নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"Thus let me live, unseen, unknown/ Thus unlamented let me die/ Steal from the world and not a stone/ Tell where I lye \"

মলাসইলমুইনা

Reading maketh a full man; conference a ready man; and writing an exact man. **** -Sir Francis Bacon

মলাসইলমুইনা › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘শী ইজ ডেড, এন্ড আই এম কোয়ারিনটিনড। দ্যাটস হাউ দ্যা স্টোরি এন্ড্স’ (করোনার সাথে কাটানো আরেকটা ধূসর বেলার গল্প)

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৮:১৭



“She’s dead, and I’m quarantined. That’s how the story ends…” ইন্ডিয়ানার টনি সিজমোর তার ওয়াইফ ৬৯ বছর বয়স্ক বার্ডি শেল্টনের করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার পর যে মর্মান্তিক কথাটা বলেছিলেন সেই কথা দিয়েই দুই সপ্তাহ আগে (মার্চ ৩০) ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ তাদের লিড স্টোরির হেড লাইনটা লিখেছিল । ইন্ডিয়ানা স্টেটে বার্ডি শেল্টনই ছিল করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রথম ব্যক্তি ।বার্ডি শেল্টন কোনো পার্টিতে যায়নি, সিনেমা বা কনসার্টে যায়নি এমন কি কোনো রেস্টুরেন্টেও যায়নি যেখান থেকে করোনা আক্রান্ত হতে পারে।সে শুধু একটা রেন্টাল কার ড্রাইভ করে মিসৌরির সেন্ট লুইস থেকে ইন্ডিয়ানা পোলিসে বাসা পর্যন্ত এসেছিলো। ধারণা করা হচ্ছে সেই গাড়ির থেকেই করোনা ভাইরাস তার কাছে এসেছে ! টনি সিজমোর তার স্ত্রী বার্ডি শেল্টনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাটা এভাবে বলেছেন :

প্রথমে হালকা জ্বর, অল্প কাশি থেকে শুরু করে এক রাত্রে সেগুলো বেড়ে যাওয়ায় বার্ডিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার নিউমোনিয়া হিসেবে চিহ্নিত করেন। প্রথম প্রথম আমি বা নার্সদের কেউ আলাদা ভাবে কোনো পিপিই ব্যবহার করিনি।আমি রুমে বার্ডির পাশে চেয়ারে বসে থাকতাম ওর হাত ধরে আশ্বস্থ্য করতাম ।কাৰণ তখন পর্যন্ত ইন্ডিয়ানাতে কোনো করোনা ভাইরাস রুগীই ধরা পড়েনি। ।ও বলতো ওর মাথাটা ভেতর থেকে কেউ যেন পিষে দিতে চাইছে । আমার ইচ্ছে হতো ওর কপালে হাত বুলিয়ে দেই,একটা চুমু দেই কিন্তু আমি কিছুই করতে পরতাম না । ওকে কোনো রকম সাহায্যই আমি আসলে করতে পারিনি । বার্ডিকে দুই বা তিনদিন প্রথমে একটা রুমে রাখা হয়েছিল কিন্তু মনে হচ্ছিলো সেটা দুই বা তিন বছর । নার্সরা বার্ডির মুখে একটা বড় মাস্ক পরিয়ে দিয়েছিলো । তাকে মনে হতো একজন গ্রহান্তরের আগুন্তকের মতো । বার্ডির এই মুখটা আমার কাছে অনেক অচেনা মনে হতো I অনেক জোরে আর গভীর করে বার্ডি শ্বাস নিতো তার ভেন্টিলেটার দিয়ে । আমি তার শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ পাশে বসে শুনতে পেতাম I কিন্তু তবুও মনে হতো এতো অক্সিজেনও যেন যথেষ্ট না তার জন্য । ঘুমের মধ্যে দ্রুততর হয়ে যেত তার শ্বাস নেওয়া । ধীরে ধীরে বার্ডির অবস্থা আরো খারাপ হলো। স্বাভাবিক ভাবে তার শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে যেতে লাগলো । আমি সারাক্ষন হসপিটালেই থাকতাম কিন্তু মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্যই বাড়িতে যেতাম আমাদের পোষা কুকুরটাকে খাবার দেবার জন্য ।এই রকম একটি সময়েই তারা তাকে আইসিইউ-তে নিয়ে যায় । আমি ফিরে এসে দেখি করিডোরটা-যেখান দিয়ে আমি বার্ডির রুমে যেতাম সেখানে "নো ভিজিটর " সাইন টেপ দিয়ে আটকানো।তারা আমাকে করিডোর দিয়ে আর কখনোই ভেতরে যেতে দেয় নি। কাউকে না। আমি করিডোরের একটা জানালা দিয়ে একবার দেখেছিলাম তারা তাকে অন্য রুমে সরিয়ে নিচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো সে ঘুমিয়ে আছে । কিন্তু সেটা শান্তির ঘুম ছিল কিনা আমি জানি না ।একদিন আমার হঠাৎ কাশি হলো । ডাক্তাররা আমাকে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন থাকতে বললো। আমি চাইনি কিন্তু আমার কিছু করার ছিলো না। ডাক্তাররা আমাকে ভিডিও কলের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো বার্ডির সাথে কথা বলার জন্য। আমি টেকি পার্সন না। যাহোক বার্ডির সাথে কথা বলতে বলতে আমার ফোনের চার্জ শেষ হলো একদিন।সেটা ছিল রাত। নতুন করে চার্জ করে সকালে তাকে ফোন করার আগেই ডাক্তার আমাকে জানায় বার্ডি মারা গেছে ।আমি নিজে বা টেকনোলজি দিয়ে কোনো ভাবেই বার্ডিকে শেষ বার বিদায় বলতে পারিনি । খুব নিঃসঙ্গ আর একাকী অবস্থায়ই সে মারা গেছে । এই ঘটনা কি আরো অন্যরকম হতে পারতো ? হয়তো । তারা আমাকে আরো আগেই বলতে পারতো বার্ডির করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার কথা ।কিন্তু তাহলে সে কি বেঁচে যেত ? আমি জানি না । কিন্তু তাহলে ওর সাথে শেষ কয়টা দিন কাটানো আমার আর সম্ভব হতো না । “আসলে এই ঘটনার কোনো একটা ভালো দিক আছে সেটা বললে পুরোই মিথ্যে কথা বলা হবে---"।

স্তব্ধ হয়ে ‘ওয়াশিংটন পোস্টে’ টনি সিজমোরের জীবনের মর্মান্তিক ঘটনাটা পড়ছিলাম। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো এই সময়ে কাছাকাছি এতো ঘটছে ! করোনাতে এই আমেরিকায় নিজের পরিচিত মানুষের মৃত্যুর খবর শুনতে হচ্ছে। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে মারা যাবার সাত দিন পরেও বন্ধুর বাবার লাশটা হসপিটাল মর্গে থাকলো ! একবারও না দেখে, এক বারও বাবার লাশটা ভালোবাসায় না জড়িয়ে ধরে, নিজে উপস্থিত না থেকে মৃত বাবার লাশ দাফনের অবিশ্বাস্য কঠিন ঘটনাওতো এখন ঘটছে এখানে ! কি যে এক অদ্ভুত সময় ! কি যে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হচ্ছে প্রতিদিন !

