নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঈশ্বরের খোঁজে (পর্ব -১) (করোনা উদ্দীপ্ত একটি সাইন্স ফিকশন)

২৫ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:২৪





ঘরে ঢোকার আগে চারদিকে কয়েক বার তাকালো নোয়া ।
আকাশের দিকে একবার মুখ তুলে দেখলো । রাতের আকাশে অনেক তারা । ছোট বড় অনেক তারায় আকাশ যেন ঝিকমিক করছে । খুবই সাধাৰণ একটা দৃশ্য এই সময়ের জন্য । তবুও নোয়া আরো কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো আকাশের দিকে । ঠিক কি যেন একটা সব সময়ের মতো না আকাশে । কি যেন ঠিক মিলছে না আকাশের তার অভিজ্ঞতার সাথে। কি যেন অদ্ভুত কিছু একটা আছে এই রাতের আকাশে নোয়া সেটা ঠিক ধরতে পারছে না, শুধু অনুভব করতে পারছে । কেউ কি ওকে লক্ষ্য রাখছে? চোখে চোখে রাখছে যেন ও কোথাও হারিয়ে না যেতে পারে? এ’রকম একটা অদ্ভুত অনুভূতি নোয়ার বেশ কিছু দিন ধরেই হচ্ছে ।

গত কয়েকদিন ধরেই কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে ওর আশেপাশে যেগুলোকে ঠিক সাধারণ বলা যায় না কোনো ভাবেই । এই গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরেও মাঝে মাঝেই ও লক্ষ্য করছে হঠাৎ হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস এসে ঘিরে ধরছে ওকে । এ সাধারণ বাতাসের মতো শীতল নয় । আরামের।খুব গরম নয় আবার খুব ঠান্ডাও নয় । একেবারে প্রাণ জুড়িয়ে যাওয়া বাতাস । নোয়া জানে বছরের এই সময়ে এই রকম শীতল বাতাস আসে পাশে কোথা থেকে আসার কোনো কারণ নেই।আসে পাশে কোনো বড় নদী বা সাগর নেই যে দিক থেকে বাতাস এলে এরকম ঠান্ডা হতে পারে । কিন্তু তবুও কোথা থেকে যেন আসছে এই শীতল বাতাস ? যেন ওকে এই তীব্র গরম থেকে বাঁচাতেই কেউ এই শীতল বাতাস পাঠাচ্ছে এই পাড়া গায়ে ! এ'রকম আরেকটা অবাক ব্যাপার খেয়াল করেছে নয়া মাত্র কদিন আগেই । বাসার কাছেই টিলার ঢালটা কদিন আগে ভরে গেছে অজস্র ব্লু বনেটে । হঠাৎ করে এতো ব্লু বনেট কেমন করে এখানে হলো সেটা ভেবেও নোয়া অবাক হয়েছিল। এর আগে এতো ব্লু বনেট কখনোই এই এলাকায় ফোটেনি । এই অঞ্চলের কেউ চেনেও না এই ফুল !

নোয়া আবার আকাশের দিকে তাকায়। হালকা গোলাপি আভাটা চোখে পড়েছে এতক্ষনে । আকাশে চাদ অনেক হালকা হয়ে গেছে। মেঘের মতো সাদা রং তার । তারার আলোগুলোও নরম হালকা সাদা রং। এই মধ্যরাতের আকাশে এরকম গোলাপি রং ছড়ানোর কোনো কাৰণ নেই । কিভাবে এই রাতের আকাশে এই গোলাপি রং এলো তাহলে ? নোয়া অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষন। কি অদ্ভুত সুন্দর এই গোলাপি আলো ! কোনো প্রশ্ন নয়, কোনো কথা নয় মুগ্ধ দৃষ্টিতে শুধু চেয়ে দেখতে হয় এই গোলাপি আলোর আভা। নোয়া মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ।

ঘরে ঢুকতেই মিষ্টি একটা ঘ্রান নাকে এলো নোয়ার । চেনা চেনা খুব মিষ্টি কিন্তু বুঝতে পারলো না নোয়া ঠিক কিসের ঘ্রান সেটা । ও ঘরে কোনো এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করে নি । এই পাড়া গায়ে স্প্রে ধরণের কিছু পাওয়া যাবার প্রশ্নও নেই, আর তাই সে ধরণের কিছু করারও প্রশ্ন নেই । কিন্তু ঘ্রাণটা খুব সতেজ ।যেন অল্প আগেই কেউ ঘরে স্প্রে করেছে । এতক্ষনে নোয়া বুঝতে পারছে ল্যাভেন্ডারের ঘ্রাণ ! ওর প্রিয় এয়ার ফ্রেশনার ! অনেক আগে একটা সময় ছিল তখন এই এয়ার ফ্রেশনারটাই ও ঘরে সব সময় ব্যবহার করতো । ওর সব সময়ই ভালো লাগে ল্যাভেন্ডারের ঘ্রান ! কিন্তু ওর প্রিয় ল্যাভেন্ডারের ঘ্রান এই ঘরে এলো কেমন করে ?

তীব্র ঘুমে চোখ বুজে আসতে চাইছে নোয়ার । কিন্তু তবুও ও প্রানপনে জেগে থাকতে চেষ্টা করে । ঘরের মধ্যে কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে ও অনুভব করতে পারে । কিন্তু ভালো করে বুঝতে পারছে না ঠিক কি পরিবর্তন হচ্ছে ঘরে বা হয়েছে। শুধু মনে হয় দুজন মানুষের উপস্থিতি বোঝা যাচ্ছে । কে তারা তার এই সাধাৰণ ঘরে তাদের কি দরকার? তার ঘরেতো কোনো দামি জিনিস নেই। কোনো সোনাদানা কিছুই নেই। তার ঘরে কেউ তাকে না বলে আসবে কেন ? অনেক দিন কেউ তার ঘরে আসে না ।তার পরিচিতি মানুষ জনের সংখ্যা কম ।খুব কম ।

২.
-‘আমি কোথায়’? ঘুম জড়িয়ে থাকা চোখটা একটু খুলেই নোয়া প্রশ্ন করে ।
-নোয়া, তুমি কিচ্ছু ভাববে না ।তুমি আমাদের মাদারশিপে। ইন্টারইউনিভার্স ভয়েজের সবচেয়ে সফিস্টিকেটেড স্পেসশীপে তুমি আছো এখন । তুমি চাইলেই আমরা তোমাকে তোমার হোম ফিলিংস দিতে পারি। এমন কি তুমি তোমার কটেজের বিছানায় শুয়ে আছো সেটাও তুমি চাইলে ফিল করতে পারবে। সেটা আমরা করতে পারি সহজেই ।
-‘কে তোমরা’? নোয়া জিজ্ঞেস করে ঘুমের ঘোরেই ।
- ' আশ্চর্যতো তুমি জেগে আছো এখনো ! তোমারটা এতক্ষনে ঘুমিয়ে যাবার কথা ! গোলাপি রঙের আকাশ, শীতল বাতাস, ব্লু বনেট, ল্যাভেন্ডার এয়ার ফ্রেশনার এই সবইতো তোমার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে । এইগুলো সবই তোমার প্রিয় । এর আবেশে তোমার এতক্ষনে ঘুমিয়ে যাবার কথা', দূর থেকে কেউ যেন কথা বলে ।
- ‘তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ’ ?
- আমরা কয়েক কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মধ্যেই পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরের গ্যালাক্সি GN-z11-এর পাশ দিয়ে উড়ে যাবো । এই গ্যালাক্সির গ্রাভিটেশন কাজে লাগিয়ে আমরা ওয়ার্ম হোল ক্রিয়েট করে সেটার ভেতর দিয়ে এই বিশ্বব্রম্মান্ড ছাড়িয়ে অন্য জগতে চলে যাবো তোমাকে নিয়ে ।
-'তোমরা কে ?’, কেমন করে জানো আমার পছন্দের কথা' ? নোয়া কথাগুলো বলেই একটু চোখ খুলতে চেষ্টা করে ।
-‘ না না তুমি চোখ খুলো না । চোখ খুললে তুমি ভয় পেতে পারো’ ।
-‘কেন ভয় পাবো’ ?
-‘তুমি আমাদের বুঝতে পারবে না ।তাই ভয় পাবে’।
-আমি তোমাদের দেখতে চাই ।
-‘তুমিতো তোমাদের ত্রিমাত্রিক বিশ্বের এই চোখ দিয়ে আমাদের দেখতে পাবে না । আমরা তো তোমার মতো এই ইউনিভার্সের কেউ নই ।আমরা ত্রিমাত্রিক বিশ্বের বাইরের থেকে আসা স্পেস ট্রাভেলার’।
-‘আমাদের ইউনিভার্সের বাইরে থেকে এসেছো !’ নোয়া বিস্মিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে ।
-‘হ্যা, তোমাকে ব্যাপারটা বোঝানো কষ্টকর’ ।
-‘তবুও বলো, আমি শুনতে চাই’ ।
-খুব সহজ করে বলি যাতে তুমি বুঝতে পারো । আমরা জানি তোমাদের বিজ্ঞানীরা প্রায় একশো বছর আগে স্ট্রিং থিওরি নামে একটা বিষয়ের কথা বলেছিলেন। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন যে বিগব্যাং থেকে একটা না অনেকগুলো ইউনিভার্সের সৃষ্টি হতে পারে । যেগুলো পাশাপাশি থাকবে একটা গিটারের বা ভায়োলিনের তারের মতো । একটা দুটো তার নয় অসংখ্য তার মানে অসংখ্য ইউনিভার্সও সৃষ্টি হতে পারে । যারা প্যারালাল চলছে । কিন্তু পাশাপাশি থাকলেও কোনো তারের সাথে কোনো তারেরই কখনোই যোগাযোগ হবে না । আমাদের ব্যাপারটাও তেমন মনে করো । ধরে নাও আমরা যোগাযোগ করা অকল্পনীয় কঠিন পাশাপাশি থাকা তেমন আরেকটা ইউনিভার্স থেকে তোমাদের ইউনিভার্সে এসেছি ।
-‘তোমরা কেন এসেছো তাহলে আমার কাছে ? কি চাও তোমরা’?
-‘আমরা তোমরা কাছে আসিনি।আমরা তোমাকে বাছাই করেছি আমাদের কাজের জন্য’ ।
-‘কি কাজ’?
-‘তুমি সত্যি জানতে চাও? তোমার কষ্ট হবে । সব জানতে চেয়োনা’ ।
-‘না, আমাকে বলো । আমি সব শুনতে চাই । আমি সব জানতে চাই’ ।


