নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত \'মানুষ\' হওয়ার প্রচেষ্টায় আছি। গল্পের \'বায়স্কোপ\' বইয়ের কারিগর।

কাওসার চৌধুরী

প্রবন্ধ ও ফিচার লেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাশাপাশি গল্প, অনুবাদ, কবিতা ও রম্য লেখি। আমি আশাবাদী মানুষ।

কাওসার চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

তিনশুন্যে এক\'শো (গল্প/গদ্য)

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৩৬


মানুষ ঠেকে শেখে, শেখেও ঠকে! আবার ঠেকা এবং ঠকা এক বিষয় নয়। 'চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে' ঠকে শেখা হলে ধরা পড়তে গিয়ে বেঁচে যাওয়া হলো ঠেকে শেখা। জগৎ সংসারে ঠেকে শেখা লোকজনের পাল্লা যখন ভারী হয় তখন ঠকে শেখাদের পাল্লার ওজন কমতে থাকে। কিন্তু যারা ঠেকে-ঠকে কখনো শেখেনি, তারা? সম্ভবত অতিমানব (বাঙালি) হয়! সিদল চোরের ভয়ে মানুষ যখন কম্পমান হয়, তখন ডাকাতের কথা শুনলেই জ্ঞান হারায়। জ্ঞান আর জ্ঞানী কী এক? আচ্ছা কোট-টাই পরা চোর কখনো দেখেছেন? আরে, কোট-টাই পরে কেউ চোর হয় নাকি? তবে ডাকাত বলতে দ্বিধা নেই।

'লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স'-এর ছাত্র সাইমন। গত তিন বছরে এমন কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে যা দেশে থাকতে গত পঁচিশ বছরে হয়নি। ক্যাপিটালিজমের তীর্থভূমিতে সাইমন এখন একা চলতে শিখেছে। সে এখন রান্না করতে পারে, ম্যাকডুনাল্ডে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটানা আট ঘন্টা কাজ করতে পারে, ভালো ইংরেজি বলতে পারে, ফাস্ট ফুড খেতে পারে, পশ্চিমাদের মতো করে সার্ট-প্যান্ট-কোট-টাই-ট্রেইনার পরতে পারে। আচরণ ও কথাবার্তায়ও পরিবর্তন লক্ষনীয়। এখন 'হ্যালো ম্যান' নয় 'হ্যালো গাইজ' বলতে শিখেছে। তবে দেশে বাবা-মাকে পার্ট টাইম কাজের বিষয়ে কিছুই বলেনি। কোটিপতি বাবা ছেলেকে এমন 'কামলা' খাটছে শুনলে মেনে নিতে পারবেন না।

তবে একটু লাজুক আর অন্তর্মুখী স্বভাবের হওয়ায় প্রথম প্রথম ক্লাসের কেউ পাত্তা দিতে না চাইলেও যেচে গিয়ে পরিচিত হতে একটু আড়ষ্টতা থাকায় বলার মতো বন্ধু-বান্ধব জোটেনি খুব একটা। সম্পর্কগুলো 'হাই-হ্যালো' আর 'হাই-গাই'-তে আটকে ছিল। দৌড় ছিল 'ইউনিভার্সিটি-ম্যাকডুনাল্ড-মেসবাড়ি' পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। তবে গত কয়েক মাস থেকে বেশ ভালো তিনজন বন্ধু জুটেছে সাইমনের। পড়াশুনা আর কাজের ফাঁকে চারজন মিলে আড্ডা দেয় সময় জুটলেই। চারটি দেশ-চারটি সংস্কৃতি-চারটি ভাষা-চারটি গড়ন-চারটি কালার একাকার হয়ে গেছে মিশে গেছে হৃদয়ের রঙ এক হওয়াতে।

পেরুর মেয়ে হেল্ডা, নামিবিয়ান জাস্টিন আর তৃতীয়জন স্থানীয় এ্যালিয়ট। এদের মধ্যে জাস্টিন সবচেয়ে মজার চরিত্র। সারাক্ষণ সবাইকে মাতিয়ে রাখতে তার অসম্ভব স্ট্যামিনা আছে। কথা বলে বেশ উচ্চস্বরে। তার বলার ধরণ আর নাচানাচি সবাইকে আকৃষ্ট করে। পোষাক যেন সঙ সাজে! কখনো প্যান্টের সাথে পাঞ্জাবীর মতো দেখতে কালো ফতুয়া, সাথে উঁচু বুট জুতা। আবার কখনো সার্টের মতো দেখতে বিভিন্ন কালার সংমিশ্রণে সুতি কুর্তা। ক্লাসের ফাঁকে সময় পেলেই সারাক্ষণ আইপডে গান শুনে, সাথে নিজেও গায়। কানে থাকে বড় হেড ফোন। নামিবিয়ান মিউজিক তার খুব প্রিয়, সাথে আমেরিকান পপ।

হেল্ডা খুব মেধাবী আর মিশুক। খুব ভালো ইংরেজি বলতে পারে। জোরাজুরি করলে মাঝে মাঝে সবাইকে স্পেনিশ শেখায়। সব সময় আধুনিক পোষাক পরলেও সময়-সুযোগে পেরুর ট্রেডিশনাল ড্রেস পরে। প্রতিবছর 'নটিংহিল কার্নিভালে' পেরুর একটি কালচারাল গ্রুপের সাথে পারফর্ম করে। দেখতে একটু বেঁটে, তবে খুব সুন্দরী আর কর্মঠ। ইউনিভার্সিটিতে ক্লাসের পর সোসাল সার্ভিসে 'কেয়ারিং' কাজ করে।

আর এ্যালিয়ট বেশ চুপচাপ, তবে দারুন বুদ্ধিমান। হালকা পাতলা রোগা চেহারা। অন্যান্য ইংলিশ যুবকদের মতো পার্টি, ক্লাব আর হইহুল্লোড় তেমন পছন্দ নয়। সময় পেলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরে। ছোটবেলা বাবার সাথে মাছ শিকারে নিয়মিত যেত বলে অভ্যাসটি মজ্জাগত। বাড়ি ইংল্যান্ডের উত্তরের জনপদ ডারহামে। থাকে পশ্চিম লন্ডনের হোয়াইট সিটিতে।

ক্লাসের ফাঁকে সময় পেলেই চারজন দল বেঁধে পাশের কভেন্ট গার্ডেনের খোলা আকাশের নীচে চেয়ারে বসে আড্ডা মারে, চা-কফি খায়, কখনো অন্য দু'চারজন বন্ধু এসে জোটে। ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের খুব কাছাকাছি হওয়ায় কভেন্ট গার্ডেন বিকালে আড্ডা দেওয়ার উপযুক্ত স্থান হয়ে উঠে। সন্ধায় এখানকার বিখ্যাট স্ট্রীট সার্কাস দেখে। চার্লি চ্যাপলিন সার্কাসটি তাদের সবচেয়ে প্রিয়। কখনো কখনো উইকএন্ডে চারজন মিলে এখানকার বিখ্যাত 'রয়েল অপেরা হাউসে' অপেরা দেখতে যায়।

