নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

অপারেশন মালবেরি (Operation Mulberry): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিশ্বাস্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বনানীর অগ্নিকান্ড, আর কিছু ব্যক্তিগত শোক গাঁথা

৩১ শে মার্চ, ২০১৯ ভোর ৬:১০


ফটো ১: ফ্রান্সের এরোমাঞ্চিস বিচের এখনকার ফটো

ঢাকার স্কাই লাইনের দিকে তাকিয়ে মধ্যম আয়ে উন্নীত হওয়া,বদলে যাওয়া একটা দেশের কথা ভেবে দেশের অনেকের মতোই আমারো খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু কেন জানি নানা কারণে সেটা হয় না। কেন যেন ঢাকার এরকম সুরম্য মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিংগুলো মনে ভয় ধরিয়ে দেয় সব সময়ই(আমি যে খুব পিসিমিস্টিক তা না।অনেক আগে তখন স্কুলে পড়ি,রামপুরায় একটা পাঁচতলা বাড়ি হটাৎ করে পিসার হেলানো মিনারের মতো হয়ে গিয়েছিলো।সেই থেকেই ঢাকার মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিংগুলো নিয়ে আমার বরাবরই একটা ভীতি আছে)। লকলকে আগুন ঘিরা বনানীর সুরম্য বহুতল বিল্ডিংটার দিকে তাকিয়ে সেই ভীতিটাই আবার বোধহয় ফিরে এলো।

যাহোক যা বলছিলাম, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘অপারেশন মালবেরির’ কথা। যুদ্ধ সময়কালীন এর কোড নেম ছিল “মালবেরি হারবার”। এই “মালবেরি হারবার” আসলে দুটো কৃত্রিম হারবার (সহজ ভাষায় নদী, সমুদ্রের পোর্ট, ডক বা বন্দর) যার একটা পরিচিত ছিল মালবেরি এ,আরেকটা মালবেরি বি বলে।যদিও দুটো হারবারই মুটামুটি একই টেকনিক ব্যবহার করেই বানানো হয়েছিল কিন্তু এই লেখা মালবেরি হারবার বি, যেটা ব্রিটিশরা বানিয়েছিলো সেটা নিয়ে। সাধারণত হারবারগুলো নির্মাণ করা হয় সাগর বা লেক উপকূলের প্রাকৃতিক ভূমি ব্যবহার করে উপকূলের কাছেই।আশ্চর্যের বিষয়টা হলো ইংল্যান্ডের গোল্ড বিচের এরোমাঞ্চিস (Arromanches) রিসোর্টে নির্মাণ করা আর্টিফিশিয়াল এই মালবেরি হারবারটা ভাসমান ভাবে তৈরী করা হয়েছিল সম্পূর্ণ ভাবেই সাগরের ওপরI এই মালবেরি হার্বার বি প্রায় ছয় মাইল লম্বা ফ্লেক্সিবল স্টিল দিয়ে সাগরের পানির ওপরে ভাসমান রাস্তা তৈরী করেছিল। মাত্র তিন মাসের কথা ভেবে তৈরী হলেও স্টিল এবং কংক্রিটের পন্টুনের সাহায্যে ভাসন্ত এই দীর্ঘ হারবার নরম্যান্ডির সাগরে ৬ই জুন, ১৯৪৪ ডি-ডের (D-Day)ঠিক পর থেকে ১৯শে নভেম্বর ১৯৪৪ পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকে। এই মালবেরি হারবারের বিভিন্ন অংশ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শিপ ইয়ার্ডে বানানো হয় এবং জাহাজের সাথে বেঁধে ইংল্যান্ডের উপকূল থেকে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ফ্রান্সের নর্মান্ডিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ডি-ডেতে মিত্র বাহিনীকে নৌ পথে সামরিক সাপ্লাই সরবরাহ করার জন্য। ডি-ডের সময় এই ভাসমান হারবার দুটি সাগরের ওপর দিয়ে শিপ থেকে তীরে প্রতিদিন ২৫০০ আর্মড ভেহিকেল আর ৩০০০ টন সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সক্ষম ছিল পরে এই সামরিক সাপ্লাইয়ের পরিমান দিনপ্রতি ৭০০০ টনে বেড়ে যায় ।

৬ মাইল দীর্ঘ স্টিল রোডওয়েজকে কোড নেমে বলা হতো 'হোয়েলস' I স্টিল রোডওয়েজগুলো স্টিল আর কংক্রিটের পন্টুনের (কোড নেম বিটলস) সাহায্যে ভাসমান থাকতো I কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে তৈরী ভাসমান প্রত্যেকটি বিটল ৫৬ টন স্টিলরোড বা হোয়েলের অংশসহ অতিরিক্ত আরো ২৫ টন ট্যাংক যাতায়াতকে সাপোর্ট করতে পারতো। মালবেরি হারবারের রাস্তাগুলো(হোয়েল)সাগরের বুকে এডজাস্টেবল পিয়েরহেডের (সহজ করে জেটি বলা যায় যেখানে হারবারের মালামাল খালাস করা হয়) সাথে সংযুক্ত থাকতো সাপ্লাই সরবরাহের জন্য। পিয়ারহেডগুলোকে দারা করিয়ে রাখতো সি ফ্লোরের সাথে গাঁথা এডজাস্টেবল চারটি পা, যেগুলোকে বলা হতো স্প্যাড (spud)। ইলেক্ট্রিসিটি চালিত এই স্প্যাডগুলো জোয়ারের সাথে সঙ্গতি রেখে পানির সাথে ওঠা নামা পারতো।আটটি অতিরিক্ত স্প্যাডসহ মোট তেইশটি স্প্যাড তৈরী করা হয় মালামাল ও আর্মড ভেহিকেল পরিবহনের জন্য। এগুলোকে রক্ষা করতো ভাসমান ও ডুবন্ত কাইজন (Caisson, কংক্রিট স্ল্যাবও বলা যেতে পারে, যেগুলোকে ফিনিক্স বলা হতো কোড নেমে)I ১৪৬টি কাইজন নির্মিত হয় যার প্রতিটি ছিল প্রায় ২০০ ফিট দীর্ঘ, ৬০ ফিট উঁচু (প্রায় ছয় তলা!),৫০ ফুট প্রশস্থ। সাগরের গায়ে এই কাইজনগুলো ৯.৫ কিলোমিটার বাধার প্রাচীর গড়ে তোলে। প্রতিটি কাইজন তৈরী করতে লেগেছিলো অবিশ্বাস্য ৩৩০,০০০ কিউবিক গজ কংক্রিট, ৩১,০০০ টন স্টিল এবং ১.৫ মিলিয়ন স্টিল শাটারিং। ১৫০০ টি ৬০০০ টিনের এই স্টিল আর কংক্রিট তৈরী এই কাইজনগুলো ভাসমান অবস্থায় জাহাজের সাথে ট্যাগ করে ইংল্যান্ডের নানা শিপইয়ার্ড থেকে প্রায় একশো মাইল সমুদ্র পথ পেড়িয়ে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে নেওয়া হয়। কাইজনগুলোর পাশাপাশি ৭০ টি শীপ রেক (কোড নেম গুজবেরি) এবং আরো অন্যান্য ব্যারিয়ার দিয়ে মার্লবেরি হারবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। কয়েকটা ফটো দিয়ে এই অবিশ্বাস্য ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেলটাকে বেশি বোঝানো যাবে মনে হচ্ছে। নিচে তাই মালবেরি হারবার প্রজেক্টের কয়েকটা ফটো দিলাম ধারাবাহিকভাবে পুরো প্রজেক্টটা বোঝার জন্য।


ফটো ২: নিউ সাউথাম্পটনে নির্মিত হচ্ছে মালবেরি হারবার রক্ষার অতিকায় কাইজন


ফটো ৩ : সাগর পথে আর্মড বার্জ দিয়ে ট্যাগ করে বিশাল কাইজন নেয়া হচ্ছে নর্মান্ডি উপকূলে ।


ফটো ৪: জাহাজ থেকে পিয়ারহেড দিয়ে আর্মড ভেহিকেল আনলোডিং


ফটো ৫ : সাগরের ওপরে মালবেরি হারবারের স্টিল রোড দিয়ে আর্মড ভেহিকেল কনভয় তীরের দিকে যাচ্ছে


ফটো ৬ : এরিয়াল ভিউ হারবার ডিফেন্স- ভাসন্ত ক্যাসন, শিপ রেক দিয়ে তৈরী হারবার রক্ষার ব্যারিয়ার


ফটো ৭ : 'মালবেরি হারবার’ দিয়ে আর্মড সাপ্লাই এসে নামছে এরোমাঞ্চিসের বিচে, শিল্পী স্টিফেন বুন (Stephen Bone) ।

সারা ইংল্যান্ড জুড়ে বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে ৪০,০০০ হাজার মানুষ দিন রাত কাজ করে এই গোপন প্রজেক্ট সমাপ্ত করে। এর জন্য পুরোনো বা বন্ধ শিপইয়ার্ড সচল করার সাথে সাথে নতুন বিশেষ ধরণের শিপ বিল্ডিংও নির্মাণ করা হয়। ডি ডে-র দিন এই মালবেরি হারবার ব্যবহার করে ১০০০ শিপ ১৫৬,০০০ সামরিক ও বেসামরিক কর্মী নরম্যান্ডির উপকূলে মিত্র বাহিনীর অভিযানে সাহায্য করে। ডি-ডের বিজয়ে এবং পরবর্তী সময়ে সেটাকে পশ্চিম ইউরোপ জুড়ে অপ্রতিহত করতে এই মালবেরি হারবারের ভূমিকা খুবই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।এই রকম ছোট ছোট অনেক রূপকথা বিজয়েরই সমন্বয় হলো দ্বিতীয় বিশযুদ্ধে মিত্র বাহিনীর বিজয়।

