| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশ সরকারকে আমরা কর দিই। এর পরিবর্তে আমরা কিছু পাই না। ইউরোপের দেশগুলোতে সরকারকে কর দিয়ে জনগণ সামাজিক রক্ষা কবচ পায়। পথে ঘাটে কোন রাজনৈতিক আলোচনা নেই, হরতাল নেই, রাজনীতিবিদদের কলতলার ক্যাচাল নেই।
গণতন্ত্র মানে স্ট্রবেরিজনতার মতের প্রতিফলন। নীরবে ভোট দিয়ে আসা। তারপর নিজের চরকায় তেল দেয়া।
বাংলাদেশে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটায় কোন সরকারের পক্ষে এই দেশ চালানো সম্ভব বলে আমার মনে হয়না। মাথাপিছু যে সংখ্যক শিক্ষক, চিকিতসক,পুলিশ থাকা দরকার তা আমাদের নেই, যা আছে তা থেকেও নেই। প্রায় অসম্ভব একটা এসাইনমেন্ট নিয়ে শেখ হাসিনা চেষ্টা করছেন।
শেখ হাসিনার এই চেষ্টা শেখ মুজিবের মীথ অফ সিসিফাসের অনুগামী।
অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু বাংলাদেশ চালাতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর মনে হয়েছে চোরগুলো না থাকলে পারা যেত। ৭২-৭৪ এর তুলনায় এখন চোর বেড়েছে জ্যামিতিক হারে,শিক্ষিত সৎ মানুষ বেড়েছে গাণিতিক হারে। শেখ হাসিনার সেই-কম্বল ঠগ বাছতে আওয়ামীপল্লী উজাড় হতে চলেছে।
আবার যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখনি স্লেটের সব লেখা মুছে বাচ্চাদের লিখতে দেয়ার মতো গোড়া থেকে শুরু করে। ফলে এমনিতেই তৈলাক্ত বাঁশ তার উপর বার বার ফির সে খেলেঙ্গে বা কেঁচে গন্ডুষ করতে গিয়ে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি ৪০ বছরের প্রৌঢ় বাংলাদেশকে প্রাইমারী স্কুলের আদু ভাই বানিয়ে রেখে দিল। এখন উন্নয়নে আদু ভাই বাংলাদেশের সংসদে আদু ভাইবোনরাই বসবে সেটাই আশা করা যায়। ছাত্র নেতারাও আদুভাই। তাদের এপিটাফে লেখা হবে এইখানে ঘুমাইয়া আদু ভাই যিনি মন্তী হিসেবে ফেল মারিয়াছিলেন।
এই আদুভাইদের ব্যক্তিগত জীবনে বিনোদন বলতে কিছু নেই। তাই কচলা কচলি করে সময় কাটায় সংসদে। এখন ডান্ডালিজম চালু হবার পর আদু ভাইয়েরা বাংলা ছবির খল নায়কদের মতো মিডিয়ায় নন্দিত।
মহাজোট যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশ চালানোর চ্যালেঞ্জটা ভয়ংকর তা জেনেই এসেছে, বিশেষ করে আদু ভাইদের দিয়ে। অথচ মিডিয়ায় আওয়ামীলীগের কয়েকজন আদুভাই লো বাজেট বাংলা ছবির ভিলেন বা ভ্যাম্পদের মতো কথা বলতে শুরু করলেন। এমনি যে দেশ চালানো অসম্ভব,চারপাশে এতো গরীবী এতো অনাচার, সেইখানে নিজের চরকায় তেল না দিয়ে, বিএনপির আদু ভাইদের কাতুকুতু দিতে শুরু করলো। রাজনীতি হয়ে পড়লো কাতুকুতু নীতি।
আওয়ামী আদুকে জিজ্ঞেস করেন, আদু ভাই মন্ত্রণালয়ের এতো কাজ ফেলে বিএনপি আদুদের টিকলাচ্ছেন কেন?
আওয়ামী আদু তড়াক করে উঠবে, বিএনপি আদুরা আমগো দ্যাশ্ছাড়া করতে চাইছিল, এইবার ওগো দ্যাশ ছাড়া করুন। বিএনপি আওয়ামীন্যাতাকর্মী দ্যার অপ্র জ্যাল জুলুম করছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কইন্যা দ্যাশ রত্ন শ্যাখ হাসিনা, উনি উনি--; এরপর আওয়ামী আদুদের কথা শোনার মনোযোগ থাকেনা আমজনতার।
বিএনপির আদুকে জিজ্ঞেস করেন, এই যে ভাই হরতাল দিচ্ছেন কেন, দেশের গরীব মানুষ আরো গরীব হয়,না খেয়ে থাকে হরতালে?
