নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘প্রাণ সখিরে ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে !’(সুর সংগীত বিষয়বিহীন একটি শোক লেখা )

০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:৫৩



আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাঁশির নিবিড় যোগ আছে। বাংলা সাহিত্যে বাঁশির সুর নিয়ে অনেক কাব্য,গান আছে। সেই মধ্যযুগে যখন বাংলা সাহিত্য পুরোপুরি বিকশিত অবস্থাতেও নেই তখন থেকেই
বাংলা ভাষার বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যে,শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনে কৃষ্ণের বাঁশির সুরে রাধার উন্মুখ হবার প্রসঙ্গ প্রধান উপজীব্য হয়েছে।বাঁশির সুরে আকৃষ্ট হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ,কবি নজরুলসহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান সব সাহিত্যিক। নজরুলের অবিস্বরণীয় উক্তি 'মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য'- কি ভোলা যায়?বংশীধ্বনীর মুগ্ধতা নিয়ে শুধু কবিতাই নয় গানও বাংলা সাহিত্যে অসংখ্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গান -‘আমার একটি কথা বাঁশি জানে,বাঁশিই জানে/ভরে রইল বুকের তলা, কারো কাছে হয়নি বলা/কেবল বলে গেলেম বাঁশির কানে কানে।’বাঁশি এখানে মানুষের ব্যক্তিত্ব !বাঁশির কাছে তাই প্রেমের আকুলতা,ভালোবাসার কথা সব বলা যায় !আমাদের লোকসঙ্গীতে, ভাটিয়ালি গানে বাঁশির সুরে পল্লী বালিকার ভালোবাসার আকুলতার কথা এসেছে বারবার ।আমাদের সিনেমা, আধুনিক গানেও বাঁশির সুরে ভালোবাসার আকুলতার কথা আসে আর সেই গান জনপ্রিয় ও দর্শকধন্যও হয়। পল্লীকবি
জসীমউদ্দীনের কবিতা পড়ে বিখ্যাত ফোকলোর গবেষক ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন একবার মন্তব্য করেছিলেন 'দূরাগত রাখালের বংশীধ্বনীর মতো তোমার কবিতা আমার মনকে আকুল করেছে।তোমার কবিতা পরে আমি কেঁদেছি'(কলেজে পড়া উক্তিটা স্মৃতির থেকে)।খোদা, এখানেও আবার বংশীধ্বনীর মুগ্ধ সুরের উপমায় পল্লী কবির কবিতার প্রশংসা ! যাহোক, জসীমউদ্দীনের কবিতা দেশে কত জন পড়েন আমি জানি না কিন্তু তার,'প্রাণ সখিরে ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে' গানটা একবার আমাদের দেশে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে গেলো (সিনেমার নামটা মনে নেই,সম্ভবত সুগায়িকা মিনা বড়ুয়া গেয়ে ছিলেন গানটা)!বাংলা সাহিত্য বাঁশির সুর সব সময়ই ভালোবাসার মুগ্ধতায় মুড়েই এসেছে পাঠকের কাছে।বাঁশির সেই সুরের সাথে সতর্ক বার্তা বা সাবধানবাণী অথবা আশংকার কোনো ধারণা জড়িত হয়নি খুব বেশি ক্ষেত্রে। যাহোক,বাঁশি,বাঁশির সুর নিয়ে অনেক কথা হলো।আমি কোনো ভাবেই সংগীতজ্ঞ নই বরং সংগীত বিষয়ে বিশেষভাবে অজ্ঞ।তাই আমার এই লেখা অবশ্যই বাঁশির সুর বা 'বংশীধ্বনী' সম্পর্কে নয় I লেখায় শিরোনামে 'বংশী' বাজানোর কথা থাকলেও লেখার বিষয়টা ভিন্ন।

এই লেখা দেশের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার বিষয়ে বংশীধ্বনী বা 'হুইসেলব্লোয়িং' সম্পর্কে। তার আগে প্রাসঙ্গিক একটা ব্যাপারে বলে নেই। আমেরিকান রাজনীতি এখন হুইসেল ব্লোয়ারের বাঁশির সুরে উত্তাল। ট্রাম্পের মতো একজন স্বৈরচারী মনোভাবের রাষ্ট্র প্রধানের শাসনেও,যখন গনতান্ত্রিক তথ্য প্রবাহ মারাত্মক ভাবে বাধাগ্রস্থ আর বিপরীত মতবাদের প্রশাসনিক কর্মচারী কর্মকর্তারা হামলা মামলায়, চাকুরী হারাবার শংকায় বিপর্যস্থ, তখনও দেশের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র অক্ষুন্ন রাখতে কিছু হুইসেলব্লোয়ার নিজের জীবন, চাকুরীর ঝুঁকি নিয়েও প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন।এইতো কিছুদিন আগেই এমনি হয়েছে I সিআইএ -র আন্ডার কভার এক অপারেটিভ ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে টেলিফোন করে সামরিক সাহায্যের বিনিময়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্সিয়াল রেসের ফ্রন্টরানার ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলের (যিনি ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির ডাইরেক্টরাল বোর্ডের মেম্বার ছিলেন ) দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করতে চাপ দিয়েছেন বলে ইন্সপেক্টর জেনারেলের কাছে 'হুইসেল ব্লো' করেছেন। ট্রাম্পের এই অসাংবিধানিক আবদার (Quid pro quo)দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতকে নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলতে পারে বলে হুইসেলব্লোয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেনI ইন্সপেক্টর জেনারেল,যিনি আবার ট্রাম্প এপয়েন্টি,সে'অভিযোগ যাচাই বাছাই করে সেটা নির্ভরযোগ্য বলে মনে হওয়ায় কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক পার্টির মেজরিটি সম্পন্ন ইন্টেলিজেন্স কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে!