একদিন কথা প্রসঙ্গে চারজনই সিদ্ধান্ত নিল, সবাই যার যার দেশের গল্প বলবে। চারটি দেশের চারজন একসাথে ঘুরাফেরা করলেও সবার দেশ, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবস্থা আর সামাজিক বিবর্তনগুলো জানা হয়নি। এ্যালিয়টের বিশেষ আগ্রহ সবার গ্রামীন জীবন, শিক্ষা জীবন আর নিজস্ব কৃষ্টি কালচার নিয়ে।

পেরুর হেল্ডা স্বপ্রোণোদিত হয়ে বলতে শুরু করলো-
তোমাদের হয়তো জানা আছে, পেরু আমেরিকার মধ্যাঞ্চলে আন্দিজ পর্বতমালার পাদদেশে, প্রশান্ত মহাসাগরের কোল ঘেঁসে অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ। আমাদের দেশে অনেকগুলো রেইন ফরেস্ট আছে। অধিকাংশ মানুষ স্পেনিশ জানলেও আরো বেশ কয়েকটি ভাষা প্রচলিত আছে। পেরুর সবচেয়ে বড় আর প্রাচীন জাতি হলো 'আমেরিন্ডিয়ান'। ১৮২১ সালের ২৮ জুলাই আমরা স্পেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করি। কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত পেরু ইনকা এম্পায়ারের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনেকের মতে ষোড়শ শতাব্দীতে ইনকা এম্পায়ার পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর শক্তিশালী সম্রাজ্য ছিল।

এছাড়া প্রাচীন নগরী 'চানচেন', 'চকুয়েকুইরাও', 'চৌচিলা সিমেট্রি' এবং 'কাসা-দ্যা-লা-এ্যামানসিপাসিওন' উল্লেখযোগ্য টুরিস্ট আকর্ষণ।


........................................বিখ্যাত 'মাচ্চু-পিচ্চু' (পেরু)........................................

পেরুতে শহর আর গ্রামীন জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় ফারাক লক্ষণীয়। পাহাড়-পর্বতে ঘেরা গ্রামগুলোতে অনেক উপজাতির বাস। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই এখনো আধুনিক সমাজ ব্যাবস্থা থেকে বেশ পশ্চাৎপদ। শিক্ষার সুযোগ খুবই কম। গ্রামীণ সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং সাধারন মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ খুবই সীমিত। রাজধানী 'লিমা' ব্রাজিলের 'সাও পাওলো'র পর দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল সিটি।

আমার বাড়ি পেরুর দক্ষিণের গ্রামীন জনপদ আরেকুইপাতে। এখানকার মানুষের প্রধান কাজ কৃষি ও শিল্প। তবে আমাদের এলাকায় প্রচুর কোকো উৎপাদিত হয়। কোকো উৎপাদন ও বিপনন করা পেরুতে আইন সম্মত। গত একশত বছর থেকে কাজটি এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। মূলত, ঔষধ প্রস্তুতিতে কোকোর ব্যবহার হলেও কোকেন (ড্রাগ) তৈরীতে অবৈধভাবে সবচেয়ে বেশি কোকো চাষ করা হয়। যা দূর্ভাগ্যজনক।

যৌথ পরিবার প্রথা আমাদের। চার প্রজন্ম এক সাথে বাস করি। আমার বয়স যখন ১৬ বছর তখন থেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কোকো ফার্মে কাজ করা শুরু। পাশাপাশি পড়াশুনাও চালিয়ে যাই। কলেজ ছিল আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় পঞ্চাশ মাইল দূরে। আমি ক্লাসের দিনগুলোতে কলেজের হোস্টেলে থাকতাম। একেকটা রুমে ছয় থেকে আট জন মেয়ে গাঁদাগাঁদি করে থাকতে হতো। ছুটির দিনগুলোতে বাড়িতে ফিরে আবার কোকো ফার্মে কাজ করতাম। যখন জানতে পারলাম কোকো পাতা শুকিয়ে ঔষধের পাশাপাশি কোকেন তৈরী হয় এবং এটা মানুষের জন্য ক্ষতিকর তখন বেশ অস্বস্তি লাগছিল। সব সময় অপরাধবোধে ভোগতাম। তবে বিকল্প কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে কাজটি করতাম। মনে মনে সংকল্প করলাম উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জমানোর পর কাজটি ছেড়ে দেব।

-- কোকো থেকে কোকেন হয়?
জানতে চাইলো এ্যালিয়ট।
-- হ্যাঁ। কোকেন ব্যবসা করে আমার পরিচিত অনেকে রাতারাতি বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছে। এখন অনেকে কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক। পেরুর কোকেনের মূল ক্রেতা ইউরোপ। তবে কলম্বিয়া, পানামা ও মেক্সিকো হয়ে সড়ক পথে যুক্তরাষ্ট্রেও কোকেন পাচার হয়। এসব অসৎ উপার্জন কখনো আমাকে আকৃষ্ট করেনি। আমার সব সময় প্রত্যাশা ছিল, আমি যে কাজটি করবো তা অবশ্যই মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। টাকা-পয়সা যে কেউ উপার্জন করতে পারে। ভুল পথে উপার্জিত টাকার কোন মূল্য নেই, বিবেকের দংশন থেকে মুক্তি মিলবে না। এই প্রাচুর্যে কোন শান্তি নেই।

-- হেল্ডা, তোমাদের আন্দিজ পর্বতমালা নিয়ে আরো জানতে চাই।
নামিবিয়ান জাস্টিন বললো।
-- আন্দিজ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ মহাদেশীয় পর্বত। আর্জেন্টনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও ভেনিজুয়েলা পর্যন্ত আন্দিজ পর্বতমালা বিস্তৃত। আন্দিজ দৈর্ঘ্যে সাত হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং প্রস্থে প্রায় পাঁচশত বর্গ কিলোমিটার।
-- আর মাচ্চু-পিচ্চু?
-- মাচ্চু-পিচ্চু হলো আমাদের দেশের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। পেরুর দক্ষিণের কুসকো প্রদেশে এটির অবস্থান। মাচ্চু-পিচ্চু ইনকা সম্রাজ্যের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থাপনা। রাজধানী লিমা থেকে মাচ্চু-পিচ্চুর দূরত্ব প্রায় ৫০০ বর্গ কিলোমিটার। প্রতি বছর সারা পৃথিবী থেকে কয়েক লাখ পর্যটক মাচ্চু-পিচ্চু দেখতে আসে।

এবার নামিবিয়ান জাস্টিন-
৮,২২৫,৬১৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের নামিবিয়া আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণের একটি উন্নয়নশীল দেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জাম্বিয়া ও এ্যঙ্গোলার সাথে আমাদের সীমানা আছে। রাজধানী ও প্রধান শহর উইন্ডহোক। নামিবিয়ায় ১১ টি প্রাচীন জনগোষ্ঠীর বাস থাকলেও প্রায় ৫০% মানুষ ওবাম্ব সম্প্রদায়ের। ১৮৮৪ সালে জার্মানরা নামিবিয়া দখল করে নিলেও ১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শাসক বৃটিশরা জার্মানির কাছ থেকে নামিবিয়া দখল করে নেয়। ১৯৯০ সালে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্বাধীনতা লাভ করি।


........................................ হিম্বা উপজাতি (নামিবিয়া).........................................

