নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মগ্নতাদের বাড়ী কেউ থাকে না।

মগ্নতা ছাড়া

মগ্নতা

আত্মমগ্ন জল।

মগ্নতা › বিস্তারিত পোস্টঃ

চ্যানেল ওয়ান লই আমার দেশের রিপোর্টটি বিস্তারিত আছে

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৪৯



চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দিয়েছে সরকার



জনপ্রিয় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন কেন্দ্র চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ঠুনকো অজুহাতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তারা চ্যানেলটির গুলশান অফিসে গিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করে দেন। এতে সেখানে কর্মরত ৪০০ সাংবাদিক, কর্মচারী ও কলাকুশলী বেকার হয়ে পড়েছেন। বন্ধের কারণ হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বলেন, টেলিযোগাযোগ আইন লঙ্ঘন করে চ্যানেল ওয়ান তাদের সম্প্রচার যন্ত্রপাতি ব্যাংকে বন্ধক রেখে পরবর্তীকালে সেগুলো নিলামে বিক্রি করে দেয়ার প্রেক্ষিতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চ্যানেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেছেন, ভিন্নমত দলন ও কণ্ঠরোধের অংশ হিসেবে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে চ্যানেলের সংবাদ ও টকশো’র ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলেও জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত সরকারের রোষানলে পড়ে টিভি পর্দা থেকে হারিয়ে গেল চ্যানেলটি। চ্যানেলের অন্যতম পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেছেন, তারা এখন আইনের আশ্রয় নেবেন।

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যথারীতি বুলেটিন প্রচার করছিল চ্যানেল ওয়ান। ওই সময়ই বিটিআরসির কর্মকর্তারা গুলশানের উদয় টাওয়ারে অবস্থিত চ্যানেলটির অফিসে ঢোকেন। বুলেটিনটি শেষ করতেও দেয়া হয়নি। তার আগেই সংবাদ পাঠককে চ্যানেল বন্ধের ঘোষণা দিতে হয়। বুলেটিনের মাঝখানেই প্রায় বাকরুদ্ধ কণ্ঠে খবর পাঠক শামীম মাহবুব বলেন, ‘প্রিয় দর্শক সম্ভাবনার কথা বলে’—এ স্লোগানে আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চ্যানেলটি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ‘বিটিআরসির নির্দেশে এখন থেকে চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হচ্ছে। এজন্য চ্যানেল ওয়ানের সব দর্শক, কেবল অপারেটর, কলাকুশলী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি খুব শিগগিরই আমরা আবারও আমাদের সংবাদ এবং অনুষ্ঠান নিয়ে ফিরে আসব আপনাদের মাঝে।’

গতকাল সন্ধ্যায় চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়ার জন্য বিটিআরসি কর্মকর্তারা যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চ্যানেল ওয়ান পরিচালনাকারী কোম্পানি ওয়ান এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশনের পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, বিটিআরসি যে ক’টি শোকজ নোটিশ চ্যানেল ওয়ানকে পাঠিয়েছে, তার সবক’টির যথাযথ উত্তর দেয়া হয়েছে। চ্যানেল ওয়ানের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সরকারের সব কথা আমরা মেনে চলব। তিনি বলেন, চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচারযন্ত্র নিলামে বিক্রি হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রাইম ব্যাংক কোনো নোটিশ পাঠায়নি। যন্ত্রপাতি নিলাম হওয়ার পর ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করে চ্যানেল ওয়ান। পরে হাইকোর্ট রায় দেন যন্ত্রপাতি নিলামে বিক্রি করা যাবে। এরপর ব্যাংক নিলামে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে। তবে তারা বলেছে, লেনদেন পুরোপুরি না হওয়ায় যন্ত্রপাতি হ্যান্ডওভার করা হয়নি। এ বিষয়ে বিটিআরসি জানতে চাইলে তাদের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে টেলিভিশনের বার্তা প্রধান রাশিদ-উন নবী বাবুও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চ্যানেল ওয়ানের শতাধিক কর্মীর চোখে ছিল জল। টেলিভিশনটির বিশেষ সংবাদদাতা কেরামতউল্লাহ বিপ্লব চ্যালেন ওয়ানের কর্মীদের পক্ষে বক্তব্য দেয়ার সময় বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে ৪০০ কর্মী দিশাহারা হয়ে যাবে। তারা কী খাবে, তাদের সংসার কিভাবে চলবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘চ্যানেল ওয়ানের বিষয়ে কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, বিটিআরসি মানবিক দিকটি বিবেচনা করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ভিন্নমতের আরও একাধিক চ্যানেলের ওপর সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে একই ধরনের চাপ ও হুশিয়ারি রয়েছে বলেও জানা গেছে। এর আগে বিগত জরুরি সরকারের সময়ে বন্ধ করে দেয়া হয় আরেক জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল সিএসবি। অবশ্য গত বিএনপি সরকারের আমলে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচারও বন্ধ হয়েছিল। বর্তমান সরকারের আমলে যমুনা টেলিভিশন আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচারে যাওয়ার আগেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

