নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাজা পিরহাসের \'পিরহিক ভিক্টরি\' আর হাজার বছর পরে আমাদের ডাকসু নির্বাচন ও আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মন্ডলী

১৬ ই মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৮



পিরহিক ভিক্টরি (pyrrhic victory ) বলতে ইংরেজিতে একটা ফ্রেজ আছে । এর মানে হলো এমন একটা বিজয় যা আসলে পরাজয়েরই নামান্তর । একটা বিজয়ের জন্য যদি অসম্ভব ক্ষতি হয় বিজয়ী পক্ষের যে সেই ক্ষতির কাৰণে সামনে পরাজিত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তাহলে সেই বিজয়টাকে পিরহিক ভিক্টরি বলে । ইংরেজিতে এই 'পিরহিক ভিক্টরি' ফ্রেজটা বা কথাটা কিন্তু এসেছে বাস্তবের একটি ঘটনা থেকেই -মানে বাস্তবের একটি যুদ্ধ বিজয়ের পরেও রাজা পিরহাস কেমন করে যুদ্ধের অপূরণীয় ক্ষতির কারণে নিকট ভবিষ্যতেই পরাজয়ের সন্মুখহীন হয়েছিল সেই উদাহরণ থেকেই ।

আসুন প্রথমে শুনি দু হাজার বছর আগের সেই চমকপ্রদ কাহিনী, রাজা পিরহাসের যুদ্ধ বিজয় -পিরহিক ভিক্টরির কাহিনী । পিরহাস ছিলেন গ্রিসের এপিরাসের (Epirus) রাজা (এপিরাস রাজ্যটা ছিল এখনকার উত্তর পশ্চিম গ্রিস আর দক্ষিণ আলবেনিয়ার কিছু অংশ নিয়ে ) । তার রাজত্বকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩০৬ থেকে ২৭২ সাল পর্যন্ত । আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর সামরিক কলাকৌশল আর ব্যক্তিগত কারিশমা দু'টো মিলিয়ে গ্রিসের সব শক্তিশালী রাজাদের মধ্যে পিরহাসকেই আলেক্সান্ডারের সবচাইতে সুযোগ্য উত্তরসূরি মনে করা হতো । যুদ্ধ কৌশলের ওপর তার লেখা একটা বই ছিল সে সময়ের সব সেনাপতিদের কাছেই খুব গ্রহণযোগ্য ।যদিও এখন সেই বইটার কোনো পাণ্ডুলিপি আর পাওয়া যায় না ।

যাহোক, খ্রিস্টপূর্ব ২৮২ সালে রোম আর সাদার্ন ইতালির গ্রিক শহর টারেনটামের (Tarentum), যাকে রোমানরা ভোগ বিলাসী আর বিদ্রোহীদের কেন্দ্র মনে করতো, মধ্যে দ্বন্ধ শুরু হয় ।আসন্ন রোমান আক্রমন থেকে নিজেদের বাঁচাতে টারেনটিনসরা রাজা পিরহাসের সাহায্য চেয়ে দুত পাঠায় । পিরহাস রোমানদের আক্রমনের সুযোগটা হাতছাড়া না করে দ্রুতই সাহায্যের আশ্বাস দেন । বছর পেরুবার আগেই খ্রিস্টপূর্ব ২৮১ সালে পিরহাস তার সৈন্য বাহিনী নিয়ে সাদার্ন ইতালিতে আসেন রোম আক্রমণের লক্ষ্য । খ্রিস্টপূর্ব ২৮০ সাল থেকে ২৭৯ সালের মধ্যে রোমানদের বিরুদ্ধে দুটো গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে জয়লাভ করেন রাজা পিরহাস। এর মধ্যে একটা হলো ২৭৯ সালের এসক্যুলামের (Ausculum ) যুদ্ধ । এই যুদ্ধে রোমানদের বিরুদ্ধে জয়ী হলেও তার এলিট সৈন্যবাহিনীর একটা বড় অংশ রোমানদের হাতে নিহত হয় । তার বিশ্বস্থ সেনাপতিদের প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করে ।

এসকুলামের যুদ্ধের পরে হঠাৎ রাজা পিরহাস উপলব্ধি করলেন তিনি বড় একা হয়ে গেছেন । মাত্রই দুই বছর আগে তার যে বাহিনীকে প্রায় অজেয় মনে করা হতো, যে দুর্ধর্ষ সৈন্যবাহিনী আর কুশলী সেনাপতিরা একের পর এক যুদ্ধ বিজয় করে তাকে গ্রিকইতিহাসের অজেয় বীর আলেক্সান্ডারের সমকক্ষতায় নিয়ে গিয়েছিলো তাদের কেউ আর বেঁচে নেই ! রাজা পিরহাস বুঝতে পারলেন এই ক্ষতি অপূরণীয়। এই রকম অজেয় সৈন্য বাহিনী আর সহসাই তৈরী করা সম্ভব না।রোমানদের সাথে দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধে তার জেতার সম্ভাবনা এখন নেই।এই ধারণা থেকেই তিনি অচিরেই রোম নগরী জয় করার উচ্চাশা ছেড়ে তার রাজ্যে ফিরে এলেন। রাজপথে নৃত্য গীতে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দুটো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিজয়ী রাজা পিরহাসকে সম্ভর্থ্যনা জানাতে এগিয়ে এলো রাজ্যের সভাসদবৃন্দ আর প্রজারা । তাদের প্রশংসা বাক্য শুনে এপিরাসের রাজা পিরহাস মর্মভেদী যেই কথাটা বললেন সেটা হলো : “If we are victorious in one more battle with the Romans, we shall be utterly ruined” --যদি আমরা রোমানদের সাথে এমন আরেকটা বিজয় পাই তাহলেই সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবো। আর সেই থেকেই জন্ম হল "পিরহিক ভিক্টরি" কথাটার -যে বিজয় বেদনা আনে । যে বিজয় পরাজয়ের নামান্তর ।হাজার বছর পরেও রাজা পিরহাসের সেরা সেনাপতি, সৈন্য বাহিনীর এলিট অংশ হারাবার মর্মান্তিক বেদনার স্বাক্ষী হয়ে আছে ‘পিরহিক ভিক্টরি’ এই ফ্রেজটা ।

