নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্যই সুন্দর

আমি সত্য জানতে চাই

কোবিদ

আমি লেখালেখি করি

কোবিদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর ৪৯তমমৃত্যুবার্ষিকী আজ। গণতন্ত্রের মাসনসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর মৃত্যুদিবস স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায়

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ৯:০৪



গণতন্ত্রের মাসনসপুত্র খ্যাত হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর ৪৯তম মৃত্যুদিবস আজ। স্বাস্থ্যগত কারণে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর, ৭১বছর বয়সে তিঁনি মারা যান। তার মৃত্যু অনেকের কাছে এখনো রহস্যাবৃত। গণতন্ত্রের মাসনসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর মৃত্যুদিবস স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায়।



হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের (ভারত) মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম স্যার জাহিদ সেহরাওয়ার্দী। স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দি কলকাতা হাইকোর্টের একজন খ্যাতনামা বিচারক ছিলেন। হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন বিচারপতি স্যার জাহিদ সেহরাওয়ার্দির কনিষ্ঠ সন্তান। হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর পরিবারের সদস্যবর্গ তৎকালীন ভারতবর্ষের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের প্রথা অনুসারে উর্দু ভাষা ব্যবহার করতেন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দি নিজ উদ্যোগে বাংলা ভাষা শিখেন এবং বাংলার চর্চা করেন। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করার পর যোগ দেন সেইন্ট জ্যাভিয়ার্স কলেজে। সেখান থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে তিনি স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর তিনি তার মায়ের অনুরোধে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে আরবি ভাষা এবং সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯১৩ সালে তিঁনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে সম্মান সহ স্নাতক অর্জন করেন।এছাড়া এখানে তিনি আইন বিষয়েও পড়াশোনা করেন এবং বিসিএল ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯১৮ সালে গ্রে'স ইন হতে বার এট ল ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর ১৯২১ সালে কলকাতায় ফিরে এসে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

১৯২০ সালে তিনি বেগম নেয়াজ ফাতেমা কে বিয়ে করেন। বেগম নেয়াজ ফাতেমা ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী স্যার আবদুর রহিমের কন্যা।



তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯২৪ সালে। প্রথমে তিনি যোগ দেন চিত্তরঞ্জন দাসের স্বরাজ পার্টিতে। এ বছরেই তিনি কলিকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়ের নির্বাচিত হন। পৌরসভার মেয়র ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস। ‌১৯২৭ সালে স্বরাজ পার্টি থেকে পদত্যাগ করে ১৯৩৬ সালের শুরুর দিতে তিনি ইণ্ডিপেণ্ড্যাণ্ট মুসলিম পার্টি গঠন করেন এবং এবছরের শেষের দিকে এই দলটি বাংলা প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাথে একীভূত হয়। তিনি এই দলের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এর পরে ১৯৪৩ সালে তিনি খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রী সভায় যোগ দেন। খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রী সভায় তিনি শ্রম, পৌর সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালে বাংলার মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি ব্যাপক সমর্থন প্রদান করেন।পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৯৪৬ সালে তিনি পাকিস্তান আন্দোলনের প্রতি তার সমর্থন এবং সহযোগিতা প্রদান করেন। স্বাধীন ভারতবর্ষের ব্যাপারে কেবিনেট মিশন প্ল্যানের বিরুদ্ধে জিন্নাহ ১৯৪৬ সালের আগস্ট ১৬ তারিখে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের ডাক দেন।বাংলায় সোহরাওয়ার্দির প্ররোচনায় এই দিন সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৭ সালে তিনি বাংলার মূখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যান। উল্লেখ্য যে সোহরাওয়ার্দি ৪৭ এর দেশভাগের সাথে সাথে পাকিস্তানে চলে যাননি। পদত্যাগের পর তিনি সাথে সাথে পাকিস্তান না গিয়ে কলকাতায় থেকে যান। তবে ১৯৪৯ সালে তৎকালীন ভারত সরকার তার উপর ক্রমবর্ধমান করের বোঝা চাপালে তিনি ভারত ত্যাগ করে পাকিস্তান চলে যেতে বাধ্য হন।



১৯৪৭ এর আগস্টে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পরে মুসলিম লীগের রক্ষনশীল নেতারা খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে শক্তিশালী হয়ে উঠেন এবং খাজা নাজিমুদ্দিন জিন্নাহর পরোক্ষ সমর্থনে মুসলিম লীগের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন।খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ববাংলার মূখ্যমন্ত্রী হবার পর বেশ কয়েকবার সোহরাওয়ার্দিকে "ভারতীয় এজেন্ট" এবং "পাকিস্তানের শত্রু" হিসেবে অভিহিত করেন। এর পরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসামপ্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে পরে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।প্রতিষ্ঠালগ্নে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হন আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সহ-সভাপতি হন আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আলী আহমদ। টাঙ্গাইলের শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।