আমাদের নদী মাত্রিক বাংলাদেশে এই রকম 'ম্যাজিস্টিক' প্ল্যান (মিত্র বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার আইসেন আওয়ার এই প্ল্যানটাকে বলেছেন 'ম্যাজিস্টিক প্ল্যান' ) দিয়ে কম খরচে আমরা কিছু কেন করতে পারিনি সেটা নিয়ে আমি কখনো কিছু ভাবিনি।এর জন্য মনও কখনো খারাপ হয়নি। আমাদের নেতা, নেতৃত্বের অসীম সীমাবদ্ধতা, অল্প স্বল্প যা আছে তা নিয়েই এক বেলা খেয়ে, না খেয়ে পার করা দিনগুলো নিয়ে সব সময়ই খুশি ছিলাম।আমার অল্পে তুষ্ট থাকার সব সময়ের মনটা কঠিনভাবে বিদ্রোহ করে উঠলো বনানীর 'টাওয়ার ইনফার্নো' ফটোগুলো দেখে আর মালবেরি হারবার নিয়ে চার্চিলের একটা চিঠি দেখে। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যখন মালবেরি হারবার সমাধান নিয়ে বিতর্ক, দ্বিমত তখন দেশের শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্বোধন করে বিচে ব্যবহত পিয়ের (Pier বা জেটি) সম্পর্কে নিচের চিঠিটা লিখেন :
পিয়ের বা জেটি অবশ্যই স্রোতের সাথে ওঠা নাম করবে । এঙ্কর সমস্যার সমাধান নিখুঁত (mastered) হতে হবে ।আমাকে সবচেয়ে সেরা সমাধান সম্পর্কে বলতে দিন ।ওটা নিয়ে বিতর্ক করবেন না । জটিলতাগুলোর মধ্যেই তাদের জটিল সমাধান আছে ।

ফটো ৮: মালবেরি হারবারের ক্রেজি আইডিয়া সমর্থন করে চার্চিলের চিঠি ।

মালবেরি হারবারের মতো একটা প্রজেক্ট নিয়ে চিন্তাটা এসেছিলো ডি-ডের আরো দুবছর আগে ১৯৪২ সালে ফ্রেঞ্চ পোর্ট ডিপি (Dieppe) উদ্ধার প্রচেষ্টার রক্তক্ষয়ী পরাজয়ের পরেই। ফ্রেঞ্চ পোর্টগুলোকে রক্ষা করতে গড়ে তোলা জার্মানির দুর্ভেদ্য ডিফেন্স সিস্টেমকে পরাজিত করতে দরকার ছিল আনকনভেনশনাল অভাবিত কোনো স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা। কিন্তু নানা বাধা,সংশয়ের মধ্যে কোনো পরিকল্পনাই আর বেশি এগুতে পারেনি।কিন্তু যুদ্ধের সেই ক্রান্তি লগ্নে জার্মানির হাত থেকে ফ্রান্সের নর্মান্ডি দখলের অসামান্য সমস্যায় অবিশ্বাস্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আদেশ দিয়ে চার্চিল এগিয়ে আসেন সুযোগ্য নেতা হিসেবে। সেটা প্রায় সত্তর বছর আগের কথা।

গ্রিক মিথলজির পসাইডনের উন্মত্ত সাগর জলকে বশ মানিয়ে সাগরের মাঝে মালবেরি হারবারের মতো অবিশ্বাস্য একটা ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্রাকচার বানানো সম্ভব হয়েছিল ব্রিটেনের মানুষের পক্ষে দ্বিতীয় যুদ্ধের মতো একটা অস্থির সময়েও।আর নিজেদের দেশের রাজধানীর কেন্দ্রে আমরা আজও একটা বিল্ডিঙের সামান্য আগুন নেভানোর তড়িৎ সক্ষমতা অর্জন করতে পারিনা! তার চেয়েও বড় কথা, বিল্ডিং কোডগুলো কার্যকরভাবে তদারক করার মতো সর্বোচ্চ জরুরি বিষয়গুলোও বাস্তবায়নের সক্ষমতাও আমাদের সরকার ও তার প্রশাসনের নেই। তাই একটা আলোঝলমল দিনেও কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি না হয়েও অনেক হারাবার বেদনায় অশ্রুসজল হতে হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বনানীর বাইশ তলা বিন্ডিংয়ের লকলকে আগুনে এতগুলো মানুষের মৃত্যু দেখে খুব কষ্ট হলো।কয়েক বছর আগে সাভারে গার্মেন্টসের হাজার নিরীহ কর্মচারী মারা যাবার খবর দিয়ে আমরা বিশ্ব সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলাম, এই কদিন আগেও পুরোনো ঢাকার আগুনে পুড়ে শিরোনাম হলাম, এই দুদিন আগে আবারো সেই আগুন করুন মৃত্যু কাহিনীর হতভাগ্য নায়কের সন্মান প্রাপ্য হয়ে গেলো আমাদের না চাইতেই! দেশ উন্নয়নের মধ্যম সারি পেরিয়ে একদিন হয়তো প্রথম সারিতেও গিয়ে পৌঁছুবে,কিন্তু এই রকম প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অদক্ষতার সিল গায়ে থাকলে ইতিহাসও এভাবেই পুনরাবৃত্তি হতে থাকবে ।

একটা এতো উঁচু বিল্ডিঙের ভেতর কেন আগুন নেভানোর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই বা সক্রিয় হতে পারলো না, উঁচু স্থাপনার ক্ষেত্রে জীবনরক্ষাকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সারভাইভাল সিস্টেম ছাড়াই কিভাবে এবং কে এই বিল্ডিংয়ে আবাসিক, ব্যবসায়িক কাজের জন্য এতগুলো মানুষের জীবন বিপন্ন করার অনুমতি দিলো, কার আঙ্গুল হেলনে পনেরো তলা বিল্ডিঙ্গের অনুমতি নেওয়া একটা বিল্ডিং সাতটি বাচ্চা দিয়ে বাইশ তলা হতে পারলো সেগুলো না বের করার চেষ্টা করে, ভিন্ন দলের সমর্থক বলে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেতো এই রকম বিপর্যয় ভবিষ্যতে থামানো যাবে না। অনেক কথাই বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। কিন্তু ব্লগের এই দুঃসময়ে আর কিছু বলে ঝামেলা বাড়াতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু এই চরম অদক্ষতার জন্য এতগুলো মানুষের মৃত্যুর পরেও কিছু না বললে ব্লগার হিসেবে সচেতন একটা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বলে যে ভালোলাগার অনুভব তার কাছে অপরাধী হতে হতো I তাই দেশ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপের কথা বললাম একটা সোনালী ভোরের আশা মাথায় রেখেই। আশারাখি একদিন আমরাও শুদ্ধ নেতৃত্ব, কার্যকর নিয়ম নীতিমালার প্রয়োগ আর মালবেরি হারবারের মতো ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেলের সমন্বয়ে উঁচু বিল্ডিংগুলো বানাতে পারবো যেটা দেখে ভয়ভীতি ভুলে দেশের উন্নতির জয় জয়ন্তীর কথা ভেবে সবাই আমরা সুখীও হতে পারবো। ততদিন পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। টেক কেয়ার ।

***খায়রুল (আহসান) ভাই,
ব্লগে আমার অনেক ধরেই প্রথম আসার সময়কার মতো ভালো লাগাটা কেন যেন নেই ।একটা কারণ হয়তো এই যে এখন, ব্লগে আপনারা কম লিখছেন আর আমার মতো অলেখকরা গাদা গাদা লিখছে। ব্লগে মানসম্পন্ন লেখার খরায় খুবই অল্প যে কয়জনের লেখা পড়তে অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করে -অপেক্ষা করে থাকি আমার সেই শর্ট লিস্টের খুব ওপরেই আপনার নাম সব সময় লেখা হয়ে আছে । আর্মি ইতিহাস, টেকনোলজি এসব কোনো বিষয়েই আমি খুব বেশি জানি তা একেবারেই না। মালবেরি হারবারের এই অচিন্তনীয় ইঞ্জিনিয়ারিং আমার কাছে রাষ্ট্রীয় একটা দক্ষ নেতৃত্বের ফসলও। সেই চিন্তা, দৃষ্টিকোণ থেকেই এই লেখা।যদিও দেশের খুব হৃদয়বিদারক একটা ঘটনার ফলশ্রুতিতে লেখাটা পোস্ট করতে হলো। ব্লগে আপনি না থাকলে মালবেরি হারবার নিয়ে এই লেখাটা আমি মনে মনে সব সময়ই ভাবতাম কিন্তু হয়তো কখনোই লিখতাম না। কে আর হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে! এই লেখাটা আপনাকে মনে করে আমার শ্রদ্ধা জানবার একটা ছোট চেষ্টা ।

***ডিসক্লেইমার : অনেকগুলো আর্টিকেল, বই, ওয়েবসাইট থেকে মালবেরি হারবার নিয়ে পড়া তথ্যগুলো এক সাথে করেই আমার এই লেখাটা হলো।লেখার দৈর্ঘের সমান হয়ে যাবে মনে হয় সব তথ্য উৎস উল্লেখ করতে গেলে।তাই সেই চেষ্টা আর করলাম না ।