মন্ত্রীই প্রথম জানালেন চ্যানেল বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা : গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় টেলিকম দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু সাংবাদিকদের চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানান। তারপর থেকেই ‘চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে’ এ ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচার করা হয় ‘চ্যানেল ওয়ান যে কোনো সময় বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে’। এতে হতবিহবল হয়ে পড়ে চ্যানেল ওয়ান কর্মীরা। মালিকানা বিবেচনা করে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করা হচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, এখানে মালিকানার কোনো বিষয় নেই। আর হুট করেই চ্যানেল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়নি। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, মালিক দেখে চ্যানেল বন্ধ করা হলে আরও অনেক চ্যানেল বন্ধ করতে হয়। প্রসঙ্গত, চ্যানেল ওয়ানের অন্যতম মালিক ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। মন্ত্রী বলেন, তাদের টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে তিন মাস আগে চ্যানেল ওয়ান কর্তৃপক্ষকে নোটিশও দেয়া হয়। কিন্তু চ্যানেল ওয়ান কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। আর সে কারণেই চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বর্তমানে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা যন্ত্র দিয়ে চ্যানেল ওয়ান চলছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় সরকার এ প্রতিষ্ঠানটিকে চলতে দিতে পারে না। তারা যে অপরাধ করেছে, তার শাস্তি হচ্ছে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া। এ সময় বিটিআরসি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, চ্যানেলটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার একটি ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চ্যানেল ওয়ানের একটি সূত্র জানায়, গতকাল সকালে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে তাদের জানানো হয়, চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়া হবে। বন্ধের সময় তারা যেন কোনো ধরনের ঝামেলা না করেন। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (সম্প্রচার) আমিনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়টি বিটিআরসির অধীনে। চ্যানেল ওয়ান বন্ধের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তবে তিনি বলেন, চ্যানেল ওয়ানের মালিকানা, ব্যাংকঋণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় সংক্রান্ত বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যতবার এসেছে ততবারই বিভিন্ন সংবাদ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগের প্রথম শাসনামলে সরকারি নিয়ন্ত্রণে ৪টি সংবাদপত্র রেখে অন্যসব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। বেকার হয়ে পড়েন শত শত সাংবাদিক। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, বিচিত্রা ও আনন্দ বিচিত্রা বন্ধ করে দিয়ে কয়েকশ’ সাংবাদিককে বেকারত্বের মুখে ঠেলে দেয়া হয়।

সংবাদ কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা : চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়ায় চ্যানেলটির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংবাদকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। চ্যানেলটির নিউজ এডিটর ফাহিম আহমেদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েই এটা বন্ধ করেছে। এতে চার-পাঁচশ’ পেশাদার সাংবাদিক-কর্মচারী-কর্মকর্তা বেকার হলেন। অনেকের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেল। হয়তো অনেককে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন খেয়ে না খেয়ে কাটাতে হবে নতুন চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত। তিনি বলেন, চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিক-কর্মচারীরা তাদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

