নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

এমিলিয়া এয়ারহার্ট -- নীল আকাশে বসত গড়া অসামান্য এক মানবী

০৮ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৬


ফটো ১ : এমিলিয়া এয়ারহার্ট

সেই ছোট বেলায় স্কুলের বই থেকে জেনেছি মহাশূন্য সম্পর্কে দু’জন মানুষের নাম । মেজর ইউরি গ্যাগারিন আর নীল আর্মস্ট্রং । গ্যাগারিন প্রথম মানুষ যিনি রকেটে করে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছিলেন আর নীল আর্মস্ট্রং প্রথম মানুষ যিনি চাঁদে পা রেখেছিলেন । এছাড়া আরো একজন পাইলটের নাম আমরা প্রায়ই শুনে থাকি তিনি হলেন ‘ দ্যা স্পিরিট অফ সেন্ট লুইয়ের’ পাইলট চার্লস লিন্ডবার্গ । যিনি প্রথম মানুষ হিসেবে একাকী আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়েছিলেন । তিন জনই ছেলে । কিন্তু আজকে এভিয়েশনের সাথে জড়িত আরো একজন কে নিয়ে বলবো । কিন্তু ইনি ছেলে না । ইনি হলেন এমিলিয়া এয়ারহার্ট I এমিলিয়া ছিলেন একজন আমেরিকান মহিলা এভিয়েটর । সম্ভবত সারা পৃথিবীরই সব সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত মহিলা পাইলট হলেন এমিলিয়া এয়ারহার্ট । তার জন্ম আমেরিকার ক্যানসাস স্টেটের এটচিসনে ১৮৯৭ সালে ।ছোটবেলা থেকেই উচ্ছল, স্বাধীনচেতা এমিলিয়া ছিলেন কৌতূহলী স্বভাবের।বাস্কেটবল খেলতে পছন্দ করতেন । গাড়ি সারাইয়ের কোর্স নিয়ে ছিলেন সেই হাই স্কুলে থাকতেই ! এখন অনেক স্বাভাবিক মনে হলেও একশো বছর আগে ১৯০০ সালের শুরু দিকে একজন মেয়ের জন্য এগুলো সবই ছিল খুবই অস্বাভাবিক কাজ ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কানাডার টরেন্টোতে ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রসের নার্স হিসেবে কাজ করেন এমিলিয়া এয়ারহার্ট । টরেন্টোতে বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে লোকাল একটি এয়ার ফিল্ডে রয়েল ফ্লাইং কর্পসের পাইলটদের প্লেন চালানো দেখেই তিনি এভিয়েশানের ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠেন । বিশ্বযুদ্ধ শেষে এমিলিয়া এয়ারহার্ট আমেরিকাতে ফিরে এসে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন প্রিমেডিকেল প্রোগ্রামে । সেই প্রোগ্রামেই তিনি ফ্লাইংয়ের ওপর কোর্স নেন প্রথমবারের মতো । ১৯২০ সালে ক্যালিফোর্ণিয়ায় তিনি প্লেনে চড়ার সুযোগ পান প্রথম বিশ্বযুদ্বের বিখ্যাত পাইলট ফ্রাঙ্ক হকসের সাথে । আর সেই সাথে সাথেই নীল আকাশে পাখনা মেলে উড়বার ইচ্ছেটা তার মধ্যে চিরস্থায়ী হয়ে যায় । পরের বছর অর্থাৎ ১৯২১ সালেই তিনি ফ্লাইং লেসন নেওয়া শুরু করেন ইন্সট্রাক্টর নীতা স্নুকের কাছে ।সেই বছেরের শেষ দিকে এমিলিয়া এয়ারহার্ট তার প্রথম প্লেনটি কেনেন -সেটা ছিল একটি সেকেন্ডহ্যান্ড 'কিনার এয়ারস্টার' মডেলের প্লেন । এমিলিয়া তার হলুদ রঙের ছোট প্লেনটার নাম দিয়েছিলেন ক্যানারি (“the Canary”) ।সে বছরের শেষে ডিসেম্বর মাসে এমিলিয়া এয়ারহার্ট তার ফ্লাইং লাইসেন্স পান । প্লেন চালাবার লাইসেন্স পাবার দুদিন পরেই এমিলিয়া অংশ নেন ক্যালিফোর্ণিয়ার প্যাসাডোনার সিয়েরা এয়ারড্রমের একটি ফ্লাইট এক্সিবিশনে । এই এক্সিবিসন থেকেই শুরু হয় আকাশে বসত গড়া এক উড়ন্ত মানবীর আকাশ নীলে পাখনা মেলে উড়ার সূচনা ।

ফটো ২ : একা প্রথম মহিলা পাইলট হিসেবে ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে ইউরোপ - লন্ডনডেরি, নর্দান আয়ারল্যান্ডের ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডে আকাশ কন্যা এমিলিয়াকে এক নজর দেখার জন্য আগত মানুষের ভিড়ের একাংশ

তার বর্ণাঢ্য পাইলট জীবনে এমিলিয়া এয়ারহার্ট অনেকগুলো এভিয়েশন রেকর্ড করেন ।১৯২২ সালে তিনি প্রথম একক মহিলা পাইলট হিসেবে ১৪,০০০ ফুটের বেশি উচ্চতায় প্লেন চালান । একটু খেয়াল রাখুন ১০,০০০ ফুট উঁচুতে ওঠার সাথে সাথে প্লেনে এয়ার প্রেশার কমে যায়, নিশ্বাস নেওয়ার সমস্যা শুরু হয় সে থেকেই । অনেক বড় বড় প্লেন এক্সিডেন্টের সূচনা হয়েছিল এই এয়ার প্রেশার হঠাৎ কমে যাবার কারণে । আধুনিক প্লেনে এই এয়ার প্রেশার অটোমেটিকালি কন্ট্রোল্ড হয় প্লেনের কম্পিউটার দিয়েই। পাইলটের কিছু করতে হয় না। কিন্তু প্রায় একশো বছর আগে একক ভাবে প্লেন চালাবার সময় এয়ার প্রেশার কন্ট্রোলের জরুরি কাজটা এমিলিয়া এয়ারহার্টের নিজেকেই করতে হয়েছিল !