হঠাৎ করেই দেশ জুড়ে কিছু কান্ডে পিরহিক ভিক্টরি ফ্রেজটা খুব মনে হলো । এমন সব কান্ড দেশে হচ্ছে অহরহই যে তাতে দেশ নিয়ে খুব খুশি হবার সুযোগ খুবই কম থাকে । মাঝে মাঝে মনে হয় উনিশশো একাত্তুর সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়টা কি আমাদের জন্য একটা পিরহিক ভিক্টরি হয়ে গেলো? যুদ্ধ জিততে গিয়ে কি আমরা এতো দাম দিয়ে ফেললাম যে জীবনের প্রায় প্রতিটা জায়গাতেই জাতি হিসেবে আজকে আমরা হেরে যাচ্ছি ?

একটা জাতি গঠন (nation building) করতে যা যা প্রয়োজন তার সব কিছুই যেন আমরা চুরমার করে ফেলছি নিজেরাই।একাত্তুরের আগে পাকিস্তান পরিচয়ের অধীনে আমাদের জাতিগত সংহতি ছিল অসাধারণ । স্বৈরাচারী একটা শাসনের অধীনে সেই নৃশসংস শাসকের বিরুদ্ধেও তাই ১৯৬৯-এর অসাধারণ নির্বাচনী বিজয় সহজেই আমাদের হাতে ধরা দিতে পেরেছিলো ।কোনো জাল ভোট দিতে হয়নি, ভোটকেন্দ্র দখল করতে হয়নি, প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসাতে হয়নি ।শুধুমাত্র জাতিগত সংহতি বজায় রেখেই আধুনিক গণতন্ত্রের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ল্যান্ডস্লাইড নির্বাচনী ভিক্টরির রেকর্ডটা আমরা করতে পেরেছিলাম। আমাদের দেশে যেই দলই সরকার চালায় তারাই গণতন্ত্র, উন্নয়ন বলে কান ঝালাপালা করে ফেলে ।কিন্তু আধুনিক একটা সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অবলম্বন যে সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা দেশের জন্য সেই সুষ্ঠু একটা নির্বাচনী ব্যবস্থাও এখন আমাদের কোনো দলীয় সরকার করতে পারছে না কোনো পর্যায়েই !

ঢাকা ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন হলো এইতো কয়েক দিন আগে ।এ'নিয়ে আমার যে খুব উৎসাহ ছিল তা নয় ।গত বছরের শেষে একটা জাতীয় নির্বাচন হয়েছে দেশে ।সেই নির্বাচন বা আমাদের দেশের সাধারণ নির্বাচনগুলোর (তত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনগুলো ছাড়া) হতচ্ছড়া অবস্থা দেখে আঠাশ বছর পরে হওয়া ডাকসু নির্বাচনে অবস্থা কেমন হবে সেটা অনুমান করার জন্য কারোই নিউটন আইনস্টাইন হবার দরকারতো নেই। ভেবেই নিয়েছিলাম সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন মূল দলের মতোই নির্বাচনী কারুকাজ দেখাবে ! ডাকসুতে জিততে চেষ্টা না করে তারা সন্যাসী হবার পথে অবশ্যই হাটবে না । তাদের ধন্যবাদ জানাতেই হবে যে তারা আমার মতো সাধারণ মানুষকে মিথ্যাবাদী বানাবার কোনো ধরণের চেষ্টাই করেনি। ব্রাভো, সত্যবাদী আচরণের জন্য !