হুইসেলব্লোয়ারের এই অভিযোগ নিয়ে প্রবল প্রতাপান্বিত ট্রাম্প খুবই বিপদে আছেন। এটাকেই বলা হচ্ছে তার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় দুঃসময়।এ’ঘটনায় কংগ্রেসে তার ইম্পিচমেন্ট (ক্ষমতা থেকে অপসারণ) ইনকোয়ারি শুরু করেছে আজকে (অক্টবর ৩১)!এখানে বলে রাখি হুইসেলব্লোয়ার হলো সরকারি প্রশাসন,সংগঠনের ভেতরের এমন একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী যিনি জনগণের স্বার্থ বিরোধী যে কোনো পরিকল্পনা বা সক্রিয় কার্যক্রম সম্পর্কে ঘটনার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। হুইসেলব্লোয়ার এমনকি প্রেসিডেন্টের দেশের স্বার্থ বিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কেও উপযুক্ত কতৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারেন ! আশ্চর্যের ব্যাপারটা হলো প্রায় আড়াইশো বছর আগে ১৭৭৭ সালে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে যখন রাজতান্ত্রিক শাসন চলছে ,যখন আমেরিকার সংবিধান কাঠামোও চূড়ান্ত করা হয়নি সেই সময় আমেরিকান কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস সর্বসম্মতভাবে প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'হুইসেলব্লোয়ার প্রটেকশন' আইনের মতো একটি দূরদর্শী আইন প্রণয়ন করেন।দেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র সাত মাস পরে প্রণয়ন করা এ'আইন নানা সংশোধনীসহ বর্তমান আকার পেলেও সব সময়ই এই আইনের লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক দুর্নীতি দমন ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে জবাবদিহিমূলক হিসেবে গড়ে তোলা I এই আইনে হুইসেলব্লোয়ারের নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছে।প্রয়োজনে এমনকি তার পরিচয় না জানাবার বাধ্যবাধকতা আছে। এই এখন যেমন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন হুইসেলব্লোয়ারের পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কংগ্রেস আর সিনেটের অনেক সদস্যই সেটা সংবিধান বিরোধী বলে মতামত প্রকাশ করেছেন।ট্রাম্প নিযুক্ত আমেরিকান ডাইরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কংগ্রেস শুনানিতে বলেছেন এই হুইসেলব্লোয়ারের নিরাপত্তা বিধান করা হবে তার পরিচয় হোয়াইট হাউসকে জানানো হবে না !দেশের স্বার্থ রক্ষায় গণতান্ত্রিক ইনস্টিটিউটগুলো প্রেসিডেন্টের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে পারছে বলেই এতো ভিন্নমতের ধারক বাহক হয়েও আমেরিকা পৃথিবীর অন্যতম শক্তি হয়ে আছে প্রায় একশো বছর ধরে। আমাদের দেশের অবস্থা সেরকম না। খুবই ভিন্ন রকমের।

সাম্প্রতিক ক্যাসিনো কান্ড তার সাথে জড়িত আরো কিছু কান্ড খুব জোরেশোরেই নাড়া দিয়েছে দেশের রাজনীতিতে।ক্যাসিনো কাণ্ডে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে সরকারি অঙ্গসংগঠন যুব লীগের উপ,পাতি ধরণের কিছু নেতাকে । এদের ঘরবাড়ি থেকে (ব্যাংক একাউন্ট থেকে না !) থেকে নগদ মোট ১৭ কোটি টাকা, ১শ’ ৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত,কেজি কেজি সোনা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে ! এই অভিযানগুলো প্রশংসা পেতেই পারতো সাধারণ দিনে । কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপারটা হলো এই ক্যাসিনো অভিযানে যাদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে এরা দেশের দুর্নীতি-চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজির সুপারস্টার পরিচিতির কেউ নয়।তারপরও এই চুনোপুঁটি পাতি তারকাদের কাছে এতো বস্তায় বস্তায় টাকা পাওয়া গেলে সরকারি রাঘব বোয়াল সুপারস্টার তারকাদের পেটে না জানি কী আছে? আমেরিকাকে বলে 'ল্যান্ড অফ অপরচুনিটি'I সুযোগ, সামর্থ আর যোগ্যতা থাকলে এই দেশে যে কেউ নাকি ভাগ্য বদলাতে পারে সহজেই।এই ক্যাসিনো কান্ড দেখে মনে হচ্ছে তলাহীন ঝুড়ি,দরিদ্র,করাপ্ট এই সব খ্যাতি বা অখ্যাতির চেয়ে আমেরিকার মতোই ‘ল্যান্ড অফ অপরচুনিটি' উপাধি অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারেআমাদের দেশের জন্য! টেকনোলজির এই স্বর্ণ যুগেও এইদেশে এখন রূপকথার আলাদিনের দৈত্য ঘরে ঘরে সৌভাগ্যের চেরাগ নিয়ে আসে রূপকথার গল্প গল্পে নয় বাস্তবেই। এই দেশে এখন আঙ্গুল ফুলে শুধুতোকলা গাছ নয় কাদি কাদি কলাসহ কলা গাছ হয়ে যায় সহজেই সামর্থ আর যোগ্যতা না থাকলেও !অনেক আগে মিলন নামের জনৈক মুরগি ব্যবসায়ী 'মুরগি মিলন' নামে আমাদের সরকারের বিরাট নেতা হিসেবে খ্যাত হয়েছিলেন।এই ক্যাসিনো কাণ্ডে ল্যান্ড অফ অপরচুনিটিতে শুনছি 'পলিথিন জাকির'-এর মতো পাতি নেতাদের সুপারস্টারদের ঔজ্জ্বল্যে ঝিকমিক করতে দেখছি ! 'ল্যান্ড অফ অপরচুনিটি' নামে পরিচিত হবার আর বাকি থাকলো কি?ক্যাসিনো কাণ্ডের মতোই প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফর ও সেখানে করা নানা চুক্তি (কাদের সাহেব বলেছেন ওগুলো চুক্তি নয় সমঝোতা !),বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার ঘটনাগুলোতে এতো অস্বচ্ছতা, প্রশাসনের এতো জবাবদিহিতার অভাব !

কিন্তু যে জিনিষটা আমাকে অবাক করে সেটা হলো এই যে চুনোপুটি কুপির আলোগুলো (ক্যাসিনো কাণ্ড,আবরার হত্যার) যখন ক্ষমতার দম্ভে, অবৈধপথে অর্জিত অর্থে ফুলে ফেঁপে পুষ্ট হতে থাকে সরকার দলীয় তারকা খ্যাতিতে তখন কেন হুইসেল ব্লোয়ারের দেখা পাওয়া যায় না আমাদের দেশের ক্ষমতাসীন দল বা প্রশাসনের ভেতর থেকে?এমনতো না যে এরা নেত্রীর বা ক্ষমতাসীন দলের মুখ উজ্জ্বল করছে ! আমাদের র্যাব পরিচালক বেনজির আহমেদ ক্যাসিনো কাণ্ড সম্পর্কে বলেছেন (অক্টবর,৩)প্রধানমন্ত্রীর আদেশে এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলছে! যেন প্রধানমন্ত্রী আদেশ না দিলে এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের কোনো দরকার হতো না !এক নেতার এক দেশ ধরণের ধারণা দিয়েতো আধুনিক কোনো রাষ্ট্র চালানো যায় না। এই যে কুপির আলোগুলো সরকার দলীয় তারকা হয়ে যাচ্ছে আর আলো উত্তাপ শেষে তার পরিণতি যে আলো শূন্য ব্ল্যাকহোল হওয়া সেটা খেয়াল করার সময় মনে হয় সরকার প্রশাসনে কারুরই নেই ! নীরদচন্দ্র চৌধুরী কি আর সাধেই আমাদের বলেছেন আত্মঘাতী বাঙালি !প্রধানমন্ত্রীর যদি জুতার ফিতে লাগানো থেকে চন্ডীপাঠ পর্যন্ত সবই তদারক করতে হয় তাহলে আমাদের পুলিশ, র্যাব, দুদুক হেন তেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজটা কি? আবরার হত্যার আসামিদের বুয়েট হলে তান্ডব চালানোর অভিযোগ নতুন নয় I নিশ্চই বুয়েট প্রশাসন সর্বোচ্চ পর্যায়ে কখনো অভিযোগগুলোর ব্যাপারে সোচ্চার হননি?বুয়েটের একজন শিক্ষকও যদি প্রতিষ্ঠানের সন্মান রক্ষায় হুইসেলব্লোয়ারের রোলটা প্লে করতে পারতেন তাহলে নিশ্চই সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানে দিনে দিনে এ’রকম ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে উঠতে পারতো না। তাতে আবরারেরও মৃত্যু হতো না বা অসংখ্য ছাত্রকে অসহনীয় অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হতো না I দুর্নীতি, প্রশাসনিক অব্যবস্থা দূর করতে একটা সিস্টেম অবশ্যই সক্রিয় রাখতে হবে প্রশাসনে। সে'জন্য হুইসেলব্লোয়ারের মতো আইনগুলোর কথা ভাবতেই হবে। শুধু প্রধানমন্ত্রীর আদেশের আশায় বসে থাকলেতো প্রলয় বন্ধ হবে না।