সম্প্রচার বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাইলে চানেল ওয়ানের চিফ রিপোর্টার মোস্তফা আকমল অত্যন্ত আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শুরু থেকেই জড়িত। এমন একটি জনপ্রিয় চ্যানেল যন্ত্রপাতি বিক্রির অজুহাতে বন্ধ করে দিলে এর সঙ্গে জড়িত সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কী হবে সরকার কী তা একবার ভেবে দেখেছে? তিনি জানান, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সকালে বলেছেন চ্যানেল ওয়ান একটি পরিচ্ছন্ন বিনোদনমূলক নিরপেক্ষ চ্যানেল। যদি তাই হয় তাহলে এমন একটি চ্যানেল বন্ধ করার কী যৌক্তিকতা আছে? তিনি বলেন, চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়ায় এখানে কর্মরত সবাই একেবারে ভেঙে পড়েছেন। এখানে প্রায় চার-পাঁচশ’ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছিলেন। তাদের পরিবার মিলে এই মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত প্রায় দশ হাজার লোক। সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। তাদের কাছে আমাদের দাবি, ভুল যদি হয়েও থাকে তাহলে তার জন্য দায়ী মালিকপক্ষ। কোনোভাবেই স্টাফরা নন। সমস্যা হলে সমাধানও আছে। কিন্তু চ্যানেল বন্ধ করে দিয়ে সমাধান খোঁজা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, আমরা বিটিআরসি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, মালিকপক্ষের কোনো ভুল থাকলে প্রশাসক নিয়োগ করুন। নতুবা আপনারা চালান। তবু চ্যানেলটি বন্ধ করবেন না।

স্পোর্টস এডিটর পরাগ আরমান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সব শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কি লাভ। প্রেজেন্টার কাম নিউজরুম এডিটর শবনম নূপুর বলেন, ভীষণ খারাপ লাগছে। এটা যে আবার কবে চালু হবে তা জানি না। নেটওয়ার্ক ইনচার্জ মনিরা তানভীন টুলি চ্যানেল ওয়ান বন্ধের ঘোষণা শুনে প্রায় কেঁদেই ফেলেন। তিনি বলেন, অসুস্থ হয়ে ক’দিন বাসায় ছিলাম। বাসায় বসেই টিভিতে ঘোষণাটি শুনলাম। চ্যানেল বন্ধের এই ঘোষণাটি আমার কাছে বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো মনে হয়েছে। তিনি বলেন, চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিক ও স্টাফদের অবস্থা খুবই খারাপ। তারা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তাদের প্রিয় চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান, সমস্যা সমাধান করে তাড়াতাড়ি যেন এই চ্যানেলটি খুলে দেয়া হয়।

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +১১/-১

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৪

আর.এইচ.সুমন বলেছেন: এমনই লালশার শিকার হয়ে আগেও সি.এস.বি নিউজ নামে ১টি চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছিল......।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০০

মগ্নতা বলেছেন: thik bolechen.

২| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৫

ফয়সল নোই বলেছেন: :(

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০২

মগ্নতা বলেছেন: সংবাদ সম্মেলন টিভিতে দেখেছি। সামনে আসছে বাংলাভিশন, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির পালা। আপনার চেনেল আইয়ের কোন ক্ষতি হবে না। চিন্তিত হওনের কাম নেই।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৩

মগ্নতা বলেছেন: :)

৩| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮

ভাবছি বসে একা বলেছেন: তথ্য নির্ভর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

যারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে চায় তারা কখনো স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি হতে পারে না। এরাই এক সময় সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল । এখন বন্ধ করছে চ্যানেল। তারা বিভিন্ন চ্যানেলের টকশোর উপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। ইতোমধ্যে একটি চ্যানেলে টকশো প্রচার বন্ধ রেখেছে।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৪

মগ্নতা বলেছেন: সেটাই।

৪| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৯

মগ্নতা বলেছেন: আরো তিনটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সরকারের সতর্ক দৃষ্টিতে



হুমায়ুন কবির খোকন ও মিথুন মাহফুজ: বন্ধ করে দেয়া হলো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিক-কর্মচারীরা হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বিটিআরসি’র পরিচালক (লিগ্যাল এন্ড লাইসেন্স) এস এম শহীদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর গুলশানে চ্যানেল ওয়ানের কার্যালয়ে গিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করে দেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু বলেছেন, নিয়ম বহির্ভুতভাবে মালিকানা পরিবর্তন ও যন্ত্রপাতি নিলামে বিক্রি করায় চ্যানেলটির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বন্ধ করার সময় চ্যানেলটিতে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়, ‘দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চ্যানেল ওয়ান। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে এখন থেকে চ্যানেল ওয়ানের সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ হচ্ছে। এজন্য দর্শক, ক্যাবল অপারেটর, কলাকুশলী ও বিজ্ঞাপন দাতাদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি শিগগিরই আমরা আমাদের সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারে ফিরে আসবো।’