কিন্তু অরাজক ডাকসু নির্বাচনের সরকারি দলীয় ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের ভূমিকা নয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকাই আসলে পিরহিক ভিক্টরির কথা মনে করিয়ে দিলো । পাকিস্তানের কাঠামোতে আমরা ছিলাম সাতাশ বছর । সেই পরাধীন দিনগুলোতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতো শংকা মুক্ত । এই যে রাতদিন এরশাদকে বিশ্ব বেহায়াসহ আরো এতো কিছু বলতে হয় তার সময়েও ৯০ সালে শেষ ডাকসু নির্বাচনটা হয়েছিল খুবই নির্বিগ্ন । সারাদিন আশংকা মুক্ত আনন্দ মেলার মতো একটা পরিবেশে ছাত্রছাত্রীরা ভোট দিয়েছিলো ।কোনো অভিযোগ ছিলোনা ছাত্রছাত্রীদের ডাকসু নির্বাচন নিয়েকি দুর্ভাগ্য আমাদের যে স্বৈরাচারী একটা শাসনেও যেই নির্বাচনটা নির্বিগ্নে হতে পারলো, সেটা কদিন আগেই নির্বাচিত একটা সরকারের আমলে হতে পারলো না ! সরকারের হাতে সব ক্ষমতা পুঞ্জীভূত I তাহলে ডাকসুর মতো একটা ছাত্র সংসদের নির্বাচনেও কারচুপি করতে হবে কেন ? কি করতে পারবে ছাত্র নেতৃবৃন্দ ডাকসুতে জিতে? এই ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিগত ভিসি এই সরকারের লোক বলে পরিচিত ডক্টর আরেফিন সিদ্দিকী আমাদের সময়ে দেওয়া একটা সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আদেশে আমরা স্বায়ত্তশাসন পেয়েছি। ঢাবির অহঙ্কার হলো, এর ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা। কিন্তু ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।... (তিনি বলেন) বর্তমানে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু কেন ঢাবিতে অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হলো? তা ছাড়া আগে বলা হলো ভোটের দিন সকালে ব্যালট বাক্স যাবে। কিন্তু দেখা গেল আগের দিন রাতে ব্যালট ও ব্যালট বাক্স হলে হলে পাঠানো হয়েছে। ফলে এসব বিতর্ক জনসম্মুখে এসেছে" I ডাকসু নির্বাচনে কি পরিমান অরাজকতা হলে সরকারপন্থী একজন ভিসি যিনি মাত্রই কয়েক মাস আগে ভিসি ছিলেন লাজ লজ্জ্বার মাথা খেয়ে এমন ভাবে সরকারের ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বলতে পারেন ভেবেই আমি পরম আশ্চর্য ! এই পুরো নির্বাচনের দায়িত্বে নাকি ছিলেন আবার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা ।

এই বিশ্ব বিদ্যালয়ের পথ, একাডেমিক বিল্ডিং, ক্লাসরুমগুলো এক সময় ডক্টর জি,সি,দেবের মতো দেবতাসম প্রফেসরের উপস্থিতিতে ধন্য ছিল । প্রফেসর সত্যেন বোসের মতো মহাবিজ্ঞানী এই ইউনিভার্সিটিতে পড়াতেন ভাবতেই লজ্জা লাগলো ।তাদের উত্তরসূরিদের কি অধঃপতন! কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্ট (সম্ভবত) ড. শবনম জাহান আর রোকেয়া হলের প্রোভস্ট ড. জিনাত হুদা ভোট জালিয়াতির সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ছাত্রীদের কাছে হাতে নাতে সেজন্য ধরাও পড়েছেন (সাংবাদিক গোলাম মোর্তজার লেখায় এই দুজনের ভোট ডাকাতি সংক্রান্ত কৌশলের সবিস্তার আলোচনায় আমি স্তম্ভিত)! একজন সে'জন্য সাময়িক ভাবে নাকি বরখাস্তও হয়েছেন ! একাত্তুরে একটা রক্তাক্ত যুদ্ধের বিজয়ী আমরা ।কিন্তু সেই বিজয় পেতে আমাদের হারাতে হয়েছিল ডক্টর জি,সি দেব, ডক্টর মোফাজ্জল হায়দার, মুনির চৌধুরীর মতো আরো অনেক মহান শিক্ষককে। জাতির মনন গঠনে দিন রাত তাদের যে সৎ চেষ্টা ছিল সেটা করার মহান দায়িত্ব এখন এই ভোট ডাকাতিতে নিয়োজিত ড. শবনম জাহান, ড. জিনাত হুদাসহ একই অভিযোগে অভিযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণিত শিক্ষকের ওপর ন্যস্ত সেটা ভাবলেই বাংলাদেশের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে আমি এক সময় পড়াতাম আমার সেই গর্বের স্মৃতিটা নিমেষেই লজ্জ্বার হয়ে দাঁড়ায় ।

এত সব অবিশ্বাস্য দুস্কর্ম দেখে মাঝে মাঝেই ভাবি আসলে একাত্তরে আমাদের বিজয় মনে হয় ছিল একটা পিরহিক ভিক্টরি।ডক্টর জি,সি দেব, ডক্টর মোফাজ্জল হায়দার, মুনির চৌধুরীর মতো শিক্ষকদের হারানো ছিল আমাদের জাতির জন্য রাজা পিরহাসের সেরা সেনাপতিদের হারানোর মতোই । সেই শূন্য স্থানতো ভোট ডাকাত (বা তাদের সহযোগীও বলতে পারেন যদি বেশি দয়া হয় আপনাদের কারো ) ড. শবনম জাহান, ড. জিনাত হুদা ও তাদের সহযোগী শিক্ষকদের দিয়ে পূরণ হবার মতো নয়। 'পিরহিক ভিক্টরির' গুনাহ্গারি আরো কত দিন, মাস বছর যে দেশকে গুনতে হবে আল্লাহই জানেন ।


মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৬

আকতার আর হোসাইন বলেছেন: খুব সুন্দর লিখেছেন। ধন্যবাদ।

১৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:৩০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আকতার আর হোসাইন,

অনেক ধন্যবাদ কাঠখোট্টা লেখাটা পড়ে মন্তব্য করার জন্য ।

২| ১৬ ই মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫২

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: এসব বিষয় নিয়ে এখন আর মাথা ঘামাই না কারন আমি অভ্যস্ত।

১৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:৫২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মাহমুদুর রহমান ,
আপনি খুব সুখী মানূষ আপনার মন্তব্য থেকেই বুঝতে পারছি ।আসলেই এই সব নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো ।শান্তির ।দেশ থেকে দূরে থাকিতো অনেক দিন তাই মাঝে মাঝে অনেক ঘটনায় খুব খারাপ লাগে ।আমিতো যখন ঢাকা ইনিভারসিটিতে পড়েছি তখন যে সব খুব ঠিক ঠাক একেবারে পিকচার পারফেক্ট ছিল সেটা নয় ।কিন্তু সেই সময় টিচাররা সব বিষয়ে এতো দলীয় হয়ে যাননি । এই দলীয় হবার ইফেক্টটা পড়ছে ইউনিভার্সিটির সব কিছুতে । পড়াশোনা, মোরালিটি সবকিছুতে । আমাদের সময়েও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ওয়ার্ল্ড রানকিংয়ে নিচের দিকে থাকতো ।এখন লিডিং কোন লিষ্টেই আর ঢুকতে পারে না এই রাজনীতির কাৰণে । অনেক দিন বিদেশেতো তাই এগুলো দেখে খুব খারাপ লাগে । সেই থেকেই লেখাটা ।নিতান্তই নিজের খারাপ লাগা থেকে লেখাটা ।আর কিছু নয় । যাক ভালো থাকুন ।

৩| ১৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:২০

ঢাবিয়ান বলেছেন: খুব সুন্দর লিখেছেন। কোনদিন যদি এই স্বৈরাচারের পতন হয়, তবে সবচেয়ে আগে বিচার চাইব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

১৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:৪১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ঢাবিয়ান,
অনেক ধন্যবাদ লেখায় মন্তব্যের জন্য । এটা কিন্তু আমি আরেকজন প্রাক্তন ঢাবিয়ান বলেই লেখা ।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে ঢাকা শিক্ষকদের ধরতে হবে কিনা, ধরলে কোনো লাভ হবে কিনা জানিনা ।কিন্তু যেটা খুব পরিষ্কার সেটা হলো যে রাজনীতির থেকে ইউনিভার্সিটিগুলোকে বাঁচাতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার । সব ধরণের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে ইউনিভার্সিটিগুলোকে বাঁচাতে হবেই । ইউনিভার্সিটির টিচারদের রিসার্চ,পাবলিকেশন, টিচিঙের ব্যাপারে সিরিয়াস হতেই হবে সরকারের চাটুকারিতা ছেড়ে । এগুলোর ভিত্তিতেই হতে হবে ইউনিভার্সিটির শিক্ষক নিয়োগ, প্রমোশন । এর বাইরে গেলে উন্নয়ন নেতাদের বক্তিতা,বিবৃতিতেই থাকবে । মানুষের কোনো কাজে আসবে না সেই সব গায়েবি কথাবার্তায় ।ভালো থাকুন ।

৪| ১৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:৩১

জুন বলেছেন: মলাসইলমুনা ,
রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আমি কিছু বোল্বো না তবে আপনার লেখাটি আমাকে অনেক অনেক আগের একটি সময়ে নিয়ে গেল যেন ।
কলেজ জীবনে থাকতে প্রথম ইতিহাসের প্রেমে পড়েছিলাম আর তার প্রধান কারন ছিল আমার পাঠ্যসুচীতে ছিল গ্রেইকো রোমান হিস্ট্রি । তারপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইতিহাস ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে পড়ার আগ্রহই ছিল না । সেই কলেজ জীবনে প্রথম পড়েছিলাম আপনার আজকের লেখা পিররিক ভিক্টোরি। বিজয়ও যে কখনো কখনো পরাজয় ডেকে আনে এটাই ছিল মুল কথা । খুব খুব ভালোলাগলো পুরনো স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার জন্য ।
প্রথম ভালোলাগা
+