মন্তব্য ৬২ টি রেটিং +১৯/-০

মন্তব্য (৬২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ ভোর ৬:৫১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: অসম্ভব ভালো লাগা একটি পোষ্ট। যুদ্ধকালীন স্ট্র্যাটেজি হিসেবে বিজয় দিবসের ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রপক্ষের শামিল হওয়ার জন্য তৈরি মালবেরি হার্বারের আদ্যোপান্ত জেনে মুগ্ধ হলাম। সাময়িক সময়ের উদ্দেশ্যে নির্মিত হারবারটির নির্মাণ কৌশল থেকে কার্যক্রম পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়গুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। সঙ্গে ছবিগুলি পোস্টটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। প্রাসঙ্গিকতা বোঝাতে গিয়ে বনানীর ঘটনাটি পড়ে ঘটনাটি আবার বিষণ্ন বোধ করলাম। 15 তলা বিল্ডিংয়ের 22 তলা পাওয়ার অনুমতি নিঃসন্দেহে যে কোন জাতির কাছে লজ্জার । কিছু বা কয়েকজন মানুষের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য হাজার হাজার মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলাটা দুর্ভাগ্যের বা ট্রাজেডিক বটে।
মানুষের মধ্যে বিবেকের জাগরন ঘটুক । আর নতুন করে যেন কোন বনানীর ঘটনা না ঘটে। আমরা সকলে মিলে এক সুস্থ নাগরিক সমাজ গড়ে তুলি ।

বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানবেন।

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৩:০২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: পদাতিক চৌধুরী,
খুশি হলাম সুন্দর মন্তব্যে । হ্যা, এই ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেলটার ব্যাপার জানার পর থেকেই আমার যে প্রথম বিস্ময় সেটা এখনো শেষ হয়নি । মানুষ প্রয়োজনে কত অসাধারণ আর অবিশ্বাস্য চিন্তা করতে পারে সেটার একটা চমৎকার উদাহরণ হলো এই প্রজেক্ট । আমরা আমাদের জীবন মরণ প্রয়োজনেও বেঁচে থাকার সাধারণ নিয়ম নীতিগুলোও এনশিয়োর করতে পারিনা সেটা ভেবেই খারাপ লাগে । গত কয়েক বছরে এই রাজধানীতেই কতগুলো মানুষ এই আগুনে পুড়ে মারা গেলো ভাবা যায়। সবগুলো ঘটনাতেই আগুনে পুড়ে মারা যাবার প্রধান কারণ ছিলো সাধারণ বিল্ডিং কোডগুলো না মানা, লাইফ সেভিং ব্যবস্থাগুলোর অনুপস্থিতি। বনানীর বিল্ডিংটাতে আগুন ধরার খবর পড়ে আর ফটোগুলো দেখে এই মালবেরি হারবারের প্রজেক্টের কথাই তাই মনে হলো ।মানুষ প্রয়োজনে কত অসাধারণ চিন্তা করতে পারে আর আমাদের দেশে এই সময়েও খোদ রাজধানীর কেন্দ্রেই আগুনে পুড়ে মানুষ মারা যায় অবহেলিত কোনো বস্তিতে না একটা পশ বিল্ডিঙে ! এই অনন্ত মৃত্যু থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাবার কোনো চিন্তা বোধ হয় আমাদের কর্তাব্যক্তিদের নেই। সাধারণ মানুষের জীবন যে কত অবহেলার সেটা ভেবেই খারাপ লাগা আর তার থেকেই এই লেখা ।অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে ।

২| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৯:০০

হাবিব স্যার বলেছেন: দীর্ঘ পোস্টের মাঝেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কিছু বলেছেন দেখে ভালো লাগছে। আমাদের সব জায়গায়ই কি এমন অবস্থা। আমরা কেন দূর্ঘটনা ঘটার পূর্বে সতর্ক হই না? যেখানেই দূর্ঘটনা ঘটছে সেখানেই দেখছি বলা হচ্ছে এখানে এমন অনুমতি ছিল এমন করা হয়েছে। তারপরেই চলে জল গোলা করা। আরো তো অনেক ভবনই আছে আশে পাশে, এগুলোরও কি একই অবস্থা?

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৩:২৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আমার লেখার উদ্দেশ্যটা পুরোই বনানীর দুর্ঘটনা । মালবেরি হারবারের বিষয়টা একটা রেফারেন্স ।এই ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেলটা সম্পর্কে বনানীর দুর্ঘটনার কনটেক্সটটে লেখার কারণটা খুব সাধারণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটা জীবন মরণ সমস্যায় অসাধারণ সমাধান করেছিল সংশ্লিষ্ট মানুষজন মালবেরি হারবার প্রজেক্ট দিয়ে। কিন্তু আমাদের দেশে উঁচু বিল্ডিংগুলোতে আটকে আগুনে পুড়ে মানুষ মারা যাচ্ছে বিশ্ব সংবাদ হয়ে। গত কয়েক বছরে এধরণের ঘটনায় অনেকগুলো মানুষ মারা গেলো। কিন্তু তবুও আমাদের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই ঘটনাগুলো বন্ধ করার সাধারণ নিয়ন নীতিগুলোও কার্যকর করতে পারছে না। অথচ সত্তুর বছর আগে বিশ্বযুদ্ধের মতো কঠিন একটা সময়েও জীবন মরণ প্রশ্নে কত অসাধারণ চিন্তা মানুষ করতে পেরেছিলো।আমাদের প্রশাসনের এই অদক্ষতা আর অরাজকতা ভেবেই এই লেখা। বনানীর ঘটনা না ঘটলে মালবেরি হারবারের এই অসাধারণত্ব পুরোপুরি বুঝতে হয়তো আরো সময় লেগে যেত আমার। যাহোক, মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

৩| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৯:১১

ওমেরা বলেছেন: ভাপু এত বিনয়ী হতে হবে না , আপনি ব্লগের ভালো লেখকদের মাঝেই একজন আমাদের মত অলেখদের কাছে । আপনার প্রিয় লেখকরা লিখছে না, এমন না হয়ত কম লিখছে যেমন আপনিও কমই লিখেন । ভালো লেখকরা কমই লিখে যেমন খাঁটি সোনা কমই থাকে।
আপনার প্রিয় লেখকরা যেহেতু কম লিখছে তাহলে তো আপনার আরো বেশী বেশী লিখা উচিত না হলে ব্লগ তো আমার মত অলেখকদের হতে চলে যাবে পুরোপুরি।

মালবেরি হারবেরির ইতিহাস জেনে ভালো লাগল । দেশের ঘটনাগুলো দু:খজনক অবশ্যই।

আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন।

ধন্যবাদ ভাপু।

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৪:০৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন:
প্রিয় ওমেরা,
আপনি আমার খুব প্রিয় ব্লগার সব সময়ই। আমার কাছে আপনি সব সময়ই খুব সুলেখিকা। সেটাতো আমি সব সময়ই বলি।নিজের পড়ার ব্যাপারে আমি খুবই চুজি। ব্লগে দেবার জন্য যে সময়টুকু আমার থাকে তাতে লোগে সবার লেখা পড়ার সময় এমনিতেই খুব থাকেনা।তাই বেছে বেছে পড়তেই হয়। কিন্তু আমার মনে হয় আমি যখন ব্লগে প্রথম লেখাশুরু করি তখন যেমন লেখা হতো এখন সেটার থেকে মান বেশ ডিটরেট করেছে। বেশিরভাগ লেখাতেই ভেরিয়েশন নেই। গল্প কবিতা তাই খুব একঘেয়ে লাগে।সেটাই মিন করেছি।মানের দিক থেকে সেগুলো খারাপ সেটা হয়তো না। একটা ওপেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্লগ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।এখানে ভালো খারাপ সব ধরণের লেখাই আসবে সেটা আমি বুঝি।তারপরেও মনে হয় মনে ছাপ ফেলার মতো লেখা খুব কম এখন। যাহোক, আমার লেখাটা মালবেরি হারবারের ইতিহাস বলার জন্য নয় কিন্তু। সেভাবে ভাবলে এটা নিয়ে আরো অনেক আগেই লিখতাম। আমার কাছে একটা ক্রাইসিস পিরিয়ডে কেমন করে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেয়া দরকার, চিন্তা করা দরকার সেটারই একটা উদাহরণ এই প্রজেক্ট।এই কানেকশনটা কেউ মিস করলে এই সময়ে আমার লেখাটা ভালো লাগার কথা না কারুরই।বনানীর ঘটনায় আমাদের এই জিনিসগুলো কত কম সেটা মনে হয়েই খারাপ লাগছিলো খুব। তা থেকেই আর তার জন্যই এই লেখা। লেখাটা পড়া আর মন্তব্যের জন্য বড় ধন্যবাদ ।

৪| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৯:২৫

করুণাধারা বলেছেন: চমৎকার পোস্টটি উপহার দেবার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ মলা......... প্রাঞ্জল আর বিশদ বর্ণনা ছবিসহ। খুব ভালো লাগলো।

আমাদের দেশে একটা ২২ তলা বিল্ডিং বানানোর মতো দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার- আর্কিটেক্ট নেই এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা সব কিছুতে লাভ করতে চাই, তাই ব্রিজ বানাতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে রাখি, জানি ব্রিজ ভেঙে কিছু মানুষ মারা যাবে, তবুও। আসলে জবাবদিহিতার অভাব, সর্বস্তরে দুর্নীতি, এই সবকিছু এর পিছনে দায়ী। এখন যদি এই বিল্ডিং মালিক, ডেভেলপার, রাজউকের কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তার ছাড়পত্র দানকারী সকলকে বাধ্য করা হয় প্রত্যেকটি নিহত ব্যক্তি কে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে, সেই সাথে তাদের কারাবাসের শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটাতে অনেকেই দ্বিতীয় বার ভাববে..... কিন্তু তা হবে না! এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে, বারবার.......