সকাল থেকেই অঝোরে স্নো পড়ছে আমাদের এখানে । শুভ্র স্নোতে ঢেকে গেছে মাঠের সব সবুজ ঘাস। গাছের পাতা, ডাল। চারদিক ঢেকে আছে শ্বেত শুভ্রতায়। কিন্তু তবু এখানে উজ্জ্বল দিনগুলোও নিকষ কালো। অসংখ্য ডাক্তার,নার্স আর হেলথ ওয়ার্কারদের অবিশ্রাম পরিশ্রমে সাজানো ফ্রন্টলাইন ব্যারিয়ার ভেঙে করোনার ভয়াল থাবায় প্রায় ছিন্ন ভিন্ন,সুখ,শুভ্রতার সব আশাবাদী চিহ্ন। আমাদের স্টেটে করোনার তান্ডবে মৃত্যুর মিছিল দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে । কদিন আগেই ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ লিখেছিল মিশিগানের হাসপাতালে বডি ব্যাগের অভাব দেখা দেবে খুব শিগ্রী। সেই বিষাদ সময়টা যে এতো তাড়াতাড়ি এসে কড়া নাড়াবে দরজায় বুঝিনি। ইদানিং মনটাকে অনেক কঠিন করে ফেলেছি। পরশুদিন এখানে একদিনে ৯৫ জন মানুষ মারা যাবার নিউজে একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে ছিলাম -- মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখে (এক দিনে ৯৫ জন মানুষের মৃত্যুও এখন সহজ মনে হয়)! কিন্তু সেই কঠিন মনটাও নাড়া খেয়ে গেলো ‘নিউইয়র্ক পোস্টের’ ডেট্রয়েট সিনাই গ্রেস হসপিটালের ফ্রিজিং রুমে (মর্গ না) সারি সারি লাশের একটা ফটো দেখে। একটার ওপর আরেকটা লাশ ভর্তি সাদা বডি ব্যাগ মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত দোকানে জিনিস সেল্ফ করে রাখার মতো করে সাজানো ফ্রিজিং রুমে ! কারণ হসপিটালের মর্গ লাশে ভরে আছে I হসপিটালের ড্রিম চেক আপ রুমের ফটোটা দেখেও শরীরে কাটা দিয়ে উঠলো।রুমের সাজানো গোছানো ডাবল বেডের ওপর দুটো সাদা লাশভর্তি বডিব্যাগ আর লাশ দু'টোর মাথার কাছের চেয়ারে বসানো সাদা আরেকটা বডি ব্যাগ ! যেন কোনো হরর মুভির একটা দৃশ্য!

এই মার্কেট ইকোনমির যুগেও আমেরিকায় কিন্তু রুগীর আশ্চর্য একটা সাংবিধানিক অধিকার আছে -- সেটা হলো জীবন রক্ষার অধিকার ! কর্পদহীন কোনো রুগীও হসপিটালের দরজা পর্যন্ত গেলে তাকে চিকিৎসা দিতেই হবে তা সেটা যত খরচ সাপেক্ষই হোক না কেন। চিকিৎসা সুযোগ অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সেই চিকিৎসা কিন্তু যেন তেন কোনো চিকিৎসা নয়। যে কোনো সামর্থ্যবান রুগীর পাওয়া চিকিৎসার মতোই। সেই আমেরিকান হসপিটালের ফ্লোরে থরে থরে লাশ রেখে দেওয়ার ফটোও দেখবো সেটা সত্যিই কখনো ভাবিনি। করোনার কারণে কত আশ্চর্য জিনিস যে দেখতে হলো এরই মধ্যে ।

এ’সব তাত্বিক কথাবার্তা মনে হবার সময় আসলে এখন না । কিন্তু দেশের মানুষদের কিছু কাজে এই ব্যাপারগুলো ভুলতে পারছি না। আমাদের কিছু মানুষ নাকি লক ডাউনে হাফিয়ে উঠেছেন। শপিংয়ে যাওয়া যাচ্ছে না দেখে,পছন্দের স্ন্যাকস কিনতে পছন্দের স্টোরে যাওয়া যাচ্ছে না দেখে নাকি কিছু মানুষের চরম অসুন্তুষ্টি ! বাজারে গাদাগাদি করে এখনো কেনাকাটা অব্যাহত আছে পেপারে দেখছি ! এই সব দেখে শুনে ভাবছি আল্লাহ আমাদের দেশের মানুষের ওপর রহম করুন।এই করোনা যে কি পরিমান ভয়ঙ্কর হতে পারে তা মনে হয় দেশের কিছু মানুষ বুঝতে পারছে না। লক ডাউন না মেনে চললে কি হয় তার একটা নমুনা বলি ।আমেরিকার বেশির ভাগ স্টেটেই 'মেন্ডেটরি হোম স্টে অর্ডার' জারি আছে প্রায় তিন চার সপ্তাহ কিন্তু কিছু স্টেট্ বাদে । রাজনৈতিক কারণেই অল্প কিছু রিপাবলিকান গভর্নর তাদের স্টেটে এই পলিসিটা কার্যকর করেন নি । এরকম একটা স্টেট্ হলো সাউথ ডেকোটা । রিপাবলিকান গভর্নর ক্রিস্টি নৌম (Kristi Noem) 'মেন্ডেটরি হোম স্টে অর্ডার' দিতে অস্বীকার করেন সারা দেশে করোনার তান্ডবের পরেও । সাউথ ডেকোটা আয়তনে বাংলাদেশের থেকো বড় আর মানুষ খুব কম, মাত্র ৮ লক্ষ । আমার ধাৰণা ওখানে হরিণের সংখ্যাও মানুষ থেকে বেশি। যাহোক, ছোট ছোট শহর, মানুষ জন কম।সাউথ ডেকোটাতে সব কিছু স্বাভাবিক চলছিল I গভর্নরকে অনেক বার সতর্ক করা হলেও ট্রাম্প প্রশাসনকে খুশি রাখতেই হয়তো উনি অগ্রাহ্য করেছিলেন 'মেন্ডেটরি হোম স্টে অর্ডার' পরামর্শ । ক'দিন আগেও স্টেটে করোনার তান্ডব বেশি ছিল না । সাউথ ডেকোটার দক্ষিণ পূর্ব কোনো দেড় লাখের একটু বেশি জনসংখ্যার একটা কাউন্টি হলো মিনেহাহা (হা হা করে হাসবেন না কাউন্টির নাম শুনে।এদের অবস্থা মুটামুটি ভর্তা এখন করোনায় )। এই কাউন্টি ঢাকা মেট্রো এরিয়ার প্রায় সমান ! এখানে একটা মিট প্লান্টে গত সপ্তাহে প্রথম করোনা কেস রিপোর্ট করা হয়।কিন্তু মিট প্ল্যান্টের মালিক,শহরের মেয়র আর স্টেট গভর্নর এই ত্রিরত্ন ব্যাপারটা ইগনোর করে। তাতে গত সাত দিনের মধ্যেই করোনা ছড়িয়ে প্লান্টের ৭৭৩ জন সহ কাউন্টির মোট ১০৬৫ জন ইনফেক্টেড হয়ে গেছে প্লান্ট কর্মীদের সাথে কন্টাক্টের কারণে ! এর মধ্যে মারাও গেছে সাত জন সাউথ ডাকোটার মিনেহাহা কাউন্টির মতো জন মানবশূন্য জায়গায় ! একটু চিন্তা করুন হাই পপুলেশন ডেনসিটির ঢাকা বা বাংলাদেশে এটা কি করবে ? স্টেটের আশি ভাগের বেশি ইনফেকশন এখন মিনেহাহা (আবার হাসছেন !) কাউন্টিতে এই কয়েকদিনের মধ্যেই হলো ! শহরের রিপাবলিকান মেয়র এখন গভর্নরকে রিকোয়েস্ট করছেন 'মেন্ডেটরি হোম স্টে অর্ডার' জারি করতে ।চোর পালালে বুদ্ধি বেড়েছেতো ঠিক কিন্তু বিপর্যয় কতটুকু কাটানো যাবে এই ইনভিজিবল ঘাতকের হাত থেকে সেটা সামনের কয়েক দিনের মধ্যেই জানা যাবে ।

