নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ডানে গেলে জঙ্গীবামে গেলে নাস্তিক;দ্বন্দ্বেতে নেই বাপুআছি হেথা মাঝ ঠিক

কি করি আজ ভেবে না পাই

ডানে গেলে জঙ্গী বামে গেলে নাস্তিক; দ্বন্দ্বেতে নেই বাপু আছি হেথা মাঝ ঠিক।

কি করি আজ ভেবে না পাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার আম্মু

২৬ শে জুন, ২০১৫ ভোর ৬:৪৩

(এটি একটি পুরোনো আর্টিকেল, আমার বন্ধুর লিখা তাঁর সদ্য মা হারানো শোকস্মৃতি। অনেকদিন পরে তার সাথে দেখা। দেখে চমকে গেলাম। চিরচেনা সেই প্রাণবন্ত বন্ধুটির একি হাল হয়েছে !!! যেনো বয়সের ভারে ন্যূজ জীবণ যুদ্ধে পরাজিত ক্লান্ত শ্রান্ত এক পথিক। অথচ এখনো সে মধ্য ত্রিশের এক যুবক, এককালের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ষোল দলের অলরাউন্ডার, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস চড়ে বেড়ানো প্রাণশক্তিতে ভরপূর সেই তরূণটির আজ একি দশা !!! শুনলাম তার কাছে অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আপন ভাই বোন মামা খালাদের নিষ্ঠুরতার কাহিণী। মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। শান্তনা দেবার ভাষা খুজে পেলামনা। শুধু "পাশে আছি বন্ধু" এই কথাটিই মুখ দিয়ে বেরুলো। সারাদিন কেমন যেনো বিষাদে কাটলো। বারবার তার লিখা আর্টিকেলটির কথা মনে পরছে। এটি আমার পড়া অন্যতম হৃদয়স্পর্শী একটি "স্মৃতি কথা"। যত বার পড়েছি আমার মতন পাষাণ হৃদয়ের চোখও বারবার সিক্ত হয়েছে। সামুর পাঠকদেরকে আর্টিকেলটি শেয়ার করতে খুব ইচ্ছা করলো। দেখি শেয়ার করে মনের তেতো ভাবটা যায় কিনা)