০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৫:১৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ব্লগার করুনাধারা,

"আসলে জবাবদিহিতার অভাব, সর্বস্তরে দুর্নীতি, এই সবকিছু এর পিছনে দায়ী। এখন যদি এই বিল্ডিং মালিক, ডেভেলপার, রাজউকের কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তার ছাড়পত্র দানকারী সকলকে বাধ্য করা হয় প্রত্যেকটি নিহত ব্যক্তি কে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে, সেই সাথে তাদের কারাবাসের শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটাতে অনেকেই দ্বিতীয় বার ভাববে..... কিন্তু তা হবে না!"


আপনার মন্তব্যের এই কথাটুকুতেই আমাদের সমস্যার শুরু আর শেষ সবটুকু বলে দিয়েছেন সেইসতে সমাধানটাও । কিন্তু আমাদের এটাই দুর্ভাগ্য আসলে যেতা সেটাও বলেছেন আপনি " ..আমরা সব কিছুতে লাভ করতে চাই, তাই ব্রিজ বানাতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে রাখি, জানি ব্রিজ ভেঙে কিছু মানুষ মারা যাবে, তবুও।" এই লাভ, লোভের গ্রাস থেকেই আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব বেরুতে পারছে না । "পজিটিভ সাইড অফ করাপশন" নামে একটা লেখা অনেক দিন আগে লিখেছিলেন আমেরিকান এক জার্নালিস্ট মার্কসের সময়কার ফিলিপাইন নিয়ে ।ওখানে উনি বলেছিলেন ব্রাইবেরির কাৰণে ওদের গভনমেন্ট অফিসগুলো অনেক ইফিশিয়েন্টলি কাজ করে ।ফাইলগুলো দ্রুত রিলিজ করে এতে ডিসিশনগুলোও হয় তাড়াতাড়ি।সব মিলিয়ে আউটপুট ভালো হয়।আমাদের দেশের কথা ভেবে আমি আশ্চর্য হই যে এখানে এই আটলান্টিক দুর্নীতির পরেও মানুষ ভালো আর হতে পারে না। দুর্নীতি করে একটা সাম্রাজ্য বানিয়ে ফেলার পরেও আরো রাজ্য বিজয় চায়। এতে সামিল রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ীসহ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর রুই,কাতলা, থেকে মলা পর্যন্ত সব। এই অতি লোভের কারণেই সাধারণ সমস্যাগুলোও সমাধানের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। আমার লেখাটা যে কারণে আমি লিখেছি তার একটা চমৎকার সিন্থিসিস করেছেন আপনার এই মন্তব্যে । আপনার এই মন্তব্য লেখায় থাকবে বলে লেখাটা আরো ভালো লাগবে সবার পড়তে । অনেক ধন্যবাদ নেবেন ।

৫| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৯:৩৪

মেমননীয় বলেছেন: নাইমুল সাহেব,
অন্তরে দেশপ্রেম থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব।
আমাদের আছে অন্যকিছুঃ স্যাটেলাইট প্রেম, আইপ্যাড প্রেম, কমিশন প্রেম।

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৮:০৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় মেমননীয়,
আপনার মন্তব্যের কি উত্তর দেওয়া যায় আমি সত্যি জানিনা ।কিন্তু আপনার মন্তব্যের সাথে অবশ্যই দ্বিমত করছি না। অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।

৬| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ৯:৫১

চাঁদগাজী বলেছেন:



বনানীতে আগুন লাগায় আপনি মালবেরী ভাসমান হার্বার নিয়ে লিখেছেন, ভালো; না হয়, হয়তো লিখতেন না। এ্যাপোলো-১১ নিয়ে আপনার লেখা পেতে হলে, হয়তো বারিধারায় আগুন লাগিয়ে দিতে হবে।

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৮:১২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: চাঁদগাজী সাহেব ,

আপনিতো আমাকে ভীষণ চিন্তায় ফেলে দিলেন এই মন্তব্য করে !

কোনো একটা নিঝুম জ্যোস্নার রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আপনি মুগ্ধ হন কিনা জানি না (কেন জানি মনে হয় খুব সম্ভবত আপনি তাকানই না) কিন্তু অনেকে তাকায় ।অনেক কবি কবিতা লেখে । সেই সব কবিতা অনেকে সারা জীবন ভালোলাগার ডালিতে সাজিয়ে রাখে মনের অনেক গভীরে। ওই দূর আকাশের চাঁদ নিয়ে কেনইবা কবিতা, কেনই বা মানুষের মুগ্ধতা ? এটা হবার একটাই কারণ আর তা হলো মানুষ চাঁদের মধ্যে একটা ভালোলাগা খুঁজে পায়। এই কানেকশনটার কারণেই চাঁদ দেখে একটা কবিতা হয় ।

চাঁদ- ভালোলাগা - কবিতার এই কানেকশনটার মতো মালবেরি হারবার আর বনানীর অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ইস্যু হলো একটা কানেকশন ।যার জন্য আমার লেখা । শুধু বিচ্ছিন্ন একটা ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল হিসেবে চিন্তা করলে এরকম আরো অনেক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং মারভেলই পৃথিবীতেই আছে যা নিয়ে লেখা যেত। এই ব্যাপারটা আমি লেখায় পরিষ্কার করেই বলেছি ।চার্চিলের অরিজিনাল নোটের স্ক্যান কপিটাও এই কারণেই দেওয়া । কিন্তু পুরো ব্যাপারটা আপনি মিস করেছেন বলেই আমার দুশ্চিন্তা,মাইরি ।

আপনার চোখের পাওয়ার কি ভীষণভাবে ডিটরেট করলো নাকি ইদানিং যে এই পরিষ্কার ব্যাপারটা মিস করলেন নাকি বয়সজনিত মেন্টাল ইন্যাবিলিটির কারণে মাথাটা সুস্থ্য ভাবে কাজ করছে না ? যেটাই হোক একটাই সাজেশন দ্রুত ফিজিশিয়ানের সাথে কন্টাক্ট করুন । আপনার চোখ বা মাথা যেটারই সমস্যা হোক না কেন সেটা আরো বেড়ে গেলে আপনার একটা বিরাট ফ্যান বেজ যে আছে ব্লগে তাদের খুব খারাপ লাগবে । তাদের স্বস্তি দেবার জন্য হলেও ডাক্তারের স্বরণ নিন আর সেটা নিয়ে একটা লিখাও পোস্ট করুন।আই এম সিরীয়াস। এই মন্তব্যের জন্য এখন আর ধন্যবাদ দিলাম না। আপনার শরীর মন সুস্থ্য হলে রিভাইজ মন্তব্যের জন্য তালা চাবি দিয়ে বাক্সবন্দী করে তুলে রাখলাম স্পেশাল ধন্যবাদ।

"এ্যাপোলো-১১ নিয়ে আপনার লেখা পেতে হলে, হয়তো বারিধারায় আগুন লাগিয়ে দিতে হবে" আপনার মন্তব্যের এই অংশ নিয়ে আর কিছু বললাম না ।বাংলাদেশে একটা আগুন লাগা মানে অনেকগুলো মানুষের করুন মৃত্যু। সেটা নিয়ে এমন মন্তব্য খুবই কদর্য লাগলো। টেক কেয়ার ।

৭| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১০:২৯

ঢাবিয়ান বলেছেন: ব্লগার করুনাধারা তার কমেন্টে দেশের যার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। পুরো ঢাকা শহড় একটা মৃত্যূ্ফাদে পরিনত হয়েছে।সকল নিরাপত্তা, সকল সুরক্ষা শুধু বিশেষ কিছু মানুষের জন্য সংরক্ষিত এখন এই দেশে। শুধু তারা ছাড়া এই নগরীর আর একটা মানুষেরও বিন্দুমাত্র নিরাপত্তা নাই।

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৮:৫৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ঢাবিয়ান,
মাঝে মাঝে সত্যি কথা শুনতে এতো তিক্ত লাগে ! আপনার আর করুণাধারার মন্তব্য শুনে যেমন লাগলো । এই অব্যবস্থাগুলো থেকে কবে যে দেশের মানুষ একটু রেহাই পাবে ! অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।

৮| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১০:৩৬

জুন বলেছেন: দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে ভাবার এত সময় কার আছে বলুন? আমাদের সব কিছুতেই আগুন ব্যবহার করি এমন কি ভাষন দিলেও জ্বালাময়ী ভাষন দেই।
আপনার লেখার মাঝে প্রিয় বিষয় ইতিহাসকে খুজে পাই যা পড়তে অনেক ভালোলাগে মমলাসইলমুনা।
প্লাস আগেই দিয়ে গেছি :)