১৭ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১:৩৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ব্লগার জুন,
আমার এই লেখাটাকে আপনিও রাজনৈতিক লেখা ভাবলেন !
কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লিখতে চাইনি আসলে।রাজনৈতিক লেখার মতো হয়ে গেছে মনে হয় এখন মনে হচ্ছে ।আপনিতো অনেক দিন বিদেশে থাকেন ।নানা জায়াগায় ঘুরে বেড়াবার সুযোগ হয়েছে আপনার । বিদেশে খুব সাধারণ ভাবে যে জিনিসগুলো ঘটে সেগুলো যখন আমাদের দেশে শত চেষ্টা করেও করা যায় না তখন খুব খারাপ লাগে ।আমি জানি আপনারও এমন অবস্থায় দেশের জন্য খারাপ লাগে । আমি কিন্তু এই ব্যাপারগুলো বলতে খুব প্রয়োজনীয় ব্যাপারগুলোর কথা বলছি । যেমন নিজে আমেরিকায় এসে পড়াশোনা করার কাৰণে এখানকার ইউনিভার্সিটিগুলোর কাজগুলো সম্পর্কে আমি কিছুটা জানি। যেমন ইউনিভার্সিটির টিচার রিক্রুটমেন্ট প্রসেসটা এখানে একেবারেই ইউনিভার্সিটির বিষয় ।স্টেটগুলো স্টেট্ ইউনিভার্সিটিগুলোকে ফান্ড করলেও ইউনিভার্সিটিগুলোর রিক্রুটমেন্ট প্রসেসকে কোনো ভাবেই প্রভাবিত করতে পারে না । তাতে ইউনিভার্সিটিগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী টিচার ও অন্যান্য প্রফেশনাল রিক্রুট করতে পারছে সহজেই । এছাড়া টিচার রিক্রুটমেন্টের পরে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টিচারদের একাডেমিক এচিভমেন্টগুলো কেমন হবে মানে তাদের কি পরিমান রিসার্চ আর পাবলিকেশন লাগবে, কি পরিমান রিসার্চ ফান্ড নিজেদের উদ্যোগে যোগ রকরতে হবে, টিচিঙের ক্ষেত্রে ইভালুয়েশন কেমন হতে হবে সে সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হয় ।এটা স্থায়ী চাকুরী পেতে যাকে এখানে টেনিউর বলে তার ক্ষত্রে সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট ।টিচারদের যতই ভালো ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি থাকুক না কেন এই ক্রাইটেরিয়াগুলো (ওপরে যেগুলোর কথা বললাম) পূরণ না করতে পারলে তার টেনিউর হবে না বা প্রমোশন হবে না । এর জন্য টিচাররা সব সময়ই নিজেদের ক্লাস টিচিং, রিসার্চ আর পাবলিকেশনের ব্যাপারে সিরিয়াস থাকেন অন্য ব্যাপারে মাথা ঘামান না । এভাবেই একটা ভালো আর ইফেক্টিভ শিক্ষা ব্যবস্থা এরা দাড়া করিয়েছে যেটা দেশের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকারি ।এটা কিন্তু কোনো কঠিন বিষয় না আমাদের দেশে চালু করার জন্য । শুধু সদিচ্ছাই যথেষ্ট ।কিন্তু আমাদের সরকারগুলো উন্নয়নের কথা বলতে বলতে কান ফাটিয়ে ফেলছে কিন্তু ভালো ছাত্র না তৈরী হলে যে আজকের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া যাবে না সেটা বুঝতে চাইছে না। ইউনিভার্সিটি-র টিচার নিয়োগের আগে দেখা হচ্ছে ক্যান্ডিডেটের দলীয় আনুগত্য কতটুকু । শিক্ষা ঠিক না থাকলে উন্নয়ন অর্থহীন সেটা পরিসংখ্যান দিয়েতো বোঝাবার কিছু নেই । এই ঘটনাগুলো আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতে ঘটছে বলেই শিক্ষার মানতো নষ্ট হয়েছেই, ন্যায়,নীতি এসবের কোনো কিছুই আর ঠিক নেই ইউনিভার্সিটিগুলোতে শুধু রাজনৈতিক দলীয় আনুগত্য ছাড়া ।ওটাই শুধু চক্রবৃদ্ধিহারে বাড়ছে । বাইরে থেকে এগুলো দেখলে খুব খারাপ লাগে ।সেদিন ভোটের অনিয়মের সাথে ঢাকা ইউনিভার্সিটি-র টিচাররা এরকম নগ্ন ভাবে জড়িত সেই নিউজ পড়ে খুব খারাপ লাগছিলো ।সেই থেকেই এই লেখা । নিজে থেকে রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাইনি । আমরা সব কিছুকেই দেশে রাজনীতির চাদরে মুড়ে দিয়েছি ।তাই যাই বলি সেখানে রাজনীতি চলে আসে ।আমার লেখাতেও তাই হয়েছে মনে হলো ।কিন্তু সেটা যে ইচ্ছে ছিল না তা লেখাতেই বলেছি ।আমাদের রাজনীতি, নেতা নেত্রীদের সুমতির ব্যাপারে আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া আর কিছু করার আছে বলেতো ভাবতে পারছিনা এই মুহূর্তে ।আমার লেখাটা পুরটাই ঢাকা ইউনিভার্সিটির একজন প্রাক্তন ছাত্রের মনোকষ্ট মূলক রচনা হিসেবেই দেখবেন ।আমি তাতেই খুশি হবো ।
অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।আপনার মন্তব্য সব সময়ই ভালো লাগার ।

৫| ১৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:৩৭

রাজীব নুর বলেছেন: Birdy birdy in sky-
Dropped a poopy in my eye.
I don't worry, I don't cry,
I am just happy-
That Cows can't fly !

১৭ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ১০:০৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নুর,

You are totally right,
There's no need to fight.
Anything of this DUCSU,
Can't be the real issue
For the development of the country
If we keep sinking in the pyrrhic victory!

৬| ১৬ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:১৫

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: শান্তির ।দেশ থেকে দূরে থাকিতো অনেক দিন তাই মাঝে মাঝে অনেক ঘটনায় খুব খারাপ লাগে ।আমিতো যখন ঢাকা ইনিভারসিটিতে পড়েছি তখন যে সব খুব ঠিক ঠাক একেবারে পিকচার পারফেক্ট ছিল সেটা নয় ।কিন্তু সেই সময় টিচাররা সব বিষয়ে এতো দলীয় হয়ে যাননি ।

মন খারাপ করবেন না।মন খারাপ হলে মনে করবেন এটা বাংলাদেশ।তাহলে খারাপ লাগা দূর হয়ে যাবে।

আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুক।

১৮ ই মার্চ, ২০১৯ ভোর ৫:৩৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মাহমুদুর রহমান,

অনেক ধন্যবাদ ।আপনিও ভালো থাকুন ।আল্লাহ বাংলাদেশকেও ভালো রাখুন ।

৭| ১৭ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১:৩৮

সুমন কর বলেছেন: প্রথমে তথ্যসমৃদ্ধ এবং শেষে বাস্তবতা.....দু'য়ে মিলে চমৎকার একটি পোস্ট।
+।

১৮ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:১৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সুমন কর,
মাঝে মাঝেই মনে হয় দুর ব্লগে এতো লিখে কি হবে । কিন্তু আপনাদের এমন সদয় মন্তব্যের অঢেল কর প্রাপ্তিতেই আবার কেমন করে যেন লেখা হয়ে যায় । খুব খুশি হলাম মন্তব্যে । লেখাটা পড়ার জন্য আর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ নেবেন । ভালো থাকুন ।

