নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অস্তিত্বের দিকে পদধ্বনি :)

এখানে শুধু বাকরুদ্ধ দেয়াল,দেয়ালে তোমার আমার করুণ কৃতদাস,ছায়া,ছায়াশরীর-অশরীর

ওয়াহাব ৰাদশা

আমি একজন ভালো বাঙালি হওয়ার চাইতে একজন ভালো বাংলাদেশী হতে চাইব সবসময় | ফেসবুক - www.facebook.com/wahab.badsha

ওয়াহাব ৰাদশা › বিস্তারিত পোস্টঃ

চেহারা

০৫ ই জুন, ২০১৩ রাত ১০:০৪

চেহারা নিয়ে ওয়ালিদ কঠিন সমস্যার

মধ্যে আছে । ওয়ালিদের

ধারণা পৃথিবীর সাতশো কোটি মানুষের

মধ্যে অন্তত দু কোটি মানুষ

আছে যারা তার মতো দেখতে এবং এর

মধ্যে এক কোটি মানুষ

বাংলাদেশে থাকে । এমন

চিন্তা হওয়া ব্যাপারটা অস্বাভাবিকে

পর্যায়ে পড়ে কিন্তু ওয়ালিদের জন্য

ব্যাপারটা স্বাভাবিক ।ওয়ালিদ

যেখানেই যায় সেখানেই দু একজন

বলে সে নাকি তার অমুকের তমুকের

মতো দেখতে । অপরিচিত

কারো সাথে কথা বলার ধরণ নির্ভর

করে তার মেজাজের উপর ।



যখন মেজাজ খারাপ থাকেঃ

:এই যে ছেলে একটু শোনো তো এইদিকে ।

খুব চেনা চেনা লাগছে । নাম

কি তোমার ?

:আমার নাম ওয়াও ।

: ওয়াও ?

:জ্বী । ওয়াও

:মানুষের নাম ওয়াও হয় কিভাবে ?

আগে পিছে তো কিছু থাকা লাগে ।

তোমার আসল নাম কি ? ঠিক

করে বলতো ।

:আমার আসল নাম ওয়ালিদ হাসান।

ওয়ালিদ হাসান নামটা আমার

ফ্রেন্ডদের কাছে ট্রেনের মতো লাগে ।

আমার ফ্রেন্ডরা ট্রেনমার্কা নাম

পছন্দ করে না । তারা বাসমার্কা নাম

পছন্দ করে । তাই তারা আমার

ট্রেনমার্কা নাম

থেকে পাঁচটা বগি নামিয়ে দিলো ।

হয়ে গেলো 'ওয়া' । কিন্তু

ওয়া শুনতে কেমন কেমন লাগে তাই

তারা আরেকটা ও লাগিয়ে দিলো ।

হয়ে গেলো ওয়াও। ওয়ালিদ হাসান

থেকে ওয়াও । সুন্দর না আঙ্কেল ?

একবার বলেন তো ওয়াও ।



লোকটা ওয়াও বলে না । বড় ধরনের

একটা ধাক্কা খায় । বিড়বিড়

করে কি যেন বলে ।আঙ্কেল

বুঝতে পারে এইটা কঠিন চিড়িয়া ।এর

সাথে বেশি কথা বলা হারামের

পর্যায়ে পড়বে ।

: ও আচ্ছা । তুমি করো কি ?

:আপনার সাথে কথা বলতেসি ।

:আমি বলতে চাচ্ছি তুমি আসলে করো কি?

পড়াশুনা নাকি অন্য কিছু ?

:আপাতত বাপের হোটেলে থাকি ।

খাওয়া দাওয়া ঘুম সব ফ্রি ।হোটেলের

বর্তমান অবস্থা খুব একটা ভালো না ।

হোটেলের মালিক আর্থিক সমস্যায়

আছে এবং আমার উপর খুব রেগে আছে ।

যে কোনো সময় হোটেলের ফ্রী সার্ভিস

বন্ধ হয়ে যেতে পারে । তখন পঙ্খীরাজ

ছাড়া উপায় নাই ।

:পঙ্খীরাজ মানে ?

:ভাবতেসি একটা রিক্সা টিক্সা কিনে

। নাম রাখব পঙ্খীরাজ । পঙ্খীরাজ

ছাড়া উপায় নাই

মানে রিক্সা ছাড়া উপায় নাই । আই

এম গোননা বি এ পঙ্খীরাজ পুলার ।

হা হা হা....সরি রিক্সাপুলার ।



এই পর্যায়ে লোকটার চোয়াল শক্ত

হয়ে যায় । তিনি বুঝতে পারেন এই

ছেলেটা মারাত্নক বেয়াদব ।

সোজা কথায় ত্যাদড় । এইরকম ছেলের

সাথে কথা চালানো বুদ্ধিমানের কাজ

না । লোকটা যথেষ্ট বুদ্ধিমানের

পরিচয় দেয় । তাকে ছেড়ে দেয় ।

ওয়ালিদের খারাপ মেজাজ হঠাত্

করে ভালো হয়ে যায় ।

: ও আচ্ছা । তা বাবা ঠিক আছে । একটু

চেনা চেনা লাগছিলো তাই একটু

কথা বললাম । যাইহোক ভালো থেকো ।

:আপনিও ভালো থাকবেন আঙ্কেল । আর

একটু দোয়া করবেন

আমাকে যাতে পঙ্খীরাজ পুলার

না হতে হয় ।



যখন মেজাজ

ভালো থাকে (কোনো অতিরিক্ত

সুন্দরী আন্টি)