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:১৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ব্লগার জুন,
হাহাহা । আপনি খুব সুন্দর বলেছেন," দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে ভাবার এত সময় কার আছে বলুন? আমাদের সব কিছুতেই আগুন ব্যবহার করি এমন কি ভাষন দিলেও জ্বালাময়ী ভাষন দেই।" হ্যা ঠিক তাই মনে হয় । আগুন আমাদের জীবনে খুব ইম্পরট্যান্ট বলে আগুন ধরে জ্বলে পুড়ে মানুষ মরে গেলেও সেগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়ে এতো অনীহা সংশ্লিষ্টদের ! কি যে আজব দেশের বাসিন্দা আমরা ! আমার লেখা পড়তে ভালো লাগে শুনে খুশি হলাম।জানবেন, আপনার মতো গুণী ব্লগার আমার লেখা পরে সেজন্য খুবই গর্বিত আমি সব সময়ই ।

৯| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:২৭

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
দেশের মানুষগুলো কেন যে কোন নয়ম নীতির ধার ধারেনা! ফলাফল অতি লোভের কারণে জীবন বিসর্জন।

সচেতনতা, প্লানিং, সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৪৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মোঃ মাইদুল সরকার,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।আপনার মন্তব্যের সাথে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই । এগুলোই আমাদের জীবন যন্ত্রণার কতগুলো মূল কারণ ।

১০| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ২:০২

ভুয়া মফিজ বলেছেন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আমাকে খুব টানে। এর উপর করা মুভিগুলো বার বার দেখি। এই যুদ্ধে প্রচুর নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত এতো এতো আবিস্কার যুদ্ধটা না হলে সম্ভবতঃ এতো দ্রুত হতো না। আপনার লেখা থেকে নতুন একটা ঘটনা জানলাম।

এন্জিনীয়ারিং এ বৃটেনের খ্যাতি একসময় বিশ্বজোড়া ছিল। বৃটিশ এন্জিনীয়ারিং এর অনেক নজির আমাদের দেশেই তো এখনো ভালোভাবে টিকে রয়েছে। তারা যা করতো, শতভাগ দিয়ে করতো। কাজের প্রতি ডেডিকেশান ছিল। দু'নম্বরী ব্যাপারটাই সম্ভবতঃ ওদের জানা ছিল না।

চমৎকার একটা লেখা।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৮:১০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ভুয়া মফিজ ,

তারা যা করতো, শতভাগ দিয়ে করতো। কাজের প্রতি ডেডিকেশান ছিল। দু'নম্বরী ব্যাপারটাই সম্ভবতঃ ওদের জানা ছিল না।

আপনার খাঁটি মন্তব্যের মধ্যেই আমাদের ভুয়া ব্যাপারগুলো বলে দিয়েছেন যেগুলোই আসলে আমাদের সব সমস্যার মূল। হ্যা, এটা কিন্তু সত্যি যে আধুনিক যুদ্ধগুলোকে (এক দেশের অন্য দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার অন্যভাবে বললে ) কেন্দ্র করেই অনেক প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়েছে।যেটা এই অধিপত্য বিস্তারের পেছনে না ছুটলে হয়তো হতো না।এই যে এখন জিপিএস না হলে দূরে কোথাও ড্রাইভ করার কথাই ভাবা যায় না সেই জিপিএস কিন্তু আমেরিকান আর্মির জন্যই প্রথম তৈরী করা হয়েছিল। সেটার সুফলই এখন সবাই আমরা পাচ্ছি । সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১১| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ২:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: বিশ্বযুদ্ধের সময় আমি থাকলে অবশ্যই যুদ্ধ করতাম।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:০১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নুর :
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।আমি সেটা বিশ্বাস করি ।

১২| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৮

জাহিদ অনিক বলেছেন: Operation Mulberry এর কথা জানা ছিল না, আপনার সৌজন্যে জানা হলো। সত্যিই আপনি দারুণ লিখেছেন। এই ফ্লটিং ব্রিজের কথা জানা ছিল না।

বনানীতে অগ্নিকান্ডে নিহত ও আহতদের কথা ভাবলে নিজেকেই অসহায় লাগে।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:০৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: জাহিদ অনিক,
হ্যা, ঢাকার কেন্দ্রে এমন একটা মর্মান্তিক ঘটনাতে নিজেদের অসহায় ভাবা ছাড়া অন্য খুব বেশি কিছু ভাবার সুযোগ থাকেনা। অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।

১৩| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৮

ব্লগার_প্রান্ত বলেছেন: আগুন লাগার ঝুঁকিতে ঢাকা দ্বিতীয়

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:০৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: জানি না আপনি কোথায় থাকেন।ঢাকাতে থাকলে আর ভিআইপি প্রটেকশন এখনো না পেয়ে থাকলে দোয়া দরূদ সব মুখস্থ করে রাখুন। তাতে যদি আল্লাহ সহি সালামতে থাকার সুযোগ দেন।আমাদের নগর কর্তৃপক্ষের হাতে কারুর জীবনই আর নিরাপদ নয় ।

১৪| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:৩০

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: বদরুদ্দিন উমরের কথাই দারুন সত্য বলে মনে হয় -এমন আত্মঘাতি বাঙালি ছাড়া বুঝি বিশ্বে আর ২য়টি নেই।

দেশপ্রেম, আত্ম দায়, ধর্মের দায়, নূনতম মানবিকতা বোধ সবই ধূয়ে মুছে গেছে যেন।
তথাকথিত উন্নয়নের ইদূর দৌড়ে রাষ্ট্র যখন মিথ্যাচারিতায় ভর করে আমজনতাও সেই ট্রেন্ড ফলো করে বৈকি!
তাইতো বিশ্বে সেরা কোটিপতি তৈরিতে বাংলাদেশ আমেরিকাকে পেছনে ফেলে!
অথচ নূন্যতম শৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হয়না।

ফরাসি বিপ্লবের মতো একটা পূর্ণমাত্রার বিপ্লব দরকার সবার আগে।
দেশপ্রেম, আত্ম মর্যাদাবোধ, মানবিকতা, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তায় আত্ম জাগরণে ঘটাতে হবে।
নেতৃত্বের সততা, সত্যবাচন, দায় স্বীকাারের সংষ্কৃতি জীবিত করতে হবে।
আত্মঘাতি তথাকথিত রাজনীতির কবর দিয়ে- সংস্কারের বিপ্লবে এক মানবিক বাংলাদেশ, সৎ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে স্বাপ্নিক এক বিপ্লবির বড় প্রয়োজন বোধ হচ্ছে।

দারুন পোষ্টে +++
অজানাকে জানানোয় কৃতজ্ঞতা।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৫:৪৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় বিদ্রোহী ভৃগু ,
খুবই খারাপ লাগছে সাত দিন পরে আপনার মন্তব্যের উত্তর দিতে । উত্তর না দিতে পারলে সেটা আরো লজ্জ্বার হয়ে যেত তাই একগাদা লজ্জ্বা মাথায় করেই ওসি গেলাম । আমি আমার যে কষ্টের, হতাশার, আমাদের প্রশাসনের সিমাহীন অদক্ষতা, প্যোগ্যতার কথা লেখায় বলিনি আপনি মন্তব্যে সেই কথাগুলোই বলে দিয়েছেন ।আমার লেখা এখন পূর্ণাঙ্গ হলো ।

আপনার আশাবাদীতাই মনে হয় আমাদের এই অন্তহীন হতাশা থেকে উদ্ধারের একমাত্র আসার ঠিকানা : "দেশপ্রেম, আত্ম মর্যাদাবোধ, মানবিকতা, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তায় আত্ম জাগরণে ঘটাতে হবে। নেতৃত্বের সততা, সত্যবাচন, দায় স্বীকাারের সংষ্কৃতি জীবিত করতে হবে। আত্মঘাতি তথাকথিত রাজনীতির কবর দিয়ে- সংস্কারের বিপ্লবে এক মানবিক বাংলাদেশ, সৎ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে স্বাপ্নিক এক বিপ্লবির বড় প্রয়োজন বোধ হচ্ছে।" কিন্তু এই বোধগুলো দিয়ে একটা প্রজন্মকে দেশের উন্নয়নের জন্য তৈরী করার গোড়াতেই এখন গলদ তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে শিক্ষা, নৈতিকতার শেকড়গুলো সব নষ্ট করে। কি ভয়ংকর অরাজকতা দেশ শাসনের সবখানে ! দেশের সব ক্ষেত্রেই এই অরাজকতা দেখে, এখনকার ব্যবস্থায় নষ্ট মুনাফাখোর কিছু ব্যবসায়ী, অসৎ ক্ষমতালোভী নেতা বানানো ছাড়া আর কিছু বানানো যাবে কিনা সেটাই ভাবি। অনেক ধন্যবাদ এই এই ভালোলাগা মন্তব্যের জন্য।

১৫| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৮

নতুন নকিব বলেছেন:



অনেক সুন্দর আর পরিশ্রমী একটি পোস্ট। +++

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৫:৫০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় নতুন নকিব,
অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পরে মন্তব্যের জন্য ।

১৬| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:৩০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
ভাইয়া, দুই টি জিনিসঃ
১। জ্বালানী তেল
২। সূর্য

এরা শেষ হয়ে গেলে পৃথিবী চলবে কি করে?