কালাহারী ও নামিব মরুভূমির মাঝামাঝি হওয়ায় সাব-সাহারা এলাকার মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নামিবিয়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকা হলো নামিবিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার। আমাদের প্রধান অর্থনৈতিক ক্ষেত্র মাইনিং। এছাড়া কৃষি, শিল্প ও পর্যটন অন্যতম। নামিবিয়ার ডোরা কাটা জেব্রা পৃথিবী বিখ্যাত। তবে আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সার্বজনিন হলেও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র সীমিত। অনেক ব্যয়বহুলও বটে। সামর্থ্যবান অনেক ছাত্র/ছাত্রী দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে।

-- গ্রামীণ মানুষের জীবন ব্যবস্থা?
প্রশ্ন করলো ব্রিটিশ বন্ধু এ্যালিয়ট।
-- শুনতে চাও?
-- বলতে থাকো, দোস্ত।
সাইমন উৎসাহ দিল, সাথে হেল্ডা ও এ্যালিয়ট।
-- আমার বাড়ি জাম্বিয়া ঘেষা সীমান্তের একটি গ্রামে। আমাদের গ্রামীণ রাস্তাগুলো ভাঙ্গাচোরা, পীচ ঢালা নয়। বেশিরভাগ গ্রামে যেতে গাড়ির কোন রাস্তা নেই। আমাদের গ্রাম থেকে শহরে যাওয়ার জন্য পীচ ঢালা রাস্তায় আসতে প্রায় ৬-৭ ঘন্টা হাঁটতে হয়। গ্রামের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা কৃষিকাজ ও পশু পালন। দেশটি মরুভূমি অধ্যুষিত হওয়ায় গাছপালা খুবই কম। আমাদের বাড়িগুলো টিন দিয়ে ঘেরা থাকলেও ঘরগুলো ছোট ছোট আস্ত গাছ দিয়ে তৈরী। অতিথিরা বসার জন্য আছে আলাদা ঘর।

-- গ্রামীণ সেনিটেশন?
প্রশ্ন করলো পেরুর হেল্ডা।
-- নামিবিয়ান সেনিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে। আমাদের গ্রামীণ বাড়িগুলোতে কোন সেনেটারী ল্যাট্রিন নেই। পুরুষ-মহিলা সবাই নির্বিশেষে বাড়ির ঝোঁপ-ঝাড়ে প্রাকৃতিক কর্ম সম্পাদন করে। নামিবিয়ায় একটি প্রথা প্রচলিত আছে, টয়লেট করতে যাওয়ার সময় সবাই একটি কোদাল সাথে করে নিয়ে যায়। প্রথমে কোদাল দিয়ে ছোট একটি গর্ত করে। কর্ম সম্পাদনের পর কোদাল দিয়ে তোলা মাটি সেই গর্তে ফেলে ভরাট করে দেয়। এটাকে স্থানীয় মানুষ তাদের ঐতিহ্য হিসেবে ধরে নেয়। যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
-- বলিস কী?
বাকী তিন বন্ধু সমস্বরে বলে উঠলো।
-- এছাড়া গ্রামের বেশিরভাগ স্কুলে কোন টয়লেটের ব্যাবস্থা নেই। নামিবিয়ান শতকরা ৫০% শিশু পানিশূন্যতা, টয়লেট হীনতা ও হাইজেনিক সমস্যার জন্য মারা যায়। গত কয়েক মাস আগে জাতিসঙ্ঘ নামিবিয়াকে "সেনিটেশন ক্রাইসেস" দেশ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। তবে ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে, সরকারও উদ্যোগী হচ্ছে।
-- হিম্বা জনগোষ্ঠী?
জানতে চাইলো, সাইমন।
-- হিম্বারা আফ্রিকার অন্যতম প্রাচীন জনগোষ্ঠী। এরা মূলত নামিবিয়ার 'কুনেন' এলাকায় বসবাস করে। হিম্বারা চুলে বড় বড় বেণী করে। গলায় হরেক রকম মালা পরে। তবে তাদের পুরুষ ও মহিলাদের বক্ষ উন্মুক্ত থাকে। রোদ থেকে বাঁচার জন্য এরা পশুর রক্ত ও ছাইয়ের সংমিশ্রণে একপ্রকার প্রসাদনী তৈরী করে সারা গায়ে মাখে। এটি মশার কামড় থেকেও তাদেরকে রক্ষা করে।

এবার ব্রিটিশ এ্যালিয়ট-
আমি আর কী বলবো? বৃটিশদের ইতিহাস নিশ্চয় তোমরা স্কুল কলেজে পড়েছো! আমাদের বীরত্বের ইতিহাস সারা পৃথিবীর জানা। কথা ঠিক না বেঠিক? তোমরাই বলো! একটা সময় তো বৃটিশ সম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যেত না।
-- এটা তো দখলদারিত্বের ইতিহাস?
উত্তর দিল হেল্ডা, সাথে যোগ করলো-
-- ভাগ্যিস তোমরা দক্ষিণ আমেরিকায় যাওনি।
একটু রেগে বৃটিশ দম্ভ দেখিয়ে এ্যালিয়েটের ঝটপট উত্তর-
-- হেল্ডা, তুমি কি জানো বাংলাদেশ ও নামিবিয়া এক সময় আমাদের দখলে ছিল?
আমরা এসব দখলদারিত্বের ইতিহাস শুনতে চাই না; একসাথে বলে উঠলো সাইমন ও জাস্টিন। সে দিন এখন অতীত। তোমার নিজের দেশ নিয়ে বলো।
-- আমাদের এখানে শহর ও গ্রামের পার্থক্য তেমন একটা নেই। নাগরিক সুবিধা সব জায়গায় আছে। আমি গ্রামে জন্ম নিলেও কখনো কোন কিছুর অভাববোধ করিনি। জাস্টিন ও হেল্ডাদের মতো এতো সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য আমাদের না থাকলেও বীরত্বের ইতিহাসে আমরাই সেরা। পৃথিবীব্যাপী ব্যাবসা-বাণিজ্য আর শিক্ষা-দীক্ষার প্রসারে আমাদের অবদান অসীম। তোমরা নিজের দেশে উচ্চশিক্ষা না নিয়ে এদেশে আসার মূল কারণও তাই। আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোর সার্টিফিকেটের কদর বিশ্বব্যাপী।

'তোমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবসাও কম হয় না, ইউনিভার্সিটিগুলো এই সুযোগে মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড আয় করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ছাত্রদের পকেট কেটে। শিক্ষায় ব্যবসার ধারণা তোমরাই শুরু করেছো, এখন পৃথিবীর অন্য দেশগুলো তোমাদের ব্যবসার কৌশল ফলো করছে।'

সাইমনের কথাটিতে কোন প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে চুপচাপ হজম করে নিল এ্যালিয়ট।

পরিবেশ হালকা করতে, জাস্টিন বলে উঠলো, 'এবার সাইমনের পালা'।


................................. রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাংলাদেশ).....................................

