| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অপ বাক
তবু ও মানুষ কাঁদে অধিকার চায় একটি শিশুর তবুও মানুষ বাঁচে কার হাতে অধিকার মানুষ না যীশুর............ অধিকার সবার চাই, মতপ্রকাশের অধিকার নামান্তরে মতদ্বৈততার আধিকার। ইতিহাস সাক্ষী সর্বদা বিজয়ীর ভাষ্য লেখা হয়, রক্তলোলুপ মানুষেরা তরবারি দিয়ে কেটে ইতিহাস লিখে, আমজনতার কথা লিখে রাখে দীক্ষ দ্রাবিড়, সেসব দ্রাবিড়দের মুখপত্র ইতিহাসে ছিলো না, দ্রাবিড়রা কখনই ক্ষমতার বলয়ে যেতে পারে নি, ফিনিশিয়, সুমেরিয় মিশরিয় ,পারসিয় সভ্যতার কিছু কিছু নিয়ে সেমিটিক ধর্মের উদ্ভব, কালের প্রবাহে সেমিটিক ধর্মই টিকে গেছে, অস্ত্রের জোড়ে, শিল্পের জোড় ছিলো না তাদের, আর অনার্য সবাই পৈত্তলিক, শয়তানের অনুচর হয়ে টিকে আছে একত্ববাদী ধর্মগ্রন্থে, আমি এসব দ্রাবিড়দের অধিকার চাই, সভ্যতার ইতিহাসে এরা শিল্পে সংস্কৃতিতে সব সময় গুরুত্বপুর্ন অবদান রেখেছে, তাদের দাবীর সপক্ষে আমি কণ্ঠ মেলালাম।
অনেক অনেক দিন পর হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস পড়া হলো, হলুদ হিমু কালো র্যাব,এই শুভ্র, এই আর আমি এবং কয়েকটি প্রজাপতি।
হুমায়ুন আহমেদের লেখার ভঙ্গি নিয়ে কিছু বলার নেই, ঘটনার বর্ননা আর সহজ ভাষা, সহজপাঠ্য বই, পড়া শেষ হয়- ঘন্টাব্যাপি বিনোদন শেষ। এর পর আর কিছু মনে থাকে না, কোনো ছাপ পড়ে না। অবশ্য অতীতের কিছু উপন্যাস বাদ দিলে হুমায়ুন আহমেদের সব লেখাই ঘন্টাবিনোদনী লেখা।
তবে আমি যেটা মনে করার চেষ্টা করছি তা হলো হুমায়ুন আহমেদের চরিত্রের রা কর্মবিমুখ কেনো?
সবাই মানে চরিত্র যতগুলো থাকে তারা কেউই সেই অর্থে কর্মরত নয়- আমি এবং কয়েকটা প্রজাপতির চরিত্রগুলোর প্রধান চরিত্রের বিলাসের ব্যামো- তার অঢেল টাকা অঢেল অবসর, এবং তার মাথাভর্তি ফ্যান্টাসি, খ্যাপাটে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা- কিন্তু অখন্ড অবসরের মাঝে উদ্ভট ভাবনা করা ছাড়া অন্য কোনো কাজ তাকে করতে দেখা যায় না।
তার মামা- তারও কোনো কাজ নেই, মাঝে মাঝে উপন্যাসের মাঝে এসে সত্যবাদীতার বক্তব্য দেওয়া ছাড়া - নায়কের শ্বশুর অবসরে- তারও কোনো কাজ নেই। অলস লোকের মাথায় উদ্ভট ভাবনা কাজ করে- তারও একই সমস্যা। এটা সেই অর্থে অন্ধকার একটা উপন্যাস হতে পারে- হুমায়ুন আহমেদের নতুন একটা দিক হলো এইসব অধিভৌতিক অন্ধকার উপন্যাস লেখা- তেলাপোকা বিষয়ক একটা লেখা দিয়ে বোধ হয় শুরু হয়েছিলো, কিংবা এক্স ফাইলস দেখে শুরু করেছিলো- অনুপ্রেরণা যাই হোক না কেনো ঘটনা ঘটতে থাকে, চরিত্র বুঝে তার জন্যই ঘটনাগুলো ঘটছে এবং তার অসীম নির্বিকারত্ব দিয়ে ঘটনা শেষ হয়।
আমি এবং কয়েকটি প্রজাপতি নিয়ে এর বেশী আলোচনার কিছু নেই-