-‘নোয়া, তোমার কি মনে আছে অনেক বছর আগে তুমি যখন আমেরিকায় থাকতে তখন একদিন ওয়াশিনটন ডিসির ন্যাশনাল এয়ার এন্ড স্পেস মিউজিয়ামে বেড়াতে গিয়েছিলে’?
-‘হ্যা, মনে আছে’।
-‘ওখানে কি কি করেছিলে মনে আছে’ ?
-‘হ্যা, মনে আছে । ওখানে আমি রাইট ব্রাদার্সের ইঞ্জিন দিয়ে আকাশে উড়া প্রথম প্লেনটা দেখেছিলাম । এমিলিয়া এয়ারহার্টের প্রথম সোলো ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইটের লকহিড ভেগা প্লেনটা দেখেছিলাম । অনেক ফটো তুলে ছিলাম’।
-‘আর কি করেছিলে’?
-‘মনে পড়ছে না’ ।
-‘কেন ভুলে গেছো এপোলো ইলেভেনের এস্ট্রোনটদের চাঁদ অভিযান থেকে আনা এক টুকরো ডিসপ্লে মুন রক তুমি স্পর্শ করেছিলে’ ?
-‘হ্যা হ্যা মনে পড়েছে এখন। সেটা স্পর্শ করে একটা ফটোও তুলেছিলাম’।
-‘হ্যা, সেই মুন রকটা ছিল চাঁদে প্লান্ট করা একটা আর্টিফিশিয়াল রক । আমাদেরই একটা সোজার্নার গ্রূপ চাঁদে প্ল্যান্ট করেছিল রকটা । তখন পৃথিবী প্রাণ সৃষ্টির একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে । তাদের একটা হাইপোথিসিস ছিল যে এখানে একসময় প্রাণের উদ্ভব হবে । সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে কি ধরণের প্রাণের উদ্ভব হবে বা সেই প্রাণ কতটুকু বুদ্ধিমান হবে সেটা তারা ধারণা করতে পারেনি তখন । তাই এই রকটা একটা স্কেল হিসেবে প্ল্যান্ট করা হয়েছিল । পৃথিবীর থেকে কেউ যদি রকটা কখনো স্পর্শ করে তার মানে হলো একটা পরিপূর্ণ ইনটেলিজেন্ট লাইফ পৃথিবীতে বিকশিত হয়েছে । এটা দেখাই ছিল ছিল রক প্লান্ট করার মূল কারণ। চাঁদের সেই রকটা যারা স্পর্শ করেছে তাদের শরীর থেকে ট্রান্সমিট হওয়া তথ্য থেকেই ডিএনএ এনালাইসিস করেই আমরা পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ সম্পর্কে জেনেছি। তোমার সম্পর্কে জেনেছি। তোমাদের ফিজিওলজি, তার বিকাশ, তার বর্তমান, অতীত, ভবিষ্যত সব বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে এখন আমরা নিখুঁত ভাবে জানি। আমরা তাই এখন আবার এসেছি তোমাকে টেস্টের জন্য নিয়ে যেতে ’।
-কিন্তু ওই মুন রকতো কয়েক লক্ষ মানুষ স্পর্শ করেছে এপোলো মিশনের পর থেকে ?
-হ্যা সেটা করেছে। সব মানুষের ডিএনএ সম্পর্কেই সব ইনফরমেশন আছে আমাদের ডাটা বেইজে।সেই ডিএনএ যাচাই বাছাই করেই তোমাকে সিলেক্ট করা হয়েছে টেস্টের জন্য।
-কি টেস্ট ?
-সেটা জানলে তোমার ভালো লাগবে না ।
-তবুও বলো । আমি জানতে চাই ।
-তুমি একাকী, মানুষদের থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকো। তুমি অনেক ঘটনা জানো না, তাই না?
-হ্যা সেটা সত্যি । আমার মানুষের ভিড় ভালো লাগে না । আমি একাকী থাকা পছন্দ করি ।
- প্রায় একশো বছর আগে করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯ নামে একটা ভাইরাস সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল যে আউটব্রেকটা মানুষের অস্তিত্বকেই হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিলো । তুমি সেটার সম্পর্কে জানো ?
-খুব বেশি না । আমি জানি সেটা খুব লেথাল একটা ভাইরাস ছিল । কয়েক হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলো সেই ভাইরাসের আক্রমণে সবচেয়ে বড় কথা সারা পৃথিবীতে একটা অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছিল সেই ভাইরাসের কারণে। সেই অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে ভাইরাস ইনফেক্টেড হয়ে মারা যাবার দ্বিগুন মানুষ মারা যায় খাদ্যাভাব ও চিকিৎসা সুযোগ হারিয়ে ।
-হ্যা তুমি ঠিক বলেছো। কিন্তু পৃথিবীর সরকারগুলো অনেক তথ্যই চেপে গেছে । করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা আরো অনেক বেশি যেটা কখনোই ঠিক ভাবে জানানো হয়নি।
-কি বলছো তোমরা ?
- আমরা সত্যি বলছি । করোনা ভাইরাসের আগে ইবোলা,সার্স,এইডস অনেকগুলো ভাইরাস একে একে এসেছিলো পৃথিবীতে।এই সবগুলো ভাইরাসেই কয়েক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, মানুষের অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়েছে কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলো তা থেকে পৃথিবীর মানুষ সাবধান হয়নি । নিজেদের বাঁচাবার জন্য তাদের জ্ঞান বিজ্ঞান এক সাথে মিলে মিশে ব্যবহার করতে পারে নি ।
-হ্যা, সেটাই হয় ।মানুষ কোনো কাজেই এক হতে পারে না ।তাদের মধ্যে বিভেদ থেকেই যায় ।
-হ্যা, করোনা ভাইরাসের সময় আমরা সেটা লক্ষ্য করেছি । চায়না সারা পৃথিবীর কাছে গোপন করেছে আসল তথ্য তাতেই করোনা ভাইরাস এতো মারাত্মক হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পেরেছিলো । পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত রাষ্ট্রের প্রধান তার জনগণকে দিনের পর দিন মিথ্যে তথ্য দিয়ে করোনা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছে নির্বাচনে জেতার জন্য ।আগাম কোনো ব্যবস্থা নেয়নি আর সেই সিদ্ধান্তহীনতার জন্যই করোনা ভাইরাসে হাজার হাজার মৃত্যু আর আমেরিকার অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো।

