নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“Blogger | Law Student | Human Rights Activist”

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু

লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে হলো—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

খবরটি পড়ার পর আমি আমার শিশুকে কাছে ডাকলাম। ওকে খুব সহজ ভাষায় “Good Touch” আর “Bad Touch” সম্পর্কে বুঝিয়ে বললাম। বললাম—

“তোমার শরীর একান্তই তোমার নিজের। কেউ যদি এমনভাবে ছুঁতে চায় যাতে তোমার অস্বস্তি লাগে, ভয় লাগে বা খারাপ মনে হয়—তাহলে সাথে সাথে ‘না’ বলবে এবং আমাদের জানাবে।”

আমরা তাকে এটাও বুঝিয়েছি—
কোনো বড় মানুষ বললেও চুপ করে থাকতে হবে না
ভয় পেলেও মা-বাবাকে সব খুলে বলতে হবে
শরীরের কিছু জায়গা একান্ত ব্যক্তিগত
কেউ গোপনে কিছু করতে বললে বা ভয় দেখালে তাৎক্ষণিক জানাতে হবে
নিরাপদ মানুষ কারা—সেটা চিনতে শিখতে হবে


শুধু তাই নয়, এখন সময় এসেছে বাবা-মা হিসেবে আমাদের আরও সচেতন হওয়ার।
সন্তানের বন্ধুদের সম্পর্কে খোঁজ রাখা, কোথায় যাচ্ছে নজর রাখা, কার সঙ্গে মিশছে খেয়াল রাখা—এসব খুব জরুরি। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। অনলাইনে অপরিচিত কারও সাথে যোগাযোগ, ভিডিও কল বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার মতো বিষয়গুলো নিয়েও সন্তানদের সচেতন করা প্রয়োজন।

আমরা অনেক সময় ভাবি, “আমার সন্তান তো ছোট”, “আমাদের এলাকায় এসব হয় না”, “চেনা মানুষ কখনো খারাপ হতে পারে না”—কিন্তু বাস্তবতা অনেক ভয়ংকর। তাই ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করে সন্তানদের সাথে নিয়মিত কথা বলতে হবে।

সন্তানদের শুধু ভালো স্কুলে ভর্তি করানো বা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নিরাপত্তা, সচেতনতা এবং আত্মরক্ষার শিক্ষা দেওয়াটাও এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সব বাবা-মায়ের প্রতি অনুরোধ—আজই অন্তত কয়েক মিনিট সময় নিয়ে আপনার শিশুর সাথে কথা বলুন। কারণ সচেতনতার একটি ছোট্ট আলো অনেক সময় একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।


তথ্য সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
সংবাদ শিরোনাম: শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা–হত্যা
খাটের নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে স্বজনদের সঙ্গে খুঁজতে যান আসামি : পুলিশ

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:০০

নতুন বলেছেন: আমাদের ডানার বয়স ১১ বছর হবে এই মাসে। আমরা দুইজন ওকে কখনোই চোখের নজরের বাইরে রাখিনি।

দেশের বাইরে থাকি বলে এটা সম্ভব হয়েছে কিন্তু দেশে এটা খুবই কস্টকর।

গতকালই একটা ভিডিও দেখলাম যে খুনী বলেছে যে ইয়াবা আসক্ত ছিলো এবং ঐ সময় সে শিশুটাকে হত্যা করেছে। এমন খুনীর জীবিত থাকার অধিকার নাই। যারা মাদকের ব্যবসার পেছনে আছে তাদেরও হত্যা করা উচিত।

বাবা মা এই শোক সইবার ক্ষমতা দিক।

১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: বাংলাদেশে দিন দিন শিশু নিরাপত্তা হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষকরে যারা কর্মজীবি প্যারেন্টস তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা ঝুকি আরো বেশি। একারনে ইদানিং বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার ঘটছে। বাবা-মা তাদের সন্তানকে মাদ্রসায় রেখে সারাদিন কাজ করেন, দিন শেষে বাসায় ফেরার সময় শিশুকে সাথে নিয়ে বাসায় ফিরেন। কিন্তু ঐসব মাদ্রাসায় শিশু কি শিখছে আর তাদের সাথে কেমন আচরন করা হয় সেটা আবার আরেক উদ্দেগের বিষয়।

আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২| ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

কিরকুট বলেছেন: আমার আপনার চোখের সামনে নিরীহ দর্শনের শিশুকামী লম্পট আছে ।

১৩ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: সমস্যাটা সেখানেই। আপনি আপনার শিশুকে বাসায় রেখে যাবেন কোনো নিকটাত্নীয়ের জিম্মায় দেখা যাবে আপনার শিশু তার মাধ্যমেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাহলে আপনি বিশ্বাস করেবেন কাকে?

৩| ১৩ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫০

এইচ এন নার্গিস বলেছেন: ব্যাপার টি অত্যন্ত জরুরী । তবে সমাধান সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব হওয়া এবং সহজ ভাবে গল্পের ছলে বুঝিয়ে দেওয়া। জিনস টি কি ,কি হতে পারে ,ব্যাপার গুলো কেনো করে মানুষ সব কিছু গল্পের ছলে হাসি খুশি মিশিয়ে এক্সপ্লেন করা। একেক বয়সে একেক রকমের মনের পরিবর্তন হয় । সেটা বাবা মাকে বুঝে সেই ভাবে আচরণ করাও জরুরী ।

১৩ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪২

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: সঠিক বলেছেন। বাচ্চাদের মানসিক গঠন বুঝে তাদের সাথে মিশতে হয়। আমরা অনেকেই আছি যারা শিশুকে ভালো করে বুঝিয়ে না বলে তাদের এসব ব্যাপারে দোষারোপ করি, ধমকাই, ভয় দেখাই। এরফলে শিশুরা ব্যাড টাচের শিকাড় হলেও বাবা-মায়ের কাছে ভয়ে বলতে চায় না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.