আপনার কি ধারণা?
চলবে? নাকি কেয়ামত হয়ে যাবে।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৪২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন,
একটু অপেক্ষা করুন আমার থিওরিটিক্যাল ফিজিক্স আর কম্পারেটিভ রিলিজিয়নের মধ্যেকার ডিগ্রীগুলো হয়ে নিক তারপর আপনার এই জ্ঞানগর্ভ প্রশ্নের জ্ঞানগর্ভ উত্তর দেওয়া হবে। ততদিন কিন্তু ভুয়া মফিজের কথা মতোই সামুতে ঝাপাইয়া পড়িয়া থাকতে হবে বা পাগলার মতো অবিরাম লগ ইন...হাহাহা।

১৭| ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:১০

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,



ইতিহাসের বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে আমাদের স্বরূপ উন্মোচন করে দেয়া একটি পোস্ট। একটা সোনালী ভোরের প্রত্যাশা আপনার পূর্ণ হোক।
কিন্তু প্রশাসনিক দূর্নীতি, সর্বকাজে অদক্ষতা-অবহেলার আবরণে আপনার সে প্রত্যাশা ঢাকা পড়ে যাবে বলে ভয় হয়।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৪৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় আহমেদ জী এস ভাই,
দেশ নিয়ে আমার মন খারাপের গোধূলি বেলায় আপনার শান্ত, স্থধী মন্তব্য একটা মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলো যেন মনে ।
ভালো থাকবেন ।

১৮| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১:১৯

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: ছোটবেলায় দেখতাম পত্রিকার পাতায় মাঝে মাঝে এমন এক একটা চিন্তার গভীরতা সমৃদ্ধ লেখা ছাপা হত। ছোটবেলায়ো উবে গেছে, আর তেমন জ্ঞানগম্ভীর লেখকরাও চটুল সময়ের সাথে পা না মিলিয়ে চলা থামিয়ে দিয়েছেন। আজকের লেখাটা তাই খুব দামী ঠেকছে এই সময়ের প্রেক্ষিতে, যখন যুক্তি হেরে যেতে বসেছে আস্ফালনের লম্ফ ঝম্প দেখে। শুভ কামনা।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৫৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আপনার মন্তব্যের কি উত্তর দেব সেটা নিয়ে অনেক ভাবতে হলো ।
আমার জন্য এতো লজ্জ্বার এতো বড় একটা মিসাইল ছুড়লেন দেখে খুব বেশি বিস্মিত হতেও ভুলে গেছি । সবাইকেই যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন এটা টাটা (টাঙ্গাইল টাঙ্গাইল)স্বজনপ্রীতি তাহলে খানিকটা লজ্জ্বা কমতো আমার । অনেক ধন্যবাদ নেবেন মিসাইল ছোড়াছুড়ির জন্য না অবশ্যই।ব্লগে একটার পর একটা মন কাড়া লেখা লিখবার জন্য ।ভালো থাকুন ।

১৯| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৮:১৮

ওমেরা বলেছেন: হেই কমপিস,
এটা কিন্ত ভালো কথা না পোষ্ট দিয়ে গায়েব হয়ে যাওয়া।
সরি ভাপু দুষ্টুমি করলাম, আমি তো জানি আজকে আপনি অনেক ব্যাস্ত।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৮:১৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: এই পান্তাবুড়ি,
শীততো এ বছর গেলো গেলো করছে। হাইবারনেশনে থেকে উঠে তাড়াতাড়ি ব্লগে আসুন।নইলে ঝগড়া আছে কিন্তু।নেক্সট উইকের মধ্যে একটা লেখা রেডি করুন বিশ্ব শান্তি রক্ষার্থে। অনথ্যায় কোনো প্রকার শান্তি ভঙ্গ ঘটলে আমার দায় দায়িত্ব থাকিবে না ।

২০| ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: অত্যন্ত দুঃখিত, এবং সেই সাথে কিছুটা লজ্জিতও বটে, যে এত সুন্দর একটা পোস্ট আমি এত দেরীতে পড়লাম, তাও আবার যে পোস্টের শেষে আমাকে উল্লেখ করে এতটা মনস্পর্শী কথা লেখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা "প্রিয়" তে তুলে রাখার মত একটা পোস্ট, এবং আমি তাই করলাম।
অমর একুশের প্রথম প্রহরে চুড়িহাট্টার অগ্নিকান্ডে প্রায় ৫০ জন মানুষের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ভয়াবহ ঘটনাটা আমাকে ভীষণভাবে ব্যথিত করে তুলেছিল। সে ব্যথার ভার কাটতে না কাটতেই এই অতি সাম্প্রতিক বনানী ট্রাজেডীর প্রামাণ্য ভিডিও ফুটেজ দেখতে দেখতে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। সবকিছুকেই কপালের লিখন হিসেবে এ জাতি আর কতদিন মেনে নেবে সে কথা ভেবে হতাশ হয়ে পড়ি। এমন একটা পরিস্থিতিতে আপনার এ পোস্ট টা পড়ে আমার মনে হলো; চার্চিলের মত না হোক, এমন একজন নেতা আমাদের ডাক দিয়ে যাক, সকল অনিয়ম অবিচার আর দুর্নীতির অবসান করে শক্ত হাতে জনজীবন বিপন্ন করা এসব মৃত্যুফাঁদের অপসারণে আগুয়ান হবার জন্য। ঘটনা ঘটার পর ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণে যে কৃ্তিত্ব, তার চেয়ে অনেক বেশী কৃ্তিত্বের দাবীদার হবেন যদি কেউ দুর্ঘটনার কারণগুলো সনাক্ত করে দৃৃঢ় হাতে তার প্রতিকার/প্রতিরোধ করতে পারেন।
মাত্র ৭টি মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন এ যাবত। মা শা আল্লাহ, সবগুলো প্রতিমন্তব্যই চমৎকার হয়েছে। একটা পোস্টের শুধু বিবৃত কথাগুলোই সে পোস্টের আকর্ষণ নয়, মন্তব্য/প্রতিমন্তব্যও একটা পোস্টকে অনেক সমৃদ্ধ করে এবং পাঠকের কাছে তার আবেদন অনেক বৃদ্ধি করে।
করুণাধারা এর প্রেসক্রিপশনটা এ রোগ নির্মূল করতে না পারলেও রোগের অনেকটা উপশম করবে বলে মনে করি। কিছুটা উপশম হলে তখন রোগের অন্যান্য দিকগুলো নিয়ে ভাবা যাবে, আপাততঃ ওটুকুই দরকার।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:১৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খায়রুল ভাই ,

স্যরি । জ্বি আসলেই অনেক দেরি হলো এবার এই লেখার উত্তরগুলো করতে ।জানবেন, পুরোটাই কিন্তু অনিচ্ছাকৃত । ছোট ছোট জিনিসগুলোও ঠিক ঠাক মতো আমরা করতে পারিনা দেখে মাঝে মাঝে যে কি হতাশ লাগে ! এইতো চোখের সামনে দকেহা ঢাকাতে কি ভাবে বদলে গেলো সেটাই ভাবি মাঝে মাঝে । আমার স্কুল জীবনের মাঝামাঝি থেকে আমি ঢাকাতেই বড় হয়েছি ।তার আগে আব্বার চাকুরীর জন্য নারায়ণগঞ্জ আর জয়দেবপুরে থাকা হয়েছে । আত্মীয় স্বজনরা যেহেতু সবাই ঢাকাতেই তাই সবসময়ই আসা হতো ।সেই ছোট ছিমছাম ঢাকা এতো বড় একটা জঞ্জালের শহরে পরিণত হলো ভাবতেই খারাপ লাগে ! এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বাসের অযোগ্য শহরগুলোর একটা, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির দিক থেকে নাকি দ্বিতীয় ! শুধুমাত্র উঁচু পর্যায়ের পরিকল্পনার আনাড়ীপনা, অদক্ষতা আর দুর্নীতির কারণে এই অবস্থা । অথচ এই শহরটাকেই যে কি সুন্দর করে গড়ে তোলা যেত ।

একবার টেক্সাসের স্যানেন্টনিওতে গেলাম বেড়াতে । শহরের মধ্যেই রিভারসাইড ম্যারিয়টে রিভার ভিউ দেখা যাবে এমন রুম রিজার্ভ করা হলো দুদিনের জন্য। ওমা যেয়ে দেখি নদীর কি বাহার ! ঠিক যেন একটা বড় ড্রেন দুই দিকে সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো (পানি অবশ্য খুবই পরিষ্কার )বয়ে চলেছে শহরের মধ্যে দিয়ে ! সেটাই নাকি রিভার -নদী ! সেই ড্রেনকে কেন্দ্র করেই পার্ক, নানা এইটা ঐটা বানিয়ে,ঢাক ঢোল বাজিয়ে কি অবস্থা! কি যে হুলুস্থূল। আমার জীবনের সবচেয়ে শকিং ডেগুলোর মধ্যে সেদিনটা ছিল একটা ।আরবান প্ল্যানিং নিয়ে তখন ক্লাস করছি আইভি লীগ স্কুলে পড়া আমাদের জাদরেল এক প্রফেসরের কাছে । তার পড়া মনে হচ্ছে আর স্যান এন্টনিও দেখে বুঝতে পারছি ঢাকাটাকে কি তিলোত্তমা করে বানানো যেত ।আমাদের অপদার্থ রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে কিছুই আর হলো না । পুরোনো ঢাকা আর বনানীর আগুনা এতগুলো মানুষের মারা যাওয়টা চোখ বুঝে হজম করা খুব কষ্টের হয়ে যাচ্ছিলো ।তাই ব্লগের এই কাল বেলায়ও একটু লিখতে হলো ।জানিনা এই লেখার জন্যই ব্লগের ওপর জুড়ে বসা কালো মেঘটা আরো দীর্ঘ হয়ে যায় কিনা ! মন্তব্যে অনেক ভালো লাগা ।ভালো থাকবেন ।