অনেক কাল আগে আমাদের দেশের সংবিধানে 'ন্যায়পাল'(Ombudsman)বলতে একটা ধারা ছিল যাতে প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুইসেলব্লোয়ারদের সতর্কতা জানাবার একটা সুযোগ ছিল। সেই আইন এখনো আমাদের সংবিধানে আছে কি না বা কতটা সক্রিয় অবস্থায় আছে আমি জানি না । শক্তিশালী সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থা (Parliamentary committee system) একটা গণতান্ত্রিক দেশের প্রশাসনিক অদক্ষতা,দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে সব সময়ই খুব বড় একটা হাতিয়ার । হুইসেল ব্লোয়ারের অভিযোগের সূত্র ধরে আমেরিকার কংগ্রেসের ইন্টেলিজেন্স কমিটি তদন্ত করছে যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে সামরিক সাহায্যের বিনিময়ের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট জো বাইডেনের ছেলের দুর্নীতি তদন্ত করার দাবির মধ্যে দিয়ে ট্রাম্প নিজে রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হবার চেষ্টা করেছেন কিনা আর সেটা আমেরিকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্থ করেছে কিনা!পার্লামেন্টারি কমিটিগুলোর কাজ এ'ভাবেই একটা প্রশাসনের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। আমাদের দেশে প্রশাসনের চেক এন্ড ব্যালেন্স রক্ষায় দরকারি এক সময়ের সক্রিয় সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থা এখন হাসির খোরাক I এবার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে করা চুক্তিগুলো দেশের কতটুকু স্বার্থরক্ষা করবে বা এগুলোর আদৌ কোনো পজিটিভ দিক আছে কি না বা এগুলো স্রেফ ক্ষমতার গদি রক্ষার আক্কেল সেলামি কিনা সেটা কিন্তু কোনো সংসদীয় কমিটি যাচাই করবে না। আমাদের দেশে সরকারের বৈদেশিক চুক্তিগুলো নিয়ে সংসদে কথাতো হয়ই না উপরন্তু এবারের চুক্তিগুলো নিয়ে কিছু বাস্তব আশংকা প্রকাশ করাতে আবরারের মতো মেধাবী ছাত্রকে সরকারের পেটোয়া বাহিনীর হাতে জীবন দিতে হয় ! ইন্সপেক্টর জেনারেলের সাংবিধানিক ধারাটিও আমাদের দেশে হতে পারতো প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবার ক্ষেত্রে একটা অন্যতম হাতিয়ার।কিন্তু দুর্নীতি দমন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকারী প্রতিটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থাকেই মনে হয় আমরা দাফন করে চল্লিশাও করে ফেলেছি সেই কবে (আমেরিকায় ট্রাম্প এপয়েন্টি একজন ইন্সপেক্টর জেনারেল প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেমন করে রুখে দাঁড়িয়েছেন আর আমাদের দেশে কি হচ্ছে ভেবে কি যে হতাশ লাগে!)!

আসলে কোনো সরকার যদি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত না হয় তাহলে এই ধরণের আইনের অনুশীলন করা খুব সহজ না । তা উচ্চপর্যায়ে নেতৃবৃন্দ যতই সৎ হোক না কেন (আমাদের দেশে অবশ্য রাজনীতির সব পর্যায়েই এই সততা খুবই বিরল)।এর জন্য দরকার একক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর না করে বরং 'ন্যায়পাল', শক্তিশালী সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থা,ইন্সপেক্টর জেনারেলের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও পদগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবহীনভাবে কার্যকর রাখার চর্চা করা। স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী ও চেতনাহীন (চেতনাধারীদের কথা অনুযায়ী) কোনো সরকারই নিজেদের প্রশাসনকে জনমুখী রাখতে খুব বেশি কার্যকর পথের কথা ভাবেনি। বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা রক্ষা ও দুর্নীতি দমনে সংবিধানের টিম টিম করে জ্বলতে থাকা সবেধন নীলমনি দু'একটা আইনও দক্ষতার সাথে অকার্যকর করেছে নিজেদের কুশাসন আর অদক্ষতা ঢাকতে (এই একটা কাজে কিন্তু চেতনাধারী আর চেতনাহীনদের মিল বিস্ময়কর, সেটা মানতেই হবে!)। কার্যকর কোনো হুইসেলব্লোয়ার বা সেই ধরণের কোনো সাংবিধানিক আইনের অনুপস্থিতিতে তাই আমাদের ব্যাংক হর্তাকর্তারা নিশ্চিন্তে দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকার মূলধন গায়েব করে ফেললেও তাদের চরিত্র ফুলের মতোই পবিত্র থেকেই যায়, চাকুরী হারাতে হয় না। হুইসেলব্লোর কোনো সুযোগই নেই, গুপ্ত তথ্য সুপ্তই থাকবে জানেন বলেই আমাদের শাসক প্রশাসক, মন্ত্রী,আমলা,নেতা,পাতি নেতারাও হাজার কোটি টাকার কেলেংকারীর এক একজন আলেজান্ডার দ্যা গ্রেট হতে ভীত হননা কখনোই।আমাদের মন্ত্রীরা তাই অবলীলায় বলতে পারেন সরকারের বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থ নয় ছয় হবেই আর সেটা মেনে নিতেও হবে সবাইকে !কিন্তু একজন হুইসেলব্লোয়ারের অভাবেস্টেম লসের নামে এই নয় ছয়ের মধ্য দিয়ে জনগণের অর্থ চুরি ও পাচারের মধ্যে দিয়ে আঙ্গুল ফুলে হওয়া কাদি কাদি কলা ও গাছ দু'টোর পরিচয়ই পুরো অদৃশ্য থেকে যায় জনগণের কাছে !

