| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
র' সম্পর্কে স্বভাবতই প্রকাশ্যে কিছু জানা সম্ভব নয়। এমনকি ভারতীয়জনগনও এ সম্পর্কে খুব একটা কিছু জানতে পারেন না। 'র’-কত গোপনে কাজ করে সে সম্পর্কে ১৯৯০ সালে ভারতীয় সংসদের বি.জে.পি দলীয় এমপি শ্রী যশবন্ত সিং-এর মত হচ্ছে, ‘র’-এর সবকিছু এতই গোপনীয় যে, আমার মনে দৃঢ় সন্দেহ, এ এজেন্সী সম্পর্কে সরকারও ভালভাবে কিছু অবগত আছেন কিনা? 'র'-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এর বাৎসরিক বাজেট অত্যন্ত গোপনীয় এবং অপ্রকাশ্য; এমনকি সংসদে পর্যন্ত আলোচিত হতে পারে না । পত্রিকায় একজন RAW কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলা হয় , 'RAW has within its ranks every form of specialist from a cobbler to a nuclear
scientist'.
তবে ভারতীয় সাংবাদিক অশোকা রায়না লিখিত 'র' সম্পর্কে প্রকাশিত একমাত্র প্রামাণ্য গ্রন্থ 'Inside RAW : The Story of India's Secret Sevice-এ 'র' সম্পর্কে বেশ কিছু ধারণা পাওয়া যায়। একই সাথে অন্যান্য পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্ট ও বিশ্লেষণ থেকে আমরা 'র'-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে নিম্নলিখিত ধারণা পেতে পারি
'র'-এর প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ
'র'-এর প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় 'র' মূলত নিম্নলিখিত লক্ষ্যগুলো নিয়ে কাজ করে:
১. পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপর নজরদারি: প্রতিবেশীদের রাজনৈতিক ও সামরিক যেকোনো পরিবর্তন বা ঘটনা—যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে, সেগুলোর ওপর কড়া নজর রাখা।
২. পাকিস্তান কেন্দ্রিক নীতি: পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা, যুদ্ধাস্ত্রের সরবরাহ ও কৌশলগত অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং তা প্রতিহত করাকে সংস্থাটি অন্যতম প্রধান বিবেচনা মনে করে।
৩. চীন ও মার্কিন সম্পর্কের ওপর নজর: চীনের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনশীল রাজনীতি এবং আমেরিকার সাথে চীনের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করা।
৪. আঞ্চলিক একাধিপত্য (Hegemony) প্রতিষ্ঠা: দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক আধিপত্য বজায় রাখা, যেন কোনো তৃতীয় শক্তি এখানে ভারত-বিরোধী অবস্থান নিতে না পারে। প্রয়োজনে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও নেপালের মতো দেশগুলোতে অতীতে নেওয়া 'পুলিশী ভূমিকা'র পুনরাবৃত্তি ঘটানো।
৫. প্রভাব বিস্তার: ভারত মহাসাগরের কৌশলগত জলসীমাসহ সমগ্র উপমহাদেশে ভারতের সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিস্তার ঘটানো।
৬. 'অখণ্ড ভারত'-এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন: পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর 'অখণ্ড ভারত মাতা'র ধারণাকে ভিত্তি করে ভারতকে একটি বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত করা।
৭. প্রবাসী ভারতীয়দের (Diaspora) ব্যবহার: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের কাজে লাগানো। এই লবিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার থেকে ভারতের অনুকূলে সমর্থন আদায় করা
'র'-এর কার্যপদ্ধতি ও কৌশলগত তৎপরতা
লক্ষ্য অর্জনের জন্য 'র' বিভিন্ন প্রথাগত ও অপ্রথাবদ্ধ (Unconventional) কৌশল প্রয়োগ করে থাকে