সাইমন বলতে শুরু করলো,
আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাস কয়েক হাজার বছর পুরোনো। আমরা কোনদিন কোন দেশ দখল করিনি। সময়ে সময়ে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠী দ্বারা শাসিত ও শোষিত হয়েছি। প্রথমে সুলতানি আমলে, পরে মোঘলরাও আমাদের শাসন করে। ১৭৫৭ সাল থেকে প্রায় দু'শো বছর এ্যালিয়টদের পূর্বপূরুষেরা আমাদের দেশটা দখল করে রেখেছিল। অবশেষে, ১৯৪৭ সালে বৃটিশদের কাছ থেকে আমরা মুক্ত হই। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করি।

১৯৫২ সালে মাতৃভাষায় কথা বলার অপরাধে রাজপথে রক্ত বিসর্জন দিয়েছিলাম আমরা। পশ্চিম পাকিস্তানী শোষকদের অন্যায়ের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। শত চেষ্টায়ও পাকিস্তানীরা আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে পারেনি। ভাষা আন্দোলন আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। এখন ২১শে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হয়।
-- ওহ! দারুন অর্জন।
-- আমাদের আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম ও সুন্দর প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত। আমাদের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ।
-- অনেক বড় অর্জন তোমাদের!
বলে উঠলো, হেল্ডা ও জাস্টিন।
-- আমরা পৃথিবীর অন্যতম শান্তিপ্রিয় জাতি। ১৯৭৩-১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের সময়ও আমরা লুটপাট করিনি, অন্যের খাবার চুরি করে খাইনি। আমরা প্রতিবেশী ৮-১০ টা গ্রামের মানুষকে অনায়াসে চিনতে পারি। একে অন্যের সুখ-দুঃখের অংশিদার হই। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন গ্রামের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অবকোঠামো উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখে। মেধাবী কোন ছাত্র/ছাত্রী আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য লেখাপড়ার খরছ চালাতে অসমর্থ হলে সবাই মিলে সহযোগিতা করে। আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্কগুলো খুব ঘনিষ্ট।

তোমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা?
চুপিচুপি জানতে চাইলো এ্যালিয়ট।
-- আমাদের মাধ্যমিক পর্যন্ত সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থা অবৈতনিক। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে উচ্চশিক্ষা ফ্রিতে দেওয়া হয়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররা নামমাত্র ফি পরিশোধ করে উচ্চশিক্ষা লাভ করে। আছে ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য আবাসিক সুবিধা, ট্রান্সপোর্ট সুবিধা, বৃত্তির সুবিধা।
-- বলিস কী, সাইমন?
সমস্বরে বাকি তিন বন্ধু বলে উঠলো।
-- ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশেও এমন সুবিধা নেই। আর বাংলাদেশে! 'হাউ ইটস পসিবল'?
জানতে চাইলো এ্যালিয়ট। হেল্ডা আর জাস্টিন অপলক দৃষ্টিতে সাইমনে পানে চেয়ে রইলো, কথাটি বিশ্বাস করতে পারছিল না।
-- তবে একটা সমস্যা আছে আমাদের?
-- কী?
জানতে চাইলো, তিনজনই।
-- এই, যেমন এ্যলিয়টদের পূর্ব পূরুষরা পৃথিবীব্যাপী দখলের রাজত্ব কায়েম করলেও তারা তা অন্যের কাছে স্বীকার করে না। নিজের দেশের সাথে, দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে না। দেশের প্রতি নিজেদের দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন থাকে। আমাদের ক্ষেত্রে এগুলোর যথেষ্ট ঘাটতি আছে।
-- যেমন?
-- সরকারের দেওয়া এতো সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পড়াশুনা করে ছাত্রদের অনেকেই তা ভুলে যায়। অধিকাংশ ডাক্তারা সাধারন মানুষের সাথে প্রতারণা করে। কমিশনের নেশায় অপ্রয়োজনীয় মেডিক্যাল টেস্ট দেয়, অপ্রয়োজনীয় ঔষধ লেখে দেয়, রোগীর সাথে দূর্ব্যবহার করে। অনেক নামকরা ইঞ্জিনিয়ার সরকারের বড় বড় প্রকল্পে কমিশন খায়, নিম্নমানের কাজে সহযোগিতা করে টাকার কুমির হয়। বড় বড় অনেক পুলিশ অফিসার মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারন মানুষদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়, ক্রসফায়ার ও গুমের ভয় দেখায়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে অনেকে সরকারের বড় বড় আমলা হয়, রাজনীতিবিদ হয়, মন্ত্রী/এমপি হয়। এদের বেশিরভাগই দেশও জনগনের কথা ভুলে যায়। টাকার নেশায় অন্ধ হয়ে যায়। নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে। বিদেশে নামে বেনামে বিনিয়োগ করে, বাড়ি কিনে। কোটি কোটি টাকা পাচার করে।
হেল্ডা, জাস্টিন ও এ্যলিয়ট সমস্বরে বলে উঠলো-
-- সাইমন, তোমাদের ব্যবস্থাটাই পৃথিবীর সেরা; পাশাপাশি তোমাদের মানুষও চমৎকার। শুধু প্রয়োজন শাসক ও আমলাদের দেশপ্রেম আর সাধারন মানুষদের প্রতি দায়বদ্ধতা। তাদের উচিৎ দেশের সম্পদের প্রতি যত্নবান হওয়া। লোভ ও ভোগের মানসিকতা ত্যাগ করা।

সাইমন নিজের অজান্তেই মনে মনে গেয়ে উঠলো-
'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি, সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি। সে যে আমার জন্মভূমি। সে যে আমার সোনার বাংলাদেশ।'

না, গানটি শেষ করার আগেই সাইমনের মোবাইলে ট্রিং ট্রিং করে একটি এসএমএস আসলে কণ্ঠে ছেদ পড়ে, 'বাবা সাইমন, তোমার ইউনিভার্সিটির ৬ মাসের টিউশন ফি এবং চলতি মাসের হাত খরছ বাবদ সর্বমোট ২০ লক্ষ টাকা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে এইমাত্র পাঠালাম, টাকাটা হাতে আসলে আমাকে জানাবে। সময় হলে তোমার মাকে একটা কল দিও।'

'জ্ঞান হওয়ার পর থেকে বাবাকে রাজনৈতিক মিটিং, মিছিল আর মামলা-হামলার শিকার হতে দেখেছি। বাবার কোন চাকরি কিংবা ব্যবসার কথা তো কখনো শুনিনি। এতো টাকা কোথা থেকে আসে বাবার?'