গত ৭ ডিসেম্বর ২০১১ ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে আমার আম্মা ইন্তেকাল করেন। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে আব্বা-আম্মা দু'জনকেই হারালাম। আমরা ইয়াতীম হয়ে গেলাম। পৃথিবীতে আমাদের মত আরো অনেক ইয়াতীমতো আছেই। আব্বু-আম্মু কে হারিয়ে সেই ইয়াতীমের তালিকা একটু দীর্ঘ হলো বৈকি।
আম্মু যদিও কক্সবাজারের মেয়ে কিন্তু শৈশব থেকেই বড় হয়েছেন কুমিল্লা শহরে। তিনি কক্সবাজারের তিন দিকপাল অধ্যাপক গোলাম সোবহান, এডভোকেট আব্দুল জলিল, অধ্যাপক এন, এম, হাবিব উল্লাহ এর যথাক্রমে কন্যা, পুত্রবধূ এবং জীবনসঙ্গিনী। কক্সবাজারের এই তিন মহারথীর সাথে পারিবারিকভাবে সম্পর্কিত হয়ে আমার আম্মু কক্সবাজারের ইতিহাসেরই অংশ হয়ে রইলেন। আমার নানা ছিলেন কক্সবাজারের প্রথম ছাত্র যিনি আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.সি. পাশ করেন। পরবর্তিতে সুদীর্ঘ ৩০ বছর তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের রসায়নের শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপনা করেন। মেঘনা থেকে শুরু করে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত তৎকালীন এমন কেউ ছিলেননা যাঁরা তাঁকে চিনতেননা। এখনো সমগ্র বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে তাঁর গুনমুগ্ধ স্নেহধন্য ছাত্ররা। আমার দাদা এডভোকেট আব্দুল জলিল কক্সবাজারের প্রথম প্রজন্মের ছাত্র হিসেবে কলকাতা থেকে এল.এল.বি. পাশ করেন। কক্সবাজারের শিক্ষা বিস্তারে তাঁর যে অবদান তা চিরস্মরণীয়। তিনি নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। আর আমার বাবা ছিলেন কক্সবাজারের প্রথম ছাত্র যিনি পাকিস্তানের পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। আমার বাবার বর্নাঢ্য কর্মময় জীবনের মূল্যায়ন করার ধৃষ্টতা এবং যোগ্যতা কোনটাই আমার নেই।
এই তিন ব্যক্তিত্বের সাহচর্যে এসে আমার আম্মু ও হয়ে উঠে ছিলেন অসাধারণ বৈশিষ্টের অধিকারিনী। বাবার রাশভারী ব্যক্তিত্বের প্রভাব সত্ত্বেও আমার আম্মুর ব্যক্তিত্বের স্বাতন্ত্র আলাদাভাবে প্রকাশ পেতো। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পলিটিকেল সায়েন্স-এ মাস্টার্স করার পরও পুরোদস্তর ছিলেন একজন গৃহিনী এবং এ নিয়ে তাঁকে কোনদিন বাবার কাছে কোনো আফসোস কিংবা অভিযোগ করতে শুনিনি। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে ডিগ্রীপ্রাপ্ত হয়েও তিনি সারাজীবন ব্যয় করেছেন তাঁর সংসারের পিছনে। আমার দাদাভাই ইন্তেকাল করেছেন আমার মায়ের কোলে মাথা রেখে। তিনি শেষ পানিটুকু পর্যন্ত পান করেন আমার মায়ের হাতে। আমার চার ফুফু থাকা সত্ত্বেও আমার আম্মা-ই ছিলেন দাদাভাইয়ের জান-প্রাণ। তিনি সবাইকে দেখিয়ে বলতেন এই দেখ, এ হচ্ছে আমার মা। শশুর-শাশুড়ির এত স্নেহধন্য আশীর্বাদপুষ্ট পুত্রবধূ আমি আর দেখিনি । তাঁর শশুর-শাশুড়ি তাঁর জন্য প্রানভরে দোয়া করেছেন এবং করছেন। একজন পুত্রবধূ হিসেবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারেনা। আমার বাবা ছিলেন একজন চির সংসার বিবাগী মানুষ। জীবনে তাঁকে একগ্লাস পানি পর্যন্ত ঢেলে খেতে দেখিনি। তিনি ছিলেন হার্টের রোগী, ডায়াবেটিসের রোগী। অথচ কোনগুলো তাঁর ঔষুধ এবং কোনটা কখন খেতে হবে তিনি তাও জানতেননা ।আম্মা-ই সব দেখাশোনা করতেন। এমনকি আমার মায়ের কাঁধে ভর দিয়েই তিনি হাসপাতালে যান এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।আব্বু ছিলেন চির আম্মুর উপর নির্ভরশীল। তাঁর ব্যাপক বৈচিত্রময় কর্মজীবনে আম্মুর পরশ ছাড়া তিনি এক মুহূর্তও চলতে পারতেন না। কি রংপুর, জামালপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা লন্ডন, সারা বিশ্বময় আব্বু যেখানেই গেছেন সেখানেই ছিল আম্মুর অদৃশ্য অবাধ পদচারণা। কি খাবেন, কোনদিন কোন কাপড়টা পরবেন, কিভাবে যাবেন সব কিছু আম্মু ঠিক করে দিতেন। আব্বুর কোনদিন কোনো অসুবিধা হয়নি। হয়তো এই কারণেই সৃষ্টিকর্তা বেশিদিন তাদেরকে আলাদা করে রাখেননি। 'ইদ্দতকাল' পূর্ণ করার পরপরই আমার আম্মু চলে যান আব্বুর কাছে।
