নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাবনাকে লালন করি স্বদেশি হাওয়ায়

মাজহার পিন্টু

একজন মানুষ

মাজহার পিন্টু › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাদ বিসম্বাদ

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬


ম ঞ্চ না ট ক

এ ক টি না ট্য ম য় ঘ ট না প্র বা হ
বাদ-বিসম্বাদ




বাদ বিসম্বাদ

চ রি ত্র লি পি

১. জুবিন আশরাফ : অধ্যাপক
২. কুদরত হোসাইনী : অ্যাডভোকেট, কুদরতির স্বামী
৩. কুদরতি বানু : স্কুল টিচার, কুদরতের স্ত্রী
৪. হাসনা রহমান : এনজিও পরিচালক
৫. ইয়াসমীন জবা : মারুফ এহসানের স্ত্রী
৬. মারুফ এহসান : সরকারি কর্মকর্তা, ইয়াসমীনের স্বামী
৭. আফসান আকবর : ডাক্তার
৮. মতি হামজা : কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট
৯. আযম :



বাদ বিসম্বাদ

আতশবাজি। গান বাজছে। আলো জ¦লে উঠলে দেখা যায়, সাজানো গোছানো একটি জায়গা। অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাজানো হয়েছে। অতিথিরা একে একে আসতে থাকে। কুদরত আর কুদরতি এসে সবাইকে স্বাগত জানায়। এই দু’জনের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজন। এরা সবাই স্কুল ফ্রেন্ড। আজো বন্ধুত্ব অটুট আছে। সবার উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। স্মৃতিচারণ, কেউ কৌতুক শোনায়, কেউ জাদু দেখায়, কেউ গান শোনায়। অবশেষে কেক কাটার পালা। রাতের খাবার খেতে সবাই ভেতরে যায়।
ইয়াসমীন আর হাসনা এক কোণে দাঁড়িয়ে ফিসফাস করে। মতি এসে ওদের আলাপে বাগড়া দেয়। দু’জনের কানপড়ায় বিরক্ত মতি ঝগড়া লাগিয়ে দেয়। বিষয়, অতীতের একটি সামান্য ঘটনা। খাবার শেষে বাকিরাও ফিরে আসে। এবার তর্কে দুটো পক্ষ তৈরি হয়ে যায়। কুদরত, কুদরতি এসে থামানোর চেষ্টা করে। সবার ভেতর একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বিষণœ মনে সবাই বিদায় নেয়। মন খারাপ হয় কুদরত দম্পতির। কি থেকে কি হয়ে গেলো। ওরা পুরো বিষয়টা বিশ্লেষণের চেষ্টা করে। ওরা বিবাদ মেটানোর জন্য একটা কৌশল ঠিক করে। সেই অনুযায়ী ওরা কাজ করতে থাকে। এবং অতঃপর ....




দৃশ্য : ০১
সময় : রাতের বেলা
চরিত্র : কুদরত, কুদরতি, জুবিন, হাসনা, ইয়াসমীন, মারুফ, আফসানা মতি

আতশবাজির শব্দ। গান বেজে ওঠে। আলো জ¦ললে দেখা যায় সুন্দর সাজানো গোছানো একটি জায়গা। অতিথিরা একে একে আসতে থাকে।
মতি: কই, লোকজন কোথায়? গেস্টরা চইলা আসছে আর বাড়ির লোকজনের খবর নাই। এইটা হইলো কিছু।
আফসানা: কুদরত, তোমার কুদরতিকে নিয়ে চলে আসো বন্ধু। শুভ কাজে দেরী করতে নেই।
হাসনা : কি বলবে ওকে। স্কুল লাইফ থেকে দেখছি ও কোনো কিছুতেই টাইম মেইনটেইন করতে পারে না। কি যে হবে ওর।
মতি: অর আর কি দোষ কও। ভানুর কৌতুক শোনো নাই, ও তো জন্মের সময়ই দুই ঘণ্টা লেটে জন্মাইছে। হওয়ার কথা দশটায় আর হইছে বারোটায়। সেই দুই ঘণ্টা কুদরত আইজও কভার করতে পারে নাই।
আফসানা: বোঝা গেছে, এটা হবে মিডনাইট পার্টি।
মারুফ : ওহ নাইস, অনেকদিন পর একটু লাল পানির স্বাদ নেয়া যাবে।
ইয়াসমীন: না না, ওসব এখানে চলবে না। বয়েস হয়েছে, এবার নিজের দিকে নজর দাও।
মারুফ : তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে ও জিনিস আমি রেগুলার পান করি।
ইয়াসমীন: তোমাকে বিশ^াস নেই।
মারুফ : কি বললে? কি বললে তুমি? আমাকে বিশ^াস করা যায় না?
ইয়াসমীন: ইদানিং তোমার কাজে কর্মে তেমনই মনে হয়।
হাসনা: বাদ দাও তো এসব।
মারুফ : না না কিসের বাদ দেবো, ষোলো বছর সংসার করে আজ বলছো বিশ^াস করা যায় না?
ইয়াসমীন: হয়েছে, এখন রাখো।
মারুফ : না না এখন বললে তো হবে না। এই আফসানা তুই বল।
এসময় কুদরত, কুদরতি আসে।
সবাই হৈ হৈ করে ওঠে।
সবাই শুভেচ্ছা জানায়।
কুদরত: কি ব্যাপার, একটু হৈ চৈ হচ্ছিল মনে হয়।
হাসনা: তেমন কিছু না, ওটা মিতু আর ইয়াসমীনের ফ্যামিলি এন্টারটেইনমেন্ট।
কুদরতি: একদম ঠিক আছে। মাঝে মাঝে একটু গা ঝাড়া না দিলে চলে না।
জুবিন: বন্ধু, হ্যাপি ম্যারেজ ডে।
সবাই : শুভ বিবাহবার্ষিকী।
মতি : তা দোস্ত বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে কি প্ল্যান করলা?
কুদরত: এই তো প্ল্যান, তোমরা এসেছো আনন্দফুর্তি হবে। ব্যস।
আফসানা: তাহলে দেরি কেন, কেকটা কাটা হয়ে যাক।
জুবিন: কেক পরে, আগে গান-গল্প-আড্ডা হবে, তারপর।
মতি : ওকে,আমি তাইলে শুরু করি। যেহেতু বিবাহবার্ষিকী তাইলে ওই ধরনের একটা জোকস শুনাই।
সবাই হৈ হৈ করে ওঠে।
মতি: ভরপুর সভা চলতাছে। এক বিখ্যাত বক্তা তার ভাষণের এক পর্যায়ে বলতাছেÑ আমার জীবনের সেরা সময় কাটছে এক মহিলার সাথে। কিন্তু সে আমার স্ত্রী নয়। শ্রোতারা কথাটা শুইনা একটু থমকাইয়া গেল। কেউ একজন জানতে চাইলো তাইলে কে সে মহিলা?এইবার বক্তা বললেনÑ সেই মহিলা হইলো আমার মা। সবাই বেশ হাততালি দিল। তো আমাগো হাবলুও সেখানে উপস্থিত ছিল। ঠিক করলো এইটা সে বাড়িতে গিয়া বউরে বলবে। হাবলুর বউ তখন রান্নাবান্নায় ব্যস্ত ছিল। হাবলু সোজা সেইখানে গিয়া বউরে বললোÑ আমার জীবনের সেরা সময়গুলো এক মহিলার সাথে কাটছে, কিন্তু সে আমার স্ত্রী নয়। হাবলুর বউ বাকিটা শোনার জন্য তাকায়া থাকলো কিন্তু বউয়ের চাহনি দেইখা বাকি কথা সে মনে করতে পারলো না। টের পাইলো কিসের যেন গরম ছ্যাকা লাগলো। তারপর হাবলুর আর কিছু মনে নাই। যখন জ্ঞান ফিরলো, দেখলো সে হাসপাতালে। ফুটন্ত পানিতে পোড়া আঘাতের চিকিৎসা চলতাছে।
সবাই হেসে ওঠে।
কুদরত: জোস্ জোস্
হাসনা: দারুণ বলেছো।
মারুফ : আরেকটা হয়ে যাক।
আফসানা: আমিই তাহলে বলি। বনের রাজা বাঘের বিবাহের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে। ইঁদুর এসে বাঘের কাছ থেকে সবাইকে দাওয়াত করার দায়িত্বটা নিলো। এরপর সে বনের সকল পশুপাখিকে দাওয়াত দেয়া শুরু করলো। বললোÑ আমার ভাইয়ের বিয়ে। তোমাদের সকলের দাওয়াত। তো পশুপাখিদের মধ্যে শেয়াল হচ্ছে চালাক। তার একটু খটকা লাগলো। সে ইঁদুরকে ডেকে জিজ্ঞেস করেÑ এই ব্যাটা ইঁদুরের বাচ্চা ইঁদুর, বনের রাজা তোর ভাই হয় কি করে? ইঁদুর দুঃখ করে বলেÑ ভাই শিয়াল, সে অনেক দুঃখের ঘটনা। বিয়ের আগে আমিও বাঘ ছিলাম। শিয়াল থতমত খায়।
সবাই হেসে ওঠে। মিতু জুবিনকে উদ্দেশ্য করে বলেÑ
মারুফ : আমাদের গ্রেট ম্যাজিশিয়ান কিছু করবে মনে হয়।
জুবিন কথা বলতে বলতে শুরু করে।
জুবিন : আমাদের দোস্তের বিবাহবার্ষিকী আর আমি ম্যাজিক দেখাব না তা কি হয়।
জুবিন ম্যাজিক দেখাতে শুরু করে।
ম্যাজিক দেখানো শেষ হলে সবাই হাততালি দেয়।
মতি: দোস্ত তোর জাদুর কাছে জুয়েল আইচ, পি সি সরকার সব ফেল। দারুণ দারুণ।
জুবিন : ব্যস ব্যস হয়েছে। আর তেল মারতে হবে না। কই আগরতলা আর কই চৌকির তলা। আমার এসব জাদু বাচ্চা ছেলেরাও জানে।
হাসনা : তো বন্ধুগণ আর দেরি কেন। কেকটা কাটা হয়ে যাক।
কুদরত কুদরতি মিলে কেক কাটে।
মারুফ : কেকটা দারুণ, কোত্থেকে এনেছিস রে।
কুদরত: আজকে কোনো খাবারই বাইরের নয়, কুদরতি নিজের হাতে সব করেছে।
ইয়াসমীন: কি বলে, ও আবার রাঁধতে জানে নাকি?
মারুফ : সবাই তো আর তোমার মত নয় যে হোটেল থেকে কিনে এনে বলবে সব আমার নিজের হাতের।
ইয়াসমীন: একবার অমন করেছি বলে বছরের পর বছর খোটা দিয়ে যাচ্ছে।
আফসানা: ইয়াসমীন তুমি একবার আমাদের দাওয়াত দিয়ে দেখিয়ে দাও তো গা-ুটা মিথ্যে কথা বলছে।
মারুফ : তোদের দাওয়াত দিয়ে কোনো লাভ আছে।
আফসানা: একেই বলে ব্যবসায়ী মাইন্ডেড, করিস তো সরকারি চাকরি আবার লাভ-ক্ষতির হিসাব খোঁজো, তাও বন্ধুদের সাথে।
মারুফ : তুই তো ব্যাটা ডাক্তার, কসাই, কোনোদিন ভিজিট মাফ করেছিস?
আফসানা: সেটা তুমি আমার গরীব রোগীদের গিয়ে জিজ্ঞেস কর। তুই তো কম কামাস না আবার ফাও খেতে চাস কেন?
কুদরত: শোনো, খাবার গরম থাকতেই খাওয়া ভালো, এরপর আড্ডা দেয়া যাবে। চল সবাই।
সবাই ভেতরে যায়। আলো নিভে যায় ধীরে।