গতকাল সকাল থেকেই চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে গুজব ছিল। এরই মধ্যে দুপুরে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানান। দুপুরে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ বিটিআরসি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। ওই বৈঠকে কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের বিষয়ে বিটিআরসির প্রতিবেদন ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে চ্যানেল ওয়ানকে সরকার অনুমোদিত যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেয়ায় লাইসেন্স বাতিল করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং বিটিআরসিকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

সভা শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু বলেন, সম্প্রচার যন্ত্রপাতির মালিকানা বদলের অভিযোগে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দুই এক দিনের মধ্যেই তা চূড়ান্ত হবে। এ সময় তার পাশে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দীন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। চ্যানেলটি বন্ধ হলে বহু কর্মীর চাকরি হারানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জোট আমলে একুশে টিভি বন্ধ হওয়ার পর সেখানকার সাংবাদিকরা পরে ভালো ভালো স্থানে কাজ করতে পেরেছেন। এখন অবস্থা আগের থেকেও ভালো। এছাড়া আরো দশটি চ্যানেল আসছে সেখানে চ্যানেল ওয়ানের বেশি অগ্রাধিকার থাকবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, টেলিযোগাযোগ আইনে ব্রডকাস্টিং (সম্প্রচার) যন্ত্রপাতির মালিকানা বদলের কোন নিয়ম নেই। কিন্তু আইন লংঘন করে চ্যানেল ওয়ান তাদের সম্প্রচার যন্ত্রপাতি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নেয়। পরে তারা ঋণ শোধ না করায় বন্ধক রাখা যন্ত্রপাতি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়া হয়। এ অবস্থায় সরকার তাদের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলে তারা কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। এখন চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দীন আহমেদ দাবি করেন, এটি সরকারের একটি ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেয়া হচ্ছে না। তাদের বারবার চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

চ্যানেলের মালিকানার বিষয়টি রাজনৈতিক বিবেচনায় এনে বন্ধ করা হচ্ছে কী না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাহলে অনেক চ্যানেল বন্ধ হয়ে যেত।

বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ সালের ২০ নভেম্বর যমুনা টিভির পরীক্ষামূলক সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বেসরকারি টিভি চ্যানেল সিএসবি নিউজ বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি।

সূত্র জানায়, আরো তিনটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সরকারের সতর্ক দৃষ্টিতে আছে। নীতিমালা সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ না করার কারণে দিগন্ত টেলিভিশন, বাংলা ভিশন ও ইসলামিক টিভি চ্যানেল বিটিআরসির সতর্ক নজরদারিতে রয়েছে। এসব চ্যানেল প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে। বড় ধরনের অনিয়ম ও বিদ্যমান টিভি চ্যানেল নীতিমালা অমান্য করলে লাইসেন্স বাতিলসহ বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ নিতে পারে বিটিআরসি। এসব চ্যানেল বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে টিভি টকশো সম্প্রচারে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনার বিষয়ে সতর্ক করে চিঠিও দেয়া হয়েছে এসব চ্যানেলকে।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কয়েকটি চ্যানেলের মালিকানা, ব্যাংকঋণ, যন্ত্রপাতি আমদানির বিষয়ে জটিলতা রয়েছে। তবে চ্যানেল ওয়ানের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়ার বিষয়ে কিছুই জানে না তথ্য মন্ত্রণালয়।

৫| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:৫৯

ইউনুস খান বলেছেন: প্রতিহিংসায় সরকার এই চ্যানেল বন্ধ করে দিসে যাতে করে কোনভাবেই সরকারের অপকর্মের ফিরিস্তি না দিতে পারে চ্যানেলটি।

সামনে আরটিভি টার্গেট.............

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৭

মগ্নতা বলেছেন: আরটিভি শুনেছি এখন আওয়ামী মালিকানায়।

৬| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০০

মিথুন-১ বলেছেন: ভিন্নমত দলন ও কণ্ঠরোধের অংশ হিসেবে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:০৩

মগ্নতা বলেছেন: হ

৭| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৩

ইউনুস খান বলেছেন: যারা একুশে টিভি বন্ধ হইছিলো বলে এখন চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হওয়াতে খুশী তারা এ পোস্টে আসল সত্য জানুন। আপনেরাতো শিক্ষিত? জ্ঞান বুদ্ধি আছে বুঝার মতো। নাকি?

