নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিউমেরোভূলজি (নিউমেরোলজির ভুল) - একটি রম্য

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪১



প্রারম্ভিকা
নিম্নোক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড লিটারেচারগুলো পড়ার অনুরোধের ঢেকি গিলতে পারলে এই লেখার শানে নুযুল, চরিত্র, চালচিত্রসহ অনেক প্রশ্নের তাৎক্ষণিক সমাধান আশা করা যায়:
১.নিউমেরোলজি
২.ডুভূলজি (ডুডুলজির ভুল) -একটি রম্য
৩.ছোটো আঁকা ছোট লেখা, মনের ভিতর বাইরে যায় দেখা : ডুডুলজি

এক.
রকিবুলের সাথে সম্পর্ক তখনও পারমাণবিক হামলায় ভস্মীভূত পর্যায়ে । হিরোশিমা কান্ডে আমার মন ধ্বংসস্তুপে পরিণত করার দায়ে মনেরবাগ আদালতে (নুরেমবার্গ আদালতের মতোই কঠিন) রকিবুল তখনও অভিযুক্ত ।ওকে দেখলেই আমি মুখ ফিরিয়ে নেই।আমার গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে সেও আর সাহস করে না আমার সাথে এগিয়ে এসে কথা বলতে।এমন করেই চলছিল । তাই বিনা নোটিশে আমার ঘরে রকিবুলের উপস্থিতি দেখে বিস্মিত হলাম । কড়া কিছু বলবো ভাবছি তখনি রকিবুল বলে উঠলো:
-‘রাজা ভাই, আমারে লুকাতে পারবে না। হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’ টাইপ যা হইতেছে তার সব আমি জানি ফালাইছি’।
-‘কি জানি ফালাইছিস ? আমি তখনো বিস্মিত’ I
-‘আমারে বলো নাই I আমি মাইন্ড কইরছি কিন্তুক? ডুবি ডুবি জল খাওয়া আর চৈইলত ন'।
-‘ডুবি ডুবি জল কে খাচ্ছে ? ঠান্ডা লেগে জল পানি কিছুই খেতে পারছিনা ভালো করে কয়েক দিন ।ডুবি ডুবি জল খাবো কি করে’ ?
-‘রাজা ভাই আমারে অতো বোকা মনে করো ক্যান’?
-‘কি বলছিস তোকে বোকা ভাববো ! তুইতো ডুভূলজি বিশারদ বিরাট পন্ডিত ’, আমি রাগ সামলে বলি ।
-‘তোমার ফেসবুক নক করি জানি ফালাইছি মুগ্ধতা আপুর কথা’।
এতক্ষনে বুঝলাম এতদিন পর আমার বাসায় আসায় গূঢ় উদ্দেশ্য I আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড মুগ্ধতার সাথে ইদানিং অনেক কথা হয় ফেসবুকে সেগুলোই মনে হয় দেখেছে ।আর অভ্যেসমতো সেই ফেসবুক তিলকে শুধু তাল না তিমি- একেবারে নীল তিমি বানিয়ে ফেলেছে ! আমি বলি:
- 'ওর কথা কি বলবি ! ওতো আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড।ওরকম বন্ধুতো ফেসবুকে হয় সবার'।
- ‘আমাদের মুগ্ধতা আপুতো খুবই মানবিক, অনুভূতিশীল, আদর্শবাদী ও সহানুভূতিশীল’, রকিবুল বলে ।
-‘ফেসবুকেতো তার ফুল পাখি আঁকা কোন ডুডুলতো দেখলাম না।তুই বুঝলি কি করে’, চোখ গরম করে তাকালাম ওর দিকে ।
-‘আমি জানি’,বলেই দেখি মুখ নিচু করে হাসছে ও । যেন আমার গোপন কথা জেনে ফেলে খুবই লজ্জ্বিত !
-‘হাসছিস কেন ? মুচকি মুচকি হাসির কি হলো’ ?
-‘মানে নাম থিককা বুইঝ্তে পারতেছতো না ? খুবই লাভিং টাইপ । লাস্ট পোস্টের, সাদা রাজ্হাঁস, লাল
আপেলের ফটো দেখিও কিছু বুঝ নাই? ওইগুলা হইলো গিয়া লাভ সাইন । ফেবুকের স্ট্যাটাস দেখিতো মনে
হয় তোমারে খুবই ভালো পায়’।
-আবার তুই মলা বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলছিস ? গতবারের ডুভূলজির পরেও ! মাইরি, তোকে কিন্তু এখন বাসা থেকে বের করে দেব। সোজা বহিস্কার ।
-‘রাজা ভাই রাগ করো ক্যান ? আমি এইবার ডুডুলজির কথা বলি নাই ।এইবার আমি যা বলতেছি তার সবই ডাইরেক্ট বিজ্ঞান’।
-‘ডাইরেক্ট বিজ্ঞান’ !
- ‘হ, পিওর সাইন্স । এইবার আমি বলতেছি ডেসটিনি নাম্বার বা এক্সপ্রেশন নাম্বারের কথা! পিথাগোরিয়ান ম্যাথমেটিক্স। আমি বলতেছি গিয়া নিউমেরোলজির কথা’।
-‘নিউমেরোলজি ! মুগ্ধতা খুবই মানবিক অনুভূতিশীল । আদর্শবাদী ও সহানুভূতিশীল’ এইগুলো সব বিজ্ঞান, অংকের কথা’! ও এগুলো তাহলে শিখেছিস ব্যাটা মলার কাছ থেকে ? যা বহিষ্কার হ', ফুজিয়ামার লাভার মতো ছিটকে ওঠা পুরোনো ব্যাথা সামলাতে না পেরে তীব্র রাগের সাথে আমি বলি।
-‘রাজা ভাই,পন্ডিত মলাসইলমুইনার নিউমেরোলজির এই সাইন্টিফিক পেপারতো সাড়া ফেলি দিছে ব্লগে। দেখো ব্লগাররা কি সব সৌন্দর্য কথা বৈলতেছে লেখাডানি। বিখ্যাত ব্লগার নীল আর্মস্ট্রং সাহেবতো এখনো বাংলাদেশ সরকারি দল টাইপ লেখা বলে নাই! পুরাতন ব্লগার রমিত আজাদ ,বিদ্রোহী ভৃগু তাদের এই বিষয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে বইলতেছে ! করুনাধারআপুর মন্তব্য দেখো, বইলতেছে তার ফেভারিট বিষয় এইডা !এতদিন সাড়াশব্দ না করলেও সুই করি ফ্লাই করি চলি আসছে ব্লগার ফ্লাইং ডাচমেন্ট কমেন্ট কইরতে । স্বপ্নবাজ সৌরভও দ্যাখো সোভিয়েত ভিসার কারবার বাদদি এই লেখা নিয়ে লড়াচড়া করতেছে !'
-বাক বাকুম বন্ধ করবি ?
-'পুরানো গোয়েন্দা ব্লগার শের শায়েরি, নতুন ব্লগার যেমন রূপম রিজওয়ান, হাবিব স্যার তারাও বলতেছে লেখা সৌন্দর্য হৈছে ! আর পদাতিক চৌধুরীতো পরিষ্কার করি বলি দিছে যে এই লেখা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য উপকারী ! আর সুপারডুপারতো জ্যামিতির ক্লাস খুলি বইসছে এই লেখার আলোচনায় ! বিদগ্ধ ব্লগার ডঃ আলী আর শাহিন বিন রফিকতো লেখা ডাইরেক্ট প্রিয়তেনি রাখি দিছে ! এইবার বুঝ মেরিটডা কেমন লেখার?'
- নো কথাবার্তা, নো নিউমেরোলজি I ডাইরেক্ট বহিস্কার হ' রাগে বাগ বাগ হয়ে আমি বলি ।

দুই

রকিবুলের সাথে কথা বলার পর আবার কয়েক দিন ওর কোনো খবর নেই।এদিকে হঠাৎ করে মুগ্ধতার সাথে আমার ফেবুক সম্পর্কটা সারপ্রাইজিং টার্ন নিয়ে ফেললো।মুগ্ধতা হঠাৎ জানালো ও একটু এক থাকা পছন্দ করে।বাসার কারণে ওর কোনো ছেলের সাথে তেমন পরিচয় নেই। বাসা থেকে কলেজ আর কলেজ থেকে বাসা। এটাই ওর রুটিন।বাসার মানুষের বাইরে আমিই প্রথম ছেলে যার সাথে ওর যোগাযোগ !