দৃশ্যান্তর

দৃশ্য : ০২
সময় : রাতের বেলা
চরিত্র : কুদরত, কুদরতি, জুবিন, হাসনা, ইয়াসমীন, মারুফ, আফসানা মতি
হাসনা ফোনে কথা বলতে বলতে আসে।
হাসনা : ঠিক আছে কালকে আপনি টিকেটটা কনফার্ম করে রাখবেন। আমি এসে আপনাকে টাকা দেবো।
ইয়াসমীন: এই যে হাসনা, তোকে খুঁজছিলাম।
হাসনা: কেন রে কি হয়েছে।
ইয়াসমীন: আবার নাকি ট্যুরে যাচ্ছিস?
হাসনা: এখনও ঠিক করিনি, এখানে কিছু কাজ আছে। ওগুলো শেষ করে তারপর।
ইয়াসমীন: এবার আমি তোর সাথে যাবো।
হাসনা: মাফ কর ভাই। আমার একা ট্যুর করতেই ভালো লাগে। মরে গেলেও আমি এটা কারো সাথে শেয়ার করব না।
ইয়াসমীন: এক কথায় সব শেষ।
হাসনা : কিছু করার নেই। আমি যদি তোর পুরো খরচ দেই?
হাসনা : এসব রাখ তো, আগে প্ল্যান ফাইনাল হোক। আসলে একা চলতেই পছন্দ করি। আচ্ছা তুই তো ফারুকদের সাথে যেতে পারিস। ও তো আগামী সপ্তায় থাইল্যান্ড যাচ্ছে। ফুল ফ্যামিলি।
ইয়াসমীন: ওমা ককখোনো না। তুই জানিস না, বাইরে আমাদের সাথে আন্তরিকতা দেখালে কি হবে, জামাই বউ দুটোই হিংসুটে।
হাসনা : তুই কি করে বুঝলি?
ইয়াসমীন: তুই তো ওদের সঙ্গে খুব একটা মিশিস নাই, মিশলে বুঝতি। তোকে নিয়েই তো কত কথা বলে।
হাসনা : তাই নাকি!
ইয়াসমীন: বাহ, আমি মিথ্যে কথা বলছি নাকি।
হাসনা : না, তা না, কি বলে আমাকে নিয়ে?
ইয়াসমীন: থাক আর এত সব শুনতে হবে না।
হাসনা : আহা বল না।
ইয়াসমীন: থাক না, অন্যের সমালোচনা করা ঠিক না।
হাসনা : এই তো এখন নাটক শুরু করলি। বলবি কি না?
ইয়াসমীন: ফারুখ ঠিক না। ওর ছেলেটা কি যেন নামÑ
হাসনা : হ্যাঁ রনি। কি বলছিল?
ইয়াসমীন: বলছিল হাসনা আন্টি একা একা দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ায়, একটা বিয়ে করে নিলেই পারে। চিন্তা কর এইটুকু একটা পুচকা ছেলে, কি তার পাকা পাকা কথা।
হাসনা : ওর বাবা-মা কিছুই বললো না?
ইয়াসমীন: কি বলবে, আরো মিটিমিটি হাসে।
হাসনা : আরো কিছু বলে নিশ্চয়ই।
ইয়াসমীন: থাক আজকে, আরেকদিন শুনিস?
হাসনা : তুই নিজের কাছে শুনেছিস?
ইয়াসমীন: আমি কান কথায় বিশ্বাস করি না। যে ক’দিন ওদের বাসায় গিয়েছি সে ক’দিনই বলেছে।
হাসনা : শোন ইয়াসমীন আমিও কারো পিছু কথা বলা পছন্দ করি না। পাশে কথা বলা লোকগুলো হলো কুকুরের মত। কুকুর যেমন পেছন পেছন ঘেউ ঘেউ করে।
ইয়াসমীন: কি বলছিস এসব।
হাসনা : ওদের সাথে দেখা হলে বলে দিস।
ইয়াসমীন: আবার কেন আমাকে ...
এ সময় মতি আসে।
মতি: এইখানে কিসের ষড়যন্ত্র চলতাছে। ফারুকের নাম শুনলাম মনে হয়। ওই হারামী আবার কি করছে। ও হইলো রিয়েল নেতা, জনগণরে নিয়া ভালোই খেলতে পারে।
হাসনা : মতি শুনছিস, ফারুক নাকি আমার নামে যা তা বলছে।
মতি : কে কইলো এই কথা।
হাসনা : বলেছে একজন।
মতি: আপা নামটা জানলে বোঝা যাইতো কোন কিসিমের লোক। তবে মনে হয় না ফারুক এমন বলবে, ও আমাদের ছোটবেলার বন্ধু, কিছু কইলে তো সামনা সামনি
কইবো।
ইয়াসমীন: হুহ, সব কথা সামনা সামনি বলবে। ওর পেট ভরা হিংসা। সেদিন ওর বউ আমার সাথে যে ব্যবহারটা করেছে কি বলবো। আর ওর ছেলেটা তো আস্তা একটা
বেয়াদব। আবার গর্ব করে বলে জেন জি। আদব কায়দা কিচ্ছু জানে না।
মতি : ও রে বাবা, তুই এত ক্ষেপলি ক্যান কমলা সুন্দরি, কাহিনী কি?
হাসনা : আমাকে যা তা বলে পার পেয়ে যাবে এটা তো হতে পারে না। হোক সে ছোটবেলার বন্ধু।
জুবিন : ফারুককে কল করা হোক।
ইয়াসমীন: ওরা কক্সবাজার গেছে, কাল ফিরবে। না হলে ওরা এখানে আসতো।
মতি : বা বা তোর কাছে দেখি সব খবরই আছে।
ইয়াসমীন: থাকবে না কেন, হাজার হোক সে তো আমাদের বন্ধু।
মতি: বন্ধুই যখন, তখন অর বিরুদ্ধে কুটনামি করার মানে কি?
ইয়াসমীন: কি বললি, আমি কুটনামি করি! কে বলেছে তোকে বল, এক্ষুণি বল!
মতি : কেউ বলে নাই, আমি অনুমান করি আর কি।
জুবিন : কি শুরু করলি তোরা।
কুদরতি: একজনের অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে এত কথা বলা কি ঠিক।
হাসনা : না না ও আসুক না, আমি তো ওকে ধরবো।
মারুফ : ফারুক কি খুব ভালো মানুষ নাকি, ও তো একটা জোচ্চোর। আমার সাথে ও প্রতারণা করেছে। ও নাকি আবার নেতা জনগণের কল্যাণে কাজ করে।
জুবিন : তোমার সাথে আবার কি করেছে?
মারুফ : কি করে নাই ওর দু দুটো বড় বড় প্রজেক্ট আমি পাশ করিয়ে দিয়েছি। পার্টির অভাব ছিল না, কিন্তু স্রেফ আমার বাল্যবন্ধু বলে কাজ দুটো আমি ওকে দিয়েছি।
কুদরত: খুব ভাল করেছো।
মারুফ : কিন্তু ও যে আমার সাথে চিট করলো। তোমরা আবার ওকে সাপোর্ট করো। একটা ভন্ড নেতা।
মতি: আস্তে আস্তে বন্ধু, ও ভন্ড নেতা ঠিক আছে কিন্তু তুমি কি? তুমি কি দেশ ও জনগণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছো।
মারুফ : করেছি তো, দেশের উন্নয়নে কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ কাজ করছে।
আফসান: এগুলো সব তোমাদের গুলতানি। জনগণকে ধোঁকা দেয়ার বুলি।
হাসনা : ঠিক বলেছিস আফসান, আমি তো সারাদেশ ঘুরে বেড়াই। প্রজেক্টের নামে কত হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে।