আমরা শুধু বাঁশির সুরে গান শুনে,বাঁশির সুরের কবিতা পড়ে মুগ্ধ হতেই পছন্দ করি! কিন্তু বাঁশির সুরকে জীবনের যুদ্ধের (প্রশাসনিক ক্ষেত্রে) অপরিহার্য কোনো হাতিয়ার ভাবিনা। উন্নয়ন সুশাসন নিয়ে চেঁচিয়ে গলা ফাটিয়ে ফেললেও আমাদের শাসকগোষ্ঠীর হুইসেলব্লোয়ার নিয়ে কেন এতো অনীহা? সেটা নিয়ে ভেবে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাচ্ছিলাম না তখন কিছু নতুন জিনিস জানলাম। আমাদের দেশে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই শুধু বাঁশ দিয়ে এই বাদ্যযন্ত্র তৈরি হতো বলেই এর নাম বাঁশি হয়েছে।বাঁশির কম পরিচিত একটি নাম 'মুরলি'।এই নতুন তথ্য জানতে পেরে বংশীধ্বনি বা হুইসেলব্লোয়ার সম্পর্কে আমাদের সরকার ও প্রশাসনের অনীহা নিয়ে মাথায় কিছু ভাবনা এলো I অনেক বছর আগে দেশে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া একটা সিনেমা হয়েছিল 'লাঠিয়াল'নামে।সেই সিনেমার গল্পটা ছিল চর দখল নিয়ে গ্রামের অভিজাত শ্রেণীর সাথে চরের অধিবাসী দরিদ্র জনগাষ্ঠীর টিকে থাকার যুদ্ধ নিয়ে।চর দখলের জন্য পাঠানোঅভিজাত শ্রেণীর পাঠানো লাঠিয়াল বাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠি নিয়েই যুদ্ধ করে দরিদ্র জনগণ তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করে । লাঠিয়ালের কাহিনী মনে পড়তেই মনে হলো বাশ থেকে শুধু প্রেম ভালোবাসার সহায়ক কাব্যগাথার সুর লহরী তুলতে বাঁশিই তৈরী হয় না বাশ থেকে লাঠিও তৈরী হয় । আর তা অধিকার রক্ষার হাতিয়ারও হয়ে উঠতে পারে । হুইসেলব্লোয়ারের বাঁশির সুর অধিকারহারা ঘুমন্ত জনগণকে না আবার অধিকার আদায়ে নির্ঘুম আন্দোলনে জাগিয়ে দেয় (গণতন্ত্র, সুষ্ঠু নির্বাচনেই হাবিজাবি দাবি নাকি কেউ কেউ এখনো করে!) ! সেজন্যই কি আমাদের ক্ষতাসীনদের এ ব্যাপারে এতো অনীহা ? নাকি আমাদের সরকার ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে কেউ জানেন গণতন্ত্রের আড়ালে স্বেচ্ছাচারী কায়দায় দেশ শাসনের ইনিংস মুরলি ধরণের আবিষ্কৃত 'দুসরার মতোই কোনো সত্য ও নীতিবোধের 'দুসরা'তে যখন তখন শেষ হয়ে যেতে পারে (ক্রিকেটারদের দাবি দাওয়া,আন্দোলন নিয়ে ইদানিং যে রাজনীতি হচ্ছে!)? তাই নামের সাথে এই সাংঘাতিক সঙ্গতির জন্যই কি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মুরলি মানে বাঁশি ও তার সুর (হুইসেলব্লোয়ার কমপ্লেইন) সম্পর্কে ক্ষমতাসীনদের এতো আশংকা? আপনাদের কি মনে হয়?

সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে হুইসেলব্লোয়ার ধরণের আইন অনুশীলনের জন্য দরকার একটা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা আর তার নিরবিচ্ছিন্ন অনুশীলনের।সেটা আর আমাদের দেশে হলো কোথায় ? আর সেই পদ্ধতির অভাবেই দেশে দেদারসে ব্যাংক লুট, সাম্প্রতিক ক্যাসিনো কান্ড ঘটতে পারে I আর এতো সব কাণ্ডে উন্নয়নের মহাসড়কে চলা দেশেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এখনো 'দিল্লি হনুজ দূর অস্ত'র মতোই অনেক দূরে মনে হয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে, দেশকে উন্নয়নের সড়কে বা মহাসড়কে উঠিয়ে টগবগিয়ে ছুটাতে চাইলে দুর্নীতিমুক্ত একটা প্রশাসন লাগবেই।সেজন্য হুইসেলব্লোয়ার থাকতে হবে। তাকে রক্ষার শক্তিশালী, সাংবিধানিক ও কার্যকর পদ্ধতি থাকতে হবে, তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও দিতে হবে। শুধু প্রেম ভালোবাসাময় বংশীধ্বনীতে বুদ্ হয়ে থাকলে চলবে না।সরকার ও প্রশাসনের (এবং প্রাসঙ্গিক রাজনীতির)সব কাজের চেক এন্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করার মৌলিক সাংবিধানিক ব্যবস্থাগুলো ছাড়াতো দেশ উন্নয়নের সড়কে গতি পাবে না। এগুলো সক্রিয় ও কার্যকর না করতে পারলে আরো প্রশ্নবিদ্ধ বৈদেশিক চুক্তি হবে, ক্যাসিনো কাণ্ডে দৈত্য কাড়ি কাড়ি টাকা বানাবার চেরাগ নিয়ে সম্মানিত নেতৃবৃন্দের বাসায় হাজির হবে, আবরার হত্যার মতো অমানুষিক হত্যাও হবে। বারবার হবে। না চাইলেও হবে। শুধু ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করেতো আবরার হত্যার মতো হত্যা বন্ধ করা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ঠিক করা যাবে না।এরজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকেই শক্তিশালী করতে হবে।বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে রাজনৈতিক প্রভাবহীনভাবে সুষ্ঠু ভাবে কাজ চালাতে পারে সেজন্য প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক অদক্ষতা, সমস্যা, হলগুলোতে রাজনৈতিক বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর অনৈতিক উপস্থিতি সম্পর্কে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ জানবার সুযোগ রাখতে হবে।বংশীধ্বনিতে শুধু ‘প্রাণ সখিরে ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’গানের সুরে ভালোবাসায়,বিরহে তন্ময় হয়ে থাকলে হবে না। বংশীধ্বনীতে
জাতীয় ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কাজের বিরুদ্বে সতর্কতার সুরও তুলতে হবে। আপনারা আমার সাথে দ্বিমত করতেই পারেন কিন্তু আমি জানি দেশের দুর্নীতি দূর করা বা স্বচ্ছ একটা সরকার গঠনের কাজটা খুব কঠিন কোনো কাজ না । এরশাদের পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন সরকারসহ আরো তত্বাবধায়ক সরকারের কাজেই আমরা সেটা দেখেছি । এর জন্য খুব বড় মাল্টি বিলিয়ন ডলার পদ্মা সেতু বানাবার মতো প্রজেক্টের দরকার নেই ।শুধু দরকার একটু দেশপ্রেম, দেশের জন্য একটু নিঃস্বার্থ স্যাক্রিফাইস করার মানসিকতা । কথা হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাময় বা চেতনাহীন কোনো সরকারের সেই দেশপ্রেম বা নিঃস্বার্থ স্যাক্রিফাইসের ইচ্ছে আছে কিনা ।

মন্তব্য ৩০ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৩০) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: একটা পোষ্ট অনেক গুলো বিষয় নিয়ে আলোচনার কি দরকার আছে??

