| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মু ক্তি যু দ্ধ ভি ত্তি ক টে লি ফি ল্ম
অন্তরীক্ষে আলোছায়া
চ রি ত্র লি পি......................................................
নয়ন আশরাফ...................................
এক অস্পষ্ট চেহারার শিশু......................
রাজাকার রওশন আলী.........................
হাসনাহেনা.......................................
আমিনুল..........................................
পুলিশ ইন্সপেক্টর.................................
পুলিশ কনস্টেবল................................
অন্যান্য...........................................
কাহিনী সংক্ষেপ
# মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা এই টেলিফিল্মের প্রতিটি ঘটনা কাল্পনিক। বাস্তবের কোনো ঘটনার সাথে এর কোনোরকম মিল নেই। ঘটনাচক্রে যদি কোনোরকম মিল খুঁজে পাওয়া যায় সে জন্যে লেখক বা নির্দেশক দায়ী নয়।..................
নয়ন আশরাফ একজন পেশাদার ফটোগ্রাফার। একসময় এটা ছিলো তার শখ। শখের বশে ছবি তুলতে গিয়ে কোথায় কোথায় চলে গেছে সে। কখনো কখনো এমনও হয়েছে যে ফেরার পথটাও আর মনে নেই। বহু কষ্টে তাকে ফেরত আসতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গণকবর আবিষ্কার এবং তার সিরিজ ছবি তুলে আলোচিত এবং পুরষ্কৃত হয়েছেন আশরাফ। ভালোবাসেন কোনো এক গাঁয়ের মেয়ে হাসনাহেনাকে। আশরাফের বাবাও একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অসম সাহসী যোদ্ধা। যুদ্ধের সময়ই তিনি এক অপারেশনে গিয়ে আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে নিখোঁজ হন। এ যাবত তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। আশরাফ ছবি তোলার ছলে এখনও তার বাবাকে খুঁজে বেড়ান। কোথায় পাবে সে তার বাবাকে? কেউ বলতে পারে না। বিয়াল্লিশ বছর ধরে তার বাবার খোঁজ পাবার স্বপ্ন আশরাফের।
ইদানিং এক দুঃস্বপ্ন তাড়া করে ফেরে আশরাফকে। প্রায়ই তার স্বপ্নে এসে হাজির হয় এক অস্পষ্ট চেহারার শিশু। কোনো এক পরিত্যক্ত বাড়ির আঙিনায় বসে তাকে ডাকে শিশুটি। এরপর কাঁদতে শুরু করে। আশরাফ তাকে কোলে তুলে নিলে সে কোনো এক বাড়ির দিকে পথ দেখায়। আশরাফ ওকে কোলে নিয়ে সেই অস্পষ্ট বাড়ির দরজা পর্যন্ত যেতেই একটা কালো হাত বাচ্চাটাকে ছিনিয়ে নেয়। ভয় পেয়ে যায় আশরাফ। বাড়িটাকে চেনার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। কেন সে বার বার একই স্বপ্ন দেখে বুঝে উঠতে পারে না আশরাফ।
হাসনাহেনা গ্রামের মেয়ে হলেও যথেষ্ট পড়াশোনা করে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। হাসনাহেনা মুক্তিযুদ্ধকে লালন করে হৃদয়ে। ইন্টারনেটে তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংবাদ আপডেট করে সে। মহাজন বাড়ির বর্তমান মালিক রওশন আলী। যুদ্ধকালীন সময়ে নিরুদ্দেশ থাকলেও যুদ্ধের পর কোনো এক সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা দাবীদার রওশন আলী নানান সামাজিক কর্মকান্ডে নিজের পরিচয়টা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। যুদ্ধের সময় তার এই বাড়িটা পাক সেনারা কনসেনট্রেশন ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করেছে এই দুঃখ রওশন ভুলতে পারেন না। তিনি ঘোষণা দেন মহাজন বাড়িটি পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনি দান করবেন। হাসনাহেনাকে তিনি অনুরোধ করেন যেন তার বীরত্বগাথা হাসনাহেনার ইন্টারনেট পেজে স্থান পায়। মহাজন বাড়ির ইতিহাস আপলোড করতে গিয়ে হাসনাহেনা কোনোভাবেই তার পেজটা ওপেন করতে পারে না। শুধু বার বার ভেসে ওঠে একটি শিশুর মুখ। কোনো কারণও খুঁজে পায় না হাসনাহেনা । সে আশরাফকে খবর পাঠায় তাদের বাড়িতে আসার জন্য। আশরাফ ছুটে আসে হাসনাহেনার কাছে। হাসনাহেনার কথা শুনে হোঁচট খায় আশরাফ। স্বপ্নে না হয় অনেক