নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত \'মানুষ\' হওয়ার প্রচেষ্টায় আছি। গল্পের \'বায়স্কোপ\' বইয়ের কারিগর।

কাওসার চৌধুরী

প্রবন্ধ ও ফিচার লেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাশাপাশি গল্প, অনুবাদ, কবিতা ও রম্য লেখি। আমি আশাবাদী মানুষ।

কাওসার চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

কৃষ্ণচূড়া (গল্প)

২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:১১


পৌষের শেষ সপ্তাহ। ঠান্ডাটা আর আগের মতো নেই, অনেকটা কমে গেছে। তারপরও ভোরের দিকে একটু কনকনে ঠান্ডা বাতাস বয়ে যায়। গতরাত থেকে হারুন সাহেবের গায়ে কিছুটা জ্বর, তবে তা মাত্রা ছড়ায়নি। এজন্য হয়তো ঠান্ডাটা একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় প্রতি বছর একটু-আধাটু শরীর খারাপ হলেও এন্টিবায়োটিক সুপারবাগ হয়ে উঠার সুযোগ নেই, ঔষধে অরুচি তার বহুদিনের। বলার মতো কঠিন কোন অসুখ বিসুখ কোনদিন হয়নি বলে রক্ষা! টুকটাক সর্দি-কাশি সারা বছর সাঙ্গ হলেও মাঝে মাঝে হঠাৎ করে বুকে তীব্র ব্যাথা আর নিদ্রাহীনতা ইদানিং ভোগাচ্ছে বেশ।

সখ করে দুই-একটা সিগারেটের ধূয়া মাঝে মাঝে উড়ালেও নিকোটিনের নেশা তাকে পেয়ে বসেনি কখনো। ছোটবেলা থেকে অন্তরমূখী স্বভাবের হওয়ায় বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাসটা আজও কম। জীবনের এই 'কম' হিসাবটা হয়তো তার সুখে থাকার একটি প্রধান কারণ। মানুষের চাহিদার ফর্দ ভাবনার জগতের সাথে মেলাতে গেলেই গন্ডগোল দেখা দেয়। কল্পিত ভাবনার সাথে নিজের হার্ট, মগজ আর বাস্তবতার সম্মিলন কখনো ঘটে না। গুণফলটা আমৃত্যু অমিলই থেকে যায়। মগজ আর কল্পিত অভিলাষ সমান্তরালে এগুলেও কোন কালেই তা একটি বিন্দুতে স্থির হয়নি। যারা জোর করে বৃত্ত আর কেন্দ্রকে একবিন্দুতে নিয়ে আসার বৃথা চেষ্টা করেন তাদের ট্রেন লাইনচ্যুত হয় বিনা নোটিশে।

প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙলে নিজ হাতে এককাপ কফি বানিয়ে বারান্দায় বসে সকালটা বেশ উপভোগ করেন হারুন সাহেব; আজও তার ব্যতিক্রম নয়। ঠান্ডা বেশি অনুভূত হওয়ায় আজ তিনি লম্বা একটি চাদর মুড়ি দিয়ে বসেছেন। ভোরে পূব আকাশে সূর্যি মামা জাগার আগে আলো-আধারিতে পাখিদের কিচির মিচির শব্দটা বেশ ভাল লাগে তার। বাসাটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে হলেও দুই তলার বারান্দার ঠিক সামনে কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া ও কাঁঠাল গাছ আছে বলে পরিবেশটা বেশ সুন্দর। উপর থেকে দেখলে ছোটখাট একটি বাগান মনে হয়। সামনের হাঁটু সমাম ওয়াল দিয়ে ঘেরা পাখির রাজ্যটাকে দেখলে প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। নাগরিক জীবনের শব্দ দূষণের করাল গ্রাসে পাখিদের মধুর কলরব সারাদিন শুনতে না পেলেও ভোরের দিকে বেশ শোনা যায়। ছোটবেলা যখন গ্রামে ছিলেন তখন কতশত রঙ আর বৈচিত্র্যময় পাখির দেখা মিলতো, পাখির কল-কাকলিতে মুখরিত হতো চারিদিক।

এখন আর সে দিনটি নেই। গ্রামে আগের মতো পাখির গুঞ্জন শুনা যায় না। বাড়িটি বড় একটি হাওরের কিনারে হওয়ায় প্রতি বছর শীতের সময় হাজার হাজার অতিথি পাখি আসতে দেখতেন। গত কয়েক বছর আগেও শীতের মৌসুমে কিছু পাখির সরব উপস্থিতি ছিলো। কী প্রাণবন্ত আর উচ্ছল এই পাখিগুলো! তাদের সুখানুভূতি আর উচ্ছাস আমাদের যৌবনকে হার মানায় সহজেই।

এখন পাখিরা আর অতিথি হয় না, 'অভিমানে'!

