নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

সোনালী চুল আর নীল চোখের শিশুদের দিয়ে হিটলারের এরিয়ান মাস্টার রেস্ তৈরির লেবেনসবর্ন প্রোগ্রাম - আর নববর্ষে কিছু স্বদেশ ভাবনা

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৮


ফটো ১: জার্মানির ভেতরকার একটি লেবেনসবর্ন হোম

হিটলারের প্রসংগে আমাদের সবচেয়ে বেশি শোনা কিছু কথার একটা হোল তার আর্য শ্রেষ্ঠত্বের দাবি। সোনালী চুল আর নীল চোখের ককেশানরা অন্য সব জাতির মানুষের বুদ্বিবৃত্তিক ভাবে উঁচু আর তারাই বিশ্ব শাসনের সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত এই ধারণা ছিল নাজি মতাদর্শে অনেকটা ধর্মীয় বিশ্বাসের মত । হিটলারের এই জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের দাবিরই একটা নৃশংস প্রকাশ ছিল হলোকাস্ট । যাতে কয়েক মিলিয়ন ইহুদিকে "নিম্ন শ্রেণীর" মানুষ হবার কারণে হত্যা করেছিল জার্মান এসএস বাহিনী (SS কথাটা জার্মান শব্দ Schutzstaffel-এর সংক্ষেপ যার মানে হলো প্রটেকটিভ স্কোয়াড্রন Iহিটলারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা (প্রটেকশন) দেবার জন্যই প্রথমে SS গঠন করা হয়েছিল।পরে এর সাফল্যের কারণে এটাকে অনেক বড় আকারে একটা প্যারা মিলিটারি বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়)। আর্য শ্রেষ্ঠত্বের এই অবসেশন থেকেই গড়ে উঠেছিল একটা এরিয়ান মাস্টার রেস্ গড়ে তোলার ধারণা যা তার রিজিমকে থার্ড রাইখ হিসেবে এক হাজার বছর স্থায়ী করতে পারবে (ফার্স্ট রাইখ হলো গ্রীক বিজয়ী রোমান সাম্রাজ্য, সেকেন্ড রাইখ হলো ইউরোপের প্রভাবশালী হোহেনজোলার্ন (Hohenzollern) ডাইনাস্টি যা ব্রান্ডেনবার্গ আর প্রশিয়া (Prussia, উচ্চারণটা লিখতেই পারলাম না) বা মুটামুটি এখনকার জার্মানি জুড়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল | এই দুটো ক্ষমতাশালী সাম্রাজ্যই প্রায় এক হাজার বছর করে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল।)। হিটলারের এই এরিয়ান মাস্টার রেস্ গড়ে তোলার নাৎসি একটি পন্থা হিসেবেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল লেবেনসবর্ন প্রোগ্রাম ।

লেবেনসবর্ন (Lebensborn) কথাটার আক্ষরিক অর্থ হলো "Spring of Life" । একটা এরিয়ান মাস্টার রেস্ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে ১৯৩৫ সালে এই লেবেনসবর্ন পরিকল্পনার শুরু হয় I এই প্রোগ্রাম ছিল হিটলারের অন্যতম সহযোগী হাইনরিখ হিমলারের ব্রেইন চাইল্ড। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে পরাজয়ের পর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর এই সময়ে কঠিন অর্থনৈতিক চাপে জার্মানিতে জনসংখ্যা অনেক কমে যায়। ১৯৩৩ সালের দিকে জার্মানির জন্ম হার ছিল প্রতি হাজারে মাত্র ১৪.৭% । একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায় সে সময় বছরে প্রায় আট লক্ষ এবরশন হতো জার্মানিতে । লেবেনসবোর্ন প্রোগ্রামের একটা লক্ষ্য ছিল অন্তত একলাখ এবরশন কমানো যার মানে হলো একলাখ শিশুকে এই এবরশন থেকে বাঁচিয়ে রাখা। লেবেনসবোর্ন প্রোগ্রামের একটি লিখিত ধারায় প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য নিয়ে বলা হয়েছিল "to support )racially and genetically valuable families with many children." হাইমলার জার্মান "শুদ্ধ রক্তের" মেয়েদের উদবুদ্ধ করেন তার এসএস বাহিনীর বিবাহিত ও অবিবাহিত সদস্যদের সাথে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সোনালী চুল আর নীল চোখের জেনেটিকালি সুপিরিয়র সন্তানের জন্ম দিতে যারা একটা মাস্টার জার্মানিক নর্ডিক রেস্ তৈরী করবে । এ প্রসঙ্গেই হিমলারের উচ্চাকাঙ্খী উক্তি ছিল “Should we succeed in establishing this Nordic race and from this seedbed produce a race of 200 million then the world will belong to us” ।

লেবেনসবোর্ন প্রোগ্রামে পার্টিসিপেট করার জন্য আগ্রহী মেয়েদের অবশ্যই হতে হতো ব্লন্ড চুল আর নীল চোখের অধিকারিণী ।তাদের কোনো জেনেটিক ডিসঅর্ডার নেই সেটা প্রমান করতে হতো মেডিকেল চেক আপের মধ্যে দিয়ে ।তার নর্ডিক হেরিটেজের প্রমান দিতে হতো অন্তত তার গ্রান্ড পারেন্টের নর্ডিক পরিচয় প্রমান করে । তাদের বাবার পরিচয় প্রমান করতে হতো তার শুদ্ধ রেসিয়াল পরিচয়ের জন্য । লেবেনসবোর্ন মা হবার জন্য আগ্রহী মেয়েদের মাত্র ৪০% প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত হতে পারতো সব ধরণের মেডিকেল চেকআপ ও জাতিগত শুদ্ধতা প্রমানের পরে । লেবেনসবোর্ন প্রোগ্রামের শতকরা ৬০% ভাগ মা-ই ছিল অবিবাহিতা | বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসএস বাহিনীর সদস্যরাই হতো লেবেনসবোর্ন শিশুদের পিতা । শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভেবে সেরা জার্মান সৈন্যদের নিয়ে তৈরী এসএস বাহিনী ছিল নাজি বাহিনীর সবচেয়ে এলিট ফোর্স । এস এস সদস্যদের বিবাহের ক্ষেত্রে উর্দ্ধতনের অনুমতি নিতে হতো ভাবি বধূর লেবেনসবোর্ন ক্রাইটেরিয়া সঠিকভাবে পূৰণ হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে । ১৯৩৬ সালে এসএসের এক অর্ডিন্যান্সে সদস্যদের অন্তত চারটি সন্তান জন্ম দিতে পরামর্শ দেওয়া হয় । জাতিগত শুদ্ধতা রাখার জন্য অনেক লেবেনসবোর্ন শিশুর পিতাই নিজের আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে করেন হিমলারের আদেশে।

লেবেনসবর্ণ প্রোগ্রাম জার্মান মা-দের বেশি ছেলেমেয়ে নেবার জন্য নানা ধরণের ইনসেনটিভ ঘোষণা করে । যেমন দশ বছরের কম সময়ে তিন বা তার বেশি শিশু নেওয়া মা -দের জন্য "অনারারি কার্ড" ইস্যু করা হতো যা দিয়ে দোকানের লম্বা লাইন এড়িয়ে কার্ডধারী মা-দের সরাসরি কেনা কাটার সুযোগ,বিভিন্ন রেন্টের ক্ষেত্রে ডিস্কাউন্ট পাওয়া যেত । রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো তে সহজশর্তে ও স্বল্প ইন্টারেস্টে লোন দেওয়া হতো লেবেনসবোর্ন অভিভাবকদের । লেবেনসবোর্ন মা-দের জন্য ছিল সম্মানজনক "Mother's Cross" মেডেল । চার সন্তানের জন্য ব্রোঞ্জ মেডেল, ছয় সন্তানের জন্য সিলভার এবং আট সন্তানের জন্য গোল্ড মেডেল ।

