নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঈশ্বরের খোঁজে (নটে গাছটি মুড়ানো পর্ব) (করোনা উদ্দীপ্ত একটি সাইন্স ফিকশন)

২৭ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:২৪



আগের পর্ব :
আগের পর্ব ঈশ্বরের খোঁজে (পর্ব -১) (করোনা উদ্দীপ্ত একটি সাইন্স ফিকশন)


হঠাৎ সব নিঃশব্দ । কারো কোনো কথা নেই । মনিটরের কোনো ব্লিপ শব্দ নেই । কম্পিউটার চলার কোনো শব্দ নেই । কতটা সময় গেছে এর মধ্যে কে জানে । এক ঘন্টা, এক দিন, এক বছর বা যুগ ? নোয়া বুঝতে পারেনা । চারদিকের অসহ্য নৈঃশব্দ্য, অসহ্য নিঃস্তব্দতা | কিন্তু হঠাৎ সেই অসীম নৈঃশব্দ্য ভেঙে কত কাল, কত যুগ পরে যেন কেউ একজন কথা বলে :
-নোয়া, আমাদের টেস্টটা শুরু করতে হবে। তোমার এই জীবনের শেষ হবে কিছুক্ষন পরেই। তোমার ডিএনএ-র মলিকুলগুলো সব ভেঙে আবার তৈরী করতে হবে আমাদের । তোমার ডিএনএ থেকেই আবার একটা নতুন মানব জাতির সৃষ্টি করবো আমরা । তোমাদের এই মানব জাতি থেকে তারা জিনেটিকালি সুপ্রিম হবে। তারা অনেক রাশনাল হবে তোমাদের থেকে। আবেগহীন হবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে। বিপদে অনেক বেশি ইন্টেলিজেন্টলি রিসোর্সগুলো সমান ভাবে বন্টন করবে। রাশনালিটি হবে সব সিদ্ধান্তের ভিত্তি ।
-আমাদের ভালোবাসাগুলো কেমন হবে ?
-সব মানুষ সব মানুষকে একই ভাবে ভালোবাসবে । কিন্তু সেই ভালোবাসা হবে যৌক্তিক । অন্ধ আবেগ থাকবে না । করোনা ভাইরাসের সময় ইতালি যেমন বয়স্কদের চিকিৎসা না দিয়ে ইয়াংদের চিকিৎসার অগ্রাধিকার দিয়েছিলো । সেটা কঠিন মনে হলেও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছিল । তাতে এমন অনেক মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল যাদেরকে সমাজের বেশি দরকার ছিল । করোনা ভাইরাসের মতো পেনডিমিকের সময় যে অন্ধ আবেগে উৎসব করে কারো জন্মজয়ন্তী বিশেষ ভাবে পালন করা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় সেটা মানুষকে বুঝতে হবে । অন্ধ আবেগ ভালোবাসা মানুষের সারভাইভালের জন্য প্রতিবন্ধক । করোনা ভাইরাস সেটা প্রমান করেছে ।তুমি শুনে খুশি হবে যে তোমাকেও আবার সৃষ্টি করবো আমরা ।
-সেই জীবন কেমন হবে আমার ?
-তোমার কোনো কষ্ট থাকবে না । কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না ।তুমি তোমার এনার্জির সবটুকু কাজে লাগাতে পারবে রাশনালি ।তোমার জীবন হবে আরো আনন্দময় । তোমার জীবনে স্ত্রী আর ছোট ছেলেটার মৃত্যুর কষ্ট নিয়ে তুমি যে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছো সেই কষ্ট আর তোমার নতুন জীবনে করতে হবে না । তোমাদের আবেগগুলোকে নিয়ন্ত্রিত করে দেব ।তোমাদের বিহেভিয়ার হবে আরো রাশনাল। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তোমরা হবে আবেগহীন আর নিখুঁত ।
-আমার কতক্ষন সময় আছে ?
- তোমার মেডিকেল প্রসিডিউরের জন্য সময় একটু বাড়ান হয়েছে ।।মনিটরে দেখা যাচ্ছে তোমার হার্ট রেট.প্রেসার অনেক বেড়ে গেছে । তোমার শরীরের কেমিক্যাল মিউটেশন রেট বেড়ে যাচ্ছে । এটাকে নর্মালাইজ করতে হবে আগে ।নইলে ডিএনএ মলিকুলগুলো করাপ্টেড হয়ে যেতে পারে। সেটা হলে হয়তো আমাদের পরিকল্পনা মতো জেনেটিকাল অল্টারেশন করে নতুন মানব জাতি সৃষ্টি করা যাবে না । তুমি আমাদের একমাত্র নিখুঁত সেম্পল ।
-তোমাদের একটা রিকোয়েস্ট করবো ?
-করো ।
-আমার শেষ সময়গুলো কি আমাকে একটু একা থাকতে দেবে ? আমাকে মনিটর করাও বন্ধ করে দাও । আমি সম্পূর্ণ একলা থাকতে চাই আমার শেষ সময়টাতে। সিডিসির সময় মতো যখন আমার শরীরের কন্ডিশন স্টেবিলাইজ হবার কথা তখন তোমরাএসে টেস্ট শুরু করতে পারবে। তাতে আমার কোনো বাধা থাকবে না ।
-তুমি কি করবে এই সময়ে ?
-আমি আমার স্ত্রীর, আমাদের ছোট ছেলেটার কথা ভাববো । এই পৃথিবীটার কথা ভাববো ।
-নোয়া, তুমি খুব আবেগপ্রবণ মানুষ । আচ্ছা আমরা তোমার এই শেষ চাওয়াটা পূরণ করবো । আমরা জানি প্রাচীনকাল থেকেই তোমরা মৃত্যুর আগে মানুষের শেষ ইচ্ছেটা পূরণ করতে চেষ্টা করো । বন্দিদের তাদের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী খাবার দেওয়া হতো জেলে সেগুলো আমরা সেন্ট্রাল ডাটা বেইজ থেকে জেনেছি । হ্যাভ এ নাইস টাইম । সি ইউ এগেইন । তোমাকে কি নতুন জীবনের শুরুর জন্য তোমাদের কাস্টম অনুযায়ী এখনই স্বাগতম বলবো না পরে বলতে হবে ?
-আমাকে কিছু বলতে হবে না । তোমাদের আরো একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি ?
-করো
-তোমার আমাকে কেন সিলেক্ট করেছো নতুন মানবজাতি সৃষ্টি করার টেস্টের জন্য ?
-সত্যি জানতে চাও ?