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:০৭

মগ্নতা বলেছেন: সেটাই।

৮| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৭

মাসুদ চৌধুরী বলেছেন: নাম দিয়া কাম কি নাম বদলের পালা শেষ এবার বন্ধ করার ডিজিটাল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
চিন্তার কোন কারণ নাই-----
ডিজিটাল বাংলা গড়তে একটি পদক্ষেপ মাত্র।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:০৯

মগ্নতা বলেছেন: হ

৯| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১১

কাঙাল বলেছেন: একুশে টিভি বন্ধ হওয়ায় মনডা খুবই খারাপ হইছিল তখন। সরকার কামডা ভালা করে নাই।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:১০

মগ্নতা বলেছেন: সরকার কামডা ভালা করে নাই।

১০| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৫

আর.এইচ.সুমন বলেছেন: দোষ ওদের দিয়ে কি লাভ.....।
সব দোষ আমাদের....।
আমদের অবস্থা এখন জেনেশুনে বিষ পানের মত...।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:১১

মগ্নতা বলেছেন: :(

১১| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৪৩

কেবলা কান্ত বলেছেন: অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকারের পক্ষে নাই যারা তারাই যেন নীতিমালা ভাংছে এরকম একটা ব্যাপার :|

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:১১

মগ্নতা বলেছেন: সেটাই

১২| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৪৪

বর্তমানবাংলা বলেছেন: মন খারাপ :( :( :(

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:১১

মগ্নতা বলেছেন: হুম

১৩| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৪৮

আকাশের তারাগুলি বলেছেন: চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ওয়ানের মালিক কি ঘাস কাটছিল।
সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা ক্ষতিকর সংবাদ করার কারনে সরকার যদি চায় সরকার চান্স নিয়া বন্ধ করে দিতে পারে যদি অনিয়ম থেকে থাকে। সরকার অনিয়ম পাইছে বন্ধ করে দিছে। বোঝ শালা ঠেলা। আবার এমন হওয়া অস্বাভাবিক কিছুনা যে, অনিয়মের কারনে চ্যানেল বন্ধ করা ঠেকাইতে না পেরে সরকারের বিরুদ্ধে নেগেটিভ নিউজ বেশি করে করা শুরু করছে যাতে বন্ধ করার পরে বলতে পারে আমরা সরকারের আক্রোশের শিকার।
নিজের কাপড় ঠিক রাইখা তারপর অন্যকে কাপড় ঠিক রাখতে বলা যায়।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:০৫

মগ্নতা বলেছেন: তোমার মাথা।

১৪| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:১৬

বিপ্লব কান্তি বলেছেন:
চ্যানেল ওয়ান

১৫| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:২৮

আকাশের তারাগুলি বলেছেন: দিগন্ত এবং বাংলাভিশন, এনটিভি, আরটিভি বৈশাখি বন্ধ করা উচিত।

১৬| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৩৭

খান ফেরদৌস বলেছেন: এ আর নতুন কি আমাশয় লিগ এর আমাশা দিন যাইতাছে বেশি হইতাছে ,বেশি বেশি খাইতেছে যে ,পারলে দেশের মানুষ গুলান রে খাইয়া ফেলায় ওরা চেনেল বন্ধ করবো না কি করবো ওরা ওগোর চেনেল বাদ দিয়া সব বাদ বন্ধ কইরা দিবো ।

১৭| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৩৫

ধীরে বৎস বলেছেন: আকাশের ভেড়াগুলো এত ফাউল কথা কয় ক্যান? X(

তয় আপ্নেও মানুষটা খালেদার চাইতে বেশি বিএনপি X(

১৮| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:০৫

মগ্নতা বলেছেন: গণমাধ্যম কেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হবে?