বিএনপিআদু আপনার প্রশ্নের ধারে কাছে না গিয়ে খিঁচিয়ে ওঠে এই দিন দিন নহে আরো দিন আচে, ফ্যাসিস্ট সরকার বাকশাল কায়েম করতেছে, ঘষোক জিয়ার বিধবা পত্নী আপোষহীন ন্যাত্রী খালেদা জিয়াকে বাস্তুহারা করেছে জালিম সরকার, এরপর বিএনপি আদুদের কথা শোনার মনোযোগ থাকেনা আমজনতার।
দুই আদুভাইয়ের কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব না যে বাংলাদেশের যে সামগ্রিক অবস্থা, সেইখানে ২৪ঘন্টা কাজ করেও অনুন্নয়নের চাকাটাকে উন্নয়নের শিষ্টচক্রে নিয়ে যাওয়া কঠিন।সেই খানে যাত্রার বা সার্কাসের ভাঁড়দের মতো একে অপরের টুপি খুলে নিয়ে বা পাতলুন নামিয়ে দিয়ে আর কুস্তি করে মিডিয়া বিনোদনের সময় কোথায় পায় রাজনৈতিক নেতারা? তাহলে বুঝতে হবে এই বোধোদয় আদুনেতাদের কখনোই হবে না।
রাজনীতিতে ভালো লোক এখনো আছে, কিন্তু নতুন হানিফের রাজনৈতিক শিষ্টাচার সমৃদ্ধ কথার চাপে মুহিত সাহেব কাজ করতে পারেন না, বা দেলোয়ারের মেধার সামনে টিকতে পারেন না মঈন খান। রাজনীতিতে আদু ভাইয়েরা সংখ্যা গরিষ্ঠ হওয়ায় দেশ চলছে আদি ও আদু প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে।
রাজনীতিবিদেরা পলিসি মেকার,তারা পেশাজীবীদের দিক নির্দেশনা দিয়ে দেশ চালানোর কথা। একবিংশের রাষ্ট্র পরিচালনা আদু ভাইয়ের কম্ম নয়। টেন্ডার ও বিটিভি সন্ত্রাস বা বাড়ি নিয়ে ভেউ করে কাঁদা প্রকৃতির রাজনীতি দিয়ে কুসুম কলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দড়ি টানা টানি, পিলো পাসিং, মিউজিক্যাল চেয়ার,যেমন খুশী তেমনি সাজো প্রতিযোগিতায় থালা বাটি জেতা যায়, জাতিসংঘের মিলেনিয়াম লক্ষ্য পূরণ করার প্রতিযোগিতায় জুটে গোল্লা যা আদুভাইয়ের কপিরাইট স্কোর,যে কোন প্রতিযোগিতায়, শুধু নির্বাচন বানিজ্য ছাড়া।
একটি শিম্পাঞ্জীকে কলা হাতে দিয়ে ধানের শীষ বা নৌকা চিনিয়ে ভোটবুথে পাঠালে সে ঋণখেলাপী, করখেলাপ,টেন্ডারবাজ,চোরাচালানী,চোরস্য চোরের শাড়ী-লুঙ্গি-ট্যাকা-ফেন্সিডিল বা ডিজিটাল কলা খেয়ে আদু ভাইদের ভোট দিয়ে আসবে। ফলে রাষ্ট্রপরিচালনায় একবিংশের প্রফেশনালিজম চাওয়া আদু ভাইয়ের ম্যাট্রিক পাশ করার চ্যালেঞ্জের মতো।শিম্পাঞ্জী গণতন্ত্র চলছে এ,কারণ সেনা সমর্থিত বানানা গণতন্ত্র ধর্ম ব্যবসা ও দুর্নীতিকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে ঢুকিয়ে আই উইল মেক পলিটিকস করেছে, আম ন্যাড়া আর ক্যান্টনমেন্টের বেলতলায় যেতে নারাজ। এখন শিম্পাঞ্জী কতোদিনে একটু বিবর্তন হয়ে সহনীয় হয় সেই অপেক্ষায় আমজনতা।
বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি হচ্ছে, রাজনীতিতে আদু ভাই,ফলে পলিসি মেকিং এ সবচেয়ে অদক্ষ লোক রেখে তার নীচে আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী লোকজন। এরা আদু ভাইদের অধীনে কাজ করতে গিয়ে কলতলার ষড়যন্ত্রে মাঠে মারা পড়েন। পেশাগত শ্রেণীতে নেতা আদু ভাইদের প্রেফারেন্স নকল করে পাশ করা আদু পেশাজীবীরা। যে কারণে সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কোমায় চলে গেছে আদুদের ধূসর এনাটমীর ভুল চিকিতসায়।
বাংলাদেশ যেন এক মরণোপ্রায় রোগী, আওয়ামীলীগের কয়েকজন হাতুড়ে ডাক্তার অপারেশন থিয়েটারে, জানালায় ঢিল মারছে বিএনপির হাতুড়ে ডাক্তার রা, ওরা অপারেশন করতে চায়। বলাই বাহুল্য রোগী বিপন্ন। কিডনী,চক্ষু,হৃদপিণ্ড খুলে কারা বিক্রি করবে তার একটা আশংকা উভয়পক্ষের হাতুড়েদের মনে। টু বি অর নট টু বি। আদুদের ভাষায় হইতেও পারে,নাও হইতে পারে।
কার্টুনিস্টঃ আরিফ
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৪
মাসকাওয়াথ আহসান বলেছেন: ধন্যবাদ।
২|
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৩৩
হুপফূলফরইভার বলেছেন: এরচে দুঃখের আর কি হতে পারে যেখানে একটা দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল জনগনের সেবার পরিবর্তে জনগনের দুঃখদুর্দশার মেগাসিরিয়াল কারন হয়ে দাড়িয়েছে~
এই জঞ্জাল সাফ করবে কে?