১৯৩২ সাল এমিলিয়া এয়ারহার্টের ক্যারিয়ারের এক সোনালী বছর । চার্লস লিন্ডবার্গের নন স্টপ সোলো ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইটের পর পেরিয়ে গেছে প্রায় পাঁচ বছর ! আকাশ পথে আটলান্টিক পাড়ি দেবার পৃথিবী উত্তাল করা লিন্ডবার্গের উদাহরণ সামনে থাকলেও ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইটের ব্যাপারটা কিন্তু তখনও নানা কারণেই মোটেও সহজ ছিল না। আকাশ পথে আটলান্টিক জয়ের চেষ্টায় আটলান্টিকের শীতল জলে চিরদিনের মতো হারিয়ে গেছেন কত পাইলট । লিন্ডবার্গের ফ্লাইটের দু’সপ্তাহ আগে আটলান্টিকের অতলে হারিয়ে যাওয়া বিখ্যাত দুই ফ্রেঞ্চ পাইলট চার্লস নানজেসার আর ফ্রাঙ্কোইস কলি-র মর্মান্তিক ঘটনাতো তখনো সবার মনেই দগদগে ক্ষত চিহ্নের মতো জীবন্ত !আটলান্টিকের গহীন অতলে হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য পাইলটের তাজা স্মৃতি, দুর্ঘটনার আশংকা, মৃত্যুর হাতছানি কোনো কিছুই তবুও অদম্য সাহসী এমিলিয়া এয়ারহার্টকে দমাতে পারেনি । জীবনের ঝুঁকিকে হেলায় দূরে সড়িয়ে এমিলিয়া পেশাগত উৎকর্ষের চ্যালেঞ্জকে তাই বেঁছে নিতে পেরে ছিলেন সহজেই । ১৯৩২ সালের মে মাসের ২০-২১ তারিখে প্রায় পনেরো ঘন্টার এক ম্যারাথন ফ্লাইটে এমিলিয়া এয়ারহার্ট ,চার্লস লিন্ডবার্গের পরে পৃথিবীর দ্বিতীয় মানুষ হিসেবে একক ভাবে আটলান্টিক পাড়ি দেন I একটু ভাবুন,আটলান্টিকের ওপর নিঝুম রাতের নিরন্ধ্র আঁধারে স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, জিপিএস ছাড়া শুধু সেক্সট্যান্ট, আর রেডিও কমিউনিকেশন সম্বল করে একজন নিঃসঙ্গ মানুষ প্লেন চালাচ্ছে সাগর পাড়ি দিতে ! এই হাই টেকনোলজির যুগে পুরো ব্যাপারটা এখন অবিশ্বাস্য মনে হবে ।একজন মানুষের অদম্য সাহস,কঠোর অধ্যবসায়,প্রফেশনাল উৎকর্ষের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা আর আন্তরিকতা বুঝতে এই ব্যাপারগুলোই যথেষ্ট হবে বলে মনে করি। কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড থেকে প্লেন চালিয়ে হাজার মানুষের বিস্মিত দৃষ্টির সামনে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নেমে আসা কোনো দেবীর রথের মতো দু'পাখা মেলে এমিলিয়া এয়ারহার্টের লকহিড ভেগা প্লেনটি যখন নিরাপদে এসে ল্যান্ড করে নর্দান আয়ারল্যান্ডের লন্ডনডেরির (Londonderry) এক এয়ার ফিল্ডে তখন ভিড় করা জন সসমুদ্র তুমুল হর্ষধ্বনি আর করতালির মধ্য দিয়ে বরণ করে ট্রান্সআটলান্তিক ফ্লাইটের প্রথম সফল মহিলা পাইলট এমিলিয়া এয়ারহার্টকে। এই ফ্লাইট শেষ করে আমেরিকায় ফিরে আসার পর পরই আমেরিকান কংগ্রেস তাকে "Distinguished Flying Cross" দিয়ে সম্মানিত করে। এই সন্মান পাওয়া প্রথম মহিলা পাইলট হলেন এমিলিয়া এয়ারহার্ট । সেই বছরের শেষ দিকে প্রথম একক মহিলা পাইলট হিসেবে তিনি আমেরিকার পশ্চিম থেকে পূর্বে নন স্টপ প্লেন চালানোর রেকর্ড করেন। এই ফ্লাইটে তিনি ক্যালিফোর্ণিয়ার লসএঞ্জেলস থেকে নিয়ার্ক, নিউজার্সি পর্যন্ত ফ্লাইটটি চালান । ১৯৩৫ সালে প্রথম মহিলা পাইলট হিসেবে একাকী হাওয়াই থেকে আমেরিকার মেইনল্যান্ড পর্যন্ত প্লেন চালান ।

ফটো ৩ : কংগ্রেশনাল মেডেল প্রদান অনুষ্ঠান

১৯২৯ সালে মহিলাদের পাইলট হিসেবে উৎসাহিত করতে এমিলিয়া "Ninety Nine " নাম একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলেন । আজও সক্রিয় ৪৪ দেশের মহিলা পাইলটদের সংগঠন "organization of licensed pilots"- এর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এমিলিয়া এয়ারহার্ট । ১৯৩৫ সালে এমিলিয়া আমেরিকার ইন্ডিয়ানা স্টেটের বিখ্যাত পারডু ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাকাল্টি হিসেবে যোগ দেন সবাইকে এভিয়েশন ক্যারিয়ার গড়ার উৎসাহ দিতে ।

