নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ড্রইংরুম (একটি ছোট গল্প)

০১ লা মার্চ, ২০২০ রাত ৮:২৬



এক.
মফিজ সাহেবের মুখে তীব্র বিরক্তি I
হতাশ হয়ে উনি ড্রইং রুমের দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে আছেন I বিশেষ ঝামেলার কারণে তাড়াহুড়া করে বাসা বদল করে নতুন বাসায় এসেছেন আজ I ড্রইংরুম গুছানোর পালা চলছে I তার মনে হচ্ছে এই বাসাটা ভাড়া নেওয়াই উচিত হয়নি । ড্রইং রুমেটা ঠিক পছন্দ হচ্ছে না । এজেন্সির থেকে বাসা বদলের কাজের জন্য লোক আনা হয়েছে অনেক টাকার বিনিময়ে I কিন্তু দেখা যাচ্ছে এরা কাজে তেমন দক্ষ না | ড্রয়িং রুমের দেওয়ালে বড় ফটোগুলো ঝুলানোর কাজ একেবারেই করতে পারছে না I যে ভাবেই তারা ফটো দেওয়ালে প্লেস করুক না কেন মফিজ সাহেবের কোনো ভাবেই তা পছন্দ হচ্ছে না I অথচ শুধু মাত্র ড্রইংরুমের ডেকোরেশনের জন্যই মফিজ সাহেব এই প্রফেশনাল কোম্পানিকে এতো টাকা দিয়ে বাড়ি বদলের জন্য কাজটা দিয়েছেন I শার্ট, টাই পড়া এক লোক আছে I সে নাকি ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের এক্সপার্ট | মফিজ সাহেবের সবচেয়ে জোরে চড়টা দিতে ইচ্ছে করছে এই লোককে I একেতো মনে হচ্ছে নিরেট মূর্খ I ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের এবিসি -ওতো মনে হয় জানে না I শুধু একবার এদিক আরেকবার সেদিক যাচ্ছে Iযা বলছে লোকদের কেউই তা শুনছে না I তাকে পাত্তাও মনে হয় দিচ্ছে না Iএই বেকুব সেটা বুঝতে পারছে কি না সেটাও পরিষ্কার নাIএকবার এদিক আরেকবার
সেদিক করেই যাচ্ছে |মফিজ সাহেবের মনে হলো এই লোকের পার্কিনসন ধরণের কোনো রোগ না থেকেই পারেনা I এই বেকুব লোকগুলোর আনাড়িপানা দেখতে দেখতে মফিজ সাহেবের মনে হলো তার সব টাকাই মনে হয় পানিতে গেছে I যে সেই নালা ডোবার পানি নয়, একেবারে সাগরের অতল গহবরে মিন্ডানাও খাতে পড়েছে বলে মনে হয় I মফিজ সাহেবের রাগ ধীরে ধীরে বাড়ছে I তবুও তিনি আরো খানিকটা ধৈর্য্য ধরার সিদ্ধান্ত নিলেন I ধৈর্য্য ধরে উনি বলতে লাগলেন কিভাবে ফটোগুলো দেওয়ালে ঝুলাতে হবে I

অপেক্ষার পালা শেষ হলো এক সময় I মফিজ সাহেবের মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটে উঠলো I ঠিক যেমন চাচ্ছিলেন তেমন হয়েছে ফটো হ্যাংগিংগুলো I ছোট ফটোগুলো সাইড টেবিলে, কর্ণার স্ট্যান্ডে সুন্দর করে সেট করা হয়েছে I ঘরের কোনায় কোনায় অর্কিডগুলো টবে ঠিকমতো রাখাতে পুরো ঘরটাকে সিনেমার সেটের মতো সুন্দর মনে হচ্ছে I মফিজ সাহেব সন্তুষ্টি বোধ করলেন I

দুই

সন্ধ্যায় বাড়িওয়ালা মোস্তফা সাহেব এসেছেন নতুন ভাড়াটিয়ার সাথে দেখা করতে I মফিজ সাহেব ড্রইং রুমে ঢুকে মোস্তফা সাহেব কে সোফায় বসালেন I ঘরে আধো অন্ধকার I নীল ডিম্ লাইট জ্বলছে I মফিজ সাহেব ঘরের লাইটটা জ্বেলে দিলেন I হটাৎ জ্বালা সাদা হলোযেন লাইটের তীব্র আলোতে মোস্তফা সাহেব কয়েক মুহূর্ত কিছুই দেখতে পেলেন না I একটু পরেই আলোটা সহনীয় হয়ে এলো I চোখ খুলে সামনে তাকাতেই মোস্তফা সাহেবের দু'চোখে বিস্ময় ফুটে উঠলো I সামনে দেওয়ালে ঝোলানো বড় ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষন এক দৃষ্টিতে I তার নতুন ভাড়াটিয়ার পাশেই দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ! কোনো সমাবেশে মনে হয় I পেছনে অনেক মানুষ দেখা যাচ্ছে ! পাশের ওয়ালেই আরেকটা বড় ফটো ঝোলানো ! ছবিতে তিন মন্ত্রী, প্রধান মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও মফিজ সাহেব I তিনজনই হাসি মুখে দাঁড়ানো ! এতক্ষনে মোস্তফা সাহেব খেয়াল করলেন চারি দিকের ওয়ালে ঝোলানো ওয়ালের সবগুলো ফটোতেই মফিজ সাহেবের সাথে সরকার দলীয় বড় বড় নেতাদের ছবি ! মোস্তফা সাহেব ঘুরে ঘুরে ফটোগুলো দেখতে লাগলেন I