মুগ্ধতার কথা শুনে আমি গভীর পুলকিত হই । হিরোশিমা কান্ডে পারমাণবিক আঘাতে বিধ্বস্ত মনে যেন আবার ঝিরি ঝিরি বাতাস বইতে শুরু করলো । ‘মুগ্ধতা আপুতো খুবই লাভিং টাইপ’ রকিবুলের কথাগুলো দূর থেকে কানে ভেসে আসে আর তা থেকে হৃদয়ে সুধা বৃষ্টি, সেই বৃষ্টি থেকে বন্যা, বন্যা থেকে সুনামি হয়ে যায়।রাজধানীর জনারণ্য, জ্যাম,ধুলা,ধোয়ার আধার ঢাকা জীবনও হঠাৎ কেমন যেন 'আলো আমার, আলো ওগো, আলো ভুবন ভরা'মনে হতে থাকেI রকিবুলের কথা মনে হয়,'মুগ্ধতা আপুমনিতো খুবই মানবিক অনুভূতিশীল, আদর্শবাদী ও সহানুভূতিশীল'! OMG! সত্যিতো দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে যাচ্ছে! পিথাগোরিয়ান নিউমেরোলোজি ! পিওর ম্যাথমেটিকাল মিরাকল হয়ে যাচ্ছেতো আমার জীবনে !মুগ্ধতা, আহা কি মুগ্ধ মায়ার নাম! মনের ভেতরে কে যেন গেয়ে উঠে "সখী, ভাবনা কাহারে বলে...তোমরা যে বলো দিবস-রজনী/‘ভালোবাসা ‘ভালোবাসা/'সখী, ভালোবাসা কারে কয় !" রকিবুলের সাথে মুগ্ধতার নিউমেরোলজি নিয়ে কথা বলতে মন আকুলি বিকুলি করতে থাকে । আর সহ্য না করতে পেরে ওকে একটা কল করেই ফেললাম ।

পুরো সন্ধ্যা পার করে রকিবুল যখন উদয় হলো তখন আমি ঘুমের প্ল্যান করছি ।মাইরি, দেশি টিভি চ্যানেলগুলোকে হিরোশিমা, নাগাসাকি করতে ইচ্ছে করে । দেখবার মতো কিছু নেই । সব কিছুতেই খালি জাতীয় বিজাতীয় বস্তাপচা নাটক ফাটক আর টক শো ! তার ওপর আমার ব্যক্তি স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করে যখন তখন কুট কাট করে হামলা চালাবার ফাক ফোকর খোঁজা এডিস সাহেবের হাত থেকে জীবনরক্ষার যুদ্ধতো রয়েছেই। এডিস সন্ধ্যায় মশারির গ্রেট ওয়াল তুলে আর্লি ঘুমের প্ল্যান প্রোগ্রাম পুরো বরবাদ হয়ে গেলো রকিবুলের নোটিশহীন আগমনে। ঘরে ঢুকেই কথার খৈ ফুটাতে শুরু করলো মুখে। রকিবুলের কথা শুনেই মনে হয় ঘুম পারানি মাসি পিসি দু'জনেই ততক্ষনে তল্লাট ছেড়ে ভাগোয়াট !

-'রাজা ভাই,কি বিশ্বাস করলাতো এইবার যে নিউমেরোলজি হইলো ডাইরেক্ট সাইন্স? জারি কয় পিথাগোরিয়ান ম্যাথমেটিকাল মিরাকল'! এই যে ধরো আমাদের ব্লগের অপ্সরা শায়মা আপু ! তার নামের ইংরেজি বানান হইলো Shaima Huq।এখন দেখো জাদুডা । এখন নামের এলফাবেটগুলারে নাম্বার অনুযায়ী সাজাও দেখি -সেইটার ডেসটিনি নাম্বার হইলো ৭ । বুজতে পারতেছতো ঘটনা কি ?
-ঘটনা আবার কি?
- এই ডেসটিনি নাম্বার ৭ বৈশিষ্ঠ্যধারী মানুষেরা সত্য নিরুপন ও শিক্ষা অর্জনে আগ্রহী, এন্যালেটিক কাজে দক্ষ। এরা লেখক/ লেখিকা, ফটোগ্রাফার, গবেষক ও সেবা কাজে গুড । শায়মাআপু দ্যাখো বই লেখে, বইয়ের সম্পাদিকা আবার শিক্ষিকা মানে সত্য নিরুপন ও শিক্ষা অর্জনে আগ্রহী মানুষ তাইনা? আবার তার সেবার ব্যাপারটা দ্যাখো ।মানুষ জনরে এমন খাবাদাবা করাইতে পারে! তার ঈদ পোস্টগুলাতে দেখবা টেবিল কি সব আকবরী খাবাদাবাদি ভর্তি ! এইবার কও এইডা নিউমেরোলজির মিরাকল কিনা?
-বুঝলাম তোর শায়মা আপু জাক অফ অল ট্রেডস !

- আবার ধরো রিম সাবরিনা জাহান সরকার আপু ! মোটেই আমাগো সরকারের মতো জারে তারে পিডা দিতে বা গাপ করি দিতে চায় না।সদা হাস্যময় টাইপ। জিপিএ ফাইভ শিক্ষিত না কিন্তুক হিটলার সাহেবের দেশ জার্মানি থাইক্কা কঠিন পিএইচডি ।ব্যাপক শিক্ষিত ডিইউ শিক্ষিকা মানুষ।এখন গবেষক মানে সত্য নিরুপনে আগ্রহী ও এন্যালেটিকাল। গেরেড ওয়ান টাইপ ব্লগ লেখিকা। সেবা যত্নেও কম যায় না।লেখা পড়লি বুঝবা আমাগো মন্ত্রী ফন্ত্রীগো মতো হাউকাউ না কইরাই দেশ,জাতির ফ্রাউ জেনারেশনের উন্নতির জন্য কি রকম কঠিন সেবা কার্যক্রম চালায় বিদেশ বিভুঁইয়ে । তার ডেসটিনি নাম্বার ৭। উহাদের বৈশিষ্ঠ্য মনে আছেতো ? এখন বলো নিউমেরোলজির যাদুডা কেমন?
-‘ হুম’ বলে তার কথায় অনুমোদনের সরকারি সিল ছাপ্পর দিয়ে আমি চুপ করে থাকি ।