বাবার কত পাগলামি যে আম্মু সহ্য করেছেন তা বলে শেষ করা যাবেনা। সারাজীবন বাবা ছিলেন তাঁর কর্মজগত, বন্ধুজগত নিয়ে ব্যস্ত। দিন নেই, রাত নেই যখন-তখন মেহমান নিয়ে উপস্থিত হতেন। অথচ বাসায় বাজার আছে কি নেই , সংসার কিভাবে চলছে তা নিয়ে তাঁর কোনো মাথা ব্যথা ছিলনা। মা হাসিমুখে সারাজীবন আব্বুর এসব পাগলামি সহ্য করেছেন। আমার 'সুপার অনেষ্ট' বাবার সীমিত আয়ের সংসার যে তিনি কি করে সামলেছেন তা কেবলমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। অথচ আম্মু কোনদিন কাউকে কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দেননি। শুধু বাবার কথাই বা কেন বলি, আমি নিজেই কি কম! স্কুলের বন্ধু, কলেজ বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, পাড়ার বন্ধু, অফিস কলিগ-আমার পরিচিত এমন কেউ নেই যে আমার আম্মুর হাতের রান্না খায়নি। ঈদ কিংবা যেকোনো উৎসবে সে বাবার বন্ধু হোক কিংবা আমার বন্ধু, সবাই আগে আসত আমাদের বাসায়, আগে মায়ের হাতের রান্না খাওয়া চাই। তাইতো দাদা-নানা কিংবা বাবার সূত্রে পরিচিত যত নামী-দামী গুনীজন, সকলেই একনামে আমার আম্মুকে চিনতেন এবং সবাই ছিলেন আমার মায়ের প্রসংশায় পঞ্চমুখ। এই ছিলেন আমার আম্মু, আমার স্নেহময়ী মা।
"মা", পৃথিবীর সংক্ষিপ্ততম শব্দ, অথচ কি জাদুকরী তার ক্ষমতা! কি দুর্বার তার সম্মোহনী আকর্ষণ তা সন্তান মাত্রই জানে। আর এসব যেন আমার মায়ের একটু বেশিই ছিল। সিক্সথ সেন্স, থার্ড আই, টেলিপ্যাথি কিংবা ই.এস.পি. যাই বলিনা কেন আমার মধ্যে তা ছিল অবিশ্বাস্যভাবে বিদ্যমান। আম্মু আমার চেহারা দেখে বলে দিতে পারতেন আমি কি ভাবছি বা আমার মনে কি আছে ! লুকিয়ে লুকিয়ে যতই অন্যায় কিংবা নিষিদ্ধ কিছু করেছি, ঠিকই আম্মুর কাছে ধরা পরেছি। এমনকি মনে মনে কোনো একটি খাবার খেতে ইচ্ছা করেছে, বাসায় গিয়ে দেখি আম্মু সেই খাবার বানিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন ! এ এক অবিশ্বাস্য ব্যপার ! একেই কি বলে নারীর টান ! স্নেহময়ী মায়ের চাইতে রহস্যময়ী জাদুকরী কিছু স্রষ্টার সৃষ্টি জগতে আর নাই। একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই, কলেজে অধ্যয়নকালীন কোনো এক রাজনৈতিক কারণে আমি এরেষ্ট হয়েছিলাম, তিনদিন ছিলাম ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে। জেলে থাকার চাইতেও বড় ভয় ছিল, আব্বু জানতে পারলে নির্ঘাত মৃত্যুদন্ড। তাই বাসায় বন্ধু মারফত খবর পাঠানো হলো যে, বন্ধুর বড় ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে বন্ধুরা সবাই মিলে ব্রাক্ষণবাড়িয়া গেছি। একটা চিঠিও লিখে পাঠিয়েছি। জেল থেকে বাসায় ফিরলাম, মা চেহারা দেখে প্রথম কথাটিই বললেন যে, তুই জেলে ছিলি। কি আশ্চর্য্য ! মায়ের চাইতে বড় ম্যাজিশিয়ান বোধহয় এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই।
আমার সেই মা আজ আর নেই। আমি হতভম্ব, বোধশক্তিহীন, নির্বাক! চোখে জল নেই, কিন্তু বুকের ভেতরে কোথাও সারাক্ষণ চিৎকার করে কাঁদছে। এ কান্না থামবার নয়। হৃদয়ে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ। বড় কষ্ট, ভীষণ কষ্ট।এই কান্না, এই কষ্ট কেউ কোনদিন বুঝবেনা, কেউ কোনদিন জানতেও পারবেনা। বড্ড অভিমানী হয়ে জন্মেছিলাম। সেই ছোট্টবেলায় কারণে-অকারণে মায়ের সাথে অভিমান করে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতাম আর ভাবতাম একদিন হারিয়ে যাব, আম্মুকে ফেলে অনেক দূরে চলে যাব। হারাতে আমি পারিনি, হারিয়ে গেছ মা তুমি। চলে গেছ না ফেরার দেশে। আমার আম্মু, তোমার সেই অভিমানী ছেলেটি আজ আবার পথে পথে হাঁটছে। সে আবার অভিমান করেছে। কি তীব্র সে অভিমান তুমি জানো না। আমার এই অভিমান আমি কাউকে দেখাবো না মা।এ অভিমান কোনদিন যাবার নয়, এ তুমি ভাঙ্গাতে পারবেনা। এ আমার স্বেচ্ছা অভিমানের নির্বাসন। আমৃত্যু আমি হাঁটবো আর তা বুকে লালন করব।
"সে-ই বড় দীন, যে পিতামাতাহীন "
কথাটি এতদিন শুনেছি, আর আজ তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছি। একি সাংঘাতিক কষ্ট! একি ভীষণ যাতনা! এ কাউকে বুঝাবার নয়।
আমার আম্মু, কে এখন বলবে আমার জেসনের মন খারাপ কেন? কে বুঝবে আমার মনের কথা? কে আমার জন্য পছন্দের খাবার বানাবে? কে বুঝবে আমার অভিমান? শত অন্যায়, শত অপরাধ সত্ত্বেও কে আমায় বুক আগলে বাঁচাবে? আর কেউ কোনদিন ডাকবেনা আমার আব্বা, আমার বাবা বলে! উফ , এ কষ্ট আমি কোথায় রাখি! নিজ হাতে তোমাকে কবরে শুইয়েছি, মাটি দিয়েছি, এ কি করে সম্ভব! একি দুঃস্বপ্ন, নাকি কল্পনা!
"কি দুঃসহ যন্ত্রণা, দুঃসাধ্য দায়
সারাক্ষণ এই আমায় বয়ে নিয়ে যায় "
হে আল্লাহ, এ তুমি আমায় কোন পরীক্ষায় ফেললে! আমি এখন এই গ্রহের সবচেয়ে বড় ইয়াতীম! হে পরওয়ারদেগার, হাদীসে এসেছে তুমি ইয়াতীমের দোয়া ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পাও। তোমার কাছে এই ইয়াতীমের দাবী, তুমি আমার আব্বু-আম্মুকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করে দিও, তাদের কবরগুলোকে জান্নাতের নূর বানিয়ে দিও। তোমার জান্নাতে আবার আমাদের একত্রিত করে দিও ।
প্রিয় আম্মু আমার, যেখানেই থাকো ভালো থেকো। ইনশাআল্লাহ, জান্নাতে আবার দেখা হবে। "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সগীরা"।


