| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ওয়াহাব ৰাদশা
আমি একজন ভালো বাঙালি হওয়ার চাইতে একজন ভালো বাংলাদেশী হতে চাইব সবসময় | ফেসবুক - www.facebook.com/wahab.badsha
ঘটনা ১
গতবছরের মাঝামাঝি সময়ে একদিন
আমার নানা (আমার নানা'র ছোট ভাই)
হঠাত্ হার্ট এটাক করে মারা গেল।
আমি ঘুমিয়ে আছি ।ভোরে আমার
মা এসে আমাকে ডাকলো ।
:বাদশা,বাদশা
আমার মা কাঁদতেছিলো
:কি হইছে?আপনি কাঁদতেছেন কেনো?
:তোমার ছোটোনানা মারা গেছে।
:ও আচ্ছা ।
'ও আচ্ছা' বলেই আমি অন্য পাশে মুখ
ঘুরিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার
চেষ্টা করলাম ।ব্যাপারটা এমন
যে,নানা মারা যাওয়ার
ব্যাপারটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ
কিছু না ।তারচেয়ে ঘুম অনেক
বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।
আমি ঘুমিয়ে পড়লাম ।আমার
মা কিছুক্ষণ
কান্নাকাটি করে আবার নিজের
রুমে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু
করলেন ।হঠাত্
চাচা কে হারানো ব্যাপারট
তিনি কিছুতেই
মেনে নিতে পারছিলেন না ।
আমরা নানা বাড়ি যাচ্ছি নানাকে কব
দেয়ার জন্য।গাড়িতে আমার
পাশে মা বসে আছে ।কিছুক্ষণ পর
পরই তিনি ফুপিয়ে ফুপিয়ে উঠছেন ।
আমার বাবা ও মন খারাপ
করে বসে আছে ।কিন্তু
আমি নির্বিকারচিত্তে বসে আছি ।
বাইরের রাস্তা ঘাট,মানুষ দেখছি ।
আমার খুব ভালো লাগছে ।আমার
নানা মারা গেছে -এইটা খুবই
কষ্টকর একটা ব্যাপার আমার জন্য
হওয়া উচিত্ ছিলো ।আমি আমার এই
ছোট্ট জীবনে যে কয়জন মানুষের
অসম্ভব ভালোবাসা পেয়েছি তার
মধ্যে এই নানা একজন ।ছোটোবেলায়
আমি তার
ঘাড়ে উঠে ঘুরে বেড়িয়েছি,তিনি আমা
পর দিন ঘুমিয়েছেন,গভীর মমতায়
কপালে চুমু খেয়েছেন,না চাইতেও
ভালোবেসে কতো কি দিয়েছেন,বড়ো হয়ে
পরেও
আমি নানাবাড়ি গেলে তিনি আমাকে দে
জন্মের পর থেকে যে মানুষের
এতো আদর,স্নেহ,যত্ন,ভালোবাসা পেল
হঠাত্ ভোরবেলা মায়ের
কান্নাবিজড়িত কন্ঠে শুনলাম সেই
মানুষটা আর নাই !!আমার খুব কষ্ট
পাওয়া উচিত্ ছিল না? কষ্টের
তীব্রতায় চোখ দিয়ে পানি বের
হওয়া উচিত্ ছিলো না? কিন্তু
কোনো উচিত্ কাজ হয় নি ।অবাক হয়
লক্ষ্য করলাম আমি আসলে কোনো কষ্ট
পাচ্ছি না !আমার চোখ দিয়ে পানিও
বের হচ্ছে না ।
নানাবাড়িতে পৌছার পর দেখলাম
নানাকে খাটিয়ায়
শুইয়ে রাখা হয়েছে ।তার
নাকে তুলো দেয়া ।আমার
মা এমনিতেই খুব নরম মনের মানুষ ।
এই দৃশ্য আমার মা সহ্য
করতে পারলেন না ।তিনি প্রচন্ড
কষ্টে আমার
মা কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে গেল
।আমিও নানাকে দেখলাম ।আমার
কোনো ফিলিংস নাই ।আমার কয়েক
হাজার নানা আছে ।রেগুলারই আমার
কয়েকশ নানা মারা যাচ্ছে ।
এইটা খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা-
আমি এমন ভাব
নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি ।আমার সেদিন
মনে হয়েছিলো,আচ্ছা আমি কি একজন
অনুভূতিহীন মানুষ হয়ে গেছি?আমার
অনুভূতি থেকে কি দুঃখ কষ্ট জিনিস
গুলো হারিয়ে গেছে? আমার এতো আপন
একজন মানুষ মারা গেলো অথচ
আমি কষ্ট পাচ্ছি না কেনো? আমি এর
কোনো উত্তর পাই না ।আজ ও....