-আইচ্ছা এইবার তাহলে বলি গিয়া মেহ্জাবিন জুন আপুর নিউমেরোলজির মিরাকল। তার নামের ডেসটিনি নাম্বার হইলো গিয়া ৩ । মিরাকলটা দেখতে পাইতিছোতো কিলিয়ার ?
-কি মিরাকল দেখবো?
- ডেসটিনি নাম্বার ৩ মানুষদের বিশিষ্ট বৈশিষ্ঠ্য হইলো গিয়া তারা আউটগোয়িং আর এক্সপ্রেসিভ।বুঝতে পাইতিছোতো মিরাকলটা? জুন আপু আমাদের কি আপু জানতো? ইবনে বতুতা আপু। ঘর হইতে শুধুই দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শীষের ওপর একটি শিশির বিন্দুই শুধু না,জুন আপু ইবনে বতুতার মতো ঘুড়ি ঘুড়ি সারা পৃথিবী দেখি ফেইলছে।কন্যাকুমারিকা থেইক্কা এন্টার্টিকা সব দেখাদেখি শেষ। জুনাপু রচনাবলী যদি পড় দেইখবা কি যে সব ভ্রমণ কাহিনী লিখে ! আর দেখো সেই ভ্রমন কাহিনীতেই ইতিহাস,আর্কিয়োলজির কি ব্যাপক বর্ণনা ।একের ভেতর তিন লেখা ।কি বাহারি সচিত্র এক্সপ্রেশন! এইবার কও পিথাগোরীয়ন নিউমেরোজীতে কি কোনো ভুল আছে ? মিরাকল, মিরাকল !
-'হুম',আমি কি বলবো না বুঝেই আবার বলি ।
- অখনো সন্দেহ ! তাহইলে ব্লগের কবিতা সুলতানা মুনিরা সুলতানা আপুর কথা বলি ।তার ডেসটিনি নাম্বার হইলো গিয়া ১১। এই ১১ হইলো স্পিশাল মাস্টার নাম্বার ।উহা চেঞ্জ করা যায় না ।মুনিরাপুর কথা কি বইলবো? বইলতে শুরু করলিতো শেষ হইবে না।মুনিরাপু ব্লগের ভেরি ভেরি স্পিশাল।

তিন

ভার্সিটিতে ক্লাস শেষ করে দুপুরে ফিরেছি ।তারপর থেকেই সময়গুলো যেন পৃথিবীর আবর্তন মিথ্যে করে থেমে রয়েছে। গতকাল রাতে মুগ্ধতার ফেসবুক পোস্টের ফটোর শানে নুযুল বের করতে না পেরে দিলখোশ মন উসখুস করতে করতে প্রায় বেহুশ হবার জোগাড় । এমন সময় রকিবুলের আগমন। মুখ দেখেই বুঝলাম কথার এটম বমে পেট ভর্তি। কথা বলতে না দিলেই এটম বমটা ফুটে আপত্তিকর বিপত্তি বাধিয়ে বসতে পারে।মৃদু হেসে বসতে বললাম।

-' রাজা ভাই, আমার কথা কেমুন সত্যি হইলো দেখো।খালিতো আমারে বহিস্কার করতি চাও! মুগ্ধতা আপুতো ফাইনাল সিগন্যাল পাঠি দিছে মনে হয়'। ‘ সখি ভালোবাসা করে কয়' বলি মনে হইতেছে'।
-এই না পেঁচিয়ে সহজ করে বল কি হয়েছে '।
-‘এখনো বুঝ নাই? কাল রাতের কালারফুল বিডের ফটোটা দেখছো ফেবুকে ? কম্মতো কাবার হই গেছে’।
-'এই এবস্ট্রাক্ট কথাবার্তা বাদ, ঠিক করে বল কি হয়েছে ?’ আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে বলি ।
-ভালোবাসারতো কোনো স্থানকাল নাই ।ইন্টারন্যাশনালি চিন্তা করতে হইবে।ম্যান্ডেলার দেশের জুলু মেয়েরা এইরকম রঙিন বিড পাঠাই ছেলেদের প্রপোজ করে! এইবার ঘটনা বুইজতে পারছোতো নাকি?
-‘ওই তোর মুগ্ধতা আপু জুলু নাকি ? সে ওটা পাঠাই প্রপ্রোজ করবে কেন’ ?
- ‘লুকানো সিগন্যাল দি তোমাকে যাচাই করতে চায় আর কি’ ?
- ‘ও জুলু মেয়েদের সম্পর্কে জানবে কেমন করে’?
- ‘বৃক্ষের ফলে পরিচয় আর নিউমেরোলজিতে নামে পরিচয়। নামের নিউমেরোলজি দেখিইতো বুঝা যায় মুগ্ধতা আপু ব্যাপক শিক্ষিত I নয় ডেসটিনি নাম্বারধারীরা শুধু মানবিক,অনুভূতিশীল,আদর্শবাদী ও সহানুভূতিশীলই না উহারা বিজ্ঞানী প্রজাতি মানে শিক্ষিত।মুগ্ধতা আপুর শিওর ডাইরেক্ট আফ্রিকা কানেকশন আছে বলি মনে হইতেছে।পিথাগোরিয়ান ম্যাথমেটিক্স ! ভুলেরতো জায়গা নাই’I

রকিবুল বিদায় নেবার পর ফেসবুক লগ ইন করে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেলাম । নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছে না। মুগ্ধতা ওর বাসার ঠিকানা দিয়েছে।ও কয়েকদিন ফেসবুকে থাকতে পারবে না।তাই আমি যেন ওদের বাসায় যাই। পুরোনো ঢাকায় বাসা -কলতা বাজার! OMG ! নিউমেরোলজি,নেলসন ম্যান্ডেলার ডাইরেক্ট কানেকশন! পিথাগোরিয়ান ম্যাথমেটিকাল মিরাকল ! মনের ভেতর কে যেন মধুর সুরে গান গেয়ে উঠলো ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে,গাছে গাছে পাখি ডাকে-কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’।

চার

মুগ্ধতার বাসায় যাবার জন্য রেডি হতে গিয়েই বিপত্তি বাধলো I শার্টটা ইন করতে গিয়ে দেখি সকালে গরুর গোশত ভুনা দিয়ে দুই দুইটা পরোটা আর মিষ্টি খাবার ফল হিসেবে ডারউইনের বিবর্তনবাদ সত্যি প্রমান করতেই যেন নিরীহ পেটটা আমার ভুরিতে বিবর্তিত হতে চাচ্ছে। বিবর্তনবাদের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে আমিও উদ্ধত ভুড়িটাকে বাগ মানবার চেষ্টা করতে থাকি। তার মধ্যে চুলটাও কি কারণে যেন বিদ্রোহ করে কেমন যেন পেঁচানো সাপের ভঙ্গিতে কপালের সামনে এসে ঝুলে রইলো। কি যন্ত্রনা !কেচি দিয়ে ঘচাং করে ডাইরেক্ট কেটে দেব নাকি ভাবছি ঠিক তখন ফিটফাট সেজে রকিবুল উপস্থিত । দেখি লাল এক টাই পড়েছে । মুখ থেকে হাসি ঝর ঝর করে ঝরে পড়ছে।
-ব্যাপার কি, টাই পড়েছিস কেন আবার ?
-তোমার সাথে যাইতেছি টাই পড়তে হবে না ? মুগ্ধতা আপু আমাকে গবেট ভাববে তাই কি তুমি চাও ?
-'না না ঠিক আছে, তোর ড্রেস ঠিক আছে । চমৎকার লাগছে তোকে' আমি তাড়াতাড়ি বলি । যেতে হবে কলতা বাজার।যে স কথা নয় ! আজ কলতা বাজারে সৌভাগ্যের বদলে যদি উপুড় হয়ে হুড়মুর করে পরা বদ নসিব ব্যাগ ভর্তি করে কেনার দুর্ভাগ্য ভর করে তাহলে কপালের পরিস্থিতি উন্নয়নে রকিবুলের পূর্ণ সহযোগিতা অবশ্যই লাগবে। সে পুরোনো ঢাকা খুব ভালো করে চেনে ।
নতুন রিকশা পাওয়া গেছে একটা । আরাম করে বসলাম দুজনে ।
-‘রাজা ভাই, মুগ্ধতা আপুদের বাসা যে যাইতেছি কিছু নিতে হবে না সাথে ? দুই কেজি মিষ্টি কিনো । খালি হাতে কেমন কেমন লাগতেছে’, মধুমিতা সুইটসের সামনে দিয়ে যাবার সময় রকিবুল বলে ।
-‘ওই আমি কি শ্বশুর বাড়ি যাইতেছি নাকি যে মিষ্টি নিতে হবে’ আমি কপট রাগ দেখিয়ে বলি ।