বিশ্বায়নের এ যুগে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও আচরণে অনেক পরিবর্তন এলেও পাখিদের কলরব আগের মত মধুর ও অকৃত্রিম মনে হয় হারুন সাহেবের কাছে। মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণী সহজে তাদের খোলস বদলায় না; যুগের পরিবর্তনের সাথে পশু-পাখিদের চাহিদা আর দৃষ্টিভঙ্গিতে কোন পরিবর্তন আসেনি; কিন্তু আধুনিক মানুষজন এখন নিজেকে পরিবর্তন করে রোবট হয়ে গেছে। এতে মানুষের চিন্তা-চেতনায় অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। মোড়ক বদলানোর এই বাঁধাহীন ঢেউ নদীর কলমি লতাকে বাঁচিয়ে রাখলেও দুই তীরের প্রাণীকূলের চামড়া সূর্যের তীব্র তাপদাহে মমি হয় হয়ে বেঁচে আছে।

এখন মানব দেহে হার্টের পরিবর্তে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে কৃত্রিম গিয়ার বক্স। এই পরিবর্তন মানুষ নিজে থেকেই করেছে, এজন্য দিন-মাস-বছর ব্যায় করছে অধৈর্য হয়ে। বলা যায়, রীতিমত প্রকৃতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উৎসব করে চলেছে এই খেলা। এতো উৎসবের আমেজেও প্রকৃতির রঙ আর অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি খুব একটা, তবে আচরণে কিছুটা হলে অসহিষ্ণুতা লক্ষনীয়। রূচিতে অরুচি এসেছে সে লক্ষণ যতসামান্যই।

আজ মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে হারুন সাহেবের। একটু নিরিবিলি, একাকি বসে যখন নিজের অস্তিত্বের সাথে কথোপকথন হয় তখন মায়ের মুখটি সবার আগে ভেসে উঠে। মাকে কখনো বলা হয়নি, 'মাগো, খুব ভালোবাসি তোমাকে'। হয়তো সত্যিকারের ভালোবাসার প্রকাশটি মুখে দেওয়া যায় না। মা-সন্তানের ভালোবাসা অকৃত্রিম আর মৌলিক। এটাকে ভাষায় প্রকাশ করার দরকার পড়ে না। সন্তানদের মুখ থেকে মায়েরাও এ কথাগুলো শুনতে উদগ্রীব নয়।

বিশ বছর হলো মা নেই।

তার মনে হয়, মানুষের ভালোবাসার আঁধারগুলো সংকুচিত কিংবা শুন্য হওয়ার সাথে সাথে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দেয়, অজানা আশংকা ভর করে মনের কোনায়। যা একটা সময় মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে। বাবা গত হয়েছেন তারও অনেক আগে। বয়স তখন সবে পাঁচ। অনেক চেষ্টা করেও বাবার স্মৃতি মনে আসে না তার।


মা অনেক কষ্টে তিন ভাই-বোনকে মানুষ করেছেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে নাস্তা বানাতেন। বয়সে সবার ছোট হওয়ায় বাকিদের চেয়ে হারুন সাহেব মায়ের আদর-স্নেহ বেশি পেয়েছেন। মায়ের মৃত্যুর সময় তার চাকরির বয়স মাত্র দু'বছর ছিল। কোনদিন মাকে কাঁদতে দেখেননি। শত অভাবের মাঝেও সারাক্ষণ মুখে হাসি লেগে থাকতো মায়ের। বাচ্চাদের কঠোর অনুশাসনে রাখার পক্ষপাতি তিনি ছিলেন না। এজন্য সন্তানরা সব সময় প্রতিবেশীদের চেয়ে তুলনায় বেশি স্বাধীনতা পেয়েছেন। একটি শিশুর আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠা এবং মুক্তচিন্তার চর্চা করার মানসিকতা গড়ে উঠতে যা সহায়ক ছিল।

মা প্রায়ই বলতেন, 'নিজের বিবেক থেকে যা ভালো মনে হবে তাই করবে, তোমাদের যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে।' যেদিন প্রথম বেতন পেয়ে মায়ের জন্য সোনালি পাড়ের আকাশি রঙের একটি শাড়ি কিনে এনেছিলেন সেদিন কেন শাড়ি কিনে শুধু শুধু পয়সাটা নষ্ট করলেন এ জন্য মায়ের মিষ্টি বকুনি খেতে হয়েছিল তাকে। প্রথমবারের মতো মায়ের চোখে অশ্রু দেখেছিলেন তিনি। তবে এ কান্না কষ্টের ছিল না, ছিল গর্বের। মায়ের অভিমানী মুখটি গর্বে আলোকিত হয়ে উঠেছিল।

ছোটবেলা শীতের সকালে বাড়ির পুকুর পাড়ে চাচাতো ভাই-বোনেরা মিলে বৃত্তের মতো গোল হয়ে আগুনে পোহাতেন তারা। এজন্য প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাঠে ফুটবল খেলা শেষে সবাই মিলে ধানি জমি থেকে খড়কুটো সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে আসতেন। সূর্যি মামা উঁকি দিলে ভোরের মিষ্টি রোদ হইচই করে গায়ে মাখতেন তারা। এখনকার মতো শীতের ভালো পোষাক গ্রামের মানুষের ছিলনা। হয়তো ঠান্ডাটাও তুলনামূলক ভাবে বেশি অনুভূত হতো তখন। এখনকার ছেলে-মেয়েরা কি শীতের সকালে এভাবে আগুনে, রোদে পোহায়? প্রতি বছর শীতের সময়ে কমিবেশি গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়া করলেও দৃশ্যটি হারুন সাহেবের তেমন একটা চোখে পড়েনি। গ্রামের ছেলেরা এখন আর ফুটবল খেলে না, ক্রিকেট-ই তাদের ধ্যান-জ্ঞান।

সরকারি চাকুরির সুবাদে দেশের অনেক জেলা/উপজেলায় চাকরি করতে হয়ছে হারুন সাহেবকে। সমাজ সেবা অফিসার তিনি। মনে পড়ে কত রকম মানুষের সাথে পরিচয় ছিল তার। চাকুরিতে অনেক ভালো অভিজ্ঞতার পাশাপাশি খারাপ অভিজ্ঞতা যে নেই তা কিন্তু নয়; তবে খারাপ স্মৃতি মনে রাখতে চান না তিনি। অপছন্দের মানুষদেরও ভুলে থাকতে চান। আক্ষেপ হয় প্রিয় মানুষগুলোর সাথে আর কোনদিন দেখা না হওয়ার শঙ্কায়।