-আমি সত্যি জানতে চাই ।
- সেটা কি জানার কোনো প্রয়োজন আছে ?
-মানুষ নিজের সম্পর্কে,নিজের পরিণতি সম্পর্কে সব সময় জানতে চায় ।
-আচ্ছা, বলছি। নোয়া,তোমার কি মনে আছে তুমি যখন আমেরিকায় থাকতে তখন স্কুল জবের পাশাপাশি অফ ক্যাম্পাসও জব করতে ?
- হ্যা, সেদিনগুলোর কথা কি ভোলা যায় সহজে ?
-তুমি কাজ করতে গ্যাস স্টেশনগুলোতে । আমেরিকার সব গ্যাসস্টেশনই কনভিনিয়ান্ট স্টোরের মতো । গ্যাস ছাড়াও তোমাদের স্টোরে ডেইলি গ্রোসারি, মিল্ক,ব্রেড,ক্যান্ডি,সিগার,বিয়ার সবই বিক্রি হতো।আমেরিকায় আঠারো বছরের নিচে কারো কাছে বিয়ার বিক্রি করা নিষিদ্ধ বলে বিয়ার আর সিগারেট বিক্রি করার আগে ম্যান্ডেটরি ভাবে সবার আইডি চেক করতে হতো I তুমি অনেক সময়ই আইডি চেক করতে না, মুখ দেখেই বিয়ার বিক্রি করতে । কিন্তু তবুও দশ বছরের মধ্যে কখনো তুমি বয়স আইডেন্টিফাই করতে ভুল করোনি ।
-তাই নাকি ?
-ভিডিও চেক করে সিডিসি বলেছে এর মধ্যে অন্তত কয়েক হাজার মানুষের কাছে তুমি বিয়ার বিক্রি করোনি যারা দেখতে অনেক বয়সী মনে হলেও তারা আন্ডার এইজড ছিল। সিডিসি এর মধ্যে পাঁচশ' মানুষ আইডেন্টিফাই করেছে যাদের ফেস আইডেন্টিফিকেশনের লেটেস্ট সফ্টওয়ার দিয়েও আন্ডার এইজড বলে আইডেন্টিফাই করা যায় নি । তার মানে হলো শুধু মুখ দেখে তাদের বয়স বুঝবার কথা ছিল না কোনো মানুষেরই । কিন্তু প্রতিবারই তুমি প্রথম দেখাতেই তাদের আইডি চেক করতে চেয়েছো ! এটা অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য এক দক্ষতা । নোয়া, তুমি কি জানো কেমন করে করেছো সেটা ?
- আমি জানি না।
- নোয়া, তুমি অঢেল ইএসপি ক্ষমতার অধিকারী অসাধারণ একজন মানুষ !
-তোমার আরেকটা খুবই স্পেশাল ব্যাপার কি জানো ?
-কি ?
- সেটা হলো তুমি অসাধারণ রকমের রাশনাল একজন মানুষ ।
--আমি অনেক মানুষকেই জানি যারা খুব রাশনাল ।
-হ্যা সেটা সত্যি ।অনেক মানুষই রাশনাল । কিন্তু মানুষের রাশনালিটি বেশির ভাগ সময়েই জড়িত তার অর্থনৈতিক, পেশাগত ব ধর্মীয় ব্যাপারে সাথে । যেমন একজন ফাইনান্সিয়াল এনালিস্ট ব্যক্তি জীবনে যেমনি হোক তার প্রফেশনে সে কোন কাজটা প্রফিটেবল বা ননপ্রফিটেবল তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয় । একজন ধর্মীয় নেতাও ঈশ্বরের মার্সির জন্য তার কোন কাজটা প্রফিটেবল বা ননপ্রফিটেবল তার ভিত্তিতেই রাশনাল ডিসিশন নেয় ।কিন্তু তোমার রাশনালিটি অন্য ধরণের ।
-আরো স্পষ্ট করে বলো ?
-তোমার দশ বছরের সেলসমান জীবনে অসংখ্য দিন তোমার আন্ডারইজড বন্ধুরা তোমার কাছে নিকোটিন আর বিয়ার কিনতে চেয়েছে। কিন্তু তুমি কাউকেই কখনোই সেগুলো সেল করনি । অনেক সময় তুমি স্টোরে একাই ছিলে, তুমি চাইলেই বিক্রি করতে পারতে কিন্তু করোনি। এই কারণে তোমার কিছু বন্ধু তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে কিন্তু তবুও তুমি তোমার ডিসিশন চেঞ্জ করো নি। তোমার খুব খারাপ লেগেছে সেই সময়গুলোতে সেটা ভিডিও এনালাইসিসের থেকে আমরা নিশ্চিত। সিডিসির এনালাইসিসে এমন অবস্থায় আটানব্বুই দশমিক নয় নয় ভাগ সম্ভাবনা মানুষ আন্ডার এইজড মানুষের কাছে বিশেষ করে বন্ধুদের কাছে টোব্যাকো বা বিয়ার সেল করবে। কিন্তু তুমি কখনোই সেটা করো নি। সিডিসির হিসেবে অনুযায়ী কখনো সেই ছোট ছোট কম্প্রোমাইজ না করাটাই মানুষের জন্য খুবই অবিশ্বাস্য ।
-এজন্যই আমি বিশেষ কোনো মানুষ !
-নোয়া, পৃথিবীর সাত বিলিয়ন মানুষের মধ্যে তোমার মতো একই সাথে এতো আবেগ প্রবণ কিন্তু আবেগকে পুরোপুরি দূরে রেখে সিদ্ধান্ত নেবার মতো রাশনাল যে কিনা আবার ইএসপি ক্ষমতা সম্পন্ন এমন অসাধারণ মানুষ আর একজনও নেই,এই পৃথিবীতে কখনো ছিল না।
- আমাকেতো তোমরা ঈশ্বরের মতো ভেবে ফেলছো ! আমি খুব সাধারণ মানুষ ।
-তোমার ডিএনএ-র সেই বিশেষ সেলটা আর মলিকুলগুলো যার কারণে তুমি এতো অসাধারণ সেগুলো আমরা আমাদের লেটেস্ট টেকনোলজি দিয়ে আইডেন্টিফাই করেছি। আমরা নতুন যে মানব জাতি সৃষ্টি করবো তাদের সিলেক্টেড মানুষের ভেতরে বিশেষ করে যারা দেশ ও জাতির নেতা হবে তাদের ডিএনএর ভেতর এই সেলটা আর মলিকুলগুলো ইনজেক্ট করে দেবার ব্যবস্থা করবো । যাতে ভবিষ্যতে মানব জাতির অস্তিত্ব বিনাশী কোনো ভাইরাস এটাকের আগেই বঙ্গোপসাগরের ছোট,দরিদ্র সেই দেশটার মতো দেশগুলোর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা যেন আগে থেকেই সেই ভাইরাস এটাকের কথা অনুভব করতে পারে আর দেশের গরিব মানুষ জনকে বাঁচাবার রাশনাল ডিসিশন নিতে পারে। তাদের বাঁচাবার জন্য একজন ঈশ্বরেরই প্রয়োজন এখন । সেই ঈশ্বরের খোঁজেই আমাদের এখানে আসা ।

গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে ভবিষ্যতে ভাইরাসগুলো ধীরে ধীরে আরো অনেক বিচিত্র, শক্তিশালী আর কমপ্লিকেটেড হয়ে উঠবে।প্রতিষেধক বানানোর সময় বেশি লাগবে।তাতে মানুষের প্রাণনাশের সম্ভাবনাও বেশি হবে।তখন প্রাণবিনাশী ভাইরাসের থেকে মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান উপায় হবে প্রচন্ড ইএসপি ক্ষমতা সম্পন্ন তোমার মতো রাশনাল কিছু মানুষ যারা ঈশ্বরের মতো নির্ভুলতায় সিম্পটম দেখা যাবার আগেই ভাইরাসের ভবিষ্যৎবাণী করবে ।তাতে মানুষ বেশি সময় পাবে ভ্যাকসিন বানাবার। আর একই সাথে সরকারগুলো অপ্রয়োজোনীয় জন্মদিন উৎসব টুৎসব বাদ দিয়ে নিজেদের মানুষকে বাঁচাবার প্রয়োজনীয় কাজগুলো করার সময়ও বেশি পাবে।

৬.

ব্লিপ ব্লিপ শব্দ করে মনিটরগুলো বন্ধ হয়ে যায় । ঘরের বড় লাইটগুলো নিভে যায় ধীরে ধীরে। সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে শুধু হালকা নীল রঙের মৃদু আলো ।

নোয়ার চোখের সামনে যেন হঠাৎ নোৱার মুখটা ভেসে ওঠে । বিছানায় শুয়ে মৃদু হাসা ওদের ছোট্ট ছেলে জোহানের মূখটা যেন স্পষ্ট দেখতে পায় নোয়া । ওকে কোলো নিয়ে বুকের কাছে আদরে ঘুম দেবার অল্প দিনের স্মৃতিগুলো সিনেমার রিলের মতো একের পর এক চলতে থাকে যেন। একটু পরেই নোৱার কান্না।চিলড্রেন হসপিটালে আইসিইউএর পাশে ওদের রুমে গভীর রাতে দরজা ধাক্কা দেবার শব্দটা যেন কানে ভেসে আসে! কে যেন এসে বলছে, ‘আপনাদের কাছে চাদর আছে ? সেটা নিয়ে আসেন এখুনি আইসিইউতে’। নোৱার চোখের পানি, কান্নার শব্দ সব মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় ! নোয়া বুঝতে পারেনা সেটা স্বপ্ন, কল্পনা না হলোগ্রামে দেখানো হারিয়ে যাওয়া সত্যিকারের কোনো স্মৃতি।