১৯৩৬ সালে প্রথম লেবেনসবর্ন হোমটি তৈরী হয় মিউনিকের কাছে ছোট গ্রাম Steinhoering-এ I লেবেনসবর্ন হোমগুলির বেশিরভাগই তৈরী হয় বাজেয়াপ্ত ইহুদি সম্পত্তিতে । জার্মানির ভেতরে এই প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন স্থানে ১০টি লেবেনসবর্ন হোম তৈরী করা হয় যাতে সেখানে প্রোগ্রামে পার্টিসিপেট করা অবিবাহিতা মা-দের নিজেদের বাসা থেকে অনেক দূরে তাদের সন্তানদের জন্ম দিতে পারে সামাজিক বাধার মুখে না পরেই । জার্মানিতে ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে ৮,০০০ লেবেনসবর্ন শিশু জন্ম নেয় । এই প্রোগ্রামের নিজস্ব জন্ম রেজিস্ট্রেশন অফিসও ছিল যাতে এই সব লেবেনসবর্ণ শিশুদের পরিচয় গোপন রাখা যায় । যে সব অবিবাহিতা মা তাদের শিশুদের নিজেদের কাছে রাখতে চাইতেন না সামাজিক কারণে তাদের জন্য এই প্রোগ্রামের বিশেষ এডাপশন সার্ভিস ছিল । যার মাধ্যমে এই প্রোগ্রাম থেকেই এই সব 'বিশেষ' শিশুদের দেয়া হতো অভিজাত ও ধনী জার্মান পরিবারের কাছে সুষ্ঠু লালন পালনের জন্য ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান অধিকৃত দেশগুলোতেও এই লেবেনসবর্ণ প্রোগ্রাম সম্প্রসারিত করা হয়। স্বাভাবিক ব্লন্ড চুল, নীল চোখ, আর ভাইকিং রক্তের উত্তরাধিকারী হিসেবে নরওয়েজিয়ান মেয়েরা ছিল লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের “racially valuable” মা ।জার্মানির বাইরে নরওয়েতেই সবচেয়ে বেশি নয়টি লেবেনসবর্ন হোম তৈরী করা হয় । ১২,০০০ লেবেনসবর্ন শিশু জন্ম নেয় জার্মান অধিকৃত নরওয়েতে । এ’ছাড়াও অস্ট্রিয়াতে দুটি, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, ও ডেনমার্কে একটি করে লেবেনসবোর্ন হোম তৈরী করা হয়। সব মিলিয়ে অধিকৃত এলাকায় মোট বিশটি হোম তৈরী করা হয় ।

লেবেনসবর্ন হোমগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশু ছাড়াও অধিকৃত ইউরোপের থেকে চেহারায় আর্য বৈশিষ্ঠের ছাপ থাকা শিশু লেবেনসবোর্ন হোমগুলোতে অপহরণ করে পাঠানো হতো আর্য শ্রেষ্ঠত্বের মতাদর্শ অনুযায়ী বা “Germanized" করে গড়ে তুলতে । কিছু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নন জার্মান প্রায় পাঁচ লাখ শিশুকে লেবেনসবর্ণ হোমে পাঠানো হয় । “Germanized" করার ক্ষেত্রে একটি বিষয় দেখা হতো যে এই সব শিশুদের চেহারায় কোনো ইহুদি বৈশিষ্ঠ্য যেন না থাকে । এই শিশুদের একটা বড় অংশ ছিল পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়ার থেকে নেওয়া । একটা পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে পোল্যান্ড থেকে এসএস বাহিনী প্রায় দুই লাখ শিশুকে জার্মানিতে পাঠায় "জাৰ্মানাইজেশনের" জন্য । ১৯৪২ সালে হিমলারের আদেশে স্লোভেনিয়া থেকে ছয় থেকে বারো বছরের মধ্যে ৬০০ শিশুকে জার্মানিতে পাঠানো হয় লেবেনসবোর্ন হোমে ।জাৰ্মান হিস্টোরিয়ান ভলকার কুপ (Volker Koop) তার Give a Child to the Fuehrer – the Lebensborn Organization বইয়ে লিখেছেন যে, উনি জার্মানির ফেডারেল আর্কাইভে এই স্লোভেনিয়ান শিশুদের একটি লিস্ট পেয়েছিলেন এসএস ক্যাপ্টেনের নোটসহ যেখানে এই শিশুদের নামের পাশে লেখা ছিল “parents shot”! চুরি করা এই শিশুদের নতুন নাম, বার্থ সার্টিফিকেট, নকল বংশগত পরিচয়সহ জার্মানির লেবেনসবর্ন হোমে বা জার্মানির স্বচ্ছল পরিবারে পাঠানো হতো প্রতিপালনের জন্য । নানা শারীরিক ও জাতিগত পরীক্ষার ওপর ভিত্তিকরে লেবেনসবোর্ন হোম শিশুদের "আকাঙ্খিত ", "গ্রহণযোগ্য" ও "অনাকাঙ্খিত" এই তিনটে শ্রেণীতে ভাগ করা হতো । এই শিশুদের মাথা, শরীরের সাইজ সহ শারীরিক সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মাপ নেয়া হতো সুপিরিয়র জিনেটিক ফিটনেসের প্রমান হিসেবে ও কোনো জু বৈশিষ্ঠ্য নেই সেটা নিশ্চিত করতে ।


ফটো ২: লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের সব ছেলে মেয়ের শারীরিক বৃদ্ধির মাপ নেয়া হতো সুপিরিয়র জিনেটিক বৈশিষ্ঠ্য নির্ধারণে

লেবেনসবর্ন হোমগুলোতে জন্ম নেয়া ডিজেবল শিশু বা যাদের “Germanized” করা যেত না তাদের মেরে ফেলা হতো বা পাঠানো হতো কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে । লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের ডাক্তার আর নার্সদের নিয়োগ দেওয়া হতো এসএসের মাধ্যমেই ।তারা শুধু যে এই সব শিশুদের লালন পালনের দায়্ত্বি পালন করতো তা নয় ।এই সব শিশুদের নাজি মতবাদে ইনডকট্রিনেশনের দায়িত্বও ছিল তাদের ওপর । কোনো শিশু যথেষ্ট “Germanized" কিনা বা কাউকে কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে কিনা তা বির্ধাৰণের দায়িত্বও ছিল এই সব ডাক্তার আর নার্সদের ওপর।লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের মেডিকেল ডারেক্টর গ্রেগর এবনার (Gregor Ebner) ছিল হিমলারের স্কুলের বন্ধু । যুদ্ধ অপরাধী হিসেবে তার বিচার করা হয় জার্মানিতে । ১৯৭৪ সালে মারা যাবার আগেও নাজি মতাদর্শের ওপর তারা অবিচল বিশ্বাস ছিল ।


ফটো ৩ : সোনালী চুল ও আশ্চর্য নীল চোখের অধিকারী এক বছর দশমাস বয়সী Folker Heinecke কে- চুরি করে “Germanized" করতে নেওয়া হয়েছিল ক্রিমিয়া থেকে ১৯৪২ সালে রাশিয়া আক্রমণের এক পর্যায়ে ।

লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের গোপনীয়তার কাৰণেই এর সম্পর্কে ঠিক তথ্যগুলো পাওয়া খুব কঠিন। যুদ্ধের শেষের দিকে এই প্রোগ্রাম সম্পর্কিত বেশির ভাগ ডকুমেন্টসই এর কর্মকর্তারা নষ্ট করে ফেলে। নিউইয়র্ক টাইমস ২০০৬ সালের "Results of Secret Nazi Breeding Program: Ordinary Folks " শিরোনামের একটা আর্টিকলে এই প্রসঙ্গে লিখেছে, "Only in the last 20 years, as the wall of silence began crumbling, have researchers been able to document the Lebensborn program "। লেবেনসবর্ণ প্রোগ্রামের অনেক হোমই ছিল এক সময়ের পূর্ব জার্মানিতে । ১৯৯০ সালে জার্মানির এক হবার পরেই এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি হয় । ২০০৬ সালের দিকে ষাটোর্ধ লেবেনসবোর্ন শিশুদের একটি গ্রূপ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বললে এই প্রজেক্ট সম্পর্কে খোলাখুলি জানতে পারে সবাই। লেবেনসবোর্ন প্রোগ্রামের মধ্যে দিয়ে ২০০ মিলিয়ন মানুষের বিশ্বজয়ী একটা এরিয়ান মাস্টার রেস্ তৈরী করার হিটলারের লক্ষ্য সফল হয়নি । সারা পৃথিবীর ওপর একটা জাতির আধিপত্যের ইতিহাস রচিত হয়নি । ফার্স্ট রাইখ আর সেকেন্ড রাইখ তাদের আধিপত্য প্রায় একহাজার বছর স্থায় করতে পারলেও হিটলারের থার্ড রাইখ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র এগারো বছর । সোনালী চুল আর নীল চোখের সুপিরিয়র ব্রিডের এই শিশুরা থার্ড রাইখের রক্ষাকবচ হতে পারেনি । নাজি মতাদর্শ বা আর্য শ্রেষ্ঠত্বের ধারক বাহকও হয়নি । বরং যুদ্ধের পরের কঠিন দিনগুলোতে বড় হওয়া লেবেনসবোর্ন শিশুরা আইডেন্টিটি ক্রাইসিস আর সামাজিক নিগ্রহে হতাশ, এলকোহল এবং ড্র্যাগ এডিকশনে জড়িয়ে পরে ।এদের মধ্যে আত্মহত্যার হার তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা যায় । লেবেনসবর্ণ শিশুদের মধ্যে একজনই সারা পৃথিবীতে খুব খ্যাতি পেয়েছিলেন তিনি হলেন এসএস সদস্য বাবা আর নরওয়েজিয়ান মা-র সন্তান বিশ্বখ্যাত সুইডিশ পপ ব্যান্ড ABBA-র অন্যতম সদস্য গায়িকা, সং রাইটার এনি ফ্রিড লিঙস্টাড। ব্লগের অনেকেই হয়তো এনি ফ্রিডের অসাধারণ গলা শুনেছেন ABBA -র পৃথিবী মাতানো গানের সাথে ।


