নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মেনটাল কিং

মেনটাল কিং › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধুমপান, তৃতীয় বিশ্ব ও বাংলাদেশ

২২ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ২:৫৯

উন্নত বিশ্বে দিন দিন ধুমপানের হার যেখানে কমছে, সেখানে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আশংকাজনক ভাবে বাড়ছে ধুমপানের হার। সিগারেট কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে, সরকারকে তার থেকে কয়েকগুণ বেশী ভর্তূকী দিতে হয় ধুমপান জনিত অসুখ-বিসুখের চিকিৎসার জন্য। প্রায় সব ধুমপায়ীই ধুমপানের কুফলের ব্যাপারে অবগত, তথাপী তারা ধুমপান ছাড়তে পারে না। আর ধুমপানের আসক্তি যতটা না শারীরিক, তার থেকে অনেক বেশী মানসিক। তবে শারীরিক আসক্তির ব্যাপারটাকেও কম গুরুত্ব দেবার সুযোগ নেই, বরং নিকোটিনের আসক্তি অন্যান্য যে কোন মাদকের থেকেও মারাত্মক। অধিকন্ত ধুমপানের বিষয়ে কোন সামাজিক বিধি-নিষেধ না থাকায় এর প্রভাব বিস্তার আরো ভয়াবহ। সম্ভবত যে ব্যাপারটা সব থেকে বেশী মারাত্মক সেটা হচ্ছে- ধুমপানের কারণে ইমিউন সিষ্টেম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধুমপানের কুফলের ব্যাপারে আমি কোন বিশেষজ্ঞ নই, যারা এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ তারা ভালো বলতে পারবেন। তথাপি এখানে আমার একটু অভিজ্ঞতার কথা বলতে চাই।

আমার এক বন্ধু সারা রাত ঘুমাতে পারে না, বিছানায় শুয়ে শুধু এপাশ-ওপাশ করে আর ঘুমাতে না পেরে ছটফট করে সারা রাত। সকালবেলা তার ঘুম আসে আর ঘুম থেকে উঠে দুপুরের পর। কোন কাজকর্ম করার তো প্রশ্নই আসে না। সেই সাথে তার অন্ডথলিতে আর লিঙ্গে চুলকানী। ফুতপাতের ৫ টাকা দামের মলম থেকে শুরু করে মডার্ণ হারবাল, হামদর্দ, অসংখ্য হোমিওপ্যাথ চিকিৎসা, গাছ-গাছড়ার চিকিৎসা কোন কিছুই বাদ থাকলো না। একসময় এলাট্রল ও বেটনিলান নামক বিপজ্জনক ষ্টেরয়েড নিয়ে তার চুলকানী থেকে বাচাঁ শুরু করতে হলো। সে তার গার্লফ্রেন্ড কে বিয়ে করতে পারছে না এই চুলকানীর ভয়ে এবং ২ বছরেরও বেশী সময় সম্পর্ক ঝুলিয়ে রেখে বিয়েতে রাজী না হওয়াতে তাকে তার গার্লফ্রেন্ড ভুল বুঝতে শুরু করলো। ইতোমধ্যে বেশ ক'জন চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর পরেও কোন লাভ হলো না। এ দেশের নামকরা ও খুব বড় একজন চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তার চিকিৎসা করতে লাগলেন- তিনি রক্ত, মল-মূত্র, এক্সরে, ইসিজি, আলট্রাসনো সহ সব পরীক্ষা করলেন এবং কোন অসুখই খুঁজে পেলেন না। আমার বন্ধুকে তিনি জানিয়ে দিলেন যে আসলে তার কোন চুলকানীই নেই শরীরে- চুলকানী হচ্ছে তার মনে। আমার বন্ধুটি একবার ভাবলো হয়তো ডাক্তার ঠিকই বলেছেন, কিন্তু পরক্ষণেই চিন্তা করলো যে চুলকানী যদি মনেই থাকে তবে একমাত্র বেটনিলান নামক ষ্টেরয়েড না নিলে কেনো সে স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এর মধ্যে হঠাৎ একদিন সে পায়ে এমন ব্যাথা পেলো যে সারাদিন বিছানা থেকে উঠতেই পারলো না। সে খুব আতংকিত হলো এই ভেবে যে একেই তো পায়ে ব্যাথা, তার উপর অনিদ্রা এবং চুলকানী- কিভাবে যে রাতটুকু কাটবে এটা ভেবে সে অস্থির। কিন্তু সে অবাক হলো যখন রাত ১০টা বাজবার পর সে কোন ভাবেই আর জেগে থাকতে পারলো না। এভাবে ২-৩ দিন গেল, এর পর যেদিন তার পায়ের অবস্থার একটু উন্নতি হলো তখন সে ঘর থেকে বের হয়ে ২-৩ দিন পর সিগারেট খেলো; আশ্চর্যজনকভাবে সে খেয়াল করলো আবারো সিগারেট খাবার কারণে সে ঘুমাতে পারছে না এবং চুলকানী শুরু হয়ে গেছে।

আমি সবাইকে অনুরোধ করবো যে ধুমপানের ক্ষতির ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতার কথা অন্যদেরকে শেয়ার করে গড়ে তুলুন ধুমপানমুক্ত বাংলাদেশ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.