আমেরিকায় যেহেতু তথ্য প্রবাহে বাধা দেওয়ার উপায় নেই তাই সবাই যা হচ্ছে জানতে পারছে। আর ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা জানতে পারছে বলেই এই দেশের চির আউট গোয়িং ন্যাচারের মানুষগুলোও সন্তুষ্টির সাথে লক ডাউন মেনে নিয়েছে বেশির ভাগ স্টেটেই । আমাদের সেই সুযোগ নেই । দেশে কি হচ্ছে সেই খবরগুলো ঠিকঠাক সবাই মনে হয় জানতেও পারছে না I তাই মনে হয় লক ডাউন ভেঙে বের হবার এই আত্মঘাতী চিন্তা মানুষের মধ্যে চলে আসছে। এই মহামারী অবস্থায়ও দেশে কিছু কিছু জায়গার হৈহৈরৈরৈ জন সমাগমের ফটো দেখে স্তম্ভিত হয়ে যেতে হয়। এছাড়া এটাও মনে হয় শুরুতেই সরকারের মন্ত্রী আর দায়িত্বপ্রাপ্ত অদক্ষ এক দল মানুষের করোনা নিয়ে বালখিল্য কথাবার্তার কারণেও হয়তো দেশের অনেক মানুষের মাথায় কোরনা একটা ফ্লু, কালা জ্বর ধরণের সামান্য কিছু এই ধাৰণা ঢুকে গেছে আর সে থেকেই মনে হয় লক ডাউন ভাঙার বিলাসী চিন্তাও ঢুকে গেছে।তাছাড়া অভাবী আর উপোষী একটা সামাজিক গ্রূপও নিরুপায় হয়ে লক ডাউন ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারে । লক ডাউন সফল করতে সরকারকে এই সৌখিন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের নিয়ন্ত্রণ করার সাথে সাথে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে অভাবী মানুষের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহের সেফটি নেটটা তৈরী করতেই হবে। নইলে এরা রাস্তায় নেমে আসবেই। শুধু ডিজিটাল উন্নয়নের দূরের বাদ্যধ্বনিতেই উপোষী মানুষ খুশি হবে সেটা আশা করা ভুল। অসংখ্য ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা না করতে পারলে করোনার মহামারী আর তার সাথে ক্ষুধা, অনাহারে লক্ষ মানুষের মারা যাবার (যার আশংকা ইতিমধ্যে কিছু দেশি বিদেশী গবেষণায় করা হয়েছে ) ভয়ংকর অবস্থা থামাবার কোনো উপায় নেই সেটা সরকার তাড়াতাড়ি বুঝতে পারলেই ভালো। বিবর্তনবাদ মেনে চাল চোরে বদলে যাওয়া পুরোনো নিশিকুটুম্বদের প্রেতাত্মাগুলোকে কঠিন ভাবে বিচারের আওতায় আনতে হবে প্রকাশ্যে শাস্তির মধ্যে দিয়ে এখুনি। নইলে দিল্লি হনুজ দুরস্ত হয়েই থাকবে !

বাইবেল বলে একটা গাছ তার ফল দিয়ে পরিচিত হয়। আর একটা সরকার পরিচিত হয় কিছু ডিফাইনিং মোমেন্টে তাদের ভূমিকা দিয়ে। ইতিহাস নিশ্চিত ভাবেই আমাদের এই সরকারের ডিজিটাল উন্নয়নের স্লোগান, দেশের মধ্যম আয়ে অন্তর্ভুক্তি, বা তিন হাজার কোটি টাকার স্যাটেলাইট উড়াবার কথা মনে রাখবে না। কারণ ওই বিষয়গুলো পরিবর্তিত হবে সময়ে সময়ে। ইতিহাস সম্ভবত আমাদের এই সরকারকে মনে রাখবে করোনার ভয়ঙ্কর দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা দিয়েই । এখন দেখার বিষয় হাউ দ্যা স্টোরি এন্ড্স ---! ভালো থাকুন সবাই ।


ফটো : আমাদের শহরে আজ শুক্রবার সকালের স্নো ফল ।

মন্তব্য ৩৮ টি রেটিং +১৪/-০

মন্তব্য (৩৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:০২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: কত অগুনিত বেদনার মহাকাব্য রচিত হচ্ছে নিত্য করোনার আঘাতে...
শত হাজার লাখ দেড় লাখ...
কোথায় গিয়ে থামবে??

আমাদের কথা আর বইলেন না ভায়া।
কালই দেখলাম - ষ্টুপিড মন্ত্রী বলছে- ক্ষুধার্ত মানুষের বিক্ষোভ নাকি সাজানো!!!
অন্য কারো ইন্ধনে হয়েছে!!! ইনিয়ে বিনিয়ে বিএনপিকেই নন্দঘোষ বানালো!
হায়! কি বিচিত্র এই দেশ!

তাই ফি সাবিলিল্লাহ বলেই বসে আছী নিরুপায়! হ্যা ঘরেই আছি। অফিসকে ধন্যবাদ ছুটি দিয়েছে।
গত মাসের বেতনও দিয়েছে। আগামী মাস কি হবে জানিনা!!!

কোটি নাগরিকে দেশে দিনে টেষ্ট মাত্র ১৫০০-২০০০!!
তাইতে যে পরিমান আক্রান্ত বাড়ছে, আর মৃত্যুর পরিসংখ্যানেতো সবচে উচ্চমাত্রার ঘরেই হাটছে অংক!
সত্য যখন গোপন হয় গুজব তখন ডাল পালা মেলে। মিথ্যা আর দোষারুপের গতানুগতিক কুনীতি দিয়ে এত বড় বৈশ্বক বিপর্যয় যে মোকাবেলা সম্ভব নয় -যত তাড়াতাড়ি এই বুঝ আসে ততই মঙ্গল!

ভাল থাকুন। নিরাপদ থাকুন।
আমাদের জন্য প্রার্থনার আরজি রইল

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:০২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু,

আপনার মন্তব্যে কি বলবো বুঝতে পারছি না । এটাই মনে হয় হবার কথা ছিল দেশে । আমাদের সরকার আর প্রশাসনের ওপর দিকে যারা আছেন বা যাদের বসানো হয় ক্ষমতার ধার ভার ঠিক রাখতে তাদের দিয়ে এই অব্যবস্থার বেশি কিছুটা আশা করা যায় না । আমরা তবুও আশাকরি দেখেই আশাভঙ্গের কষ্টগুলো আমাদের পেতে হয় বারবার । জানুয়ারির থেকেই বোঝা যাচ্ছিলো মুটামুটি একটা ধ্বংসের দিকে আমরা রওনা হয়েছি । এখন এবারের এই করোনাতে আমাদের জাতির কপালে ছিয়াত্তরের (১৭৭০) বা পঞ্চাশের (১৯৪৩) সালের মন্বন্তরের মতো দুর্ভাগ্যের তিলক আঁকা হয়ে যায় কিনা সেটাই হলো দেখার বিষয় । ১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষের সময়কার শাসন শূন্যতার মতো একটা অবস্থা হয়তো আমাদের এখন আছে বলে অনেক সময় কেন জানি ভয় হয় । যাহোক, ভালো থাকুন । দেশের সবার জন্য শুভ কামনা ।

২| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:২১

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,




আপনার এই মর্মভেদী লেখা আর দেশের এই কালবেলায় আপনার সতর্কীকরণ ( বিশেষ করে শেষ প্যারা ) কোথায়, কি করে যে শেষ হবে সেটা ভাবতেই মনে পড়লো জীবনানন্দকে----

" অনেক মানুষী-খেলা দ্যাখা হ'লো, বই পড়া সাঙ্গ হ'লো-তবু
কে বা কাকে জ্ঞান দেবে - জ্ঞান বড় দূর পৃথিবীর
রুক্ষ গল্পে; আমাদের জন্যে দূর -দূরতর আজ।"