নোয়া অনেক চেষ্টা করে বিছানা ছেড়ে উঠে বসে । সে একটা শুধুই সুখের জীবন চায় না । সে চায় না তার ভালোবাসা সবার জন্য মেজারিং স্কেলের মতো সমান ভাগে ভাগ করতে। নোরার জন্য এক ভরা জ্যোৎস্না রাতের সমান তীব্র ভালোবাসাটা ও সব সময় বুকের মধ্যে ধরে রাখতে চায় । ছোট বেবি জোহান কে হারাবার বুক ফাটা কষ্টটুকু ও সত্যিকার ভাবেই সব সময় অনুভব করতে চায়। তারপরে পৃথিবীর জন্য রাখা ওর বাকি ভালোবাসাটুকু ও ভাগ করে দিতে চায় সবাইকে । কোনো সাইবর্গের মতো মানুষ হয়েও মেশিনে জীবন বাধা পড়তে দিতে চায় না ।

নোয়া নিশ্চিত জানে যতই বিপদ আসুক মানুষ,মানব সভ্যতা সহজেই ধ্বংস হতে পারে না। ইন্টারইউনিভার্স ট্রাভেলার্সরা যতই ডিএনএ এনালাইসিস, এক্সট্রাপোলেশন করে করুক । নোয়া জানে মানুষ বিপদে ঠিকই পথ খুঁজে নিতে পারে। মানুষের টিকে থাকতে কোনো ইএসপি ক্ষমতার প্রয়োজন নেই।অজানা ভবিষ্যত, অদম্য শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকাই মানুষের সাফল্য। মানুষের ইতিহাসে সে সব কথা লেখা আছে ।সেই যে বঙ্গোপসাগরের তীরের ছোট্ট দেশটার কথা এরা তাকে বলেছে সেই দেশের ইতিহাস নোয়া জানে। তার পূর্বপুরুষ সেই দেশেরই মানুষ ।তাদের ইতিহাস থেকেই নোয়া জানে মানুষের বেঁচে থাকার যুদ্ধজয়ী হতে ঈশ্বর হবার দরকার নেই । শুধু মানুষের জন্য দায়িত্ববোধ আর অঢেল ভালোবাসা থাকলেই সেই যুদ্ধ জয় করা যায় ।

অনেক আগে সেই দেশটা স্বাধীন হবার জন্য যুদ্ধ করেছিল তাদের দেশের ভীনদেশি ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে । সেই জাতির প্রধান রাজনৈতিক নেতা সেই যুদ্ধ শুরুর আগেই স্বাধীনতার কোনো পরিষ্কার ঘোষণা না দিয়েই বন্দী হয়েছিলেন ক্ষমতাসীন সরকারের হাতে। সেই রাতেই শুরু হয়েছিল জাতিকে দমিয়ে রাখতে গণহত্যা। একটা পুরো দিন ভয়,অনিশ্চয়তার মধ্যে নেতৃত্বহীন কাটিয়েছিলো সেই দেশের মানুষ একটা যুদ্ধ অবস্থার মধ্যে। জনগণকে প্রকাশ্যে স্বাধীনতার যুদ্ধে যাবার ডাক দেবার, বা,না দেবার অথবা করণীয় নির্দেশনা দেবার মতো মতো জাতীয় কোনো রাজনৈতিক নেতা নেই দেশে তখন। নেতৃস্থানীয় সব রাজনৈতিক নেতা তখন পলাতক I কিন্তু একদিন পরেই নাম না জানা, অচেনা এক মেজর জীবনের মায়া তুচ্ছ করে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে ছিলেন প্রকাশ্য রেডিওতে ঘোষণা দিয়ে। তার নিজের পরিবার তখন বন্দী অত্যাচারী সরকারের হাতে ক্যান্টনমেন্টে। তবুও দেশের কথা ভেবে সেই মেজর স্ত্রী, দুই ছেলের মায়া এক রকম ছেড়ে দিয়েই দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। সেই জাতি আর কোনো দ্বিধা, ভয় করেনি। প্রকাশ্য সেইএক রেডিও ঘোষণাতেই পুরো জাতির মানুষ সাহস পেয়েছিলো এক সাথে হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ নিজেদের অল্প সামর্থ্য নিয়েই যুদ্ধ শুরু করে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে । সেই ঘোষণার আরো দুই সপ্তাহ পরে গঠিত যুদ্ধকালীন একটি অস্থায়ী সরকারের অধীনে যুদ্ধ করেই ছোট্ট দেশটার স্বাধীনতা এসেছিলো প্রধান নেতার বন্দিত্বের মধ্যেই যুদ্ধে তার কোনো সক্রিয় অংশগ্রহণ,নির্দেশনা ছাড়াই। প্রকৃতি শূন্যতা পছন্দ করে না।প্রকৃতি তার নিজের মতো করেই সব শূন্যতা পূর্ণতা করে দেয়। নোয়া জানে স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো কঠিন সময়েও প্রধান নেতার অনুপস্থিতিতে যেমন একটা নিরস্র জাতিকে নেতৃত্বের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়নি তেমন ইএসপি সম্পন্ন মানুষ না থাকলেও, সরকার নেতৃত্বহীন হলেও প্রয়োজনে মানুষ বেঁচে থাকবার উপায় বের করে নিতে পারবে । রোগ মহামারীর বিরুদ্ধে বেঁচে থাকতে পারবে নিজের উদ্ভাবনী শক্তি দিয়েই। করোনা ভাইরাসের সময়ও পৃথিবীর সব দেশের ডাক্তার আর নার্সরা নিজেদের সুরক্ষার প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট না থাকার পরেও নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও মানুষের প্রাণ বাঁচাবার চেষ্টায় ঈশ্বরের মতো ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলো ফ্রন্টলাইনে । তাতেই লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল ভ্যাকসিন না থাকা পরেও ।মানুষের বেঁচে থাকতে ইএসপি সম্পন্ন, আবেগহীন, অতি রাশনাল কোনো মানুষ লাগবে না ।অন্ধ অযৌক্তিক ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকা কিছু মানুষই মানব সভ্যতা বাঁচিয়ে রাখবে সব সময় এই পুরোনো প্রিয় মাটির পৃথিবীটাতে ।