কাজের মেয়েটার হাতে ট্রেতে চা, বিস্কিট আর মিষ্টি নিয়ে মফিজ সাহেব ঘরে ঢুকলেন I বাড়ি ওয়ালা তার ঘরের ফটোগুলো একমনে দেখছে লক্ষ করে মৃদু হেসে মফিজ সাহেব বললেন ,"মোস্তফা সাহেব একটু চা খান" I
- আমি ফটোগুলো দেখছিলাম
-হ্যা, আমার সৌভাগ্য নেত্রী আমাকে খুব স্নেহ করেন I এটা গত বছরেরই একটা ফটো I নেত্রী নিজেই মঞ্চে ডেকে নিয়ে ফটো তুলতে বললেন I
-আপনিতো মনে হচ্ছে সরকারের সবাইকেই চেনেন দেখি !
-না না, কি যে বলেন I আমি সামান্য ব্যবসায়ী I
-অরে আপনিতো গুরুত্বপূর্ণ মানুষ I
- কি যে বলেন ! আমি দিন আনি, দিন খাই | কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে ভালো করে চিনি এই যা Iএই যে আই জি সাহেবের সাথে ফটোটা দেখছেন উনি আমার স্কুলের বন্ধু |একই সাথে স্কুল. কলেজে আর ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি | খুবই ভালো মানূষ তাই এতো বর চাকুরীর করেও পুরোনো সম্পর্ক ভুলেনি I এখনো ওর বাসায় যাতায়াত আছে I

-আমারতো খুবই সৌভাগ্য যে আপনি আমার বাসা ভাড়া নিয়েছেন I
-মোস্তফা সাহেব, কোনো দরকার হলে বা কাউকে কিছু বলতে হলে বলবেন I লজ্জা করবেন না I আপনি নিজের মানুষ দেখে বললাম | আমি বলিয়ে দেব I কোনো অসুবিধা হবে না I
- নিশ্চই, নিশ্চই বলবো I আপনিতো আর পর না I
-মোস্তফা সাহেব, আমিতো বলেছিলাম বাড়িতে উঠেই আপনাকে তিন মাসের ভাড়া অগ্রিম দেব I কিন্তু এই ঘর গুটাতে এতো সময় নিলো লোকেরা যে আমি আর ব্যাংক থেকে টাকা তুলবার সময় পাইনি I আমি একটা চেক লিখে দেই I আপনি কালকে কষ্ট করে ব্যাংকে জমা দিয়ে দেবেন I
-অরে না না আপনার চেক লিখতে হবে না I ওটা সিকিউরিটি মানি I আপনার থেকে ওটা নেবার দরকার নেই I আপনিতো আর আমাকে না বলে বাড়ি ছেড়ে যাবেন না !

তিন
ঝম ঝম বৃষিট I
আকাশ যেন বৃষ্টির দরজা খুলে দিয়েছে আজ ঢাকার ওপর I সারা ঢাকা শহর মনে হয় পানির নিচে ডুবে গেছে I মফিজ সাহেব এই বৃষিটর মধ্যে চলেছেন একটা রিকশা চড়ে I তার হাতে বিরাট থার্মাল ব্যাগ একটা |সেটাকে রিকশার মধ্যে চলে আসা বৃষিটর ঝাপ্টা থেকে বাঁচাবার চেষ্টা করছে I অনেক কষ্ট করে এই রিকশাওয়ালাকে রাজি করিয়েছেন গন্তব্যে যেতে I আজ ভাড়া চড়া I আজ জ্যামহীন রাস্তাতেও তিনশো টাকা দিতে হবে পঞ্চাশ টাকার ভাড়া I মফিজ সাহেব খুশির সাথে তাতেই রাজি হয়েছেন Iতার যাওয়া দরকার I অনেক কসরত করে রিকশা এসে থেমেছে গন্তব্যে দলীয় সংগঠনের অফিসের সামনে I অন্য সময় গমগম করে দলের অফিস I আজ এই তীব্র সৃষ্টিতে বৃষ্টিতে কেউ নেই I মফিজ সাহেবের মুখ কুঞ্চিত হয়ে উঠলো Iঅফিস বন্ধ থাকলে তার এত কষ্ট সব মাঠে মারা যাবে I ভাড়া মিটিয়ে মফিজ সাহেব বন্ধ দরজায় ধাক্কা দিলেন I