ভালো থাকুন, থাকুন নিরাপদে।

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জী এস ভাই,
অনেক বার পড়া এই কবিতাটাও নতুন মনে হলো করোনার এই কনটেক্সটে দেশের কথা ভেবে ! কাল লেখাটাতে যে ব্যাপারগুলো দেশে হচ্ছে দেখে মন খারাপ করছিলাম তার বড় সড় একটা গ্রান্ড প্রদর্শনীই হয়ে গেল ব্রাক্ষনবাড়িয়াতে লেখা পোস্ট করার অল্পক্ষনের মধ্যেই ! কি যে বলা যায় এই ঘটনায় সেটাই বুঝতে পারছি না । জীবনানন্দের কবিতায় আজ বড় সত্যি --
"-- -জ্ঞান বড় দূর পৃথিবীর
রুক্ষ গল্পে; আমাদের জন্যে দূর -দূরতর আজ।"

ভালো থাকবেন ।

৩| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:৫৫

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: আমাদের দেশে করনার সঠিক চিত্রই তো সরকার জনগনের কাছে তুলে ধরতে ব্যার্থ হচ্ছে।যদি সঠিক তথ্য জনগনের সামনে তুলে ধরা হত আমার মনে হয় দেশের মানুষ আরও বেশি সচেতন হত।
লকডাউন শুধু নামেই চলছে।যে ভাবে মানুষ বাজারে যাচ্ছে বাজার করতে তাতে বোঝারই উপায় নেই এখানে লকডাউন চলছে।
এদেশে মানুষের ঘাড়ের উপর কিছু না আসা পর্যন্ত কিছু বুঝতে চাইনা।
আর সরকারের কথা কি বলব।তথ্য মন্ত্রী হাসান সাহেব তো বলছে লোক ভাড়া করে নাকি ত্রানের জন্য মিছিল হচ্ছে।
এখনও ত্রান দিতে গিয়ে দল দেখা হচ্ছে।আর সরকারের উচ্চপর্যায়ের বেশির ভাগ নেতারাই তো ইদুরের গর্তে ঢুকে বসে আছে।
প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের কাছে ত্রান পৌছাচ্ছে না।আর নিম্ন মধ্যেবিত্তদের যে কি অবস্থা সেটা অনেকে কল্পনাও করতে পারছে না।
সামনে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।

১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:১৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মোস্তফা সোহেল,
"আমাদের দেশে করনার সঠিক চিত্রই তো সরকার জনগনের কাছে তুলে ধরতে ব্যার্থ হচ্ছে।যদি সঠিক তথ্য জনগনের সামনে তুলে ধরা হত আমার মনে হয় দেশের মানুষ আরও বেশি সচেতন হত" আপনার এই কথাটার সাথে আমি খুবই একমত ।আমারও ধারণা সরকারের মন্ত্রীদের করোনা নিয়ে শুরুতে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলা কথাবার্তায় অনেক মানুষের মাথায়ই এর সিরিয়াসনেস সম্পর্কে একটা ভুল ধাৰণার জন্ম দিয়েছে । আর এটাই ডেডলি হয় যেতে পারে আমাদের জন্য। ত্রাণের ব্যাপারটা ঠিকঠাক করে না করা গেলে আমাদের ভয়ঙ্কর একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়তে হবে । যা হতে পারে করোনা প্লাস পরিস্থিতি । আল্লাহই এখন ভরসা । তাছাড়া আর কিছু মনে হয় করার নেই ।সব কিছু করতেই সরকার অনেক দেরি করে ফেলেছে ।অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।ভালো থাকুন ।

৪| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:৫৯

জুন বলেছেন: মলাসইলমুনা,
বর্তমান পৃথীবির অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখাটি পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। আমিও মাঝে মাঝে ভাবি আমাদের দুজনার মাঝে কেউ আক্রান্ত হলে আমরা কি কেউ কাউকে ফেলে পালিয়ে যাবো! দুজন দুজনার প্রতি মায়া মমতা ভালোবাসা কি করোনার কাছে পরাজিত হবে!
আর আমাদের দেশের মানুষ আদৌ সচেতন হবে কি না আমার সন্দেহ আছে। পুলিশরা ক্লান্ত তাদের বোঝাতে গিয়ে। ৫ বছরের পুরনো এক্সরে নিয়ে ঘুরছে পুলিশকে ধোকা দিতে। আর কত নীচে নামবো আমরা!
আমি ২৮ শে জানুয়ারি "চাইনিজ নববর্ষ আর করোনা আতংক" নামে ব্লগে একটি লেখা পোষ্ট করেছিলাম তখন আমাদের দেশে এই ব্যপারে সচেতন খুব কম লোকই ছিল। এরপর ১৮ মার্চ আরেকটি পোস্ট দেই "করোনা নিয়ে আমরা কতটা সচেতন"। কালের কন্ঠ পত্রিকার সুত্র ধরে। সেই জানুয়ারি গেল ফেব্রুয়ারী গেল মার্চের তিন সপ্তাহ গেল তারপর আমরা নড়েচড়ে বসলাম। কতটা জরুরি সময় আমরা অপচয় করলাম।
উহানে যখন করোনা শুরু হয় তখন থেকেই থাই জনগণ সচেতন। মাস্ক পড়া, হাত ধোয়া,দুরত্ব বজায় রাখা এইসব। তাদের সরকার তখনও চুপচাপ। দঃ কোরিয়া থেকে যখন থাই শ্রমিকরা ফিরতে শুরু করে যাদের মধ্যে কারো কারো করোনার লক্ষ্মণ ছিল। এই সব শ্রমিকদের ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য থাইবাসীরা স্যোশাল মিডিয়ায় গর্জে উঠে। তখন সরকার সমুদ্র পাড়ে রয়েল থাই নেভীর এক স্থানে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করে। অত্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা চীনের সাথে যোগাযোগ রেখেও করোনাকে প্রায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাছাড়া এরা সচেতন তো বটেই আইনের প্রতিও যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। আর এখানেও সাধারণ চাকরিজীবিরাও ছোট ছোট ফ্ল্যাটে বাস করে দরিদ্রদের কথাতো বাদই দিলাম। তারাতো আকাশ বাতাস দেখতে বা লকডাউন দেখতে ঘর থেকে বের হয় না।
অনেক কিছু বলে ফেল্লাম। ভালো থাকবেন আর নিরাপদে থাকুন।

১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:০৯

মলাসইলমুইনা বলেছেন: জুন,
নিজের কিছু ব্যস্ততার কারণে জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিতে আমার ব্লগে তেমন নিয়মিত আসা হয়নি ।সে জন্যই আপনার লেখাগুলো পড়া হয়নি । কিন্তু এখন আপনার এই কমেন্ট পড়েতো খারাপ লাগাটা আরো বেড়ে গেলো । জানুয়ারিতে আপনি করোনার ব্যাপারটা নিয়ে লিখেছেন আর থাইল্যান্ডের সরকার তাদের জনগণের দাবিতে করোনার কথা ভেবে কোয়ারিন্টিনের ব্যবস্থা করেছে সেই সময় আশ্চর্য ! থাইল্যান্ডে আমাদের দূতাবাস আছে । আমাদের দূতাবাসের তাহলে জানার কথা করোনার ব্যাপারটা আর থাইল্যান্ড সরকার জনগণের দাবিতে কি করছে সেটা কন্ট্রোল করার জন্য । চীনের সাথে এখন আমাদের দূতাবাস পর্যায়ে যোগাযোগ ছাড়াও নানা পর্যায়ে যোগাযোগ আছে । বেসরকারি পর্যায়ে অনেক মানুষ সেখানে চাকুরী, ব্যবসা করছে। তাই কাছাকাছি দেশ হয়েও চীনে যে একটা লেথাল ভাইরাস ছড়িয়ে যাচ্ছে সেই তথ্যটা আমাদের সরকার জানুয়ারিতে জানবে না সেটা খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার । সেই কোন দূর নিউজিল্যান্ড তারাও জানুয়ারি থেকে নানা ধরণের প্রিকর্ষণ নিয়েছে এই করোনা থামাবার ব্যাপারে । কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে আমরা খুবই মূল্যবান কিছু সময় নষ্ট করেছি করোনার হাত থেকে নিজেদের রক্ষার প্রস্তুতির ব্যাপারে । সেটাই এখন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ক্রিটিকাল হয়ে যাচ্ছে । আমাদের সামর্থ্য, বিত্ত কম ! তাই এই সময়গুলিতে আগে থেকেই ভাবা দরকার ছিল করোনা থামাবার স্ট্রাটিজি নিয়ে, সোশ্যাল সেফটি নেটগুলো তৈরী করার বিষয় নিয়ে । কিন্তু আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা কি নিয়ে সে সময়টা ব্যস্ত থাকলেন তারাই জানেন ।এখন এর গুনাহ্গারি যে কত ভয়ংকর ভাবে দেশ আর জাতিকে দিতে হবে কে জানে ।