ফটো ৪ :এমিলিয়া এয়ারহার্ট ইলেকট্রার সামনে, ১৯৩৭

১৯৩৭ সালে এমিলিয়া এয়ারহার্ট শুরু করেন তার জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত ফ্লাইট । এই ফ্লাইট দিয়ে তিনি পরিকল্পনা করেন আকাশ পথে সারা পৃথিবী প্রদক্ষিণের । সেই কতদিন ধরে লুকিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন যে নিরক্ষ রেখার পাশ ঘেসে যেই আকাশে পৃথিবী প্রসারিত হয়েছে বিশালতম বিস্তারে সেই আকাশ জুড়ে তিনি উড়ে যাবেন I যেই আকাশে আগে কোনো পাইলটের কোনো প্লেন পাখা মেলে উড়তে পারেনি ! তার আগে অল্প কজন পাইলটই এ'রকম দুঃসাহসিক এয়ার ফ্লাইটের চেষ্টা করেছিলেন । অসংখ্য ব্যর্থ চেষ্টার পরে ১৯২৪ সালে পুরো পৃথিবী প্রদক্ষিণের চেষ্টায় সফল হয়েছিলেন আমেরিকান বিমান বাহিনীর চারজন পাইলট ও তাদের ক্রুদের নিয়ে গঠিত একটি টিম । সেই সাফল্যও এসেছিলো আবার বিমান বাহিনীর জন্য বিখ্যাত ডগলাস কোম্পানির বিশেষ ভাবে নির্মিত প্লেনে। আর একক ভাবে শুধু উইলি পোস্ট এমিলিয়া এয়ারহার্টের এই ভ্রমণের চার বছর আগে পুরো পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে পেরেছিলেন প্লেন চালিয়ে । কিন্তু সেই বিজয় উৎসব শেষ করার আগেই ১৯৩৫ সালে প্লেন চালিয়ে উত্তর মেরু পাড়ি দিতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান উইলি পোস্ট । কত দুর্ঘটনা আর প্রাণহানির দগদগে স্মৃতি তখনও তাড়িয়ে বেড়ায় এমিলিয়াকে । কিন্তু তবুও মনের গভীরে সযত্নে লুকিয়ে রাখা প্লেন চালিয়ে সারা পৃথিবী প্রদক্ষিণের অধরা স্বপ্ন পূরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এমিলিয়া । ১৯৩৭ সালের জুন মাসের ১ তারিখে এমিলিয়া ফ্লাইট নেভিগেটর ক্যাপ্টেন ফ্রেড নোনেনকে নিয়ে লকহিডের টুইন ইঞ্জিন 10A ইলেকট্রা মডেলের একটি প্লেনে ক্যালিফোর্ণিয়ার ওকল্যাণ্ড থেকে নীল আকাশের সূর্যপথে তার পৃথিবী ভ্রমণের যাত্রা শুরু করেন । তারা প্রথমে আসেন ফ্লোরিডার মিয়ামিতে । মিয়ামি থেকে আরো দক্ষিণে ল্যাটিন আমেরিকা হয়ে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছান আফ্রিকাতে । সেখান থেকে ভারত ঘেঁষে দক্ষির পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া হয়ে জুন মাসের ঊনত্রিশ তারিখে ২২,০০০ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছান পাপুয়া নিউগিনির লে-তে (Lae)।আর মাত্র ৭,০০০ মাইল পাড়ি দিলেই সারা পৃথিবী ঘুরে আবার আমেরিকার ক্যালিফোর্ণিয়ার উপকূল যেখান থেকেই তার আকাশে উড়ার সূচনা! সেই পথ পেরুতে জুলাই মাসের ২ তারিখে এমিলিয়া এয়ারহার্ট আর ফ্লাইট নেভিগেটর নোনেন তাদের পরবর্তী ফ্লুয়েলিং স্টপেজ ছোট হাওলান্ড আইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ফ্লাই করেন। এই পথে উড়তে থাকার সময়ই এমিলিয়ার ইলেক্ট্রার সাথে ইউএস কোস্টগার্ডের সব ধরণের রেডিও কন্টাক্ট ছিন্ন হয়ে যায় আর তারা হারিয়ে যান চিরদিনের জন্য নর্থ প্যাসিফিকের নীল জলের কোনো অচেনা অতলে।

প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট তাৎক্ষণিক ভাবেই ম্যাসিভ একটা সার্চের আদেশ দেন এমিলিয়ার ইলেক্ট্রার খোঁজে। পরবর্তী দুই সপ্তাহে প্রায় দুই লক্ষ্ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে তন্ন তন্ন করে খোঁজার চেষ্টা ব্যর্থ হলে জুলাইয়ের ১৯ তারিখে আনুষ্ঠানিক ভাবে এমিলিয়া এয়ারহার্ট আর ফ্রেড নোনেনকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয় ।এমিলিয়া এয়ারহার্ট আর ফ্রেড নোনেনের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে অনেক থিওরি আছে,অনেক কন্সপিরেসি থিয়োরিও আছে। কিন্তু কোনোটাই নির্ভরযোগ্য ভাবে প্রমান বা অপ্রমাণ করা যায় নি কখনোই। এই নিখোঁজ হবার ব্যাপারে আমেরিকান সরকারের অফিশিয়াল পজিশন হলো এমিলিয়া এয়ারহার্ট আর ফ্রেড নোনেনের ইলেক্ট্রা নর্থ প্যাসিফিকের জলে ক্রাশ হয়েছে যে কোনো কারণেই হোক । তার মৃত্যু দিন না জানায় আমাদের ব্লগে কেউ যদি শ্রদ্ধাঞ্জলি নাই বা জানায় এমিলিয়া এয়ারহার্টকে স্বরণ করে কি এসে গেলো তাতে ? আমার ভাবতেই ভালো লাগে যে, এই ছোট পৃথিবীর ছাদ হয়ে থাকা আকাশের সবটুকুইতো এমিলিয়া এয়ারহার্ট প্লেন চালিয়ে দেখেছেন । এখন না হয় প্রশান্ত মহাসাগরের অতল জলে ভেসে ভেসে পৃথিবীর মানুষের কাছে এখনো অজানা সাগর তলের নতুন কোনো জগৎ দেখছেন চির কৌতূহলী এমিলিয়া !

এইতো গতকালই মাত্র আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইলেকশনে ডেমোক্রেটিক পার্টির নমিনেশন রেস্ থেকে শেষ মহিলা প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ড্রপ আউট হলেন । এর আগে একে একে ড্রপ আউট হয়েছেন অন্য সব মহিলা প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট নিউইয়র্ক সিনেটর ক্রিস্টিন জিলব্র্যান্ড, ক্যালিফোর্ণিয়া সিনেটর কমলা হ্যারিস, মিনোসোটা সিনেটর এমি ক্লোবাচার । ২০১৬ সালেও হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন নি । মেয়েদের বাধা পথে পথে । কিন্তু বিস্তীর্ণ বাধা ছড়ানো পথ সত্বেও আমেরিকার মেয়েদের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইলেকশনে ভোট দেবার সাংবিধানিক অধিকার পাবারও আগে এমিলিয়া এয়ারহার্ট প্লেন চালাবার লাইসেন্স পান । তার আগে অল্প ক’জন মহিলাই পাইলট হিসেবে ফ্লাইং লাইসেন্স পেয়েছিলেন । কিন্তু তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে এমিলিয়া এয়ারহার্ট আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে পরিচিত মহিলা পাইলট। নীল আকাশের সাদা মেঘের রাজ্যজুড়ে তিনি নিজে শুধু প্লেনই চালাতে চাইতেন ।কিন্তু তার কাজই তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছিলো । নিজের কাজের মধ্যে দিয়েই হয়ে উঠেছিলেন আমেরিকার পপ কালচারের একজন অবিস্মরণীয় আইকন। সাধারণ মেয়ে থেকে শুরু করে হলিউডের নায়িকারা পর্যন্ত তাকে অনুসরণ করতো সাজ সজ্জায় । তার চুলের স্টাইল এক সময় ক্রেজে পরিণত হয় আমেরিকান মেয়েদের কাছে। রাষ্ট্র প্রধান থেকে সাধারণ মানুষ সবাই তাকে এক নজর শুধু দেখতে চাইতো, চাইতো তার সাক্ষাৎ ! সারা পৃথিবীর সব মেয়ের মনেই তিনি একটি স্বপ্নের সোনাবীজ বুনে দিয়েছিলেন তার অদম্য সাহস, স্বপ্ন সফলের কঠোর সাধনা দিয়ে ।