পাঁচ

মুগ্ধতাদের বাসার আধো অন্ধকার ড্রইং রুমে বসে রয়েছি অনেক্ষন । ভেতরে কথা বার্তা শোনা যাচ্ছে । কিন্তু আমাদের কাছে কারো আসার নাম নেই ।উসখুস করছি দুজনেই ।ঘটনা কি ?
-' আপনেরা ক্যাডা? এইহানে আইছেন ক্যালা?' অনেক্ষন পরে মাঝ বয়স্ক একজন মানুষ ড্রইং রুমে ঢুকে জিজ্ঞেস করেন।
-‘আমরা মুগ্ধতার বন্ধু' আমি বলি ।
-‘ বাবাজি আপনেরা মুগ্ধতার দোস্ত ! তার লগে আপনেগো পরিচয় হইলো কেমতে? আপনেরা আইছেন কোন হানতে ?’
-‘ফেসবুকে’,আমি সত্যি কথাই বলি । এতই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি যে অন্য কোনো উত্তরই আর মাথায় এলো না ।
-' বাবাজিরা আপনেরা আইছেন ভালা কথা মাগর তার সাতেতো এহন আপনেগো দেখা হইবো না'।
-কেন? ও বাসায় নেই ?
-'দ্যাখেন বাবাজিরা আমি ওর মামু হই । মুগ্ধতার একটা ওছুখ আছে'। খুব বড় ওছুখ । আজকা ওছুখটা খুব বাইরা গেছে, অবচতা বহুত খারাব । তাই তার সাথে দেখা হইবো না’I
রকিবুল আর আমাকে মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে দেখেই মনে হয় উনি আবার বলেন :
-দেখেন বাবাজিরা, আমার ভাইগ্নি জিপিএ ফাইভ পাওয়া মাইয়া আছিলো।পড়াছুনায় আছিলো বহুত ভালা। মাগর মেডিকেলে চান্স না পাইয়া মাথা আউলাইয়া গেছে। মাঝে মাঝে ভালাই থাকে মাগর গরম পড়লে মাথাটা বহুত আউলাইয়া যায় । বাসায় সারাক্ষন চিল্লাবিল্লা করে। ভাঙচুর করে। দুই বচ্ছর যাবৎ চলতাছে এই ব্যাপার। গত কয়েক দিনে এমুন গরম পড়ছে যে মাইয়াডার মাথাডা আবার আউলাইয়া গেছে এইডা ঐডা ভি ছুইড়া মারে যার তার দিকে। এহন অবস্থা খুবই খারাপ বাবাজিরা। এল্যায় আপনারা উঠেন। আপ্নেরা আসছেন হুনলেই আবার জিনিসপাতি ছুড়াছুড়ি শুরু করা পারে' ।

মামা কথা বলতে বলতেই ভেতর থেকে রাগী গলায় কাউকে বলতে শুনলাম, ‘আমার গেস্ট আসছে আর আমারে বলে নাইক্কা।সব খবিস’, বলেই কেউ চিৎকার করে উঠলো, আমারে ছাড়, ‘আমি কি পিরিত করবার লাগছি নিহি ? আমার গেস্টগো লগে কথা কমু আমি’। কারো ছুটে আসার শব্দ শুনলাম।

অভাব যখন দরজায় এসে দাঁড়ায় ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায় কি না জানিনা Iমাগর ভয় যখন দরজায় এসে দাঁড়ায় ভালোবাসা তখন ঠিকই জানালা দিয়ে পালায়,সেটা বিলকুল বুঝে গেলাম মুহূর্তের মধ্যেই Iএলোকেশী চুল, কাপড় এলোমেলো রণরঙ্গিনী মূর্তিতে কে যেন এসে দাঁড়ালো রুমে। এই রণরঙ্গিনী মূর্তিই কি আমার হৃদয়ে সুধা বৃষ্টি ঝরানো সেই ‘খুবই লাভিং টাইপ’ মুগ্ধতা ! ঘনঘোর এই দুঃসময়েও বুক চেরা একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো ।

রকিবুল আর আমার দিকে তাকিয়েই’ লাভিং টাইপ’ মুগ্ধতা হিহিহি করে হেসে উঠলো। সেই রণসঙ্গীতসম হাসি শুনে আত্মারাম খাচা ছাড়ার জোগাড় । কিন্তু আত্মা খাঁচা ছাড়ার আগেই আরো কঠিন বিপদ হুড়মুড় করে হামলে পড়লো Iমুগ্ধতা রাগে হাতের কিছু একটা ছুড়ে মেরেছে সামনের দিকে।রকিবুলের মাথা লক্ষ্য করেই ছোরা হলো নাকি অলক্ষেই সেটা লক্ষ্য হলো তার মাথা সে বুঝতে পারলাম না। কিন্তু হাত থেকে ছুটে যাওয়া সেই ইউএফও মিসাইলের মতো ঠকাস করে রকিবুলের কপালে যেয়ে আছড়ে পড়লো ! ঠকাস শব্দটা শুনেই আমি সভয়ে দুই পা পিছিয়ে গেলাম। কারণ মুগ্ধতাবিহীন ভয়ার্ত চোখে দেখলাম ঠকাস শব্দের সাথে সাথেই রকিবুল দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু বলতে বলতে ডাইরেক্ট পপাত ধরণীতল।

মৌলা মৌলা জপতে জপতে রকিবুলের দিকে এগুলাম I শুনি শান্ত, চোখ বন্ধ, ঘুমন্ত রকিবুল সন্ত্রস্থ মুখে তখনও ‘মা…মা’ বলছে ! মা…মা করে রকিবুল তার মাকে নাকি ঘোরের মধ্যে সাহায্যের আশায় এসওএস পাঠাতে মুগ্ধতার মামাকে দীর্ঘ লয়ে মা…মা বলে ডাকছে বুঝতে পারলাম না। অতশত বুঝবার সময়ও নেই। দশ নং মহাবিপদ সংকেত অবস্থা তখন ঘরের মধ্যে !

রকিবুলের কপালের বা দিকে এস্কিমোদের ঈগলুর মতো গোল হয়ে ফুলে উঠেছে ।ওর পাশে বসেছি মাত্র I আর ঠিক তখনই মনে হলো হিরোশিমা, নাগাসাকির পর ইতিহাসের তৃতীয় এটম বোমাটা ডাইরেক্ট আমার পৃষ্ঠদেশে এসে বিস্ফোরিত হয়েছে ! এ’কোনো "লিটল বয়"বা ছোট খাটো "ফ্যাট মান" নয়, এটা তার চেয়েও হাজার মেগা টন বেশি ওজনের এডাল্ট কোনো বোমা না হয়েই পারে না I মাইরি, কি যে ব্যাথা রে বাবা ! পিঠ ব্যাথায়, হৃদয় বেদনায় চোখের সামনে আঁধারের ঝিকি মিকি ঠিক তখন মুগ্ধ হয়ে দেখলাম, কে যেন মুগ্ধতার রণরঙ্গিনী মূর্তিকে পেছন থেকে জাপ্টে ধরেছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আমি অচেতন হলাম ।