হিমুর অন্য সবগুলো লেখা মতো এটাও অলৌকিকত্ব দিয়ে ভরপুর। তবে এই উপন্যাসের লোকজনও কর্মবিমুখ। একমাত্র কর্মতৎপরতা দেখা গেলো মুরগি ছাদেককে ক্রস ফায়ার করে ফেলা। এ ছাড়া তারা সবাই বসে বসে মাছি মারে এমনটাই মনে হয়। হিমুর উপর গোয়েন্দাগিরি করতে আসা র্যাবের লোক হারুনুর রশিদ হিমুর ঘরে দিবানিদ্্রা দিচ্ছে, হিমুর খালুর অফিসে কোনো কাজ নেই- কোনো উপন্যাসেই ছিলো না, সেও ফফ্লাওয়ার নামের একজনকে নিয়ে ব্যাস্ত- হিমুর খালাদের কাজ আহ্লাদ করে যাওয়া- হিমু চিরবেকার। এই বার অবশ্য তাকে কফি বিক্রি করতে দেখা গেছে- তবে সেটাও রোমান্টিকধাঁচের বেচাকেনা।
হুমায়ুন আহমেদের জীবন বোধ হয় জনবিচ্ছিন্ন, কতিপয় স্তাবক এবং কতিপয় কড়া সমালোচক ছাড়া তার জীবনে এখন অন্য কিছুর অস্তিত্ব নেই।
এই শুভ্র এই বোধ হয় শুভ্র কে নিয়ে লেখা 5ম কিংবা 6ষ্ঠ বই। দারুচিনি দ্্ব ীপ রূপালি দ্্ব ীপ, শুভ্র, এর পর বোধ হয় আরও একটা কিংবা 2টা লেখা হয়েছে- এখানেও ঘটনার পরিবর্তন নেই, হুমায়ুন আহমেদ এখা পরীক্ষা করে দেখছেন হয়তো, একই চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন ধাঁচে লিখে, ঘটনার অদল বদল করে, নিশ্চিত নন কোনটা আসলে তার বক্তব্য- শুভ্র চরিত্রটার প্রধান অংশগুলো ঠিক ঠাক আছে- অসম্ভব রূপবান এক যুবক তার শিশুসুলভ সারল্য নিয়ে পৃথিবীতে আছে- এই অসম্ভব শব্দটা বিশেষন হিসেবে হুমায়ুন আহমেদীয় রূপ গ্রহন করেছে, অসম্ভব রূপবতি, মায়াবতি, গুনবতি, এই সকল শব্দগুচ্ছের ক্রমাগত ব্যাবহার আমার মাত্রজ্ঞানকে আহত করছে নিয়মিত- তবে শুভ্রর বাবা বদল হয়, হচ্ছে, নতুন মেধাবী শুভ্রের বাবা বদলে যাচ্ছে তবে শুভ্রের পালক বাবাদের মৌলিক চরিত্র ঠিক আছে, ভীষন বড়লোক, চাইলেই হাতি ঘোড়া এরোপ্লেন কিনে ফেলার ক্ষমতা রাখে, তবে পুরুষ মানুষ হিসেবে তারা মেধাবি ও সফল হলেও মেয়েদের মানে তাদের বৌয়েরা, সেই অর্থে শুভ্রের মায়েদের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন হয় না, তারা তাদের সুশিল হাই সোসাইটি স্বামীদের থেকে সাংস্কৃতিক হিসেবে ভিন্ন গোলার্ধে বসবাস করে। এবং তাদের শব্দচয়ন এবং চেতনার মান দরিদ্্র অবস্থা থেকে উন্ন ীত হয় না। এটা হয়তো হুমায়ুন আহমেদ নারী বিশ্লেষণের প্রধান দিক, ূরুষতান্ত্রিকতা, কিংবা নারীরা ছল চাতুরি করতে চায়, সংসারের কতৃত্ব রাখতে চায়। মূল বিষয়টা হলো সেই সব মায়েদের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন হয় না।
এবং শ্রনী চরিত্র নির্ধারন করে দেওয়া। একদল মানুষ যাদের কোনো কাজ নেই( আবারও বলতে হচ্ছে কথাটা, হুমায়ুন আহমেদ আলস্যের জয়গান গাচ্ছেন, স্বাপি্নক একদল মানুষের সন্ধান করছেন হয়তো হিমালয়ের সাধুদের মতো, যাদের অলৌকিকত্ব দেখে তাদের জীবন সুন্দর চলে যায়, যাদের খাওয়ার এবং পড়ার ব্যাবস্থা করে প্রকৃতি।)
