বলেছেন:



বড় চোর ডাকাতরা সমাজ চালায়। তারা টাকা পয়সা দিয়ে পাপ মুছে! তাই তারাই মহামান্য।

বাস্তব ঘরনার গল্প। ভাল লেগেছে।

২৭ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:২৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: "বড় চোর ডাকাতরা সমাজ চালায়। তারা টাকা পয়সা দিয়ে পাপ মুছে! তাই তারাই মহামান্য।" .......... বাহ!! চমৎকার, সুন্দর একটি কমেন্ট।

অনেক ভাল লাগা প্রিয় লেখকের জন্য। ভাল থাকবেন সব সময়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.