মতি: বুঝলা তো দোস্ত মিতু, কানাডার বেগম পাড়ায় যে আলীশান বাড়ি বানাইছো সেই টাকা কোত্থেকে আসলো। মাসে মাসে গাড়ি বদলাও, জামা কাপড় আসে বিদেশ থিকা।
মারুফ : দেখ, তুই এখন আমার পার্সোনাল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছিস।
মতি: যত দোষ নন্দ ঘোষ, সুযোগ পাইয়া সব দোষ একজনের ঘাড়ে চাপাইতাছো তাই বললাম।
জুবিন : তুমি কি ধোয়া তুলসীপাতা নাকি। কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট। সরকারি দলের দালালি করা ছাড়া আর কি করেছ। সারাজীবন জেনে এসেছি শিল্পী সাহিত্যিকরা
সমাজের বিবেক। সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরাই তাদের কাজ। আর এখন কি দেখছি, ওমুক শিল্পী অমুক দলের তমুক শিল্পী তমুক দলের চূড়ান্ত দেখিয়েছো তোমরা। সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই।
মতি: সত্য কথা বলার জন্য তোমারে স্যালুট জুবিন। বাঙালি বড় কঠিন মাল, মুহুর্তে চেহারা পাল্টাইতে পারে। প্রতিবাদ করার কেউ নাই কথাটা ঠিক না। ছিল, কিন্তু তার পক্ষে দাঁড়ানোর মত তো কেউ নাই, তুমি প্রতিবাদ করবা তো হয় গুম হইয়া যাইবা নাইলে জেল খাটবা নাইলে নির্যাতনের শিকার হইবা। প্রতিবাদ করতে গিয়া আমি তো দুইবার জেল খাটলাম।
মতি : আর এই যে, সরকারি ডাক্তার। স্বাস্থ্য বিভাগ।
আফসান: শোন, চাইলেও সবসময় নিজের মতো করে চলা যায় না। আমি তো ফরেনসিক ডাক্তার। যারা সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি ময়না তদন্ত করে। আমার স্যার, তিনি সরকারি মেডিকেলের ফরেনসিক ডাক্তার ছিলেন। একবার এক ময়না তদন্ত নিয়ে তার সাথে লেগে যায়। সেই প্রভাবশালী পক্ষ তাকে মিথ্যা তদন্তের রিপোর্ট দিতে বলে। বিনিময়ে মিলবে মোটা টাকা, বিলাসী জীবন। তিনি রাজী হননি। ফল হলো, এক রোড অ্যাক্সিডেন্টে তার অপমৃত্যু হলো। এবার বল কে নিজের জীবনটা দিতে চায়, সবাই তো আর স্যারের মতো না।
জুবিন : দেখো, অজুহাত দাঁড় করিয়ে কোনো লাভ নেই। মতি যদি পারে, তোমরা পারবে না কেন? আসলে আমরা সবাই পঁচে নষ্ট হয়ে গেছি। কচ্ছপের মতো খোলস পরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। নিজে টিকে থাকলেই তো হয়, অন্যের যা খুশি হোক তাতে আমার কি।
কুদরত: খুব ভালো বলেছিস দোস্ত। আমাদের চরিত্র খুব জটিল, গিরগিটির মতো।
মতি: শোনো, আরো খারাপ হইলো যারা কান কথা কয় আর যারা কান কথা শোনে।
ইয়াসমীন: মনে হচ্ছে কথাটা আমাকে বললি?
মতি: তুমি গায়ে টাইনা নিলে তো আমার কিছু কওনের নাই।
ইয়াসমীন মিতুর হাত ধরে টানে।
ইয়াসমীন: চল, এখানে আর থাকবো না।
মারুফ : কেন কি হলো?
ইয়াসমীন: ওরা আমাদের অপমান করছে আর তুমি বলছো কি হলো? তোমার কি গন্ডারের চামড়া?
হাসনা : এত রেগে যাচ্ছিস কেন, এখানে তো আমরা আমরাই।
ইয়াসমীন: থাক, আর সান্তনা দিতে হবে না। তোর জন্যই তো ঝামেলা লাগলো।
হাসনা : আমি আবার কি করলাম।
ইয়াসমীন: তুই তো ফারুকের কথা তুললি।
হাসনা : আমি তুলেছি না তুই। বাহ, এখন সব দোষ আমার।
ইয়াসমীন: এহসান, তুমি যাবে নাকি আমি চলে যাবো।
আফসান: এত সুন্দর একটা প্রোগ্রাম নষ্ট করে দিয়ে চলে যাবি?
ইয়াসমীন: আমরা যে ভালো আছি এটা তোমাদের সহ্য হচ্ছে না।
জুবিন : একদম ঠিক বলেছিস। কি দরকার ছিল এমন একটা প্রসঙ্গ টেনে আনার।
মতি : বাহ, অধ্যাপক সাহেব। তুমি আবার ওরে সাপোর্ট করতাছো।
কুদরতি: আচ্ছা প্লিজ, সবাই থামো তো। ঝগড়া করে আনন্দটাই মাটি করে দিচ্ছো।
ইয়াসমীন: একশ বার দিব। আমি কথা বললেই তো দোষ হয়ে যায়।
মতি : তোমারে তো কেউ দোষ দেয় নাই, তুমি নিজেই ঘাড়ে নিছোÑ
জুবিন : আর তুমিই বা ওকে খোঁচাতে গেলে কেন? বাঙালির এই খোঁচাখুঁচির অভ্যাসের জন্যই কিছু করতে পারলো না।
আফসান : একদম ঠিক বলেছিস। এমন একটা আয়োজন এই খোঁচাখুঁচির কারণে নষ্ট হয়ে গেলো।
মতি : ও উচিত কথা কইলেই দোষ। তোমরা নিজেরা যখন একজন আরেকজনের পিছনে লাইগা থাকো তখন আর শান্তি নষ্ট হয় না।
জুবিন : আজকে আমাদের বন্ধু কুদরত কুদরতির বিবাহ বার্ষিকী। কোথায় ওদের নিয়ে কথা বলব। যত্তোসব।
মারুফ : মতি আজকে প্ল্যান করে এসেছে আমাদের অপমান করবে।
মতি : দেখ, উল্টাপাল্টা কথা বইলা মেজাজটা খারাপ করবি না বইলা দিলাম।
জুবিন : মনে হচ্ছে একমাত্র তোরই মেজাজ আছে।
মতি : আমি বলছি তুই চুপ কর।
জুবিন : কেন চুপ করব। সুন্দর পরিবেশটা নষ্ট করে দিচ্ছিস তোরা।
হাসনা : আসলে দোষটা আমারই, আমি না বললেই পারতাম।
মতি : থাম, ওই জুবিন তুই নিজেরে ভাবস কি। কিছু না জাইনা হুট কইরা মাঝ খান দিয়া কথা কওয়ার পুরান অভ্যাস ছাড়।
জুবিন : ব্যাস, আমাকে জ্ঞান দিতে হবে না। মানুষ পড়াই আমি। আমি একজন অধ্যাপক।
মতি : এজন্যই তো সব জায়গায় অধ্যাপনা করতে চাস
জুবিন : দেখ, আমার কিন্তু ভালো লাগছে না।
ইয়াসমীন মারুফকে টেনে নিয়ে বেরিয়ে যায়।
কুদরত কুদরতি ওদের থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ওরা শোনে না। একে একে বিষণœ মনে সবাই বিদায় নেয়। কুদরত কুদরতি চুপচাপ বসে থাকে।