তবে গত কয়েক বছর থেকে ফেইসবুকের কল্যাণে অনেকের সাথে যোগাযোগটা নিয়মিত হয়। মার্ক জুকারবার্গ ফেইসবুকটা আরো আগে আবিষ্কার করতে পারলো না? অভিযোগের সুরে আনমনে ভাবলেন তিনি। মনে পড়ে, কলেজ জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটি হারিয়ে গেছে জীবন থেকে। অনেক চেষ্টা করেও তার কোন খোঁজ নেই। কে জানে কোথায় আছে এখন। তখন ফেইসবুক থাকলে বন্ধুটি হয়তো জীবন থেকে হারিয়ে যেতো না।

ভোরের আলোর লাল গোলকটি ঘুমকাতুরে পূর্ব দিগন্তে ধীরে ধীরে পরিস্ফুটিত হচ্ছে। শীতের এ সময়ে রোদটা বেশ মিষ্টি লাগে। কয়েক বছর আগেও সকাল বেলা হকার পত্রিকা দিয়ে যেতো। খবরের কাগজের জন্য এই সময়টায় ছটফট করতেন তিনি। এখন ফেইসবুক/গুগলের কল্যাণে নেটে সব সময় দেশি-বিদেশী নিউজ পড়া হয়। স্যাটেলাইট টেলিভিশন থাকায় টিভিতে সংবাদও নিয়মিত দেখেন। বাংলাদেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর সংবাদ উপস্থাপন, সংবাদ বিশ্লেষণ তার ভাল লাগে। রাতে ঘুমানোর আগে নিয়ম করে টক'শো দেখেন। এগুলো তাকে বিনোদন দেয়। এসব অনুষ্ঠানে শুধু ভালো কথা বলা হয়? অনেক মিথ্যা চাপাবাজিও আছে। এজন্য তার পছন্দের কয়েকজনের অনুষ্ঠান বেশি দেখেন। বিটিভির জন্য দুঃখ হয় হারুন সাহেবের।

বেচারা 'বিটিভি'!

সকালে মাঝে মাঝে হারুন সাহেব পুরনো দিনের গান শুনেন। রবীন্দ্র সঙ্গিত তার বেশ ভাল লাগে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, লোপামূদ্রা মিত্র, রেজওয়ানা চৌধুরী বণ্যা, কিশোর কুমার, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবনী সেন তার প্রীয় শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। ছোট্ট মেয়েটার ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে তাই খুব আস্তে, অল্প ভলিউমে গান শুনেন। ছোটবেলা থেকে বইয়ের পোকা ছিলেন তিনি। এখনো নিয়মিত পছন্দের লেখকদের বই পড়েন। বাড়িতে ছোট্ট একটি লাইব্রেরিও আছে তার। একুশে বইমেলায় নিয়মিত যাওয়া হয়। এজন্য বইমেলার জন্য প্রতিবছর একটি ভালো বাজেটও থাকে। মনস্থির করলেন এবার সামিহাকে নিয়ে বইমেলায় যাবেন।


মেয়েটা কী এখনো ঘুমাচ্ছে? হঠাৎ খেয়াল হলো হারুন সাহেবের। সামিহার কথা বলা হয়নি আপনাদের, সামিহা তার আদরের একমাত্র মেয়ে। চার বছর হল মেয়েটি মা হারা। ব্লাড ক্যানসারে মা মারা যাওয়ার পর হারুন সাহেব আর বিয়ে করেননি। যদিও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা নতুন করে সংসার করতে হারুন সাহেবকে অনেক চাপাচাপি করেছিলেন, তারপরও নতুন করে সংসার তাকে টানেনি। মেয়েটিই তার আদরের ধন; সংসার-স্বপ্ন সবকিছু। মেয়েটি বাসা থেকে হাঁটা দূরত্বে একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। হারুন সাহেব ভাবলেন আজ স্কুল বন্ধ আরেকটু সময় ঘুমাক মেয়েটি। ছেলেটি এ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মেয়েটি আরো একা হয়ে গেছে।

হারুন সাহেবের বাসায় কোন কাজের মানুষ নেই। সহজ কথায়, রাখতে চাননি বলে নেই। সব কাজ নিজ হাতে করেতে পছন্দ করেন তিনি। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ধোয়া মোছা, ঘর সাজানো সব। মেয়ের স্কুল সাড়ে নয়টায়; তার আগেই তিনি রান্না শেষ করে মেয়েকে খাইয়ে রেডি করে ঠিক ন'টায় এক সাথে বাসা থেকে বের হন। স্কুল গেইটে মেয়েকে নামিয়ে দিয়ে সোজা অফিস। বিকালে মেয়েটি একা একা বাসায় ফিরে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করে খেয়ে নেয়। সন্ধ্যায় বাবা ফিরলে রাজ্যের সব গল্প হয় বাপ-মেয়ের। সামিহার সব রাগ, অভিমান বাবার সাথে। তিনিই তার পৃথিবী। মায়ের কথা খুব মনে পড়ে সামিহার। তবে বাবা নামক বটবৃক্ষের স্নেহ-ভালবাসা সব সময় ভুলিয়ে রাখে মেয়েটিকে।