ফটো ৪- লেবেনসবোর্ন বেবী: সুইডিশ পপ ব্যান্ড ABBA -র লিড ভোকালিস্ট ও পপ আইকন এনি ফ্রিড লিঙস্টাড

এই হলো লেবেনসবর্ণ প্রোগ্রামের ইতিহাস । (নীচের ফটোর) ফুটফুটে ছোট মেয়ে ইনগ্রিড ভন ওলহাফেনকে নয় মাস বয়সে অপহরণ হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় অধিকৃত স্লোভেনিয়া (সে সময়কার যুগোস্লাভিয়া) থেকে এরিয়ান মাস্টার রেস্ তৈরির উদ্দেশ্যে জাৰ্মানাইজেশনের জন্য। তার লেখা নিজের বাবা মা পিতৃ পরিচয়ের শেকড় খোঁজার মন ভার করা অসাধারণ বই "Hitler's Forgotten Children " পড়তে পড়তে অনেক ভাবনাই মাথায় এসে ভর করলো (আনা ফ্রাঙ্কের দ্যা এনেক্স পড়ার মতই মুদ্ধ হয়ে পড়েছি আমি এই বইয়ের প্রতিটা পাতা)। রূপকথার গল্পের বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচির মতো এই ছোট লেখাটারও একটা বড় উপসংহার থাকবে ।


ফটো ৫-ইনগ্রিড ভন ওলহাফেন (এরিকা চুরি হবার সময়ের নাম )

লেবেনসবর্ণ প্রোগ্রাম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, এবং এই প্রোগ্রামের ব্যর্থতা সম্পর্কে জানার পরে কিছু ভাবনা ভাবি আমি সব সময়ই । কেন থার্ড রাইখ ব্যর্থ হলো ? কেন লেবেনসবর্ণ প্রোগ্রামের মতো একট প্রোগ্রাম যা বিজ্ঞান সাধারণ ভাবে প্রত্যাখ্যান করে না (মা বাবার জেনেটিকাল বৈশিষ্ঠ্য থেকেই শিশুর মানসিক ও শারীরিক বৈশিষ্ঠ্য নির্ধারিত হাবার কথা বিজ্ঞান স্বীকার করে) সেটা ব্যর্থ হলো ? সেই ভাবনাটা আমি এখনো ভাবি? আমি জানি হিটলারের পরাজয়ের অনেক যৌক্তিক সামরিক ব্যাখ্যা আছে যেগুলো খুবই যুক্তিগ্রাহ্য । সেগুলোর সাথে আমিও দ্বিমত করিনা। কিন্তু ইতিহাসের বিস্তীর্ণ প্রেক্ষাপট থেকে থার্ড রাইখের উত্থান, লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের পরিকল্পনাগুলো ভাবলে বিস্মিত হতেই হয়। মনে হয় হিটলারের পরাজয়,লেবেনসবোর্ন প্রোগ্রামের ব্যর্থতার পেছনে একটা থিওলজিকাল ব্যাখ্যাও কি থাকতে পারে ? যাক সেগুলো নিয়ে পরে কখনো বলা যাবে । নতুন একটা বছরের প্রথম মুহূর্ত কড়া নাড়ছে । লেবেনসবর্ন প্রোগ্রাম সম্পর্কে পড়তে পড়তে মাথায় আসা অন্য একটা কথা বলে লেখার শেষ করি ।

দেশ নিয়ে ব্লগারদের ভাবনা চিন্তা দেখে সব সময়ই আমার ভালো লাগা আছে । সব লেখায় কমেন্টস করা না হলেও গত কয়েক দিনে দেশ ভাবনা নিয়ে কতগুলো লেখা খুব ভালো লেগেছে । চাঁদগাজী সাহেবের একটা চিন্তা জাগানিয়া লেখা "ঢাকা মেগা সমস্যার শহর, ইহার জন্য দরকার অভিজ্ঞ এডমিনিষ্ট্রেটর" । মোস্তফা কামাল পলাশ এ বছরের অর্থনীতির নোবেল নিয়ে লিখেছেন "২০১৯ সালের অর্থনীতিতে নোবেল পুরষ্কার জয়ি অধ্যাপক অভিজিৎ ব্যানার্জি ও তার স্ত্রী এস্তার দুফলাও এর উন্নয়নশীলদেশগুলোর জন্য এর পরামর্শ"।আর একটু ব্যতিক্রমী হলেও নীল আকাশের "কতটা বেহায়া হলে কাউকে নির্লজ্জ বলা যায়!!! (প্রেক্ষাপট # বাংলাদেশের ফুটবল)" লেখাটাতেও দেশের উন্নয়নের একটা দিক নিয়ে চিন্তা ভাবনাটা খুবই পরিষ্কার ।

চাঁদগাজী সাহেবের লেখায় আমাদের নেতা নেত্রীদের দক্ষতার সমস্যাটা শিরোনামেই পরিষ্কার হয়ে আছে । মোস্তফা কামাল পলাশ আর নীল আকাশের লেখাটার সারমর্মেও নেতা নেত্রীদের নিয়ে সেই একই হতাশার সুর। যারা আমাদের দেশের নেতৃত্ব দেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাদের দেশ পরিচালনর ক্ষেত্রে ভয়াবহ অদক্ষতা । যেমন উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অভিজিৎ চৌধুরী যা বলেছেন তা কিন্তু খুব নতুন কিছু নয় । ১৯৭৩ সালে জার্মান ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত অক্সফোর্ড অর্থনীতিবিদ শুমেকার (E. F. Schumacher) তারবিখ্যাত বই " Small Is Beautiful: A Study of Economics" -এ বলেছেন টেকসই উন্নয়নের জন্য পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর যতদূর সম্ভব ইন্ডিজেনাস টেকনোলজি ব্যবহার করা দরকার পশ্চিমের হাইটেক ব্যবহারের প্রবণতা বাদ দিয়ে । কারণ সেটাই একটা দেশের সম্পদের সুষম ও দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে । তাছাড়া শুমেকার খুব জোরের সাথেই শিক্ষা, অবকাঠামোতে বিনিয়োগের কথা বলেছেন উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য । অভিজিৎ চৌধুরীর বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার ব্যাপারটার মতো করেই অমর্ত্য সেন অনেক আগেই বলেছেন যে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাইলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতেই হবে । কারণ গণতান্ত্রিক একটা সমাজেই সম্পদের সুষম বন্টন সম্ভব কারণ সেখানে সরকারের জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে । বাংলাদেশ স্বাধীন হবার মাত্র দুই বছর পরে লেখা একটা অসাধারণ বই -যা উন্নয়নশীল যে কোনো দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবধর্মী ম্যানুয়াল হতে পারতো সেগুলো কি আমাদের কোনো নেতা নেত্রী পড়েছেন, না সেটার কথাগুলো নিয়ে কিছু ভেবেছেন ? আমরা হাতের কাছে রাখা উন্নয়নের সিঁড়ি ফেলে লাফ দিয়ে মহাশূন্যে সেটেলাইট উড়িয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা ভাবছি ! ফুটবলের রাঙ্কিংও যে ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই করছে সেখানেও ফুটবল হর্তাকর্তাদের নেতা হিসেবে সীমাহীন ব্যর্থতাই প্রধান । ভুল পদ্ধতিতে সাফল্য পাওয়া যায় না সেটা বুঝতেও আমাদের ফুটবল কর্তারা ব্যর্থ !! আমাদের দেশের ক্ষমতাসীন মহান নেতা নেতৃবৃন্দ কখনোই উন্নয়নের এই সাধারণ বিষয়গুলো মনে রাখেননি বা রাখতে চাননি । লংকায় গিয়ে আমাদের মহান নেতানেত্রীবৃন্দ সবাই রাবনই হয়েছেন-মনে হয় হতেও চেয়েছেন ।