ছয়

চোখ মেললাম কতক্ষন পরে জানিনা । জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে সরকারের ব্যর্থতায় বিরক্ত হয়েই যেন ঢাকা শহরের ময়লা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করার একমাত্র উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আকাশ ভীষণ ব্যস্ত। প্রানপনে বৃষ্টি হচ্ছে । বাড়ির ভেতরে তখনও চিল্লাবিল্লা, এটা সেটা ছুড়াছুড়ির শব্দ I কিন্তু অন্দর মহলের সব শব্দ, ফেসবুক ভালোবাসার মায়া সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে ‘লাভিং টাইপ’ মুগ্ধতার স্মৃতিতে টা টা বাই বাই বলে বুদ্ধদেবের মতো নির্মোহ ভঙ্গিতে আমি আর রকিবুল সেই নিঝুম বৃষ্টিতে রাস্তায় নেমে পড়লাম ।
-'পিথাগোরাস'! বৃষ্টির ঠান্ডা স্পর্শে খানিকটা ধ্বাতস্থ হয়ে রকিবুল প্রথম কথা বলে I
-'চুপ, একদম চুপ',শীতের ঝরা পাতার মতো ঝুর ঝুর করে ঝরে যাওয়া ভালোবাসার বিরহে তখনো কাতর আমি কিড়মিড়িয়ে বললাম ।
কলতাবাজারের মানুষ জন আমাদের দুই জনের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।আমরা সবার দৃষ্টি উপেক্ষা করে থৈথৈ পানির উপর দিয়ে হাটছি। কিছুদূর এগুনোর পরে একটা রিকশা পাওয়া গেলো। দামাদামি না করে আমরা ডাইরেক্ট রিকশায় উঠে পড়লাম । যতটুকু যাওয়া যায় সেটাই লাভ ।
-'আমি আজ সকালেও ওমেরা আপুর নিউমেরোলজি চেক কইরছি' এগজাক্ট মিলি গেছে ' রকিবুল কথাই বলতে থাকে। ওর শক মনে হয় এখনো কাটেনি ।আমি চুপ করে থাকি ।
-‘ওমেরা আপুর ডেসটিনি নাম্বারদি’ আমি গুনে দেইখছি একেবারে কারেক্ট ।তার ডেসটিনি নাম্বারের সাথে তার বৈশিষ্ঠ্য পুরাপুরি মিলি গেছে’!
-‘ওই ওমেরার পুরো নাম তুই জানিস ? শায়মা হক, জুন, কবিতা সুলতানার পুরা নামতো জানিস ওমেরার নামের পরের অংশকি হাওয়া?', রাগে আমার গলার স্বর চড়ে যায় ।
-‘মেয়েদের নামের পেছনে হক, রহমান আর সুলতানা ছাড়া আর কি হইবে? সব দিয়া চেক দিছি।ওই একই।ওমেরা হক্ বা রহমান হইলে ডেসটিনি নাম্বার ৪।সেইটা হইলে ওমেরা আপু খুবই নিয়মশৃঙ্ঘলা পরায়ণ।গুড প্ল্যানার। আপু কিন্তু সেইরাম।বিখ্যাত ইউনিভার্সিটির ছাত্রী।খুবই শৃংখলাপরায়ণ।বন্ধু বৎসল, জ্ঞান অন্বেষী, ইনভেন্টিভ ব্যক্তিত্ব।আর ওমেরা সুলতানা হইলে ডেসটিনি নাম্বার ১ । ডেসটিনি নাম্বার একের মানুষেরা খুব স্বাধীনচেতা,ক্রিয়েটিভ।ওমেরা আপু কিন্তু ওইরাম।খুব স্বাধীনচেতা আর খুব ক্রিয়েটিভ। খাতুন দিয়া অবশ্য চেক করি নাই ।ওমেরা খাতুন ... ওমেরা খাতুন’ ’রকিবুল কি যেন হিসেবে করতে থাকে ।
-‘ওই ওমেরারতো ঐটা নাম না, নিক। ঐ নিকটা দিয়া সে সংবেদনশীল, বন্ধুবৎসল, ক্রিয়েটিভ এইটা বুঝলি আর কপাল ফুলাইয়া যে ইগলু কইরা দিবে আজ সেইটার নিউমেরোলজি তুই আসল নাম দেইখা বুঝতে পারলি না’ ? রাগে আমার ভাষার তখন গড়বড় অবস্থা ।
-'মওলা, মওলা বিরাট মিস্টেক হৈছে' বলেই হাত দিয়ে নিজের গালে চড় মারে রকিবুল । তারপর কি মনে করে যেন অবাক হয়ে তাকে আমার দিকে ।
-‘মুগ্ধতা রহমান নাম শুনলেই বুঝা যায় সংবেদনশীল, লাভিং টাইপ তাই না? ডান্ডা খাইয়া এখনো এখনো সেইটা মনে হয় নাকি নিউমেরোভূলোজি চেঞ্জ হৈছে তোর? ভূজুং ভাজং মলা বিজ্ঞান কথা বার্তা সব বন্ধ । মাইরি, না হইলে রিকশা থেকে ডাইরেক্ট বহিস্কার’ আমি বলি ।
- ‘রাজা ভাই, তুমি স্বীকার যাও নাই কিন্তু তুমি আসলে ব্লগটা পর তাই না ? নইলে ওমেরা আপুর যে এইটা আসল নাম না নিক সেইটা জানো কেমনে’? রকিবুল আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে।
-‘ব্লগ আর নিউমেরোভূলোজি নিয়ে কোনো কথা না’ ।
-‘নিউমেরোলজি’! রকিবুল আমার ভুল সংশোধন করার চেষ্টা করে ।
-'খামোশ',কাদা মাখামাখি, ভিজে জব জবে কাপরে ঠান্ডায় জমে যাওয়া আমি রাগে কিড়মিড় করে বলি।

ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে সাগর হয়ে যাওয়া পুরোনো ঢাকার রাস্তায় বুড়ো কাপ্তান ধীরে ধীরে আমাদের তিন চাকার জাহাজটা চালাতে থাকে। রকিবুল শার্টে লেপ্টে যাওয়া তার লাল টাই ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে যায় ।

-------
গত কয়েক মাস নিজের ব্যস্ততার কারণেই ব্লগে আসা হয়নি একেবারেই।এর মধ্যেই অবাক হয়ে জানলাম রিম সাবরিনা জাহান সরকার, জুন এই হাবিজাবি অব্লগারের খোঁজ করেছেন ব্লগে না দেখে ! মাস কয়েক আগে ব্লগের ঘোরতর এক অমাবশ্যায় খোলা সামু ফেসবুক পেজে মুনিরা সুলতানা লিখেছেন তার অনেক প্রিয় ব্লগারকে মিস করছেন ব্লগ অক্রিয় থাকায়। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তার মিস করা প্রিয় ব্লগারদের উজ্জ্বল লং লিস্টের শেষ প্রান্তে আমার নামও আছে! মিরাকল মিরাকল !সেখানেই ব্লগার শায়মা কমেন্ট করেছেন ফেসবুক গরূপে আমাকে এড করতে পারছেন না আমার কন্টাক্ট না জানাতে। নিজের লেখা নিয়ে আজন্ম লজ্জিত আমি জীবনে ওই একবারই মনে হয় নিজ লেখার সীমাবদ্ধতা ভুলে অনেক ভালো লাগায় ভাসলাম প্রিয় ক'জন ব্লগার আমার লেখা মিস করছেন জেনে ।ব্লগ নিরুদ্দেশের মাসগুলোতে আমাকে হাজারবার ব্লগে যাবার তাগাদা দেওয়া ব্লগারটা হলো ওমেরা। পুরাকালে মূল্যবান হাজার ধাতুখণ্ড, হাজার ফালি শস্য সাজিয়ে দেবতাদের অর্চনা করা হতো। কি আর লিখি হাবিজাবিই তো ! তবুও ওমেরার হাজারবার আন্তরিক তাগিদ ব্লগের ঈশ্বরসম এতো বিখ্যাত ব্লগারের ভিড়ে আমার অস্পৃশ্য উপদেবতার পরিচয় ভুলিয়ে (মিথ্যে হলেও) কতদিন যে নিজেকে ব্লগ ঈশ্বর ভাবার অভাবনীয় আনন্দ দিয়েছে সেটা না বললে সত্যি লুকোনো হয় ।

সামুর ব্লগ আঙিনা অমরাবতীর সাজে সাজিয়ে রাখা প্রিয় ব্লগার ওমেরা, শায়মা হক, মুনিরা সুলতানা, জুন, রিম সাবরিনা জাহান সরকারকে আমি মনে করেছি এই লেখার সময় অনেক আন্তরিকতায়।


মন্তব্য ৩১ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৩১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৪