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের শ্বাসরুদ্ধকর দিনরাত্রি। তখন সাপ্তাহিক খবরের কাগজের ধানমণ্ডির ছোট্ট অফিসে রোজ বিকেলে ধুন্ধুমার আড্ডা হতো। অধিকাংশ দিনই আড্ডার বিষয়Ñ রাজনীতি। সেদিন আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন আমান-উদ-দৌলা। আড্ডার বিষয় ছিল ‘গ্রেপ্তার হওয়ার পর কাকে কী করা হবে।’ পুলিশের পিটুনি খাওয়ার পর কে কী করবে। এরইমধ্যে ছোট্ট রুমটিতে ঢুকলেন শাহেদ ভাই, নাঈম ভাই। হাতে একটা কাগজ। নাঈম ভাই সবসময় হাসিহাসি ভাব করে থাকেন। তার কোন হাসিটা দুঃখের আর কোনটা আনন্দের বোঝা দায়। নাঈম ভাই জানালেন সরকার (স্বৈরাচারী এরশাদ) বিশেষ ক্ষমতা আইনে সাপ্তাহিক খবরের কাগজের প্রকাশনা বন্ধ করে দিয়েছে। এক মুহূর্তে রুমে কবরের নিস্তব্ধতা নেমে এলো। এক মুহূর্তে আমি দেখলাম চারদিকে শূন্যতা, অন্ধকার। এক মুহূর্তে মনে হলো আমি মৃত। যখনই আমি কোনো গণমাধ্যম বন্ধের খবর শুনি, তখনই আমার কুড়ি বছর আগের ঐ ঘটনাটি মনে পড়ে। খবরের কাগজে আমরা চাকরিও করতাম না। আমরা ছিলাম প্রদায়ক। মাস্টার রোলের শ্রমিকের মতো। লিখলে পয়সা, না লিখলে কিছুই নয়। কিন্তু খবরের কাগজের হত্যার চিঠিটিকে সেদিন আমাদের নিজেদের ফাঁসির পরোয়ানা মনে হয়েছিল।

২৭ এপ্রিল শামীম মাহাবুব যখন চ্যানেল ওয়ান বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছিল আমি সেই একই বেদনা অনুভব করছিলাম। ফ্লাশ ব্যাকের মতো আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল বিচিন্তা বন্ধের পর মিনার মাহমুদের বিমর্ষ চেহারা, অস্থিরতা আড়াল করার যন্ত্রণা যেন মুখ ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। যায়যায়দিন বন্ধের পর বিভুরঞ্জন সরকারের রক্তশূন্য চেহারা।ঃ

স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই গণমাধ্যমের ঘাতক বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৭(গ) কালো ধারাটি বাতিল করেন।

গণতান্ত্রিক শাসনের সময় আমাদের প্রত্যাশা ছিল, গণমাধ্যমে আর হয়রানি হবে না। কিন্তু তারপরও হয়েছে। গ্রেফতার, নির্যাতন, হত্যার ঘটনাগুলো ঘটেছে। আর এ প্রত্যেকটি ঘটনা আমরা রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে দেখতে চেয়েছি। আওয়ামীপন্থি সাংবাদিক গ্রেপ্তার হলে, বিএনপিপন্থিরা চায়ের আড্ডায় তার অপসাংবাদিকতার কাহিনী বলছে, বিএনপিপন্থিরা নির্যাতিত হলে আওয়ামী লীগপন্থিরা স্বস্তির ঢেকুর তুলে প্রশ্ন করেছে- ‘বাকিগুলো তো আছে বহাল তবিয়তে।’ রাজনৈতিক মতপার্থক্যের নির্মম বলি হয়েছে গণমাধ্যমের স্বাতন্ত্র্য, নিরপেক্ষতা এবং স্বকীয়তা। মালিকের শেকলে বন্দি হয়েছে সাংবাদিকতা।

গণমাধ্যমের ইতিহাসে ন্যক্কারজনক ঘটনাটা ঘটে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। যখন এদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আধুনিকতার পথ প্রদর্শক একুশে টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়া হয়। আপিল বিভাগের রায়ের পর বিএনপির হিংস্র তৎপরতা আজো চোখে ভাসে। শামসুদ্দিন হায়দার ডালিমের কান্না জড়ানো কণ্ঠে যখন একুশে টেলিভিশনের বন্ধের ঘোষণাটি এলো, তখন কষ্টের যন্ত্রণায় দাহ হয়েছিল প্রতিটি মানুষ, আপামর দর্শক। ঠাণ্ডা মানুষ বুলবুল ভাইয়ের কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। সায়মন ড্রিংয়ের শরীরের সব রক্ত যেন তার মুখে ঠিকরে পড়ছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সিএসবি বন্ধ হলো। প্রভাষ আমিনের মুখটার দিকে সেদিন আমি তাকাতে পারিনি। একদল উচ্ছল তারুণ্যের কর্ম উদ্দীপনা মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল।