৮| ১৭ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ১০:৫৮

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: একটা দারুন সূখপাঠ্য, তথ্য সমৃদ্ধ, অতীত বর্তমানের দারুন সুসমন্বয়ে সমৃদ্ধ পোষ্ট এর জন্য কৃতজ্ঞতা।
পিরহিক ভিক্টরি ফ্রেজটা দারুন লাগলো। জানা ছিলোনা আগে।

আমরা বোধকরি একটি পূন:জন্মের প্রসব বেদনার কাল পার করছি।
যদি সফল ভাবে জন্ম দেয়া সম্ভব হয়, হতে পারে আমরাই হবো দারুন এক সভ্যতার গর্বিত নাগরিক।
অথবা ব্যার্থতায় আস্তাকুড়ে হারিয়ে যাওয়া জাতি স্বত্তার ইতিহাসের পাতা ভারী করা এক জাতি।

দায়, কর্তব্য এবং প্রয়োজন সবই আমাদের হাতে। যে সময়ের প্রয়োজনে একাত্তর হয়েছিল
তেমনি সময়ের প্রয়োজনে আমাদের ভূমিকা রাখার সময় এখন।


১৯ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:৫০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় বিদ্রোহী ভৃগু,
অনেক ধন্যবাদ প্রিয় মন্তব্যে ।
আপনার মন্তব্যের সাথে একমত যে "দায়, কর্তব্য এবং প্রয়োজন সবই আমাদের হাতে। যে সময়ের প্রয়োজনে একাত্তর হয়েছিল তেমনি সময়ের প্রয়োজনে আমাদের ভূমিকা রাখার সময় এখন। " আসলে এই দায় বা কর্তব্য সব সময়ই আমাদের ছিল কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদরা এই কথাটা কখনো মনে রাখেন নি ।তাই সরকারি ব্যবস্থা (এটা যে দলের নয় দেশের সবার জন্য হওয়া দরকার), শিক্ষা, বিচার বিভাগ সব কিছুই ক্ষমতাসীনদের দিয়ে বারবার কলুষিত হয়েছে ।সেটারই কঠিন দায় ভোগ করছি এখন আমরা । আপনার আরেকটা মন্তব্য, "আমরা বোধকরি একটি পূন:জন্মের প্রসব বেদনার কাল পার করছি " এটার ব্যাপারে আমি কিন্তু শিওর না । দেশের প্রত্যেকটা বিষয়েই অরাজকতা এতো বেশি যে আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় একটা বিকলাঙ্গ জন্মের আর্তনাদ বোধ হয় শুনছি । যাক তবুও দেশ নিয়ে আশাবাদী হতে ইচ্ছে করে ।দিন শেষে সেটাই হয়ে থাকি । এখন অপেক্ষা কোনো দিন যদি একটা সুদিন আসে আর আমার দেশ নিয়ে 'পিরহিক ভিক্টরির' ধারণাটা বদলে যায় ! আবারো অনেক চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ । ভালো থাকবেন ।

৯| ১৭ ই মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৬

আবদ্ধ বলেছেন: খুব ভালো লিখেছেন।

২০ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৭:৩৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আবদ্ধ,
লেখাটা পড়ার জন্য আর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ নেবেন । ভালো থাকুন ।

১০| ১৭ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:২৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,




'পিরহিক ভিক্টরি'র ইতিহাসটা জেনে ভালো লাগলো। যদিও 'পিরহিক ভিক্টরি' সম্পর্কে আমার ধারনা ছিলো এমন-- যে বিজয় আপাতঃ বীরগাঁথা হলেও শেষতক দূর্দশা ছাড়া আর আর কিছু ডেকে আনেনা, তেমন। শব্দটি আমি একবার ব্যবহারও করেছিলুম ২০০০ সালে "যায় যায় দিন" (তখনকার সময়ের সাপ্তাহিক পত্রিকা)এ "ভোট না ভোট" নামের একটি লেখা প্রকাশের জন্যে পাঠালে পরে কর্তৃপক্ষ তার প্রাপ্তি স্বীকার করেছিলেন বটে তবে যখন তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি তখন সম্পাদক শফিক রেহমানকে লেখা আমার একটি চিঠিতে। ভোট যে আমাদের সাধারন মানুষের জন্যে কোনও সুফল বয়ে আনেনা তা বোঝানো ছিলো আমার পাঠানো ঐ লেখাটির বক্তব্য। তখন শফিক রেহমান ব্যস্ত ছিলেন " এককোটি তরুন ভোটারের কাছে..." শিরোনামের একটি ঐতিহাসিক লেখাতে। সে লেখাটির কারনেই সম্ভবত তখন তরুন সমাজের একটা বিরাট অংশ নির্বাচনের অংকটাই পাল্টে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছিলো। দুমাস ঘুরতে না ঘুরতেই সরকারের কাছে শফিক রেহমানের ও তাদের চাওয়া সব আবেদন আর প্রত্যাশা যে পূরন হয়নি তার হাহাকারে পত্রিকাটি ছয়লাব ছিলো বিভিন্ন প্রবন্ধ, নিবন্ধতে। তখন আমি তাকে লিখেছিলুম , ""আমি জানি সেদিন আপনার পক্ষে আমার লেখাটি ছাপানো সম্ভব ছিলোনা কারন তখন আপনি ছিলেন " এককোটি তরুন ভোটারের কাছে..." নামের একটি সুখপাঠ্য লেখার কাজে। নির্বাচনে আপনার এককোটি তরুন ভোটকর্মে যে পরিবর্তন ঘটিয়েছে তা শুধুমাত্র মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আপনার সেই ঐতিহাসিক " এককোটি তরুন ভোটারের কাছে..." লেখাটির আবেদন ও প্রত্যাশা যে জলে পড়ে গিয়েছে! আপনার হয়েছে শুধু পিরহিক ভিক্টরী..।

আপনার লেখায় শব্দটি আবার দেখতে পেয়ে পিছনের এতো কথা মনে পড়লো। আর আপনার মতো মিলিয়ে দেখলুম ৭১য়ে আমাদের বিজয়টা গত ৪০টি বছর ধরে আসলেই পিরহিক ভিক্টরী হয়েই থেকে গেছে কিনা!