না, অনেক চেষ্টায়ও উত্তরটি খোঁজে পেল না, সাইমন। প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারে পড়া একমাত্র বোন সানজিদা আর ঢাকার নামী-দামি একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়া আদরের একমাত্র ছোট ভাই সায়নকে খুব মনে পড়ছে তার। মায়ের সাথেও গত তিনদিন কথা হয়নি। মায়ের হার্টের অবস্থা নিশ্চয়ই এখন ভালো আছে।

হঠাৎ সাইমনের খেয়াল হলো, 'আরে, আজ তো হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করতে যাওয়ার কথা, বিকাল চারটায় এপয়েন্টেমেন্ট।' তবে অসুখের সাথে এই রক্ত পরীক্ষার হেতুু মাথায় ঢুঁকেনি তার। ডাক্তারকে বিষয়টি খুলে বললেও কোন কাজ হয়নি। রক্ত পরীক্ষাটা নাকি খুব দরকার। হাড় জিরজিরে গর্তে উঁকি দেওয়া হলুদ কিসিমের ড্যাবড্যাবা চোখের বছর পঞ্চাশের একজন ভিক্ষুক ইদানিং রোজ রাতে তাকে তাড়া করে। হাতে একটি বাঁশ আর গলায় ঝুলে থাকে একটা হায়েনা। মুখে উচ্চস্বরে বলে নানান কথা।

'আমার রক্তেরাঙা-কাদামাটিতে লেপটে থাকা সবুজ সার্ট আর লুঙ্গিটা ফেরৎ দেয়'।


.............................................ডারহাম (ইংল্যান্ড)............................................
(এই ছবিটি লন্ডন থেকে নিউক্যাসল যাওয়ার পথে ভার্জিন ট্রেন থেকে তোলা -২০১৫ সালে)

ফটো ক্রেডিট,
গুগল।

চাইলে পড়তে পারেন-
আমার সবচেয়ে পঠিত/লাইক/কমেন্ট প্রাপ্ত পোস্ট।
গল্প লেখার সহজ পাঠ।
সবচেয়ে পঠিত প্রবন্ধ।
আলোচিত ফিচার 'দি লাঞ্চিয়ন'।
ব্রিটেনের প্রবাস জীবন- স্মৃতিকথা।
সবচেয়ে পঠিত গল্প।
সবচেয়ে লাইকপ্রাপ্ত গল্প।
ছবি ব্লগ (লন্ডনের ডায়েরি-১)।

মন্তব্য ৬২ টি রেটিং +১৯/-০

মন্তব্য (৬২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৫৪

অচেনা হৃদি বলেছেন: প্রথম মন্তব্য, প্রথম লাইক ! ;)

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:১০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: প্রথম মন্তব্যে, প্রিয় আপুটা!! B-)
খুশি হলাম। খেলা দেখছেন, সম্ভবত!!!

২| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৫৫

অচেনা হৃদি বলেছেন: এবার আস্তে আস্তে পড়ব ! =p~

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:১২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: খেলাটা দেখে তারপর কমেন্ট করলেই চলবে। আমি জেগে আছি; কমেন্টের উত্তর দিয়েই ঘুমাতে যাব।

৩| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:০৫

ভ্রমরের ডানা বলেছেন:
আত্নজীবনী নাকি? ভাল লাগল!

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:০৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: নিজের কিছু অভিজ্ঞতা থেকে লেখা; তবে চরিত্রগুলো কাল্পনিক। গল্পটি পড়ায় এবং কমেন্ট করায় কৃতজ্ঞতা।

শুভ রাত্রী।

৪| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:০৮

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: নতুন পাকিস্তানে এখন আমাদের বাস। :(

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:১৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হুম, কঠিন কথা স্যার। তবে, মনে হয় পাকিস্তান কখনো আমরা হবো না। এদেশের মানুষ ওদের মতো উগ্র আর অসহনশীল নয়।

৫| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:১৪

অচেনা হৃদি বলেছেন: না ভাইয়া, খেলা দেখছি না । কাল তো ছুটির দিন, তাই ব্লগে বসে আছি । একটু রাত করে ঘুমাবো ।
গল্প ভালো লেগেছে । +++ :)

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:১৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ওহ!! ঠিকই তো কালকে ছুটির দিন। ছুটির দিনটি পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দে কাটুক, এই প্রত্যাশা রইলো।

শুভ রাত্রী।

৬| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:২৩

দপ্তরবিহীন মন্ত্রী বলেছেন: আপনার শেষ কয়েকটা লেখাকে আপনি গল্প বললেও ওগুলো গল্পের মত ছিল না। অনেকটা কথোপকথন, তথ্য, বর্ণনার মধ্য দিয়ে কোন ম্যাসেজ দেয়া টাইপ। যা সচরাচর ফেসবুকে দেখা যায়।

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৩৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই। হ্যা, আপনার কথায় যুক্তি আছে। আমার এ গল্পটিও বর্ণনা নির্ভর; এজন্য গল্পের বাঁক অথবা টুইস্টের বালাই নেই। এর আগের দুই-তিনটি গল্পও এমন ছিল। এসব গল্প মূলত ম্যাসেজ নির্ভর।

আসলে প্রবন্ধ/ফিচার/কবিতায় একটি বাঁধাধরা নিয়মের মধ্যে থাকতে হয়; কিন্তু গল্প লেখায় লেখকের অনেক স্বাধীনতা থাকে। এজন্যই এমন গল্প লেখেছি। আশা করি, বিষয়টি বুজতে পেরেছেন।

শুভ রাত্রী, প্রিয় মন্ত্রী ভাই।

৭| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৩১

অচেনা হৃদি বলেছেন: গল্পটা আবার পড়েছি । তাই আবার কমেন্ট করতে মন চাইলো !

প্রথম কথা হল, সাইমন নামটা একটু ইংরেজ প্রকৃতির নাম হয়ে গেল ! :( গল্পের চরিত্রগুলো যেহেতু কাল্পনিক, কাজেই খাঁটি বাংলাদেশি নাম দিতে পারতেন । যেমন সুমন, সায়েম বা ইমন ইত্যাদি ।

বাংলাদেশকে নিয়ে সাইমন পজেটিভ যা যা বলেছে সব ভালো লেগেছে, বাট নেগেটিভগুলো একটু বেশি তিতা হয়ে গেছে । ;)

আপনার গল্পটা শুধু গল্প নয়, অনেক শিক্ষণীয় বিষয় ফুটে উঠেছে ।
ধন্যবাদ । একটা প্রশ্ন ছিল । সারাদিন ব্যস্ত থাকার পরেও এতো লেখালেখি এবং ব্লগে সময় দেবার মত সময় ম্যানেজ করেন কিভাবে ?

