| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এরিক আবিদাল,২০১১সাল লিভারে টিউমার ধরা পড়ল। ফুটবলে ফিরবেন কিনা দূরের কথা, বাঁচবেন তো এরিক? আর ঠিক তখনই তাঁর সঙ্গে চুক্তি রিনিউ করল বার্সা। পাশে থাকা। বার্সার সহযোদ্ধা ড্যানি আলভেজ নিজের লিভার দিতে চাইলেন। আবিদাল অবিশ্বাসে তাকালেন। শেষমেশ ভাগ্নে জেরার্ডের থেকে অনিচ্ছে সত্ত্বেও নিলেন। ছমাস পর মাঠে। ওয়েম্বলিতে ফাইনাল। মাঠে নামার আগে অধিনায়ক পুওল আর্মব্যান্ড পড়ালেন আবিদালের হাতে। নব্বই মিনিট রুনি, ভালেন্সিয়াদের নড়তে দিলেন না আবিদাল। খেলার ফল ৩-১। জয়োল্লাসের মঞ্চে পুওল জাভিরা ট্রফি ধরিয়ে দিলেন আবিদালকে। সেলিব্রেশনের ওয়েম্বলিতে সতীর্থরা কাঁধে ক’রে আকাশে ছুঁড়ল কাকে জানেন? একা ম্যাঞ্চেস্টার ডিফেন্স শেষ করে দেওয়া লিও মেসিকে না, এরিক আবিদালকে। আবিদাল সেদিন সারারাত কেঁদেছিলেন।
২০০৫। নভেম্বর। এল ক্ল্যাসিকোর দুদিন আগে। রাত তিনটেয় ইনিয়েস্তাকে ফোন করলেন রোনাল্ডিনহো। ‘ভাই আন্দ্রেস, আমি বার্সা ছেড়ে রিয়েলে যাচ্ছি। এমন অফার ছাড়া যায়না। কাউকে বলো না প্লিজ’। ইনিয়েস্তা পরেরদিন প্র্যাক্টিসে দেখলেন সবার মুখ থমথমে। কেউ জলে ভেজা। ম্যাচের ঠিক আগে রোনাল্ডিনহোর টিম মিটিং। ‘আমি তোমাদের প্রত্যেককে কাল ফোন করলাম। বললাম দল ছাড়ছি। কাউকে বলোনা। তোমরা কাউকে বললেনা। অথচ নিজেদের ভেতর রেখে কষ্ট পেলে। আমি কোথাও যাচ্ছি না। শুধু স্পিরিটটা দেখতে চাইছিলাম। পেলাম। এখন রিয়েলকে শেষ করে দাও’। খেলার ফল ৩-০। নায়ক নিজেই করলেন দুটো।
২০১৪।। এপ্রিল। আগের দিন কোচ টিটো ভিলানোভা চলে গেছেন গলার ক্যান্সারে। বিরতি অব্দি ভিলারিয়েলের কাছে ০-২ গোলে হারছে দল। নতুন কোচ মারটিনো থেকে জেভি হয়ে দলের সবাই মনে করল, টিটোর মন্ত্র –‘কমন সেন্স, ব্রেভারি, স্ট্রেংথ’। খেলার শেষে ফল ৩-২। বার্সা। ফ্রাঙ্কোর ডিক্টেটরশিপের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা বার্সা। পাস পাস আর পাস। তিকিতাকা। ‘‘মোর দ্যান এ ক্লাব’।
২০১৬। মার্চ। ক্যান্সারে চলে গেছেন ঈশ্বর। জোহান ক্রুয়েফ। পরের দিন গোটা ন্যু ক্যাম্প ভিজে গেল শোক, জল আর রঙে। ক্রুয়েফের জার্সি নম্বর মিলিয়ে গোটা গ্যালারি জুড়ে সমর্থকরা আঁকলেন ‘১৪’। লিখলেন ‘Gracies Johan’। যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ধন্যবাদ জোহান’।
২০১৬। ফেব্রুয়ারী। বিরুদ্ধে সেল্টা ভিগো। নিজের ৩০০ তম গোল। পেনাল্টি নিতে এসে না মেরে পাস বাড়ালেন হ্যাট্রিকের সামনে থাকা সুয়ারেজকে। ৩০০ গোল? ধুর! ভালোবাসার, বন্ধুত্বের সহস্র গোল লিও তো কবেই পেরিয়ে এসছেন।
২০১৭-র এল ক্ল্যাসিকো। দল এক গোলে হারছে। মার্সেলোর কনুই মেসির ঠোঁট দাঁত ফুঁড়ে খুঁজে নিয়েছে রক্তের স্রোত। টিসু। ঈশ্বরের ব্যথা লাগে নাকি? এক হাতে ঠোঁট ধরে চারজনকে কাটিয়ে নিখুঁত প্রেসিশনে বল জালে। ৯২ মিনিটে ডিফেন্স সামলে ছুটে এলেন ডেঞ্জার জোনে। শট। জাল ছিঁড়ে যাচ্ছিল প্রায়। একহাতে জামা সোজা করে ধরলেন? অলৌকিক? ঠোঁটে রক্ত না, নীরব উচ্চারণ – ‘ফুটবল শব্দটা আমার জন্য অভিধানে এসছে। তোমরা, আমাকে দেখো’। খেলার শেষে অন্য মানুষ। ড্রেসিংরুম। সবাই সেলিব্রেশনে। সাসপেনশনের জন্য নেইমার নেই। কিভাবে আনন্দ করবেন মেসি। একপাশে সরে গিয়ে ভিডিও কল করলেন। নেইমার না থেকেও তুমুলভাবে থাকলেন।
সেই নেইমার। পিএসজি চলে গেলেন। কী পাবেন? ২৬৩ মিলিয়ন ডলার। গিনেস বুক। কিন্তু ইনিয়েস্তার কাঁধ, ০-৪ থেকে ফিরে ভেসে ৬-১ করার পর সতীর্থের ওই আগুন-খেলা দেখে লিওর জড়িয়ে ধরা, ন্যু ক্যাম্পের সহস্রধারার মতো ঝর্না, ক্রুয়েফ-গুয়ারডিওলার ছুঁয়ে যাওয়া লেগ্যাসি, ‘জিতি না জিতি তিকিতাকা ছাড়বনা’র মতো বার্সাচিত অহঙ্কার – প্রিয় নেইমার? আপনি এসব কোথায় পাবেন?
তবু, শুভেচ্ছা ...

©somewhere in net ltd.