নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মারুফুল ইসলাম বিশ্বাস

জন্মগতভাবে আমি মুসলিম, তাই ইসলাম আমার ধর্ম । আমি ধর্মান্ধ নই, আমি জামায়াত-শিবির বিরোধী । আর এদের বিরোধিতা করা নাস্তিকতা হলে মারুফুল ইসলাম বিশ্বাস হচ্ছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাস্তিক । ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও সব ধর্মের মানুষকেই সমান শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি

মারুফুল ইসলাম বিশ্বাস

জন্মগতভাবে আমি মুসলিম, তাই ইসলাম আমার ধর্ম । আমি ধর্মান্ধ নই, আমি জামায়াত-শিবির বিরোধী । আর এদের বিরোধিতা করা নাস্তিকতা হলে মারুফুল ইসলাম বিশ্বাস হচ্ছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাস্তিক । ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও সব ধর্মের মানুষকেই সমান শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি ।

মারুফুল ইসলাম বিশ্বাস › বিস্তারিত পোস্টঃ

অসমাপ্ত SMS

১৪ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৭

আজ সারাটা দিন ক্লাশে মন বসে নি রাত্রির । কখনো এতটা অমনোযোগী থাকেনা সে । নাসরীন ম্যাডাম তো বার বার

পড়া ধরতে লাগলেন ।



প্রথম দু একবার কোন মতে পেরে গেলেও শেষবার না পারায় তাকে এনে বসিয়েছেন সবার সামনে !



মেজাজ তখন তার চরমে !



ক্রমাগত বাজতে থাকা ফোনটার দিকে চেয়ে থাকল কয়েক মুহুর্ত !



অপূর্বর ফোন.....৫৯তম বারের মত বেজে চলেছে !!



একটু আগের মেসেজটা দেখে খুব রাগ হচ্ছে । কোন কথা তো শুনবেই না আবার লিখেছে, "রাগ করো না, আর এমন করব না । আমি তোমাকে............."



মেসেজটা পুরোটা শেষও করেনি !! কি অদ্ভুত কাজ !!



লো ব্যাটারী দেখাতে দেখাতে বন্ধ

হয়ে গেল ফোনটা !!



ফোনটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কয়েকটা মুহুর্ত ।



হঠাৎ মনটা খুব খারাপ হয়ে যায় তার । এতটা অভিমান না করলেও মনে হয় চলত !



জানলা দিয়ে বাইরে তাকায়

অপূর্ব । বাইরের জনপথ আর

মানুষগুলো যেন প্রবল

বেগে পেছনে ছুটে চলেছে । হানিফ

পরিবহনের বাসটা উন্মাতাল বেগে ধেয়ে চলেছে সিলেটের দিকে । আর ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে ইনশাল্লাহ পৌছে যাবে ও ।



রাত্রির জন্মদিনের অর্ধেকটা এভাবে রাস্তায় কাটিয়ে দেয়াটা একদমই ঠিক হয়নি । মনে মনে অনুতপ্ত হয় অপূর্ব । কিন্তু সন্ধানীর কনফারেন্সটাও মিস করতে ইচ্ছা করছিল না । সেই বগুড়া মেডিকেলে তিন দিনের কনফারেন্স শেষে সবাই গত রাতের বাসেই সিলেট চলে গেছে । বাবা-মা কে একবার দেখে যাবার ইচ্ছায় বাসায় গিয়ে আর রাতে যেতে মন চাইল না, তাই ক্লাস আরো একদিন বেশী ফাঁকি দিয়ে দেরী করেই যাচ্ছে অপূর্ব ।



রাত্রির জন্মদিনের কথাটাও ওর মনে ছিল । রাতে ফিরতে সেও নিষেধ করছিল । সকালে সোহাগের বাসে চলে আসতে বলেছিল । কিন্তু দম বন্ধ বন্ধ লাগে বলে সে ভলভোতে চড়ে না । তাই চড়ে বসল হানিফের বাসে দ্রুত পৌছে যাবার আশায় ।



কিন্তু রাত্রি যেই জানল এই বাসে উঠেছে ও সেই যে ফোনটা কেটে দিয়েছে আর ফোন ধরছে না !!!