দলের অফিসে ঢুকে মফিজ সাহেবের মন খুশি হয়ে উঠলো I অফিসের আর্দালি ছাড়া আরেকজন পুলিশ I ভেতরের প্রাইভেট অফিস রুমে দলের সেক্রেটারি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী I মফিজ সাহেব মন্ত্রী সাহেবের রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে সালাম দিলেন Iমন্ত্রী সাহেব প্রচন্ড বিরক্ত মুখে ফিরে তাকালেন I মফিজ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন, অরে তুমি এই বৃষ্টির মধ্যে আইলা কথা থেকে? কেমন আছো?
-ভালো আছি Iআপনি আসবেন জানতাম I এই বৃষ্টির মধ্যে আপনি কষ্ট করে আসবেন আর আমি ঘরে বসে থাকলে তা কি ভালো দেখায় ? অফিসে কর্মী না থাকলে হয়?
- সেটাতো সত্যিই I
- এই বৃষ্টির মধ্যে আপনি কাজ করতেছেন আপনার জন্য কিছু চা নাস্তা আনি?
-তিনবার চা-র জন্য পাঠাইলাম পিয়নকে | আশেপাশের সবগুলা হোটেল নাকি বন্ধ I কোথাও চা পাওয়া নাই I কাছে যেই দোকানটা ছিল ওটাও বন্ধ তাই চা পাতাও কেনা যায় নাই I তুমি চা পাইবা না এখন I
-আমি চায়ের ব্যবস্থা করতেছি বলে মফিজ সাহেব সেক্রেটারি সাহেবের রুম থেকে বাইরে এলেন Iপিয়নকে বলে তালা খুলে আলমারি থেকে চায়ের কাপ, কাছের ছোট প্লেট বের করলেন I তার থার্মাল ব্যাগের ভেতর থেকে চায়ের ফ্লাক্স, টিফিন বাক্স বের করলেন I অল্পক্ষন পর কাপে গরম চা আর প্লেটে গরম সমুচা নিয়ে সেক্রেরেটারি সাহেবের রুমে ঢুকলেন I
-'তুমি এইগুলা আনলা কৈত্থিকা'? সেক্রেটারি সাহেব বিস্মিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন I
-আপনি আজকে এই অফিসে আসবেন তাতো জানি I এই বৃষ্টিতে কোথায় চা পাওয়া যাবে ভাইবা বাসা থেকেই বানায়া আনছি আপনার জন্য I চা সমুচা সবই বাসার বানানো I আপনি খান I মন্ত্রীর গোমড়া মুখ হাসিতে ভোরে গেছে মফিজ সাহেব লক্ষ্য করলেন I
- তোমার মতো কর্মী দলের সম্পদ I তোমার কথা নেত্রীকে আমি বলবো I আমাকে বলবা তোমার কোনো কিছু লাগলে I
-মুখ কাচুমাচু করে মফিজ সাহেব বললেন, ‘আপনি স্নেহ করেন তাইতো আমার কত বড় পাওনা I আমার কিছু লাগবো না I কিন্তু আপনি বললে আপনার সাথে একটা ফটো তুলতে চাই ‘I

মফিজ সাহেব সেক্রেটারি সাহেবের পাশে চেয়ারে বসেন I পিয়ন আব্দুল সেল ফোন দিয়ে ফটো তুলে দেয় I

এখনো তুমুল বৃষ্টি I সেক্রেটারি সাহেব চলে গেছেন ঘন্টারও ওপর I সামনের রাস্তা মুটামুটি নদী I মরা বুড়িগঙ্গা না, বর্ষার পদ্মা নদীর মতো I রবীন্দ্রনাথ অনায়াসে চোঁট নদী চলে বাঁকে বাকের মতো কবিতা লিখতে পারতেন -আমাদের রাস্তা চলে বাঁকে বাঁকে, বর্ষা মাসে তাতে হাটু পানি থাকে ... I রাস্তায় কোনো রিকশার বা গাড়ি ঘোড়ার চিহ্ন নেই । মফিজ সাহেব মাথা বাড়িয়ে আরেকটু দূরে দেখার চেষ্টা করলেন । এই বৃষ্টিতে বুড়িগঙ্গার সাথে নির্ঘাত ঢাকার রাস্তা মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে । রিকশা না হোক সদর ঘাটের থেকে ছোট খাটো একটা লঞ্চ বা নিদেন পক্ষে একটা বড়ো সড়ো ছিপ নৌকা এই সড়ক নদীতে ভেসে আসা অসম্ভব কোনো ব্যাপার না। মফিজ সাহেব শুস্ক গম্ভীর মুখে জলছলছল রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইলেন ।