ঘটনা ২
নানা মারা যাওয়ার
মোটামুটি একমাস পরেই একদিন
শুক্রবারের জুম্মার নামাজ
পড়ে এসে টিভিতে একজনের মৃত্যুর
খবর শুনলাম ।মৃত্যুর খবর শোনার
পরেই আমার
পুরো পৃথিবী দুলে উঠলো,আমি বুকের
মধ্যে একধরনের শূন্যতা অনুভব
করলাম,প্রচন্ড কষ্ট পেলাম ।বলাই
বাহুল্য মানুষটা হুমায়ূন আহমেদ
।আমার এই একজীবনে অনেক মানুষের
মৃত্যু দেখেছি কিন্তু হুমায়ূন
আহমেদের মৃত্যু
আমাকে যতোটা গভীরভাবে স্পর্শ
করেছিলো অন্য কারো মৃত্যু
আমাকে এতোটা গভীরভাবে স্পর্শ
করে নি ।আমার তখন
মনে হলো,আমি আসলে একজন
অনুভূতিহীন মানুষ না ।আমারও
দুঃখ কষ্ট আছে !!তবে এই
মানুষটা কিন্তু
আমাকে নিয়ে ঘাড়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়
নি,কখনো বুকে জড়িয়ে ঘুমায় নি,পরম
মমতায় কপালে চুমু খায়
নি,আমাকে আনন্দে জড়িয়ে ধরে নি ।
তারপরেও এই মানুষের জন্য আমার
এতো ভালোবাসার একমাত্র উত্স
হলো তার বই ।আমার ছোটোজীবনের
প্রচুর অলস সময়ের একমাত্র
সঙ্গী ছিলো তার বই । আমি দিনের
পর দিন রাতের পর রাত হুমায়ূন
আহমেদের বই পড়ে কাটিয়েছি ।
শুধুমাত্র বই পড়ে কাউকে নিজের
এতো আপন মনে হয়,এতো ভালোবাসা যায়-
আমার জানা ছিলো না !!মৃত্যুর এক বছর পর আমি এখনো তার
মৃত্যু মেনে নিতে পারি না ।হুমায়ূন আহমেদের বই পড়ে যে জিনিসটা সবচেয়ে ভালোমতো শিখেছি সেটা হল জ্যোছনার দেখা। আজো কোনো এক ভরা জ্যোছনায় তার শুন্যতা খুব খুব গভীরভাবে অনুভব করি। তার শুন্যতা আমাকে কষ্ট দেয়।
অতঃপর
মানুষের আত্মহত্যার কারণ
হিসেবে আমি যা জানি তা হলো-একজন
মানুষ যখন বেচে থাকার সব কারণ
হারিয়ে ফেলে তখন আত্মহত্যা করে ।
এইদিক
থেকে আমাকে কখনো আত্মহত্যা করতে
আমার বেচে থাকার সব কারণ
যদি হারিয়ে যায় তাহলেও একটা কারণ
তখনো থাকবে বেচে থাকার
জন্য,তা হলো হুমায়ূন আহমেদের বই
।আমি সেগুলো নিয়ে ঘরের এক
কোণে বসে যাবো ।বেচে থাকার জন্য
তখন আমার কোনো কারণের প্রয়োজন
পড়বে না.....
©somewhere in net ltd.