দৃশ্যান্তর

দৃশ্য : ৩
সময় : রাতের বেলা, শোবার ঘর
চরিত্র : মারুফ, ইয়াসমীন

দু’জন চুপচাপ বসে আছে।
মারুফ : ছি ছি এমন একটা ঘটনা ঘটে গেলো।
ইয়াসমীন : ঘটবেই তো, একটা কথার প্রতিবাদ করেছো।
মারুফ : করবো না কেন।
ইয়াসমীন : অমন মিন মিন করে কথা বললে হয়।
মারুফ : দেখো, ওরা আমাদের বন্ধু।
ইয়াসমীন : বন্ধু না ছাই, বন্ধু হলে এমন অপমান করে কেউ কথা বলে। তুমি কোন প্রজেক্টের টাকা খেয়েছো, কাকে দিয়েছো এগুলো তোমার ব্যাপার, ওরা এসব নিয়ে কথা বলার কে?
মারুফ : বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে এমন হয়।
ইয়াসমীন : তুমি থাকো তোমার বন্ধু নিয়ে, আমি ওদের সাথে আর কথা বলবো না।
মারুফ : আচ্ছা, তুমি একটা কথা বলতো, কি দরকার ছিল হাসনাকে নিয়ে ফারুক কি কথা বললো, এসব গায়ে পড়ে জানানোর?
ইয়াসমীন : বাহ্, সত্য কথা বললেই দোষ?
মারুফ : সব সত্যি সব জায়গায় বলতে নেই। হাসনাই বা কেমন, কি দরকার ছিল আবার সাক্ষী মানার।
ইয়াসমীন : ও তো স্বার্থপর একটা মেয়ে, কোনোদিন দেখেছো ওকে কোনো কাজে টাকা খরচ করতে।
মারুফ : একটা জিনিস বুঝলাম না, ওরা সবাই মিলে আমাদের পেছনে লাগলো কেন?
ইয়াসমীন : হিংসা বুঝলে হিংসা, তুমি এত বড় বড় জায়গায় যাও, দেশের বড় বড় লোকজনের সাথে তোমার খাতির, এত বড় বড় পার্টি দাও, অথচ ওদের দাওয়াত দাও না। ঘন ঘন বিদেশ সফর কর।
মারুফ : আজকের ঘটনাটা মন থেকে যাচ্ছেই না। ওরা সবাই একেকজন যেন সততার প্রতিমূর্তি, কেউ কোনো ঘুষ খায়নি, দুর্নীতি করেনি, কোনো অন্যায় করেনি, সব করেছি আমি।
ইয়াসমীন : হয়েছে বাদ দাও এখন, ওদের সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখবে না। আমি দেখে আসি অনীক ঘুমিয়েছে কিনা।
ইয়াসমীন বেরিয়ে যায়।