ফটো ৫: সাউথ প্যাসিফিকের নিকোমুরোরো দ্বীপ : ধারণা করা হয় এর কাছাকাছি কোথাও এমিলিয়া এয়ারহার্টের প্লেন ক্রাশ হয়েছিল ।

আজ মার্চের আট তারিখ । বিশ্ব নারী দিবস ।আমাদের দেশেও নিশ্চই এই দিনটা পালন হচ্ছে । জানি না কেমন ভাবে পালন হচ্ছে । আমাদের মেয়েদের সামনে এখন দেশের কোনো মেয়ে আইকন আছেন কিনা জানি না যাকে সামনে রেখে দেশের ছোট মেয়েরা বড় হবার স্বপ্ন দেখবে । কিছুদিন আগেই ব্লগার সোহানী দেশ ঘুরে এসে লিখেছেন সবার মুখে শুধু দামি শাড়ি গহনা, ফেসবুকের গল্প ! এমিলিয়ার এয়ারহার্টের মতো কল্পনার পাখা মেলে নিজেকে ছাড়িয়ে যাবার স্বপ্ন দেশের মেয়েরা দেখতে পারে কিনা সেটাও আমি জানি না । আমি শুধু জানি দেশ আজ আমাদের সব মেয়েদের জন্য একটা নরকপুরী হয়ে গিয়েছে ।এখানে তনু মারা যায়, মিতু মারা যায়, আরো অজস্র মেয়ে মারা যায় দিনে দুপুরে ! সেই যে নেপোলিয়ান বলেছিলেন আমাকে একজন ভালো মা দাও. আমি একটা বিজয়ী জাতি দেব তোমাদের । সেটাতো সত্যি । আমাদের দেশে আমরা আমাদের ছোট মেয়েদের সত্যিকারের বড় মানুষ করার মতো কাজগুলো কি করছি ? একজন এমিলিয়া এয়ারহার্টের মতো স্বপ্ন দেখা একটা মেয়ে তৈরী করার কাজটা আমরা করতে পারছি দেশে ? না চাইছি করতে? নাকি শুধু সুন্দরী প্রতিযোগিতার দিকে উৎসাহিত করতে চাইছি মেয়েদের ? নাকি চাইছি বাণিজ্যিক পণ্য বানাতে? মেয়েদের এতো বঞ্চনার মধ্যে রেখে কি একটা জাতির উন্নয়ন করা যাবে ?

১৯৯০ সল্ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের সরকার প্রধানের দায়িত্বে মহিলা নেতৃত্ব । আমেরিকার মতো সেক্যুলার দেশেও যা এখনো সম্ভব হয়নি । এবার সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন শেষ মহিলা ক্যান্ডিডেট হিসেবে প্রেসিডেন্সিয়াল নমিনেশন রেস্ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবার পর নারী পুরুষ বৈষ্যম্যের এই আলোচনা এখানে আবার অনেক জোরালো হয়ে উঠেছে । একটা নারী দিবসে আমাদের সরকার প্রধান নারী এটা অনেক গর্বের বিষয় হতে পারতো আমাদের সবার জন্য। বিদেশে একরাশ লজ্জ্বার সাথে দেশের সমস্যার জন্য 'ব্যাটল অফ টু বেগম' ব্যাপারটা শুনতে হয়েছে । ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই অভিযোগের বিরোধিতাও করতে হয়েছে। আমি সুযোগ পেলেই এখানকার নারী পুরুষ বৈষম্য ইস্যুতে গর্বিতভাবে আমাদের দেশের সরকার প্রধান গত ত্রিশ বছর ধরেই মেয়ে, সেটা বলার চেষ্টা করি ছেলে মেয়েদের । কিন্তু দেশের বাইরে আমাদের ছেলে মেয়েদের সাথে আমাদের দেশের মহিলা বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে গেলেই নানা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয় (এখনকার ছেলে মেয়েরা ইন্টারনেট থেকে এতো বেশি জানে !) । আমি তখন একরাশ লজ্জা ঢাকতে চকিতে আমাদের দেশের মহিলা নের্তৃত্ব, তাদের গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের গুণবিচারী বাদ দিয়ে এমিলিয়া এয়ারহার্টের কথা বলি । আমি বুঝতেই পারি আমার মেয়ে তাতেই উদ্দীপ্ত হয় ! আমরা কবে যে নিজের দেশের একজন এমিলিয়া এয়ারহার্টের মতো নারী নেতৃত্বের কথা বলে নিজের ছেলে মেয়েদের উদ্দীপ্ত করতে পারবো আল্লাহই জানেন !

তথ্য আর ফটো : ইন্টারনেট
----------
অনেক দিন ধরে ভাবি এমিলিয়া এয়ারহার্টরের ওপর কিছু লিখবো । কেন জানি হয়ে উঠেনি । আজ ব্লগের বিশ্ব নারী দিবসের ব্যানারটা দেখে মনে হলো অনেক দিনের ফেলে রাখা লেখাটা লিখেই ফেলি। বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা ছোট সব মেয়েদের বলি তারা চাইলে আকাশ ছোয়া তাদের পক্ষেও সম্ভব । এমিলিয়া এয়ারহার্ট সেটা অনেক দিন আগেই দেখিয়ে গিয়েছেন ।

মন্তব্য ২৬ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (২৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৮

নেওয়াজ আলি বলেছেন: সুন্দর লেখনী ।

০৮ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নেওয়াজ আলি,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য । ভালো থাকুন ।

২| ০৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৮:৪৪

করুণাধারা বলেছেন: বাঙলাদেশের স্বপ্ন দেখা সব ছোট মেয়েদের বলি তারা চাইলে আকাশ ছোঁয়া তাদের পক্ষেও সম্ভব ভালো লাগলো আপনার আশাবাদ।

বিশ্ব নারী দিবসে এই কৃতী নারীর কথা জানতে পেরে ভালো লাগলো। আমাদের দেশেও এমন সাহসী মেয়ে জন্ম নিক, প্রার্থনা করি। তবে আমার আশা করতে ভয় হয়। কিছু মানুষরূপী পশুর জন্য মেয়েরা সবসময় ভয়ে থাকে...