শুধু রাশোনালিটি দিয়েই মানুষ সভ্যতা নির্মাণ করতে পারে না। টিকে থাকার জন্য মানুষের ঈশ্বরের মতো নিখুঁত, আবেগহীন আর যুক্তিবাদী হবার দরকার নেই সব কাজেই I মানুষ হয়ে বাঁচতে হলে রাশনালিটি, যুক্তি, বিজ্ঞানের সাথে সাথে মানুষের জন্য অঢেল ভালোবাসা, অন্ধ ভালোবাসাও লাগে । যে ভালোবাসার জন্য কিছু মানুষ আচেনা, অজানা অন্য মানুষদের বাচাতে নিজের জীবন হাসতে হাসতে দিয়ে দেবে । সেই রকম গভীর ভালোবাসা দেশ, দেশের মানুষের জন্য যত দিন মানুষের থাকবে ততদিন পৃথিবীর মানুষ, আর মানব সভ্যতাও বেঁচে থাকবে। বঙ্গোপসাগরের তীরের ছোট সেই দেশটা করোনা ভাইরাসের আক্রমণে কঠিন সময়ে পড়েছিল কারণ তাদের সরকারের নেতৃত্বহীনতার জন্য, নেতাদের দেশের জন্য, তার জনগণের জন্য সেই ভালোবাসা কখনো ছিল না ।তাদের লক্ষ্য ছিল শুধু ক্ষমতা আর তা ব্যবহার করে নিজের অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান করার দিকে। কিন্তু সে ভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। একটা জাতি টিকে থাকে না। করোনার অগ্রাসী তান্ডব সেই ভালোবাসার অভাবেই হয়েছিল সেই ছোট দরিদ্র দেশটাতে। শুধু আবেগহীন রাশনালিটি নয় মানুষের জন্য নেতাদের অঢেল ভালোবাসা থাকলেই এই রকম সংকটময় সময়গুলো মানুষ সহজেই কাটাতে পারবে ।

মনিটরিং সিস্টেম সাময়িক বন্ধ I সিডিসি এখনও জানে না নোয়ার মনের ইচ্ছে । তার হাতে সময় খুব কম । খুব দ্রুত তাকে যা করার তা কিছু করতে হবে। নোয়া দ্রুত রুমের এদিক সেদিক তাকিযে দেখে নেয় সব কিছু । নোয়ার মনে হয় একই সাথে এটা একটা আইসিইউ বা অপারেশন থিয়েটার আবার লিভিংরুম ।এমন ভাবে সব কিছু রাখা যার যে ভাবে ইচ্ছে সেই ভাবে রুমটা মনে করে নিতে পারে ।কাউন্টারে মেডিকেল সাপ্লাইয়ের জিনিসগুলোর দিকে তাকাতেই নোয়ার চোখে পরে মেথাফেটামিনের ছোট কন্টেইনারটার দিকে। কন্টেইনারটা দেখেই ওর চোখটা চক চক করে উঠলো খুশিতে । সে চিনতে পেরেছে মেডিসিনটা ।ওটার ওভারডোজ একটা শট নিলেই টক্সিক কেমিক্যালে দূষিত হয়ে যাবে ওর রক্ত।খুব দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে যাবে সেই টক্সিক প্রতিক্রিয়া । প্রতিটি কোষ করাপ্টেড হবে দ্রুত সেই প্রতিক্রিয়ায়। এমনকি ডিএনএকেও করাপ্ট করবে এই ড্রাগ। তার মৃত্যুতে মানব জাতি মুক্ত হবে আবেগহীন ভালোবাসাহীন একটা জাতি হিসেবে গড়ে ওঠা থেকে। নোয়া সিরিঞ্জ খুলে দ্রুত মেথফেটামিনের শট নেয়।ওভারডোজ শটে শরীরের ভেতরটা যেন সাথে সাথে পুড়ে যেতে থাকে। নোয়া হাসি মুখে চোখ বন্ধ করে বিছানায় এলিয়ে দেয় শরীরটা । আহা কি যে শান্তি !

শেষ কথা
হঠাৎ লাল ইমার্জেন্সি বাতিটা জ্বলে ওঠে সেই সাথে ইমার্জেন্সি সাইরেন।সিডিসি স্বয়ংক্রিয় ভাবে একটিভ হয়ে ওঠে ঘরের কন্ট্রোল নেয় । মনিটরে ভেসে উঠে একই সাথে কোমল ও কঠিন, একটু হাসি একটু উদ্বেগ ফুটে থাকা একটি নৈব্যক্তিক মুখের ছবি । শান্ত গলায় সে জানতে চায়, ‘সিডিসি পেশেন্টের অবস্থা এখন কেমন’ ?
-‘পেশেন্টের অবস্থা বেশি ভালো নয়। তার শরীরের বেশির ভাগ কোষই এখন করাপ্টেড’ ।
-‘পেশেন্টকে ইমিউনাইজ করার সম্ভাবনা কতটুকু’ ?
-‘জিরো পার্সেন্ট । এই স্যাম্পল থেকে ডিএনএ-র মলিকুল রিকন্সট্রাক্ট করার আর কোনো সুযোগ নেই ।করলে সেটা মিউটেটেড হয়ে যাবে’ ।
ওপাশ থেকে ক্লিক করে কানেকশন কাটার শব্দ হয় ।