দৃশ্যান্তর


দৃশ্য : ৪
সময় : রাতের বেলা, জুবিনের ড্রইংরুম
চরিত্র : জুবিন, মতি
দু’জন বসে ড্রিংকস করছে।
জুবিন : যাই বলিস মতি, তোর উচিত হয়নি ইয়াসমীনকে এভাবে ইনসাল্ট করা। আফটার অল আমরা একটা পার্টিতে গিয়েছি। আর সেটা ককটেল পার্টিও ছিল না যে মাল খেয়ে মারামারি করবে কিন্তু দেখলাম কেউ মদ না খেয়েও মাতাল হয়ে গেছে।
মতি : দোস্ত, আমরা মরি কিসে জানস, গুজবে। তুই কইলি রানীর পেটে কাউয়ার মতো দেখতে একটা বাচ্চা হইছে, এইটা শ্যাষ পর্যন্ত গিয়া ঠেকলো যে রানীর পেটে হাজার হাজার কাউয়া হইছে। এক গুজবে তর লাইফ শেষ হইয়া যাইতে পারে। আর আমাগো দেশে তো মানুষ গুজবরে বিশ^াস করতে ভালোবাসে। ইয়াসমীনের স্বভাবই হইলো তিল রে তাল করা, এইসব আমার একদম পছন্দ না।
জুবিন : হাসনারও দোষ আছে। ঠিক আছে ইয়াসমীন তরে ফারুকের কথা কইছে তা তুই এখানে লাফালাফি না করে ফারুককে গিয়ে জিজ্ঞেস কর। কি বুদ্ধি নিয়ে ও ঘুরে বেড়ায় কে জানে।
মতি : শোনো দোস্ত, আমাগো বন্ধু বান্ধবরা সবাই মোটামুটি এশটাবলিশ। এইখানে কারোরই কোনো টেনশন নাই একমাত্র আমি ছাড়া।
জুবিন : কেন তুইও তো এশটাবলিশ। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ।
মতি : ওইটুকই। এছাড়া আমার দেশে বিদেশে কোনো বাড়িঘরও নাই, হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্সও নাই। ওগো মতন সুশীলের তালিকায় আমার নামও নাই।
জুবিন : আবারও খোচা মারা শুরু করলি?
মতি : না না খোচা মারুম ক্যান, বাস্তব যা, তাই কইতাছি। আমি মুখোশ পরি মঞ্চে আর তরা তো চব্বিশ ঘণ্টাই মুখোশ পইরা ঘুরতাছোস। হা হাÑ
জুবিন : তুই শালা মাল খেয়ে পুরাই টাল হয়ে গিয়েছিস।
মতি : না আমি টাল হই নাই। পুরাই জ্ঞানে আছি। আমি খালি তগো তামাশা দেখি আর মনে মনে হাসি।
জুবিন : কি আবার তামাশা করলাম।
মতি : তামাশার কি আর শেষ আছে।
জুবিন : দোস্ত, এইসব কমন ডায়ালগ বাদ দাও, অন্য কিছু বলো।
এসময় জুবিনের মোবাইল বেজে ওঠে। জুবিন মোবাইল নিয়ে বেরিয়ে যায়। মতি গ্লাস খালি করে আরেক গ্লাস ঢেলে নেয়।
মতি : আজকার অনুষ্ঠানের ঘটনাটা দুঃখজনক এত সুন্দর বিবাহ বার্ষিকীর আয়োজনটা শেষ হইল করুণ ভাবে আসলে মানুষের চরিত্র বোঝা বড় মুসকিল।
এ সময় জুবিন ফিরে আসে।
জুবিন : আমেরিকা থেকে জেসমিন ফোন দিয়েছিলো।
মতি : আসতাছে?
জুবিন : না, আরো মাসখানেক সময় লাগবে। আমার মনে হয় একবার যেতে হবে।
মতি : এর মাইয়া ভর্তি হইতে পারছে?
জুবিন : সেইটাই তো সমস্যা। ও তো আমাদের কথা শুনতেই চায় না। ওর ধারনা আমাদের চাইতে ও বেশি রোঝে।
মতি : সময় গেলে সাধন হবে না, দিন থাকিতে তিনের সাধন কেন করলে না। জানো না মন খালে বিলে তাকে না মীন জল শুকালে, কি হবে আর বাঁধাল দিলে, মোহনা শুকনা।। আমি তো বড় হইছি ছাড়া গরুর মতন। তবে নাটক করতে গিয়ে একজন গুরু পাইছিলাম যে আমার দড়ি টাইনা ধরছিলো কিন্তু লাভ হয় নাই। কম বয়সের রক্ত না, আমার মনে হইছে আমি দুনিয়া উল্টাইয়া ফালাইতে পারুম। একদিন গুরু আমারে কইল সময় থাকতে অন্য কামধর মতি, খালি নাটক কইরা লাভ হবে না। আনন্দের জন্য করো ঠিক আছে কিন্তু পেট চালানের কথা চিন্তা কইরো না। আমি কইলাম গুরু দেইখেন, এই নাটক কইরাই আমি সংসার চালামু। সমাজ বদলে দেবো। কিন্তু সমাজ কেন নিজেরেই বদলাইতে পারি নাই। এখন বুঝি গুরুর কথা না শুইনা ভুল করছি। আসলে কি জানস দোস্ত, বয়সেরও একটা ব্যাপার আছে। একটা বয়সে মনে হয় বাপ মা আমারে বন্দী কইরা রাখতাছে। আমি সব বুঝি কিন্তু আমারে আমার মত চলেতে দেয় না।
জুবিন : ঠিক বলেছিস তুই।
মতি : শোন, আমাগো ছোটবেলায় যাই হোক আমারা কিন্তু কোনো সময় বাপ মার অবাধ্য হই নাই, মুখের উপর কথা কওনের সাহস আছিলো না।
জুবিন : কিন্তু এখনকার ছেলেমেয়েরা তো কোনোি কথাই শুনে চায় না।
মতি : হা হুতাশ কইরা লাভ নাই, তোমারে সঠিক রাস্তা বইর করতে হইবো।
জুবিন : কিভাবে সঠিক রাস্তা বের হবে? তুই তো জানিস মেয়েটা কি একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছিলো। কুদরত দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপারটা সামাল দিয়েছিলো, ও সত্যি একজন ভালো অ্যাডভোকেট। তার পরও মেয়েটাকে গাইডে আনতে পারলাম না।
মতি : শোনো, পোলাপান খালি জন্ম দিলেই হয় না। কোন পথে সে যাবে এইটাও তাকে ঠিক কইরা দিতে হবে। তিনটা জায়গা তার ভালো মন্দ নির্ধারণ করে। এক, অভিভাবক, দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তিন তার বন্ধু বান্ধব। এই তিনটা জায়গা যদি ঠিক হয় তাইলে সেও ঠিক হবে।
জুবিন : আমরা কি করতে পারি?
মতি : তোমরা অনেক কিছুই করতে পারো। জন্মের পর থিকা স্কুল কলেজে যায় নাকি বেড়াইতে যায় কইতে পারো না, লেখাপড়া করে নাকি ভিডিও গেম খেলে কইতে পারো না। কই যায় কার সাথে মিশে কইতে পারো না। সকল দায় এড়াইতে তার হাতে ধরাইয়া দেও মোবাইল। আবার সে ভিডিও গেম খেলে নাকি পর্ণো দেখে জানো না। সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সে কি করে কইতে পারো না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খালি সিলেবাসের পড়া মুখস্ত করাইয়া পরীক্ষা নেয়া ব্যস শেষ। অডিট অব সিলেবাস যে কত ক্রিয়েটিব কাজ হইতে পারে তা এইসব রোবোটিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বোঝে না।
জুবিন : হুম, ঠিক তুই যা বলেছিস একদম ঠিক এভাবে আসলে ভাবিনি।
মতি : ও কে, এখন ভাবো।
জুবিন : তুই অসেক জানিসরে দোস্ত।
মতি : অনেক কিছু জানি না, তবে যতটুকু জানি ভালো ভাবে জানি।
জুবিন : তারপরও তোর খোচা মারা স্বভাবটা গেল না।
মতি: কি কইতে চাস তুই? আমি ইচ্ছা কইরা ভ্যাজাল লাগাই?
জুবিন : তাই তো, জায়গা না বুঝে হুট করে এমন কথা বলে দিস যে মান সম্মানের বিষয়।
মতি: দেখ জুবিন, আমি ভ্যাজাল লাগাই না। আমি সত্য কথাটা বলি, সেটা অনেকের সয্য হয় না। তোমার ধারণা ভুল। তুমি তো আমাকে জানোই না। ভাসা ভাসা জানো, আমার অনেক কিছুই তোমার অজানা। আমি কিন্তু তোমাকে জানি, তাই অনেক বিপদ থেকে চলি বন্ধু, বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে।
জুবিন : সে কি এতো রাতে কোথায় যাবি? সকালে যাস।
মতি: সমস্যা নেই, অর্ধ ঘুমন্ত রাতের শহরের অনেক ঘটনা দেখতে দেখতে ঠিকানায় পৌছে যাবো।
মতি বেরিয়ে যায়। জুবিনকে চিন্তিত মনে হয়।
জুবিন : যান্ত্রিক সভ্যতায় যান্ত্রিক শহরে ক্যালকুলেটিভ জীবন যাপন আমাদের। জীবনবোধ কি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের? আমারও কি আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের অংশ হয়ে যাচ্ছি?


