| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বেলায়েত সাহেব সরকারী চাকরি করেন। মধ্যবিত্ত শ্রেনির মানুষ। সমাজের এই শ্রেনির মানুষকেই বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করতে হয়। একদিকে যেমন থাকে অর্থের সমস্যা আরেকদিকে থাকে তেমনি থাকে মানসম্মানের ব্যাপার। এই দুই সমস্যার দোলাচলে থেকেই জীবন পার করতে হয় এই শ্রেণির মানুষদের।
যদিও সরকারী চাকুরীজীবীদের ঘুষ খাওার ব্যাপার আছে তাই তাদের আয় মাঝারিমানের হলেও উপরি পয়সায় তারা বেশ রাজার হালেই থাকে। কিন্তু বেলায়েত সাহেব সে ঘরানার মানুষ নন। সারা জীবন যতটা সম্ভব সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করেন, তার নাকি এক বিশেষ ধরনের চুলকোনি আছে। সেই চুলকোনির কারনে তিনি যতবারই ঘুষ নেয়ার চিন্তা করেছেন ততবারই এই চুলকোনি বেড়ে গেছে। তাই আর ঘুষ নিতে পারেননি পাছে চুলকোনি থেকে ইনফেকশন হয়ে যায়।
সামনে কোরবানির ঈদ। তাই কোরবানির গরু কেনার তাড়াও আছে। সামর্থ কম, তাই ভাগেই কোরবানি দেন বেলায়েত সাহেব। এবার আবার ঈদের আগে পুজার বন্ধও পড়েছে। এই উপলক্ষে তার অফিসের বেশিরভাগ কর্মচারীই অ্যাডভান্স নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। বেলায়েত সাহেব এবার ঢাকাতেই ঈদ করবেন। তাছাড়া কিছু ফাইল জমা ছিল, তাই তিনি আর অগ্রীম ছুটি নেননি।
তাই প্রতিদিনকার মত সাত সকালে উঠে অফিসে যাওার জন্য তৈরী হলেন। প্রতিদিনকার মত আজকে রাস্তায় তেমন ভিড় নেই কারন ইতিমধ্যেই মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে। তাই আজকে বাসের জন্য বেশি আর অপেক্ষা করতে হয়নি। অন্যদিন বাসে দাঁড়িয়ে যাওা লাগলেও আজ বাসে ঠিকই সিট পেয়ে গেলেন।
বাস অফিসের দিকে চলছে। হঠাৎ মাঝরাস্তায় কিছু যুবক বাসটিকে থামালো। বাসে উঠে একটি ছেলে বলতে শুরু করল,
‘ভাইসব, এবারে আমাদের নেতা নিয়্যত করছেন বাজারের সবচাইতে দামী আর বড় গরু কোরবানি দিবেন। তিনি একটা নেক নিয়্যত করছেন। তাই আপ্নাগো উচিত তারে এই নেক কাজে সাহায্য করা। তাই বাসে উপস্থিত যাত্রীগণ, আপনারা আমাদের নেতার এই নেক কাজ হাসিল করার উদ্দেশ্যে সকলে পঞ্চাশ টাকা করে হাদিয়া দিবেন।’
এই কথা বলার পর বাকি যুবকরা এসে টাকা তোলা শুরু করল। বাসে অনেক লোক ছিল কিন্তু একজন লোকও তাদের কিছু বলল না বরং তাড়াতাড়ি টাকা দিয়ে দিল। বেলায়েত সাহেবও কিছু বললেন না। কিন্তু তার কাছে খুচরা না থাকায় তিনি তাদের ২০ টাকা দিলেন।
-‘অই মিয়া ২০ টাকা দিছেন ক্যান। হুনেন নাই রাসেল ভাই কি কইছে। পার পারসন ৫০ ট্যাকা হাদিয়া।’
-‘বাবা, আমার কাছে তো খুচরো নেই, তুমি আমার কাছ থেকে ২০ টাকায় রাখ।’
-‘ধুরো মিয়া, শার্ট-প্যান্ট পিন্দায়া বাসে উঠছেন আর ৫০ ট্যাকা দিতে পারেন না। যত্তসব।’
“কিরে বিলাল, কি হইছে?”
“না ভাই, তেমন কিছু না। এই ব্যাটা ২০ ট্যাকা দিছে তাই।”
“বাদ দে, দ্যাশটা ফকিন্নি মার্কা লুকজনে ভইরা গেছে। চইল্লা আয়।”
টাকা পয়সা নিয়ে ছেলেগুলি গেল। বাস আবার চলতে শুরু করল। বেলায়েত সাহেব উপলব্ধি করলেন, এরা বাজারের সবচাইতে বড় পশু কিনতে যেয়ে নিজেরাই তার চাইতে বড় পশুতে পরিনত হয়েছে। পার্থক্য শুধু এই, বাজারের পশুগুলো নিরিহ কিন্তু এই পশুগুলো হিংশ্র আর পিশাচ। অস্ফুটে তার মুখ থেকে বেরিয়ে এল, “মনের পশুরে করো জবাই।”
২|
১৫ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১২:৩৭
কে. এম. রাফসান রাব্বি বলেছেন: এসব মানুষ আসলে কোরবানির মূল থিমটাই ভুলে যায়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরানে বলেছেন,"এগুলোর রক্ত-মাংস কিছুই আমার কাছে পৌছে না, শুধু পৌছে তোমাদের তাকওয়া।" কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি অনেক মানুষই এটা ভুলে যেয়ে কোরবানির ঈদকে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে মনে করে। এদের জন্য আসলেই করুণা হয়।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:২৭
সাদা মেঘ কালো ছায়া বলেছেন: দেশের এই রকম কিছু ফালতু মানুষ এর জন্য ই দেশ এর এত খারাপ অবস্থা।