আরো আশ্চর্য যে বঙ্গোপসাগরের তীরে একটা ছোট রাষ্ট্র যাদের করোনা থেকে নিজেদের রক্ষা করার পর্যাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজি, লজিস্টিক ছিল না তাদের সরকারও নিজের জনগণকে বাঁচানোর ব্যাপারে পুরো উদাসীন ছিল ! সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তারা জনগণকে বাঁচানোর পরিবর্তে দিনের পর দিন কোনো একটা উৎসব পালনে ব্যস্ত ছিল !কয়েক টন ইমপোর্টেড আতশবাজি পূড়িয়ে সেই চরম দুঃসময়েও ছোট সেই দেশটার সরকার বছরব্যাপী উৎসব করে নিজের দলের কোনো নেতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করেছে ! যখন স্যোশাল ডিস্টেনসিং সবচেয়ে কার্যকর বলে এক্সপার্টরা সবাইকেই সচেতন করছিলেন তখন সেই দেশের সরকার জন্ম উৎসবের জন্য মানুষেকে নিয়ে নাচ গান করে উৎসব করেছে !
-হ্যা মানুষ এমনই । নিজের খুশির জন্য সব করতে পারে ।
- হ্যা, সেটা সত্যি । মানুষ প্রাণী হিসেবে খুব সেলফিশ। নিজের ভালোর জন্য সব করতে পারে । অন্যের ক্ষতি করেও নিজের স্বার্থ আদায় করতে চায় সব সময় । ডিএনএ এনালাইসিস থেকে মানুষের সেই বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে আমরা সেটা জানি ।
-হ্যা আমরা সব মানুষই তেমন ।নিজের ভালোটা আগে নিশ্চিত করতে চাই । আমিওতো সব মানুষের মতোই ।
- হ্যা, তুমিও পৃথিবীর সব মানুষের মতোই । সেটা একই সাথে সত্যি আবার সত্যি না !
-তার মানে ? এমন কথাতো আমি কখনো শুনিনি ।একই কথা একই সাথে সত্যি আবার সত্যি না সেটা কেমন করে হতে পারে ?
- না, তুমি পুরোপুরি সব মানুষের মতো নও । তুমি খুবই অন্য রকম । পৃথিবীর সাত বিলিয়ন মানুষের ডিএনএর মধ্যে তোমার ডিএনএতে শুধু এমন কিছু আছে যা দেখে আমরা আশংকা মুক্ত হয়েছি ।
-কিসের আশংকা ?