মন্তব্য ২০ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৩৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: যাক বাবা, তবু মানব জাতিকে বাঁচালেন শেষ পর্যন্ত।

রোবোটিক আবেগ আর ভালবাসায়, দুখ আর বেদনায়, কষ্ট আর খূশী সেই প্রাকৃতিক স্বাদ কোথায়?
কিন্তু কলার মাঝে যে মেডিসিন দিয়েছেন- দুষ্ট ছেলেরাতো কলা খেয়ে বলবে বাবা বিচি ফেল দিয়েছি ;)
হা হা হা



২৭ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু
হাহাহা ---
কলার বিচিটাইতো সমস্যা আর এটা নিয়েইতো গল্প ।
জাতির কর্তারা যদি এইগুলো নিয়ে বাছাবাছি করতে থাকেন তবে নিশ্চিত ভাবে কোরনাক্রান্ত হতে হবে এখন আর ভবিষ্যৎ জাতির সবাইকে । যাক আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করুন ।
মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা ।

২| ২৭ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো লিখেছেন। ভালো লেগেছে।

২৮ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নূর,
গল্প ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো আর উৎসাহিতও হলাম । অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে ।

৩| ২৭ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৪৮

নেওয়াজ আলি বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন। উপভোগ্য পড়া।

২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৪৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নেওয়াজ আলি,
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যে ।

৪| ২৭ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৪৫

সোহানী বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: যাক বাবা, তবু মানব জাতিকে বাঁচালেন শেষ পর্যন্ত।...........হাহাহাহা

গলে।প এইবারের মতো বাঁচলেও সত্যিকারে কিভাবে বাচঁবো তার চিন্তা করছি। ভালো লাগলো সাইন্স ফিকশান।

২৯ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:০৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সোহানী,
হাহাহা....মানব জাতিকে বাঁচিয়েই ফেললাম তাহলে বলছেন ! না আর পারলাম কই গল্পের নায়কতো অবস্থা একই রেখে দিলো ! আমাদের আমজনতার ভাগ্য কি আর পাল্টায় সহসাই? তাই কল্পকাহিনীতেও কোনো রূপকথা পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারলাম না । গল্পের নিদারুন পাঠক খরায় আপনার উপস্থিতি আর মন্তব্যে ভালো লাগলো অনেক আর সে জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন। আশাকরি ভালো আছেন করোনার টেরিবল টেরোরিজমেও ।

৫| ২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১২:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: ঈশ্বরের খোজে মানে কি??
ঈশ্বর কি হারিয়ে গেছেন?

২৯ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:০৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নুর ,
আরে এই প্রশ্ন কেন আবার ? কেন এই পর্বের লেখায়তো বললাম ব্যাপারটা !
ঈশ্বর হারায় নি ।মানব ঈশ্বর খোঁজা নিয়েইতো এই গল্প -------

৬| ২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১:২২

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আপনি তো দেখি ইউটোপিয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন! এটাতো একমাত্র আমাদের বেহেশতেই সম্ভব। যাই হোক, গল্প তো গল্পই। স্বপ্ন দেখতে নেই মানা। তবে একটা কথা, জগতে বদমাশ, লুচ্চা আর ছোটলোকই যদি না থাকে (অন্ততঃ সহনীয় মাত্রায়) তাহলে ভালো এবং সৎ মানুষদের মর্যাদা কোথায়? ;)

যাকগে, গল্প ভালো লেগেছে। বিজ্ঞান, ইতিহাস আর বর্তমানের এই ককটেইল খেতে খারাপ লাগলো না। B-)

২৯ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৮:০৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আরে আমি আবার ইউটোপিয়ান স্বপ্ন দেখালাম কোথায় ?
স্বপ্নেরাতো গুনগুন গান গেয়ে ওঠার আগেই খুন ! বেহেস্তের স্বপ্ন দেখার সুযোগ কোথায় আমাদের দেশে ? সেগুলোতে কবেই খুব হয়ে গেছে আমাদের দেশের কর্তাদের জ্বালায় ।তাই কল্প কাহিনীতেও মাটির গন্ধ ভরে দিয়েছি মানে গল্পে হয়েছে মাটির কাছাকাছি থাকা সমাপ্তি -নিয়ে না পাবার অতৃপ্তি । ভালো থাকুন আর একশো একতম লেখার প্রচেষ্টা শুরু করুন ।আবারো জেনুইন অভিনন্দন নিন ব্লগীয় সেঞ্চুরির জন্য ।

৭| ২৯ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:২২

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,





গল্পে গল্পে ভবিষ্যতের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটা আভাস দিয়ে গেলেন। পাশাপাশি মানুষ হিসেবে মানবিক বোধটাও যে থাকা চাই সেটাও বলেছেন । প্রকারন্তরে এটাই বুঝিয়েছেন যে, যান্ত্রিক হয়ে নয় "মানুষ" হয়েই মানুষকে বাঁচতে হবে।

ঠিক বলেছেন। মানুষের ডিএনএতে " ভালোবাসা" নামের একটা করাপ্টেড "বেজ পেয়ার" থাকতে হবে যেটাকে আর যেন রি-কম্বিনেশান করেও রিপেয়ার করা না যায়।

ভালোলো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।


৩১ শে মার্চ, ২০২০ ভোর ৪:১৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আমেদ জী এস ভাই,

