| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
****************************************************
শরিয়তের অনেক বিষয় যেগুলো কুরআন হাদিসের নির্ভরযোগ্য সূত্র দ্বারা অনেক আগেই শক্তিশালীভাবে প্রমাণিত, সেগুলো না জানার কারণে জাকির নায়েক অনেক সময় যুক্তির আলোকে তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন ! ফলে কী হয় জানেন ? - চৌদ্দশ বছর ধরে স্বীকৃত ব্যপারগুলোতে আবার নতুনভাবে মতভেদ সৃষ্টি হয় ।
আমি তার সম্পর্কে ভালো ধারণাই করবো যে, যদি তিনি ঐসকল বিষয়ে কুরআন-হাদিসের প্রকৃত ব্যাখ্যা জানতেন, তাহলে এই ‘কেবল যুক্তিনির্ভর’ ব্যাখ্যার দিকে অগ্রসর হতেন না ।
“একটি বিষয় মাথায় রাখতেই হবে, তিনি মূলত ডাক্তার । জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় (ছাত্রজীবন ) তিনি কুরআন হাদিস গবেষণায় কাটাননি ! বরং অনেক পরে তা শুরু করেছেন। আর পরে যা পড়েছেন সেটা হলো, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ রিচার্স করেছেন। এজন্য মাসআলা-মাসায়েলে তার জ্ঞান যতসামান্য হওয়াই স্বাভাবিক ! একটি লোক এই অল্প সময়ে , তাও আবার শৈশব-কৈশরে না, যুবা বয়সও পার করে, অল্প কিছুদিন রিচার্স করে, সব বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জন করে ফেলবেন , এটা সাধারণত সম্ভব না !
আমি বলছি মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে তিনি জেনেছেন কম । অনেক আগেই মিমাংসা হয়ে গেছে এমন বিষয়ে নতুন ধরণের ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রদান করে তিনি নিজেই তা প্রমাণ করেছেন ! এসকল বিষয়ে কুরআন-হাদিসের জ্ঞান ছাড়া কেবল যুক্তি দিয়ে কিছু প্রমাণ করতে যাওয়া চরম আত্মঘাতি কাজ ! তাই যোগ্য ব্যক্তিদের উপরই তা ছেড়ে দেয়া কর্তব্য ।
নিজের বিষয়ে, অর্থাৎ প্রথমদিকে জাকির নায়েক যে বিষয়ে বক্তব্য রাখতেন (বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থের তুলনামূলক পর্যালোচনার দ্বারা ইসলামকে সপ্রমাণ করা) সে বিষয়ে তিনি বলা যায় দারুন দেখিয়েছেন ! কিন্ত সেটা দেখে কেউ যদি মনে করেন, তিনি সর্ববিষয়েই এমন পারদর্শীই হবেন, তাহলে আমি বলবো কুরআন, হাদীস ও ফিকাহশাস্ত্রের বিশাল ও ব্যাপক অঙ্গন সম্পর্কে তার অজ্ঞতাই এজন্য দায়ী ! এত অল্প পরিশ্রমেই যদি সব বিষয়ে পন্ডিত হওয়া যেত তাহলে আমাদের পূর্বসূরীরা বছরের পর বছর ইলমের পিছনে এভাবে লেগে থাকতেন না যে, সন্তানের মৃত্যুর পর লাশের সাথে কবর পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ হয়নি, দরজা থেকে বিদায় দিয়েই আবার কিতাবের কাছে ফিরে এসেছেন !
মোটকথা, জাকের নায়েককে তার জানার দৌড় যতটুকু ততটুকুতেই সিমাবদ্ধ থাকা উচিৎ । হাদিস এবং ফিকাহ তিনি জেনেছেন কম! কুরআনেরও শুধু বৈজ্ঞানিক দিকটাই জেনেছেন, আহকাম জেনেছেন কম! তাই দেখা যাচ্ছে, কোন একটি বিষয়ে স্পষ্ট হাদিস আছে, কিন্ত সেটা না জানায় এবিষয়ে তিনি যুক্তির আলোকে ব্যাখ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন ! যেটা অপ্রয়োজনিয় কাজ ! আবার এর ফলে যে আত্মঘাতি সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা হলো, তার এই অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা কুরআন-হাদিসের স্বীকৃত ব্যাখ্যার বিপরীত হয়ে গেল ! অপ্রয়োজনীয় বলার কারণ, এগুলোর ব্যাখ্যা আগেই সহী হাদিসে চলে এসেছে! নতুন করে করার কিছু নেই !
আর আমাদের কর্তব্য তাকে এমন ভুল ফতোয়া দেয়া থেকে নিষিদ্ধ করা, অন্যথায় কিছু মানুষ তার অন্ধ ভক্ত হয়ে এগুলোকেই গ্রহণ করে নেবে, ফলে তারা কুরআন-হাদীস থেকে বিমুখ হয়ে যাবে ! আবার এদের দ্বারা নতুন ফেরকার ও উদ্ভব হতে পারে ! তাই সর্বসাধারণ মুসলমান ভাইদের কাজ হচ্ছে সতর্কতার সাথে বিষয়গুলো চিন্তা করে কোন পদক্ষেপ নেয়া ।আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফীক দান করেন । আমীন ।
©somewhere in net ltd.