- নোয়া, খুব তাড়াতাড়ি পৃথিবীতে করোনা ভাইরাসের মতো আরেকটা ভাইরাস এটাক হবে ।সেটা করোন ভাইরাসের মতোই দ্রুত ছড়িয়ে পরবে পৃথিবীর সব দেশে ।সব জাতির মানুষই তাতে আক্রান্ত হবে । মানুষ পৃথিবী থেকে সম্পর্ণ বিলুপ্ত না হলেও তাদের সভ্যতা পুননির্মাণ করতে হাজার হাজার বছর লেগে যাবে বর্তমানের এই বৈশিষ্ঠ্য নিয়ে। সেই ধ্বংসের মধ্যেও মানুষ যুদ্ধ করবে নিজেদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব বাঁচিয়ে রাখতে । আমাদের এক্সট্রাপোলেশন এটাই বলে যে সেই দুঃসময়েও বঙ্গোপসাগরের সেই ছোট দেশটার রাজনীতিবিদরা দলীয় শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এক দল অন্য দলের সদস্যদেরকে হত্যা করবে । তাদের জাতির প্রতিষ্ঠাতা, প্রাচীন কালে তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা কে করেছিল সে নিয়ে সেই দুঃসময়েও বিভক্ত থাকবে । কিন্তু তুমি দুঃখিত হয়ো না আমরা তাই তোমাকে সংরক্ষণ করবো । সেই ভাইরাসের পর একটা মতুন মানবগোষ্ঠী তৈরী করবো আমরা তোমার ডিএনএ থেকে। সেই মানব জাতি আলাদা হবে এই মানব জাতি থেকে ।
- কেমন হবে সেই মানব জাতি ?
-সেই মানব জাতি স্বার্থপর হবে না । সেই জাতির কোনো রাষ্ট্র প্রধান নিজের জাতির মানুষকে না বাঁচানোর চেষ্টা করে নিজের পারিবারিক সুনাম বাড়াতে জনগণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে কোনো উৎসব আয়জন করবে না । সে জাতির রাষ্ট্র প্রধান, মন্ত্রী, সরকারি কর্মচারীরা মিথ্যে বলবে না, মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করবে না । তারা একজন আরেকজনের মধ্যে পার্থক্য করবে না । সবাইকে একই রকম ভাবে ভালোবাসবে । ভালোবাসায় পার্থক্য করবে না ।তাতে প্রয়োগ সময় বিষেশ করে এরকম ভাইরাস বা যে কোনো দুর্যোগে সবাই সবাইকে সমান ভাবে সাহায্য করতে পারবে । নিজেদের রিসোর্সগুলো সবার মধ্যে সমান করে ভাগ করে নেবে কোনো বৈষম্য না করেই ।
-তোমরা যেই মানব জাতি সৃষ্টি করবে তারা প্রায় ঈশ্বরের মতো হবে ?
- অনেকটা সে রকমই হবে যদি বলতে চাও । আমাদের মিশন হলো তোমাদের ডিএনএ এনালাইসিসের বেসিসে একটা উন্নত মানবজাতি সৃষ্টি করা । আমরা পৃথিবীর মানুষ সম্পর্কে সব তথ্যই জানি তোমাদের ডিএনএ এনালাইসিস থেকে।আমরা তোমাদের ডিএনএ খানিকটা মডিফাই করবো তাতে মানুষের বিহেভিওরের নেগেটিভ কিছু ফিচার এলিমিনেট করা সম্ভব হবে। কিন্তু তোমার ডিএনএ-র কিছু ব্যাপারে আমাদের এখনো অবশ্য কিছু অস্পষ্টতা আছে। একটা নতুন মানব জাতি সৃষ্টি করতে হলে সেই বিষয়গুলো আগে পুরোপুরি জানতে হবে ।
-আমার কাছে কি জানতে চাও তোমরা ?
- আচ্ছা অনেক আগে একটা শীতের দিনে তুমি একটা মেয়ের হাত ধরে হেটে ছিলে ।মেয়েটা লাল রঙের একটা ড্রেস পড়া ছিল । বাতাসে তার কিছু অংশ উড়ছিল ।তুমি অফ হোয়াইট কালারের লম্বা একটা ড্রেস পড়েছিলে ।তোমার মাথায় অনেকটা এস্ট্রোনটদের হেলমেটের মতো উঁচু কিছু একটা ছিল । তুমি খুব খুশি ছিলে সেই সময়, সেই দিন । তোমাকে অতো খুশি হতে আমরা কখনো দেখিনি ? ওই মেয়েটা কে ? সেটা কিসের দিন ছিল ?
-তোমরা কেমন করে জানো সেই মেয়েটার কথা ?
-তোমার মেমোরির সবচেয়ে উজ্জ্বল জায়গা ওটা । ব্রেন স্ক্যানিং থেকে আমরা সেটা জানি ।
-ওই মেয়েটা নোরা - আমার স্ত্রী। আমি যে হেটেছিলাম সেটা ছিল আমার বিয়ের দিন ।আমার মাথায় উঁচু যেটা ছিল সেটা কোনো হেলমেট নয় ।ওটাকে আমরা বলি পাগড়ি । ওটা বিয়ের দিন ছেলেদের মাথায় দেবার একটা প্রথার চলন আছে আমাদের দেশে ।
-আমি প্রথম তোমার মাথায় ওটা দেখে ভেবেছিলাম তুমি হয়তো এভিয়েটর ! ওটাতো কোনো রাশনাল কোনো কিছু ছিল না তাহলে ! তুমি নিশ্চই তোমার স্ত্রীকে নিয়ে সেদিন মহাশূন্যে কোথাও উড়ে যাওনি ? পুরো অর্থহীন একটা পোশাক কেন অমন খুশির দিনে পড়েছিলে ?
-মানুষরা অনেক অর্থহীন কাজ করে । তাতেও তারা অনেক আনন্দ পায় ।
-এতো বছর আগের ঘটনা কিন্তু আমি মনিটরে দেখছি এখনো এতো জীবন্ত ! এখনো এতো জীবন্ত কেমন করে আছে তোমার সেই ভালোলাগা ?
-ভালোলাগা নয়, ওটা আমার ভালোবাসা । হ্যা নোরাকে আমি এখনো ভালোবাসি ও আমার পাশে না থাকলেও ।
-আচ্ছা বলতো,তোমার স্ত্রীর পাশেই তোমার মেমোরিতে নীল আলো জ্বলা ছোট জায়গাটা কি? ওই নীল আলোর কথা যখনি তুমি ভাব তখনি একটা বিষন্নতা এসে ভর করে তোমার মনে। একই সাথে আবার গভীর প্রশান্তিতে সূর্যের মতো উজ্জ্বল আলোয় তোমার পুরো সেরেবেলাম ভরে ওঠে ! সিডিসি তোমার এই তীব্র আবেগ এনালাইসিস করতে পারেনি ।কোনো মেকানিক্যাল ডিভাইস এই রকম চরম বিপরীত ধর্মী দুটো আবেগ এতো সহজে সিনক্রোনাইজ করতে পারে না ।নোয়া, ওই নীল আলোটা কিসের তুমি বলো আমাদের?
-ওটা আমাদের ছোট ছেলের স্মৃতি । মাত্র আড়াই মাস বয়সে আমাদের ছেলেটা মারা যায় । ওর জন্ম দিন আর মৃত্যু দিনে এখনো আমার মন খারাপ হয় ।
-এতদিন পরেও তোমার মন খারাপ হয় ?
- হ্যা , এতো দিন পরেও মন খারাপ হয় I আমার ছেলেটাকে এখনো আমার বুকে ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরে আদর করতে ইচ্ছে করে ।
-তুমি ওকে দেখতে চাও ? আমরা তোমাকে দেখাতে পারি ?
- দেখাতে পারবে ?
-হ্যা পারবো । কি আশ্চর্য আমাদের কথা শুনেই তোমার এতো ভালো লাগছে কেন ? তোমার নিউরনের কিছু অংশ তারার মতো ঝিকমিক করছে ভালো লাগায় !
- ও ছিল আমাদের প্রথম সন্তান । আমাদের বিয়ের এক বছর পরে ও আমাদের ঘরে এসেছিলো। কিন্তু নাহ, আমি ওকে দেখতে চাইনা । আমার স্ত্রী মারা যাবার আগের দিন পর্যন্ত ছেলেটাকে আরো কিছ দিন দেখতে না পাবার, না কোলো না নিতে পাড়ার কষ্ট নিয়ে মারা গেছে । ওকে কোলে নিয়ে আদর করলে নোরার কষ্টকে অসম্মান করা হবে ।
-আশ্চর্য তোমার ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড থেকে এতো পানি বের হয়ে আসছে কেন ওদের কথা বলতে বলতেই?
-এটাকে আমরা অশ্রু বলি -ভালোবাসার অশ্রু জল ।
- ওহ, আমি ভুলেই গিয়েছিলাম তোমাদের এই বায়োলজিকাল সিস্টেমটার কথা । বড় সুন্দর তোমাদের আবেগ প্রকাশের এই ব্যাপারটা । তুমি কি জানো যে গড়ে বছরে তোমাদের মেয়েরা পঞ্চাশবার আবেগে কাঁদে আর ছেলেরা দশবার ?
-নাহ ।
-কিন্তু তোমার আবেগ যে কোনো মেয়ের চেয়ে অনেক বেশি । তোমার ল্যাকরিমাল গ্ল্যান্ড থেকে অশ্রু ঝরে যে কোনো মেয়ের চেয়ে বেশি । নোয়া, তোমার মতো আবেগ প্রবন কোনো প্রাণ আমি দেখিনি কখনো । তোমরা কিছু মানুষ অন্যকে এতো ভালোবাসতে পারো ! নিজের সব সুখও এতো অনায়াসে ত্যাগ করতে পারো ! ইন্টারইউনিভার্স ডাটা বেস ঘেটেও সিডিসি তোমাদের মতো এমন গভীর আবেগপ্রবণ কোনো লিভিং ক্রিয়েচারের তথ্য পায়নি । প্রিয়জনকে তোমাদের মতো এতো ভালোবাসতে পারে না আর কোনো সৃষ্টি ! তোমার ত্রূটিপূর্ণ কিন্তু সত্যি অসাধাৰণ সৃষ্টি প্রকৃতির ।
-আমরা এই ভাবেই অশ্রু জলে ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখি প্রিয়জনদের জন্য ।
-তোমাদের এই ট্রেটটা আমরা বদলে দেব । তোমাদের এতো আবেগ প্রবন হওয়ার দরকার নেই । এটা বিপদজনক ।তোমাকে যে বলেছিলাম বঙ্গোপসাগরের একটা জাতির কথা তারাও এ’রকম আবেগ প্রবন ছিল ।করোনা ভাইরাসের এপিডেমিকের মধ্যেও তারা নিজেদের নেতার জন্ম উৎসব পালন করেছিল আর তাতেই দ্যাখো কেমন করে তাদের সারা জাতি ইনফেক্টেড হয়ে যায় সেই মারাত্মক ভাইরাস দিয়ে । কত অসহায় মৃত্যুর কারণ হয়েছিল সেই আবেগ ? আবেগপ্রবণ না হলে সময় নষ্ট না করে অনেক আগে থেকেই উৎসব পালনের ব্যয় তিনশত কোটি টাকায় অনেক সহজেই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত । তাতে অনেক সহজেই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নেওয়া যেত।
- তোমরা আমার সব সুখ স্মৃতি নিয়ে কথা বলছো ! কিন্তু আমি জানি তোমরা আমাকে ভয়ংকর কোনো একটা দুঃসংবাদ দেবে । সেটা কি ? তোমার এখন বলতে পারো । আমি শুনতে পারি এখনই ।

----
নাই, নাই আর বেশি দেরি নাই ---অচিরেই, অদ্যই চলিয়া আসতেছে দ্বিতীয় পর্ব।

মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: ঈশ্বর আমাকে স্বপ্নঘোরে পরম সত্য উপলব্ধি করার দিব্যজ্ঞান দান করেছেন।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৩৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নূর,
হাহাহা !
আপনিতো আশীর্বাদপ্রাপ্ত মানব দেখছি । সেটা আসলে এখন খুবই দরকার বেঁচে থাকার জন্য ।
ভালো থকুন ।সুস্থ্য থাকুন । করোনায় ঈশ্বরের করুনাপূর্ণ হয়ে থাকুন ।

২| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৩৯

করুণাধারা বলেছেন: করোনা উদ্দীপ্ত সাইন্স ফিকশন!!! নাম শুনেই ভয় পেয়ে গেলাম। সময় করে পরে আসছি... প্রথম লাইক দিয়ে গেলাম।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৪৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: করুণাধারা
হাহাহা ---
আরে না এতো ভয় পাবার মতো কিছু লিখিনি !
বাম স্ট্রোকারের ড্রাকুলার মতো ভয়াল কিছু লেখবার বিদ্যে কোথায় আমার ?
আমাদের সরকার যেমন করোনাকে পাত্তা দেয়নি এটাও তেমন পাত্তা না দেবার মতো এলে বেলে টাইপ লেখা ।
তেমন আপনারও এটাকে পাত্তা না দিলেও চলবে । ভয়তো পাবেনই না ।
ভালো থাকবেন ।

৩| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৩৯

কলাবাগান১ বলেছেন: বুঝলাম না হয় বাংলাদেশ সরকার সারা বছর ব্যাপী নাচগান করছে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে.....তারা মানুষের জান বাচাতে চায় না....তো আমেরিকায় যে ৭০০ লোক মারা গেল..তারা কোন বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ব্যস্ত আছে.....।

এত বড় 'গল্প' ফেদেছেন এনিয়ে বিনিয়ে কিভাবে করনা বাংলাদেশে আসার জন্য বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালন কে দোষ দেওয়া যায়....।বন্গোপসাগর এর কাছে ছোট দেশ নিয়ে গল্প ফাদলেন ইতালীতে যে ৫০০০ এর উপর মারা গেল সেটা কি কোন বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে হল...।সেখান সরকার কি বন্গোপসাগর এর কাছে ছোট দেশ এর সরকার এর চেয়ে বেশি নাচ গান করতে ছিল??? তার জন্য এত উদাসীনতা???