জুন, মানুষতো আর মেশিন না । মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা আছে বলেই সভ্যতা এতদূর এগিয়েছে । এবারও এই করোনার ভয়ঙ্করতার বিরুদ্ধেও মানুষ ভালোবাসা দিয়েই জিতবে । আমেরিকার এই চরম ক্যাপিটালিস্ট সোসাইটিতেও যেভাবে পিপিই ছাড়া নিজের নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ডাক্তার, নার্স আর হেলথ ওয়ার্কাররা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে করোনার হাত থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে সেটা দেখে আমি জানি মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসার অভাব হবে না কখনো পৃথিবীতে । করোনাজয়ী হয়ে ভালো থাকুন সবাইকে নিয়ে সেই কামনা রইলো ।



৫| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:১৯

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: এই দেশে এখন ডাক্তার পুলিশ ব্যাংকাররা বেশি আক্রান্ত । যেহেতু কোভিড নাইনটিন সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি যেহেতু তারা যথেষ্ট সচেতন নন। আর তাদের কাজ করতে এই পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রধান কারিগর তারা তাই। এই দেশের নির্বোধ অসচেতন নাগরিক দের নিয়ে করোনা জয় অতীব কঠিন কোন সন্দেহ নেই।

১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:১৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সেলিম আনোয়ার,
জ্বি, নানা কারণেই বিশেষ করে জনগণের অসচেতনতার জন্য আমাদের দেশে করোনার মতো এ'রকম পেনডেমিক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন ।কিন্তু তার মধ্যে সরকারের অদক্ষতা ও অবহেলা এটা আরো কঠিন করে ফেলেছে আমাদের এখানে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে । এখন হয়তো একটা কঠিন বিপর্যয়ই আমাদের দেখতে হবে । মন্তব্যে ধন্যবাদ । ভালো থাকুন ।

৬| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:৩৭

মিরোরডডল বলেছেন: মুইনাঞ্চি, শেল্টনকে নিয়ে টনির লেখাটা পড়ে ভীষণ খারাপ লাগছে । ক্যান্ট এক্সপ্রেস হোয়াট টু সে বাট আই ক্যান ফীল ইট । তারপর টনির কি অবস্থা, বাকিটুকু জানতে ইচ্ছে করছে ।

মিনেহাহা (আমি কিন্তু হাসিনি) একটা ভালো উদাহরন শিক্ষা নেবার জন্য । এখন কোথাও কোনকিছুই হালকাভাবে নেয়া যাবেনা । ইটস অল আবাউট লাইফ ।

দেশের কথা এটাই বলবো করোনা ইনফেক্টেড কেইসে ট্রান্সপারেন্সি বাড়ানো দরকার সবার সুবিধার্থে । নাম্বার অফ টেস্টও বাড়ানো দরকার । কারণ আমাদের এখানে রিসেন্ট কিছু নিউজে দেখলাম করোনা পজিটিভ হয়ে মানুষ মারা গেছে যাদের কোনরকম সিম্পটম ছিলোনা । এটা কিন্তু আরও রিস্কি । তাই র‍্যান্ডম টেস্ট করে আইডেন্টিফাই করা এবং ইমিডিয়েট ব্যাবস্থা নেয়া জরুরি ।

অসচেতন মানুষ সব জায়গাতেই আছে । আমাদের এখানে গতকাল দুজন ৬০ বছরের মানুষ সাগরে রকের ওপর দাড়িয়ে ফিশিং করছিল । বড় ঢেউ এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় । একজনের ডেডবডি পাওয়া গেছে, আরেকজন মিসিং । প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া যেখানে নিষেধ সেখানে এটা কি খুব দরকার ছিল !! দেশে বা বিদেশে অসচেতন আর ইরিটেটিং মানুষগুলো ফর নো রিজন ফ্রন্টলাইনে ইমারজেন্সি কাজে কর্মরত মানুষগুলোকে এক্সট্রা ওয়ার্ক দিচ্ছে ।

এতো কঠিন পোস্টের মাঝেও নাঞ্চির রম্যটা দেখে হাসলাম । এরকম কঠিন সময়ে এতো শুভ্র সুন্দর স্নো ফলের ছবি আর সামান্য রম্য কিছুটা স্বস্তি । ভালো থাকবেন ।

১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মিরোরডডল,
আমি জানি আপনি খুবই সহানুভুতিশীল ব্লগ পাঠক ।তাই মিনহাহা-র দুরাবস্থার কথা শুনে আপনার হাসি আসতেই পারে না ।
ঠিক বলেছেন দেশের কথা এটাই বলবো করোনা ইনফেক্টেড কেইসে ট্রান্সপারেন্সি বাড়ানো দরকার সবার সুবিধার্থে । পলিটিক্স ট্রান্সপেরেন্ট না হয়ে যখন বিজ্ঞানকে উপেক্ষা করে নিজস্ব লাভের জন্য তখন যে কি হয় তার একটা ক্লাসিক কেস হিসেবে এদের ঘটনা হয়তো ভবিষ্যতে টেক্সট বুকে পড়ানো হবে । একই অবস্থা হচ্ছে সাউথ ডেকোটার নেইবারিং স্টেট্ নেব্রাসকাতেও । ম্যান্ডেটরি হোম স্টে অর্ডার না দেওয়াতে এদের খুব কম বসতির রুরাল এরিয়াতেও এখন করোনা ইনফেক্টেড পেশেন্টের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বলে কাল সন্ধ্যাতেই সিএনএন রিপোর্টটা শুনলাম । ট্রান্সপেরেন্সিটা খুবই দরকার এ ধরণের অবস্থায় । কোনো সরকারই এ ধরণের পরিস্থিতে সব কাজ একা করতে পারবে না ।জনগণের সাপোর্ট লাগবেই এ'সময়ে । ইনফরমেশন লুকিয়ে মানুষকে ডিসিভ করলে তাতে ক্ষতি ছাড়া লাভ কোনোই নেই । আমাদের দেশে এই ব্যাপারটা হচ্ছে বলে আমার ধারণা । আমাদের মন্ত্রী এমপিরা করোনা কিছু না এটা ফ্লুর মতো বা আমাদের প্রস্তুতি ইউরোপ আমেরিকার চেয়ে ভালো এসব হাবিজাবি বলে অনেক মানুষকেই কোরনার ডেঞ্জারটা বুঝতেতো পারেনই নি বরং বিভ্রান্ত করেছেন তাদের দলীয় এজেন্ডা উৎসব আয়োজনের জন্য । এটাই এখন আমাদের জন্য সুইসাইডাল হয়ে যাচ্ছে । যাহোক এসব দুঃখের পাঁচালি গেয়েতো আর লাভ নেই এখন । এখন একটা কঠিন পরিণতির জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখাই ভালো ।

এখানকার অবস্থা এমন মিনেখাকা (মনখারাপ করা) যে এগুলো নিয়ে সারাক্ষন ভাবতে বা কথা বলতে ইচ্ছে করে না । তাই মনে হয় সাবকনশাস মাইন্ডের কারসাজিতেই রম্য হয়ে গেছে । আর কিছু না । আর এখানে কদিন ধরেই থেমে থেমে স্নো পড়ছে । শুক্রবার আলোহীন ধূসর সকালে প্রায় তিন চার ইঞ্চি পড়লো । তাই ভাবলাম ধূসর বেলার লেখায় এই রংহীন সকালের ফটোই বেশি মানানসই হবে ।তাই ওই ফটো দেয়া আর কি । ভালো থাকবেন ।