দৃশ্যান্তর

দৃশ্য : ৫
সময় : রাতের বেলা
চরিত্র : কুদরত, কুদরতি
একটা বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে চেয়ারে এসে বসে কুদরত। কুদরতি আসে।
কুদরতি : এতো রাতে আবার বই নিয়ে বসলে কেন?
কুদরত : কালকে একটা জটিল কেসের ডেট আছে। কিছু ইনফমেশন দেখে নিচ্ছি। আজকের ঝগড়াঝাটিতে ভুলেই গিয়েছিলাম।
কুদরতি : সত্যি, আমার মাথাতেও ওই ঘটনাটা ঘুরপাক খাচ্ছে। হঠাৎ করে কি হয়ে গেলো।
কুদরত : হঠাৎ করে নয়, হঠাৎ করে এসব হয় না। অনেকদিন ধরে একটু একটু করে জমা হওয়া আবেগের আজ বিষ্ফোরণ ঘটেছে। আর ঝগড়াঝাটি হচ্ছে এমন বিষয় যে, অতি ভদ্রলোকও তার ভদ্রতা ভুলে অসভ্য হয়ে, পরিবেশ পরিস্থিতি তখন আর মাথায় আসে না।
কুদরতি : ছোট একটা বিষয় নিয়ে ঝগড়া অথচ শেষ পর্যন্ত একদম আরো কত কিছু যুক্ত হলো এর সাথে। জানো, মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। আরে তোরা এসেছিস একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে। তা না – ইচ্ছে করছিলো সব কটাকে বের করে দেই। ভাগ্য ভালো যে মিসুটা ওর মামার বাসায় ছিলো, নাহলে কি লজ্জায় পড়তে হতো।
কুদরত: আজকের এই ঘটনাকে তুমি কিভাবে ব্যাখা করতে চাও?
কুদরতি: কিভাবে আর ব্যাখা করবো। আমার মনে হয়েছে সবাই বাড়াবাড়ি করেছে।
কুদরত: আমি তো বললাম, এই বিস্ফোরণের রশদ অনেক দিন ধরে জমেছে।
কুদরতি: শুরুটা করলো কে?
কুদরত: কে আবার তোমার প্রিয় বান্ধবী ইয়াসমিন।
কুদরতি: না, শুরুটা করেছে, আমাদের ভালো মানুষ সাজে থাকা বন্ধু হাসান। শুনেছি ভ্রমণ করলে নাকি মানুষ উদার হয়। তার কিছুই আমি দেখিনা হাসানের ভেতর। কি দরকার ছিলো মতির মাথাটা গরম করার। ওতো এমনিতেই ঠোঁটকাটা মানুষ। তার মধ্যে এসে ঢুকলো কে চোর কে ডাকাত, কে জনগণের শত্রু।
কুদরত: এসব তো হতেই পারে। আর আমার তো সেই লেংটা কালের বন্ধু, এসব কথা শুনে এমন রেগে যেতে হবে কেন? আমরা তো সবাই সবাইকে জানি।
কুদরতি: আসলেই কি আমরা সবাইকে সবাই জানি? মনে হয় না। শৈশব তো পেরিয়ে এসেছি কবে। তারপর তো একেক জন একেক দিকে। ক্যারিয়ার, সংসার একটু থিতু হবার পর আবার আমরা আমাদের আবিষ্কার করলাম।
কুদরত: তোমার কথা ঠিক আছে। কিন্তু কথা হলো, আমাদের বন্ধুদের সবাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কেউ আমলা, কেউ খ্যাতনামা চিকিৎসক। কিন্তু দেখ কারো মনে শান্তি নেই। কারো অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা, কারো মিত্যে কথার যন্ত্রণা। কারো সংসারে অশান্তি তো কারো কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা। সবচেয়ে বেশি অশান্তি যখন সন্তানেরা বিপদগামী হয়। বাবা মাকে ইগনোর করে। বাবা মা’র কোনো কথাই শোনে না।অধিকাংশেরই এই অবস্থা। মনের ভেতর অশান্তি থাকলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। অল্প কথাতেই মানুষ রেগে যায়। ইয়াসমীনের ছেলের কথাই ধরনা। বেচারি প্রতিবন্ধী। ঠিকমত কথাও বলতে পারে না। ছেলেকে নিয়ে ওদের দুর্ভোগের শেষ নেই, জুবিনের মেয়েটা এতটা অবাধ্য হয়েছে যে ওকে বিদেশে পাঠাতে হয়েছে।
কুদরতি: ফারুকের ছেলেটা তো সত্যিই বেয়াদব।
কুদরত: দেখ, কিছু ব্যাপার থাকে বয়সের। ওই বয়সটাই বাধা না মানার বয়স।
কুদরতি: আমরাও তো ওই বয়েসটা অতিক্রম করে এসেছি। এতটা উচ্ছৃংখল তো আমরা ছিলাম না।
কুদরত: তোমার সময়টা তো দেখতে হবে। এখন তো সমাজটাই উচ্ছৃংখল হয়ে গেছে। কারো ওপর কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। কোন মরিচীকার পেছনে ছুটছে সবাই তারা নিজেরাই জানে না।
কুদরতি: সবই ভাগ্য, ভাগ্য যার ভালো সে ভালো, যার খারাপ সে খারাপ।
কুদরত: ভাগ্য বলে আমার কাছে কিছু নেই। সবই কর্মফল। তুমি যা করবে তার ফল তোমাকে ভোগ করতে হবে। ভালো করলে ভালো খারাপ করলে খারাপ।
কুদরতি: তাই যদি হয় তাহলে এই যে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষগুলো দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। গার্মেন্টে আগুন লেগে মানুষ মারা যাচ্ছে, স্কুল ভবনে বিমান ধসে শত শত শিশু মারা যাচ্ছে। রোড অ্যাক্সিডেন্টে মানুষ মারা যাচ্ছে। প্রতিদিন। এগুলো তাদের কিসের কর্মফল।
কুদরত: ঠিক আমরা আসলে ভাগ্যের জোরেই বেঁচে আছি। পৃথিবীর এই একটি দেশ যেখানে কর্মফল বলে কিছু নেই সবই কপাল। এখানে বেঁচে থাকাটাই অষ্টম আশ্চর্য।
এসময় বাইরে কারো ক›ঠ শোনা যায়।
কুদরতি: কি ব্যাপার, এত রাতে আবার কে?
কুদরতি জিঙ্গেস করে কে। কিছু একটা উত্তর আসে।
কুদরতি: পাশের বিল্ডিংয়ের মৌলভী সাহেবঅ
কুদরত: ঠিক আছে তুমি ভেতরে যাও আমি দেখছি।
কুদরতি চলে, কুদরতও বেরিয়ে যায়। দৃশ্যান্তর