সালাম জানবেন ।
প্রায় তিনমাস আগেই আমেরিকান এক্সপার্টরা কোরনাভাইরাস যে প্রচন্ড ডেডলি হয়ে যেতে পারে আমেরিকার জন্যও আর সেজন্য ঠিকঠাক প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সেটা বলা শুরু করেছিলেন । সিএনএন, এমএসএনবিসি -র প্রত্যেক দিনকার নিউজের একটা বড় আলোচনাতেই ছিল এই প্রস্তুতির ব্যাপারটা আর সেটা ঠিক না হলে কি হবে সেটার আশংকা ।সেই সময় ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ও সমর্থকরা এটাকে ডেমোক্রেটদের হোক্স, তাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার ষড়যন্ত্র এসব বলে বলে প্রচার করে আসছিলো । যার জন্য আমেরিকার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে অনেক পরে ।আর এখনতো পুরো ক্যায়োস । চিকিৎসার জন্য ভেন্টিলেটর, পিপিআই অনেক কিছুই পর্যাপ্ত নেই । কাল আমেরিকার সিডিসি বলেছে এখন যদি প্রায় পারফেক্ট একশনও নেওয়া হয় প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে তবুও দুই লাখের কাছাকাছি মানুষের মৃত্যু হতে পারে । ওয়ার্স্ট কেস সিনারিও- মিলিয়ন মানুষ ইনফেক্টেড হতে পারে । সেক্ষেত্রে মৃত্যু সংখ্যা আরো অনেক বেড়ে যাবে । আমেরিকায় এই ঘটনাগুলো যখন ঘটছে তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের করোনা ইগনোর করার মতো আমাদের সরকারও প্রস্তুতি না নিয়ে বঙ্গবন্ধ্রর জন্মদিন গ্রান্ড সেলিব্রেসনের জন্য করোনা সম্পর্কে সব কিছু লোক ডাউন করে রেখেছিলো । আজ ইউএন সতর্ক বাণী দিয়ে বলেছে কয়েক লক্ষ লোক মারা যেতে পারে বাংলাদেশের করোনা সামলাবার অপর্যাপ্ত প্রস্তুতির কারণে । এই অব্যবস্থার কথাটা মাথায় রেখেই গল্পটা আমি লিখতে চেয়েছিলাম ।ঘটনাক্রমে ওটা একটা সাইন্সফিকেশনের মধ্য দিয়ে বলা হয়েছে । কিন্তু মূল কথাটা ছিল একজাক্টলি আপনি যেটা বলেছেন "প্রকারন্তরে এটাই বুঝিয়েছেন যে, যান্ত্রিক হয়ে নয় "মানুষ" হয়েই মানুষকে বাঁচতে হবে।" সেটাই । জ্বি, আমি বিশ্বাস করি জনগনের ব্যাপারে ভালোবাসা না থাকলে সরকার কখনো দায়িত্বশীল হবে না, রাশনালও হবে না । আর তার কাজগুলোও হবে দায়সারা ।তাতে জন্যগনের কোনো উপকার তেমন হবে না । সেটাই মঈন হচ্ছে হচ্ছে এখন আর পরিণতিও হবে ভয়ঙ্কর । আমার বড় একটা গল্পের সারমর্ম আপনি একটা সেন্টেন্সেই বলে দিয়েছেন । আপনার মন্তব্যটা যারাই পড়বে তারাই আমার গল্পের মূল কথাটাও বুঝবে । অনেক ধন্যবাদ সুন্দর সারমর্ম করা মন্তব্যে ।

আপনিও ভালোলো থাকুন, নিরাপদে থাকুন ।

৮| ৩০ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:১৯

মিরোরডডল বলেছেন: নোয়ার মৃত্যু দিয়ে হ্যাপী এন্ডিং ।
সেটাই মানুষের সাথে কোনকিছুর তুলনা হয়না ।
ভালো মন্দ যাই হোকনা কেন আমরা আমাদের এই পৃথিবী এই জীবনেই ভালো আছি ।

যেকোনো বিষয়ে বেশী আবেগ ভালোনা ইটস ট্রু , কিন্তু প্রেমের ক্ষেত্রে অন্ধ আবেগ ঠিক আছে ।
পাগলামি ক্র্যাজিনেস এলোমেলো এনিথিং এভরিথিং ইজ ওকে ইন লাভ ।
“নোরার জন্য এক ভরা জোৎস্না রাতের সমান তীব্র ভালোবাসাটা ও সব সময় বুকের মধ্যে ধরে রাখতে চায়” কথাটা এতো সুন্দর!!!