আমার মাঝে মাঝে মনে হয় লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের আদলে নেতা বানাবার একটা 'লিডারসবর্ন' সিস্টেম আমাদের দেশে তৈরী করা যায় কিনা ? সেই 'লিডারসবর্ন' সিস্টেমের স্কুল কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী ভর্তির ক্রাইটেরিয়ায় কঠিন ভাবে বংশগত উত্তরাধিকার, এখনকার নেতা নেত্রী, ব্যাঙ্ক লুটপাটকারী, ক্যাসিনোকান্ড করে সম্পদ আত্মসাৎ করা, অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা দখল করা, চালবাজ, তেলবাজিতে হওয়া এলিটদের ছেলেমেয়েদের বাতিল/ অযোগ্য ঘোষণা করতে করতে হবে । বাংলাদেশের শহর, বন্দর, গ্রাম খুঁজে খুঁজে সৎ,নীতিবান, দেশ প্রেমিক মানুষগুলোর ছেলেমেয়েদের অগ্রাধিকার দিতে হবে সেই স্কুল কলেজে ভর্তির ব্যাপারে।যাদের ডিএনএ অবৈধ ক্ষমতা দখল, সরকারের টাকা চুরি অপব্যবহারের জেনোমের স্পর্শে ক্লেদাক্ত হয়নি কখনো তেমন কিছু মানুষ দিয়ে আমরা আমাদের দেশ শাসনের উপযুক্ত লিডারদের একটা মাস্টার রেস্ তৈরীর কাজ শুরু করতে পারি না আসছে বছর থেকেই ? যাদের থেকে অদূর ভবিষ্যতেই আমাদের দেশ পাবে নেলসন ম্যান্ডেলা,লি কুয়ান, জর্জ ওয়াশিন বা আব্রাহাম লিঙ্কনের মতো কোনো নেতা ? হিটলারের লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের লক্ষ্য ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অত্যাচার আর দুঃশাসনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা স্থায়ী করা । তাই হয়তো তার পতন হয়েছিল সহসাই ।কিন্তু আমাদের 'লিডারসবর্ন' প্রোগ্রামের লক্ষ্যতো অবিরল অশ্রু ধারার অন্তহীন স্রোতে ভাসা দেশের মানুষের সামান্য স্বস্তি ও সুখ নিশ্চিত করা। এই প্রোগ্রাম সফল করতেতো কোনো বিশ্বযুদ্ধ করতে হবে না আমাদের ! শুধু দরকার একটু শুভ বোধ ।এই 'লিডারসবর্ন' প্রোগ্রামটা সফল করতে আমরা সবাই উচ্চকিত হতে পারি না ?আমি খুব ইমোশনাল কোনো মানুষ না তবুও এমন একটা ইউটোপিয়ান চিন্তা ভাবনা কেন যেন লেবেনসবর্ন প্রোগ্রাম সম্পর্কে পড়ার পর থেকেই মাথায় ঘুরছে !

নতুন বছরের শুভ্ভেচ্ছা সবাইকেই ।

ফটো -ইন্টারনেট




ফটো ৬ : ইনগ্রিড ভন ওলহাফেনের লেবেনসবর্ন প্রোগাম নিয়ে নিজের শিকড় খোঁজা অসাধারণ বইটার কভার (আমেরিকান ভার্সন)
(এই ফটোটা আমার তোলা । হাহাহা ! লাইব্রেরি থেকে এনে পড়ার পর আইফোনে তোলা )

মন্তব্য ৩৮ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৩৮) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৫১

রাজীব নুর বলেছেন: হিটলারের জীবনী পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম।
পোষ্টে চাঁদগাজীর কথা উল্লেখ করার জন্য ধন্যবাদ।

নতুন বছরের শুভেচ্ছা আপনাকেও।

০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:২৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নূর,
অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়া আর মন্তব্যের জন্য ।
চাঁদগাজী সাহেবের লেখাটা আমার লেখার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ । তাই উনার কথা এসেছে এই লেখায় ।
আমিতো আগেও আমার অন্য লেখাতেও চাঁদগাজী সাহেবের লেখার রেফারেন্স দিয়েছি লেখার প্রসঙ্গের সাথে মিল রেখে ।
ভালো থাকুন । হ্যাপি নিউ ইয়ার ।

২| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:


হিটলার কিছু বিষয়ে বিশাল দক্ষতা অর্জন করেছিলো: সে ভালো বক্তা ছিলো, জার্মানরা যে, শক্তিশালী জাতি ও তাদের উজ্বল ভবিষ্যত নিয়ে সে শিল্প উন্নয়নের রূপরেখা এঁকেছিলো; ১ম বিশ্বযু্দ্ধ পরাজিত হওয়ার পর, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড জার্মানীকে ভার্সাইচুক্তিতে সই করতে বাধ্য করায় জার্মানরা হতাশায় ভুগছিলো, সেই সময় হিটলারের দক্ষতা জার্মানদের ভুল পথে ঐক্যবদ্ধ করে।

উচ্চবর্ণের সাদা আর্য জাতি নিয়ে তার কিছু পাগলামী ছিলো। তবে, সে জার্মানদেরকে যুদ্ধ নিয়ে ভয়ংকর দু:খের সাগরে নিক্ষিপ্ত করেছিলো।

বাংগালী জাতি শিক্ষাকে রপ্ত করতে পারছে না; এরা লজিক, অংক, বিজ্ঞান, টেকনোলোজী, অর্থনীতি, দর্শন ও রাজনীতি বুঝে না; ২য় শ্রেনীতে উঠতে পারলে কবিতা লেখেন, পিএইচডি করার পরও ২য় শ্রেণীর লেভেলেই কবিতা লেখেন।

০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৩৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: চাঁদগাজী সাহেব,
হ্যাপি নিউইয়ার ।
খুব সাধারণ ভাবে হয়তো আপনি মন্তব্যের প্রথম দিকে যা বলেছেন সেটাই ঠিক শুধু হিটলারের ক্ষেত্রে "দক্ষতা"-কথাটার বদলে আমি 'কূটচাল' কথাটা ব্যবহার করতে চাই ।দক্ষতা কথাটা আমি পজিটিভ অর্থেই ব্যাবহার করতে পছন্দ করি ।

বাংগালী জাতি শিক্ষাকে রপ্ত করতে পারছে না; এরা লজিক, অংক, বিজ্ঞান, টেকনোলোজী, অর্থনীতি, দর্শন ও রাজনীতি বুঝে না; ২য় শ্রেনীতে উঠতে পারলে কবিতা লেখেন, পিএইচডি করার পরও ২য় শ্রেণীর লেভেলেই কবিতা লেখেন। আমি জানি না কথাটা পুরো ঠিক কিনা । আসলে আমরা আমাদের দেশেতো কখনোই একটা পরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে পারিনি । এটা ঠিকঠাক ভাবে ইম্প্লিমেন্টেশনের ব্যাপারে কোনো মোটিভেশনও তৈরী করতে পারিনি স্টেকহোল্ডার কারো ক্ষেত্রেই । তাই শিক্ষার ক্ষেত্রে একটা অরাজকতা চলেই আসছে । কিন্তু সেটা থেকে আমি আমাদের ছেলে মেয়েরা 'লজিক, অংক, বিজ্ঞান, টেকনোলোজী, অর্থনীতি, দর্শন ও রাজনীতি বুঝে না' এতো কঠিন মন্তব্য করতে চাই না ।

আর হাহা আপনি কবি আর বিজ্ঞানীকে আলাদা করে দেখছেন কেন ? সেই মূল্যায়নওতো ভুল হয়ে গেলো মনে হয় ! কবিতা আর সাইনসতো আলাদা কোনো বিষয় না ! একই ।সৃষ্টিশীল একটা কবিতা মানেই শুদ্ধ বিজ্ঞান । বিশ্বাস করলেন নাতো ? তাহলেতো এখন আপনার স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর "কবিতা ও বিজ্ঞান" লেখাটা পড়তে হবে ! কবির সৃষ্টিশীল অস্তিত্বটা একটু মনে করার চেষ্টা করুন তাহলেই হয়তো আরেকটু সদয় হতে পারবেন কবিকুলের প্রতি । আমি জানি ব্লগের কবিকুলের হালি হালি প্রাত্যহিক কাব্য ডিসকভারির কথা ভাবলে সৃষ্টিশীল কথাটা মনে আসা সহজ নয় ! হাহাহা ---।