দৃশ্য : ৬
সময় : রাতের বেলা
চরিত্র : কুদরত, মৌলভী
কুদরতের পেছন পেছন আসে মোল্লা আযম, কুদরত চেয়ারে বসে।
কুদরতি: বসুন আযম সাহেব। কি ব্যাপার জরুরী কিছু?
আযম : হ্যাঁ, খুবই জরুরী। আগামী পরশু রানার যে কেসটার শুনানী হবে। ওটার বাদী পক্ষের উকিল তো আপনিই।
কুদরত: হ্যাঁ, কেন বলুন তো?
আযম : ওই কেসটা আপনাকে হারতে হবে।
কুদরত: আমি বুঝলাম না ওই কেসের সাথে আপনার কি সম্পর্ক?
আযম : বড় সম্পর্ক। রানা আমার ভাতিজা। আমার ব্যবসা দেখাশোনা করে। আমি তো আল্লার রাহে চলি। আমি জানি ওর জেল বা ফাঁসি হয়ে যেতে পারে। তাই আপনার কাছে আসা। টাকা পয়সার কথা চিন্তা করতে হবে না। ব্ল্যাংক চেক পাবেন। আর বোনাস তো পাবেনই।
কুদরত হাসে।
আযম : আমি কি কোনো হাসির কথা বললাম।
কুদরত: না না আপনি কোনো হাসির কথা বলেননি আমি আসলে হাসছি অন্য কারণে।
আযম : মানে বুঝলাম না।
কুদরক: আপনার ভাতিজা শুধু একটা খুন করেনি, বেশ কয়েকটা খুনের সে আসামী। কিন্তু প্রতিপক্ষ শক্তিশালী না হওয়ায় সে বেঁচে গেছে। কিন্তু এই মামলঅয় তার বিরুদ্ধে সকল এভিডেন্স আছে। যাই হোক, আমার হাসীর কারণ অন্য। আযম সাহেব, আপনি সমাজে একজন বিশিষ্ট লোক হিসাবে পরিচিত। একজন গন্যমান্য ব্যক্তি। এলাকার সবাই আপনাকে সম্মানিত সজ্জন ব্যক্তি হিসাবে জানে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে একজন আপোষহীন মানুষ। আসলে সমাজে এখন ভালেঅ মন্দ চেনাই মুশকিল হয়ে গেছে। মুখ দেখে বোঝা মুশকিল হয়ে গেছে কে সাধু আর কে শয়তান। আমি তো বিশ^াসই করতে পারছি না যে আপনার মত একজন মানুষ বহু হত্যা মামলার আসামীকে ছাড়ানোর জন্য।
আযম : খুব ভালো লাগলো আপনার কথা শুনে। আপনি যার হয়ে লড়ছেন, উনি কি খুব ভালো মানুষ? উনি নিজেও একজন ক্রিমিনাল। আমার ভাতিজা ওর ছেলেকে খুন করে ভালো করছে না হলে আমাদের সিন্ডিকেট হাতছাড়া হয়ে যেতো। ওর পার্টি আমার বিরাট ক্ষতি করেছে।
কুদরত : আর পার্টি। পার্টি পার্টি করে দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন আপনার। এখানে জনগণের কোনো মূল্য নেই। জনগণ হলো খেলার পুতুল। কতক্ষণ আপনার পার্টি খেলে কতক্ষণ ওর পার্টি খেলে।
আযম : হা হা ভালো বলেছেন। তবে পুতুল নয় আমার কাছে জনগণ হচ্ছে এটিএম কার্ড। ওদের ক্যাশ করেই তো আমাদের ব্যবসা, ক্ষমতা, বাহাদুরি।
কুদরত : একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে সেটা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাই। তবে এটাও ঠিক আমাদের দেশের মানুষ লোভী, স্বার্থপর। এক প্যাকেট বিড়ি বা পাঁচশ টাকার একটি নোটের কাছে বিক্রি হয়ে যায়। অবৈধ সুবিধা পেতে নেতাদের পেছনে লাইন দেয়। নীতি, নৈতিকতা, সততা, দেশপ্রেম এগুলো শুধু ছাপার অক্ষরে মেলে। রবীন্দ্রনাথের কবিতার একটি লাইন মনে পড়ে সাত কোটি বাঙালিরে হে বাঙ্গজননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করোনি। তবে আমি বিশ^াস করি সময় একদিন বদলাবে।
আযম : বাহ, দেশ এবং রাজনীতি নিয়ে আপনি তো দেখছি যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন।
কুদরত: পেশাগত কারণেও অনেক কিছু জানতে হয়। যাই হোক, আপনি যে অনুরোধটি নিয়ে এসেছেন সেটা আমার পক্ষে রাখা সম্ভব নয়।
আযম : কি বলেন কুদরত সাহেব। আপনি আমার প্রতিবেশি, সামাজিক অনুযষ্ঠানগুলোতে প্রায়ই আপনার সাথে আমার দেখা হয়। আমার অনুরোধটা আপনি ফিরিয়ে দেবেন।
কুদরত: আমি দুঃখিত আযম সাহেব।
আযম : ভেবে দেখুন কুদরত সাহেব। আপনি না করলে আমাকে অন্য পথ ধরতে হবে। বিরাট অফার আপনার জন্য। আপনি যা চান তাই আপনি পাবেন।
কুদরত: আমি আমার নীতি বিসর্জন দিয়ে এমন কোনো কাজ করবো না।
আযম : এদেশে নীতি দিয়ে কি করবেন, কোথাও আশ্রয় পাবেন না।
কুদরক: আপনি কি আমাকে জোর করবেন?
আযম : জোর যার মুল্লুক তার, প্রবাদটা মুনেছেন নিশ্চয়ই।
কুদরত: আমি বেঁচে থাকতে এই অন্যায় আমি করব না।
আযম : এ জন্যই আপনাকে মারতে হবে। আমার প্রস্তাবে রাজী হয়ে যান ভালো থাকবেন।
কুদরত: আমি দুঃখিত।
আযম : আমার কথা রাখলেন না। এর ফল আপনাকে ভোগ করতে হবে।
আযম বেরিয়ে যায়। নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে কুদরত। কুদরতি আসে।
কুদরতি: কি ব্যাপার কি বলে গেলো।
কুদরত: কিছু না, একটা কেসের ব্যাপারে।
কদরতি: রাত তো শেষ হয়ে এলো, চলো শুয়ে পড়।
কুদরতি ভেতরে যায়।
কুদরত: আশ্চর্য! লোকটা বাসায় এসে হুমকি দিয়ে গেলো।
কুদরতি আবার ফিরে আসে
কুদরত: কি হলো আবার এলে যে?
কুদরতি: আমার মনটা কেমন যেন করছে। সত্যি করে বল তো কেন এসেছিলো লোকটা?
কুদরত: ওর ভাতিজার কেসটা যেন ছেড়ে দেই নয়তো আমাকে মরতে হবে।
কুদরতি: হায় আল্লাহ, কি বলছো? তুমি পুলিশকে জানাও।
কুদরত: কুদরতি, এত ভয় পেলে এ দেশে বাঁচা যাবে না। কেস লড়তে গিয়ে এমন বহু হুমকি আমাকে পেতে হয়।
কুদরতি: আশ্চর্য, লোকটাকে দেখে কত ভদ্র মনে হয়। অথচ...
কুদরত: ভালো কথা, আমার মাথায় একটা প্ল্যান এসেছে গতকালকের ঘটনা। চল তোমাকে বলছি।
দু’জন ভেতরে যায়।

দৃশ্যান্তর

দৃশ্য : ৭
সময় : দিনের বেলা, জুবিনের বাসা
চরিত্র : জুবিন, মতি।
জুবিন বসে আছে এ সময় মতি আসে।
মতি : যাক, ভাবছিলাম তরে আইসা পামু না।
জুবিন : পাবার কথাও না কিন্তু কলেজে ঝামেলা লেগে গেছে তাই আর যাওয়া হলো না।
মতি : আবার কি ঝামেলা লাগলো।
জুবিন : তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই কলেজের ছাত্রদের মধ্যে মারামারি।
মতি : এইটাই এখন পোলাপানের বিনোদন। ঘুইরি ঘুইরা সারা দেশেই এখন এই বিনোদন চলতাছে।
জুবিন : সত্যি, দেশটা একেবারে শেষ হয়ে গেলো।
মতি : দেশটা শেষ হয় নাই ক যে দেশের মানুষ আগেও জংলী আছিলো এখন জংলীপনা আরো বাড়ছে। তবে একটা জিনিস খেয়াল করিস, এই সব জংলীপনা কিন্তু শহরের মানুষের মধ্যে বেশি।
জুবিন : তুই এতো সকাল সকাল এসেছিস কেন?
মতি : কুদরত তরে ফোন দেয় নাই?
জুবিন : হ্যাঁ, ওর বাসায় যেতে বলেছিলো, কি নাকি জরুরী কাজ।
মতি : তাইলে বইসা আছো কেন, চলো।
জুবিন : যাবো যে, কিন্তু ব্যাপারটাই বুঝতে পারছি না।
মতি : বুঝতে পারলে তো আর যাওয়া লাগতো না। কেমন বোকার মত কথা কস।
জুবিন : সেদিন রাতের ঘটনার পর ওর বাসায় যেতে আমার বেশ লজ্জা লাগছে।
মতি : তাইলে তুই এক কাজ কর, শাড়ি পইরা লিপিস্টিক লাগাইয়া ঘরে বইসা থাক, আমি গেলাম।
জুবিন : আচ্ছা চল, আসলে কি জানিস, দেশের এই হট্রগোলে আমার মাথাটাই জ্যাম হয়ে গেছে।
মতি : বাইরে চল, তর মাথার জ্যাম ছুটাইতাছি।
জুবিন : কিভাবে?
মতি : তর দুই গালে দুইটা দেড়মনি চটকনা মারুম দেখবি সব পরিষ্কার।
জুবিন : ধ্যাৎ
জুবিন বেরিয়ে যায়। পেছনে মতি