০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নূর,

মন্তব্যে ধন্যবাদ । আপনার কথাটা হয়তো ঠিক ।অনেকগুলো বিষয় একটা লেখায় আনা উচিত নয় ।
কিন্তু আমার এই লেখার থিমটা কিন্তু একটাই ।দেশের শাসন প্রশাসনে দুর্নীতি/অস্বচ্ছতা কমাবার উপায়গুলো নিয়েই কিন্তু লেখাটা । অনেকগুলো একই ধরণের ফুল, কিন্তু মালা একটাই --সেরকম করে ভাবা যায় না লেখাটাকে ?

২| ০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:১৮

মা.হাসান বলেছেন: নাইমুল ভাই ,অনেকদিন পর। দেশ সেভাবেই চলছে, যেভাবে চলার জন্য জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন ।

সরকারি চাকরিতে কিছু সাংবিধানিক পদ আছে। যেমন কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল। ওনার অধীনস্থ সকল কর্মকর্তার বদলির বিষয়টা উনি ই নিয়ন্ত্রণ করেন। নিয়োগ এবং পদোন্নতি বিষয়টা ওনার হাতে থাকলে ভাল হত, তবে সেরকম মেরুদণ্ড ওয়ালা কেউ ঐপদে আসেনি বলে এখনো সে ব্যবস্থা হয়নি। হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বদলির বিষয় টা (কে কোন বেঞ্চ এ বসবেন) সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। জজকোর্টের বিষয়টা নিয়ে একটু টানাটানি ছিল। খুব ভালো হতো কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল এর মত পুলিশের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির পদটাও যদি সাংবিধানিক করা হতো এবং পুলিশের বদলির বিষয়টা উনি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন । প্রচুর সত্ কর্মকর্তা আছেন। কিন্তু এখন কপালী আর গোপালী দেরই দিন। কারণ বুঝতে সোলেমানি খাবনামা দেখতে হয় না।

০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মা. হাসান,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য । খুবই জরুরি একটা ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন লেখার । ইন্স্পেক্টর জেনারেল পজিশনটা আমেরিকার । বাংলাদেশে সে রকম কোনো সাংবিধানিক পজিশন আছে কিনা জানিনা কিন্তু বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দিকগুলোর চেক এন্ড ব্যালেন্স ঠিক রাখা/দেখাশোনার জন্য 'কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল' বলে একটা সাংবিধানিক পজিশন আছে। আমাদের দেশের সরকারি সংগঠনগুলোতে হলের্ বালিশ কান্ড ,পর্দা কান্ডর (পঁয়ত্রিশ লেখা একটা বা একটা রুমের পর্দা কেনা হয়েছে বোধহয় ইদানিং কোনো হসপিটালে ) মতো দুর্নীতিগুলো থামাতে আর এদের কাজে একটা চেক এন্ড ব্যালেন্স ক্রিয়েট করতে এই পদটা খুবই কার্যকর হতে পারতো ।কিন্তু এই সাংবিধানিক পদটাকেও আমাদের দেশে সব সরকারই অসাংবিধানিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে । আর তাতে আসল কাজের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক দুর্নীতিগুলোকেই উৎসাহিত করা হয়েছে । অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে ।

৩| ০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৫০

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: বাঁশি শুনে আর কাজ নাই
সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি

.....

এই ভয়েই নাকি স্বার্থপরতায়, সব স্পিকটি নট হয়ে আত্মঘাতের উৎসবে আত্মহননের শেষ দৃশ্যের অপেক্ষায় যেন থিয়েটারে বসে! নি:শেষৈ প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই চেতনায় চেতনার বটিকা সেবনে ইয়াবার চেয়ে বেশি বেহুশি হালে বুদ হয়ে আছে। তোষামুদি আর তৈল প্রয়োগের অস্বাভাবিক তোরজোরের মাঝে হুইশেল বাজানো দূরে থাক মাথায়ইতো আনে না।
অদ্ভূত শুধু নয় অস্বাভাবিকও বটে। সাধারণ রাজনীতিবিদের কথা বাদ, ধর্মীয় গুরু, সো কলড সুশীল সমাজ!
বিবেকবান সুস্থ বোধ বুদ্ধির মানুষ! সবাই কেমন স্থবির হয়ে আছে।

দারুন হুইশেল ব্লোয়িংয়ের সাথে দারুন শুভ প্রত্যাবর্তনের শুভেচ্ছা :)

নিষিদ্ধ সময়ে মিস করেছি অনেক। ;)

০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু,

প্রিয় ব্লগার, আমাদের দেশের সরকার, প্রশাসন আর রাজনীতির জীবনের সার সত্যিটাই যেন সবাইকে মঈন করিয়ে দিলেন গানের দুই লাইনেই । এই গানটার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম । এটা মনে পড়লেতো এই লেখাই আর লিখতাম না ।পন্ডশ্রম হয়েছে বুঝতে পারছি । আর হ্যা, সত্যিই কেমন যেন এক অদ্ভুত নষ্ট সময়ের ছবি হয়ে স্থবির হয়ে গেছে দেশ । কিন্তু সব কিছুর পরেও কেন যেন এই অসীম স্থবিরতার অচলায়তন ভেঙে নতুন আলোতে সামনের দিনগুলো ভরে উঠবে সেই আশা করে থাকি । অনেক ধন্যবাদ নেবেন মন্তব্যের জন্য ।

৪| ০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৩৮

ওমেরা বলেছেন: আসসালামুআলাইকুম ভাপু । ভাপু লিখাটা আগে পড়ছি আর আপনার পোষ্ট দেখে খুশীতে এখন লাইক দিয়ে গেলাম কমেন্ট পরে করব ।