২১| ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৫

মা.হাসান বলেছেন: পরের অংশের ব্যাপারে মন্তব্য করবো না, প্রথম অংশটা খুব ভালো লিখেছেন। অনেক পরিশ্রমের কাজ করেছেন অনেক শ্রদ্ধা।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:১১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মা.হাসান,
আসলে আমার কিছু হবির মধ্যে এই ধরণের ইভেন্টগুলো নিয়ে পড়াশোনা করার ব্যাপারটাও আছে । কোনো টপিক খুব বেশি ইন্টারেস্টিং হলে সে থেকেই ছোট খাটো কিছু একটা লেখা তৈরী করতে ইচ্ছে করে ব্লগে সবার সাথে শেয়ার করার জন্য ।এই লেখাটাও তেমন করেই হয়ে গেলো । আলাদা করে অনেক পড়াশোনা করতে হলো যে তেমন কিন্তু না ।অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে । ভালো থাকুন ।

২২| ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৩

গড়ল বলেছেন: বৃটিশরা ১৫০ বছর আগে যে হার্ডিঞ্জ ব্রীজ বানিয়ে গিয়েছিল সেটাকেই আমরা এখনও টেক্কা দিতে পারি নাই। পদ্মা সেতু হলে হয়ত সেই দূর্ণাম ঘুঁচবে, সেখানে মালবেরি হারবার বানানতো চাঁদে রকেট পাঠানোর সমতুল্য।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:১৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: গড়ল,
ঠিক বলেছেন ।মালবেরি হারবারের মতো কিছু করা এখনো আমাদের কাছে চাঁদে রকেট পাঠানোর সমতুল্য । সেটা ইঞ্জিনিয়ারিং বা রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব যে দিক থেকেই বলুন না কেন। এই সীমাবদ্ধতার কারণেই রাজধানীর কেন্দ্রে বস্তি টস্তি নয় প্রিভিলেজ গ্রূপের মানুষদেরও জীবন্ত বারবিকিউ হতে হয় দিন দুপুরে ।সেই আক্ষেপ থেকেই ভাই এই লেখা ।অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে । ঢাকায় থাকলে সহি সালামতে থাকুন সেই কামনা নিত্য দিনের জন্য।

২৩| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:১৫

সোহানী বলেছেন: প্রিয় নাইমুল ভাই, এ ধরনের চমৎকার কিছু লিখা দেখলে মনের ভীতর একটু আশা ঝিলিক দিয়ে উঠে। হয়তো ক্ষমতাশীন কেউ এটা নিয়ে ভাববে, কিছু করবে, এ অভাগা মানুষগুলো একটু বাচাঁর স্বপ্ন দেখবে।

অবুঝ মন শুধুই স্বপ্ন দেখে আর কোথাকার সেই কোন হারবারের মাঝেও নিজের বাচাঁর পথ খুজেঁ ফেরে। আর তাইতো নাইমুল বা জীভাই এর মতো ব্লগাররা ব্লগে পোস্ট দিয়ে সে আশার বাতি জ্বালিয়ে রাখে।

শেষ প্যারা নিয়ে একটা কথাই বলবো, কিছু ব্লগার শুধুই ব্লগার নন, তারচেয়েও বেশী কিছু।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৩৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ব্লগার সোহানী ,

খুব লজ্জা পেয়ে গেলাম কিন্তু আপনার মন্তব্যে ।
দেশ থেকে অনেক দূরে থেকে আপনি নিশ্চই অনেক আগ্রহ নিয়ে দেশটা সব হারানোর ব্যাথা পেছনে ফেলে সুখী সুন্দর খবরের কেন্দ্র হয়ে উঠুক বলে আশা করেন । আমিও তেমনি পানির আশায় আকাশে উড়ে বেড়ানো হাজার চাতক পাখির মতো আশায় আশায় ক্যাবল নিউজ, ইন্টারন্যাশনাল নিউজ পোর্টালগুলোর দিকে চোখ রেখে দিনগুলো কাটাই ।অনেক আশা নিয়ে বসে থাকি দেশ নিয়ে ভালো খবরগুলো পাবো বলে ।কিন্তু সব সময়ই হতাশ হতে হয় ।ছোট ছোট ঘটনাগুলো যখন আমরা ঠিকঠাক মতো করতে না পারার কারণে অবিশ্বাস্য সংখ্যায় বড় অঘটনের বলি হয়ে যায় সাধারণ মানুষ তখন খব হতাশ লাগে ।বনানীর মতো জায়গায় এই রকম দুর্ঘটনাতে আশাবাদী হবার শেষ আশাটুকুও যেন নিভে যায় ।সেই কষ্ট থেকেই কিন্তু আমার এই এলিজি ।তার বেশি কিছু নয় ।সেই ব্লগ লেখার শুরু থেকেই হাজার ভুল ভ্রান্তি নিয়েও নিজের লেখায় আপনার দরাজ আনুকূল্য পেয়ে আমি সব সময়ই গর্বিত । কিন্তু আমার সাথে একই ব্রাকেটে প্রিয় ব্লগার জিএস ভাইয়ের নাম উল্লেখ করে আপনি কিন্তু আমাকে ভীষণ লজ্জ্বায় ফেলে দিয়েছেন ।আপনি, জিএস ভাই, খায়রুল ভাই, আলী ভাই আপনারা সব সময়ই আমার কাছে সৃজনশীল ব্লগ লেখার অনুপ্রেরণা। অনেক ভালো থাকবেন ।

২৪| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৬

আনু মোল্লাহ বলেছেন: অনেক খাটা-খটুনি করে যে পোস্টটি দিয়েছেন, তা বেশ ভাল লেগেছে। আগা-গোড়া মনযোগ দিয়ে পড়েছি। অনেক কিছুই জানলাম। অনেক কিছুই ছিল আমার জন্য নতুন।
ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা নেবেন।

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৪৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় আনু মোল্লাহ,
নারে ভাই নিজের কিছু আগ্রহের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে করতেই এই লেখাটা হয়ে গেলো আর আপনাদের সাথে শেয়ার করতেও ইচ্ছে হলো ব্লগে । আলাদা কিছু নয় । মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ ।ভালো থাকুন ।

২৫| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:৪৭

অন্তরা রহমান বলেছেন: প্রথমাংশের বর্ণনা অসাধারণ ও মনোযোগের দাবী রাখে। এরকম লেখাই তো ব্লগে চাই। দুর্দান্ত পোস্ট।

১১ ই এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৬:০৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: অন্তরা রহমান,
আন্তরিক মন্তব্যে অনেক ভালো লাগা আর অনেক ধন্যবাদ।

২৬| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যাবদ আমার সর্বশেষ পোষ্টে একটি মুল্যবান মন্তাব্য রেখে আসার জন্য । পোষ্টটি আরো একটু মডিফাই করার জন্য ড্রাফটে নেয়া হয়েছে বলে সেখানে উত্তর দিতে না পারার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি ।
শুভেচ্ছা রইল

১১ ই এপ্রিল, ২০১৯ ভোর ৬:২৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আলী ভাই,
অনেক ধন্যবাদ আপনার লেখায় আমার কমেন্ট সম্পর্কে জানাবার জন্য। আপনার লেখাটা ড্রাফটে রেখে মডিফাই করে আবার কিন্তু অবশ্যই ব্লগে পোস্ট করবেন। আপনার ওই লেখাটা খুবই ইউনিক। লেখাটা অবশ্যই ব্লগে পোস্টেড্ থাকা দরকার। সদয় মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ নেবেন।

২৭| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:১৮

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধন্যবাদ অনুপ্রেরনামুলক প্রতি উত্তরের জন্য ।
নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা ও তৎসস্ক্রান্ত বিষয়াবলি নিয়ে সহব্লগার বিদ্রোহী ভৃগুর একটি পোষ্টে মন্তব্য করতে গিয়ে আবেগ তারিত হয়ে কিছু কথা বলতে গিয়ে দেখি কথা শুধু বেড়েই যাচ্ছে । তাই মনে হয়েছিল মন্তব্যের পরিধি দৃষ্টিকটুভাবে বড় না করে এ বিষয়ে একটি পৃথক পোষ্ট দিয়ে দেই । সে প্রেক্ষাপটেই পোষ্টটি দেয়া হয়েছিল । তবে ফানাফিল্লাহ ও বাকাবিল্লাহ বিষয়ে পোষ্ট দেয়ার পরে নীজের সাথে নীজেই যুদ্ধে হেরে গেছি । কেবলই মনে হচ্ছিল দুনিয়াধারী বহুবিদ অহেতুক কাজ হতে নীজেই যেখানে বিরত হতে পারছিনা এখনো তখন এ বিষয়ে কোন কথা বলার নৈতিক অধিকার আমি রাখিনা আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এ বিষয়ে আমার নীজেরই জ্ঞানের প্রচুর সীমাবদ্ধতা আছে । তাই পোষ্টের মডিফিকেশনের চাইতে আমার নীজেরই প্রচুর মডিফিকেশন প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হল । ইত্যাকার বিবিধ কারণে পোষ্টটিকে ড্রাফটে নেয়া হয়েছে ।