পোস্টে ++++

০৯ ই মার্চ, ২০২০ ভোর ৬:৫৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: করুনাধারা,
হ্যা, 'আমাদের দেশেও এমন সাহসী মেয়ে জন্ম নিক, প্রার্থনা করি।' আপনার চাওয়াটাই আমারও চাওয়া । আর সেটা ভেবেই নারী দিবসে এই লেখা । মন্তব্যে অনেক ভালো লাগা।

৩| ০৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১০:০৩

শের শায়রী বলেছেন: এমিলিয়াকে নিয়ে অনেক আগে পড়ছিলাম। আবার ভুলেও গিয়েছিলাম। আপনার চমৎকার লেখনিতে আবার সব মনে পড়ে গেল। ভালো লাগা জানবেন।

০৯ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:১৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: শের শায়রী,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে । অনেক দিন ভেবেছি এমিলিয়া এয়ারহার্টকে নিয়ে লিখি । গত বছরের নারী দিবসের আগেও ভেবেছিলাম সেদিন লিখবো। তার আগের বছরও । কিন্তু নানান কারণে আর লেখাটা হয়ে উঠেনি । গতকাল সন্ধ্যায় ব্লগের ব্যানারটা চোখে পড়ে মনে হলো লেখাটা শেষ করে পোস্ট করেই দেই । আমি যে ভাবে চিন্তা করেছিলাম লেখার আঙ্গিকটা সেটা অন্য যে কোনো দিনের চেয়ে আটই মার্চেই বেশি মানান সই । সেই ভাবনা থেকেই কেমন করে যেন এবার হয়ে গেলো লেখাটা । বেশ কিছু জায়গায় এডিট করে দিলাম কিছু যোগ বিয়োগ করে । এমিলিয়া এয়ারহার্টকে নিয়ে আমার লেখাটা পড়েছেন জেনে খুব ভালো লাগলো । ভালো থাকবেন ।

৪| ০৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১০:৩৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,





বিশ্ব নারী দিবসের এই দিনটিতে স্বপ্ন দেখানো এক নারীকে নিয়ে লিখলেন।

তেমন স্বপ্ন দেখানোর মতো মানুষ এখানে নেই, সবাই ছুটছে ধনাকাঙ্খী স্বপ্নের বাস্তবটা বাস্তবায়িত করার ইঁদুর দৌঁড়ে।

মাঝে মাঝে গ্রামে-গঞ্জের বেশ কিছু স্বাবলম্বী নারীদের কথা জানা যায় পত্রিকার মাধ্যমে। ঐ পর্যন্তই। তাদের সফলতা কখনও আরও কাউকে স্বপ্নে উজ্জিবীত করবে এমন প্রনোদনা সম্ভবত দেখা যায়না।

আমাদের মেয়েরা কি স্বপ্ন দেখবে? বেঁচে থাকার নাকি অদম্য সাহসিক কিছু করে দেখানোর যা পৃথিবীর মানুষ মনে রাখবে ????

০৯ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জী এস ভাই,

হ্যা,আমাদের সীমাবদ্ধতাতো অনেক । সেই সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে আমাদের স্বপ্নগুলোকে ছুঁয়ে দেখার এক অনন্ত প্রেরণা এই এমিলিয়া এয়ারহার্ট । আমাদের মেয়েদের ব্যাপারে যা বলেছেন "তেমন স্বপ্ন দেখানোর মতো মানুষ এখানে নেই, সবাই ছুটছে ধনাকাঙ্খী স্বপ্নের বাস্তবটা বাস্তবায়িত করার ইঁদুর দৌঁড়ে" সেটা সত্যি বলেই খুব ব্যর্থতার । আর দেশের মেয়ের ব্যাপারে "মাঝে মাঝে গ্রামে-গঞ্জের বেশ কিছু স্বাবলম্বী নারীদের কথা জানা যায় পত্রিকার মাধ্যমে। ঐ পর্যন্তই। তাদের সফলতা কখনও আরও কাউকে স্বপ্নে উজ্জিবীত করবে এমন প্রনোদনা সম্ভবত দেখা যায়না" কথাটা হতাশার । আর আপনার শেষ প্রশ্নটা "আমাদের মেয়েরা কি স্বপ্ন দেখবে? বেঁচে থাকার নাকি অদম্য সাহসিক কিছু করে দেখানোর যা পৃথিবীর মানুষ মনে রাখবে" অনেক অনেক বেদনার ।

আমি আশাবাদী মানুষ ।তাই জীবনকে সাজানোর প্রেরণা খুঁজে ফিরি মানুষের মধ্যেই । এমিলিয়া এয়ারহার্ট তেমনি একজন প্রেরণাময় মানুষ । আমি জানি আকণ্ঠ দুর্নীতিতে ডোবা/ডুবন্ত আমাদের দেশের নেতৃত্ব কোনো মেয়েকে স্বপ্ন দেখাবার কাজটা করতে পারেনা । ছোট একটা মেয়ের মনে আশাবাদী স্বপ্নের সোনাবীজ বুনতে এরা পুরোই ব্যর্থ ।তাই দেশের অনেক মেয়ের কাছে একজন প্রেরণাময় মানুষের কথাই বললাম আটই মার্চের বিশ্ব নারী দিবসের এই লেখায় ।

অনেক ভালোলাগা মন্তব্যে ।ভালো থাকুন ।

৫| ০৮ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১০:৫১

রাজীব নুর বলেছেন: এমিলিয়া সম্পর্কে জানলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।

০৯ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নূর,
পরী যখন আরেকটু বড় হবে তখন তাকে এমিলিয়া এয়ারহার্টের গল্প বলবেন।স্বপ্ন ছোয়া এই অসামান্য মহিলার গল্প শুনে পরী অনেক বেশি সাহসী আর স্বাপ্নিক হতে পারবে ।স্বপ্নকে কেমন করে ছোঁয়া যায় ইচ্ছে আর কাজের সমন্বয় করে সেই শিক্ষাটাও পেয়ে যাবে । অনেক ধন্যবাদ লেখাটা পড়ে মন্তব্যের জন্য।

৬| ০৯ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৪১

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:
নারী দিবসে দারুন একটা পোস্ট পেলাম। ++
মহামতি এই নারীর জন্য শ্রদ্ধা। আর অসামান্য পোষ্টের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

