নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরলভাস্য

মিহির লাল সিংহ

ঢাকার সাত বছরের স্ম্বতিগুলোকে কবর দিয়ে ফিরে আসলাম সিলেট। জীবনে ভাল কিছু একটা করার স্বপ্ন দেখি, কিন্তু করব, পরবো, যাবো, খাবো, ঘুমাবো... বো বো করে করে জীবন বুঝি শেষ হয়ে যাবে...

মিহির লাল সিংহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বড় বাঁচা বেছে গেছিঃ ঈশ্বরের আশীর্বাদ, ভাগ্য ও সময়!

০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:০৩

সময়ের গুরুত্ব আজকে হারে হারে তের পেলাম! বেশি না মাত্র পাঁচ, মাত্র পাঁচ মিনিট আগে যদি কাজ ছেড়ে বের হতাম তবে হতো আজকে সিলেটের রাস্তায় আমার মোটরসাইকেলটাও জ্বলত। কি জানি আমিও আর এক বিশ্বজিৎ হয়ে খবরের শিরোনাম হতাম। ভগবান তোমায় অশেষ ধন্যবাদ।



আজ দুপুরে বন্দরবাজারে একটা কাজ ছেড়ে বের হব, দেখি কাজে কিছুটা ভুল রয়ে গেছে! ফিরে গেলাম, ঠিক করে নিতে পাঁচ মিনিটের বেশি সময় লাগে নিয়ে। ধীরে ধীরে বাইক টেনে চৌহাট্টা পার হতেই পেছনে বসা ক্লায়েন্ট সামনের দিকে ধোঁয়া দেখালো। আমি বলি এ আবার এমন কি! এগুতে থাকলাম, দেখি রাস্তার মাঝখানে একটা ডিসকাভারি জ্বলছে, টাটে ফায়ার বিগ্রেড সবে পানির লাইন টেনে আগুন নেভাতে ব্যস্ত। বুঝা গেলো একটু আগের ঘটনা। রাস্তার দুপাশে মানুষ আর মানুষ, পুলিশ, সাংবাদিক, র‍্যাব, আর বিজিবি। সত্যি ধীরে ধীরে শরীরের রোম দাঁড়িয়ে গেলো, উপায় নেই এগুতেই হবে। নিজেকে যতক্ষণ বাসায় পৌছাতে না পারি, নিজেকে নিরাপদ বলা যাবে না। (যদিও এখন ঘর আর বাসাও নিরাপদ মনে হয় না!)



দূরু দূরু বুকে এগুতে থাকলাম, আর একটি বাইক, সামনে আরও একটি, আর একটু এগুতেই চোখে পড়লো, বসুন্ধরা মোটরস এর শোরুম আগুনে পুড়ে ছাই! এতো দামী সব হিরো হোন্ডা গাড়ীগুলো...



আর একটু এগুতেই, দেখি দুটো কার জ্বলে পড়ে আছে। সামনের দুপাশে দাঁড়ানো মানুষগুলো, প্রতিটা মুহূর্ত মনে হচ্ছিলো এই বুঝি আমার উপর হামলে পড়লো, এই বুঝি বাইকটা জ্বালিয়ে দিবে। বাইক জ্বলুক, সে কেনা যাবে, কিন্তু যদি আঘাত আমার উপর আসতো? যদি আমি নতুন কোন বিশ্বজিৎ হতাম?!



ঈশ্বর অনেক হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ, আমাদের শান্তিতে দুবেলা-দুমুঠো খেয়ে পড়ে বাঁচতে দাও। যদি যেটা না পারো তবে এ কলি যুগের সমাপ্তি টানার এখনি সময়।



(এই মাত্র খবরে জানলাম সিলেটে দুইজন নিহত! আগামী হরতালের তিনটা দিন তবে কেমন যাবে?!)

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:১৩

এম এম হোসাইন বলেছেন: কি যে শুরু হইল দেশে! আমি বাসার বাইরে ছিলাম। বাসা থেকে বারে বারে ফোন আসতেছিল......জলদি বাড়ি আয়, জলদি বাড়ি আয়। আমি বললাম আসতেছি। বাসায় এসে দেখি মা কেদে কেদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। আমি চমকে উঠলাম, ভাবলাম বাসায় মনে হয় কিছু একটা হয়েছে। পরে শুনি আমি বাইরে এই চিন্তায় মা খালি দোয়া পড়তেছিল আর কাদতে ছিল!

০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:২১

মিহির লাল সিংহ বলেছেন: আপনার আমার সব মা-বাবারই একই অবস্থা। আমার মায়া হয় সেই সব "নিরপরাধ" ছেলেদের যারা আজ পথভ্রষ্ট। তাদেরও বাবা-মা আছে। আপনার আমার মতো তারা কেন বলে না "জলদি বাড়ি আয়, জলদি বাড়ি আয়"?

২| ০৩ রা মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:০৪

সাদা রং- বলেছেন: ভাই সাবধানে যাতায়াত করবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.