ভাপু অনেক অনেক ধন্যবাদ ব্লগে ফিরে আসার জন্য ।

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ওমেরা,
আচ্ছা আমি তাহলে পরের কমেন্টটার জন্য আগেই একটা থ্যাংকস বলি । পরের অসম্ভব সুন্দর কমেন্টটা নিয়ে পরে আমার কমেন্ট করবো ।আর এই, ব্লগে ফিরে আসা মানে কি? চির বিদায় নিয়ে যাইনিতো কোথাও ।কিছু ব্যস্ততার জন্য সময় দিতে পারছিলাম না। আবারো ব্যস্ততায় কখনো টুপ্ করে ডুব দিতে হবে হয়তো । আসা যাওয়া নিয়েইতো জীবন তাই না ? ব্লগেও সেই ভাবেই চলবে ।
আসন্ন শীতে ভালো থাকুন ।

৫| ০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৭

আখেনাটেন বলেছেন: কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপারটা হলো এই ক্যাসিনো অভিযানে যাদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে এরা দেশের দুর্নীতি-চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজির সুপারস্টার পরিচিতির কেউ নয়।তারপরও এই চুনোপুঁটি পাতি তারকাদের কাছে এতো বস্তায় বস্তায় টাকা পাওয়া গেলে সরকারি রাঘব বোয়াল সুপারস্টার তারকাদের পেটে না জানি কী আছে? --- কবি এখানেই নিরব।

এরাও ধরা পড়ত না। বাধ্য হয়েই ধরতে হচ্ছে। কালোবাজারি আর দু্র্নীতির মচ্ছব ও টাকাপাচার ব্যাংকগুলোকে তারল্য সংকটে ফেলে দিয়েছে। আমানতের বেগতিক অবস্থায় অন্য ব্যাংক থেকে কল মানির মাধ্যমেও আর টাকা পাচ্ছে না এতটাই খারাপ অবস্থা। ফলে রেকর্ড ভঙ্গ করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উচ্চসুদে টাকা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সরকারকে হাজার হাজার কোটি সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের মাধ্যমে নন-সাসটেইনেবল উন্নয়ন ঢোল পিটাতে হচ্ছে গদি টিকে রাখার জন্য। যে কাজ ১০ কোটিতে সম্ভব সেটা করা হচ্ছে ৫০ কোটিতে। এই ক্রমপুঞ্জিভূত অব্যবস্থাপনায় বাধ্য করছে নিম্নস্তরে শুদ্ধি অভিযানের। উপায় নাই যে গোলাম হোসেন।

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মহামান্য ফ্যারাও,
আপনি একটা দুর্মুখ (কিডিং) ! জাতীয় চেতনায় এতো দুস্ক দিলেন ?
হ্যা এটাই হয়তো এই চুনোপুটি ধরার কারন আপনি যেগুলো বললেন ।
সেটাই আমি ভাবি কিঅবস্থা আমাদের !
আইসিইউতে নেবার আগে পর্যন্ত ভালো থাকার কথা আর ভাবতে পারেনা আমাদের নেতৃস্থানীয় কর্তা ব্যক্তিরা।
গ্রীসের মতো না পুরো দেশটা ব্যাংকরাপ্ট হয়ে পরে এই অসীম দুর্নীতির কারণে সেই ভয়টাই হয় মাঝে মাঝে ।
আমার লেখার চমৎকার একটা ব্যাকগ্রাউন্ড হলো আপনার মন্তব্য ।
অনেক কিছু লেখায় বলা হয়নি আকার আকৃতি ছোট রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে ।
আপনার মন্তব্য সেই অভাবটা পূরণ করেছে । অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে ।

৬| ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:২০

ওমেরা বলেছেন: ভাপু দেশ নিয়ে দেশের সমস্যা গুলো নিয়ে আপনাদের মত এত ভাবনা আমার আসে না, তাই আপনাদের থেকে বেদনা , কষ্ট আফসোসও একটু কম, তার পরও দেশের কিছু কিছু ঘটনাতে মনের অজান্তেই কষ্ট পাই। ভাবতে অবাক লাগে মানুষ এত খারাপ এত নৈতিকতাহীন হয় কি ভাবে!!
তবু আমার বিশ্বাস আমাদের দেশে এখনো ভালো মানুষের সংখ্যা বেশী . অল্প খারাপ মানুষ , এরা খুব খারাপ এদের নীতি নৈতিকতা ,দায়বদ্ধতা কোন কিছুরই ধার ধারে না , এরা প্রশাসনের ভিতরে , বাহিরে , উচ্চপদে, নিম্নপদে সব জায়গায়ই ছড়িয়ে ছিটিয়ে জরিয়ে আছে এরাই দেশটা রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে ।
ভাপু আমাদের শুধু হুইসেল ব্লোয়ার হলে হবে না তাই আমাদের দরকার একজন হ্যামিওলনের বাশিঁওয়ালা, যার বাঁশীর সুরে সকল স্থানের ছড়িয়ে,ছিটিয়ে, জরিয়ে থাকা খারাপ লোকগুলো মোহাবিস্ট হয়ে বঙ্গোপসাগরে ঝপিয়ে পরবে । এর পর বাঁশির সুরটা পরিবর্তন করে নিতে হবে সেই সুরে সবাই নতুন করে , নতুন ভাবে ঝাপিয়ে পরবে দেশ গড়ার কাজে , তাহলেই সত্যি গড়ে উঠবে সোনার বাংলাদেশ।
এমন যদি হত , কেমন মজা হত ?

ভাপু অনেক ধন্যবাদ। আশা করি এখন থেকে ব্লগে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করবেন ।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:৫৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ওমেরা,

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব সুন্দর একটা মন্তব্য করেছেন ।
হ্যা, নৈতিকতার ক্ষয়টা আমাদের জন্য সবচেয়ে ভয়ের হয়ে দাঁড়িয়েছে । দেশের ওপরের দিকের মানুষদের নৈতিকতা নষ্ট হয়ে গেলে সেটা টিকেলডাউন তত্ত্বের-র মতো চুইয়ে নিচের দিকে যেতে থাকে।নিচের দিক কখনো ঠিক হবে না যদি শাসন প্রশাসনের ওপরের দিকের মানুষ অসৎ হয়ে যায়। আমরা সেই ভয়ংকর অবস্থাতেই আছি । সেটাই খারাপ লাগে। ঠগ বাছতে গা উজাড় হবার অবস্থা আমাদের। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই ভালোই ।সেটা সাধারণ ভাবে খুবই সত্যি । কিন্তু যখন এই সাধারণ ভালো মানুষগুলোর জন্য কোনো ইন্সেন্টিভ থাকেনা তখন তারাও একসময় নিরুৎসাহিত হয়ে অসততার দিকে পা বাড়ায় । আমাদের দেবার সব কিছু তৈরী হলো তোষামুদে, জ্বি হুজুর গোষ্ঠীর জন্য । আর এই গ্রূপটাই দেশ রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে আপনি যেমন বলেছেন ।