১৯৫৩ সালে তিনি একে ফজলুল হক এবং মাওলানা ভাসানীর সাথে একত্রে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। এই যুক্তফ্রন্টের নেতা ছিলেন ১) মওলানা ভাসানী, ২) একে ফজলুল হক ও ৩) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৫৪ সালের মার্চের আট থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন পায়। এরমধ্যে ১৪৩টি পেয়েছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ।১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ 'মুসলিম' শব্দটি বর্জন করে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এরপর মোহাম্মদ আলী বগুড়ার মন্ত্রীসভায় সোহরাওয়ার্দি আইনমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি ডিসেম্বর ২০, ১৯৫৪ হতে আগস্ট , ১৯৫৫ পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। আগস্ট ১১ , ১৯৫৫ হতে সেপ্টেম্বর ১, ১৯৫৬ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান আইনসভায় বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রনয়ণে তার ভূমিকা উলেখযোগ্য। এছাড়া তিনি সেপ্টেম্বর ১২, ১৯৫৬ থেকে অক্টোবার ১১, ১৯৫৭ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৫৬ সালে চৌধুরি মোহাম্মদ আলির পদত্যাগের পর তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পররাষ্ট্র বিষয়ে পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্রপন্থী মনোভাবের ব্যাপারে তাকে অগ্রদূত হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৯৫৬ সালে সংখ্যা-সাম্যের ভিত্তিতে একটি শাসনতন্ত্র গৃহীত হয়। কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ১৩ জন এমএনএ থাকা সত্ত্বেও রিপাকলিকান পার্টির সহযোগিতায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যেকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে তিনি পদক্ষেপ নেন। কিন্তু তার এই পদক্ষেপ ব্যাপক রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্ম দেয়। পূর্ব পাকিস্তানের মতো পশ্চিম পাকিস্তানেও এক ইউনিট ধারণা প্রচলনের তার চেষ্টা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের কারণে নস্যাৎ হয়ে যায়। এরপর ১৯৫৮ সালে ইস্কান্দার মীর্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারী করেন। আগস্ট ,১৯৫৯ হতে ইলেক্টিভ বডি ডিসকুয়ালিফিকেশান অর্ডার অনুসারে তাকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে রাস্ট্রবিরোধী কাজের অপরাধ দেখিয়ে তাকে জানুয়ারি ৩০, ১৯৬২ তে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং করাচি সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ করা হয়।আগস্ট ১৯, ১৯৬২ সালে তিনি মুক্তি পান। অক্টোবার, ১৯৬২ তে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট (এন ডি এফ ) গঠন করেন। এর পর তার শারীরিক অসুস্থ্যতায় ভুগতে থাকেন। স্বাস্থ্যগত কারণে ১৯৬৩ সালে দেশের বাইরে যান এবং লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর, ৭১বছর বয়সে তিঁনি মারা যান। তার মৃত্যু অনেকের কাছে এখনো রহস্যাবৃত।



গনতন্ত্রের এই মানসপুত্রের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তাঁর মৃত্যুদিবসে বিশ্বের সকল বাংলা ভাষা-ভাষী ও প্রথম আলো ব্লগের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

Huseyn Shaheed Suhrawardy

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ৯:০৬

রূপা কর বলেছেন: +++++

২| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ৯:১৩

বুতুন বলেছেন: সোহরাও্য়র্দী সাহেব এপারেও বিস্মৃত হননি; তবে ১৯৪৬ এর ১৬ আগস্টের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-এর জন্য ওনার ইমেজ এখানে ততটা ভাল নয়।অন্তত ৮০/৮৫/৯০ বছর বয়সী লোকেরা কেউই ওনাকে এই বিষয়ে বাহবা দেয়না।


তবে,আমাদের দেশ থেকে গিয়ে একজন অন্য দেশের নেতা হয়েছেন সেটা নিঃসন্দেহে গর্বের কথা।

৩| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ৯:১৪

আমার মন বলেছেন: গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি।

৪| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ১০:২৩

অপরাজেয় বিদ্রোহি বলেছেন: বুতুন বলেছেন: সোহরাও্য়র্দী সাহেব এপারেও বিস্মৃত হননি; তবে ১৯৪৬ এর ১৬ আগস্টের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-এর জন্য ওনার ইমেজ এখানে ততটা ভাল নয়।অন্তত ৮০/৮৫/৯০ বছর বয়সী লোকেরা কেউই ওনাকে এই বিষয়ে বাহবা দেয়না।


তবে,আমাদের দেশ থেকে গিয়ে একজন অন্য দেশের নেতা হয়েছেন সেটা নিঃসন্দেহে গর্বের কথা
সহমত।

৫| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ১০:৪৬

সদরুল করিম বলেছেন: ভাই আজকে উনার ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী :)

৬| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:২৯

সরলপাঠ বলেছেন: বিনম্র শ্রদ্ধা

৭| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:২২

রক্তলেখা বলেছেন: শ্রদ্ধা রইলো।

৮| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:২৬

আমি তুমি আমরা বলেছেন: সোহরাও্য়র্দী সাহেব এখনও বিস্মৃত হননি। মৃত্যুবার্ষিকীতে উনার জন্য রইল শ্রদ্ধা।

৯| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৪৪

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: শ্রদ্ধা রইলো..তিনি ছিলেন বনেদি ফ্যামিলির লোক....দেশের সাধারণ মানুষকে তিনি ভালবাসতেন.....তাই তাকে লাল ছালাম..তিনি এদেশের একজন পাইওনিয়ার রাজনীতিবিদ :)

১০| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১:৫৩

হাসিবুল ইসলাম বাপ্পী বলেছেন: সুন্দর হয়েছে, ভালো লাগলো। আপনাকে ধন্যবাদ। +++++

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.