সন্ধ্যায় সামিহা বাবাকে চা করে দেয় নিয়মিত। বারান্ধায় যে চেয়ারটিতে বাবা সকালে বসেন এটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখে; বাবার কফির পেয়ালাটিও। হারুন সাহেব নিজে মেয়ের পড়া দেখিয়ে দেন, এজন্য মেয়ের কোন গৃহশিক্ষক নেই। তার মা বেঁচে থাকতে তিনিই এ দিকটা বেশি খেয়াল করতেন। পিচ্ছি একটি মেয়ে, এতটুকু বয়সেও বাবার মনের ভাষা বুঝতে পারে। বাবার কষ্ট, একাকিত্বটা কিছুটা হলেও অনুভব করে।

মায়ের পছন্দেই বিয়ে করেছিলেন হারুন সাহেব। স্ত্রী ফারজানার বাড়ি একই উপজেলায়। বিএ পাশ। বেশ সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ছিলেন ফারজানা। একটু লাজুক প্রকৃতির হলেও আধুনিক মহিলা ছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোনদিন তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়নি। মনমালিন্য, মান-অভিমান যে এক্কেবারে হয়নি তা কিন্তু নয়। তবে কখনো তা সীমা অতিক্রম করেনি। তাদের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস ছিল অটুট। কর্কটরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও তিন বছর দুই মাস বেঁচে ছিলেন ফারজানা। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য শহরে কেনা চার ডিসিমেল জমি বিক্রি করে সিঙ্গাপুরেও নিয়ে গিয়েছিলেন। নিজের জমানো সব টাকা-পয়সা খরছ করেও বাঁচাতে পারেননি প্রিয়তমাকে। বউয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল পেনশনের টাকা দিয়ে শহরে নিজেদের একটি বাড়ি হবে। খোলা বারান্দা থাকবে। কত যে স্মৃতি একটার পর একটা আজ ভেসে উঠছে।

ফারজানার আকাঙ্খা কিংবা চাহিদা খুব একটা না থাকলেও শাড়ির প্রতি আলাদা টান ছিল। বিশেষ করে লাল, কমলা আর হলুদের সংমিশ্রণে তৈরী শাড়ি। হারুন সাহেবের হাতে টাকা আসলে বউয়ের জন্য একটি করে পছন্দসই শাড়ি কিনতেন। শাড়িতে উজ্জল শ্যাম বর্ণের ফারজানাকে দারুন মানাতো। বউয়ের এই সৌন্দর্য চুপিচুপি উপভোগ করলেও মুখ ফুটে কখনো বলা হয়নি। সুযোগ পেলেই বউকে' কৃষ্ণচূড়া' সুন্দরী বলে খেঁপাতেন!

হঠাৎ সামিহার ডাকে হারুন সাহেব চমকে উঠলেন। কখন যে মেয়েটি ঘুম থেকে উঠেছে খেয়াল নেই তার। মেয়ের জন্য সকালের নাস্তাটাও তৈরী করা হয়নি আজ। সামিহা ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মত আজও দৌড়ে এসে পেছন থেকে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। হারুন সাহেব চমকে উঠলেও মেয়ের স্পর্শে একটা ভালোলাগার অনুভূতি হলো। মোড় ঘুরিয়ে মেয়ের মুখোমুখি হতেই সামিহা বাবাকে সারপ্রাইজ দিতে বলে উঠলো; জানো বাবা, মা গতরাতে আমার জন্য এই শাড়িটা পাঠিয়েছেন, সাথে একটি রুপার গয়না, দু'টি কানের দূল আর মাথায় পরার একটি টিকলি। কেমন হলো? খুব সুন্দর! তাই না বাবা? আম্মু এগুলো তোমাকে দেখাতে বারণ করেছেন। কিন্তু আমি কি তোমাকে এই উপহারগুলো না দেখিয়ে থাকতে পারি, বলো? ফিসফিস করে বললো, মায়ের সাথে দেখা হলে কখনো বলো না, কেমন! বাবা, আজ বাজার করতে গেলে আমার জন্য একটি টিউব মেহেদী, একটি নেইল পলিশ আর দু'ডজন চুড়ি নিয়ে আসবে কিন্তু।

মনে পড়লো, গতরাত নিশিতে ফারজানার ব্যবহার্য কয়েকটি শাড়ি, কিছু গয়না, মেকাপ বক্স খোলে নাড়াচাড়া করতে করতে আবার গুছিয়ে রাখতে গিয়ে ভুলে একটি শাড়ি, একটি রুপার গয়না, দু'টি কানের দূল, একটি টিকলি আর একটি সোনার আংটি লকারে রেখে দিতে ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। খেয়াল করলেন, আংটিটা সামিহার বাম হাতের অনামিকায় চকচক করছে। কিন্তু সামিহার হাতের এই সোনালী ফ্রেমের ঘড়িটা আসলো কোথা থেকে?