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৫
মাসকাওয়াথ আহসান বলেছেন: তিরিশের নীচের তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা। অহিংস প্রত্যাখ্যানের মাঝ দিয়ে।
৩|
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৩৩
পুংটা বলেছেন: asen... apnare Bangladesher prodhan montri banaia dei...
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৭
মাসকাওয়াথ আহসান বলেছেন: ২১শে অগাস্ট গ্রেণেড হামলা ও সাম্প্রতিক ক্যান্টনমেন্ট অর্ধচন্দ্রের পরে কেউ তার শত্রুকেও যেন প্রধানমন্ত্রী হবার ইনডিসেন্ট প্রোপোজাল না দেয়।
ভালো থাকবেন।
৪|
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৫০
স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: সাধারণ মানুষের একটা অন্যায় চাওয়া আছে- ওদের মৃত্যুকামনা!
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৯
মাসকাওয়াথ আহসান বলেছেন: জমের অরুচি, কালো টাকা মাউন্ট এলিজাবেথে খরচ করে তবেই উনা্রা বিদায় নেবেন। স্রস্টা বা হালের ডারুইন তাদের মঙ্গল করুন।
৫|
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:০৩
পথভ্রষ্ট বলেছেন: আদুদের উপরে ঠাডা পড়ুক।
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৬
মাসকাওয়াথ আহসান বলেছেন: আদু ভাই পিঠে বস্তা বেঁধে কুস্তিতে নেমেছেন।
শুভেচ্ছা।
৬|
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৮:০৫
বক বলেছেন: তিরিশের নীচের তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা। অহিংস প্রত্যাখ্যানের মাঝ দিয়ে---চমৎকার অনুভূতি; অলরেডী যুদ্ধে আছি বন্ধু।
বিচ্ছিন্ন সব বিন্ধু জোড়া দিয়ে বির্মূত এক অবয়ব আঁচ্ করার জন্য ধন্যবাদ।বির্মূত সেই পথ মূর্ত করে নামিয়ে আনব ভবিষ্যতের কোন এক ১৬ই ডিসেম্বরে আমাদের এই প্রানপ্রিয় বাংলাদেশে
২৫ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:১১
মাসকাওয়াথ আহসান বলেছেন: অভিবাদন।
৭|
২৫ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৩১
হুপফূলফরইভার বলেছেন: লেখক বলেছেন: তিরিশের নীচের তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা। অহিংস প্রত্যাখ্যানের মাঝ দিয়ে।
এক কথায় অনন্য~ আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
কিন্তু পারলাম কৈ? আমাদের মাঝে যেভাবে কৌশলে বিভেদ তৈরী করা হয়েছে হচ্ছে~ আমাদের সমন্বিত পজিটিভ মানসিক কমিউনিটি গড়ে উঠার কুন সম্ভাবনাই দেখছি না~
২৫ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:১৪
মাসকাওয়াথ আহসান বলেছেন: আমার মনে হয় তিরিশের নীচের তরুণরা বদলে দিয়েছে সমাজ, সেইখানে আদু ভাইদের শিক্ষাদীক্ষা এতো কম যে পরিবর্তন আঁচ করতে পারছে না। ডেট এক্সপায়ার্ড ওষুধ যেমন জানতে পারেনা নিজের হাল।
তাই কেউ যখন বলে সম্ভব না, আমি দেখি সম্ভাবনা।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৩২
লীনা দিলরূবা বলেছেন: লেখাটা ভাল লাগলো।
কিন্তু কি আর করার আছে