চাকর শ্রেনীর মানুষদের জন্য বরাদ্দ গৃহকোণে তাদের বিভিন্ন অলস আলাপন চলছে- এদের সাথে কর্তাদের যোগাযোগ নেই- মাস গেলে বেতন পাচ্ছে এবং যথারিতী নানা রকম ইতর ভাবনায় মাথা ঘামাচ্ছে- চরিত্রচিত্রনে এমন দূর্বলতা যে চরিত্রগুলোর মধ্যে মানুষ হয়ে উঠার কোনো সম্ভবনা নেই। আমরা হুমায়ুন আহমেদের বিকলাঙ্গ মানবের কথা পড়ে পড়ে কৌশোর শেষ করে আসলাম এখন তুন একদল কিশোর বিকলাঙ্গ মানুষদের কথা পড়ে পড়ে বড় হয়ে উঠছে।
২|
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অপ বাক বলেছেন: আমার ভালো লাগে কিন্তু এই ঘন্টাব্যাপি বিনোদনের চেয়ে বেশী কিছু মনে না হওয়াটাই লেখার দুর্বলতা। সিটকম ধাঁচের লেখা- অল কোয়াইট অন দি ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট পড়ে যে রকম আচ্ছন্নতা তৈরি হয় তেমন ভাবে কোনো অনুভব আসে না। ফর হুম দি বেল টোলস পড়ে যা লাগে, কিংবা ইলিয়াসের লেখা পড়ে যেমন লাগে তেমন লাগে না। ঘন্টাব্যাপি একটা কিছু করার পর কোনো কিছুই মনে হয় না। এটাই উপন্যাসের দুর্বল দিক।
৩|
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
ঝরা পাতা বলেছেন: আপনার লেখাটার প্রতিটা শব্দ যেন আমার মনের কথা বলেছে। ধন্যবাদ আপনাকে।
৪|
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: কয়েকদিন আগে 'কে কথা কয়' পড়ে শক খেলাম;
ভূমিকায় প্রিয় লেখক বললেন যে অনেকদিন পরে তিনি একটা বিষয়ের উপর পড়াশোনা করে উপন্যাস লিখেছেন;
বিষয়টা হলো Autism;
অথচ, উপন্যাসে তিনি যে Autistic বাচ্চাটির চরিত্র নির্মাণ করলেন তার সাথে সাধারণ Autistic বাচ্চাদের তেমন কোন মিল নেই!!
বেশ হতাশ হয়েছিলাম।
৫|
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: হ্যা অপবাক, হুমায়ুন আহমেদ একদিন থেকে খুব সফল যে তিনি খুব ইজি রিডিং লিখে থাকেন। যে কেউ সহজেই পড়ে ফেলতে পারে। তবে তাতে সাবসটেনেসর বড় অভাব।
এ কারনেই হুমায়ুন থাকবে তার জায়গায়, আর এরিখ মারিয়া রিমার্ক থাকবেন তার জায়গায়।
৬|
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: চমৎকার বিশ্নেষন। তবে হুমায়ূন আহমেদ টাইম পাসিং এর জন্য চমৎকার। এর বাইরে ওখানে আর কিছুর সন্ধান করি না। তাই খারাপ লাগে না।
৭|
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
অতিথি বলেছেন: হা হা হা হুমায়ুন আহমেদ। "তৃতীয় বিশ্বের লেখকের" জনপ্রিয়তা অধ্যয়ণের জন্য খুবই পছন্দে হয়ে উঠবে কোন পশ্চিমা গবেষকের। বিনোদন দক্ষতা ছয় থেকে আট ক্লাস পর্যন্ত বলেই আমার মনে হয়। অনেকেই দেখি পড়েন, অনেকে আবার যাপণও করেন। ক'দিন পর হয়তো বই বের করবে...আমার সাফল্যের চাবিকাঠি...আ হ্যান্ডবুক টুমাই সাকসেস। আমি পেরেছি আপনারাও পারবেন।.....