একুশে টেলিভিশন বন্ধ করা হয়েছিল টেন্ডার প্রক্রিয়া অস্বচ্ছতার অভিযোগে।

সিএসবি বন্ধ হয়েছিল লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগে।

এখন চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করা হয়েছে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালিকানার হাত বদলের অভিযোগে।

আমি এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। আইন তো মানুষের জন্য। আইনি মারপ্যাঁচে কোনো অন্যায় থাকলে এর জন্য মালিকদের জেল-জরিমানা হবে। সরকার অধিগ্রহণ করবে। কিন্তু চ্যানেল বন্ধ হবে কেন? এ প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? আমাদের সংবিধানে গণমাধ্যম শর্তহীনভাবে স্বাধীন। সংবিধান অনুযায়ী সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল করা হবে। তাহলে প্রশ্ন হলো- এসব রেগুলেটরি আইন বা টেন্ডার প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা দেখিয়ে গণমাধ্যমকে হত্যা করা হবে কেন?

আমরা সবাই জানি, চ্যানেল বন্ধের যে কারণ দেখানো হয় সেটা হলো উপরের কথা। ভেতরের কথা হলো অন্য। তিনটি চ্যানেলই বন্ধ করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আক্রোশে। কিন্তু এ আক্রোশ অনভিপ্রেত, দুর্ভাগ্যজনক। গণতন্ত্রের জন্য বহুমতের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ জরুরি। চ্যানেল ওয়ান যদি সরকারের সমালোচনা (রাষ্ট্রের নয়) করে, তাতে দোষের কী? বিএনপি একুশে টেলিভিশন বন্ধ করেছিল, তাই আওয়ামী লীগকে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করতে হবে? শুনছি, আরো চ্যানেল বন্ধ হবে। আমি জানি, এই চ্যানেলগুলোর জš§ হয়েছিল অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। কিন্তু এসব বন্ধ করে হাজার হাজার সংবাদকর্মীকে পথে বসিয়ে লাভ কী? তাছাড়া এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বকীয়তা এবং স্বাধীন বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।

আমাদের রাজনৈতিক মত-পার্থক্য থাকতেই পারে। আমার রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে আরেকজনের বিশ্বাস নাও মিলতে পারে। কিন্তু আসুন না, গণমাধ্যম কর্মীরা শুধু একটি বিষয়ে একমত হই। কার আমলে গণমাধ্যমের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে সেই বাহাসে না যাই। আমরা সকল রাজনৈতিক শক্তিকে অনুরোধ করিÑ গণমাধ্যমকে এভাবে অনিশ্চয়তার দিকে যেন ঠেলে না দেয়া হয়। প্রতিহিংসার নির্মম বলি যেন না হয় সংবাদকর্মীরা। আমরা সবাই যেন বিশ্বাস করিÑ শত ফুল ফুটতে দাও।

সৈয়দ বোরহান কবীর

১৯| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:০৬

মগ্নতা বলেছেন: স্তব্ধ চ্যানেল ওয়ান অসহায় সাংবাদিকতা

মাসুদ কামাল: বন্ধ হয়ে গেল চ্যানেল ওয়ান। সরকারের সিদ্ধান্তে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জোট সরকারের আমলে জš§ নেয়া এ চ্যানেলটির। এর আগে চালু অবস্থায় বন্ধ হয়েছে আরো দুটি টেলিভিশন চ্যানেল, জোট সরকারের আমলে ইটিভি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সিএসবি। এদেশে টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি পাওয়া যতটা কঠিন, বন্ধ হয়ে যাওয়া বোধকরি ততটাই সহজ। প্রক্রিয়াটা এরকমÑ সরকার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন, বিটিআরসি যুৎসই অথবা নড়বড়ে একটা কারণ দাঁড় করাবে, তারপর ওই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা কিছু পুলিশ সহযোগে স্টেশনে গিয়ে তার সম্প্রচার বন্ধ করে আসবেন। ব্যাস, হয়ে গেল। দর্শকরা আর রিমোটে হাজার টেপাটিপি করলেও তাদের প্রত্যাশিত চ্যানেলটি দেখতে পাবেন না। উদ্যোক্তাদের লগ্নিকৃত অর্থ আটকে যাবে। আর সর্বোপরি এক ধাক্কায় বেকারত্বকে আলিঙ্গন করবেন কয়েকশ সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী।