আপন হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার কথা বলেছেন দেখে অবাক হলাম । ইউ রেড মাই মাইন্ড । আমি লেখাটাতে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার কথা নিয়ে লিখেছিলাম । কিন্তু পরে লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে দেখে বাদ দিয়েছি অন্য আরো কিছু বিষয়সহ । হ্যা, আমাদের দক্ষিণের কোনো পাহাড় থেকে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার মতো কেউ একজন এসে দেশের দুর্নীতিবাজ, অসৎ সরকারি কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতা ও তাদের পেছনে স্লোগান দেওয়া অন্ধ ভক্তগুলোকে নিয়ে কোনো পাহাড়ের আড়ালে চলে গেলে মনে হয় খারাপ হতো না ।কিন্তু রূপকথার সেই চাওয়াটাতো আর আমাদের পাওয়া হয়ে ওঠে না ।তাই কষ্ট লাগে । সেই কষ্ট থেকেই এই লেখা।আর সেই লেখা পরে আপনার অসম্ভব সুন্দর মন্তব্যে আবার ধন্যবাদ ।হ্যা,চেষ্টা করবো নিজের ঝামেলাগুলোর মধ্যেও নিয়মিত থাকতে ।এর বেশি কিছু এখন বললে সেটা বেশি কমিট করা হয়ে যাবে ।

বৰফ ঢাকা শীতে একটা উষ্ণ ধন্যবাদ নিন লেখাটা পড়া আর চমৎকার মন্তব্যের জন্য ।

৭| ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,




এতোদিন পরে তো দেখি বংশী বাজিয়ে ব্লগের কদম্বতলে এক প্রাণসখা হাজির!
শুধু বংশীই বাজালেন না তিনি, সাথে হুইসেলও বাজিয়ে গেলেন।

এমন হুইসেল তো আকছারই বাজে আকাশে বাতাশে, আমরাই বাজাই কিন্তু তাতে তো ব্লোয়িংয়ের কাজ কিছু হয়না শুধু "..........ফ্লোয়িং" এর কাজটা আরো জোরদার হয় ফাঁকফোঁকড় দিয়ে। ফ্লোয়িংয়ের জেরেই কদম্বফুলের মতো ঝরে গিয়ে ন্যাড়া হয় দেশটা। সে দেশেই থাকি আমরা, ট্রাম্পের দেশে নয়।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:১৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জি এস ভাই,

হাহাহা ---আপনার মন্তব্য একটু সংশোধন করা দরকারতো ।
কোথায় আর বংশীধ্বনী বা হুইসেল ব্লো করতে পারলাম ! আপনিইতো বললেন এমন হুইসেল তো আকছারই বাজে আকাশে বাতাশে, আমরাই বাজাই কিন্তু তাতে তো ব্লোয়িংয়ের কাজ কিছু হয়না ... ভাঙা বাঁশির সুরে কি আর সাত মন তেল পুড়িয়ে রাধা নাচে ? না ভাঙা হুইসেল ব্লোতে কারো ঘুম ভাঙে আর কেউ সতর্ক হয় ? কিছুই হয়না।আমার লেখাতেও কিছু হবে না জানি তবুও হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাই ! জানিনা কেন জাগাই? শুধু জানি মনের কোনায় কোনায় দেশ নিয়ে কিছু কষ্ট শুধুই জমে থাকে পাথর হয়ে, 'ফ্লো' করে ধুলোর মতো উড়ে যায়না কখনো কোনো দূরদেশে ।

অনেক ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্যে !!

৮| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

মিথী_মারজান বলেছেন: কেউ কেউ কলম দিয়ে লিখে, কেউ বা টাইপ অথবা রঙ তুলিতে, কিন্তু প্রিয় দেশ নিয়ে কিছু লেখার সময় আপনি সবসময় অভিমান আর হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থেকে লিখে থাকেন আর তাই এত বেশি হৃদয়গ্রাহী হয় আপনার প্রতিটি লেখা।
লেখাটি পড়ে অভিমান, আফসোস যেমন হল ঠিক ততটাই আশা নিয়ে অপেক্ষায় রইলাম দুর্নীতিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এক বাংলাদেশের আশায়।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নদীতো আত্মীয়,
খুবই খুশি হলাম আপানার মন্তব্যটা দেখে ।
হাহাহা !আমাকে অনেক বড় দেশপ্রেমিক বানিয়ে দিলেনতো মন্তব্যে ! না না অতো দেশ প্রেমিক বা বোদ্ধা টাইপ মানুষ না আমি ।
কিন্তু দেশ শাসনের সামান্য ছোট ছোট ব্যাপারগুলো যখন দেশের সরকার আর প্রশাসনের জন্য ঠিক থাকেনা, হয়ে যায় অন্ত্যহীন যন্ত্রণার কাৰণ তখন খুব খারাপ লাগে । সেই খারাপ লাগার থেকেই লেখা । নিরস, দীর্ঘ একটা গদ্য রচনা পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।

৯| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৩৩

শাহিন-৯৯ বলেছেন:




আপনাকে মনে মনে অনেক বার ব্লগে খুঁজেছিলাম, অভিমান করে গেলেন মাঝে এক দুই দিন আসলেন তারপর অদৃশ্য হয়ে রইলেন অনেকদিন। একবার চিন্তা করেছিলাম অনুসন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট করি। তা আর করা হয়নি। আপনাকে দেখে খুব ভাল লাগছে।

১০ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: শাহিন-৯৯,

হাহাহা ---কি আর লিখি, হাবিজাবিইতো সব লেখাজোখা । তারপরেও আপনার মতো কারো কারো আন্তরিক মন্তব্যে মনে হয় ক্যালিফোর্নিয়ার রেড উড ফরেস্টের সেই ওক গাছের মতো পাঁচ হাজার বছর বেঁচে থাকি ব্লগে বিরামহীন লগ ইনে। কিন্তু নানা ঝামেলা ব্যস্ততায় আর সেটা হয়ে উঠে না । অনেক ধন্যবাদ আন্তরিক মন্তব্যে ।

১০| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৩

শাহিন-৯৯ বলেছেন:



আপনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমির দান বিষয়ক একটি লেখা পড়েছিলাম, লেখাটি আমার খুব ভাল লেগেছিল। বলতে পারেন সেদিন থেকে মোটামুটি আপনার লেখার মানের উপর ধারণা হয়ে গেছে। আমি নিজে ভাল লিখতে পারিনা অত যোগ্যতা আমার নেই তবে আমি খুব ভাল পাঠক, কলেজ জীবনেই অন্তত শ'খানিক উপন্যাস পড়ে শেষ করেছিলাম। এখনো প্রতিদিন পড়ি অনলাইনে। বুঝতে পারছেন আমার লেখক চিনতে খুব ভুল হয় না। (নিজের ঢোল কিছুটা নিজে পেটালাম, হিহিহি)

লিখতে থাকুন, সাথে আছি
শুভ কামনা।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:১৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: শাহিন-৯৯,
আমার বেশ আগের একটা লেখা এখনো মনে রেখেছেন বলে আশ্চর্য লাগছে ।
ভালো লাগছে সেটাও অস্বীকার করছি না কিন্তু ।
ভালো থাকবেন ।