ওমেরা বলেছেন: আপনি তো খুব ভালো লিখেন সবাই আপনার লিখা পছন্দ করে । তবে সবার জন্য সবকিছু না , সবাই সবকিছু পারেনা , মানায়ও না । এটা কোন রম্য হয়নি, হাসিও আসেনি আমার দাতে ব্যাথা লাগছে। তাই ধন্যবাদ দিলাম না।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ওমেরা,
খুশি হলাম মন্তব্যে ---ভীষণ ।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ওমেরা,
জেনে খুশি হবেন যে দুই পর্ব ভাবনা আপনার মন্তব্যের পরে ক্যানসেল করে একসাথে মানে অখণ্ড আকৃতিতে প্ৰকাশ করা হলো ।
বাই দ্যা ওয়ে আমি কিন্তু বলছিনা আপনার আবার মন্তব্য করতে হবে ।
প্রথম বারেরটাই ঠিক আছে, চাঁদগাজী সাহেবের সাথে মিল আছে ।

২| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:১৪

রাজীব নুর বলেছেন: মানুষকে হাসানো অনেক কঠিন কাজ। সবচেয়ে কঠিন হলো লিখে হাসানো।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নুর,
আপনি কি হাসলেন ? আপনাকে কি হাসানো গেলো ?
পাঠক হিসেবে আপনি ব্লগ শ্রেষ্ঠ সেটা জানেনতো ? এক থেকে দশ স্কেলে এডিশনাল এক যোগ করে আপনাকে এগারো দিতে হবে পাঠশ্রেষ্ঠ গুণাবলীর জন্য । হাসুন বা না হাসুন অনেক ধন্যবাদ শুধু আমার অ -রম্য পড়ে মন্তব্য করার জন্য ।

৩| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২৪

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া হাসতে হাসতে হাসতে হাসতে মরেই গেছি আমি!!!!!!!!!!!!!!


আর এই কথা সত্যি লেখালিখিটা সিরিয়াসলী নিলে তুমি শিবরামের ছোট ভাই হয়ে যাবে!


তবে শঙ্কার বিষয় শুধু সব আপুরা তুমি ভাইয়াটাকে এত ভালোবাসে বা মিস করে জেনে অন্য ভাইয়ারা আবার তোমার উপর নাখোশ হয়ে যায় কিনা!!!!!!

তখন মুগ্ধতা পাগলীর কোমল হাতের কিলকে এটম বোম মনে হয়েছিলো নাকি ভাইয়াদের হাতের বোমগুলো কোন বোম মনে হবে ভেবে চিন্তায় আছি! :P

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: থ্যাংক ইউ ।
এইরে শিবরামের কথা বললেন আমার এই অ-রম্য লেখার রেফারেন্স ! আপনার মন্তব্যে কিন্তু একের ভেতরে দুই ভীষণ আশংকারও জন্ম নিলো মনে । এখন না আবার শিব আর রাম দুজনের আত্মা আমার ওপর রুষ্ট হয় ! নিউমেরোলজি লেখাটা লিখবার পরে মনে হলো আমার মতো ব্লগারকে ব্লগে না দেখে আপনাদের ক'জনের আমার খোঁজ করার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনাকে ব্লগে একটু স্বরণীয় করে রাখার চেষ্টা করা যাক একটা লেখায়। সেটা ভাবতে ভাবতেই এই লেখাটা কেমন করে যেন হয়ে গেলো ! যাক সেই লেখা পড়ে আপনার ভালো লেগেছে জেনে সত্যি খুশি হলাম । ভালো থাকবেন ।

৪| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২৬

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া আগে রাজীব ভাইয়া কারো পোস্ট পড়া তো দূরের কথা নিজের পোস্টেও আনসার দিত না। পরে সবার বকা টকা খেয়ে এখন ভালো পাঠক হয়েছেন! :) ভালো কমেন্টারও!!!!!!!!!!

তাইনা রাজীব নূর ভাইয়া!!!!!!!!

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: 'পরে সবার বকা টকা খেয়ে এখন ভালো পাঠক হয়েছেন!'
সেই 'সবার' মধ্যে আপনিও ছিলেন রাজীবনুরকে এতো নিবেদিত পাঠক আর কমেন্টকারী বানাবার বুটক্যাম্প জাতীয় কার্যক্রমে ?
তাহলে আমার দ্বিতীয় থাঙ্কসটা নিন। হ্যা রাজীব নূর সত্যি সত্যি খুব ভালো পাঠক হয়েছেন এবং সেই ক্যাটাগরির কমেন্টার ।
অনেক ধন্যবাদ ।

৫| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


পোষ্ট কোন এক সময় রম্যের দিকে যেতে পারে, সেই আশায় সবটা পড়লাম, রম্য নেই; হাসা হয়নি, হতবাক হয়েছি শুধু

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:৫৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: চাঁদগাজিস সাহেব ,
আপনার ডাইরেক্ট কথাটা বলাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে । থাঙ্কস এ লট ফর দ্যাট । রম্য হয়নি ব্যাপারটা বুঝলাম ভালো লেখিনি হয়তো । সেটা ডিফেন্ডও করছিনা । সবাইতো একভাবে ভাববে না একটা লেখা নিয়ে সেটা আমি বুঝি । কিন্তু হতবাক হয়েছেন কেন সেটাওতো ডাইরেক্ট বলা উচিত ছিল । ভালো থাকুন ।

৬| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আমার খুব ভালো লেগেছে; দারুণ মজা পেয়েছে। নিউমেরোলজি নিয়ে ব্লগারদের প্রতিক্রিয়া থেকেআপুদের ডেসটিনি নির্ণয় করা এবং সবশেষে মুগ্ধ আপুর সৌন্দর্যের অপার মুগ্ধতা সবমিলিয়ে পোস্টটি আমার কাছে যথেষ্ট উপভোগ্য লেগেছে। তবে আপুদের ডেসটিনির ডেস্টিনেশন যেভাবে নির্দিষ্ট করলেন 7,3 ,11 সেগুলি আর একটু স্পেসিফিক করলে আমার মত ছাত্রদের বুঝতে সুবিধা হত।হাহাহা....
শুভকামনা জানবেন।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:০১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: পদাতিক চৌধুরী
হাহাহা ----আপনার দেশ যে পারমাণবিক শক্তি সমৃদ্ধ একটা দেশ আপনার মন্তব্যে সেই শক্তির প্রকাশ প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে । চাঁদগাজী সাহেবের মন্তব্যের ঠিক পরেই ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে এই লেখার প্রশংসাসূচক যে কোনো মন্তব্যের জন্যই যে কারোই পারমাণবিক শক্তি সমৃদ্ধ সাহস থাকা দরকার ।আপনার সেই সাহস ষোলআনাই আছে বুঝলাম । অনেক ধন্যবাদ নিন সেজন্য ।

আপনার আপুদের ডেসটিনি নাম্বার বের করলাম তাদের নাম দিয়েই (একটু গবেষণা করতে হয়েছে যথা সম্ভবনির্ভুল থাকতে !)। এই লেখাকে নিছক মজার একটা লেখা যেটা আপনার আপুদের প্রতি আমার একটা ট্রিবিউট সে ভাবেই দেখুন প্লিজ । তারা আমার এই ব্লগ যাত্রার শুরু থেকেই অনেক অনুপ্রেণার উৎস । তাদের জন্য জমে থাকা আমার অনেক শ্রদ্ধা আর ভালোলাগা। একটা কারণে তাদের সবাইকে তা জানাতেই এই লেখা । ভালো থাকুন।

৭| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,





আমরাও জানি হালাইছি, নিউমেরোভূলজিতে আপনার নম্বর "ফোর ফোর্টি ফোর" তাই অমন মাথা আউলাইন্না প্রেমের বাতাসের ঝটকা খাইয়া মাথায় ৪৪৪ উঠছে। নইলে এত্তো এত্তোগুলান গুবেষণা............... :)