:এইযে ছেলে নাম কি তোমার বলতো ।

তোমাকে খুবই চেনা চেনা লাগছে ।

আশ্চর্য তো !!

:আমার নাম মোঃ ওয়ালিদ হাসান ।

ডাকনাম ওয়ালিদ।

আপনি আমাকে ওয়ালিদ

বলে ডাকতে পারেন ।



আন্টি রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে যান

ওয়ালিদের ভদ্রতা দেখে । কি ভদ্র

একটা ছেলে । কথাও

বলতেছে মাথা নিচু করে ! বাহ ।

আজকালকের ছেলেরা এমনও হয়!

:শোনো ওয়ালিদ । তুমি দেখতে ঠিক

আমার বড়ো বোনের বান্ধীর

ছোটো খালার বড় ছেলের ছোট মেয়ের

বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ডের মতো ।

:মেয়েটার নাম কি বলুন তো?

:আইরিন

:আইরিন ! বলেন কি ?? আইরিন তো আমার

জি এফ । আপনার নাম

কি বলুনতো আন্টি ?(যদিও আইরিন

নামে কাউকে ওয়ালিদ একেবারেই

চেনে না )

:তাই নাকি ? আমার নাম রেশমা

:রেশমা আন্টি !!!আপনার নাম

কতো শুনেছি আইরিনের কাছে !!

আপনি যে অসম্ভব সুন্দরী একজন

মহিলা এটাও আমি তার কাছেই

শুনেছি । আপনার

এতো প্রশংসা শুনেছি বলার মতো না ।আমি ভাবতাম ও বাড়িয়ে বলে কিন্তু আপনাকে দেখার.পর মনে হচ্ছে ও একটু কমই বলে ফেলেছে। আপনি আসলেই অনেক সুন্দর।

আন্টি আপনাকে আজ আমাদের বাসায়

যেতেই হবে ।এইতো কাছেই আমার

বাসা। আন্টি চলেন প্লিজ প্লিজ



রুপের প্রশংসা করার

সাথে সাথে আন্টি একেবারে গলে একাকার

হয়ে যান ।

:হাউ সুইট ! কিন্তু আমি তো আজ

যেতে পারব না । আমার একটু কাজ

আছে । ইন ফ্যাক্ট আমি কাজেই

বেরিয়েছিলাম আর তোমার

সাথে দেখা ।

:বলেন কি ?যেতে পারবেন না?

(ওয়ালিদ এমন ভাব করে যেন সে খুব

আপসেট)

:না । আমাকে যেতেই হবে বাবা

:কি আর করা । তবে আন্টি আপনি অবশ্যই

একদিন আমাদের বাসায় আসবেন । ঐ

যে নীল বাড়িটা দেখতেছেন

ঐটা আমাদের বাড়ি । আপনিআর আইরিন

চলে আসবেন সময় করে ।



রেশমা আন্টি ওয়ালিদের

ভদ্রতা দেখে আরেকবার মুগ্ধ হয়ে যান

। এবং কথা দেন তিনি অবশ্যই আসবেন

।ঐ নীল বাড়িটাতে ।

কিন্তু নীল

বাড়িটা ওয়ালিদের না । কার

বাড়ি ওয়ালিদ তাও জানে না ।একদিন

যদি রেশমা আন্টি চলে আসে তাইলে বিশাল ধরা খাবে

এইটা ভেবেই ওয়ালিদ আনন্দ পাচ্ছে ।

কিন্তু আইরিন নামের মেয়েটার জন্য

মনটা একটু উদাস হয়ে যায় ।





ওয়ালিদ একটা বিয়ে বাড়িতে এসেছে ।

একজন লোক তাকে ডাকতেছে ।

ওয়ালিদের মেজাজ এখন

ভালো না খারাপ

এইটা সে বুঝতে পারছে না । সে এখন

লোকটার সাথে কিভাবে কথা বলবে?

মেজাজ ভালো থাকা অবস্থায়

যেভাবে নাকি মেজাজ খারাপ

থাকা অবস্থায় যেভাবে আচরণ

করে সেভাবে? ওয়ালিদ কিছুই

বুঝতেছে না

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.