২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:১৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: কলাবাগান১,
আপনি না বিজ্ঞানী মানুষ ? কোথায় নতুন নতুন তত্ব ও তথ্যের কথা বলবেন সেটা না বলে প্রায় একই মন্তব্য ভাঙা রেকর্ডের মতো সব জায়গায় বাজিয়ে যাচ্ছেন আশ্চর্য ! এতে আপনার বৈজ্ঞানি পরিচয়ের প্রতি যথাযথ সন্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে না কিন্তু । আমার লেখার আরেকটা পর্ব আছে কিন্তু ! সেই পর্বের জন্যও কিছু মন্তব্য বাঁচিয়ে রাখুন !

দেখুন, দেশের কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করে শুধু বঙ্গবন্ধু কেন যে কারো জন্মদিন পালনেরই আমি বিরুদ্ধে । আমাদের দেশের এই বিলাসিতা মানায় বলে আমি মনে করি না । বঙ্গবন্ধুর জায়গা স্থায়ী হয়েই আছে আমাদের ইতিহাসে ।সেটা বাড়াবার বা কমানোর কোনো ব্যাপার নেই । দেশের এই দশা বা দুর্দশার মধ্যে এতো হৈচৈ করে এভাবে তার জন্মদিন পালন না করলে তার সন্মান হানি হতো বলে আমি কখনো মনে করি না । আর দেশের এই বিপদের সময়তো নয়ই । ইতালির কথা বলিনি কেন ? সেটাতো গল্পের কনটেক্সটটা বুঝলেই আপনার বোঝার কথা । গল্পের ঘটনাটাতো আরো একশো বছর পরের ! আর গল্পের মূল ক্যারেক্টারটারের পূর্ব পুরুষতো এই দেশের ।সেজন্যই হয়তো ইন্টারেউনিভার্স ট্রাভেলার্রা এই দেশের রেফারেন্স দিয়েছে সেটাওতো হতে পারে । সেভাবেওতো দেখতে পারতেন ? এটা একটা গল্প । সেভাবেই দেখুন ।

আরেকটা কথা, আপনিতো আমাদেরও ধর্ম কর্ম বাদ দিয়ে দেশকে পশ্চিমা দেশগুলোর মতো উন্নতির কথা সুযোগ পেলেই বলেন মনে হয়। আমি জর্জ ওয়াশিংটনের জন্ম বার্ষিকী আমেরিকায় কেমন করে পালন করা হয় সেটা ভাবছি। একই প্রেসিডেন্ট ডে- তে অন্য সব খ্যাত অখ্যাত প্রেসিডেন্টের সাথেই তাঁকে স্বরণ করা হয় তাই না? তাতে কি তার অমর্যাদা করা হয় বলে শুনেছেন ? আমিতো শুনিনি । দেশের মানুষের চূড়ান্ত সমস্যার সময়তো জন্মদিন জাকজমকপূর্ণ করে পালন করে কারো সন্মান বাড়ানো কমানো যায় না ।আমি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের ব্যাপারটাও তেমন করেই দেখি । যাহোক, করোনা থেকে ভালো থাকবেন । মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

৪| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:০৭

নেওয়াজ আলি বলেছেন: যেমন কর্ম তেমন ফল। সময় থাকতে সাবধান হই।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:২৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নেওয়াজ আলি
জ্বি,মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

৫| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: জাহাজের তলা কিন্তু ফুটো হয়ে গেছে।
নীচতলা, উপরতলা, আস্তিক, নাস্তিক কেউ বাদ যাবেনা। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া উদ্ধার পাওয়া যাবেনা।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:৪১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নূর,
অনেক সময়ই আমি আপানার উচ্চ মার্গীয় ভাবের মন্তব্য বুঝতে পারিনা। কিন্তু এবারের মন্তব্যেতো মনে হচ্ছে একটা ভুল আছে । জাহাজের তলা ! ঠিক বলেছেনা তো ? জাহাজ পেলেন কোথায় ? আমরা পাড়া গায়ের বাঙালি আদার ব্যাপারী, আমাদের আবার জাহাজ আসবে কোথা থেকে ? নৌকা বলুন রে ভাই, নৌকা বলুন । বলুন আমাদের নৌকার তলা ফুটো হয়ে গেছে । আর হ্যা সত্যি বলেছেন যে ভয়াবহ অবস্থার ব্যবস্থা আমরা করেছি তাতে সবাই মিলে চেষ্টা না করলে চরম ভোগান্তি আছে সামনে সবার কপালেই । আর একটা কথা, আমার গল্পের শেষটা কিন্তু আগামীকালের পর্বের সাথে । আপনি যে বলেছেন, নীচতলা, উপরতলা, আস্তিক, নাস্তিক কেউ বাদ যাবেনা। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া উদ্ধার পাওয়া যাবেনা। সেরকম একটা ব্যাপারের কথা মাথায় রেখেই গল্পটা বলবার চেষ্টা করেছি আর সে রকম একটা কথা বলেই গল্পের শেষ হয়েছে ।
ফিরে আসা মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

৬| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:৪৮

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: চলুক ইশ্বর সন্ধান :)

আগামী পর্বের অপেক্ষায়

গল্পে
+++

২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:০৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু,
হাহাহা ----
ঈশ্বরের সন্ধান না আসলে খাঁটি মানুষের বিশেষ করে খাঁটি নেতাদের সন্ধানের কথা মনে করেই গল্প ।
আগামী পর্বের জন্য স্বগোতম তাহলে । অনেক ধন্যবাদও এলেবেলে গল্প পড়ার জন্য ।

৭| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:১২

পদ্ম পুকুর বলেছেন: তুমি একাকী, মানুষদের চেয়ে অনেকটা বিচ্ছিন্ন থাকো....
হ্যাঁ আমি একাকী থাকা পছন্দ করি...

কথাগুলো পড়তে পড়তে আমার ক্রিয়েটিভ মনস্তত্ব লেখায় আপনার মন্তব্যর কথা মনে পড়ছিলো...... নোয়া'র পেছনে কার ছাঁয়া পড়ে??? /:)

লেখায় ভালোলাগা। আরো শতবর্ষপরে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ছোট্ট দেশটায় যদি জাতিসত্তার পরিবর্তন ঘটে তো খুশীর খবরই হবে সেটা।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৩৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: পদ্ম পুকুর,
আপনিতো খুবই কঠিন পাঠক দেখছি ! এতো মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন গল্প !
সাইন্সফিকশনের চরিত্রের সাথে আবার বাস্তব মেলাবারও চেষ্টা করছেন ? তা সেই লেখায় আপনার প্রতিমন্তব্যটাও মনে পড়ছেতো ।সামু ভর্তি ঘরকুনোদের দিয়ে ।তাহলে মনে হয় সামুর অসংখ্য ব্লগারের যে কেউ হতে পারে নোয়ার মতো ।
আপনার কি মনে হয় ?তা বলুন দেখি এখন আপনি, রাজীব নূর, চাঁদ গাজী সাহেব বা আর কার ছাঁয়া পরতে পারে নোয়ার পেছনে ? হাহাহা ...কঠিন প্রশ্ন কিন্তু করলাম !!

আমি আশাবাদী মানুষ । এই করোনা ভাইরাসের আক্রমণের চরম দুঃসময়ে দেশের নেতৃত্বে যারা আছেন নেতৃত্বহীনতা, দেশের মানুষের জন্য তাদের উদাসীনতার কথা মনে করেই গল্পটা লিখেছি । "আরো শতবর্ষপরে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ছোট্ট দেশটায় যদি জাতিসত্তার পরিবর্তন ঘটে তো খুশীর খবরই হবে সেটা" আপনার এই কমেন্টে একটু ভয়ই লাগছে । জানিনা শেষটা কেমন লাগবে আপনার। কিন্তু আমি আশাবাদী থাকতে চেয়েছি গল্পে ।

অনেক ধন্যবাদ গল্পটা পড়ার জন্য ।

৮| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:২১

করুণাধারা বলেছেন: একটানেপড়ে গেলাম, চমৎকার কাহিনী সাবলীল ভাবে বলে যাওয়া। চলতে থাকুক, দেখি আগামী পর্বে কী আসে...