অনেক্ষন পরে কোনো ছিপ নৌকা বা পানসি নৌকা নয় হঠাৎ একটা রিকশা পাওয়া গেলো I সে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে সওয়ারি নাই I ভাগ্যক্রমে রিকশা ওয়ালা যাবে খিলগা তার বাড়ির কাছেই I দামাদামি না করে মফিজ সাহেব তাতে চড়ে বসলেন I রিকশার প্লাস্টিকের আড়ালে সাবধানে সেলফোনটা বের করে ফটোটা দেখলেন আরেকবার I সুন্দর উঠিয়েছে পিয়ন ফটোটা I ফটোটা দেখে মফিজ সাহেবের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো I সেক্রেটারিয়েট টেবিলে মুখোমুখি মন্ত্রী সাহেবের সাথে একলা মফিজ সাহেব কথা বলছেন I মনে হচ্ছে যেন গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করছেন ! এই ফটোটা বাধাই করে আগের ফটোটা রিপ্লেস করতে হবে ঘরে I

অফিসের পিয়নটাকে আবার যেদিনই অফিসে যাবেন সেদিনই দুইশ টাকা দেবেন ঠিক করলেন মফিজ সাহেব মন্ত্রীর সাথে এতো সুন্দর করে ফটোটা তোলার জন্য I

চার
দরজার কলিং বেলটা কর্কশ শব্দে বেজে উঠলো I অল্প সময়ের মধ্যেই দুবার কলিং বেল ! কলিং শুনে বেল মফিজ সাহেব ভাবছেন এতো সকালে কে এলো I যেই আসুক খুবই অস্থির মানূষ I তার কোনো কাৰণে খুব তারা আছে I কিন্তু এতো সকালে তার সাথে কার এতো জরুরি কাজ থাকতে পারে ? মফিজ সাহেব একটু চিন্তিত হয়ে দরজাটা খুললেন । দরোজায় দাঁড়িয়ে আছেন থানার ওসি সাহেব ! মফিজ সাহেব অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, 'কি ব্যাপার'?
- 'এটা কি মফিজুল হক সাহেবের বাসা'? ওসি সাহেব জানতে চাইলেন I
-জ্বি I
-উনার সাথে দরকার I
-আমার নাম মফিজুল হক I
- আপনার সাথে সাথে কিছু কথা আছে I আমার সাথে একটু থানায় যেতে হবে I
- থানায় যেতে হবে কেন ?
-আপনার নামে থানায় একটা মামলা হয়েছে জালিয়াতির I
-আমার নামে মামলা ? ওসি সাহেব একটু ঘরের ভেতরে আসেন I আগে একটু চা নাস্তা দিতে বলি I আপনি চা খেতে খেতে আমি একটু শার্ট প্যান্ট পরে আসি I আপনার সাথেই থানায় যাবো কোনো অসুবিধা নেই I
-তাড়াতাড়ি করবেন I ওসি সাহেব ইতস্তত করে মফিজ সাহেবের পিছু পিছু ঢুকলেন I ওসি সাহেব খোঁজ নিয়েছেন মফিজ সাহেব সম্পর্কে I এলাকায় নতুন I ত্রিশ হাজার টাকা ভাড়ায় থাকেন I এই মামলা সত্যি কিন্তু কোনো চেক বা সাক্ষী সাবুদ নাই I ব্যাংক চেক বা লিখিত সই সাবুদ না থাকলে এধরণের মামলা প্রমান করা কঠিন I তবুও মামলা হলে অনেক ঝামেলা Iসেই ঝামেলা থেকে মুক্ত করার কথা বলতেই তার বাসায় আসা I মামলা আদালতে যাবার আগেই কিছু টাকা দিয়ে মিটমাট করলে সব পক্ষেরই সুবিধা Iসেটা বলতেই তার আসা I লাখ দুই তিনেক টাকা দেয়া এই লোকের জন্য কোনো ব্যাপার না I এখন দেখা যাক এই লোক কি বলে I

ড্রইং রুমে পর্দা টানা I অন্ধকার ঘর I ওসি সাহেব সোফায় বসতেই মফিজ সাহেব ঘরের লাইট জ্বেলে দিলেন I ওসি সাহেবের চোখ ঝলসে গেলো যেন হটাৎ এতো এল জ্বালাতে I মফিজ সাহেব চা দেবার কথা বলতে ততক্ষনে বেরিয়ে গেছেন I