কিছু দেখা যায় কিন্তু এই ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার স্ক্রীনে একই ঘটনা। তাও আবার দুটো জায়গায়! কিভাবে সম্ভব! আশরাফ আর এ ব্যাপারে কিছু বলে না হাসনাহেনাকে। হাসনাহেনা মহাজন বাড়ির রওশন আলীর কথা বলে। বাড়িটার ইতিহাসও বলে আশরাফকে। রওশন আলীর বাড়িটা দেখার ইচ্ছা পোষণ করে আশরাফ। হাসনাহেনাই নিয়ে যায় আশরাফকে রওশন আলীর বাড়ি দেখাতে। রওশন আলী যথেষ্ট আপ্যায়ন করে আশরাফদের। রওশন আলীর বাড়িটা খুব পরিচিত মনে হয় আশরাফের কিন্তু মনে করতে পারে না। রওশন আলী বাড়িটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখায় আশরাফকে। নিজের বীরত্ব তুলে ধরে। একটি তালা মারা ঘর শুধু আশরাফ দেখতে চাইলেও রওশন এড়িয়ে যায় কথাটা। হাসনাহেনার সাথে বসে আশরাফ ঠিক করে মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায় নিয়ে তারা ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
গভীর রাতে সেই দুঃস্বপ্ন আবার ফিরে আসে আশরাফের ঘুমে। উঠে বসে স্থির হয় আগে। এবার বাড়িটা পরিচিত মনে হয় আশরাফের। স্বপ্নে দেখা বাড়িটার সাথে অনেক মিল। আশরাফ সিদ্ধান্ত নেয় রাতের বেলা ওই বাড়িতে অভিযান চালাবে সে।
সকালে হাসনাহেনাদের বাড়িতে যায় আশরাফ। এসময়টায় বাচ্চাদের গান শেখায় সে। এখানে এসে জানতে পারে হাসনাহেনাদের পরিবারের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিল কিন্তু তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। ব্যাপারটা ভাবিয়ে তোলে আশরাফকে। হাসনাহেনা পরিচয় করিয়ে দেয় সহপাঠী আমিনুলের সাথে। প্রগতিশীল তরুন আমিনুল জানায় কয়েকদিন আগে তাদের গ্রামে একটা গণ কবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। ওরা গিয়ে সেই জায়গাটা দেখে আসে। আশরাফ আমিনুল আর হাসনাহেনাকে জানায় তার দুঃস্বপ্নের কথা। হাসনাহেনা অবাক হয় তার ঘটনার সাথে মিলে যাচ্ছে দেখে।
আশরাফ জানায় রাতে সে অভিযানে যেতে চায়। আমিনুল সঙ্গী হতে রাজী হয়। হাসনাহেনাকে দায়িত্ব দেয়া হয় ওদের সাথে যোগাযোগ রাখার। অনেক রাতে আমিনুল তৈরী হয়ে আশরাফের বাসায় আসে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ওরা নিঃশব্দে বেরিয়ে যায়। হাসনাহেনা বসে ল্যাপটপ নিয়ে।
গভীর নিস্তব্ধ রাত। চারদিকে ঝিঁ ঝিঁ পোকা আর কুকুর শেয়ালের ডাক শোনা যায়। সতর্ক নজর রেখে পায়ে পায়ে সেই বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়ায় ওরা। চারদিক দেখে নিয়ে তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। টর্চ জ্বেলে এগিয়ে যায় সামনে দিকে। পুরো বাড়িটা ঘুরে ওরা সেই বন্ধ দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। দেখে ঘরের মেঝেটার মাঝখানে একটা বিরাট গোল বৃত্ত। দেখে বোঝা যায় বৃত্তের অংশটুকু অনেক পরে পাকা করা হয়েছে। দুজন মিলে গর্ত করতে শুরু করে। একসময় বেরিয়ে আসে গর্ত। গর্তের ভেতরে দেখো যায় কতগুলো কঙ্কাল। তার ভেতর একটা শিশুরও কঙ্কাল আছে। আর আছে একটা ডায়েরি। ডায়েরিটা দু এক পাতা পড়ার পর আশরাফ বুঝতে পারে এটা তারই বাবার লেখা। ওরা দ্রুত ঘরটার ছবি তুলে পাঠিয়ে দেয় হাসনাহেনার কাছে। এরপর ওরা বেরিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যায়।
হাসনাহেনাদের বাড়িতে ফিরে আসে ওরা। ডায়েরি পড়ে ওরা সব জানতে পারে। বেরিয়ে আসে রওশন আলীর আসল চেহারা। পরদিন পুলিশে খবর দেয় ওরা। পুলিশ আসে কিন্তু রওশন আলী ততক্ষণে পালিয়ে যায়। গন কবরে পাওয়া যায় আশরাফের বাবা হাসনা হেনার বাবা এবং চাচাদের কঙ্কাল। পাওয়া যায় স্বপ্নে দেখা সেই শিশুটি আর তার মায়ের কঙ্কাল। এলাকার লোকজন ওদের ধন্যবাদ জানায় এমন একটি ঘটনা আবিস্কার করার জন্য। আশরাফ আর হাসনাহেনা মিলে একটি মুক্তিযুদ্ধ ও গণকবর বিষয়ক একটি ওয়েবসাইট ওপেন করে সেখানে প্রকাশ করে এই ঘটনা।
©somewhere in net ltd.