৩ নম্বর প্রতিমন্তব্যে লাইক। আমার এক কাজের বুয়া আছে, দোষ করবে অথচ সেকথা বললেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে অনেক কথা শোনাতে থাকে।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১০:৩৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।
শেষ পর্যন্ত সাইন্স ফিকশন আদৌ হয়েছে কি না সেই প্রশ্নই উঠবে কি না জানিনা ।তবে টলস্তয়ের 'থ্রি কোশ্চেন' গল্পের মতো মোস্ট ইম্পরট্যান্ট টাইম হিসেবে বর্তমান চিন্তা করে একটু রক্ষা পাবার চেষ্টা করছি আপাতত । আপনার এখনকার সিরিজটার মতো গল্পের ভাষাটাকে নিউট্রালাইজ করে রাখার প্রানপন চেষ্টা করছি যাতে একটা সাইন্স ফিকশন ভাব আসে । আসলে সাইন্স ফিকশনতো আগে লিখিনি কখনো ।তাই ভয়ে ভয়েই লিখেছি ।এই করোনা যুগে আমার ফোকাসটা অবশ্য একটু ভিন্ন । শেষ পর্যন্ত কি হবে সেটা এখন ভেবেই বা কি লাভ । অনেক ভালো লাগলো আপনার মন্তব্যে ।

আর কলাবাগান১ -এর মন্তব্য নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই । ব্লগের পড়াশোনা জানা একজন মানুষ হিসেবে তার থেকে আমি সব সময় খুব গোছানো মন্তব্য আশাকরি । মাঝে মাঝে সে আশাপূরণ হয় না কিন্তু সেটুকু ঠিক আছে ।

ভালো থাকুন ।

৯| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:০৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: খন্ড পড়ে পরিপূর্ণ মন্তব্য করা যায় না। পুরোটা পড়ি আগে। তবে, যেটুকু পড়লাম, ভালোই লাগলো। :)

@ করুণাধারাঃ আপনার বুয়া তো আপা বৈদেশেও থাকে না, উচ্চ শিক্ষিতও না; তাকে এটা মানায়। =p~

২৬ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৭:৩২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ভুয়া মফিজ,
ঠিক, পুরো লেখা না পরে মন্তব্য করা মুশকিল ।
কিন্তু আমার গল্পটা একটু বড় হওয়াতে মনে হলো এক সাথে পুরো লেখা দিয়ে দিলে পড়ার ট্রেনটা ছাড়বে স্টেশন থেকে কিন্তু সেটা চলতেই থাকবে গন্তব্যে আর পৌঁছুবে না -মানে গল্প পড়া আর শেষ হবে না । তাই এই সব ফাক ফোকর গলেই কেমন করে যেন ব্লগ জীবনের প্রথম দুই পর্ব সমৃদ্ধ একটা লেখা হয়ে গেলো !

আমার দুই দুয়ারী লেখাটা সময়মতো পড়ার উদ্যোগ নেবার জন্য ধন্যবাদ ( বাই দ্যা ওয়ে, আপনাকে সময়মতো পড়ার ধন্যবা দিতে গিয়ে একটা ডিলিম্মায় পরে গেলাম । কারণ করোনা সামলাতে আমাদের ক্ষমতাসীন মহল সময়মতো তাদের কাজের উদ্যোগ নিলে এই গল্পই হয়তো লেখা হতো না । তাই তাদেরও জেনুইন একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য কিনা বুঝতে পারছি না ।)ভালো থাকুন ।

১০| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:২৫

মিরোরডডল বলেছেন: দারুন !!!! চমৎকার একটা লেখা । গল্পে অনেকগুলো ডিফারেন্ট ফেইজকে খুবই সুন্দর করে কানেক্ট করা হয়েছে । আই লাইকড দা ইনার মিনিং অভ ইট । আমদের দুর্লভ আবেগ অন্যদের থেকে আমাদের আলাদা করে এটা যেমন পজিটিভ , অতি আবেগ যে আবার ক্ষতির কারণ হয় সেটাও সত্যি । পড়ার সময় একটা মিক্সড ফিলিংস হয়েছে । হাসলাম , দুঃখ পেলাম , একটু হতাশা , একটু আশা । দেখা যাক নেক্সট কি হয় । ওয়েল ডান ম্যান ।

২৬ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:০০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মিরোরডডল ,
দারুন !!!! চমৎকার একটা লেখা!
এমন চমৎকার মন্তব্যের জন্য প্রথমেই একটা থ্যাংকস বলে নেই । এই লেখাটা নিয়ে খুব ভেবেছি সেটা কিন্তু নয় । এখানকার টিভিতে করোনার প্রব্লেমগুলো নিয়ে এতো কথাবার্তা জানুয়ারি থেকে শুনছি আর দেশে ইটা নিয়ে এতো উদাসীনতা আর করোনার ম্যানেজমেন্টে নিয়ে দেশে এতো অব্যবস্থা যে শুরু থেকেই খুব অসহায় লাগছিলো । করোনা যে কি পরিমান ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে সে নিয়ে আমাদের কর্তা ব্যক্তিদের কোনো চিন্তা ভাবনাই নেই ব্যাপারটা খুব ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলো । সেই থেকেই গল্পের প্লটটা মাথায় এলো । একটু দুঃখ, একটু হাসি, একটু হতাশা এসব নিয়ে গল্পের শেষে কিন্তু গল্পে আমি একটা আশাবাদী একটা ছবিই আঁকতে চেয়েছি আমাদের মতো দেশের মানুষদের ব্যাপারে । দেখা যাক পরের পর্ব আপনাদের কেমন লাগে ।ভালো থাকুন ।

১১| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৪

কলাবাগান১ বলেছেন: ব্যক্তগত জীবনে আমি কি সেটা মেটার না...।একজন ব্লগার হিসাবেই আসি.

এমন একটা দেশের পরিস্হিত বলেন যে যারা এই ভাইরাসের জন্য ইফেক্টিভ কিছু করতে পারছে...যেখানে আমেরিকা, ইতালী, ষ্পেন খাবি খাচ্ছি, আর আমরা ওদের মত না হতেই ব্লেইম গেমে নিম্মজিত...।
আপনারা ও সেই একই ভাংগা রেকর্ড বাজাচ্ছেন..।সব দোষ জন্মশত বার্ষিকী...কিন্তু এটা বলেন না যে ৯৫% স্হগিত করা হয়েছে।

উপরেএকজন আমাকে কাজের বুয়ার সাথে তুলনা করেছেন...তাও ভালো বুয়া পর্যন্ত্য নেমেছেন....বংগবন্ধুর কথা বলে যদি বুয়া উপাধি পাই, সেটা আমি মনিকার হিসাবেই নিব...।জামাতি-রাজাকার দের কাছ থেকে এর চেয়েও বেশী কথা শুনেছি...ডোন্ট কেয়ার...তবে একটা কথা এই জামাতি-রাজাকার রা পাকি প্রেমে এমন অন্ধ যে ১৯৭১ যদি বেচে থাকতেন তবে নিজের দেহ টাকেই ওদের জন্য দান করে দিতেন.....