রসের সুনামী বওয়াইয়া দিছেন। অবশ্য এখন খাজুইর্রা রসের দিনই। গাছ কাটা চলতেছে আর লগে আড়িপাতা নয় চলতেছে হাড়ি পাতাও। আমরাও হাড়িও পাতলাম, আড়িও পাতলাম; দেহি পরবর্তী রস খাজুইর্রা (খাজুরাহো) না তাল (বেতাল) এর ................ B:-)

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জি এস ভাই,
হাহাহা ----লেখার সুর স্বাদ সাফল্য বাড়াতে আপনার মন্তব্যের কিছু কিছু লেখায় ইনজেক্ট করে দেব না কি ভাবছি । আপনার অনেক সহানুভুতিময় মন্তব্যে ব্যাপক চাঙ্গা হয়ে গেলাম । অনেক অনেক ধন্যবাদ নেবেন ।

৮| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৪

শায়মা বলেছেন: জী এস ভাইয়া,

৪৪৪ না হয়ে ৪২০ হলে বেশি ভালো হত তাইনা মলা ভাইয়ার নাম্বারটা! :P

পি এইচ ডি এর পড়া পড়েও ভাইয়ার ঘাড়ে কাটখোট্টা ভূত চাপেনি তাই রক্ষা...... :)

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মা হাজা --ইহা কি ?
এই শান্ত শীতের দিনগুলোতে আমি কোথায় আবহমান বাংলার প্রকৃতির সাথে মিল রেখে রসের ফল্গুধারা সৃষ্টির অনেস্ট চেষ্টা চালালাম ব্লগে আর আমা প্রসংগে আলোচিত হচ্ছে শ্রী ৪২০ সিনেমা কথাবার্তা !! আপনিও নীল আর্মস্ট্রং -এর মতো হয়ে গেলেন !
পৃথিবী বদলে গেছে যা দেখি নতুন লাগে ----- ।

৯| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:৪০

সুপারডুপার বলেছেন: আমি বিষয়টা সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলেছিলাম। এখন বুঝলাম মজা করতে চেয়েছেন। অযথা জ্যামিতির ক্লাস খুলে সময় গুলো নষ্ট করলাম। :P ভেবে অনেক হাসিই পেল ..

নিউমেরোগুরুজী মলাসইলমুইনা, আমার ডেসটিনি নাম্বার ১ ; কৃপা করে যদি বলেন আমার ভবিষ্যৎ ডেস্টিনেশন কি, কেমন ধনসম্পদ উপার্জন করতে পারব?

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সুপারডুপার,
আগের লেখাটার ভুল ধরিয়ে দেবার জন্য যতটুকু শুভেচ্ছা বলেছি তার চেয়েও বেশি পাওনা আপানার হয়েছে আসলে । অনিচ্ছাকৃত হলেও ভুলগুলো দৃষ্টিকটু রকমের বড় ছিল । আবারো বলছি ধন্যবাদ । আর মহাজাতকের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনতো আপনার হাতের কাছেই ওখানেই আগে ওখানেই যান কষ্ট করে ।ওরা গড়বড় করলেই না আমার্ প্রশ্ন আসবে । আচার্য পিথাগোরাসের আশীর্বাদ নিয়ে তখন বসবো নিশ্চই আপনার নিউমেরোলজির কুষ্ঠি নিয়ে । নো চিন্তা । ভালো থাকুন ততক্ষন ।

১০| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ছসছ্যাটা বুঝবার পারছি!
কেল্লাই প‌্যাদানিটা খাইছেন ;)
নিউমারোলজির বদলে নিউমারোভূলিজতেই যত ফ্যাকরা!

প‌্যাথাগোরিয়ান বইলা রাকিবুল ভূলোজির প‌্যাচটা খাইছে!
ক্যালডিয়ান, পাইথাগোরিয়ান, হ্যাব্রিক, হেলিন হিচককের পদ্ধতি, ফোনেটিক, জাপানি, আরবী এবং ভারতীয়
এর মাঝেই ভুল ভুলাইয়াতে পইড়া গেছলো ;)

তাই বাঙালীকে এই চিড়েচ্যাপটা হওয়া থেকে বাঁচাতে জলদি বাঙালীর নিজস্ব মারোলোজি আবিষ্কার করতে হইবেক।
হাডুডু জাতীয় খেলার কারণসূত্রানুসারে, রাতের আঁধারে ভোটের ইন্টেলেকচুয়ালিটর ফাউন্ডেশনে, এবং ফেসবুকের বিশেষজ্ঞ ছিলিবিট্রিদের অনুসরনে এই নতুন বাঙালমারোলজি তৈরী করা হুক।
যাতে আনবিক বোমার বদলে চকিত চিকন চুম্বনে থুথুও অমৃত হয় মন্ত্র জপতে জপতে বাড়ী ফিরতে পারে ;)

দারুন রম্যেও যারা হাসতে পারে নাই - তাদের জন্য বিবিএম-এ বিবিএম লাফিং গ্যাস ইউনিট খোলা হোক!
যাতে পুরা জাতি পেয়াজ সংকটের কথা ভূলে সবসময় হাসিতে হাসিতে ব্যাস্ত হইয়া উন্নয়নের সচিত্র স্বাক্ষ্য হইতে পারে!

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:১১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু,
হাহাহা ----।
শুধু সমস্যাটা বুঝলেই হবে ?একটু সান্তনাওতো জানাতে পারতেন এডাল্ট একটা বোমা পিঠে এসে বিস্ফোরিত হবার ব্যাথার !
মারোলজি আবিষ্কার করে আর কি হবে --কপাললজিতেইতো লেখা নিশিকুটুম্বদের করা অন্তহীন নাগরিক যন্ত্রণার কথা !
এটা আরো অনেকদিনই মনে হয় ভুগাবে ।

'বিপুলা এই পৃথিবীর কতটুকু জানি' ----একই রম্যে কেউ হাসবে কেউ হাসবে না ।কোনো অসুবিধে নেই ।আপনারা হেসেছেন সেটা জেনেই অধম খুশি । অনেক ভালো লাগা আর ধন্যবাদ হাসিলজি মন্তব্যে ।

জাদিদ সাহেব কি জানালেন শেষ পর্যন্ত জানার লেখা নিয়ে কি হলো ? তার একটা লেখা আর শুভেচ্ছা বাণী কি থাকছে ম্যাগাজিনে ?

১১| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২২

শায়মা বলেছেন: মা হাজা আবার কি? কই থেকে পেলে বুঝতে পারিনি ভাইয়া।

নীল আর্মস্ট্রং থেকে লাল আর্মস্ট্রং হয়ে যাইনি সেই বেশি!!!! :) :) :)


০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: 'মা হাজা' আরবি কথা এর অর্থ হলো : 'এটা/ইহা কি' ?
এটাতো খুব ছোট বেলায় স্কুলের ফোর/ ফাইভের আরবি বইয়ে পড়েই জেনেছি।
লাল আর্মস্ট্রং হলে অসুবিধা নেই । নীল হলেই ব্লগীয় সমস্যা ! হাহাহা ।
আর আমি কিন্তু জানি আপনি আমাকে শ্রী ঘরে পাঠানোর কোন কথা বলেননি ।
আপনার রসের ধারা মন্তব্যের উত্তর জুসি হওয়া দরকার মনে করেই আমার প্রতি মন্তব্যে আরবির আমদানি।
ভালো থাকুন ।

(আমার ব্লগীয় নীতিবিরুদ্ধ কাজ করে সিরিয়াল ভাঙলাম আপনার মন্তব্যটা দেখে উত্তর দেবার জন্য । সাত সকালের ব্যস্ততা কমলে অন্যদের মন্তব্যের উত্তর দেব ইনশাল্লাহ । আশাকরি দণ্ডনীয় অপরাধ ভাববে না কেউ ব্যাপারটা)

