| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কথিত আছে একবার বলে এক নাস্তিক ঢাকায় এসেছিলেন। সেখানে কিছুকাল থাকার পর তিনি আস্তিক হয়ে গেছিলেন।তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "এমন একটা শহরে যেভাবে মানুষ বসবাস করতেছে এবং দিনের পর দিন বেঁচে থাকতেছে এইটা কেবল ঈশ্বর বলতে কেউ আছেন বলেই সম্ভব।"
আমাদের এই কিউট শহরের সাথে অভিযোজিত হয়ে এখানকার মানুষগুলোও কি সুন্দর কিউট হয়ে গেছে। এখন বিশ্বকাপের মৌসুম। তাই একজন বাঙ্গালী হিসেবে এই বিষয়ে কথা বলা নৈতিক দায়িত্বের পর্যায়ে পড়ে। আর এসব আলোচনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টং দোকান কিংবা চটপটির দোকানের সামনে হয় বিধায় এসব দোকানদার এইসব বিষয়ে অসীম জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকে। আর জ্ঞান যদি জাহিরই না করা গেল তাহলে সে জ্ঞানের মূল্য কোথায়? আমরা বাঙ্গালীরা সব বিষয়ে আজন্ম বিশেষজ্ঞ। আর এত বিশেষজ্ঞের মিলনমেলা হচ্ছে টং দোকান, তাই টং দোকানদারের বিশেষজ্ঞ না হয়ে উপায় আছে! ভাবখানা এমন, মেসি-রোনালদো কোন বালছাল, ওই জায়গায় আমি থাকলেই হালি খানেক গোল দিতে পারতাম। ![]()
ঢাকার আরেক রঙ্গশালা হচ্ছে এখানকার পাবলিক বাস। এই বাসে উঠতে কিংবা নামতে গেলেও অন্য যেকোন মানুষের বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। কিন্তু ঢাকার মানুষ যবে থেকে রাস্তায় যাতায়াত করতে শিখে তবে থেকেই এই জ্ঞান অর্জন করে (বিঃদ্রঃ আমি মধ্যবিত্ত মানুষের কথা বলছি)। আর বাসের যাত্রীরা, ড্রাইভার, হেল্পার অসীম ধৈর্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। প্রথমে ড্রাইভার আর হেল্পারের কথায় আসা যাক, এদেরকে যতই গালমন্দ করা হোক না কেন বাসে কম যাত্রী উঠানোর জন্য তারা সেটা উঠিয়েই যাবে। আবার যাত্রীদের কথায় ধরা যাক, এইখানে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা জামের মধ্যে বসে থেকে হকারের বিশেষ অঙ্গের জ্বালাপোড়া সারানোর ওষুধের লেকচার বিনা প্রতিবাদে শুনতে পারে। কিন্তু ধৈর্যচ্যুতি ঘটে ভাড়া দেয়ার সময়। ২ টাকার জন্য হেল্পারের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়ে। আবার হেল্পার কেন তার গায়ে হাত দিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল সেজন্য তাকে চড় মারতে উদ্যত হয় এবং তাকে ছোটলোককে বেয়াদবির মোক্ষম জবাব দিয়েছে বলে কিছু মানুষ সেটাকে বাহবাও দেয়। আর এ বিষয়ে একেকজন যেভাবে দার্শনিক মতবাদ পেশ করে তা দিয়ে নতুন নতুন দর্শনশাস্ত্রও সৃষ্টি করা যাবে।
পাবলিক বাসে দুটো বিষয় নিয়ে আলোচনা খুব জমে। একটা হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা আরেকটা হচ্ছে যুব সমাজের অবক্ষয়। একবার যদি রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়ে যায় মাশাল্লাহ তাহলে আর ঠেকায় কে? নীতির গুলিতে সব অনিয়ম ঝাঝরা হয়ে যায় আর কথা শেষ করেই গলা খাঁকারি দিয়ে একগাল কফ জানলা দিয়ে বাইরে থু করে ফেলে দেয়।
আর যুব সমাজের অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ আসলে তো কথায় নাই! দেশের যুব সমাজ পুরাই গেছে-ইহাদের মধ্যে কোন আদব-কায়দা নাই দ্যাশখান কুলাঙ্গারে ভইরা গেছে- এই নিয়ে এক বিরাট লেকচার শেষ করেই মুরুব্বি পানের পিকখান তার পাশের বাসের জানালায় পিচ্চিক করে ফেলেন।
আলেকজান্ডার এই দেশের মাটিতে পা দিয়েই বলেছিলেন, "হায় সেলুকাস! কি বিচিত্র এই দেশ।" শালা আসলেই ট্যালেন্ট! ![]()
©somewhere in net ltd.