আজ ২৪শে মাঘ। তবে প্রতিদিন বিশেষ এ দিনটি স্মৃতিপটে ভেসে বেড়ালেও আজ সত্যি সত্যি মাঘ মাসের চব্বিশ তারিখ। চার বছর আগে এ দিনটিতে ঠিক ভোরবেলায় সবাইকে কাঁদিয়ে ফারজানা চলে গিয়ছিলেন না ফেরার দেশে। না, কথাটি মেয়েকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রতি বছর দিনটিতে তিনি স্ত্রীর কবরের পাশে যান, কবরের আগাছা পরিষ্কার করেন, কবরে যত্ন করে রোপন করা কৃষ্ণচূড়া গাছটির পানে চেয়ে থাকেন। অনেক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে চুপচাপ দাঁড়িয়ে চোখ দু'টি বন্ধ করে কল্পনায় ফারজানার সাথে কতশত কথা বলেন। অভিমানে জমে থাকা মেঘের বরফ গলা নদী ভেসে উঠে চার দৃষ্টিকে একাকার করে মাটি, গাছ আর হাওয়া-বাতাসকে ফাঁকি দিয়ে।

আজ, অবশ্যই যাবেন। তবে আগের মতোই; একাকি, চুপিচুপি।



ফটো ক্রেডিট,
গুগল।

চাইলে পড়তে পারেন-
আমার সবচেয়ে পঠিত, লাইক ও কমেন্ট প্রাপ্ত পোস্ট।
সবচেয়ে পঠিত প্রবন্ধ।
আলোচিত ফিচার 'দি লাঞ্চিয়ন'।
ব্রিটেনের প্রবাস জীবন- স্মৃতিকথা।
সবচেয়ে পঠিত গল্প।
সবচেয়ে লাইকপ্রাপ্ত গল্প।
ছবি ব্লগ (লন্ডনের ডায়েরি-১)।

মন্তব্য ৩৯ টি রেটিং +১২/-০

মন্তব্য (৩৯) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৫:৩৬

সোহানী বলেছেন: লিখাটা কেমন যেন আত্ম উপলব্ধি মনে হচ্ছে।

ভালোলাগলো লিখাটা। ....................

২৬ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৫:৫৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: প্রথম কমেন্টে আমার প্রিয় আপুকে পেলাম; এজন্য আজ দিনটি ভাল যাবে নিশ্চিত। এই গল্পের হারুন সাহেবের ভাবনা আর স্মৃতির ঘোড়া দৌড়ানো সবই সকালে বেলা; আপনার কমেন্ট ও একই সময়ে।

আরেকটি মিল অবশ্যই আছে, একটু ভেবে বলুন তো!! :( :( :(

সবার শেষের ছবিটা একটু খেয়াল করে পর্যবেক্ষণ করুন উত্তরটি পেয়ে যাবেন, আপু। তবে বিষয়টি কাকতালীয়। B-)

২৬ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৬:০৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আর গল্পটি থার্ড পার্সনে লেখা; পাশাপাশি স্মৃতিচারণমূলক। এজন্য গল্পের বর্ণনাটি এভাবে হয়েছে; চরিত্রগুলো ও কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সাজিয়েছি।

২| ২৬ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৫:৩৬

সোহানী বলেছেন: ও মাই গড আমিই প্রথম কমেন্টকারী....... গুড জব সোহানী!!! কিপ ইট আপ!!!!!

২৬ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৬:০৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: : : ও মাই গড আমিই প্রথম কমেন্টকারী, গুড জব সোহানী : :

বিষয়টি এই হতভাগা :( ;) লেখকের জন্য অনেক সম্মানের। অনেক ভাল লাগা রইলো, আপু।

৩| ২৬ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৬:৫৫

সিগন্যাস বলেছেন: আহা মনে হচ্ছে আপনি হারুন সাহেবের জীবনী লিখেছেন।খুবই বাস্তব মনে হলো চরিত্রটাকে।লেখালেখীর ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা একটা প্রধান বিষয়।আপনি এই কাজে ভীষণ সফল।খুবই ভাল লাগলো গল্পটা পড়ে।হতভাগা হারুনের জন্য সমবেদনা রইল।আর সামিহাকে বলবেন মেহেদি দেয়া ব্রেনের ফাংশনকে দূর্বল করে দেয়।মস্তিষ্ক দুটি ভাগে বিভক্ত।আর এই দুই পার্টকে যুক্ত করেছে কর্পাস কেলোসাম।মেহেদি লাগালে শরীরে এক ধরনের হরমোন উৎপন্ন হয় যা এই কর্পাস খেলোসামকে দূর্বল করে দেয়।ফলে ব্রেনের দুই অংশও দূর্বল হয়ে যায়।তাই মেহেদি দেওয়া ভাল না বিশেষ করে বাংলাদেশের মেহিদি যেগুলো অযত্নে তৈরি করা হয়।ব্লগার শায়মা আপা অতিরিক্ত মেহিদি দিত।তাই তার ব্রেন উল্টাপাল্টা হয়ে যায়।ফলে সে নতুন পোষ্ট করতে পারছে না।

২৬ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৪৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় সিগন্যাস ভাই। গল্প লেখায় আমার নিজস্ব একটা স্টাইল আছে; বিশেষ করে গল্পের উপস্থাপনায় ও বক্তব্যে। চেষ্টা করি গল্পের চরিত্রগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে ফুটিয়ে তুলতে, যাতে পাঠকরা গল্পের কোন না বক্তব্য/চরিত্রের সাথে নিজের অস্থিত্বের মিল খুঁজে পান। কারণ, গল্পের চিত্রনাট্য তো এই সমাজ থেকেই নেওয়া।

"আর সামিহাকে বলবেন মেহেদি দেয়া ব্রেনের ফাংশনকে দূর্বল করে দেয়।মস্তিষ্ক দুটি ভাগে বিভক্ত।আর এই দুই পার্টকে যুক্ত করেছে কর্পাস কেলোসাম।মেহেদি লাগালে শরীরে এক ধরনের হরমোন উৎপন্ন হয় যা এই কর্পাস খেলোসামকে দূর্বল করে দেয়।ফলে ব্রেনের দুই অংশও দূর্বল হয়ে যায়।"............ বিষটি তো জানতাম না!!! হারুন সাহেবকে এক্কুনি বলছি মেয়েকে মেহেদীর টিউব কিনে না দিতে।

শুভ কামনা রইলো, প্রিয় ভাইয়ের জন্য।

৪| ২৬ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:৪২

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: Really a lovely story,sir.