কাজের ছেলের হাতে চায়ের ট্রে নিয়ে ড্রইং রুমে এসে মফিজ সাহেব দেখলেন ওসি সাহেব গত সপ্তাহে তোলা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সাথে দলের অফিসে তোলা ফটোটার দিকে এক বার দেখছেন আবার পরক্ষনেই আইজির ফটোটার দিকে দেখছেন I
-ওসি সাহেব, একটু চা নাস্তা খান I
ওসি সাহেব মফিজ সাহেবের কথা শুনে ঘুরে দাঁড়ালেন I তার সমীহের দৃষ্টিটা মফিজ সাহেবের দৃষ্টি এড়ালো না I

ওসি সাহেব সমীহের দৃষ্টিতে তাকালেন মফিজ সাহেবের দিকে I খানিকটা লজ্জিত কণ্ঠে বললেন. ‘স্যার আপনি নিজের পরিচয়টা আমাকে আগে বলবেন না ? এতো লজ্জ্বা দিলেন I তা আইজি সাহেব কে হয় আপনার?’
- ‘আইজি আমার বন্ধু I স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি একসাথে পড়েছি’ I
-আপনি বিনয় করতেছেন I আমার মতো ছোট চাকুরী ওয়ালার কাছে শুধু শুধু বিনয় করেলতো আপনার সময় নষ্ট I স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকেতো আপনি ভালো চেনেন মনে হয় ?
- আমাকে খুব স্নেহ করেন I বড় ভাইয়ের মতো I গত সপ্তাহেই দলের কার্যালয়ে ফটোটা তুলতে বললেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী I
-“স্যার, আপনার কথা শুনে খুব লজ্জা পেলাম I এই মামলার কোনো মেরিট নাই Iএই তা মিথ্যা মামলা আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিল I আপনার সাথে কথা বইলা আমি এখন নিঃসন্দেহ I এই সব মামলা শুধু আপনাদের মত মানি লোকদের হয়রানির জন্য I আমি আজই তদন্ত রিপোর্টে মামলার সত্যতা পাওয়া যায় নাই লিখে হেডকোয়ার্টারে পাঠায়ে দিবো I আপনি কোনো চিন্তা করবেন না “I
- “ওসি সাহেব আপনি কষ্ট করে আমার বাসায় আসলেন, আপনাকে একটু ভালোমন্দ খাওয়াতে পারলাম না আমি I প্লিজ একটু কষ্ট করে হোটেল থেকে লাঞ্চ কিনে নেবেন আজ” বলে মফিজ সাহেব ওসি সাহেবের হাতে এক হাজার টাকার পাঁচটা কড়কড়ে নোট ধরিয়ে দিলেন I
- “না না এর আবার কি দরকার ছিল” বলে টাকাটা পকেটে ঢুকিয়ে ওসি সাহেব বিদায় নিলেন I

মফিজ সাহেব সাথে সাথে সাথে ঠিক করলেন আগামীবার দলের কার্যালয়ে গিয়েই অফিসের পিয়ন আব্দুলকে দুইশো নয় পাঁচশ টাকা দেবেন I তার ফটোটার জন্যই আজ কোনো হাঙ্গামা হলো না I নইল এ ব্যাপারটা খুবই খারাপ হতে পারতো I স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সাথে তোলা ফটোটার দিকে তাকিয়ে স্মিত একটা হাসি ফুটে উঠে ঠোঁটের কোনায় I

------
অনেক দিন ব্লগে লেখা হয় না। নিজের খানিকটা ব্যস্ততা, খানিকটা ঝামেলা সব মিলেই । অনেক আগে লেখা একটা গল্প কেন যেন খুব প্রাসঙ্গিক মনে হলো গত কিছু দিনে দেশে ঘটে নানান ঘটনায় । সে থেকেই অগল্পকার আমার এই গল্প পোস্ট । বছর দুয়েক আগে ব্লগে বিশেষ অতিথি আমার একমাত্র গল্প পোষ্টে প্রিয় ব্লগার আলী ভাই (ডঃ এম এ আলী) আমার গল্প লেখা নিয়ে খুবই দয়ামায়াময় একটা মন্তব্য করেছিলেন । আমার অতুলনীয় গল্প প্রতিভার প্রতি যথাযথ সন্মান না দেখিয়ে এই গল্পে আলী ভাইয়ের সেই মন্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক সকল মন্তব্য কঠিন ভাবে ভর্ৎসনা করা হবে বলে যথাযত হুঁশিয়ারি দেওয়া থাকলো ক্রিটিকাল পাঠকদের । সাধু সাবধান !

