নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

minsomnaz

shohoj shorol vabe shob kichu vabi /jotil vabe vabte parina /

নাজিয়া জামান

shohoj shorol vabna vabi /jotil kichu vabte parina /

নাজিয়া জামান › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমজনতার রোজনামচা

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৩২

১৬/০১/১৩

একদিন বাসায় একটা মেয়ে এল কাজ করবে বলে । এত সুন্দর মেয়ে যে চোখ সরছিল না । আবার মেয়েটার কাপড় চোপড় ও যথেষ্ট ভাল।এরকম একটা মেয়ে কাজ করতে এলে কেন নিজের ও লজ্জা লাগে বুঝলাম না । নাকি ওর মত মেয়ের বাসায় কাজ করা উচিত না এই বোধ এর কারনে এরকম খারাপ লাগে অথবা হয়তো আমাদের এরকম অসহায় অবস্থা যে আমরা আসলে এদের জন্য কিছু করতে পারছিনা । কিন্তু ভাবছিলাম আসলে পৃথিবীর অন্য কোন উন্নত দেশে জন্ম হলে মেয়েটার জীবনটা হয়তো অন্যরকম হতো ।

এখানে মেয়েটা কদিন আর সুন্দরী থাকবে ! জীবনের কষ্টে কষ্টে এর সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে । হয়তো কোন রিকসাওয়ালা অথবা দিনমজুর এর সাথে বিয়ে হবে এরপর ছেলেমেয়ে হবে অনেকগুলো আর দরিদ্র হওয়ার কারনে স্বাভাবিক ভাবে জীবনের সকল কষ্ট বরণ করে জীবনীশক্তি নিঃশেষ হবে অল্প কিছুদিন পরেই ।

আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয় আসলে মানুষের জন্মটাই ভাগ্য । যেমন বস্তিতে জন্মগ্রহণ করলে তার বাকী জীবন শুধু বয়ে যাওয়া । অল্প কিছু সৌভাগ্যবান আছে যারা জীবনকে জয় করতে পারে। দারিদ্রকে জয় করতে পারে । নইলে পঙ্কে পঙ্কে জীবনটা কেটে জীবনী শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায় । তবু মানুষ বেঁচে থাকে । এর মধ্যেই হাসি- কান্না- দুঃখ- কষ্ট-আনন্দ । সব , সব কিছু ।

আমার অফিসের পিয়ন একটা ছেলে আছে । ওকে ঠকিয়ে একজন তার অনেক টাকা নিয়ে গেল । কিন্তু ভয়ে সে তার বিরুদ্ধে কিছু করতেও পারছে না । বললাম আশু এত ভয় পাও কেন ? মরলে মরবা আর কি । ও উত্তর করলো যে “ আরো একটু বাঁচার ইচ্ছে আছে আমার ।ঐ সময় আমি হাসতে হাসতে শেষ হয়েছি ওর কথা শুনে । ও খুব গরীব । তাই বলে জীবনকে কি ভালবাসে না ? আসলেই জীবনে বেঁচে থাকার আনন্দই আলাদা । বেঁচে থাকুক সকলে বাঁচার আনন্দটুকু নিয়ে ।

০৮/০১/১৩

কিছুদিন আগে তসলিমা নাসরিনের একটা লেখা পড়লাম । অনেক কথাই বলা ছিল সেখানে । হুমায়ূন আহমেদ ধনী এবং পুরুষ লেখক বলে বেশী গুরুত্ব পেয়েছেন তার চিকিৎসার জন্যে । তার মা সাধারণ নারী বলে তিনি গুরুত্ব পাননি । তিনি ভুগেছেন , কষ্ট পেয়েছেন ইত্যাদি । তার এই ক্ষুদ্রতার উত্তর আর কি দেয়া যায় । আবার লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা আমাদের আই বাংলায় জনপ্রিয়