১১ ই মার্চ, ২০২০ রাত ২:১১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: স্বপ্নবাজ সৌরভ,
অনেক ধন্যবাদ পোস্টটা পড়ার জন্য ।আমি আসলে খুব সাধারণ ভাবেই লেখাটা লিখেছি । কিন্তু এমিলিয়া এয়ারহার্টের কাজ আর অবদান এতই অসাধাৰণ যে তাকে নিয়ে আমার এই সাধারণ লেখাও আপনার কাছে তাই অসামান্য লেগেছে ।
ভালো থাকবেন ।

৭| ১০ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১:৪২

রিম সাবরিনা জাহান সরকার বলেছেন: একজন প্রিয় ব্যক্তিত্বের ওপর লেখাটা তুরন্ত লেগেছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনেক কিছুই নতুন করে জানলাম।

১১ ই মার্চ, ২০২০ ভোর ৪:৩৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রিম সাবরিনা জাহান সরকার,
অনেক ধন্যবাদ নেবেন লেখাটা পরে মন্তব্যের জন্য।বইমেলায় আপনার দ্বিতীয় বই প্রকাশে দ্বিগুন খুশি হবার কথাটা জানানো হয়নি। এই মন্তব্যেই সেটা জানিয়ে দিচ্ছি।পরে সময় সুযোগ করে আপনার সেই লেখাতেও মন্তব্যের আশা রাখছি। ভালো থাকবেন ।

৮| ১০ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ৭:৪৫

সোহানী বলেছেন: ক'দিন ব্লগে অনিয়মিত হবার কারনে এমন চমৎকর একটা লিখা পড়া হয়নি।

যাহোক, কি দিয়া শুরু করলেন আর কোথায় যাইয়া শেষ করলেন.......... B:-/ !!!!

যা আশা করছেন তাতে ছাই ই পড়বে, কিছুর কিছুই হবে না। এরকম এমিলিয়া তৈরী হবার জন্য দরকার একেবারে শিশু বয়স থেকে বুকের মাঝে ছোট্ট একটা স্বপ্ন। আর সে স্বপ্নের বীজটা স্বযত্নে বোপন করবে পরিবার, সমাজ, স্কুল, টিভির বিজ্ঞাপন, রাস্তার বিলবোর্ড, প্রধানমন্ত্রী থেকে পাশের বাসার আন্টি......। কিন্তু সে স্বপ্নের বীজ কি কেউ বুনতে পারছে?? তাহলে কিভাবে সে স্বপ্ন দেখবে আমাদের সন্তানরা??

আমাদের শিশুরা জন্মের পর থেকেই দেখে কিভাবে মেকাপ করতে হবে, কিভাবে প্রেম করতে হবে, কিভাবে টাকা খরচ করতে হবে। কর্পোরেট বেনিয়া আমাদের শেখায় মাস্তি করো মাস্তি.... একটাই জীবন তাই উপভোগ করো, যা করতে চায় তাই করো...ইন্টারনেট, দামী ফোন, চ্যাট, বিএফ, গফ.....।

কিভাবে আশা করেন ভাই এরকম এমিলিয়া হবার স্বপ্ন দেখবে এ জেনারেশান??? সামনের দিন যেন আরো ভয়াবহ সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে............ তাই নয় কি???

১২ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৫১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সোহানি,

যাহোক, কি দিয়া শুরু করলেন আর কোথায় যাইয়া শেষ করলেন.......... !!!!

হাহাহা ---- আমারওতো সেটাই দুঃখ । নিখাদ একটা লেখা লিখতে চেয়েছিলাম এমিলিয়া এয়ারহার্টকে নিয়ে । সেটা লিখতে যেয়ে কিছু দিন আগে আপনার লেখাটা মনে পড়লো (বাই দ্যা ওয়ে আপনি যা বলেছেন সেই লেখায় সে সব কথাগুলো আমি কিন্তু অনেক শুনি এখানে দেশের মানুষ সম্পর্কে), তাছাড়া দেশের ইদানিংকার মেয়েদের অবস্থা সম্পর্কে যে লেখাগুলো ব্লগে বা পেপারে আসে সেগুলোর কথা মনে হয়ে আমার লেখাও ইলেক্ট্রার মতো ডিরেইল্ড হয়ে গেলো । আর তা থেকেই নারী দিবসে এমিলিয়া এয়ারহার্টকে নিখাদ শ্রন্ধাঞ্জলি জানবার একটি লেখা দুঃখ দুঃখভাবের লেখায় বদলে গেলো ইচ্ছের বিরুদ্ধেই।

যা আশা করছেন তাতে ছাই ই পড়বে, কিছুর কিছুই হবে না। এরকম এমিলিয়া তৈরী হবার জন্য দরকার একেবারে শিশু বয়স থেকে বুকের মাঝে ছোট্ট একটা স্বপ্ন। আর সে স্বপ্নের বীজটা স্বযত্নে বোপন করবে পরিবার, সমাজ, স্কুল, টিভির বিজ্ঞাপন, রাস্তার বিলবোর্ড, প্রধানমন্ত্রী থেকে পাশের বাসার আন্টি......। কিন্তু সে স্বপ্নের বীজ কি কেউ বুনতে পারছে?? তাহলে কিভাবে সে স্বপ্ন দেখবে আমাদের সন্তানরা??

আমাদের শিশুরা জন্মের পর থেকেই দেখে কিভাবে মেকাপ করতে হবে, কিভাবে প্রেম করতে হবে, কিভাবে টাকা খরচ করতে হবে। কর্পোরেট বেনিয়া আমাদের শেখায় মাস্তি করো মাস্তি.... একটাই জীবন তাই উপভোগ করো, যা করতে চায় তাই করো...ইন্টারনেট, দামী ফোন, চ্যাট, বিএফ, গফ.....।

কিভাবে আশা করেন ভাই এরকম এমিলিয়া হবার স্বপ্ন দেখবে এ জেনারেশান??? সামনের দিন যেন আরো ভয়াবহ সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে............ তাই নয় কি???