৭| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:১৫

ওমেরা বলেছেন: ভাপু,এরকম কত করুন গল্পের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে করোনা । কেউ শেষ মূহুর্তে আপন মানুষের কাছে থাকতে না পারার জন্য আফসোস করছে। আবার কেউ ভয়েই জীবন্ত আপন মানুষকে জংগলে ফেলে দিয়ে আসছে।

ভাপু, সুইডেনে লক ডাউন নেই , মানুষ মারা যাচ্ছে বেশ প্রতিদিন আক্রন্তের সংখ্যাও বাড়ছে কোন কিছু নিয়েই তেমন চিন্তা লাগছে না । আমাদের দেশে বস কিছুতেই অনিয়ম, আমার খুব অবাক লাগে করোনার এই দুঃসময়ে মানুষ চুরি করে কি ভাবে !!
সামনে কি ভয়ংকর সময় আসছে বাংলাদেশে সেটা নিয়েই চিন্তা লাগছে ।

ভাপু, আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুন ।

২০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:৪২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ওমেরা,

হ্যা করোনার সাথে অনেক করুন কথা, অনেক মানবিকতার গাঁথা দুটোই জড়িয়ে আছে । এই আমেরিকায় পিপিই ছাড়া ডাক্তার, নার্স আর হেলথ ওয়ার্কাররা করোনার বিরুদ্ধে যে ফ্রন্টাল ব্যারিয়ার তৈরী করেছে রুগীদের বাঁচাতে সেটা অবিশ্বাস্য রকমের মানবিকতার এক মহাকাব্য । সেই সাথে টনি সিজমরের গল্পও জীবনের আরেক পাতা ঝড়া দিনের ধূসর বেলার গল্প । সুইডেনে লক ডাউন নেই সেটা খুবই ভয়ঙ্কর ।কিন্তু তারপরেও আপনাদের ওখানে মানুষ সচেতন ।কখনো লক ডাউন ঘোষণা করা হলে সবাই হয়তো সেটা মেনেও চলবে । সেটা করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধটাও ইফেক্টিভ করবে । কিন্তু নানান কারণে বাংলাদেশে লক ডাউন সহজ নয় ।সেজন্য আগে থেকেই অনেক পরিকল্পনার দরকার ছিল । আমাদের সরকারের অদক্ষতা আর অবহেলায় সেটা নেওয়া যায় নি । এখন একটা বিরাট বিপর্যয় মনে হয় আর থামাবার উপায় নেই । সেটা ভেবেই চিন্তা লাগছে । দেশের শাসনের একদম ওপরে ঠিকঠাক না থাকলে নিচের দিকে এই চুরি চামারি হবেই । আমাদের দেশের ওপর তলায়তো দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন মানুষ নেই কোনো। তাই নিচেও সব কুৎসিত । যাহোক, আল্লাহ দেশের সবাইকে ভালোর এখুন সেটাই কামনা । আর সুইডেনে আপনারাও ভালো থাকুন ।মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ নিন ।

৮| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:৩৩

রাফা বলেছেন: প্রতিদিনই শুনি হি অর শি ইজ ডেড । এর মধ্যেই এখনও নিঃস্বাস ছাড়তে পারছি এর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। এর পরের অধ্যায় হবে আরো জঘণ্য ।সরকার বলবে আমাদের পুর্ব প্রস্তুতির জন্য অল্পের উপর দিয়ে চলে গেছে ঝড় ঝাপটা।

ধন্যবাদ,না.ইসলাম।

২৮ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:০৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাফা,
হ্যা, আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ থাকাই দরকার আমাদের সবার । আমেরিকাতে যে রকম অভাবনীয় তান্ডব হচ্ছে এই করোনাতে । এখন পর্যন্ত দেশের অবস্থা ভালো ।আশাকরি সরকারের এই কথা বলতে হলেও ঘটনাটাও যেন সে রকম সত্যি থাকে । ভালো থাকুন ।

৯| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১:২২

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
প্রতটি দেশে, প্রতিটি জনপদে এমন হৃদয়ভাঙ্গা মৃত্যুকাব্য রচিত হচ্ছে যার নায়ক বা খলনায়ক করোনা।

২৮ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:৪৩

মলাসইলমুইনা বলেছেন: মোঃ মাইদুল সরকার,
হ্যা --করোনা কালো কালিতে শোকগাথা লিখে গেলো যেন ! মাত্র দুই তিনমাসের মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞানের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেডিকেল সাইন্সের এতো উন্নতির পরেও প্রায় কোয়াটার মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু একটা ভাইরাসের কাছে খুবই অভাবনীয় । মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ । ভালো থাকুন ।

১০| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১:২৩

নেওয়াজ আলি বলেছেন: মরে গেলে বেঁচে যাবো কত খারাপ আর দেখতে হবে না। কিন্তু ছোট ছোট মেয়ে দুইটার কি হবে।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:৪৬

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নেওয়াজ আলি :
আল্লাহ সবাইকে এই করোনার হাত থেকে ভালো রাখুন । আপনার মেয়েদের জন্যও অনেক দোয়া । মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

১১| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১:৫৬

রাজীব নুর বলেছেন: ছবিটা দেখেই গালে হাত দিয়ে বসে আছি।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৯:৫৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নুর,
স্নো ফলের ফটো দেখে গালে হাত কেন ? মুগ্ধ চোখে দুগ্ধ সাদা এই স্নো ফল দেখে বিমুগ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই ।গালে হাত দিয়ে রাগ করে থাকার ব্যাপারনাতো এটা ! হাহাহা ।জাস্ট কিডিং ।

১২| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: করোনা জন্ম দিচ্ছে অনেক করুণ ট্র্যাজেডির, যা হয়ত মানুষ কোনোদিন কল্পনাও করেনি। বার্ডি শেল্টনের মৃত্যুটা হলো সেরকম একটা ট্র্যাজেডি।

এই করোনা পৃথিবীতে, বিশেষ করে এ বাংলায় জন্ম দিচ্ছে আরো নানাবিধ নিষ্ঠুর ট্র্যাজিক কাহিনীর। কুর্মিটোলা হাসপাতালে বাবা মারা গেলেন, সন্তানেরা বাবার লাশ নিলেন না, নিলেন ডেথ সার্টিফিকেট, যা দেখিয়ে বাবার পেনশনের টাকা তোলা যাবে। অন্য এক জায়গায় করোনা আক্রান্ত মাকে জঙ্গলে ফেলে এসেছিল সন্তানেরা। এরকম, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিকে ফেলে আত্মীয়স্বজনের পালিয়ে যাওয়ার কত ঘটনাই ঘটছে। তার মধ্যে এমন খবরও পাওয়া যায়, করোনায় মারা যাওয়া সন্তানের লাশ বুকে তুলে বাবা নিয়ে যাচ্ছেন দাফনের জন্য। করোনায় মৃত ব্যক্তিকে জানাযা পড়ানোর হুজুর না পেয়ে ইউএনও জানাযা পড়াচ্ছেন, যুগপৎ এমন অমানবিক ও মানবিক ঘটনাও ঘটছে।

আজ ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় জানাযার নামাজে লাখো মানুষের ঢল। জানাযার নামাজ 'ফরজে কেফায়া'; অর্থাৎ কেউ একজন আদায় করলেই সবার আদায় হয়ে যায়। ফরয, যা বাধ্যতামূলক নামাজ সেটা আমরা পড়ছি ঘরে বসে, পবিত্র কাবা শরীফ এবং মদীনায় পর্যন্ত জমায়েত নিষেধ আর একজনের জানাযার নামাজ পড়তে এত 'ধর্মপ্রাণ' মুসুল্লির জমায়েত! এই ধর্মান্ধ জাতিকে লক-ডাউনে আটকে রাখার সামর্থ কার আছে?