২০ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:৪৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জি এস ভাই,

দারুন সুন্দর আপনার মন্তব্যটা অনেক ভালো লাগলো ।প্রথমেই বলে নেই আপনি যে ভাবে বলেছেন পিরহিক ভিক্টরি কথাটার অর্থ সেটাই । আমার ভাষা যতই দুর্বল হোক আর তার থেকে অন্যদের বুঝতে যতই অসুবিধা হোক আমিও সেটাই বোঝাতে চেয়েছি । এটা কিন্তু আরেকটা মনোকষ্ট মূলক লেখা ।রাজনীতি নিয়ে বলতে চাইনি আসলে কিছুই।যেটুকু এসেছে সেটা এই কষ্ট বলতে গিয়ে যেটুকু বাদ দেয়া যায়নি সেটুকুই ।

আরেকটা কথা, আপনার মন্তব্য থেকে আমারও কিন্তু পেছনের কথা মনে পড়লো । যায়যায়দিনে শফিক রেহমানের যে সম্পাদকীয়টার কথা আপনি বলেছেন সেটা আমি পড়েছিলাম স্কুলে কাজের ফাঁকে ।আমি তখন ওয়াশিংটন ডিসিতে ।লেখাটা পড়ে এতো ভালো লেগেছিলো যে ওটা নিয়ে আমার মন্তব্য একটা ইমেইল করে শফিক রেহমানকে জানিয়েও ছিলাম ।উনি আমাকে একটা ইমেইল করে থ্যাংকস বলেছিলেন আর খুব সম্ভবত আমার ইমেইলটার কথা যায়যায়দিনের কোনো লেখায় বলেও ছিলেন।যাক সে অনেক আগের কথা। ভুলেও গিয়েছিলাম লেখাটা আর আমার ইমেইলের কথা ।আপনার মন্তব্যে আবার মনে পড়লো। ভালো থাকবেন ।

১১| ২০ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:৫৯

বরুন মালাকার বলেছেন: মুনা ইসলাম, অনেক ধন্যবাদ। অনেক সুন্দর সময়োপযোগী লেখা। সত্যি আমরা একটি প্রসব বেদনা অতিক্রম করছি। ভয় হচ্ছে কি প্রসবিত হবে?

২১ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৪:২৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: বরুন মালাকার ,
একটা অবিরাম সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রসব বেদনা কঠিন হলেও সেটা না হয় মেনে নেওয়া যাবে কিন্তু সেটা বিকলাঙ্গ প্রসবের আর্তনাদ হলে সেই কষ্ট ভোলাওতো কষ্টকর । সেই কষ্টটা অনুভব করেই লেখা । অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়া আর ছোট্ট সুন্দর মন্তব্যের জন্য ।

১২| ২১ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৯

নীলপরি বলেছেন:
ভালো লিখেছেন । ঐতিহাসিক তথ্যটা জানলাম ।
শুভকামনা

২৩ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নীলপরী,
কবিকে কবিতার দুটো লাইন লিখে আমার এই লেখাটা পড়া আর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাতে পারলেই বেশি ভালো দেখাতো বুঝতেই পারছি । কিন্তু আমিতো কবিতা লিখতে পারিনা, তাই শুস্ক গদ্যেই অনেক অনেক ধন্যবাদ জানালাম ।

১৩| ২১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:০৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: এক কথায়, চমৎকার একটি পোস্ট। অভিনন্দন ও সাধুবাদ!
পিরহিক বিজয় সম্পর্কিত ঐতিহাসিক তথ্যগুলোর জন্য এ লেখাটির একটা আলাদা মূল্য থাকবে পাঠকের কাছে।
আপনার এ লেখাটির পেছনে কোন উদ্দেশ্য অনুসন্ধান না করে, এবং সাবলীলভাবে বলে যাওয়া কথাগুলোর কোন অংশকে টুইস্ট করে চায়ের কাপে এখনো কোন বিতর্ক উঠেনি দেখে স্বস্তি পেলাম।
যারা জাতি হিসেবে আমাদের উন্নয়ন দেখতে চায় না, তারা জায়গামতই হাত দিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দাও, মূর্খ জাতি চিরদিন পদানত থাকবে।
এই যে নির্বাচন ব্যবস্থার উপর থেকে জনগণের আস্থা ও ভক্তি একেবারে উঠে গেল, এটাকে ফিরিয়ে আনা বেশ দুরূহ এবং সময়সাপেক্ষ কাজ হবে। অথচ ভোটাধিকারের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া গণতান্ত্রিক আচরণের এবং মানদন্ড যাচাইএর সভ্য পন্থা আর কী হতে পারে, তাও জানা নেই!
৪ ও ৮ নং প্রতিমন্তব্যদুটো খুব ভাল লেগেছে। +
পোস্টে ভাল লাগা + +