ভালো থাকুন ।

৩| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৪

শের শায়রী বলেছেন: অনেকদিন পর একটা অসাধারন লেখা পড়লাম মলাসইলমুইনা ভাই, হিটলারের এরিয়ান হাই রেসের কথা পড়ছিলাম, কিন্তু লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের কথা কিছু জানতাম না। পুরো ব্যাপারটা অত্যান্ত প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে এনেছেন। লেখা সরাসরি প্রিয়তে।

অফ টপিকসঃ বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এই মুহুর্তে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। যার কারনে কিছু লিখতে চাই না, তারপরো অল্প কথায় বলি হিটলার নিজে তার কথিত এরিয়ান রেসের মত সবল বা উচু লম্বা না হলেও তার জাতীয়তাবাদ (অন্য কথায় উগ্র জাতীয়তাবাদ) প্রবল ছিল। এনিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের দেশে নেতা নেত্রী তৈরী করতে "লেবেনসবর্ন প্রোগ্রাম" এর মত কিছু হলে তো ভালই হত, কিন্তু কে করবে সে চিন্তা! এদেশে রাজনীতি একটা ব্যবসা। যেই রাজনীতি করে সেই চিন্তা করে রাজনীতিকে একটা ব্যবসায়ীক ইনভেষ্টমেন্ট। অথচ এই দেশে খুব অল্প করলেই মানে দেশের ভালোর জন্য, ইতিহাসে অমর হয়ে থাকার সুযোগ ছিল। কিন্তু কাউকেই দেখি না। যাক এনিয়ে আর কোন আলোচনায় যাব না।

লেখাটা খুব ভালো লাগছে, দয়া করে আরো লিখুন এমনতরো।

০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৪৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: শের শায়রী,

মন্তব্যের প্রথম অংশের জন্য ধন্যবাদ ।

আর মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশের সাথে পুরো একমত ।
যেই রাজনীতি করে সেই চিন্তা করে রাজনীতিকে একটা ব্যবসায়ীক ইনভেষ্টমেন্ট। অথচ এই দেশে খুব অল্প করলেই মানে দেশের ভালোর জন্য, ইতিহাসে অমর হয়ে থাকার সুযোগ ছিল। কিন্তু কাউকেই দেখি না। এই কথাগুলোতো আমার কথাও আপনি লিখলেন কিভাবে । এজন্যই ল্বব্লগের রাজনৈতিক আলোচনায় আমি সাধারণতো মন্তব্য করি না । রাজনীতির মাফিয়াইজম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের উন্নতি কঠিন ব্যাপার ।

যাক নতুন বছরের প্রথম দিনে আর এসব মন খারাপ কথা বলি না । ভালো থাকুন । হ্যাপি নিউ ইয়ার ।

৪| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:৪৫

সোহানী বলেছেন: ভাইরে এইটা আপনি কি চাইলেন B:-) । অতো কিছু চাই না শুধু বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। দেখবেন দূর্নীতি বন্ধ। তারপর দেখবেন সবাই সবার কাজ করতাছে ঠিকমত :-B । আমাগো লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের দরকার নাই, বিশুদ্ধ নেতার দরকার নাই শুধু দরকার দূর্নীতি বিহিন ক্ষমতা অলোভী নেতা-নেত্রী।.................. তারপর দেখবেন দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে।

লেবেনসবর্ন প্রোগ্রাম সম্পর্কে খুব সামান্যই জানতাম। আপনার অসাধারন লিখায় তা পানির মতো স্বচ্ছ হলো। লিখতে থাকুন এমন করে। অনেক ভালো কাটুক নতুন বছর। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সোহানী,
হাহাহা ----আমি আবার কি বললাম ? কিছুই বলিনি !
ইউটোপিয়ান মনের চিন্তা ভাবনার কথা লিখেছি সেটাইতো বললাম । হ্যা, আমাদের খুব কিছু চাওয়ার নেই, " লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের দরকার নাই, বিশুদ্ধ নেতার দরকার নাই শুধু দরকার দূর্নীতি বিহিন ক্ষমতা অলোভী নেতা-নেত্রী।..." কিন্তু এখনকার ক্ষমতা কাঠামোতে কি এগুলোর কোনোটাই করা যাবে না নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থাই করা সম্ভব ? এই ক্ষমতা কাঠামো রেখে নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার আয়োজন করে অবশ্য বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে । একটু ট্যাফ্যা করাতেই দেখুন কেমন সিনহা বাবুর পরিবারের ভার মুক্ত হয়ে গেলো দেশ ! জামাই বৌ দু'জনেই দেশ ছাড়া ! তুহিন মালিকের অবস্থার কথা ভাবুন মালিকতো পরের কথা চাকরের মতো দেশ থেকে বহিস্কার ! করে ফিরতে পারবেন নিজ দেশে আল্লাহ মালিকই জানেন ! সে রকম নিরপেক্ষ কাজ করতে চাইলেই বা বললেই ওই খাতে জনসংখ্যা ব্যাপক ভাবে হ্রাস পাবে দেশে আমি শিওর । তাই ওই নিয়ে কিছু বলতে চাইনি । আপাতত ইয়া নফসি বলা বাদ দেইনি এটুকু জোরের সাথেই বলছি । ভালো থাকুন ।

হ্যাপি নিউ ইয়ার ।

৫| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১:০৯

অন্তরন্তর বলেছেন: অনেক অজানা জানলাম আপনার এই সুন্দর পোস্টের মাধ্যমে। পৃথিবীর সকল মানুষ শুধু মানুষ নামের প্রতি সুবিচার করুক এই প্রার্থনা করি নতুন বছরে। শুভ নববর্ষ।

০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ ভোর ৬:১৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: অন্তরন্তর,
অনেক ভালো লাগা আপনার মন্তব্যে । হ্যা, গত কালকের চেয়ে আমাদের আগামীকালটা, গত বছরের চেয়ে এই বছরটা সুন্দর হোক সবার জন্য সেটাই চাওয়া । কিন্তু আপনার পোস্টগুলো নেই কেন ব্লগে ? আপনাকে মাঝে মনে হয় অনেকদিন দেখিওনি ব্লগে । আশাকরি ভালো ছিলেন আর এখনো ভালো আছেন । পোস্টগুলোকে আবার নিয়ে আসুন প্লিজ ব্লগে ।আপনারা পুরোনো ব্লগার ।আপনাদের লেখা থেকেইতো ব্লগ শুরুর সময়টা কেমন ছিল সেটা জানা যায় । আপনাদের লেখা না থাকলেতো সেটা সম্ভব নয় । ভালো থাকুন ।হ্যাপি নিউ ইয়ার ।

৬| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ ভোর ৪:২৫

রুপ।ই বলেছেন: হিটলারের জন্য বর্তমান জার্মানরা লজ্জিত , আমি এমনি একটা লেবেনসবর্ন হোম ঘুরে দেখেছি, দারুন লিখেছেন।

০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:২০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রুপ।ই ,
ব্লগের জন্য লিখতে গিয়ে কোনো কোনো লেখা নিয়ে অনেক সময়ই আমার মনে হয় আমি না লিখে অন্য কেউ লিখলে লেখাগুলো আরো ভালো হতো । এই লেখাটা সেরকম একটা লেখা । আমি জানি অনেক ব্লগার জার্মানিতে থাকেন । ইউরোপ থাকেন । ভেবেছিলাম অনেকেই হয়তো লেবেনসবোর্ন হোমগুলো দেখেছেন ফার্স্ট হ্যান্ড ( এই যে আপনি জানালেন একটা লেবেনসবোর্ন হোম আপনি ভিজিট করেছেন ।এখনতো দেখি আমি মুটামুটি সাইকিক ! হাহাহা ) আমি সব সময়ই ভেবেছি লেবেনসবোর্ন হোমগুলো যারা দেখেছেন তার ইতিহাস জেনেছেন ফার্স্টহ্যান্ড তারা আমার চেয়ে আরো অনেক বেশি ভালো করে লিখতে পারবেন লেবেনসবর্ন প্রোগ্রাম সম্পর্কে । প্রায় দেড় বছর আগের এই লেখা যে আরো আগে পোস্ট করিনি সেটাও সেই সংকোচ থেকেই । আপনিও নিশ্চই পোর্ট এপোড়তে ভেবেছেন কি এলেবেলে লেখা ! আপনি আরো কত ভালো করে লিখতে পারতেন লেবেনসবোর্ন প্রোগ্রাম নিয়ে ! আমি জানি সেটা । কি যে লজ্জায় ফেললেন আমাকে !