এমন ভাবনা যে-কোনো মানুষের মনেই দুলতে থাকবে, বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে- আমি করোনায় আক্রান্ত হলে কী হবে? কী করবো আমরা? এ নিয়ে শুরুর দিকে রম্য স্বাদের একটা পোস্টও দিয়েছিলাম ব্লগে। দিন যত যাচ্ছে, সেই রম্যভাবনাগুলো করুণ পরিণতির দিকে আমাদের ধাবিত করছে। বার্ডির মতো আমার স্ত্রীকেও অন্ধকার প্রকোষ্টে সময় কাটাতে হবে! অ্যামেরিকার মতো দেশে যে-শুশ্রূষা জুটবে, সোনার বাংলায় তা আশা করাও বোকামিরও অধম। সে হয়ত প্রচণ্ড হাঁপানির সময় আমার হাত ধরতে চাইবে, আমাকে পাবে না। আরেকটা ফ্যাক্ট হলো, আমাদের এ ক্ষুদ্র বাসায়, যেখানে সবাই সারাদিন ঘেঁষাঘেষি করে থাকি, সেখানে একজন আক্রান্ত হলে বাকিরাও যে অনায়াসেই আক্রান্ত হয়ে থাকবে, তা টেষ্ট না করেও মোটামুটি বলে দেয়া যায়। তাই, সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সেই ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলেছি।

বার্ডির ঘটনা, শেল্টনের অনুভূতি মানুষের মনকে আন্দোলিত করবে। করোনা আমাদের সেই পরিস্থিতির সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে ভালোবাসায় বুক ফেটে যাবে, অথচ কাঁদবার ফুরসত পাওয়া যাবে না।

পর্যালোচনামূলক এই পোস্টটাতে সমালোচনার পাশাপাশি অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। জনগণ এসবের বাস্তবায়ন দেখতে যায়। তবে, মানুষের জীবন রক্ষা করতে চাইলে এখন শুধু সরকারকেই না, দেশের সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক হতে লক-ডাউনের নিয়মগুলো মেনে চলার জন্য।

সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ নাইমুল ভাই।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:৫১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খলিল ভাই,
চমৎকার একটা মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ । হ্যা, করোনা এসে আমাদের অনেক সম্পর্ক, অনেক ধারণা বদলে দিয়েছে । অনেক মানবিকতার সাথে সাথে অনেক অমনোবিকতাও দেখেয়ে দিয়েছে -সেটা দেশে বিদেশে সব জায়গাতেই । আমি আমেরিকায় দেখছি কি কঠিন ভাবে করোনা সংহারী হয়ে উঠেছে । এরা সামলে নেবার চেষ্টা করছে সেই ক্ষয়ক্ষতি । মানুষের জীবন বাচানোর জন্য এই ইলেকশন ইয়ারেও লক ডাউনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পকে নিতে হলো । ইকোনোমিক ইন্ডেক্সগুলো গড়িয়ে নিচে নামছে ।ট্রাম্প মরিয়া হয়ে উঠেছে লক ডাউন তুলে নিতে ।তবুও গভর্নরদের চাপে সেটা সহজেই তুলে নিতে পারছে না । উপরন্তু কনজারভেটিভদের চোখের বিষ সরকারি সহায়তা হিসেবে ট্রিলিয়ন ডলারের ইকোনোমিক রেসকিউ প্যাকেজ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে আনইমপ্লয়েড মানুষ আর বিজনেসগুলোকে হেল্প করতে । এসব ভাবনার থেকেই এই লেখা । করোনার ডিভাস্টেশন আমি দেখছি ।আজ করোনাতে মৃত্যু ষাট হাজার ছাড়িয়ে গেলো এখানে । আমাদের দেশেও করোনা হয়তো এমন কঠিন হয়ে উঠতে পারে তথ্য চেপে রাখাতে । দেশে যদিও লক ডাউন আছে কিন্তু দেশের কিছু ফটো দেখে আমার মনে হল মানুষ মনে হয় করোনার ডেঞ্জারটা বুঝতেই পারছে না । সেটা কি সরকারি মন্ত্রী এমপি আর আমলাদের কথাবার্তায় মিসগাইডেড হয়ে নাকি সেটাই আমি বুঝতে পারছি না । নইলে কাজ পাগল আমেরিকানরা যখন প্রাণ রক্ষায় ঘরে বসে আছে সেখানে আমাদের মানুষ দল বেঁধে বাইরে চলে আসছে সেটার কারণ বোঝা খুব শক্ত । আমাদের দেশের অর্থ সামাজিক অবস্থায় দীর্ঘ মেয়াদি লক ডাউন ঠিকঠাক রাখ না না কাৰণেই কঠিন সেটা আমি বুঝি । তবুও জীবন মৃত্যুর সীমানা চিহ্নিত করা এই ভাইরাসের ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখানো খুব আশ্চর্য লাগে ।সেটাই ভয়ের ।আর সেটাই লেখায় বলতে চেয়েছি । আপনি আমার লেখার মূল কারণটা ধরতে পেরেছেন সুন্দর করেই । তাই মন্তব্যটাও হয়েছে চমৎকার । অনেক ধন্যবাদ ।

১৩| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:২৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

১৮ এপ্রিল শনিবার আজকের আপডেটঃ
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত ২১৪৪ সুস্থ ৬৬ মৃত্যু ৮৪!!!

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:৫২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নূর মোহাম্মদ নূরু, অনেক ধন্যবাদ ।

১৪| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৪১

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: কিন্তু ভাইয়া , সরকার যত যা করুক করোনা বিষয়ে জনগন সাপোর্ট না দিলে কখনোই সম্ভব না সফল হওয়া । আর আমরা তা দিচ্ছি কই ? আমাদের বাইরে ঘোরাঘুরি তো অবিরত চলছেই ।

টনি সিজমোর স্টোরি আমরা জানি কিন্তু আমাদের স্টোরি কি হবে আল্লাহ্‌ জানেন ।

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:০০

মলাসইলমুইনা বলেছেন: কথার ফুলঝুরি!,
জ্বি খুবই সত্যি কথা। সরকারের ঠিকঠাক পরিকল্পনাগুলো করতে হবে,ইনিশিয়েটিভিগুলো নিতে হবেই ঠিকঠাক আর সবাইকে সেগুলোতে হেল্প করতে হবে। কিন্তু সরকার সেই হযবরল করলে কিন্তু সব কিছুতেই গোল লাগবে । যেমন গার্মেন্টস খোলা নিয়ে যে ঘটনা ঘটলো কিছুদিন আগে সেটা একবারই যথেষ্ট পুরো দেশের মানুষের জীবন সংশয় ঘটাতে। তার ওপর মন্ত্রী এমপিদের কথাবার্তা আর ধান কাটা উৎসবের মতো অদ্ভুত কাজ কর্মতো আছেই ।

আমাদের স্টোরি যাতে ভালো হয় সেজন্য আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়াতো আর কিছু দেখছি না এই মুহূর্তে । আমি দোয়া করছি আপনিও করুন প্লিজ ।

১৫| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: সবার মন্তব্য গুলো পড়ে ভালো লেগেছে।

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৪:৫৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: রাজীব নুর,
জ্বি ঠিক বলেছেন । আমাদের অনেক ব্লগারের মন্তব্য ও আলোচনাই পোস্টের মানকে আরো বাড়িয়ে দেয়। অনেক লেখাতেই যা বলা হয় না সেগুলো মন্তব্যের মধ্যে দিয়েই পাঠক ব্লগার বলেন আরো সহজে আর সুন্দর করে আর সেই সাথে পোস্ট পড়াও হয়ে যায় তাতে আরো অর্থপূর্ণ আর অবশ্যই আনন্দময় ।