আপনার লেখার সব অক্ষর, শব্দ, বাক্য, দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ কোনো চিহ্ন যতি চিহ্নের সাথে অমত করছি না। আপনি অনুমতি দিলে আপনার কমেন্টের সর্বাংশ আমার লেখার লেখার নানা অংশে প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ করে দিতে পারি । ও আরেকটা কথা, আমার লেখার একটা গোল্ডেন জিপিএ সিন্থিসিস হয়েছে (অনেস্টলি বলছি ) মন্তব্যে। ভালো থাকবেন ।

৯| ১০ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:২৮

জুন বলেছেন: নারী দিবস উপলক্ষে নারীকে নিয়ে লেখাটি ভালোলেগেছে তো বটেই সেই সাথে গর্বিতও বোধ করছি অবশ্যই মলাসইলমুনা । বহুদিন ধরেই মেয়েরা অনেক কিছুতেই ছেলেদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে চলছে। তার উদাহরণ আছে অজস্র। প্রথম মহিলা নভোচারী ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভার নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এবার নারী দিবসে অস্ট্রেলিয়া ভার্সেস ইন্ডিয়ার মেয়েদের কৃকেট উপভোগ করেছি স্বামী স্ত্রী আমরা দুজন, একজন নারী আর একজন পুরুষ পাশাপাশি বসে।
আপনার তথ্যপুর্ন সাথে সাবলীল লেখায় অনেক ভালোলাগা রইলো।
শুভকামনা জানবেন।
+

১৩ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ৮:০১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: জুন,
মন্তব্যে অনেক ভালো লাগা । ইউ রেড মাই মাইন্ড । আমার মেয়েকে আমি এমিলিয়া এয়ারহার্টের কথা বলি সব সময়ই । এই অসামান্য মহিলার কথা বলে ছোট বাচ্চাদের সব সময়ই মোটিভেট করা যায় বলেই আমার সব সময় মনে হয় । সেই ভালো লাগা থেকেও বলি, দূর বিদেশে বসে আমাদের দেশের উঁচু তলার বর্তমান কোনো মহিলার কথা বলে ছোট বাচ্চাদের একই রকম ভাবে উদ্দীপ্ত করা গেলে আমার হয়তো আরো ভালো লাগতো কিন্তু সেটা আর করতে পারছি কই ? তাই অনুসরণযোগ্য একজন মহিলা এমিলিয়া এয়ারহার্টের কথাই বললাম বিশ্ব নারী দিবসে । আপনার ভালো লেগেলেছে লেখা জেনে আরো খুশি হলাম ।ভালো থাকবেন ।

১০| ১১ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৫৫

ফয়সাল রকি বলেছেন: সুন্দর ও তথ্যমূলক লেখা।
এমিলিয়া এয়ারহার্টকে নিয়ে কখনো পড়া হয়নি। ধন্যবাদ আপনাকে।

১৫ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ফয়সাল রকি,
অনেক ধন্যবাদ এমিলিয়ার ওপর বড় এই লেখাটা পড়ে মন্তব্যের জন্য ।

১১| ১২ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৩৬

পদ্ম পুকুর বলেছেন: আপনার উপর আমার খুব রাগ আছে। ১. আগে মাঝে মাঝে উধাও হয়ে যেতেন, এখন মাঝে মধ্যে উদয় হন এবং ২. আপনিসহ আরো কয়েকজন পছন্দের ব্লগারকে অনেকদিন ধরে দেখছিনা, তাঁদের নিখোঁজ সংবাদ দিয়ে একটা পোস্ট মনে মনে রেডি করছি, আর আপনি এসে উপস্থিত। আমার নতুন একটা লেখার উপলক্ষ হারালাম!!!

লেখার বিষয়ে আলাদা করে কিছুই বলার নেই। বরাবরের মতই অসাধারণ। আপনার লেখার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের শেরশায়রী'র লেখায় বিষয়বৈচিত্র্য দেখে আসলেই অবাক হই। এমিলিয়ার গল্প পড়তে পড়তে মনে হলো লায়লা খালেদের গল্প হলেও মন্দ হতো না।

আর শেষে এসে যেটা বললেন যে আমাদের এমিলিয়া এয়ারহার্টের মত মেয়ে তৈরী করার জন্য আমরা কিছু করছি কি না? দুঃখজনক সত্য হলো, কেবল মেয়েদের বেলায় নয়, বরং কারো বেলাতেই আমরা স্বপ্ন তৈরী করতে পারছি না, এমনকি যেখানে সম্ভবনা আছে সেখানেও । আমি এটা নিয়ে লিখেছিলাম রোমান সানাকে নিয়ে। বিষয়টা নিয়ে আমার খুব হতাশ লাগে।

ভালো থাকবেন, শুভ ব্লগিং।

১৫ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: পদ্মপুকুর,
হাহাহা ---
লেখাটা হোল্ড করুন আর কিছু দিন ।মনে হচ্ছে আবার লিখতে পারবেন আরো সাজিয়ে গুছিয়ে ।
করোনা করুণাহীন হয়ে দেখা দিয়েছে আমাদের স্টেটে । তিন চারদিন আগেও পুরো স্টেটেই ইনফেকশনের কোনো নিউজ ছিল না কিন্তু এর মধ্যেই প্রায় পাঁচজন মারা গেছে ।স্টেট্ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে অলরেডি । স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ।দুইশ' জনের বেশি গ্যাদারিং নিষিদ্ধ । এই শুক্রবার জুমআ পড়া গেলো মসজিদে অনেক কনফিউশনের মধ্যে । নেক্সট শুক্রবার থেকে জুম্মা হয়তো বন্ধ থাকবে কিছু সময় । ন্যাশনাল লেভেলের সব খেলাধুলা, কনসার্ট, স্টেজ প্রোগ্রাম সব বন্ধ যা এখানে আগে কখনোই ঘটেনি । রীতিমতো যুদ্ধ দিনের মতো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে । নিউজগুলো খুব মন খারাপ করা । আমেরিকায় এতো হঠাৎ করে ব্যাপারগুলো ঘটছে যে এই যন্ত্রণার মাঝে ব্লগে এসে যে কিছু পড়বো বা লিখবো সেই ইচ্ছে গুলোও চলে যাচ্ছে । দীর্ঘ সময়ের জন্য শীতের এই শেষ বেলায় হাইবার নেশনে চলে গেলেও খুব বেশি অবাক হবার কিছু থাকবে না । আর হ্যা, লায়লা খালিদ ---অনেক পুরোনো একটা নাম মনে করিয়ে দিলেন । এমিলিয়া এয়ারহার্টেকে নিয়ে এই লেখাটা পরে মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ । ইনশালল্লাহ, আপনার লেখাটা পরে নিশ্চই সময় করে মন্তব্য করবো ।ভালো থাকুন ।

১২| ১৩ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:১১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মন্ত্রমুগ্ধ পাঠ!

মাই এইম ইন লাইফ রচনা লিখে 'পরীক্ষা পাশের' মাঝেই যখন লাইফের এইম লুকানো থাকে
তখন আর বড় স্বপ্নরা ডানা মেলতে পারেনা।
যখন অর্নব ৬ বছরে ভিজিটিং প্রফেসর হয়- তখন এখানে জ্ঞানের প্রকাশকে পাকনামি বলা হয়!
শিক্ষানীতিই যখন পেছনে হাটার- নাগরিকের কি সাধ্যি পেরোয় সে বাঁধার পাহাড়!