আর একটা কথা, আপনি ইদানিং এতো কম লিখেন কেন ? আপনার 'পিছুটান' লেখাটা আমি পড়েছি যদিও কমেন্ট করা হয়নি । কেমন করে অমন লেখা যায় আমাকে একটু টিউটোরিয়াল করে দিনতো । দেখি কর্ণফুলীর মোহনা আর সাগরের বালুবেলায় সব ঢেউ আর ঝড় থেকে বাঁচিয়ে রাখা আমার স্কুল দিনের স্মৃতি নিয়ে 'পিছুটান' -এর মতো একটা মনকাড়া লেখা লিখা যায় কিনা । অদ্ভুত রকমের ভালো হয়েছে আপনার লেখাটা । ভালো থাকুন ।নতুন বছরের শুভেচ্ছা নিন ।

৭| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৩৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,




বলটা একদম ষ্ট্যাম্পের উপরেই ফেলেছেন। এখন দেখার, কে কেমন করে সেটা খেলতে পারে!

আর আপনার লেখা নিয়ে বলার কিছু নেই। প্রায় সব লেখার তীরটা অব্যর্থ ভাবে লক্ষ্যভেদ করে ফেলে যা লেখাকে গ্রহনযোগ্য করে তোলে অনায়াসে। এটাও তেমন "এরিয়ান" একটি লেখা।

নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

০৩ রা জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জী এস ভাই,
হাহাহা ----
আপনার এই খুব মজার মন্তব্যের মতই সব হতাশার যদি একটা মজার শেষ হতো তাহলেতো খুশিই হতাম ।
এই অব্যর্থ, গুডলেংথ বল টল করেও কিছু হয়না ! স্টাম্পের ওপর বলগুলোও সরকার/ ক্ষমতাসীন দলের ব্যাটসম্যানরা নায়াসেই খেলে চার ছয় মেরেই যায় অনায়াসে । তাই দিন শেষে অন্য দলের (আমার মতো ছাইপাশ লেখা ব্লগার দলের) স্কোররকার্ডে কোনো প্রাপ্তি নেই,হতাশার বিরাট প্রদর্শনী ছাড়া ।

ব্লাগরস ডেতে আপনি দেশে ছিলেন না ? আমিতো ভেবেছিলাম আপনি থাকবেন । এমনকি ম্যাগাজিনের জন্যও লেখা দেননি !সব মিলে খুব অবাক হয়েছি কিন্তু ।আপনার মন্তব্য সব সময়ই অনুপ্রেরণার।ভালো লাগা মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ নেবেন। আপনার আর ফ্যামিলির জন্য রইলো নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা ।

৮| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৯

টারজান০০০০৭ বলেছেন: দারুন পোস্ট ! আগেও পড়েছিলাম কোথাও , তারপরও ভালো লাগলো।

লিডার্সবর্ন প্রোগ্রাম কিন্তু আমাদের দলগুলোতে আছে ! বামাতি , জামাতি দলগুলোতে তৃণমূল পর্যায় হইতেই লিডার্সবর্ন প্রোগ্রাম ছিল, এখনও হয়ত আছে ! অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোতেও কমবেশি আছে ! তবে উহা দলবাজির জন্যই, দেশবাজির জন্য নহে !

আমাদের ইস্কুলগুলোতেও কি জানি একখানা প্রোগ্রাম চালু হৈছে, সবাই ভোট দিয়া বাছুর নির্বাচন করে !!

বিশ্বের ইতিহাসে আলাদা রেস্ তৈরির চেষ্টা প্রথম নহে ! সার্বিয়ার কসাই মিলোসোভিচ বসনিয়ান মেয়েদের ধর্ষণ করিয়া নতুন রেস্ তৈরী করিতে তাহার সৈনিকদের নির্দেশ দিয়াছিল। হালের চীনের উইঘুরে নারীদের দ্বারা হান জাতি তৈরী করার জন্য মহান শুয়োর সি পিংয়ের সরকার চেষ্টা করিতেছে ! কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী গোবৎসদেরও কাশ্মীরি মাইয়াদের লইয়া উল্লাস করিতে দেখা যায়। হিটলারকে এইসব হারামজাদাদের পথপ্রদর্শক বলা যায় !

০৩ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:২০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: টারজান০০০০৭,

আমাদের দেশে সবই হয় । অন্য দল থেকে টেনে এনে, নানা সেক্টর থেকে নমিনেশন দিতে ধার করে এনেও নেতা বানানো হয় ।কিন্তু সবই আসলে নতুন বোতলে পুরোনো মদের মতো । ঘুরে ফিরে সেই সবই এক । এই চেষ্টাগুলো সম্পর্কে সত্যিটা আসলে আপনিই বলে দিয়েছেন, তবে উহা দলবাজির জন্যই, দেশবাজির জন্য নহে !" (আপনার এই কথাটা আমাদের সব রাজনৈতিক দলের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন ফর্মে সত্যি মনে হয় )আর সে'জন্যই আমাদের অবস্থা বদলায় না ।

এই অবস্থার কথা ভেবে খারাপ লাগা থেকেই লেবেনসবর্ন নিয়ে লেখাটার কথা ভেবেছিলাম । যাক লেখাটা পড়া আর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।সাতের আগে শূন্য দুই একটা গড়বড় হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।

৯| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২১

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: চালুনির মতো এতো ফুটো বন্ধ হবে কবে কিভাবে? সীমাহীন দূর্বলতা । এসব মেকাপ করে কবে দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছবে ? দারুন একখানি পোস্ট।

হ্যাপী নিউ ইয়ার ।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:২২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সেলিম আনোয়ার,
আহাহা ---লেখার ভুলভ্রান্তিগুলোতো আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন সবাইকে !
হ্যা এতো ফুটো ফাটা আমাদের নিজেদের,নিজেদের ইচ্ছের মধ্যেই যে এই সবের মধ্যে দেশের উন্নতির কোনো কথা ভাবাই কঠিন। তবুও মাঝে মাঝে কখনো কখনো ইউটোপিয়ান চিন্তাগুলো কেমন করে যেন এসে মাথায় ভর করে ! সেই থেকেই লেখা-একটা স্বাপ্নিক লেখাও বলতে পারেন এটাকে । অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে । নববর্ষের শুভেচ্ছা ।

১০| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:৪৬

ঢাকার লোক বলেছেন: রোগই সংক্রমক, স্বাস্থ্য নয়! অদূরভবিষ্যতে দূর্নীতিবাজ বৃদ্ধির সাথে সৎ লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেরে উঠবে তেমন আশা করা কঠিন! তবু আশা করে যাবো আসছে বছরগুলো প্রতিটিই আনুক আগের বছরের চেয়ে বেশী কল্যাণ, দেশের জন্য, সবার জন্য।
ধন্যবাদ সুন্দর একটা বিষয়ে লিখার জন্য!

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:২৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ঢাকার লোক,
জ্বি ভাই, সেই আশা থেকেই এই লেখাটা আমি লিখেছি । অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়ে সুন্দর মন্তব্যের জন্য ।

১১| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১:০৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: একটা অজানা জিনিস জানলাম। আপনাকে ধন্যবাদ। হিটলারকে অনেকেই পছন্দ করে ইহুদী নিধনের জন্য। তবে, তার সবকিছু ঠিক থাকলে আমার ধারনা সে মুসলমান নিধনও শুরু করতো অচিরেই। আর আপনার স্বদেশ ভাবনা নিয়ে বলার খুব একটা বেশী কিছু নাই। আমাদের শাসক শ্রেনী যতোদিন না নিজের চিন্তা বাদ দিয়ে দেশের এবং দেশের জনগনের কথা চিন্তা করা শুরু করবে, ততদিন এই দুর্ভাগা দেশটা দুর্ভাগাই রয়ে যাবে।

সব ক্ষেত্রেই আমাদের এখনও বহুপথ পাড়ি দিতে হবে। আমাদের দেশে মেধার অভাব নাই। অভাব হলো মেধাকে কাজে লাগানোর মতো দক্ষ প্রশাসনের। মেধাকে প্রস্ফুটনের সুযোগ এবং যথাযথ পরিবেশ তৈরীর।

আমাদের গাজীভায়ের মতো মেধাবীরা বিদেশে বসে বসে মিসাইল ছুড়লে দেশের কোন জিনিসটা উদ্ধার হবে!!!