২৬ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৪৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: কলাবাগান১,

এই ব্লগেতো অনেক ব্যাক গ্রাউন্ডের ব্লগার ।
সবার থেকে আমি একই ধরণের মন্তব্য লেখাজোখা আশা করি না । আপনার ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণেই আপনার কাছ থেকে আমি সব সময়ই যুক্তিপূর্ণ মন্তব্য বা প্রতিমন্তব্য আশাকরি । বলে রাখি সেটা সব সময় হয় নাবলে আমার খানিকটা খারাপ লাগাও আছে । যাহোক, আমার গল্পটা কিন্তু করোনা নিয়ে আমাদের সরকারের পলিসি ফেইলারের প্রশ্ন নিয়ে ।এর সাথে বঙ্গবন্ধুর মান সম্মানের কোনো প্রশ্ন কোনোভাবেই জড়িত না । অন্তত আমি সে ধরণের কিছু ভাবিনি । এখন সরকার যা করছে তার কোনো দোষ বঙ্গবন্ধুর ওপর কোনো ভাবেই বর্তায় না । আমার গল্পের ব্যাপারটা আমাদের এখনকার নেতৃত্বের ফেইলিওর নিয়ে । আশাকরি গল্পের শেষ অংশটা পড়লে আপনিও সেটাই মনে করবেন । সেই গল্প বলতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমেই করোনা নিয়ে কিছু ব্যাপার এসেছে গল্পে । এখন আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলে আপনি মনে করছেন গল্পটা আওয়ামী লীগ বিরোধী । আসলে সত্যিটা হলো দেশের যে কোনো দলের সরকার হলেই এরকম হতে পারতো । অন্য যে কোনো দল ক্ষমতায় থাকলেও হয়ত কম বেশি এরকমই কথাবার্তা বলতো, কাজ করতো ।

আপনি ঠিক বলেছেন অনেক উন্নত দেশি কিন্তু সমস্যায় পড়েছে করোনা কন্ট্রোল করতে । অবশ্যই সেগুলো পলিসি ফেইলিওর । ইতালি, স্পেন ঠিক সময়ে কাজটা করতে পারেনি কারণ তারা সমস্যার ভয়াবহতা বুঝতে পারে নি বলে । কিন্তু আমাদের সরকারের বেলায় কিন্তু শুধু সেটা বলা যাবে না । আমাদের সরকারের বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে সমস্যাটা অগ্রাহ্য করেছে সেটা বললে কিন্তু মিথ্যা হবে না । মন্ত্রী এমপিদের কথা বার্তায় সেই অবহেলার ভাবটা পরিষ্কার ছিল। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রী এমপিদের সেই সব বেসামাল কথার নাগাল টানতে পারেন নি । সেজন্যই আমার মনে হয় আমাদের সরকারের পলিসি ফেইলিয়ারের প্রশ্ন ওঠাটা এখানে অন্যায় নয় । আর সেই সাথে আমাদের সরকারের ক্ষেত্রে অভিযোগটা আরো কঠিন । আমাদের সরকারের ক্ষেত্রে অভিযোগটা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতারও কিন্তু । এটা ব্লেম গেম নয় । এটাই সত্যি । আমাদের রিসোর্স, মেডিকেল টেকনোলজি, লজিস্টিক সবই কম ।এই মারাত্মক ভাইরাসের হাত থেকে আমাদের মানুষের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তাই আরো আগে থেকেই আরো সিরিয়াস হওয়া দরকার ছিল । কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপারটা হলো আমাদের ক্ষমতাসীন মহল সেই কাজটা করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে । আমার গল্পের মূল থিমটা কিন্তু এটাই । এর সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্মানের কোনো প্রশ্ন নেই । আমি ঠিক জানি না কিন্তু আপনার মন্তব্য থেকে জানতে ইচ্ছে করছে যে জন্মবার্ষিকীর ৯৫% ভাগ উদযাপন না করার পরেও কি তিন/চারশো কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে যে ৫% উদযাপিত হয়েছে তার জন্য ? এতো টাকা সরকারি ব্যয়ে বঙ্গবন্ধুর কেন কারো জন্মবার্ষিকী পালনের পক্ষপাতী আমি নই সেটা আগের কমেন্টের মতো আবারো বললাম । আমাদের দেশের এই বিলাসিতা করা মানায় না বলেই আমি মনে করি ।

যাহোক মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

১২| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৯

কলাবাগান১ বলেছেন: ৫% উদযাপন কে যেমন দোষ দিচ্ছেন করোনা ছড়ানোর জন্য, তেমনি যদি খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া উপলক্ষে এই 'লক ডাউনের' মাঝে হাজার কর্মী/সমর্থক দের মিছিল করে বাসা পর্যন্ত্য আগিয়ে দেওয়াকে ও যদি দোষ হিসাবে দেখেন, তাহলে বুঝবো আপনি আমার মত এক চোখা না..... আপনি সুশীল....।

আমি নিরপেক্ষ না...

২৭ শে মার্চ, ২০২০ ভোর ৪:৪৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: কলাবাগান১,
আপনি সত্যি দারুন বিজ্ঞানী মননধারী এক অনবদ্য মানব মস্তিস্ক মশাই ! এখনো ৫%-৯৫% নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন ।
আমিতো এই পার্সেন্টেজ নিয়ে কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করিনি সরকার বা কারো বিরুদ্ধে । আমার আর্গুমেন্টটা একটা মারাত্মক মহামারীর সামনে সরকারের পলিসি ফেইলিয়র নিয়ে ।উৎসবের যে ৫% উদযাপন হয়েছে বলছেন তার জন্য সরকারের দেওয়া সময়, আর্থিক ব্যয়, সেটুকু করার জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের এনগেজমেন্টের কারণে করোনা দমন কার্যক্রম কি কোনো ভাবে বাধাগ্রস্থ হলো ? সেজন্য করোনা কার্যক্রম হ্রাসের কাৰণে মানুষের ইনফেক্টেড হবার ঝুঁকি কি বেড়ে গেলো ভবিষ্যতে আর তা থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বা হার ? এই ব্যাপারগুলো কি আপনি বা সরকারের মানুষেরা কি হিসেবে করেছেন ?

আপনি সরকারের রোল আর সাধাৰণ মানুষের রোল এক ভাবছেন কেন ? সরকারের মন্ত্রীরা যখন 'করোনা ম্যানেজ করা কোনো ব্যাপার না' বা 'আমাদের প্রস্তুতি পশ্চিমের দেশগুলোর চেয়েও বেশি' জাতীয় কথা প্রচার করে (জন্ম শতবার্ষিকী কাজ নিরাপদ রাখতে) সব মানুষের কান দিয়ে প্রাণ পর্যন্ত কিছুই হয়নি বা হবেনা জাতীয় ধাৰণা ঢুকিয়ে দিয়েছেন সেটা কি এখন যে মানুষ ছুটি পেয়ে দল বেঁধে সাজেক বা কক্সবাজারের দিকে ছুটছে উৎসবের মতো সেটার জন্য কিছুটা হলেও দায়ী মনে করেন ? এই যে লকডাউন ঘোষণার পরেও সোশ্যাল ডিস্টেন্সিঙের ধার না ধেরে খালেদা জিয়ার জেল থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য গাদা গাদা মানুষ জমায়েত হওয়ার জন্য কি সরকারের মন্ত্রী এমপিদের করোনা নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যকে খানিকটা দায়ী করা যায় ? মানুষকি সরকারের এই সব প্রচারণার কারণে ব্যাপারটার সিরিয়াসনেস বুঝতে পারছে না ? এই কারণে সাজেক ভ্রমণকারী কিছু মানুষ বা খালেদা জিয়ার জেল মুক্তি দেখতে জড়ো হওয়া হাজার মানুষের কেউ কেউ যদি করোনাক্রান্ত হয়ে মারা যায় তাহলে কি সরকারের কিছু মন্ত্রীর কথা বার্তাকে দায়ী করা যাবে ? এই পলিসি ফেইলিয়োরগুলোর কারণেই আমি গল্পটা লিখেছি ।

আর আমদের পুলিশ বিয়ে বাড়ি থেকে বিরোধী দলের নেতা কর্মী ধরে ঝাঁটাপেটা করে । তারা কেন এখানে খালেদা জিয়ার জেল মুক্তি দেখতে কোনো জমায়েত যেন না হয় সে ব্যাপরে আগে থেকেই কোনো ঘোষণা বা ব্যবস্থা রাখলো না সেটাও আমার মাথায় ঢুকছে না । বিএনপি নেতৃবৃন্দ কেন সবাইকে জমায়েত হবার ব্যাপারে নিষেধ করেনি করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে সেটা বলে সেটা নিয়েও আমি পাজল্ড । কাউকে দোষী করছি না কোনো কিছুর জন্যই শুধু দোয়া দরূদ পড়ছি । এই যে মানুষগুলো যারা অলরেডি এই ভিড়ের মধ্যে গিয়েছে, দলবেঁধে সাজেকে বা কক্সবাজারে বেরিয়ে মহানন্দ উৎসব করেছে (পেস্ট টেন্স ) ভাতৃত্ববোধ বৃদ্ধির জন্য তাদের, আল্লাহ না করুন, শরীরে ঢুকে যাওয়ায় করোনা ভাইরাসের থেকে বাঁচা বা কল্যাণের জন্য বিজ্ঞানভীতিক কোনো দোয়া দরূদ থাকলে আমাকে জানান প্লিজ । সেটা পরে কাউকে ফু দিয়ে করোনা মুক্ত করা যায় কিনা দেখি !