ইনিয়ে বিনিয়ে ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না.....টাইপ একটা এস এম এস লেখার চেষ্টা করছে অপূর্ব । কিন্তু কথাগুলো গুছিয়ে আনতে পারছিল না । আনমনে বাইরে তাকায় । দূরে অনেক

দূরে পাহাড়ের গায়ে মেঘের

আনাগোনা চোখে পড়ে । কাছ থেকে দেখতে না জানি কত সুন্দরই না লাগত !!



হঠাৎ ওর দৃষ্টিপথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বিশাল এক চলন্ত ট্রাক । বাস ড্রাইভার বেশ অনেকক্ষন থেকেই তাকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে যাচ্ছিল । কি দরকার এরকম করার !!



আবার ও এস এম এস লেখায় মন দেয় । বাসটা এবারও ট্রাকটাকে ওভারটেক করতে পারে না । সামনের দুজন যাত্রী বাস ড্রাইভারকে এসব করতে নিষেধ করে ।



রাত্রি হয়ত এখন লেকচারে । আর কিছুক্ষন পর ওয়ার্ডে ক্লাসে যাবার কথা । এস.এম.এসের রিপ্লাইর অপেক্ষায় থাকে ও ।



আসে না.....



আবার আরেকটা এস.এম.এস লিখতে শুরু করে । হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠে অপূর্বর । মায়ের ফোন । আর কতটা সময় লাগবে জানতে চাইলেন, "আর ঘন্টা দেড়েক, মা । আমি পৌছেই ফোন দেব" বলে অপূর্ব ।



বাসটা আবার ট্রাকটাকে ওভারটেকের চেষ্টা করছে ! প্রায় অর্ধেকটা চলে এসেছে । ঠিক এমন সময় তীব্র একটা শব্দ হয় ব্রেক কষার ।



মুহুর্তেই অনেকগুলো ঘটনা ঘটে যায় ! দুটো বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হানিফ পরিবহনের বাসটার অর্ধেকটা যেন দুমড়ে মুচড়ে একাকার ! চারদিক থেকে ছুটে আসতে থাকে মানুষ । ট্রাকটা স্কিড করে পোড়া টায়ারের গন্ধ ছড়াতে থাকে ।



মানুষের হৈ হুল্লোড়ে আর আহতদের চিৎকারের ফাঁকে পালিয়ে যায় বাসের ২

ড্রাইভার ।



একজন একজন করে বাস থেকে মানুষগুলোকে উদ্ধার করা হচ্ছে । ছোট্ট একটা শিশুর নিথর দেহ বুকে নেমে আসে হাত ভেঙে যাওয়া রক্তাক্ত এক মহিলার ।



হাতে শক্ত করে ফোনটা ধরে রাখা একটা ছেলের নিথর দেহ বের করে আনে দুজন লোক । পকেটে মানিব্যাগে আইডি কার্ডটা পাওয়া যায় । লাশটা একটা কাপড়ের ওপর রাখে লোকগুলো । হাত থেকে মোবাইল ফোনটা বের করে নেয় একজন !



একটা অসমাপ্ত মেসেজ দেখা যায়

রক্তাক্ত স্ক্রিনে । কয়েকটা কথা শুধু পড়া যাচ্ছে, "রাগ করো না । আর এমন করব না । আমি তোমাকে............."



ভাল করে দেখতে গিয়ে সেন্ড বাটনে চাপ পড়ে যাওয়ায় মেসেজটা সেন্ড হয়ে যায় । লোকটা এরপর সে নাম্বারে ফোন

করতে থাকে এই ছেলের কোন কাছের মানুষ হয়ত হবে ভেবে । একটা রিং হবার পর সে কেটে দেয় হঠাৎ !



কিভাবে এমন কষ্টের একটা খবর একজন স্বজনহারা মানুষকে সে দেবে !!



স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষনপর আবার ফোন করতে থাকে । রিং হতে থাকে...একবার...দুবার করে করে একসময় কেটে যায় ।



লোকটা আবার চেষ্টা করতে থাকে । ফোন বাজতেই থাকে বাজতেই থাকে । কিছু সময় বিরাম দিয়ে আবার করতে থাকে । একসময় ভেসে আসে, "আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটি এখন বন্ধ আছে"

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই মে, ২০১৩ বিকাল ৩:৫৩

মারুফুল ইসলাম বিশ্বাস বলেছেন: এটি আমার লেখা প্রথম গল্প . . .

এটি সর্বপ্রথম আমি লিখি ২রা ডিসেম্বর, ২০১১ সালে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.