প্রিয় বন্ধু, ভালো থাক সব সময়। হৃদয়ের সমস্ত শুভ কামনা তোর জন্য।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে জুন, ২০১৫ সকাল ৯:২৮

সনজিম বলেছেন: পড়লাম আর চোখের কোন থেকে কেন যেন পানি ঝরছে, মা আজ তোমায় বড় বেশি মনে পড়ে গেল।

২৬ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৮

কি করি আজ ভেবে না পাই বলেছেন: চোখ নিয়েই যত জ্বালা, কেবল ভিজে ভিজে উঠে।মা আর ফিরেনা।চেয়ে আছি সেই কখন থেকে......হ্য়তো একদিন।
এ আজব অনুভূতি সবাই বুঝবেনা।মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

২| ২৮ শে জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩৪

শাহ্‌ ফখরুল ইসলাম আলোক বলেছেন: সে-ই বড় দীন, যে পিতামাতাহীন
-যথার্থ বলেছেন।

আমার নিজেরও বাবা-মা নেই। হয়তো এ কারণেই লেখাটি হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

২৯ শে জুন, ২০১৫ ভোর ৫:৪১

কি করি আজ ভেবে না পাই বলেছেন: ওয়ার্ল্ড অরফেন ব্রাদারহুড এ আপনাকে স্বাগতম।শেক্‌ হেন্ড।
বলুনতো আমাদের অভিভাবক এখন কে আর নেতাই বা কে ? :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.