আলী ভাই, আপনার মন্তব্যে সাহসী আর সেই সাথে উৎসাহী হয়ে পোস্ট করা আরেকটা গল্পে আপনাকে মনে করছি ----

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা মার্চ, ২০২০ রাত ৮:৫১

নেওয়াজ আলি বলেছেন: নান্দনিক লেখনী ।

০১ লা মার্চ, ২০২০ রাত ৮:৫৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নেওয়াজ আলি,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে । ভালো থাকুন ।

২| ০১ লা মার্চ, ২০২০ রাত ৯:০৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



সমসাময়িক বাংলার চিত্র নিয়ে লিখতে চেয়েছেন; প্লটে সামান্য দুর্বলতা আছে, আজকলের ওসিরা সোজাসুজি কারো বাসায় যায় না, ওসির লোকেরা যায়।

০১ লা মার্চ, ২০২০ রাত ৯:২৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: চাঁদগাজী সাহেব,
মানছি আপনার কথা মানে প্লটে দূর্বলতার কথা ।
বাংলদেশের এখনকার পুলিশ,পুলিশ প্রশাসনের অবিশ্বাস্য আর অসাধারণ কার্যক্রম সম্পর্কে আমার ধারণা আসলেই খুবই কম ।
আমার এটাও মনে হয় এদের অবিশ্বাস্য কাজকারবার নিয়ে ঈশ্বর ছাড়া কারুর জন্যই কোনো সঠিক ধারণা রাখা সম্ভব না । তারপরেও যেসব কল্প কথার মতো গল্প বের হয় এদের সম্পর্কে সেটা চিন্তা করেই লেখাটা আসলে লিখেছি । অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।

৩| ০১ লা মার্চ, ২০২০ রাত ১০:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: মফিজ সাহেবের মতো লোকেরা এযুগে সম্পূর্ন অচল।
যদিও আমি নিজেও মফিজ টাইপ মানুষ।

০১ লা মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৫১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নূর,
হাহাহা ! কোথায় ভাবলাম আমার জীবন ঘেঁষা গল্প পড়ে (চাঁদগাজী সাহেবের মন্তব্য দ্রষ্টব্য) নব্য মানিক বন্দোপাধ্যায় এলো ব্লগে এমন টাইপ কিছু বলবেন আর সেটা না বলে কি বললেন এটা ? এই যে শ্রীমতি ৪২০ কাণ্ডে (শ্রীমতীর নামটা আর নিলাম না) দেশে এতো হুলুস্থূল হলো গত কিছুদিন এটাতো সেই মফিজ সাহেবের মতো কিছু মানুষদেরই নিপুন কারিগরি ! আমাদের দেশের এই সময়ে মফিজ সাহেবের মতো লোকেরা এযুগে সম্পূর্ন অচল কোথায় দেখলেন ! এরাইতো এযুগে সবচে সচল (একটিভ আর ক্ষমতাবান অর্থে) মানুষ ! মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ । ভালো থাকুন ।

৪| ০১ লা মার্চ, ২০২০ রাত ১০:২৫

জুন বলেছেন: এধরনের প্রতারণাই এখন আমাদের দেশে শিল্পের মর্যাদা লাভ করেছে। কে যে সাধু আর কে যে শয়তান তা আলাদা করাই মুশকিল। প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে লেখা গল্পটি ভালো লাগলো মলাসইলমুনা। অনেক অনেক দিন পরে আসলেন মনে হলো।
ভালো থাকুন আর সাথে রইলো অনেক শুভকামনা।
+

০২ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:১৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: জুন,
জ্বি, কেমন করে যেন বেশ কিছুদিন ব্লগে একেবারেই লগ ইন করা হয়নি । আপনার মন্তব্যে আমার গল্পের সার কথাটাই একেবারেই সহজ করে ঠিক ঠাক বলে দিয়েছেন । এটাই আমাদের দেশ, ইদানিংকার ক্ষমতা বলয়ের সিগনেচার ফিচার হয়ে উঠেছে বলে মনে হচ্ছে । সেটাই এই গল্পে একটু বলার চেষ্টা করলাম ।সবাইতো ভালোবাসার গল্পই লেখে ব্লগে । আমি ওসব খুব ভালো পারিনা ।তাই একটু ভিন্ন প্লটে একটা গল্প লেখার চেষ্টা করলাম ।আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুব খুশি হলাম । আপনার মন্তব্য সব সময়ই খুব ভালো লাগার । ভালো থাকুন আর সাবধানে থাকুন থাইল্যান্ডে করোনা ভাইরাসের তান্ডব থেকে ।

৫| ০২ রা মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৩১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: নাহ। হইলও না ভাইজান ;)

খালি বিশেষ অতিথির নোট দিলে হইপে! মিনিমাম একটা ফুটুক দিলেইতো কেল্লাফতেহ হতো ;)
আমরা সুপারিশের জন্য ঝাপাইয়া পড়তাম!
লাইক কমেন্ট আর আন্নের লগে একটা ফুটুক তোলার কম্পিটিশন করতাম ;) :P হা হা হা

দারুন গল্প।
এভাবেই চলছে চলতি সমাজ। শুন্য ফাঁপা বেুলনের মতো! চকচকে কিন্তু ফানুস!