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:১৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হ্যা, নামটা আসলে লন্ডনে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ের খুব ঘনিষ্ট এক বাংলাদেশী বন্ধুর। এজন্য নামটি দিলাম। তবে, আপনি তো চিন্তায় ফেলে দিলেন!!! :( ভেবে দেখি নামটি পরিবর্তন করা যায় কিনা!! ;)

আসলে গল্পটি তো বর্ণনা নির্ভর; আর এই ম্যাসেজটাই গল্পের প্রাণ। গল্পে নামিবিয়া, পেরু ও ইংল্যান্ডের তিনিটি চরিত্র আনার পেছনে একটি উদ্দেশ্য আছে। গল্পটি মনযোগ দিয়ে পড়লে পাঠকরা বিষয়টি ধরতে পারবেন বলে আশা করি। আর নেগেটিভ যা বলেছি, তা বাস্তবতার আলোকে। আর কেন বলেছি, তার ইঙ্গিত গল্পে আছে।

সারাদিন ব্যস্ততার মাঝে এত সময় পাই কেম্নে, লাখ টাকার প্রশ্ন। এখন বলি, প্রতিদিন ক্লাসের ফাঁকে যে সময়টা পাই তা ব্লগে সময় দেই। আমি বাইরে আড্ডা দেই না। আর সপ্তাহে সব দিন ক্লাস থাকে না। আজ সারাদিন ফ্রি ছিলাম; শুধু সন্ধ্যায় MBA-এর একটি ক্লাস ছিল। আর লেখাগগুলো অবসর সময়ে লেখা। আজকের লেখটিও আগের লেখ

৮| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৩৫

রাকু হাসান বলেছেন: হুম গল্পটি কার দেখতে হবে না :-B । লাইক দিলাম । জানলাম .....গল্পেরছলে .... অজানাকে

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৫৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হ্যা, প্রিয় রাকু ভাই। আপনি অনেক চালাক!! B:-) গল্প পাঠে অনেক কৃতজ্ঞতা। ভাল থাকবেন সব সময়।

শুভ রাত্রী।

৯| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৫৭

শামচুল হক বলেছেন: আত্মজীবনীর মত লাগলেও গল্প অনেক ভালো লাগল। ধন্যবাদ

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৫৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:


হ্যা, এটা বর্ণনা নির্ভর গল্প। তবে কাল্পনিক। ধন্যবাদ, প্রিয় শামচুল ভাই।

শুভ রাত্রী।

১০| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৫৯

কলাবাগান১ বলেছেন: "লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স" ইনভার্টেড কোমার মাঝে কেন লিখা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম...।
খুব ঘনিষ্ট এক বাংলাদেশী বন্ধুর নাকি আপনি ই সেই জন?? যদি আপনি হন তাহলে গভীর অভিনন্দন এমন এক বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার জন্য আর যদি না হন.. আমার হয়ে আপনার বন্ধুকে জানাবেন। LSE তে চান্স পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:০৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় ভাই। শুভেচ্ছা নেবেন। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামটি ইনভার্টেড কমায় লেখছি নামটি আলাদা করে রাখার জন্য। তবে, যদি কোন প্রকার ভুল হয় তবে বলবেন প্লীজ ঠিক করে নেব।

পরের অংশটি না হয় আজ থাক, পরে আরেকদিন বলবো। মাইন্ড করবেন না, প্লীজ।

শুভ রাত্রী।

১১| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ২:৫৩

চঞ্চল হরিণী বলেছেন: গল্পে যখন যার যার দেশ, সংস্কৃতি নিয়ে বলতে শুরু করলো তখন থেকেই বাংলাদেশ নিয়ে কি বলে পড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পড়তে পড়তে বলিভিয়া এবং নামিবিয়া দেশের মধ্যে হারিয়েও গিয়েছিলাম। অনেক অজানা কিছু জানা হল। আর বুঝতেই পারছিলাম কোন ম্যাসেজ থাকবে। শেষটায় এত তাড়াহুড়া না করলে ভালো হতো। আপনার লেখার ধরণ সুখপাঠ্য ভাই। গল্পগুলো ভালো লাগে পড়তে। এমন আরও লেখা চাই।
একটা বিষয়, আমি জানতাম ইনকা সভ্যতার মাচুপিচ্চু পেরুতে অবস্থিত যা বর্তমান সপ্তম আশ্চর্যের একটি। আপনার গল্পে দেখলাম, বলিভিয়া ! নিজের জানাকে সন্দেহ হতে গুগোল সার্চ দিলাম, সব লিঙ্ক পেরুতেই দেখাচ্ছে। এটা বোধহয় একটু কারেকশন করা দরকার। ধন্যবাদ ভাই।

২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:১১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আপু, অনেক কৃতজ্ঞতা রইলো। আসলে পেরু লেখতে গিয়ে ভুলে বলিভিয়া লেখে ফেলেছি। গল্পে বলিভিয়ার জায়গায় পেরু হবে। এই মিসটেকটি ধরিয়ে না দিলে হয়তো খেয়ালই হতো না।

আর শেষটা হয়তো একটু তাড়াহুড়ো আপনার কাছে মনে হয়েছে; আসলে দেশকে নিয়ে পজেটিভ কিছু শুনতে সবার ভাল লাগে। এজন্য হয়তো চাচ্ছিলেন আর কিছু সময় পড়তে। আমার লেখা পড়ে অনেক পাঠক অভিযোগ করেন, লেখা বড় হয়ে যায়। তাই এই বিষয়টিও মাথায় ছিল।

নামিবিয়া আমাদের সম মানের একটি দেশ; পেরু আমাদের চেয়ে উন্নত দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশে; আর ব্রিটিশরা তো অনেক বেশি উন্নত। আমারা যা করতে পেরেছি তাই এই তিনটি দেশ করতে পারেনি; পেরু ও ইংল্যান্ড আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত হওয়ার পরও।

আর আমরা কেন এর ফল ভোগ করতে ব্যর্থ তার কারণ ও গল্পে বলেছি।

শুভ রাত্রী, আপু।

১২| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:৪৮

ব্লগ মাস্টার বলেছেন: বরাবরের মতই খুবই সুখপাঠ্য ।ধন্যবাদ কাওসার ভাই এরকম গল্প আরো লেখুন। শুভরাত্রী।

২৯ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৪:০০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: গুণী মানুষদের প্রেরণা সব সময় অনুপ্রাণিত করে। আপনি একজন গুণী ব্লগার; আপনাদের কমেন্টগুলো সত্যি অনেক প্রেরণা দেয়। শুভ কামনা সব সময়।

শুভ রাত্রী।

১৩| ২৯ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৬:৪৯

সিগন্যাস বলেছেন: অর্ধেক পড়লাম।বাকিটা পরে এসে পড়বো।
আরেকটা কথা।যদি এইদেশের কোন ছেলেকে আমেরিকার কোন ক্যাফেতে কাজ করানো যেত তাহলে সে সত্যিকার অর্থে পরিশ্রম কি সেটা বুঝতো।

২৯ শে জুন, ২০১৮ ভোর ৬:৫৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: শুভ সকাল, প্রিয় ভাই। হুম, বাকিটা কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে পড়লেই চলবে। আর যে প্রশ্নটি করেছেন তার উত্তরে বলবো হ্যা, সত্যি অনেক পরিশ্রম করতে হতো। সেসব দেশগুলোতে কর্মীদের এক মিনিটেরও ফুরসৎ নেই।

প্রিয় ভাইয়ের দিনটি ভাল কাটুক এই প্রত্যাশা রইলো।

১৪| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:০৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


একটা অস্ট্রেলিয়ান বন্ধু যোগ করে দেয়া যায় না এখন? তা'হলে ক্যাংগারু সম্পর্কে একটু জানা যেতো!