কেননা আমরা তাবৎ জনগণ কম শিক্ষিত । আর পাশের দেশ ভারতের জনগণ বাংলাদেশের মানুষের চাইতে শিক্ষিত , পড়াশোনা জানা । তাই ওখানে তিনি জনপ্রিয় নন । সমরেশ মজুমদার , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় অনেক চেষ্টা করেও তাকে জনপ্রিয় করতে পারেন নি । খারাপ লাগলো তসলিমার এই লেখা পড়ে । অথচ সেও এই দেশেরই মেয়ে । বাংলাদেশের মেয়ে হয়েও বাংলাদেশের মানুষকে যেমন ছোট করলেন লেখককেও ছোট করলেন । হুমায়ূন আহমেদের লেখা যে কত পড়েছি। নেশার মত লাগে তার লেখা । কেউ যদি পড়তে বসে তবে কিছুতেই শেষ না করে উঠতে পারবে না । ওনার লেখা মধ্যাহ্ন , লীলাবতী যখন পড়ছিলাম আমার মনে হচ্ছিল আমি একটা ঘোরের জগতে বাস করছি । হিমু আর মিসির আলীর চরিত্র হুমায়ূন আহমেদই পারেন সৃষ্টি করতে ।

ইতিহাস আমার খুব পড়তে ইচ্ছে করে না । কিন্তু বাদশাহ নামদার পড়ে তো কেমন যেন সম্মোহিতের মত অবস্থা হল আমার । এত সুন্দর করে একজনের চরিত্রকে জীবন্ত করা যায় এটা হুমায়ূন আহমেদ এর বই না পড়লে কেউ বুঝতে পারবে না । যারা পড়েনি তাদের দুর্ভাগ্য । সেটা তাদের শিক্ষার অহংকার না । অহমিকা । facebook এ আমার ফ্রেন্ড লিস্টএ বেশ কয়েক জন ভারতীয় বাঙ্গালী কবি , লেখক আছেন । তাদের কয়েক জনকে জিজ্ঞেস করেছি হুমায়ূন আহমেদ এর বই ওনারা পড়েন কিনা । ওনারা উত্তর করলেন ওখানে হুমায়ূন চর্চা কম হয় । আবার বলছেন হিমুর মত অবাস্তব চরিত্র তিনি তৈরী করছেন স্রেফ জনপ্রিয় হবার ইচ্ছেয় । এরপর এমন রাগ হল । ভাবলাম আর পড়বো না তাদের লেখা । কিন্তু আসলে না পড়াটাই খুদ্রতা । সাহিত্য তো সার্বজনীন । সাহিত্য আর শিল্প দেশ , জাতি কাল এর সীমানা মানে না । সাহিত্য আর শিল্পের আবেদন দেশ ,জাতি , কাল এর সীমানা অতিক্রম করে তা পৌঁছে যায় সকল মানুষের হৃদয়ে । এটাই তো নিয়ম ।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৪৫

অণুজীব বলেছেন: হুম।

২| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:১৫

স্বপ্নখুঁজি বলেছেন: lekhata bhalo laglo.

৩| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:২৬

শার্লক বলেছেন: বহু বছর আগে আমি তখন ক্লাস টেন এ পড়ি। বগুড়ায় গিয়েছিলাম বেড়াতে ট্রেন থেকে খুব ভোরে নামার কারনে খালুর এক আত্মীয়র বাসায় গেলাম সবাই মিলে। আমাদের তখন হালকা নাস্তা দেওয়া হলো। এক মেয়ে আমার সামনে নাস্তা দিল আমি তো মেয়েটাকে দেখে মনে করেছিলাম এ বাসারই মেয়ে। খুবই সুন্দরী ছিল, পরে শুনলাম ঐ বাসায় কাজ করে। পোলাপানের জ্বালায় গ্রামে টিকতে পারছিল না তাই ঐ বাসায় রেখে যায়।

৪| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:১২

আশফাক সুমন বলেছেন: খুব ভালো লিখেছেন। ++++++

"আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয় আসলে মানুষের জন্মটাই ভাগ্য । যেমন বস্তিতে জন্মগ্রহণ করলে তার বাকী জীবন শুধু বয়ে যাওয়া । অল্প কিছু সৌভাগ্যবান আছে যারা জীবনকে জয় করতে পারে। দারিদ্রকে জয় করতে পারে । নইলে পঙ্কে পঙ্কে জীবনটা কেটে জীবনী শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায় । তবু মানুষ বেঁচে থাকে । এর মধ্যেই হাসি- কান্না- দুঃখ- কষ্ট-আনন্দ । সব , সব কিছু ।"-- সহ মত ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.