গলে।প ++++

০২ রা মার্চ, ২০২০ রাত ৮:০৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় বিদ্রোহী ভৃগু,
হাহাহা ----যথাযথ হুঁশিয়ারি না দিলে আমার মতো অগল্পকারের গল্পে কি পরিমান ক্রিটিকাল কমেন্ট হতে পারে সেটা অনুমানে ব্যর্থ হয়েই এই নিরাপত্তা ঘোষণার সশব্দ আয়োজন । আর ফুটুক তোলার কম্পিটিশন করতাম ! আমার সাথে ? ন্যাহ ! ব্লগারস ডে তে আপনাদের লায়োকোচিত ফুটু দেখে বড়োই বিমোহিত হয়েছি ।আমার সাথে ফুটুক তুলে আপনাদের মহীয়ান গরীয়ান পরিচিতি এবং চাঁদবদনি মুখের সুনাম ক্ষুন্ন করার কোনো প্রয়াসে আমি সাহায্য করতে পারি না !

গল্প পড়া আর মন্তব্যে অশেষ কৃতজ্ঞতা । ভালো থাকুন ।

৬| ০২ রা মার্চ, ২০২০ রাত ৯:২৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,




ড্রইংরুমটা তো সাজিয়েছেন ভালো! কিন্তু খামতি রয়ে গেছে একটু। পাপিয়া আপুমনির সাথে ছবিটা দেয়ালে ঝুলানো হয় নাই। :( এটাই এখন হটেস্ট ছবি। :``>>

অনেক দিন পরে আপনার ছবিটিও দেখলুম ব্লগের দেয়ালে ঝোলানো। লেখার রংয়ের সাথে ছবিটাও জ্বলজ্বল করছে। :|

০৩ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ৭:১৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জী এস ভাই,
হাহাহা ---
পোস্টের ঝোলানো ফটোগুলোতো রূপক ! দেওয়ালের ঝোলানো মহারানীর রূপক ফটোর দিকে তাকিয়েতো আসলে দেখতে, ভাবতে হবে আমাদের আপনার বলা আপুমনির কথাই । নইলেতো গল্প,গল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য সবই ব্যর্থ। মন ভরানো মন্তব্যে ভালো লাগা।

৭| ০২ রা মার্চ, ২০২০ রাত ১১:১০

করুণাধারা বলেছেন: অনেক দিন পর আপনাকে দেখে খুব ভালো লাগলো, মলা.....

প্রাসঙ্গিক বিষয়কে নিয়ে চমৎকার গল্প বললেন! ছবির কী কারিশমা! খুব ভালো লাগলো পড়ে।

আশাকরি ব্লগে আপনার অনুপস্থিতি কমিয়ে আনবেন।

০৩ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:০৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: অনেক ভালো লাগা মন্তব্যে আর অনেক ধন্যবাদও।
আপনার বিরুদ্ধে একটা বড় অভিযোগ আছে আমার।সেটা হলো আমি খেয়াল করলাম আমি যখনি ব্লগে অনিয়মিত হয়ে যাই তখনি আপনি বৃষিট ধারার মতো লিখতে থাকেন।তাতে আপনার চমৎকার লেখাগুলো সব আমার মতো স্লো রিডারের আর পড়া হয়ে উঠেনা। এটা কিন্তু অন্যায়। প্রমথ চৌধুরীর বই পড়া প্রবন্ধের যতগুলো কারণ বলা আছে পড়া সম্পর্কে তার সবগুলো কারণেই আপনার লেখা সময়মতো পড়ার পুরো হক আমার আছে ।তাই সামনে আমি যখন ব্লগে থাকবো তখনি বেশি বেশি লিখবেন। ভালো থাকুন ।

৮| ০২ রা মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৫৩

আমি তুমি আমরা বলেছেন: ইউনিক গল্প, ভাল লেগেছে। পড়তে পড়তে বনানী রেইন্ট্রি কেসের নাঈম আশরাফের কথা মনে পড়ে গেল।

০৩ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:০৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আমি তুমি আমরা,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য । গল্পের প্লট মনে হয় এখন আর ইউনিক না কিন্তু আমাদের পুলিশ, প্রশাসন আর রাজনৈতিক কালচার এতো অবিশ্বাস্য যে সেগুলো নিয়ে যেই গল্পই লেখা হোক সেটাই মনে হয় এই রকম বা আরো ইউনিক মন হবে।
ভালো থাকুন ।

