নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরল বাংলায় লেখি

সকল ক্ষমতার উৎস একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন

অনন্ত মহাকালযাত্রী

অনন্ত মহাকালযাত্রী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাযহাবকে ফেরকা মনে করা; একটি ভুল ধারণা

১০ ই আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৫



অনেকে বলেন, একটি ধর্মে ৪টি মাযহাব কেন ? ! এমন বলার কারণ হলো তাঁরা মনে করেন, একেকটি মাযহাব বোধহয় এককটি উপদল পি ফেরকা ! তাই বিরক্ত হয়ে তাঁরা মাযহাবকেই অস্বীকার করে বসেন। বলে থাকেন, মুসলমান, মুসলমানই, মাযহাব মেনে হানাফী মুসলমান, মালেকী মুসলমান....(ইত্যাদী) হবো কেন ? এবং কেউ আরো বেড়ে গিয়ে বলে ফেলেন, যারা মাযহাব মানে তারা মুসলমানই না ! তারা নবীর অনুসরণ না করে ইমামকে অনুসরণ করে !

এগুলো বড় স্পর্শকাতর ব্যপার । এক্ষেত্রে 'ছাড়াছাড়ি' বা 'বাড়াবাড়ি' উভয়টাই বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই এবিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

আমি বলছিলাম মাযহাবকে উপদল মনে করবেন না। প্রথমে মাযহাবের অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন। সোজা কথায় মাযহাব মানে, ব্যক্তিমত (শাব্দিক অর্থ না, এটা পারিভাষিক, শাব্দিক অর্থ ‘পথ’) । ব্যক্তিমত বা মাযহাবে শরিয়তের বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ , এবং একেকজন একেক মত অনুসরণ করায় বাহ্যদৃষ্টে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হয়। তাই আমরা মনে করি, একেকটি মাযহাব বুঝি একেকটি ফেরকা বা উপদল ! যার কাজ হলো মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের দুর্বল করে ফেলা ! অতি সৎচিন্তা সন্দেহ নেই । বরং এজন্যে তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

কিন্ত কথা হলো, ব্যক্তিমতে ভিন্নতা থাকাটা অতিস্বাভাবিক। যেহেতু যোগ্য ব্যক্তিকে 'ইজতিহাদ' করতে শরিয়ত আদেশ করেছে, এবং ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য হলে তার 'ব্যক্তিমত' বা মাযহাব অনুসরণও করা যাবে, শুধু যাবে বললে সঠিক তাৎপর্য পরিষ্কার হয় না, বলতে হয় সঠিক পথে থাকতে চাইলে মাযহাব অনুসরণ করা জরুরী, তাহলে ভেবে দেখুন, মতের এই অমিলের অজুহাতে ইজতিহাদ বা মাযহাব অস্বিকার করা জায়েয আছে কি না ?

সরল কথা হলো, মুসলমানদের 'ঐক্য' বিনষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে মাযহাব অস্বিকার করা যাবেনা । এক্ষেত্রে শরিয়ত পূর্ণ নির্দেষণা দিয়েছে যে, যে কোন অবস্হাতেই তোমরা 'বিচ্ছিন্ন' হয়ো না। (৩: ১০৩,১০৫ ।৬: ১৫৯ । ৩০: ৩২ । ৪২: ১৩,১৪ ) মোটকথা, মতনৈক্য হতে পারে, কিন্ত এর মাঝেও ঐক্য এবং সংহতি বজায় রাখতে হবে। মতভেদ কে বিভেদের পর্যায়ে নেয়া যাবেনা। মতভেদ গ্রহণযোগ্য, বিভেদ গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রসংঙ্গ; মতভেদ

মতভিন্নতা আসলে দু’রকম হতে পারে। জায়েয, নাজায়েয।

প্রশ্ন জাগতে পারে, জায়েয মতপার্থক্য আবার কী রকম? একটি উদাহরণেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। সবাই জানেন, দাউদ আ. ছিলেন আল্লাহর নবী। তাঁর পুত্র সুলায়মান আ.ও নবী ছিলেন। এক মোকদ্দমার রায় সম্পর্কে দুজনের মাঝে ইজতিহাদগত মতপার্থক্য হল। আল্লাহ তাআলা কুরআনমজীদে তাদের মতপার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং সুলায়মান আ.-এর ইজতিহাদ যে তাঁর মানশা বা ইচ্ছা মোতাবেক ছিল সেদিকেও ইশারা করেছেন। তবে পিতাপুত্র উভয়ের প্রশংসা করেছেন। তো এখানে ইজতিহাদ বা ব্যক্তিমতের পার্থক্য হয়েছে, কিন্তু বিভেদ হয়নি। এই পার্থক্যের আগেও যেমন পিতাপুত্র দুইনবী এক ছিলেন, তেমনি পার্থক্যের পরও।