আমি সুশীল না খুব যৌক্তিক একজন মানুষ । আমার কাছে খালেদা জিয়ার জেল মুক্তি দেখতে জড়ো হওয়া মানুষগুলোর জীবন বিপন্ন হওয়া সরকারি পলিসি ফেইলিয়রের আরেকটা উদাহরণ । এটা খালেদা জিয়ার পরিবারের কিছু সদস্য আর বিএনপির কিছু নেতার উপস্থিতিতে অনেক রাতে ভিড় না করে সহজেই করার ব্যবস্থা করা যেত। তাতে করোনা ছড়ানোর সুযোগ কিছুটা কম হতো। তারপরেও বিএনপি নেতৃত্বের ব্যর্থতা হলো মানুষের জীবন বাঁচাবার জন্য জরুরি একটা বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা না আগে থেকেই দেবার জন্য (যদি তারা অনেক আগে থেকেই মুক্তির দিনক্ষণ জেনেও ইচ্ছা করে জমায়েতে নিষেধ না করে থাকেন )। এর বাইরে আমার কোনো কিছু আর বলার নেই ।ভালো থাকুন ।

১৩| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,




সুন্দর লেখা হচ্ছে।
ভিন-বিশ্বের সিডিসি কৃত বিশ্লেষণগুলো বেশ যৌক্তিক। সেই ভিন জগতের জীবনগুলো বা তাদের সিডিসি এই লেখার মুন্সীয়ানা ধরতে পারছে কি ?

২৭ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৮:২১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জী এস ভাই,
হাহাহা ---- আরে নাহ কি যে বলেন !
কোনো মুন্সিয়ানা টুন্সিয়ানা ধরার কোনো ব্যাপার নেই । এমনিতেই মন খারাপ ইকোনোমিক রিসেশনের আশংকায় । তার মধ্যে কোরনার মতো এতো সিরিয়াস একটা ব্যাপারে আমাদের কর্তা ব্যক্তিদের কাজ কারবারে অবাক আর হতবাক হয়েই এই লেখার মধ্য দিয়ে (অনেক ভয়ে ভয়ে সে কথা বেশি আর বলি না ) সবাক হতে হলো । ভালো থাকবেন । সাবধানেও ।

১৪| ২৬ শে মার্চ, ২০২০ ভোর ৪:১৩

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: গল্পটা ভাল। কিন্ত রাজনৈতিক বক্ত্যবের বাইরে থাকলে ভালো হত।

২৭ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:০৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নুরুলইসলা০৬০৪,
হ্যা রে ভাই ঠিক বলেছেন ।রাজনীতি না এনেও এ'ধরণের একটা সাইন্সফিকেশন হয়তো লেখা যেত । কিন্তু রাজনীতিইতো দেশের অবস্থাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে ।চাইলেই কি আর ইগনোর করা যায় সেটা ।তাই আমি একটু অন্য রকমের সায়েন্সফিকশন লেখার চেষ্টা করলাম করোনা, দেশের বাস্তব অবস্থা আর কল্পনা মিশিয়ে এই আর কি । ঈশ্বরের করুণাধারায় করোনা মুক্ত ভালো থাকুন ।

১৫| ২৬ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:১৯

সোহানী বলেছেন: ধ্যাৎ. মাঝপথে শেষ করলেন, খুব মুডে পড়ছিলাম!!!!

শুনেন ভাই, কানাডার মতো ধনী রাস্ট্র যে শুধুমাত্র করোনা মোকাবেলা করার জন্য ৭৮ বিলিয়ন ডলার বাজেট গত রাত তিনটায় পাশ করেছে কিন্তু বড় কোন নেতার জন্মদিন পালনের জন্য লাখ কেন হাজার টাকা্ও খরচ করে নাই। প্রতিটি কানাডিয়ান বলতে গেলে এ ফান্ড পাবে। আর আমাদের নেতারা শুধু জন্মদিন পালনই নয় হাস্যকর সব কথাবার্তা বলে ক্লাউন সেজেছেন। অথচ যা করছেন আলহামদুলিল্লাহ, এইবার একটু কাজে কামে মন দিক। কিভাবে এ সংকট মোকাবেলা করা যায় তার দিকে নজর দিক! অথচ তা না করে আরো জোকারী করে বেড়াচ্ছে। আর মাঝখান থেকে আমাদের এ ডাক্তারগুলারে ফায়ারিং স্কোয়াডে পাঠাচ্ছে.........

২৭ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:১৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সোহানী,
দেশের করোনা নিয়ে অল্প কিছু দুঃখ ভার নিয়ে গল্পটা লেখার কথা ভেবেছিলাম । কিন্তু আপনিতো কানাডার ৭৮ বিলিয়ন ডলারের করোনা ফান্ডের কথা বলে দুঃখের ভার কানায় কানায় ভরে দিলেন আমার ! হ্যা, আমাদের নেতাদের কিছু কিছু বর্ণ ক্লাউন -এদের ফর ফদারদের মধ্যেও নিশ্চিত কেউ কেউ সার্কাসের ক্লাউনগিরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো ।নইলে এমন একটা সিরিয়াস জীবন মরণ ইস্যুতে এরকম হাস্যকর আর আজগুবি কথাবার্তা বলতে পারেনা কোনো মানুষ । কি আর করা যাবে এদের নিয়েইতো আমাদের দেশে ঘর সংসার । আল্লাহ আল্লাহ করছি দেশের সবার জন্য । আপনিও করুন আর অন্যদেরও বলুন করতে ।
ভালো থাকবেন ।

১৬| ২৭ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:২১

কলাবাগান১ বলেছেন: আগামী তিন মাসের মধ্যেই করোনা ভাইরাস নির্মুলে কমপক্ষে১০-১২ টা ভ্যাকসিন বের হবে..সাথে সাথে ঔষুধ ও বের হবে...ষব নরমাল হয়ে আসবে..
তবে ফ্লু এর মত বছরে বছরে ভোগাবে...প্রতি বছর বোধ হয় ভ্যাকসিন চেন্জ করতে হবে (যেভাবে ফ্লুর মত এই ভাইরাসটি ও মিউটেট হয়ে চেন্জ হচ্ছে)

২৭ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: কলাবাগান১,
আপনি এই ব্যাপারটা ভালো জানেন ।আশাকরি আপনি যা বললেন সেটাই যেন হয় । আমেরিকার সিডিসি -র ডক্টর এন্থনি ফাউচি বলেছিলেন প্রায় বছর বা আঠারো মাস লেগে যাবে ভ্যাকসিন পেশেন্টদের জন্য মার্কেটে সেল করতে করতে । এটা দ্রুত কন্ট্রোল করা না গেলে ইবোলা, এইডসের চেয়ে করোনাতে মারা যাবার হার এখনো হয়তো কম কিন্তু আমাদের দেশের অসংখ্য বয়স্ক মানুষের জন্য এটা দারুন ঝুঁকির হয়েই থাকবে । অনেক ধন্যবাদ ।

১৭| ০২ রা এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩০

জুন বলেছেন: আপনার লেখাটি আগেও পড়েছিলাম কিন্ত মন্তব্য করা হয়নি মলাসইলমুনা । এমন সায়েন্স ফিকশন লেখা আমার খুব প্রিয় । সেই ছোট বেলায় ভিন গ্রহের মানুষ তারপর কপোট্রনিক সুখ দুখ পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম । তারপর কয়েক মাস আগে দেখলাম ভ্যালেরিয়ান দ্যা সিটি অভ থাওসেন্ড প্ল্যানেট । যদিও তেমন পদের না কিন্ত ঐ যে অন্য গ্রহের গল্প তাই দেখা ।
আমরা সত্যি আবেগী জাতি সেটা না বলাই ভালো ।
দ্বিতীয় পর্ব পড়তে যাচ্ছি ।
+

০৩ রা এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:১৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: জুন
আহা ---লিখেছি সাইন্স ফিকশন কিন্তু হাতি ঘোড়া কি হয়েছে আল্লাহই জানেন । আমার এই না হাতি না ঘোড়া গল্পও যে পড়েছেন তার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.