৯| ০৩ রা মার্চ, ২০২০ রাত ১২:২৪

সোহানী বলেছেন: আহারে আগে যদি জানতাম তয় কতক ছবি ঝুলায়ে রাখতাম ড্রয়িংরুমে..। পাপিয়া আমাগো চোখ খুইলা দিসেরে ভাই... B-) । এইবার কমু, পাপিয়া জিন্দাবাদ, ফেসবুক জিন্দাবাদ :P

রতনে রতন চেনে তাই আলী ভাইও আপনারে চিনসে। গল্পে ভালো না লাইগা উপায় নাই ;)

০৭ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:১০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সোহানী,
জ্বি, ঠিক বলেছেন আপামনি সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সঠিক মোজেজা দেখাতে পেরেছেন ।
আর তাতেই হুর হুর করে ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, বিত্ত বৈভবের এতো ব্যাপক প্রসার । শুধু আপনারই না, সবারই নেত্র খুলে দিয়েছেন আপামনি । আপনার মন্তব্যের এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল তারপরেই আপিনার মন্তব্যের মোজেজাও হারিয়ে গেলো কোথায় যেন ।
কি বললেন এটা মন্তব্যের শেষে রতনে রতন চেনে !! আলী ভাইয়ের মায়াদয়াময় মন্তব্য যে আমার ওপর টনটন টেনশন চাপিয়ে দিয়েছে আর সেজন্য যে বছর দুয়েক গল্প লেখাটা কল্প কথার মতো অসম্ভব মনে হচ্ছিলো সেটা একবারও ভাবলেন না ? কোরোনার আক্রমনে দিশেহারা এই বিদেশভূমির মায়াহীন দিনগুলোতে এতো বেশি অকরুন হবেন না। একটু সদয় মন্তব্য করুন প্লিজ। হাহাহা। অনেক ধন্যবাদ আর ভালো থাকবেন।

১০| ০৩ রা মার্চ, ২০২০ রাত ১:০০

নিভৃতা বলেছেন: দারুণ লিখেছেন গল্পটা। এক নিমেষে পড়ে ফেললাম।

আপনার নামটা নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবিত ছিলাম। ভাবিতে ভাবিতে অবশেষে বুঝিতে পারিলাম :)

০৭ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নিভৃতা ,
অনেক ধন্যবাদ সদয় মন্তব্যের জন্য ।
আপনার এতো ভাবিত হবার কথা শুনে আর আপনার লেখা, ভাষা ভঙ্গি থেকে আমার মাথায়ও একটা অভাবিত চিন্তা এসে ঢুকেছে ।
সেটা এখন আর বললাম না। হাহাহা ।নিভৃতে ভালো থাকুন ।

১১| ০৭ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৮:১৮

মিরোরডডল বলেছেন: দারুন লিখেছেন ।
একাধিক বাটপারকে তুলে ধরেছেন । কেউ কারো কম যায় না ।
হায়রে মফিজ সাহেব ! এ ধরণের ভণ্ডদের কি করা উচিৎ ।
বাই দা ওয়ে, ড্রইং রুমের ছবিটা কিন্তু সেইরকম হয়েছে !

০৮ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মিরোরডডল,
থাঙ্কস এ লট সদয় মন্তব্যের জন্য ।
হাহাহা ---ভালো গল্প লিখতে পারিনা সেটা সত্যি কিন্তু চোখওতো আর খারাপ না আমার । যথাযথ দর্শন, পর্যবেক্ষণ, যাচাই এবং বাছাই করে ড্রইংরুমটা সাজিয়েছিলাম । সেটার ফটোটা ভালো লেগেছে জেনে আরেকবার ধন্যবাদ । ভালো থাকুন ।

১২| ১৩ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৩৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: সময়ের চিত্র সুনিপুণভাবে এঁকেছেন। মফিজে মফিজে দেশটা ভরে যাচ্ছে!
পোস্টে প্লাস +।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:৪০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খায়রুল ভাই,
অনেক ধন্যবাদ আমার গল্প পড়ে এমন লজ্জ্বা দেওয়া প্রীতিকর মন্তব্যে । অনেক ভয় এবং ভীতি, লাজ এবং লজ্বা সাথে করেই কেমন করে যেন গল্পটা পোস্ট করা হয়ে গেলো । আমি আরো গল্প যদি ব্লগে কখনো পোস্ট করি তাহলে আপনার " সময়ের চিত্র সুনিপুণভাবে এঁকেছেন' -এই কথাটা কি আমার গল্পের প্রচারের ব্যাপারে ইউজ করতে পারমিশন দেবেন ? তাহলে ব্লগারদের রাগ ক্রোধ থেকে বাঁচার একটা উপায় হতো আমার । ভালো আছেন আশাকরি ।আবারো অনেক ধন্যবাদ গল্প পরে মন্তব্য করার জন্য ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.