আমি নিজেও এই শেষ শ্রেণীর একজন প্রতিনিধি। আজ দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করে গায়ের চামড়া দিয়ে বুঝেছি এরচেয়ে বেশি অনিশ্চিত পেশা বোধকরি এদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। অন্য কোনো পেশায় এত ছুতানাতায় চাকরি চলে যাওয়ার উদাহরণ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর ক্ষমতাসীনের কোপানলে পড়ে এভাবে পুরো প্রতিষ্ঠানেরই বেঘোরে প্রাণ হারানোÑ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে তো চিন্তাই করা যায় না।

ব্যাংক, বীমা, গার্মেন্ট, শিল্প, কারখানাÑ সবকিছু করতেই সরকারের অনুমতি লাগে। কিছু শর্ত মেনেই পেতে হয় সেই অনুমতি। তারপর কাজ করতে নেমে সবাই কি সেসব শর্ত হুবহু মেনে চলতে পারেন? মন্দঋণ দিয়ে দিয়ে ব্যাংকগুলো কি রুগ্ন হয় না? বীমা কোম্পানিগুলো কি তাদের গ্রাহকদের যে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল তা ঠিকমতো পালন করতে পারে? পরিবেশ আইন কি হুবহু মেনে চলতে পারে কল-কারখানগুলো? গার্মেন্টগুলোতে শ্রমিকরা কি পায় সেই মজুরি বা অধিকার, যা দেয়ার জন্য খোদ রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিকভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ? তারপরও শর্ত ভঙ্গের অপরাধে সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কোনো উদ্যোগের কথা তেমন শোনা যায় না। বরং কেউ ঝামেলায় পড়ে গেলে কীভাবে তাকে টেনে তোলা যায়, সে চিন্তা আর চেষ্টাই করা হয়। দুঃখজনক ব্যতিক্রম কেবল মিডিয়ার ক্ষেত্রে।

দৃশ্যত কোন কারণে বন্ধ করে দেয়া হলো চ্যানেল ওয়ান, তা এরইমধ্যে পত্রিকা পড়ে জানা গেছে। এ অপরাধের কারণে কি দেশ ও জাতির বিরাট কোনো ক্ষতি হয়ে যেত? সরকারের কতিপয় জ্ঞানীজন হয়তো মনে করে থাকবেন, চ্যানেলটি থাকলে সরকারের কিছু ক্ষতি হতে পারে, চ্যানেলটি সরকারকে বিব্রত করতে পারে। কি দরকার ঝামেলাকে টিকিয়ে রাখার, তার চেয়ে বরং বন্ধই করে দেয়া যাক। আর বন্ধ করার জন্য নেকড়ে ও মেষশাবকের রেডিমেড গল্প তো রয়েছেই। কিন্তু তারা কি একটি বারও ভেবে দেখেছেন, এভাবে চলমান একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বন্ধ করে দেয়াটা সরকারের জন্য কম বিব্রতকর নয়। মানুষ যে কিছুই বোঝে না, তা তো নয়। মানুষ যখন আপনাকে ভোট দিয়ে দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেবে, তখন তাদের বুদ্ধিমত্তার স্বীকৃতি দেবেন আর যখন গালগল্প বলে মেষশাবককে বধ করবেন তখন মানুষের সেই সাধারণ বুদ্ধি কাজ করবে না বলে ভাববেনÑ তা তো হয় না।

সংবাদমাধ্যমের এ ধরনের অপমৃত্যুর ঘটনা এদেশে নতুন নয়। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেও একবার ঘটেছিল। মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সবগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখনো বঙ্গবন্ধুর যেসব সমালোচনার কোনো জবাব আওয়ামী লীগ নেতারা দিতে পারেন না তার মধ্যে এটি একটি। অথচ সেবার কিন্তু বেকার হয়ে যাওয়া সাংবাদিকদের বঙ্গবন্ধু অন্যত্র, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির ব্যবস্থা পর্যন্ত করে দিয়েছিলেন। চ্যানেল ওয়ানের বেকার হয়ে যাওয়া সাংবাদিক, কর্মচারীরা কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এ সরকারের কাছ থেকে তেমন কিছু আশা করতে পারবে?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.