১২| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:১৬

জুন বলেছেন: দারুণ মজা পেলাম আপনার রম্য লেখায় সাথে মন্তব্যগুলো বোনাস মলাসইলমুনা। শায়মা, আহমেদ জী এস এর কথা না বল্লেই নয় =p~ তবে আমাদের সহ ব্লগার চাদগাজী কেন হাসি খুজে পেলো না সেটাই বুঝতে পারছি না :|
আমার ভ্রমণ লেখা লেখিতে আপনি কিন্ত পিওর ভ্রমন কাহিনি খুজে পাবেন না, সেখানে পড়লে দেখবেন কিছু ইতিহাস পাতিহাসের প্যাক প্যাকানিও রয়েছে লেখাটির কলেবর বৃদ্ধির জন্য ;)
ওহ হ্যা আরেকটা কথা, আমার জন্মদিন ও ১২ ই জুন সো তিন নম্বর আমার ললাট জুড়ে।

আমাকে লেখায় উল্লেখ করেছেন তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন আর লিখতে থাকুন এই প্রত্যাশা রইলো।
+

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: জুন,
ঠিক বলেছেন --আমার লেখার চেয়েও মজার হয়চ্ছে মন্তব্যগুলো ।আপনার মতো আমিও খুব উপভাগ করছি মন্তব্যগুলো । আর আপনার মন্তব্য পড়ে অল্প এডিট করে দিলাম লেখায় । আমার লেখার পরেই মনে হয়েছিল কিছু একটা মিস হয়েছে । আপনার মন্তব্য পড়ে বুঝেছি সেটা কি । অনেক ভ্রমণকাহিনিইতো ব্লগে লেখা হয় তার মাঝে আপনার লেখাগুলো আপনার কথার জন্যই আলাদা । আপনার প্রথম যে জেলখাটা আমি পড়েছিলাম সেটা আঙ্করভাট টেম্পল নিয়ে সম্ভবত ।সেই লেখা থেকেই আমি জানি অন্যদের থেকে আপনার লেখাগুলো কেন আলাদা। ঘরকুনো মানুষ হিসেবে আমি খুব ভ্রমণ কাহিনিতে মজা পাইনা ।কিন্তু তাতে ইতিহাসের বর্ণনা জড়িয়ে গেলেই আমি মনোযোগী পাঠক । সেজন্যই আপনার লেখার আমি মুগ্ধ পাঠক সব সময়। আর চাঁদগাজী সাহেব কঠিন মানুষ । বিজয় দিবসের মাসে স্বাধীনতা সময়ে চাঁদগাজীর {জায়গা} যুদ্ধের কঠিন দিনগুলোর কথা মনে হয়ে আমার লেখা হালকা রসের লেখা ভালো না লাগতেই পারে । সেটা ঠিক আছে ।

আপনি অনেক ধন্যবাদ নেবেন ।ভালো থাকবেন ।

১৩| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: @ শায়মা ,



শিনু হাদা ? (লিবিয়ান আরবী। মানে, এটা কি ? ) সামহালকে.................. :)
কস্মিনকালেও মলাসইলমু্ইনা ফোর টুয়েন্টি নন, তওবা...তওবা। আপনি তো ডুডোলজী, সাজুলজী সহ সব "লজী"তে ওস্তাদ। লেখকের লেখোলজী নিয়ে "চিনিলেননা তাকে কি..........."? ভেরী স্যাড। B:-/
ঘাড়ে কাঠখোট্টা ভুত নয়, ঠান্ডায় ঠান্ডায় তার মাথার তার ছিড়ে গেছে খানিকটা এই আরকি!
ফ্রষ্ট বাইট। জমে উল্টোপাল্টা হয়ে যায় মাঝেসাঝে। যেমন নিজের নামখানি গেঞ্জী উল্টো করে গায়ে দেয়ার মতো উল্টিয়ে জমাট বাঁধিয়ে ফেলেছেন। :P এটা ফৌজদারীতে ফোর টুয়েন্টি ধারায় পড়েনা । কি যে কইলেন আপনি!!!!!!!! :||

এইবার লেখকের কাছ থেকে ১৪৪ ধারার বিশাল একটা ধন্যবাদ পেতেই পারি মনে হয় । :(

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:০৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জি এস ভাই,
হাহাহা ।
আমার অরম্য পড়ে যাদের হাসি আসেনি তারা অবশ্যই আপনার মন্তব্য পরে মুখ গোমড়া করে রাখতেই পারবে না । আরে না না ১৪৪ ধারা আবার কিসের ? বেকসুর খালাসের অনেক অনেক ধন্যবাদ নিন ।

১৪| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৪

শায়মা বলেছেন: উফ তোমরা আবার আরবী ফার্সীও আনবে!!!!!!!

বিভিন্ন ভাষার উপরে পি এইচ ডি, কিউ এইচ ডি এখানে না আনলে কি হত না!!!!!!!!!!

আমার সব জারী জুরি তো ফাস হয়ে যাবে!!!!!!!!! :( :( :( :((


যাইহোক লেখোলজী লিখতে লিখতে আর গেঞ্জী উল্টিয়ে পরে পরে নিজের নামও উল্টিয়ে মাথায় ফ্রস্ট জমে জমে ভাইয়া না হয় আবরী ধরেছে! তুমি আবার হাঁদা মাঁদা কি সব বলছো ভাইয়া!!!!!! তুমি কি আমাদেরকেও গেঞ্জী উল্টায় পরাবে নাকি!!!!!! :|

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:১২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আচ্ছা আমার দুঃখ দুঃখ গল্পের কমেন্টেও এতো হাসির মালা গাথা কেন ?
পিঠে পৃথিবীর তৃতীয় এটমিক বোমাটা পড়বার পারমাণবিক যাতনা দেখেও কারো কোনোই সমবেদনা হচ্ছে না দেখে আমি যারপর নাই বিস্মিত ! আচ্ছা আপনার কেন এমন মনে হলো আমাদের ছাইপাশ দুই একটা কমেন্টেই আপনার মানহানি হবে ব্লগে ? ব্লগের ভার্চুয়াল ইমপ্রিন্টে তাজমহল হয়ে চিরদিনের মতো স্বরণীয় বরণীয় হয়ে গেছে আপনার কবিতা, গল্প ,রম্য কমেন্ট, রিকমেন্ট আর সব ব্লগীয় সাহিত্য । কার সাধ্য সেই পূর্ণিমা চাঁদের আলোকোজ্জ্বল সাহিত্যের গায়ে কলঙ্ক ছিটায় ? না না তা হবে না কোনোদিন কখনো নিশ্চিত থাকুন। ভালো থাকুন। সামুর জন্মদিন আর দেশের জন্মদিনের এই মুহূর্তে শুভেচ্ছা নিন ।

১৫| ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৫

মনিরা সুলতানা বলেছেন: হাহাহাহা
নিজের ডেস্টিনি নাম্বার খুঁজে না পেলে কি হবে, আপনার লেখায় থাকতে পেরে বুঝেছি আমি অতিশয় ভাগ্যবান একজন :P
লেখা আর মন্তব্যে লাইক লাইক আর লাইক।
আর ভাইয়া ব্লগে যারা আসে তারা সবাই কিন্তু নিজের লেখা নিয়ে আজন্ম লজ্জিতরাই, মুল্যায়ন না হলে কিভাবে লজ্জা কাটবে ! আর লজ্জা কাটার পর ই ব্লগ থেকে ভ্যানিশ সব। আপনার লেখালিখি নিয়ে লজ্জা না কাটুক আমাদের সাথেই থাকুন :)

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: হাহাহা ---আপনি ভাগ্যবান কতটুকু জানিনা । তবে আশাকরি অঢেল ভাগ্যবান ।
কিন্তু নিশ্চিত ভাবেই যেটা জানি সেটা হলো সামুর সবার কাছেই ব্লগের পাতায় পাতায় অসাধারণ মুন্সিয়ানায় দিনের পর দিন কবিতার মুগ্ধ আল্পনা আঁকা আপনি স্পেশাল একজন । ভালো থাকুন সব সময় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.