১১| ১১ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১২

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: ভিন্ন মাত্রার লেখা আপনার। ভালো লাগলো বিষয়বস্তু।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:০১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: স্বপ্নবাজ সৌরভ,

অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়ার জন্য আর আন্তরিক মন্তব্যে ।

১২| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৯

জুন বলেছেন: আমি এসব নিয়ে ভাবতে চাই না, আমি এসব নিয়ে ভাবতে চাই না মলাসইলমুনা । শুধু মনে হয় আমার সোনার বাংলা কি এমন দুর্নীতির পাকে ডুবে মরবে!! যখন রাস্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন ও বলে আগের সরকার যখন করেছে তখন তো কিছু বলেন নাই এখন চিল্লাচিল্লি করছেন কেন? উন্নয়ন করতে গেলে এমন টাকা পয়সা মানুষের হবেই উচু জায়গা থেকে যখন বৈধতা আসে তখন কার কি বলার আছে বলুন!
ভালো থাকুন সবসময় এই প্রত্যাশা রইলো।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: হ্যা, মনে হয় দেশ নিয়ে বেশি কিছু না ভাবাই ভালো ।
একটা নষ্ট সময় পার করছি মনে হয় আমরা । এই সময়ে সব কিছুই নষ্ট । তবুও কি যেন ভাবি দেশ নিয়ে ---কেন যে ভাবি !
ভালো থাকুন ।

১৩| ২০ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৫৪

রূপম রিজওয়ান বলেছেন: "প্রধানমন্ত্রীর যদি জুতার ফিতে লাগানো থেকে চন্ডীপাঠ পর্যন্ত সবই তদারক করতে হয় তাহলে আমাদের পুলিশ, র‍্যাব, দুদক হেন তেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজটা কি?"
যথার্থই ঠিক!মস্তিষ্কের কর্পাস ক্যালোসামকে সক্রিয় হতে হবে ঠিক;কিন্ত প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রে সমন্বয় না থাকলে কিছুতেই কিছু হবে না।

বহুমাত্রিক কন্টেন্ট।ভালো লাগলো খুব।

২০ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:০১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রূপম রিজওয়ান
হাহাহা ---। আপনার মন্তব্যটাও খুব ঠিক এবং চমৎকার !
মন্তব্যের জন্য একটা আন্তরিক ধন্যবাদ নিন আর অনেক ভালো থাকুন ।

১৪| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৭:০৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার এ পোস্টটা আগেই পড়েছিলাম, পড়ে তখন 'লাইক'ও দিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তূ কোন কারণে হয়তো মন্তব্য করা হয়নি। আজ আবারও পড়লাম। আবারও মুগ্ধ হ'লাম। আবারও 'লাইক' দিতে গিয়ে দেখি সেটা আর সিস্টেম নিচ্ছেনা, কারণ আগেই একবার 'লাইক' দিয়ে গিয়েছিলাম।
প্রায় আড়াই শ' বছর আগে, স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র সাত মাস পরে আমেরিকা যা করতে পেরেছিল, আমরা স্বাধীনতা লাভের ৪৯ বছর পরেও আজ পর্যন্ত তা করতে পারিনি, অথচ এটা করার ভীষণ প্রয়োজন ছিল। "হুইসেলব্লোয়ার প্রটেকশন" আইন থাকলে আমাদের দেশে দুর্নীতি চারাগাছ অবস্থায়ই উৎপাটন করা যেত, সেটা মহীরুহে পরিণত হতে পারতো না।
বিষফোঁড়ার পুঁজ সময় থাকতেই গলিয়ে বের করতে হয়। নইলে বেশ বড় ধরনের সার্জারির প্রয়োজন হয়। যত দেরী হবে, তত ভয়ঙ্কর হবে সে অপারেশন। অথবা রোগীর নির্ঘাত মৃত্যু।
দুর্নীতি ও স্বৈরাচার আমাদের সমাজের বিষফোঁড়া।

০১ লা মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খায়রুল ভাই,

আশাকরি ভালো আছেন অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণে।খুবই খারাপ লাগছে আপনার মন্তব্যের উত্তর এতো দিন দেরি করে দিতে হচ্ছে বলে। নানা ঝামেলায় আর ব্লগে লগ ইন-ই করা হয়নি গত দু'মাস। আপনার মন্তব্য সব সময়ই খুব অনুপ্রেরণার।এই লেখার মন্তব্যেও সেই ভালো লাগায় ভাসলাম আপনার মন্তব্য পেয়ে । খুব সত্যি বলেছেন ,"বিষফোঁড়ার পুঁজ সময় থাকতেই গলিয়ে বের করতে হয়। নইলে বেশ বড় ধরনের সার্জারির প্রয়োজন হয়। যত দেরী হবে, তত ভয়ঙ্কর হবে সে অপারেশন। অথবা রোগীর নির্ঘাত মৃত্যু।দুর্নীতি ও স্বৈরাচার আমাদের সমাজের বিষফোঁড়া।" সমস্যাটা ঠিক এটাই কিন্তু আমাদের আইরোনি হলো যে আমরা যতই উন্নয়নের কথা বলি না কেন আসলে আমাদের নিজেদের সমস্যাটা সাড়িয়ে তুলবার কোনো সার্জনই আমাদের দেশে নেই আসলে ।তাই অনেক সুযোগ সুবিধা থাকলেও রোগ সাড়ছে না !

যাক,ভালো থাকুন এই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সময়ে । ভালো করে জার্নি শেষ করে দেশে ফিরুন সেই কামনা করছি ।

১৫| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৭:৪৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: প্রথম প্রতিমন্তব্যটা এবং দ্বিতীয় মন্তব্যটা চমৎকার হয়েছে। আরও কিছু ভাললাগা মন্তব্যঃ ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৩।
বিদ্রোহী ভৃগু ঠিকই বলেছেন, এদেশের রাজনীতিকদেরকে তো আমরা চিনি। এরা পচনশীল। নিম্নস্তরেই এরা পচনরোগে আক্রান্ত হয়, ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে করতে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। কিন্তু আমাদের তথাকথিত 'সুশীল সমাজ' এর তো এমন 'স্পিকটি নট' হবার কথা ছিলনা। তাদের মধ্য থেকেই তো একাধিক হুইসেল ব্লোয়ারের আবির্ভাব ঘটার কথা ছিল।
কবি এখানেই নিরব - এই এক কথাতেই আখেনাটেন সব বুঝিয়ে দিয়েছেন। তার পরের কথাগুলো রোগের প্যাথলজিকাল বিশ্লেষণ।

০১ লা মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খায়রুল ভাই,
অনেক অনেক ধন্যবাদ এই মন্তব্যের জন্য । জ্বি, বিদ্রোহীভৃগু আর আখেনাটেনের মন্তব্যের সাথে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই । হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মতোই সত্যি তাদের দুজনের মন্তব্য । ভালো থাকুন ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.