২৬ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৫০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় সাজ্জাদ ভাই। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রবাস জীবনটি সুন্দর কাটুক এই প্রত্যাশা রইলো।

৫| ২৬ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:১৮

রাজীব নুর বলেছেন: হারুন সাহেব সরকারের কোন মন্ত্রালয়ে চাকরি করতেন?
বিটিভি কে অনেকে হিজড়া টিভি বলে।
গল্পের মূল বিষয়টা ধরতে পারলাম না।
হারুন সাহেবের মা বাবা ছোটবেলাতেই মারা গেছেন। স্ত্রী ও মারা গেছেন ক্যান্সারে।
একমাত্র মেয়ে আছে।
আমি জানতে চাচ্ছি লেখকের মূল ব্ক্তব্য কি? বিটিভি? নাকি হারুন সাহেবের একাকীত্ব?

২৬ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় রাজীব ভাই।
হারুন সাহেব সমাজ সেবা অফিসার; যা গল্পে উল্লেখ আছে। এজন্য বলা যায় তিনি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি করেন।

আর বিটিভির প্রসঙ্গটি হারুন সাহেবের টকশো দেখার প্রসঙ্গ থেকে এসেছে; তবে বিটিভি এ গল্পের কোন বিষয়বস্তু নয়।

এ গল্পে তিনটি প্রজন্মকে তুলে ধরা হয়েছে। একটু খেয়াল করলে দেখবেন, হারুন সাহেব শৈশবে বাবাকে হারান, মা অনেক কষ্ট করে তাদেরকে বড় করেছেন। এদিকে নিজের জীবনেও তিনি স্ত্রী হারা, আর তার মেয়েটি মা হারা। দেখুন তিনিটি প্রজন্মই কোন না না কোন প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেলেছে। তবুও জীবন থেমে থাকেনি, চলছে। আমাদের সমাজটাও এমন। এই সমাজে কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। জীবনের এ বাস্তবতা মেনে নিয়েই, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেই এগিয়ে যেতে হয়।

গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শেষের পাঠ। এখানে বুজতে পারা যায় তিনি মরে যাওয়া স্ত্রীকে কতটুকু গভীরভাবে ভালবাসতেন। আর নিজে কেন দ্বিতীয় বিয়ে করেন নাই তার কারণটি এখান থেকে জানা যায়।

এছাড়া গল্পে অসংখ্য ছোট খাটো বিষয় আছে যা গল্পের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সব বিষয় নিয়ে আমি লেখতে গেলে আরেকটু গল্প হয়ে যাবে। এগুলো পাঠকদের ভাবনার ইপর ছেড়ে দিলাম। আশা করি গভীর মনযোগ দিয়ে পড়লে আরো অনেক বিষয় উঠে আসবে।

ভাল থাকবেন।

৬| ২৬ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৯:৫২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: কথায় বলে, Man is the maker of his own fortune. ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে যদিবা, নিঃসঙ্গের ক্ষেত্রে একথা কীভাবে প্রযোজ্য। হারুন সাহেব শৈশবে বাবাকে হারিয়েছেন। তিনভাইবোনকে নিয়ে মা অনেক সংগ্রাম করে বড় করেছেন। আজ হারুন সাহেব প্রতিষ্ঠীত । কিন্তু , হায়রে সুখ!! ছোট্ট মেয়েকে রেখে স্ত্রী চলে গেলেন চির ঘুমের দেশে। ছোটবেলায় মা যেভাবে ওনাদের মানুষ করেছেন, আজ হারুন সাহেবকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। একমাত্র মেয়েকে আগলে একদিকে একাকীত্ব কাটানো অপরদিকে মেয়েকে মানুষ করা আপাতত হারুন সাহেবের প্রধান লক্ষ্য। যদি তার মধ্যেও ফেবু র দৌলতে কিছুটা একাকীত্ব কাটে বৌকি।

স্ত্রীর মৃত্যুদিনে তাই মাহারা কন্যার বায়না মিটিয়ে প্রিয়তমা স্ত্রীর কবরে কিছুটা সময় কাটিয়ে নিজের নিঃসঙ্গতাকে একান্তে নিভৃতে কাটানো ছাড়া অন্তর্মুখী মানুষটার আর যে কোনও উপায় নেই।


শুভ সকাল প্রিয় কাওসার ভাই। শুভ কামনা রইল।

২৬ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:২৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: বরাবরের মতো, চমৎকার রিভিউ প্রিয় ভাইয়ের কাছ থেকে। আপনার প্রতিটি বাক্য আমার গল্পকে চমৎকাভাবে উপস্থাপন করেছে।

"এ গল্পে তিনটি প্রজন্মকে তুলে ধরা হয়েছে। একটু খেয়াল করলে দেখবেন, হারুন সাহেব শৈশবে বাবাকে হারান, মা অনেক কষ্ট করে তাদেরকে বড় করেছেন। এদিকে নিজের জীবনেও তিনি স্ত্রী হারা, আর তার মেয়েটি মা হারা। দেখুন তিনিটি প্রজন্মই কোন না না কোন প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেলেছে। তবুও জীবন থেমে থাকেনি, চলছে। আমাদের সমাজটাও এমন। এই সমাজে কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। জীবনের এ বাস্তবতা মেনে নিয়েই, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেই এগিয়ে যেতে হয়।"....

"গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শেষের পাঠ। এখানে বুজতে পারা যায় তিনি মরে যাওয়া স্ত্রীকে কতটুকু গভীরভাবে ভালবাসতেন। আর নিজে কেন দ্বিতীয় বিয়ে করেন নাই তার কারণটি এখান থেকে জানা যায়।"....

অনেক কৃতজ্ঞতা প্রিয় ভাইয়ের জন্য। শুভ কামনা সব সময়।

৭| ২৬ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:০৫

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: গল্প টির কথা বলব না ভাইয়া :P তবে লেখা টা খুব ই ভালো লেগেছে, একদম মন ছুঁয়ে গেল আমার। সত্যি বলছি। হারুন সাহেবের স্মৃতিচারণ এর বর্ণনা গুলো অনেক ভালো লেগেছে। আমার মনের সাথে মিল আছে অনেক লেখায়। আপনার সব লেখাগুলোর মধ্যে আমার পছন্দের তালিকায় আপনার এই লেখাটি সবার আগে রইল এখন থেকে, এর আগে ছিল প্রাক্তন গল্প টি।

২৬ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৩১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: প্রিয় আপুমনির প্রতিটি কমেন্ট খুব মন ছুয়ে যাওয়ার মত। আপনি যে মনযোগ দিয়ে গল্পটি পড়েছেন তা কমেন্ট থেকে বুজতে পারা যায়।

"হারুন সাহেবের স্মৃতিচারণ এর বর্ণনা গুলো অনেক ভালো লেগেছে। আমার মনের সাথে মিল আছে অনেক লেখায়। আপনার সব লেখাগুলোর মধ্যে আমার পছন্দের তালিকায় আপনার এই লেখাটি সবার আগে রইল এখন থেকে, এর আগে ছিল প্রাক্তন গল্প টি।".........

গল্পটি আপনার পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে জেনে ভাল লাগলো। শুভ কামনা সব সময় আপুর জন্য। ভাল থাকবেন।

৮| ২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:০২

অচেনা হৃদি বলেছেন: জনাব হারুন কি আবার বিয়ে করতে চান ? পাত্রী আছে কিন্তু ! ;)

২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:১৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হা.... হা.... B-)
পাত্রীকে বলবেন লেখকের সাথে যোগাযোগ করতে। হারুন সাহেব লেখকের নিকটাত্মীয়। ঘটকালি করতে আপত্তি নেই। :-B

৯| ২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৩:১৫

হাসান জাকির ৭১৭১ বলেছেন: চমৎকার বর্ণনা!
ভাল লাগল ভাই।

২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রিয় হাসান জাকির ভাই।

১০| ২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৫

উজ্জয়নী বলেছেন: পাখিরা আর আসে না -অভিমানে, কি বাস্তব

২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হুম!! এখন পাখিরা আর অতিথি হয় না, অভিমান!! এই ছোট্ট অথচ ইমপোর্টেন্ট পাঞ্চটি হয়তো অনেক পাঠক খেয়াল করেন নাই। এই লাইনটি একটি বড় গল্পের সমান চরিত্র ধারণ করে।

আপনার জুহুরি চোখে বিষয়টি এড়িয়ে যায় নাই। আপনি যে 'জাত' লেখক তা কমেন্ট পড়েই বুজতে পারি। দিদিমনির জন্য শুভ কামনা রইলো।

১১| ২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৫

কাছের-মানুষ বলেছেন: একজন মানুষের একাকিত্বের কাহিনী গল্পে ফুটিয়ে ধরেছেন।
গল্পে সাবলিলতা লক্ষণীয় ছিল, একটু সমালোচনা করব গল্পটা অনেকটা লিনিয়ারলি বয়ে চলেছে, কোন নাটকিয়তা ছিল না। আপনার লেখার হাত আছে লিখতে থাকুন।

২৬ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:০৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: শুভেচ্ছা নেবেন, প্রিয় লেখক। আমি কিন্তু আপনার লেখার নিয়মিত পাঠক। হয়তো সব সময় কমেন্ট করা হয় না, তবে লেখাগুলো মনযোগ দিয়ে পড়ি।

এবার গল্পের বিষয়ে আসি; গল্পটি একজন মধ্যবয়স্ক মানুষের স্মৃতিচারণমমূলক। এজন্য বাড়তি তেমন চরিত্র আসেনি।
"এ গল্পে তিনটি প্রজন্মকে তুলে ধরা হয়েছে। একটু খেয়াল করলে দেখবেন, হারুন সাহেব শৈশবে বাবাকে হারান, মা অনেক কষ্ট করে তাদেরকে বড় করেছেন। এদিকে নিজের জীবনেও তিনি স্ত্রী হারা, আর তার মেয়েটি মা হারা। দেখুন তিনিটি প্রজন্মই কোন না না কোন প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেলেছে। তবুও জীবন থেমে থাকেনি, চলছে। আমাদের সমাজটাও এমন। এই সমাজে কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। জীবনের এ বাস্তবতা মেনে নিয়েই, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেই এগিয়ে যেতে হয়।"

এজন্য গল্পটিতে আর নতুন কোন চরিত্র আসার সুযোগ নেই; তবে বড় গল্প বা উপন্যাস হলে সে সুযোগটা ছিল। তবে পারিপার্শ্বিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে অথচ জোরালো ভাবে উঠে এসেছে এ গল্পে। তবে নাটকীয়তা বা টুইস্ট কম ছিল।