০৬ ই জানুয়ারি, ২০২০ ভোর ৫:৫১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ভুয়া মফিজ,
হ্যা, ঠিক বলেছেন হিটলার টিকে গেলে ঝামেলার অনেক কিছুই করতো ।মুসলিমরা অবশ্যই তার টার্গেট হতে পারতো।এখন যেমন নিও নাজিদের টার্গেট হয়েছে মুসলিমরা জার্মানিতে বা আমেরিকায় । আমার স্বদেশ ভাবনার গলদটা আসলে আমি জানি। কিন্তু দেশের স্বাভাবিক উন্নতির যে কোনো ইশারা ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না সেটাই আসলে যন্ত্রণার । সব ক্ষেত্রেই আমাদের এখনও বহুপথ পাড়ি দিতে হবে। আমাদের দেশে মেধার অভাব নাই। অভাব হলো মেধাকে কাজে লাগানোর মতো দক্ষ প্রশাসনের। মেধাকে প্রস্ফুটনের সুযোগ এবং যথাযথ পরিবেশ তৈরীর। আপনার এই কথাটার সাথে পুরোই একমত । কিন্তু আমাদের ক্ষমতার কেন্দ্রে যারা থাকেন তাদের চিন্তা ভাবনা এতো পঁচে গেছে যে মাঝে মাঝে মনে ইউটোপিয়ান চিন্তা ভাবনাগুলোই উঁকি দেয় । তাই আমার স্বদেশ ভাবনাটাও স্বাভাবিক আর নেই সেটা স্বীকার করছি । অনেক ধন্যবাদ লেখাটি পরে মন্তব্য করার জন্য ।ও হ্যা, আর আপনার গাজী ভাইয়ের ব্লগ বিপ্লবের ছোয়া কখনো দেশের পরিবর্তনে কাজে লাগবে সেই আশাই না হয় করি এখন ? হাহাহা...।

১২| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪

জুন বলেছেন: হিটলারের বিভিন্ন কার্য্যকলাপ অনেক জার্মানদের না পছন্দ । তবে প্রথম মহাযুদ্ধে হেরে ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে অনেক কিছু হারাতে হয়েছিল । টাকা পয়সা ধন দৌলত তো বটেই জার্মানীর বিশাল ও সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো ও তাদের হাতছাড়া হয় । যা তাদের ভেতরে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল । কিন্ত জার্মানীতে বসবাস্রত ইহুদীরা যে কি ছিল তা মার্চেন্ট অভ ভেনিসেই সেক্সপিয়ার ফুটিয়ে তুলেছেন । তবে তার হলোকাস্ট কোন ভাবেওই মেনে নেয়া যায় না মলাসইলমুনা ।
রোবটের মত বাচ্চা উৎপাদন করে আর্য্য মাহাত্য গড়ে তুলতে চেয়েছিল হয়তো হিটলার । প্রাচীন নগরী স্পার্টাতে বিকলাংগ বাচ্চা হলে তাকে পাহাড়ের উপর থেকে ছুড়ে ফেলা হতো, কারন যোদ্ধা এই জাতির মাঝে বিকলাঙ্গ মানুষ কোন কন্ট্রিবিউট করতে পারবে না এই ছিল তাদের চিন্তাধারা । ।

অনার্স এ পাঠ্যবই এ বিশাল জায়গা দখল করে রাখা সুচী ইউরোপের প্রভাবশালী রাজবংশর নাম উচ্চারন করতাম হোহেনজোলার্ন । জানি না আপনি হয়তো সঠিক উচ্চারন করেছেন।
আর প্রুশিয়া লিখতে চাইছিলেন কি ?

অনেক ভালোলাগা রইলো ।
+

০১ লা মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: জুন,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।প্রথমেই একটা স্যরি বলে নেই অমার্জনীয় দেরিতে আপনার এই চমৎকার মন্তব্যের উত্তর দেবার জন্য । নিশ্চই খেয়াল করেছিলেন যে এই মন্তব্যের জন্য নিউটনিয়ান ফিজিক্সের সূত্র ধরেই 'হোহেনজোলার্ন' ডাইনেস্টির নামটা ঠিক করে দিয়েছিলাম প্রায় সাথে সাথেই । আপনার মন্তব্যের কারণে ইতিহাসের বিষয় নিয়ে লেখার সাহসটা বেড়ে গেলো অনেক ।কারণ ভুলভাল হলে আপনি নিশ্চিত ধরিয়ে দিতে পারবেন জানি । আর কারেকশন করে নিতে আমি খুবই দ্রুততা দেখাবো সেটার প্রমিজ আমি এখনই করছি ।

আপনার মন্তব্যে হিটলার আর জু'দের ব্যাপারে যা বলেছেন সেটা খুবই সত্যি ।সেটা নিয়ে কোনো দ্বিমত করার সুযোগ নেই কারোই । স্পার্টানদের ব্যাপারটাও সত্যি ।আমি একটা ডকুমেন্টারি দেখেছিলাম গ্রীকদের যুদ্ধ টেকনিকের ওপর সেখানে স্পার্টানদের এই যোদ্ধা হিসেবে ছোটোবেলা থেকে গড়ে তুলবার ব্যাপারটা দেখিয়েছিলো । আর সেখানেই বিকলাঙ্গ বা যুদ্ধ সামর্থ্য কম থাকা বাচ্চাদের ব্যাপারে তাদের কঠোর মনোভাবের যে ব্যাপারটা আপনি বলেছেন সেটা সম্পর্কে জেনেছিলাম । ইতিহাস বুঝি এমন করেই ফিরে ফিরে আসে ! হলোকাস্টের ব্যাপারটা আসলে স্পার্টানদের মনোভাবের মতোই অনেকটা -সামর্থ্য কম বলে একটি গ্রূপের ওপর নৃশংসতা । যাক,থাইল্যান্ডে মনে হয় করোনা ভাইরাসের ইনফেকশন ধরে পরেছে সাবধানে থাকবেন। অনেক ভালো থাকবেন সেই আশা করি সব সময়ই ।

১৩| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৩০

কাতিআশা বলেছেন: একটানে পড়ে শেষ করলাম..খুব ভাল লাগল! হ্যাপি নিউ ইয়ার ।

০১ লা মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: কাতিআশা,
বিলেটেড হ্যাপি নিউইয়ার ! স্যরি অনেক দেরিতে কমেন্টের উত্তর দেবার জন্য। টাইম টেবিল আর রুটিনে বিস্তর গন্ডগোল হয়ে যাচ্ছে কেমন করে যেন। উত্তর দেবার এই দেরিটা তাই খুবই অনিচ্ছাকৃত জানবেন । ভালো আছেন আশাকরি ।

১৪| ০৫ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:২৪

হাসান রাজু বলেছেন: আপনার শেষ অংশটা ভয়ানক কিন্তু এখন এদেশে এটাই চলছে। যে কোন উপায়ে আঃলীগের সার্টিফিকেটধারী হতে পারলেই হল । ডিএনএ টেস্টে যদি আঃলীগ কি না বুঝা যেত তবে খবর ই ছিল ...... (যত যা ই হোক বাবার পাপের দায় সন্তানকে দেয়া উচিৎ না। )

০২ রা মার্চ, ২০২০ ভোর ৪:৪২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: হাসান রাজু,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে । হ্যা রে ভাই, দেশের অন্তহীন সমস্যা থেকেই চাওয়াটা মনে হয় ভয়ানক হয়ে গেছে । আরো সহজ সরল কোনো পথ পেড়িয়ে এই চাওয়াটা পূরণ করার উপায় থাকলে সেটাই হয়তো ভাবতাম । আমাদের দুঃখ যে সাধারণ চাওয়াগুলো পূরণ হবার পথও এখন হিমালয় জয় করার মতো বিপদ সংকুল । ভালো থাকুন এই অবেলায় সেই কামনা করি ।

১৫| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৪৫

নীল-দর্পণ বলেছেন: অনেক কিছু ঘটে গেছে দেখি!! অনেকটাই পুরনো উত্তাপ পেলাম ব্লগে এসে।
বন্ধু আশা করি ভাল আছেন। দাওয়াত রইল বন্ধুর ব্লগ বাড়ীতে, সামান্য সারপ্রাইজ রয়েছে। ;)
ভালো থাকা হোক সময় সময়।