যাহোক, আপনার এ পোষ্টের প্রসঙ্গে ফিরে আসি । আপনার এই তথ্যবহুল পরিশ্রমী পোষ্টের কথামালা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বকালীন সময়ে এই অপারেশন মালরেরীর গুরুত্ব আনুধাবনের বিষয়ে আমাকে দারুনভাবে আন্দোলিত করেছে । আপনার পোষ্টের লেখা পাঠ কালে এ সংক্রান্ত আরো কিছু লিটারেচার দেখার পর বিষযটির প্রতি আপনার পান্ডিত্বের প্রতি কেবলী শ্রদ্বা বাড়ছে । আপনার লেখার রেশ ধরে এ বিষয়ে যত জানতে চেয়েছি ততই এর সাথে সংযুক্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন আরো প্রাসঙ্গিক ঘটনার কথা জানতে পেরেছি ।

আপনার লেখা হতেই অবশ্য সুন্দরভাবে জানা গেল এর বিস্তারিত পটভূমি, দেখা গেল এর সচিত্র নকশা এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া , জানা গেল এ প্রসঙ্গে উইনস্টন চার্চিলের জারী করা বিখ্যাত মেমোটি সম্পর্কিত কথামালা ও এর সাথে সঙ্গতি রেখে আমাদের দেশের রাস্ট্রনায়ক নায়িকাদের কাঙ্খিত আচরণ ভঙ্গি প্রসঙ্গ কথা ।জানা গেল এর নির্মান প্রস্তুতি , বীচ তথা সৈকত সার্ভে প্রসঙ্গ কথা , এর নির্মান কাজের সাথে্ অতি গোপনীয়তার সাথে বিপুল পরিমান জনবল , সম্পদ ও প্রযুক্তির অভুতপুর্ব ডিপ্লয়মেন্ট ও সমন্বয় সাধনের সুন্দর বিবরণী টি কেবল বিস্ময়ই জাগায় । ১৯৪৪ সনে ঝড়ের কবলে পরার পরে এর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ আবারো সেই যুদ্ধতর কালে সুচারুরুপে চালিয়ে যাওয়া সেও ছিল আরো এক বিস্ময়ের ব্যপার । হারবার উপাদান এবং এর কোড নামগুলি সম্পর্কেও জানা গেল অনেক অজানা কথামালা , মালবেরী "এ" , মালবেরী "বি", কৃত্তিম হারবারের রোডওয়ে ম্যাপ ও চিত্র , যুদ্ধোত্তর বিশ্লেষণ, যুক্তরাজ্যে এর জীবিত অবশিষ্টাংশ সকল বিষয়ই একে একে উঠে এসেছে আপনার তথ্যবহুল লেখাটিতে ।

অপারেশন মালবেরী প্রসঙ্গ কথা আলোচনার রেশ ধরে জানা জানা যায় যে যুক্তরাজ্যকে আক্রমন করার জন্য অশ্ব শক্তি জার্মানী অপারেশন সি লায়ন (Operation Sea Lion) নামে অনুরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু প্রোটোটাইপ জেটি তৈরি করেছিল যার কিছু ধংসাবশেষ ১৯৭৮ পর্যন্ত Alderneyতে দেখা গেছে । হিটলার অবশ্য রাশান ফ্রন্টে মনোনিবেশ করার কারণে Operation Sea Lion স্থগিত রেখে Operation Barbarossa তে বেশী মনযোগ দেয় । আর রাশান ফ্রন্টে তার শোচনীয় পরাজয় তাকে মর্মান্তিক পরনিতির দিকেই নিয়ে যায় ।

এদিকে অপাশেন মালবেরীর কল্যানে ১৯৪৪ সনের ৬ই জুন ( D-Day ) ফ্রাস্স উপকুলে নরমান্ডিতে মিত্র বাহিনীর অবতরন ও আক্রমনের মাধ্যমে হিটলারের চরম পরিনতিই তরান্বিত করে । এ সকল ইতিহাস প্রসঙ্গ সুন্দর ভাবে উঠে এসেছে আপনার লেখাটিতে । তথ্য সমৃদ্ধ লেখাটির জন্য রইল অভিনন্দন সে সাথে এটি গেল প্রিয়তে ।

শুভেচ্ছা রইল


০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৩১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আলী ভাই,
অনেক ভালো লাগা মন্তব্যে।যদিও অনেক লজ্জ্বা লুকাবার জায়গাও খুঁজতে হলো আপনার কিছু মন্তব্যে।আমার নিজের কিছু ব্যস্ততার জন্য অনেক দিন ব্লগে আসা হয়নি একদমই।তাই অনেক দেরি হলো উত্তর দিতে।এই অনিচ্ছাকৃত দেরিতে আশা করছি কিছু ওয়ান করবেন না। আশাকরি শরীর ভালো আছে আপনার এখন। আপনি ভালো থাকলে ব্লগ ভালো থাকে (মন থেকেই কথাটা বললাম
কিন্তু )।

২৮| ১২ ই মে, ২০১৯ দুপুর ১২:২৮

নীল-দর্পণ বলেছেন: ডাগতকাল আমাদের বিল্ডিংয়ের সামনের এপার্টমেন্টের জেনারেটর জ্বলে পুরোএলাকা ধোঁয়ার ভরে যায়। বন্ধ করার পরে আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আম্মে বলছিলাম যদি আগুন লেগেই যেতো তাহলে এপার্টমেন্টের পেছনের আমরা তিন বিল্ডিং এর লোকজন কীভাবে বের হতাম বলো ত!
আম্মা বললেন, "মানুষ ছাদে যেতো। ছাদ তো তালা দেওয়া ভালই হয়েছে নয়ত ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মানুষ মারা যেতো!" কীসের মাঝে বাস করি আমরা বোঝেন, কত নির্মম বিষয় কত সহজেই ভাবতে হয়, ভাবতে পারি, পরিস্থিতি ভাবতে বাধ্যকরে আমাদের!

০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৩৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: অনেক দিন পরে এসেই আবার দেখি সেই একই বিল্ডিঙে আগুন, মৃত্যু নিয়ে একটা লেখা আলোচিত পাতায় রয়েছে ! কিসের মধ্যে যে দেশের মানুষ রয়েছে ভাবতেই খারাপ লাগে । এই অবিশ্বাস্য অদ্যক্ষতার মধ্যেও ভালো আর নিরাপদে থাকুন সেই চাওয়া সব সময়ের ।

২৯| ২৬ শে মে, ২০১৯ সকাল ১১:১৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: ২৭ নং মন্তব্যে আলী ভাই বলেছেনঃ "মনে হচ্ছিল দুনিয়াধারী বহুবিদ অহেতুক কাজ হতে নীজেই যেখানে বিরত হতে পারছিনা এখনো তখন এ বিষয়ে কোন কথা বলার নৈতিক অধিকার আমি রাখিনা আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এ বিষয়ে আমার নীজেরই জ্ঞানের প্রচুর সীমাবদ্ধতা আছে । তাই পোষ্টের মডিফিকেশনের চাইতে আমার নীজেরই প্রচুর মডিফিকেশন প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হল । ইত্যাকার বিবিধ কারণে পোষ্টটিকে ড্রাফটে নেয়া হয়েছে"।
সত্যি, এরকম নির্মোহভাবে আমরা ক'জনই বা নিজেদের চুলচেরা বিচার করতে পারি? এ কথাগুলো পড়ে ডঃ এম এ আলী ভাই এর প্রতি আমার শ্রদ্ধাটা আরও বেড়ে গেল!

০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৩৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খায়রুল ভাই,
আপনি, আলী ভাই ব্লগে আমাদের সবারই অনুপ্রেরণা । আলী ভাইয়ের জন্য শ্রদ্ধা সব সময়ই সেটা আরো বেড়েছে তার মন্তব্যে আপনার সাথে আরো একবার আমিও বলি ।ভালো থাকবেন আর অনেক দেরিতে মন্তব্যের উত্তর দেবার জন্য মাফ চাওয়া থাকলো ।

৩০| ০৫ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৩

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: Salam, we don't hear from you for so long. Are you alright? Just checking. Eid Mubarak! (Sorry for typing in English)

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:৪৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রিম সাবরিনা জাহান সরকার,
খুশি হলাম খুব প্রিয় ব্লগার নিরুদ্দিষ্ট আমাকে খোঁজ করেছেন বলে ।
নিজস্ব কিছু ব্যস্ততার কারণেই ব্লগ ফেরার হবার ব্যাপারটা ঘটলো । অক্টপাসের আট পা ( বা হাত)আছে আর এগুলো দিয়ে সাগরে মানুষকে ঝামেলাও করে জানি কিন্তু ঝামেলারও যে আট পা আছে আর একটা ছাড়ালে আরেকটা দিয়ে জাপ্টে ধরে সেটা একেবারেই জানাছিল না । সেই ঝামেলা ছাড়াতেই এই একযুগ লেগে গেলো । আশাকরি খানিকটা রিলিফ হলাম আর খানিকটা নিয়মিত হবার সুযোগ হলো ব্লগে।

৩১| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:৪৮

মাহের ইসলাম বলেছেন: আপনাকে অনেক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে না, ব্লগ পাড়াতে।

শুভ কামনা রইল, ভালো থাকবেন।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:১৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মাহের ইসলাম,
নানা কারণে ব্লগ ফেরার হতে হয়েছিল ।চেষ্টা করছি একটু নিয়মিত হতে । ভালো থাকুন ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.