২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:৩৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হুম!! বিষয়টি ঘটলে ক্যাংগারু সম্বন্ধে জানা যেত। আর এ গল্পে মূলত বাংলাদেশী একজনের সাথে তিন মহাদেশের, তিন চরিত্রের, তিন সংস্কৃতির, তিনটি প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর, তিনটি সমৃদ্ধ ইতিহাসের এবং তিনটি ভিন্ন অর্থনীতির দেশের মানুষের সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

অষ্ট্রেলিয়ানদের বেশিরভাগই ব্রিটিশ। তাই একজন ব্রিটিশের সাথে অপর ব্রটিশ রক্তের মানুষকে আনলে মানাবে না; এছাড়া তাদের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সামঞ্জস্য আছে।

চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, স্যার।

১৫| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:১২

সিগন্যাস বলেছেন: কাওসার ভাই আপনার জীবনে কি কখনো ব্যাখ্যাহীন ঘটনা ঘটেছে?

২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:৩৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: প্রতিনিয়ত ঘটে; আর ঘটে বলেই আমরা মানুষ। এতে বয়সের সাথে বুদ্ধি পাকে।

১৬| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:৪১

সিগন্যাস বলেছেন: প্রতিনিয়ত ঘটে?সর্বনাশ।আপনি একখানা ভূতের গল্প লিখে ফেলুন দেখিনি

২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:৪৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হ্যা, ভূতের গল্প লেখবো আগামীতে। জুলাই মাসে ব্লগে কোন গল্প পোস্ট করবো না। শুধু প্রবন্ধ আর ফিচার লেখবো; গত এক মাস এগুলো লেখা হয়নি। জুলাই মাসে ভৌতিক গল্প দেব। তবে আমার হাকালুকি পারের নেয়ামত হোসেন গল্পটি পড়তে পারেন। ভৌতিক কিছু পেলেও পেতে পারেন!!

১৭| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:৪৪

সোহানী বলেছেন: অসাধারন। দেশকে যেভাবে রিপ্রেজেন্ট করেছেন আসলেতো আমরা তাই। শুধু একটু যদি আইনের শাসন থাকতো তাহলে আর আমাদের পিছনে ফিরে তাকাতে হতো না।.....

২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:৫৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: আপু, আজকে কেন কমেন্ট করতে আসলেন? এতো ব্যস্ততার মাঝে আপনার পোস্টে অনেক কমেন্ট জমে আছে। আপনার পোস্টে কিছু কমেন্ট পড়ে কষ্ট পেয়েছি; আপনার অনেক ধৈর্য আপু। যাক, এটা আমাদের জাতিগত সমস্যা। মন খারাপ করবেন না।

শুভ কামনা সব সময় আপু।

১৮| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:১২

কথাকথিকেথিকথন বলেছেন:





বাংলাদেশ পৃথিবীর সিংহভাগ দেশ থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। শুধু আমরা নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরে পঙ্গু হয়ে আছি।

ইনফরমেটিভ গল্প। বেশ ভাল লাগলো।

২৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: বাহ!! চমৎকার কমেন্ট ভাই। এটাই সত্য। আপনার কথার প্রতিধ্বনী করে বলবো "আমরা নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরে পঙ্গু হয়ে আছি।"

শুভ কামনা আপনার জন্য।

১৯| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:২২

নাজিম সৌরভ বলেছেন: আপনার গল্পগুলো একটা কারণে ব্যতিক্রম । আপনি খুব ভালো তথ্য তুলে ধরেন গল্পে ।
আমি এখানে একটা কারেকশন দিচ্ছি, সাইমন বলেছে আমরাই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে । এই কথাটা যদিও বহুল প্রচলিত তবে তা সঠিক নয় । ঠিক আমাদের মত পোল্যান্ডের অধিবাসীরাও মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল । আবার আসামের বাঙ্গালিরাও বাংলা ভাষাকে প্রাদেশিক ভাষা ঘোষণার দাবি জানাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিল । তবে আপনার গল্প এখন এডিট করার প্রয়োজন নেই । আপনি ভবিষ্যতে অন্য কোন লেখায় হয়ত এই তথ্যগুলো ব্যবহার করতে পারবেন এজন্য আপনাকে জানিয়ে দিলাম ।
গল্পে একটা লাইক না দিয়ে ফেরত যেতে পারিনি । :)

২৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:১৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: শুভেচ্ছা রইলো, নাজিম সৌরভ ভাই। আসামের কাছাড় জেলার বাঙ্গালিরাও বাংলা ভাষাকে প্রাদেশিক ভাষা ঘোষণার দাবি জানাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিল; এই বিষয়টি জানতাম। তবে এ আন্দোলন ছিল একটি দেশের একটি প্রদেশের তিনটি জেলার আন্দোলন। এজন্য দেশকে আরো বড় করে বিদেশীদের কাছে উপস্থাপন করতে কথাটি বলেছি। তবে পোলেন্ডের অধিবাসীরাও মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছে, এই তথ্যটি জানা ছিল না। এই তথ্যটি জানানোর জন্য ধন্যবাদ নাজিম সৌরভ ভাই।

তাহলে আপনার কথা মতো আপাতত বিষয়টি এডিট করছি না।

২০| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১১:৫৬

সাদা মনের মানুষ বলেছেন: প্রথম ছবিটা কি প্রাচিন ইনকা সাম্রাজ্যের ছবি নাকি কাউসার ভাই?

২৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৩৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হা...... হা.......হা........... B-)
আপনি ফটো গ্রাফার, তাই চমৎকার ফটো কমেন্ট।


ছবিটি আমার নয়, তবে এই ক্যাম্পাস ও বিল্ডিংটা খুব পরিচিত।

২১| ২৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ১:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: গল্পে হলেও মনে হচ্ছে বাস্তব গল্প।
সাইমনকে ধন্যবাদ আমাদের দেশটাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।
কিন্তু কাওসার ভাই আপনি এই পোষ্টে কোনো বাংলাদেশের ছবি ব্যবহার করেন নি কেন?