1) সীমান্তবর্তী বিশেষ অপারেশন: জরুরি পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষায় এবং 'স্পেশাল সার্ভিস ব্যুরো' (SSB) অপারেটরদের সহায়তায় সীমান্ত অতিক্রম করে শত্রুর পশ্চাদভাগে (Behind enemy lines) সক্রিয় থাকা।
2) বিচ্ছিন্নতাবাদ ও নাশকতা: টার্গেট করা দেশের এজেন্টদের অন্তর্ঘাতমূলক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রয়োজনে নিজস্ব অপারেটিভদের সরাসরি মাঠে নামানো।
3) মিডিয়া ও প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ: অল ইন্ডিয়া রেডিও, দূরদর্শন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের অনুকূলে প্রচারণা চালানো। শিমলায় অবস্থিত অল ইন্ডিয়া রেডিওর 'মনিটরিং সার্ভিস' থেকে সমস্ত উন্মুক্ত বেতার তথ্য সংগ্রহ করে 'র'-কে সরবরাহ করা হয়।
4) ভুল তথ্য পরিবেশন (Disinformation): রেডিও, টিভি, সংবাদপত্র, গুজব এবং নিজেদের অনুগত (পঞ্চম বাহিনীভুক্ত) রাজনৈতিক দল বা সভার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। এর উদ্দেশ্য হলো টার্গেট দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং জনমতকে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা। এই কাজে তারা সংবাদকর্মী, কূটনীতিক ও পেশাজীবীদের অজান্তেই মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।
5) গোপন বিশেষ অপারেশন (SOD): সংস্থার 'বিশেষ অপারেশন বিভাগ' (Special Operations Division) টার্গেট দেশে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বিভিন্ন নোংরা ও অন্তর্ঘাতমূলক কাজ সম্পন্ন করে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এই ধরনের 'ডার্টি ট্রিকস' বা নোংরা কৌশলকে ভারত সরকার বৈধ মনে করে:
6) "যা একজনের কাছে নোংরা কৌশল, তা অন্যজনের কাছে হতে পারে একটি আইনসিদ্ধ ও বৈধ কাজ। যতক্ষণ এটি বৈধ দায়িত্ব হিসেবে গণ্য হবে, ততক্ষণ সরকারের অধিকার আছে তা সংস্থার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার এবং সংস্থার দায়িত্ব সেটি সম্পন্ন করা।"
7) অপকৌশল ও মধুচক্র (Honey Trapping): চোরাকারবারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং বিশেষ নারীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ বা ব্ল্যাকমেইলের (Espionage) কাজে সংস্থাটি পারদর্শী।
8) দ্বিতীয় পক্ষের (Third-party) ব্যবহার: যে সমস্ত দেশে 'র'-এর সরাসরি উপস্থিতি সম্ভব নয় বা অভিজ্ঞতা কম, সেখানে সমমনা বন্ধুভাবাপন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিয়ে কাজ উদ্ধার করা।
9) আকাশপথের উচ্চ-প্রযুক্তি নজরদারি: 'র'-এর অধীনস্থ ARC (Aviation Research Centre)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন আধুনিক 'গালফস্ট্রিম-৩' বিমানগুলো প্রায় ৫২,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়ে পাকিস্তান ও চীনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপরও নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও ম্যাপিংয়ের কাজ পরিচালনা করে থাকে।
১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৯
মেহেদী আনোয়ার বলেছেন: 'র' কে ভয় পাওয়ার কিছু ন.।.। যদি আপনি র এর বন্ধু হোন ![]()
২|
১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৯
মেঘনা বলেছেন: ইদানিং রংপুর জেলা ইন্ডিয়া নাকি কিনা নিবো এরকম একটা খবর চলতেছে এইটা কতটা বাস্তবসম্মত হইতে পারে। আধুনিক ও রাজনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় এরকম পরিকল্পনা কি আদৌ সম্ভব?
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০
রাজীব নুর বলেছেন: 'র' কে ভয় পাওয়ার কিছু নাই।