৮|
০৫ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৪:০৭
হযবরল বলেছেন: হুমায়ুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তার ভাত-কাপড়ের সমস্যা ছিলনা। কিন্তু উনি উনার প্রতিভা রুটি-রুজি কামাই মর্াকা সাহিত্য র্নিমাণে ব্যয় করলেন। আমি এটা বলি না যে রুটি-রুজি কামাই মর্াকা সাহিত্য , কোন সাহিত্য না। সমস্যা হচ্ছে, যখন সৃষ্টির মুখ্য মোটিভেটর হয়ে যায় পয়সা কামাই। এরপর জনপ্রিয়তা পুঁজি করে নামলেন সিনেমা বা পষ্ট করে বললে বড় একটা নাটক বানানোয়।
উনার পুস্তকে লালাল্যান্ড এর স্বপ্ন বাদে কি থাকে ? অনেকে বলে পাঠকশ্রেনী । আমাদের মনে রাখতে হবে কুয়োর মধ্যে ব্যাঙ তৈরি করা যায় পাঠকশ্রেনী না। যে পাঠক কূল বৃত্ত ভেঙ্গে বা বৃত্তের বাইরে যায় না , সেটাকে আপনি হাফেজ বলতে পারেন পাঠক না। এটা হচ্ছে হুমায়ুনে হাফেজ । হুমায়ুনের গদ্য বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ। কিন্তুতার জনপ্রিয়তার ঝোঁক এবং সমাজ বিমুখিতা নিয়ে সরব হওয়ার সময় এসেছে। কোন পাঠক আঘাত পেয়ে থাকলে দুঃখিত।
৯|
০৫ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:০৭
অতিথি বলেছেন: দারুণ লাগল এনালজিটা, ধন্যবাদ। আমার চিন্তাভাবনার সাথে অনেকটা মিলল। হযবরল ভুল কিছু বলেন নি। তাঁর মত একজন লেখক, যিনি প্রচন্ড ক্ষমতা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছেন, তাঁর কাছ থেকে আরও বেশি কিছু দাবি করতেই পারে দেশ আর সমাজ।
১০|
০৮ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ১:০৭
অতিথি বলেছেন: বুঝলাম ।
১১|
০৮ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ২:০৭
নওরীণ সুলতানা বলেছেন: একটা ঘটনা বলি, আমি স্কুল লাইফে বইয়ের পোকা ছিলাম। বলাই বাহুল্য তার অনেকটা জুড়ে হুমায়ূন আহমেদ। আব্বু একদিন খুব আশ্চর্য হয়ে বলল, তুমি এতো কি পড় বলতো? আমিও পড়বো। আমি শতগুন উৎসাহে বইয়ের আলমারি খুলে সব বই বিছানায় এনে ফেললাম। আব্বু খুব ভাল করে বিছানা জুড়ে বইয়ের মলাট গুলো দেখলেন। শেষ পর্যন্ত যে বইটি তুললেন তা দেখে শতগুন উৎসাহে লক্ষ গুন পানি পরে গেল। কারন বইটা ছিল, এলেবেলে দ্্বিতীয় পর্ব। কিন্তু আব্বু কোটি গুন মনোযোগে সে বইটি পড়লেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে- এখন বুঝলাম তুমি এত্তো বড় বান্দর কেমনে হইলা।
সে যাই হোক, তাকে নিয়ে সবাই যতো নেগেটিভ কথা বলেছেন সবকিছুর সাথে আমি একমত। তবে একটি কারনে মনে হয় তাকে আমরা শ্রদ্ধা করতে পারি। বাঙালি বই পড়ুয়া জাতি নয়সাধারন । বাঙালির বইপড়া আসলে হুমায়ূন আহমেদ পর্যন্তই। এই গুণটা কি কম?
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: অনেক দিন পরে হুমায়ুন আহমেদের লেখা 'হলুদ হিমু কালো র্যাব' পড়ে ভালো লেগেছে