০৩ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ৭:২১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: হাহাহা,
বন্ধু, ব্লগ নিয়ে ঠিক ভেবেছেন । মন্ত্রী মহোদয়ের অপদৃষ্টি সড়ে যাওয়াতেই ব্লগ এতো রমরমা । পুরোনো সেই সব দিনের কথার মতো মনে হচ্ছে ব্লগকে । সারপ্রাইজ আমার জন্য ! তাহলেতো এখনই কাথা বালিশ নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য আপনার ব্লগ বাড়িতে যেয়ে ঘাঁটি গাড়তে হচ্ছে । নতুন গল্প লিখেছেন নিশ্চই । অনেকক্ষন ধরে পড়তে হবে ? এখুনি যাচ্ছি । ভালো থাকবেন ।

১৬| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০০

মনিরা সুলতানা বলেছেন: লেবেনসবোর্ন প্রোগ্রাম হিটলারের এই আর্য রক্তের বিশুদ্ধতায় আগ্রহী এক মেয়ের জবানীতে পড়েছিলাম শুরু থেকে সন্তান জন্মদান শেষে সাধারণ জীবনে ফিরে আসার গল্প। অধিকৃত ইউরোপের থেকে চেহারায় আর্য বৈশিষ্ঠের ছাপ থাকা শিশু লেবেনসবোর্ন হোমগুলোতে অপহরণ করে পাঠানো হতো আর্য শ্রেষ্ঠত্বের মতাদর্শ অনুযায়ী বা “Germanized" করে গড়ে তুলতে । তবে এ তথ্যটুকু নতুন। নিঃসন্দেহে দারুণ একটা পোস্ট ।

আর দেশ ভাবনায় আপনার এই লিডারসবর্ন প্রোগ্রামের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। ঠিক যেভাবে দু একটা প্রজন্মকে এমন চেতনা বিলাসী , সহমত ভাই প্রজন্ম গড়ে তোলে হয়েছে অসাধারণ দক্ষতায়; এর সামান্যকিছু দিয়েই হয়ত আমরা দারুণ অজেয় এক প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারবো। তবে কিনা আমার যেটুকু মনে হয় বর্তমান সময়ের বাচ্চারা যতটুকু না দেশের তার চাইতে এরা অনেক বেশি বৈশ্বিক। ওদের মাঝে ব্যাপারগুলো আলাদা ভাবে কাজ করে।

০৪ ঠা মার্চ, ২০২০ ভোর ৫:৪৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মনিরা সুলতানা,
অনেক ধন্যবাদ ভালো লাগা মন্তব্যে ।
অনেক দিন দেশের বাইরে থেকে দেশে ফিরে আসার পর এখনো কি দেশে এডজাস্টমেন্টের দ্বৈরথ শেষ হয়নি ? নতুন কোনো কবিতা নেই যে ? ব্লগ কবিতাঙ্গনতো মনে হচ্ছে গ্রীক মিথোলজির সেই টেন্টালাসের মতো ।টেন্টালাস যেমন সাগরের অথৈ জলে থেকেও পিপাসার্ত ছিল জীবনভর তেমনি ব্লগ জুড়ে কবিতা থাকার পরও কবিতার পড়ার তৃষ্ণাতো সবার মিটছে না আপনার অনুপস্থিতিতে । তাড়াতাড়ি ব্লগারদের কবিতা তৃষ্ণা মেটানোর উদ্যোগ নিন !

১৭| ১১ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৩০

আমি তুমি আমরা বলেছেন: প্রজেক্ট লেবেন্সবর্ন সম্পর্কে প্রথম জানতে পেরেছিলাম রোর বাংলা'র একটা প্রবন্ধ থেকে। আপনার পোস্ট থেকে আরেকটু বিস্তারিত জানতে পারলাম।

লেবেন্সবর্ন প্রজেক্টের অধিকাংশ শিশু যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন পায়নি জেনে খারাপ লাগল।

আমার মাথায় প্রায়ই একটা প্রশ্ন ঘোরেঃ সোনালি চুলের লোকেরাই যদি প্রকৃ আর্য, প্রকৃত জার্মান হয় তাবে হিটলার কি ছিল? তার চুলতো সোনালি ছিল না। উচ্চতাও ছিল এভারেজ জার্মান্দের চেয়ে কম।

০৫ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ৮:৫৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আমি তুমি আমরা,

অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।
ককেশানদের ম্যধ্যে সোনালী চুল, ব্রাউন চুল, কালো চুল সবই আছে । তেমন নীল চোখ, বাদামি চোখ সবই আছে । কিন্তু সোনালী চুল আর নীল চোখের এরিয়ান রেসের ব্যাপারটা আমার মনে হয় হিটলার আর হিমলারের অবসেশন । একটা হ্যাপি মিথ ।

১৮| ২০ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৪৩

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:
লেখাটি মাথায় ধারণ করলাম। সুস্পষ্ট বক্তব্য , তথ্যবহুল। ভালো লাগলো। হিটলার , জার্মানি নিয়ে অনেক আগ্রহ আছে , অনেক কিছু জানলাম । আর ভুয়া মফিজ ভাইয়ের ওই কথাটার সাথে ভীষণ একমত : হিটলারকে অনেকেই পছন্দ করে ইহুদী নিধনের জন্য। তবে, তার সবকিছু ঠিক থাকলে আমার ধারনা সে মুসলমান নিধনও শুরু করতো অচিরেই।
পোস্টে ভালো লাগা। ++
প্রিয়তে।

০৫ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:৪০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: স্বপ্নবাজ সৌরভ,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য । হ্যা আমারও সেটাই ধারণা । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জিতে গেলে মুসলিমদের তার নিধনের হাতে পড়তে হতো। আবার ছোট একটা সম্ভাবনা কিন্তু ছিল যে বিড়াট ইসলামিক বিশ্বের সাথে একটা স্থিতাবস্থা ব্যবস্থা বজায় রাখতেই জার্মানি বেশি আগ্রহী হতো কারণ ইসলামিক বিশ্ব তার জন্য সামরিক ভাবে হুমকি হতো না কখনো ।আর তাছাড়া জু দের সাথে কট্টর কৃশ্চানদের একটা থিয়োলোজিকাল বিরোধিতা আছে দুই হাজার বছর ধরেই । হজরত ঈসাকে (সাঃ) অস্বীকার ও পরে হত্যার (পশ্চিমা মতে) কারণে এই দুই ধর্মাবলম্বীদের মাঝে একটা টেনশন সব সময়ই ছিল ।কিন্তু এই ব্যাপারটা কিন্তু ইসলামের সাথে নেই কৃশ্চানদের। তাই আমার এটাও মনে হয় যে ইহুদিদের সাথে হিটলার যেমন আক্রমণাত্মক ছিল সেরকম হয়তো নাও হতে পারতো মুসলিমদের সাথে । যাক এখন সেটা নিয়ে ভেবে কোনো লাভ নেই ।ভালো থাকুন ।

১৯| ০৫ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৩

করুণাধারা বলেছেন: লেবেনসবর্ণ সম্পর্কে আবছা কিছু জানতাম, এত বিশদভাবে জানা ছিল না। অনেক ধন্যবাদ তাই এই পোস্টের জন্য। কেন আগে এটা দেখিনি বুঝতে পারছি না!!

স্বদেশ ভাবনা থেকে লিডারসবর্ণের ধারণা এসেছে আপনার মনে। কেমন লিডার? যারা মানুষের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেয়, দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় বানায়, পাহাড়- নদী- পুকুর সব খেতে থাকে তেমন নেতা? আমাদের আশেপাশে সব তো তেমনি নেতা। এরা
লিডারসবর্ণ প্রকল্প শুরু করলে সেখানেও দুর্নীতি করবে। তাই এই সময়ে লিডারসবর্ণ ধারণার সাথে একমত হতে পারলাম না। :(

০৭ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:৩৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: করুণাধারা ,
হাহাহা ---আপনার মন্তব্যের সাথে একমত না সেটা কিন্তু না ।
এটা ঠিক এই সব নেতা আর এদের ফোর্টিন্থ জেনারেশনের ঘনিষ্ঠ কেউ ক্ষমতায় থাকলেও লিডার্সবর্ন প্রোগ্রামেরে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম আগাগোড়া সবই করাপ্ট করে ফেলবে । সেজন্যই এই স্বপ্নটা মাঝে মাঝে দেখলেও এটা নিয়ে উচ্চবাচ্য করিনি কখনো ।এখনো এটা একটা স্বপ্ন হিসেবেই দেখি আমি।যদি কোনো এক দিন----- । সেই স্বপ্নের কথাই বলেছি আমি লেখায় । আমাদের মাননীয় নেতা নেত্রীদের নেতৃত্বে এই কার্য কখনো সমাধা হবে না সেটা আলবৎ বুঝি আমি, আপনি নিঃসন্দেহ থাকুন । অনেক ভালোলাগা মন্তব্যে । ভালো থাকবেন ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.