২৯ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৩৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: প্রিয় রাজীব ভাই, আপনি ঠিকই বলেছেন। এটি একটি ইনফরমেটিভ গল্প; এজন্য এ গল্পে দেওয়া তথ্যগুলো সত্য। আর বাংলাদের একটি ছবি দিতে চেয়েছিলাম; কিন্তু ছবির সংখ্যা বেড়ে যাবে এজন্য দেইনি।

তবে, আপনার কথার মর্যাদা দিতে এখন একটি ছবি যুক্ত করবো।

২২| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৩

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: গল্পে গল্পে অনেক দেশ জানা হল।
দারুন হয়েছে গল্প।

২৯ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় সোহেল ভাই। শুভ কামনা সব সময়।

২৩| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫৩

মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক বলেছেন: কিছু শিখতে পারলাম গল্পটা থেকে[link|

২৯ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় আবু বকর ভাই।

২৪| ২৯ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৪

ঢাকার লোক বলেছেন: সুন্দর লেখা, পেরু আর নামিবিয়া সম্বন্ধে আগে এতো কিছু জানতাম না, ধন্যবাদ আপনাকে।

২৯ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, ভাই। গল্পটি ইনফর্মেটিভ তাই চেষ্টা করেছি দেশ দু'টিকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে। গল্প পাঠে ও কমেন্টে ধন্যবাদ, প্রিয় ভাই। শুভ কামনা রইলো।

২৫| ২৯ শে জুন, ২০১৮ রাত ৮:১৭

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: প্রিয় রাজীব ভাই, আপনি ঠিকই বলেছেন। এটি একটি ইনফরমেটিভ গল্প; এজন্য এ গল্পে দেওয়া তথ্যগুলো সত্য। আর বাংলাদের একটি ছবি দিতে চেয়েছিলাম; কিন্তু ছবির সংখ্যা বেড়ে যাবে এজন্য দেইনি।

তবে, আপনার কথার মর্যাদা দিতে এখন একটি ছবি যুক্ত করবো।

কই ছবি তো যুক্ত করেন নি?

৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:১৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: একটু ব্যস্ত ছিলাম, রাজীব ভাই। আজ রাতের মধ্যেই ছবি যুক্ত করবো।

২৬| ৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৫৪

মনিরা সুলতানা বলেছেন: বাহ!! অনেককিছু জানলাম গল্পে গল্পে।
ভালোলাগা রেখে গেলাম।

৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:৫৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয় আপা। আপনি আমার লেখাগুলো পড়েন জেনে খুব আনন্দ পাই। আরো ভাল লেখতে অনুপ্রাণিত হই। শুভ কামনা সব সময় প্রিয় আপার জন্য।

শুভ রাত্রী।

২৭| ৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:০৮

:):):)(:(:(:হাসু মামা বলেছেন: গল্পটি পড়ে অনেক কিছু জানা হলো এবং ভালো লাগল কাওসার ভাই।

৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:১৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ও ভাল লাগা প্রিয় হাসু ভাই।


শুভ রাত্রী।

২৮| ৩০ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৭:২০

সিগন্যাস বলেছেন: শুভ সকাল কাওসার ভাই।প্রতিদিন সকালে আপনার গল্প প্রথম পাতায় দেখতে পাই।আজ দেখলাম না।

৩০ শে জুন, ২০১৮ সকাল ৮:১১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: স্যরি, ভাই। আজ বিকালে গল্পের বিষয়বস্তু, গল্পের প্লট, গল্প লেখার নিয়ম ও ভাবনা ইত্যাদির উপর একটি বড় লেখা দেব। যার গল্প লেখতে চান কিন্তু দ্বিধায় থাকেন উনাদের জন্য লেখাটি দিকনির্দেশক হবে।

২৯| ৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ৯:১৩

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: ভাবছিলাম, অনেকদিন থেকে ভাইয়া কোন তথ্য নির্ভর পোস্ট দিচ্ছেনা আগের মত। যাই হোক এবার পেয়ে গেলাম।

গল্পে গল্পে দুইটা দেশ সম্পর্কে জানতে পারলাম। লন্ডন সম্পর্কে আগে থেকেই জানি কিছুটা এখান থেকে ও জানলাম কিছু। তবে পাঠিকা জানতে চায়, ছবির বালক টি কে ? :P নাকি গুগল থেকে নেওয়া? শেষের ছবি টি ভালো লেগেছে, ইচ্ছে হচ্ছে ব্রিজটার উপরে গিয়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকি।

৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:০৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ছবিটা লন্ডন থেকে নিউক্যাসল যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে তোলা। ট্রেনের লাইনটা একটি ছোট্ট পাহাড়ের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ডারহাম শহরটি স্বপ্নের মতো সুন্দর দেখাচ্ছিল। ক্যামেরা সাথে থাকায়, ট্রেনটি স্টেশনে কিছুটা সময় অপেক্ষা করায় ঝটপট কয়েকটি ছবি তুললাম। সত্যি মুগ্ধ করার মত একটু শহর ডারহাম, ছবির মতো।

আর ছবিটা আমার এক ভারতীয় বন্ধুর, সে LSE-র ছাত্র। এখন ক্যানাডার ভ্যানকুভারে আছে।

৩০| ৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:৩০

অর্থনীতিবিদ বলেছেন: অনেক ভালো একটি গল্প পড়লাম। গল্পটি বেশ তথ্যবহুল। আফ্রিকান দেশগুলোর স্যানিটেশন অবস্থা বরাবরই বেশ করুন। সেদিক থেকে তুলনা করলে আমাদের বাংলাদেশ শিক্ষা-দীক্ষাসহ সবদিক দিয়েই অনেক উন্নত। বা উন্নত হওয়ার পথে। আসলে বাংলাদেশের সব দিক দিয়েই সুযোগ আছে বিশ্বের বুকে গর্ব করার মতো একটি দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার। কিন্তু অসৎ রাজনীতিবিদদের কারণে দেশ আটকে আছে এক গন্ডীর মধ্যে। অপেক্ষায় আছি দেশ একদিন এই গন্ডী থেকে মুক্ত হয়ে সকল দেশের রানী হিসেবে আবির্ভূত হবে।

৩০ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:৫৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, অর্থনীতিবিদ ভাই।


এ গল্পে মূলত বাংলাদেশী একজনের সাথে তিন মহাদেশের, তিন চরিত্রের, তিন সংস্কৃতির, তিনটি প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর, তিনটি সমৃদ্ধ ইতিহাসের এবং তিনটি ভিন্ন অর্থনীতির দেশের মানুষের সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যাতে আমাদের সমস্যাটি কোন জায়গায় তা স্পষ্ট করার জন্য।

গল্পের শেষ অংশে তা উল্লেখ করেছি আমি; এটি একটি নির্ভুল তথ্য নির্ভর গদ্য রচনা। গল্পটি পড়ে আপনার ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম। শুভ কামনা আপনার জন্য।

৩১| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:৫৪

বলেছেন: বাস্তববাদী লেখক

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:০১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনাকে। শুভ কামনা রইলো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.