২৩ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:৫৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খায়রুল ভাই,
অনেক ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্যের জন্য । আমি এই লেখায় আমার যে কষ্টগুলোর কথা বলিনি (আসলে বলতে চাইনি) ব্লগ নিয়ে এই ঝড় ঝামেলার মধ্যে আপনি সেগুলো বলে আমার কষ্টগুলো দিগন্ত জোড়া ছড়িয়ে দিয়েছেন । এই রাজনীতি করতে করতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাটা পুরো ধ্বংস হয়ে গেলো বলে মনে হচ্ছে গত দশ বছরে । ব্যাংক লোপাট, সরকারি অব্যবস্থা, মহাসড়কের এনার্কি সব হয়তো ঠিক করে নেওয়া যাবে সময় মতো অল্প সময়ের মধ্যেই কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থাটা ধ্বংস হয়ে যাবার ক্ষতিটা কত দিন লাগবে পূরণ করতে সেটা ভাবতেই শিউরে উঠি ভয়ে। সেই ভয় আর কষ্ট থেকে লেখা। নিজে দেশের রাজনীতি নিয়ে খুব একটা উচ্চ ভাব আগেও ছিল না এখনো নেই । তাই ও নিয়ে খুব একটা কিছু বলতেও চাইনা ।আর ব্লগের এই অবস্থায়তো আরো না । আবার ভালো লাগার কথা জানালাম মন্তব্যের জন্য ।

১৪| ২১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:২৪

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: পোস্ট অসাধারন। সত্যি কথাগুলো নানান কথার যাদু গেথে বলে গিয়েছেন।

২৫ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: উম্মু আবদুল্লাহ ,

আমি খুব সাধাহরণ কষ্টের কথাই লিখেছি আমার এই লেখাতে।সেটাই আপনার কাছে অসাধারণ লেগেছে তার একটাই কারণ আপনিও আমাদের অনেকের মতোই দেশের কিছু চূড়ান্ত অব্যবস্থা, নীতি নৈতিকতার অবক্ষয় নিয়ে ভেবেছেন ।আগের মন্তব্যেই খায়রুল (আহসান) ভাই যা বলেছেন,"যারা জাতি হিসেবে আমাদের উন্নয়ন দেখতে চায় না, তারা জায়গামতই হাত দিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দাও, মূর্খ জাতি চিরদিন পদানত থাকবে। এই যে নির্বাচন ব্যবস্থার উপর থেকে জনগণের আস্থা ও ভক্তি একেবারে উঠে গেল, এটাকে ফিরিয়ে আনা বেশ দুরূহ এবং সময়সাপেক্ষ কাজ হবে। অথচ ভোটাধিকারের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া গণতান্ত্রিক আচরণের এবং মানদন্ড যাচাইএর সভ্য পন্থা আর কী হতে পারে..." আমার্ লেখাটাও এই কষ্টগুলো নিয়েই । শিক্ষা ব্যবস্থাটা ঠিক না থাকলে দেশ সামনে এগুবে না এই সার সত্যিটা বুঝতেই হবে যদি আমরা টেকসই সত্যিকার একটা উন্নয়ন চাই। যেই শিক্ষকরা এই নোংরা ভোট ডাকাতির সহযোগী তারা একটা সুন্দর জাতির গড়বার কারিগর হতে পারেন সেটা ভাবা খুবই কঠিন। অথচ এই মানুষগুলোর হাতেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থাটা চলে গেছে । এটাই খারাপ লেগেছে ডাকসু নির্বাচনের পরে । এই খারাপ লাগা থেকেই লেখা । যাহোক, দুঃখের পাচালি গেয়ে কি হবে আর ? ভালো থাকুন । আমার এই কষ্ট অনুভবের লেখা পড়া আর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ ।

১৫| ২১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৮:২৬

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: পিরহিক ভিক্টরি ফ্রেসটি এসময়ের জন্য খুবই মানানসই। একেকটা এই ধরনের বিজয়ই পরাজয়ের আরো কাছাকাছি এনে দেয়।

২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ২:৪০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: উম্মু আবদুল্লাহ ,
কেন জানি সেটাই মনে হয় ।আমরা জিতেছি কিন্তু জয়টা হয়ে গেছে রাজা পিরহাসের জয়ের মতোই একটা পিরহিক ভিক্টরি-যে জেতার সুফল পাচ্ছি না আর জাতি হিসেবে।আমাদের লাভের গুড় অল্প কিছু পিপড়াতেই শুধু খেয়ে যাচ্ছে নিরন্তর।অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে।

১৬| ২৮ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:৪০

ওমেরা বলেছেন: হেই সেয়ানা ভাপু কেমন আছেন ?

৩১ শে মার্চ, ২০১৯ ভোর ৬:৪৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ওমেরা,ব্যাপার কি ? ভুল করে কারো সুইডিশ শুভেচ্ছা আমাকে করে ফেললেন মনে হচ্ছে ! আমাকে বাংলাতে কিছু একটা বললেই চলবে, সুইডিশ না বললেও ক্ষতি নেই । থ্যাংকস এ লট ।

১৭| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:২৮

মনিরা সুলতানা বলেছেন: 'পিরহিক ভিক্টরি' !!
সত্যি ই জয় অনেক সময় পরাজয় নিয়ে আসে।

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৪২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ব্লগার,
ঝামেলার অক্টপাসে জড়ানো জীবন তাই এতো দেরি হলো রেস্পন্স করতে আশাকরি কিছু মনে করবেন না ।হ্যা, সেটাই কিছু "সত্যিই জয় অনেক সময় পরাজয় নিয়ে আসে" --হয়ে যায় পির্হিক ভিক্টরি । ভালো থাকবেন ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.