দৃশ্যান্তর

দৃশ্য : ৮
সময় : রাতের বেলা, কুদরতের বাসা
চরিত্র : কুদরত, আফসান, হাসনা, জুবিন, মতি, ইয়াসমীন, মিতু।
একে অন্যের সাথে কথা বলতে বলতে প্রবেশ করে। মতি সবার পরে ঢোকে।
মতি : আরে সবাই দেখি উপস্থিত। আমি তো ভাবছিলাম খালি আমারেই দাওয়াত দিছে।
আফসান : হ্যায়, ভিআই আইছে
মতি : অ্যাই, তুই আমারে খোচা মারলি ক্যান?
আফসান : দেখ রে ভাই, মাফ কর। আমি এইসব খোচা খুচির মধ্যে নাই।
মিতু : কিন্তু কুদরত কোথায়? প্রায় ঘন্টা পার হয়ে গেলো। কুদরতিকে জিঙ্গেস করতো।
এ সময় কুদরতি আসে।
কুদরতি : তোমরা এসেছ সবাই কিন্তু কুদরতকে তো পাচ্ছি না। ফোন বন্ধ বলছে। তোমাদের ফোন থেকে একটা কল দাও তো।
সবাই চেষ্টা করে।
জুবিন : না, ওর ফোনে তো যাচ্ছে না।
মতি : কুদরতি ভাবী, বিষয়টা কি কও তো।
কুদরতি : সকালে কোর্টে যাওয়ার সময় বলল আজ তেমন কোনো কাজ নেই দুপুরের মধ্যে ফিরে আসবো। যেহেতু বিকালে আবার তোমাদের সবাইকে আসতে বলেছে। দুপুর দুটো পর্যন্ত ফোনটা খোলা ছিলো। বিকেল থেকে বন্ধ পাচ্ছি। এখন তো রাত প্রায় আটটা বাজে। আমি এখন কি করবো।
সবাই নিরব।
আফসার : আমি যাচ্ছি হসপিটাল গুলোতে খবর নেবার ব্যবস্থা করছি।
মিতু : দেখি আমি কি করতে পারি।
ইয়াসমীনসহ মিতু বেরিয়ে যায়।
জুবিন : মতি চল, আমরা থানা আর স্টেশন গুলোতে খবর নেই।
হাসনা : আমি আছি কুদরতির সাথে। খবর পেলে কল করো।
মতি আর জুবিন বেরিয়ে যায়।
হাসনা : এর মধ্যে কুদরতের সাথে এমন কিছু ঘটেছিলো নাকি? রে ক্লায়েন্ট বা কারো সাথে।
কুদরতি : চল, তোকে বলছি।
ওরা বেরিয়ে যায়।

দৃশ্যান্তর


দৃশ্য : ৯
সময় : রাতের বেলা, আধো অন্ধকার কক্ষ,
চরিত্র : কুদরত, আযম।
আধো অন্ধকার কক্ষে মুখোমুখি বসে কুদরত, আযম।
আযম : আমি চাইলে আপনাকে খুন করে ফেলতে পারি। কিন্তু, আমি তা করবো না। এখানে আপনাকে কয়েকদিন গেস্ট হিসাবে থাকবেন। আপনার হসপিটালিটির কোনো সমস্যা হবে না। কিছু লোককে তো বাঁচিয়ে ও রাখতে হবে, আমাদের কাজ দেখতে। কেসটার তারিখ পার হবার দুদিন পরে আপনাকে এখান থেকে সসম্মানে আপনার বাসায় পৌছে দেয়া হবে।
আযম বেরিয়ে যায়।
কুদরত রেগে গিয়ে পাগলামী করে।
কুদরত : আমি কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

দৃশ্যান্তর

দৃশ্য : ১০
সময় : রাতের বেলা, চলতি পথ,
চরিত্র : মতি, জুবিন।
দুজন নিরবে এসে দাঁড়ায়।।
জুবিন : সব তো দেখা হয়ে গেল। কুদরতের হদিশ তো পেলাম না।
মতি : হুম, চিন্তার কথাই। তর কি মনে হয়, অরে কেউ কিডন্যাপ করতে পারে?
জুবিন : এসব ব্যাপারে মনে হবার কিছু নেই। অনেক কারণেই এমন হতে পারে। হয়তো ব্যক্তিগত শত্রুতা অথবা পেশাগত কারণে অনেক কিছুই হতে পারে।
চিন্তিত মতি
জুবিন : চল আর কয়েকটা জায়গায় খবর নিয়ে ফিরে যাই। আর কি করা যায় ভাবো।
দুজন বেরিয়ে যায়।

দৃশ্যান্তর

দৃশ্য : ১১
সময় : দিনের বেলা, কুদরতের বাসা
চরিত্র : আফসান, মিতু, কুদরতি, হাসনা, মতি, জুবিন, কুদরত।
বিষন্ন কুদরতি বসে আছে।
একে একে সবাই আসে। সবাই নিরব।
কুদরতি: কোনো খোঁজ পাওয়া গেলো।
জুবিন : প্রতিটা থানা প্রতিটা স্টেশন ঘুরলাম। কোনো খবর নেই।
আফসান: প্রতিটা হাসপাতালে খবর নিয়েছি। নেই।
মিতু : আচ্ছা আমাদের কোনো বন্ধুর বাসায় যায়নি তো?
হাসনা: সবার কাছেই খোঁজ নেয়া হয়েছে।
মিতু : আমি আমার অফিসিয়াল টপ লেভেলে খবর নিয়েছি কেউ কিছু বলতে পারলো না।
মতি : আশ্চর্য! এইটা কোনো কথা হইলো! ওতো আর হাইয়া যাইতে পারে না।
আফসান: কুদরতি তোমার মেয়ে মিনু কোথায়?
হাসনা: ওকে আমি সকালে স্কুলে দিয়ে এসেছি। আমি এখন আবার আনতে যাবো।
জুবিন : আচ্ছা, কুদরতি বলতো, কুদরতের কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখেছো।
কুদরতি: না তেমন কিছু দেখিনি। তবে সেদিন রাতে তোমরা চলে যাবার পর পাশের বিল্ডিংয়ের আযম সাহেব এসে ছিলো। আমি ভেতর থেকে শুনলাম দুজন কথা কাটাকাটি হচ্ছে। ওই লোক নাকি কুদরতেকে খুন করার হুমকিও দিয়েছিলো।
মতি : মাথা গরম করুম না তো কি। একটা মানুষ, সে কোনো হাসপাতালে নাই, কোনো থানায় নাই, কোনো স্টেশনে নাই, কোনো বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজন কারো বাসায় নাই। তাইলে গেলো কই?
আফসান: কিছু একটা তো হয়েছে কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না। হাতের কাছে শত্রু অথচ তাকে কিছু বলতে পারছি না।
কুদরতি: আজ দু’দিন হয়ে গেলো ও নেই। আমাদের কোনো কিছুই স্বাভাবিক ভাবে চলছে না। কেন কিছু বলে গেলে না কুদরত, কেন এভাবে আমাদের কষ্ট দিচ্ছো।
জুবিন : কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। কোথা থেকে কিভাবে কি হয়ে গেলো। এ ধরনের ঘটনা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি কিন্তু আমাদের ভেতর এমন হবে কেউ ভাবেনি।
মতি : আমরা অপেক্ষা করবো। কুদরতের ফেরত আশার অপেক্ষা। আমাদের পরিণতি এই।
এসময় গান গাইতে গাইতে ঢোকে কুদরত।
কুদরত: মন ময়ুরা পেখম মেলে কোন দেশেতে যাবার চাও....
সবাই অবাক হয় কুদরতকে দেখে। সবাই কিছু একটা বলতে চায় কিন্তু বলতে পারে না।
কুদরতি এসে জরিয়ে ধরে।
জুবিন : কোথায় ছিলি তুই?
মতি : দুইদিন ধইরা তরে গরু খোঁজা করতাছি। কি হইছিলো তর?
কুদরত: কুদরতির কাছে শুনেছিস নিশ্চয়ই। ওর ভাতিজার বিপক্ষে কেস না লড়তে বলেছিলো, আমি রাজী হইনি তাই আমাকে কিডন্যাপ করেছিলো। প্রথমে মেরেই ফেলতে চেয়েছিলো কিন্তু কোথা থেকে খবর আসলো, ওরা জায়গামত কাজ করে ফেলেছে এখন আর আমাকে দরকার নেই। ওর ভাতিজা মুক্ত হয়ে ফিরে এসেছে।
জুবিন : হুম, রাষ্ট্রের ক্ষমতাবানদের একজন।
মতি : ওরা এত সাহস পায় কই। রাষ্ট্রের সবকিছু ওরা টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে।
জুবিন : মগজে যদি পচন ধরে আস্তে আস্তে সবাই পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সাধারণ জনগণ যারা আমাদের মত, কিছুই করার নেই। ওরা বললে আমরা নাচি ওরা বললে আমরা থামি।
................................................




মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.