গত পর্বের মতই সবকিছুর একটা ব্লেন্ডিং ছিল ভালো লেগেছে ।

৩১ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৮:৩৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মিরোরডডল,
আপনি অনেক ভালো পাঠক সেটা আমি আপনার মন্তব্য থেকে সব সময়ই জানি । কিন্তু তবুও আমার লেখার যে লাইনটা কোট করেছেন সেটা দেখে অবাক হয়েছি বললে সত্যি বলা হয়না, ভীষণ অবাক হয়েছি বললেই ঠিক সত্যিটা বলা হয় । এই গল্পের প্লটটা ভেবেছিলাম আসলে করোনার ইনিশিয়াল স্টেজে জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে যখন চীন থেকে খবরগুলো আসছিলো তখন আমাদের সরকারের নিরুদ্বেগ আচরণ দেখে । সেই সময় সরকারের সবাই এই ইম্পরট্যান্ট ব্যাপারটা ইগনোর করে পুরোই ব্যস্ত থাকলো উৎসব নিয়ে ! আমেরিকান মিডিয়া তখন থেকেই ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশনের করোনা নিয়ে প্ল্যান প্রোগ্রামের অভাবকে আর সেজন্য সম্ভাব্য ডিজাস্টারকে হাইলাইট করে আসছে। আমাদের সরকারের এ'রকম দায়সারা আচরন থেকেই মনে হলো একটা ডিজাস্টার আমাদের জন্যও মনে হয় অপেক্ষা করছে । একটা সরকারের লিডারশীপের যদি শুধু ক্ষমতায় থাকা লক্ষ্য হয়, মানুষের ভালো করার ইচ্ছেটাই না থাকে তাহলে সেই সরকারের কাছে যত উন্নত টেকনোলজিই থাকুক না কেন মানুষের সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। সেই ভাবনা থেকেই গল্পে আমি মানুষের জন্য ভালোবাসার কথাটা (সেই থেকে আসা একাউন্টেবিলিটির কথাও) একটু জোরের সাথেই বলতে চেয়েছি। আপানার কোট করা লাইনটা সেটারই একটা অংশ হিসেবেই লিখা। সেই ছোট লাইনটা আপনি পড়তে গিয়ে খেয়াল করেছেন দেখে ভালো লাগলো । গল্পে সুন্দর একটা কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ ।

এই কঠিন সময়েও ভালো থাকুন সেটাই আশাকরি ।

৯| ৩০ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৪৮

করুণাধারা বলেছেন: এই গল্পে বিজ্ঞান আছে, ভালবাসা আছে, সর্বোপরি চমৎকার একটা মেসেজ আছে, শুধু আবেগহীন রাশনালিটি নয়, মানুষের জন্য নেতাদের অঢেল ভালোবাসা থাকলেই এই রকম সঙ্কটময় সময়গুলো মানুষ সহজেই কাটাতে পারবে।

একটানে পড়ে যাবার মত গল্পের (দুঃখিত আমি ব্লগে না আসায় পড়তে দেরি করে ফেলেছি) শেষে এসে ভাবতে বসলাম, আমাদের ভালোবাসা না থাকুক, রেশনালিটি কি আছে!! আজকেই খবরে পড়লাম একজন মানুষ ষোলো ঘন্টা এমবুলেন্সে ঘুরে তখন হাসপাতালে ঠাঁই পেলেন তখন তিনি মারা গেছেন। আজকাল মানুষের মধ্যে মানবিক গুনগুলো সব ঠিকঠাক আছে কি!!!

ভাবনার খোরাক জোগানো গল্পে প্লাস।

০২ রা এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৮:৪০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: করুণাধারা,
অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার হতচ্ছাড়া হাতে লেখা প্রথম সাইন্স ফিকশন পড়ার জন্য (সাইন্স ফিকশন হয়েছে কিনা সেই প্রশ্ন করার পুরো হক থাকলেও যে সেটা করেননি তার জন্য কৃতজ্ঞ ) ।আমার গল্পের মূল মেসেজটা বলার জন্য আমাকে যদি একটা সেন্টেন্স গল্প থেকে বাছাই করতে কেউ বলতো তাহলে আমি আপনার কোট করা লাইনটার কথাই বলতাম । আপনি অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন লেখাটা সেটা বুঝলাম আপনার মন্তব্য থেকেই আর সেজন্য আবারও কৃতজ্ঞতা । কোরনা নিয়ে সরকারের চরম উদাসীনতার ব্যাপারে একজাক্টলি এই মেসেজটার কথাটা বলতেই গল্পটা লেখা।ঘটনাক্রমে সেটা একটা সাইন্স ফিকশন গল্পের মধ্যে দিয়ে আমি বলেছি । অন্য কেউ হয়ত অন্য গল্পের মধ্যে দিয়ে বলতো ।আমি শিওর এই মেসেজটা নিয়ে আরো অনেক গল্প লেখা হবে ব্লগে । ভালো থাকবেন ।সাবধানে থাকবেন এই সময়টা ।

১০| ০২ রা এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৭

জুন বলেছেন: করুণাধারা বলেছেন: এই গল্পে বিজ্ঞান আছে, ভালবাসা আছে, সর্বোপরি চমৎকার একটা মেসেজ আছে,
সত্যি আমিও তাই বলতে চেয়েছি । আমি কল্প বিজ্ঞানের উপর অনেক ম্যুভি দেখেছি । ঘুরে ফিরে সেই আমাদের নীল গ্রহটিকেই সব কিছু নিয়ে ভালোবাসি মলাসইলমুনা ।
ভালোলাগা রইলো অনেক
+

০৩ রা এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:২৫

মলাসইলমুইনা বলেছেন: জুন,
হ্যা এই নীল গ্রহটা আরো সুন্দর হতে পারতো আমরা সবাই যদি আরেকটু বেশি মানবিক হতে পারতাম । সেই মেসেজটা মাথায় রেখেই গল্প বলা । আর হ্যা, ছোট বেলায় আমার কয়েকটা প্রিয় বইয়ের দুটো হলো ভিন গ্রহের মানুষ (আমি সেবা প্রকাশনীর বইটার কথা মাথায় রেখে বললাম কিন্তু ) আর একটা কপোট্রনিক সুখ দুখ। জাফর ইকবালের আরেকটা বই তখন খুব প্রিয় ছিল সেটা সাইন্স ফিকশন না অবশ্য, সেটা হলো হাত কাটা রবিন।যাহোক, অনেক ধন্যবাদ গল্প পড়ে মন্তব্য করার জন্য ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.