নিজেও বাধ্য হয়েই সন্তানদের গতানুগকিতায় ঠেলি-নিরুপায়!
মেধা যাচাইয়ের সনাতন পথ যে আটকে রাখে মুক্তির পথ ! মুক্তির আশে হাসফাস করে মন!
হৃদয়ে তাদের মুক্ত করেছি- কিন্তু নিয়মের জাতাকলে তারাও হাসফাস করে!!

কত অযুত নিয়ুত স্বপ্ন অংকুরের আগেই ঝড়ে গেছে, যাচ্ছে ইতিহাসে কেউ রাখেনি হিসাব।
অথচ সামান্য নার্সিং পেলে তরতর করে বেড়ে উঠতো অনন্য একেকজন আইকন।

দুখের সাথে বিপ্লবের স্বপ্ন দু চোখ ভরে- একদিন সেই দিন আসবে। মেধার অপচয় হবেনা। পূর্ণ বিকাশের পথে
দলে দলে পাখনা মেলবে মেধাবী সন্তানেরা। বাংলাদেশ হয়ে উঠবে মেধার চারনভূমি।

১৫ ই মার্চ, ২০২০ রাত ৮:৩৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় বিদ্রোহী ভৃগু,

দুখের সাথে বিপ্লবের স্বপ্ন দু চোখ ভরে- একদিন সেই দিন আসবে। মেধার অপচয় হবেনা। পূর্ণ বিকাশের পথে
দলে দলে পাখনা মেলবে মেধাবী সন্তানেরা। বাংলাদেশ হয়ে উঠবে মেধার চারনভূমি।


আমিও সেই স্বপ্ন দেখি দেশ নিয়ে সব সময় । নিশ্চই একদিন -----
আমার মন খারাপ করা লেখায় মন ভালো করার বর্ণাঢ্য প্রলাপ দিলেন যেন মন্তব্য করে ।
কোরোনার বিশ্বসন্ত্রাসেও সবাইকে নিয়ে ত্রাসমুক্ত থাকুন, ভালো থাকুন সেই কামনা ।

১৩| ১৩ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৪৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: যাক, শেষ পর্যন্ত এ বছরের বিশ্ব নারী দিবসে এমিলিয়া এয়ারহার্ট কে নিয়ে পোস্ট লিখতে পেরেছেন, এজন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আমাদের দেশে কিন্তু ষাট, সত্তর এমন কি আশি'র দশকেও কিছু আইকনিক মহিলা ছিলেন যাদের জীবনাচার ও জীবনের সাফল্য নিয়ে এদেশের মেয়েরা অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারতো। কিন্তু লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে এবং ওনারা নিজেরা প্রচার বিমুখ হবার কারণে তাদের সম্পর্কে মানুষ খুব বেশী আলোচনা করতোনা, ওনারাও জনপ্রিয়তা থেকে দূরেই থেকে যেতেন। চিন্তা করে দেখুন, সেই ষাটের দশকে যেসব মহিলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে এখানে খুব ভাল ফলাফল অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়েই অধ্যাপনা করেছেন, কিংবা ডাক্তার হয়েছেন, আরো কিছুটা পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও যোগ দিয়ে তারা কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদেরকে কতটা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে এ সাফল্য অর্জন করতে হয়েছে!
সোহানী, জুন, পদ্ম পুকুর প্রমুখের মন্তব্যগুলো বেশ ভাল লাগলো।
তবে এবার নারী দিবসে অস্ট্রেলিয়া ভার্সেস ইন্ডিয়ার মেয়েদের কৃকেট উপভোগ করেছি স্বামী স্ত্রী আমরা দুজন, একজন নারী আর একজন পুরুষ পাশাপাশি বসে - জুন এর মন্তব্যের এ অংশটুকু বেশী ভাল লাগলো, কারণ সে খেলাটা হয়েছিল এই মেলবোর্নেরই এমসিজি মাঠে, যার সম্বন্ধে আপনি কিছুকাল আগে আমার একটা পোস্টে মন্তব্যকালে উল্লেখ করেছিলেন। সেদিন সে মাঠে যে দর্শক সমাগম হয়েছিল, তার সংখ্যাটা এই ঐতিহাসিক মাঠের প্রায় দেড়শ' বছরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দশ এর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।
চমৎকার এ তথ্যবহুল পোস্টে অষ্টম প্লাস + +।

২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:১৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খায়রুল ভাই,

অনেক ধন্যবাদ অনেক সুন্দর একটা মন্তব্যের জন্য ।
জ্বি, আপনি যেমন বলেছেন আমাদের দেশের পঞ্চাশ বা ষাট দশকের মহিলাদের কথা সেটা খুবই সত্যি । তারা যেকোনো বিচারেই অনুসরণযোগ্য আর অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ । কিন্তু আমি তাদের কথা যখন ভাবি তখনই আমার মন খারাপ হয় । পঞ্চাশ বা ষাট দশকের অসামান্য সেই মেয়েদের মতো করে ভাবতে বা তাদের মতো হতে কি আমাদের মেয়েদের এখন আর বলা হয় ? এক ভয়াবহ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে সব মনে হয় শেষ হয়ে গেছে সেদিনের অনুপ্রেরণাদায়ী দেশের মেয়েদের অসামান্য জীবন কাহিনীর গল্প । আমাদের দেশের বর্তমান নেতৃত্ব নিজেদের স্বার্থেই মনে হয় একটা পুরো জেনারেশনের ছেলে মেয়েদের চিন্তা ভাবনা খুব সংকীর্ণ করে দিতে যা করবার তার সবই করছে । সেই খারাপ লাগাটা দেশের বাইরে থেকে কেন যেন বেশি চোখে পরে । সেই ভাবনাটা এই নারী দিবসে কেন জানি অনেক বেশি করে মাথায় আসলো ।হয়তো এ বছর আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ইলেকশনের নমিনেশন প্রার্থী চারজন খুবই যোগ্য মহিলা সিনেটরের একের পর এক ড্রপড আউটের কারণেই সেটা বেশি মনে হলো ।সেটাও হতে পারে । যাহোক সেই থেকেই এমিলিয়া এয়ারহার্টের ওপর লেখাটা কেন জানি একটু অন্যরকম একটা লেখা হয়ে গেলো । লেখাটা পড়ে মন্তব্যের জন্য আরেকবার ধন্যবাদ ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.