১২| ২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:৩১

নাজিম সৌরভ বলেছেন: গল্পের হারুন সাহেবের মত আমি এক লোককে চিনি। বেচারার স্ত্রী মারা যাবার পর আর বিয়ে করেননি। ছেলে মেয়েকে মানুষ করার কাজেই বেশি মনযোগী ছিলেন। তবে শেষ বয়সে উনি সেবা শুশ্রূষা পাননি। স্ত্রী থাকলে অন্তত স্ত্রীর সেবাটুকু পেতেন।
কাউসার ভাই, আপনার গল্পের হারুন সাহেব যদি সত্যি কোন ব্যক্তি হয়ে থাকেন তবে উনাকে শেষ বয়সের জন্য সতর্ক করে দিন।
সব মিলিয়ে গল্পটি ভালোই।

২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:৫৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: "কাউসার ভাই, আপনার গল্পের হারুন সাহেব যদি সত্যি কোন ব্যক্তি হয়ে থাকেন তবে উনাকে শেষ বয়সের জন্য সতর্ক করে দিন।"..........

একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তবে গল্পের হারুন সাহেব একটি কল্পিত চরিত্র। আমার পরিচিত কেউ না; পরিচিত হলে অবশ্যই কথাটি বলতাম।

ধন্যবাদ, প্রিয় নাজিম সৌরভ ভাই। শুভ কামনা রইলো।

১৩| ২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:৫২

মনিরা সুলতানা বলেছেন: যত্নে গড়া চরিত্র !!
ভালোলেগেছে লেখা ।

২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:৪১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আপা, শুভেচ্ছা রইলো। চেষ্টা করি গল্পের কাল্পনিক চরিত্রগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে; জানি না কতটুকু পারি। তবে প্রতিটি গল্পের ভাবনায় এবং চরিত্র গঠনে অনেক সময় ব্যয় করি।

গল্পগুলো কাল্পনিক হলেও সমাজের কোন না কোন অংশের অথবা কোন না কোন মানুষের জীবনকে রিপ্রেজেন্ট করে।

প্রবাস জীবনটা সুন্দর হোক, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভাল থাকুন সব সময়।

১৪| ২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:৫৯

সম্রাট ইজ বেস্ট বলেছেন: আপনার নিজেরই আত্মজীবনী না তো? আমার কাছে কেন যেন হারুন সাহেবের স্থানে আপনাকেই কল্পনা করতে ভালো লাগল। খুব সুন্দর করে লিখেছেন গল্পটা! প্লাস দিলাম।

২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:৪৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: সম্রাট ভাই কেমন আছেন?
গল্পটি কী আমার আত্মজীবনী? .... :( :( ভাবতে হবে।
নাহ, লেখক এখনো ব্যাচেলর; লেখকের আম্মা এখনও বেঁচে আছেন সুস্থভাবে। তবে বাবা বেঁচে নেই। তবে লেখকের স্ত্রী নেই বলে হারানোর কিছু নেই। আর হারুন সাহেব তো মধ্যবয়স্ক, কিন্তু লেখক অর্ধবয়স্ক!!

না, লেখকের সাথে হারুন সাহেবের অনেক অমিল। B-) B-)

অনেক ভাল লাগা প্রিয় ভাইয়ের জন্য।

১৫| ২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:০১

সম্রাট ইজ বেস্ট বলেছেন: আর হারুন সাহেব তো মধ্যবয়স্ক, কিন্তু লেখক অর্ধবয়স্ক!!

হা হা হা। মধ্যবয়স্ক বুঝলাম কিন্তু অর্ধবয়স্ক বুঝলাম না। ;)

না, আপনার আত্মজীবনী বলে ভাবিনি কিন্তু আপনার নিজের অতীতের ছায়া মনে হয় গল্পে পড়েছে। তাই ওভাবে বলা।
ভালো থাকুন আর আরও গল্প লিখুন। শুভকামনা!

২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:৪৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: অর্ধবয়স্ক মানে মধ্যবয়স্কের অর্ধেক।
এই বয়সটা ২৫-৩৫ এর মধ্যে। হা....... হা...... হা.....!!!
আসলে কমেন্টে আপনার মতো আমিও মজা করেছি।

১৬| ২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:৫৯

পবন সরকার বলেছেন: হারুন সাহেবকে নিয়ে লেখা গল্প খুব ভালো লাগল। ধন্যবাদ

২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:০৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় পবন সরকার ভাই।

১৭| ২৬ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:৪২

সোহানী বলেছেন: হাঁ এটা কিন্তু আমি খেয়াল করেছি কিন্তু ভাবলাম গুগুল মামাইতো আমার সহ অনেকেরই পিকচারের ভরসা তাই হয়তো কাকতলীয়!!!!.........

অাসলে এ একই ভাবনা কিন্তু প্রত্যেকের........

২৭ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৫৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আপু, আপনার প্রফাইল পিকটা দারুণ রুমান্টিক লাগে; আমার খুব প্রিয়। তাই গুগলে যখন সিরাজ সাহেবের গত হওয়া ভালবাসার মানুষটির জন্য পরীর মতো, রুপকথার রাজ্যে বসবাস করছে এমন একটি ছবি খুঁজছিলাম, তখন কাকতালীয়ভাবে এ ছবিটা পেলাম।

১৮| ২৭ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৪০

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: গল্পটি ভাল লাগল।

২৭ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, সুজন ভাই।

১৯| ৩০ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১১

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: অনেক যত্নে লেখা।চমৎকার লেখা উপহার দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

৩০ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:১৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রিয় সৌরভ ভাই। গল্প পাঠে ভাল লেগেছে জেনে প্রীত হলাম। অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.