১৬| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:১৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



লেখাটির প্রথম অংশে থাকা মর্মশ্পর্শী বিবরণ পাঠে মনটি বিষিয়ে উঠেছে । মে গড ব্লেস বার্ডি শেল্টন ।
করোনা যে কি যাতনা দায়ক ব্যধি তা একান্ত কাছ হতে না দেখলে অনেকেই বুঝতে পারবেনা । করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাশুরী মাতার হাল নাগাদ দৃশ্য- সংবাদ ভিডিউ কলের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি। এখন উনার প্লাজমা ইনফিউসনের মাধ্যমে পুর্বে করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া মানুষের রক্ত উনার শরীরে প্রবাহিত করে চিকিৎসা চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উনার সুস্থ হওয়ার ব্যপারে ডাক্তারগন আশাবাদী। আপনি ঠিকই বলেছেন আমিরিকার চিকিৎসার জন্য একবার কেও হসপিটালে নাযিল হতে পারলে যে কোন মুল্যে সরকার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে ।

সাউথ ডেকোটার মিনেহাহা য় কিভাবে কত দ্রত করোনা ছড়িয়ে পড়েছে তা থেকে আমাদের অনেক শিক্ষনীয় বিষয় আছে ।আপনার লেখাটিতে এই মহুর্তে আমাদের দেশের সরকারের করনীয় বিষয় সম্পর্কেও অনেক মুল্যবান কথা উঠে এসেছে ।

ভাল থাকার শুভ কামনা রইল

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৫:০৮

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আলী ভাই,
আশাকরি ভালো আছেন আপনারা সবাই । আপনার মাদার ইন ল'র শরীর আশাকরি ভালো আছে এখন । হ্যা করোনার তান্ডবটা বুঝতে পারছি এখানে থেকে । এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কোরনা হয়তো চরম মারাত্মক হয়ে ওঠেনি নিকট তবুও ভয়টা ভেতরে ভেতরে আছেই । সাউথ ডেকোটার মিনেহাহার স্মিথফিল্ড মিট প্ল্যান্টে আর সে থেকে পুরো কাউন্টিতে যেভাবে ইনফেকশন ছড়িয়ে গেলো সেটা এখানে ন্যাশনাল নিউজ হয়ে গ্যাছে গত দুই সপ্তাহ ধরেই । আমাদের ঘন বসতির দেশে যে কোনো সময়ই এটা ভয়ংকর হয়ে যেতে পারে এর এক্সট্রিম ট্রান্সমিটিবিলিটির জন্যই সেটাই এখানে সিডিসি বলছে । এই ভয়টাই বাংলাদেশকে নিয়ে আমার আছে । সেটাই লেখায় বলতে চেয়েছি । অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য ।ভালো থাকুন ।

১৭| ১৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:৫২

ঢাবিয়ান বলেছেন: মর্মান্তিক সব ঘটনা ঘটে চলেছে বিশ্বব্যপী। কবে যে থামবে এই করোনা ঝড় , উত্তর জানা নেই কারো।

০১ লা মে, ২০২০ ভোর ৫:৫২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: ঢাবিয়ান,
হ্যা, ঠিকই বলেছেন এই করোনার কাৰণে সারা পৃথিবী জুড়েই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে চলেছে না থামা । করোনার কাৰণে এক আমেরিকাতেই যা দেখছি চোখের সামনে সেটাই বিশ্বাস হচ্ছে না । আশাকরি ভ্যাকসিন চলে আসবে তাড়াতাড়িই আর মানুষ একটু রেহাই পাবে এই মৃত্যুর সাথে বসবাসের যন্ত্রণা থেকে ।

১৮| ২০ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৮:১৮

সোহানী বলেছেন: চারপাশের এতো এতো মৃত্যুর খবর আর ভালো লাগে না। দেশ নিয়ে ভয়াবহ আতংকে আছি। জানি না এর শেষ কোথায়।

এ্প্রিলে এসেও আপনাদের এতো স্নো? আমাদের এখানে হালকা পাতলা স্নো আর বৃষ্টি পড়ছে। অবশ্য এতে কিছু যায় আসে না কারন পুরোপুরি গৃহবন্দী।

০৭ ই মে, ২০২০ রাত ২:৪৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: সোহানী,
জ্বি, ঠিক বলেছেন এতো মন খারাপ করা ব্যাপারগুলো ভাবতে ভালো লাগে না আর ।
ভেবেছি করোনা ভাবনা নিয়ে আর কোনো পোস্ট বা কমেন্ট না । চুপ করে বসে থাকি কিছুদিন কোয়ারিন্টিন মেনে । কথাবার্তাকেও লক ডাউন করলাম । আপনার মন্তব্যের উত্তর দিতে যে এতো দেরি হলো সেটা পুরো অনিচ্ছাকৃত । আমি দেখেছি কমেন্ট আগেই কিন্তু ভুলেই গিয়েছিলাম। আরেকটা লেখায় আপনার আরেকটা কমেন্টের সাথে মিশিয়ে ফেলে ছিলাম । এপ্রিলের থার্ড উইকটার প্রায় প্রতিদিনই আমাদের স্নো পড়লো। লেখা যেদিন পোস্ট করলাম সেদিন সকালে অনেক স্নো পড়েছিল। আমাদের এখানে মে মাসের শুরুতেও স্নো পড়তে দেখেছি একবার। এবার আর হয়তো পরবে না। কিন্তু গত দু'দিন প্রচন্ড ঠান্ডা ছিল । যাহোক, ভালো থাকুন ।

১৯| ০২ রা মে, ২০২০ দুপুর ১:৫৪

করুণাধারা বলেছেন: মলা......, ধূসর বেলার গল্পের সাথে ছবি দুটি খুবই মানানসই হয়েছে, মনকে বিষন্ন করে তোলে।

কী ভয়ংকর রোগ- কোনদিক দিয়ে আক্রমণ করবে আগে থেকে বোঝা যায় না। আক্রমণ করলে সুস্থ্য হবার নিশ্চয়তা নেই। ভাড়া গাড়ি চালিয়ে আসার মতো সামান্য অসাবধানতার মূল্য বার্ডিকে দিতে হল নিজের জীবন দিয়ে। খুবই কষ্ট লাগলো পড়ে।

ভালো থাকুন, শুভকামনা রইল।

০৭ ই মে, ২০২০ রাত ২:৫৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: করুণাধারা,
এপ্রিল কিন্তু আমেরিকার সবচেয়ে সুন্দর মাস ওয়েদারের দিক দিয়ে । স্নো ফলের দিনগুলো শেষে মাত্রই ওয়েদার একটু গরম হচ্ছে । স্নো নেই আবার অনেক গরমও না । আমাদের এদিকে প্রায় চার পাঁচ মাস স্নো বন্দি জীবনের পর এপ্রিল সবার কাছেই খুব প্রিয় সময় বছরের । কিন্তু এবছরের করোনাতে এপ্রিল মাসের দিনগুলোও মনে হয় আক্রান্ত হয়ে গেলো । লেখাটা যেদিন পোস্ট করলাম সেদিন সকালে এত্ত স্নো পড়লো ! আর আকাশেও কোনো নীলের দেখা নেই ।তাই অনেক বেলায় তোলা ফটোগুলোও ধূসর ---করোনার মতোই । কোনো আলোর খেলা নেই, শুধুই ধূসর বেলার গল্প লেখা এপ্রিলের সেই সকালে সব গাছের ডালে, সবুজ পাতায় আর মাঠের সবুজ ঘাসে । লেখার সাথে মিল দেখাতেই ফটোগ্রাফির গুণপনা দেখাবার সুযোগটা নিতে ইচ্ছে করলো (বাস্তবে তেমন কোনো গুনপনা নেইতো তাই !) । আপনি লেখা আর ফটোর ব্যাপারটা খেয়াল করেছেন সেটা দেখে ভালো লাগলো । ভালো থাকুন ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.