(দেখুন : সূরা আম্বিয়া (২১) : ৭৮-৭৯)

তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে কুরতুবী (১১/৩০৭-৩১৯) ও অন্যান্য তাফসীরের কিতাবদেখে নেওয়া যায়।

এটা হলো জায়েয মতভেদ। কেননা কোন্ সিদ্ধান্তটি সঠিক এবং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী, এক্ষেত্রে তা বুঝা সম্ভব নয় । তাই সঠিক নিয়তে যোগ্যব্যক্তি ইজতিহাদ করলে এবং তাতে মতভেদ সৃষ্টি হলেও তা জায়েয।

আর নাজায়েয হলো শরিয়তের স্বীকৃত বিষয়ে মতভেদ করা। আপনি জানেন, শরিয়তের অতি স্বীকৃত বিষয়গুলো নিয়ে কোন মাযহাবে দ্বীমত নেই। নামায পড়া সকলের মতেই ফরয, হারাম থেকে বেঁচে থাকা, হালাল কাজে লিপ্ত থাকা এসকল ব্যপারে কারো ভিন্নমত নেই। বস্তুত এ ব্যপারে ভিন্নমত প্রকাশের অবকাশও নেই। এটা নাজায়েয।

এখন দেখতে হবে, যে ব্যপারগুলোতে মুজতাহিদ আলেমগণ মতপার্থক্য করেছেন সেগুলো কি ?

অবশ্যই সেগুলো শরিয়তের সমূহ জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়। যেমন, নামাজে হাত কোথায় বাঁধবো। এ ব্যপারে একাধিক হাদিস থাকায় তা কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে। এবং ‘মুজতাহিদ আলেমদের মাঝে মতভেদ সৃষ্ঠি হয়েছে।

সারকথা হলো, ব্যক্তিমতের এসকল পার্থক্য কে আমরা এই দৃষ্টিতেই দেখবো যে, দু’টোই জায়েয। সরল মনে যে কোন একটি অনুসরণ করলেই হবে। এনিয়ে বিভেদে লিপ্ত হবো না।

প্রসঙ্গ; মাযহাব অনুসরণ

মাযহাব বা ইমাম অনুসরণ করলে নবীর অনুসরণ হবে না কেন ? যিনি মাযহাব মানেন তিনি খাঁটি মুসলমান কেন হবেন না ? আসলে যারা এমন উদ্ভট দাবিগুলো করেন, তাদের কাছে এর কোন দলিল নেই।

হাঁ, নবীই হচ্ছেন আমাদের মাযহাব। আমরা তাঁকে ছাড়া আর কাউকে অনুসরণ করিনা। করলে আমরা মুসলমান থাকবো না। কিন্ত ভেবে দেখুনতো, কোন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যদি আপনাকে এই সংবাদ দেয় যে, তোমার বাবা তোমাকে ডাকছে, এখন আপনি সেই ডাকে সাড়া দিলে কি পিতার আদেশ মানা হবে, না ঐ মাধ্যমের ! কোন যুক্তিতেই প্রমাণিত হয় না যে, পিতার নয়, অনুসরণ করা হয়েছে মাধ্যমের । তিনি নির্ভরযোগ্য বলে তার কথা আমি সত্য মনে করেছি, আর মান্য করেছি মূলত পিতার আদেশ।

সারকথা হলো, এই অনুসরণ, মূলত নবীরই অনুসরণ। মধ্যখানে তিনি (মুজতাহিদ আলেম) মাধ্যম হয়েছেন, কারণ তাঁদের পক্ষে শরিয়ত বুঝা যত সহজ ছিলো আমাদের জন্য সেরকম সহজ নয়। তাঁরা ছিলেন প্রিয়নবীর নিকটতর যুগের। এবং তাদেরকে আল্লাহ ঐ রকম মেধাই দান করেছিলেন, যার মধ্যমে সহজেই তাঁরা অনেক কিছু বুঝতে পারতেন। সর্বোপরি,তাঁরা গোটা উম্মতের কাছে এমন নির্ভরযোগ্যতা লাভ করেছেন যে, ব্যক্তিস্বার্থে তাঁরা মিথ্যা মাসআলা বর্ণনা করেছেন, এমন কথা খুবই হাস্যকর মনে হয়।



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.